সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২৩
jannatul firdaus mithila
“ আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ড্যাড! প্লিজ ডোন্ট স্টপ মি। আরেকটু দাও! বেশি না আরেকটু।”
ছেলের এহেন উক্তিতে বুক ভেঙে আসছে তৌকির সাহেবের। তবুও তিনি নিজেকে বেশ কায়দায় সামলালেন। ছেলের দিকে খানিকটা ঝুঁকে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বললেন,
“ সে আসবেনা সায়ান! সে চলে গেছে।”
ফট করে চোখ মেলে তাকায় মুগ্ধ। রক্তলালের ক্রূরতায় আক্রান্ত দৃষ্টিযুগল হয়েছে এলোমেলো। বুকের উঠানামার গতি বেড়েছে বহুগুণ। তৌকির সাহেব ভড়কায়নি মোটেও। যেন তিনি আগে থেকেই এসবে অভস্ত্য। এদিকে মুগ্ধ ক্রমশঃ দূর্বল হচ্ছে। শক্তপোক্ত যুবকের এহেন পরিস্থিতি যে মোটেও কাম্য নয়!
দ্রুত হাতে কাজ করছে এহসান বাড়ির হ্যাল্পিং হ্যান্ডদ্বয়। ড্রয়িং রুমের অবস্থা বেগতিক! ভাঙাচোরা পরিষ্কার করতে হাত লাগিয়েছেন সবাই। কবির সাহেব একপ্রকার তাড়া দিচ্ছেন সবাইকে। চিন্তিত মুখে একাধারে বলে যাচ্ছেন,
“ রোদ আসার আগে সবটা ঠিকঠাক করে ফেলো।”
তবে সে গুড়ে বালি! কবির সাহেবের চিন্তার মাঝেই বাড়ির সদর দরজার চৌকাঠে হঠাৎ পা পড়লো রৌদ্রের। সঙ্গে আছে অনিক এবং তাশরিক সাহেবও। হাসি হাসি মুখে বাড়ির ড্রয়িং রুমের দিকে চোখ পরতেই গম্ভীর হলেন তারা। পুরো ড্রয়িং রুমের ওমন যাচ্ছে তাই অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে — কিছুক্ষণ আগে বুঝি এখানে তান্ডব বয়ে গিয়েছে একপ্রকার। রৌদ্র গম্ভীর মুখে ধীর পায়ে এগিয়ে আসে। একহাতে তার এখনো ঝুলছে এপ্রন,গলায় স্টেথোস্কোপ। এদিক ওদিক ভ্রুকুটি করে তাকিয়ে হঠাৎ গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কি হয়েছে বাড়িতে?”
কবির সাহেব শুকনো ঢোক গিললেন অলক্ষ্যে। সাব্বির সাহেব মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়েছেন অন্যত্র। তায়েফ সাহেব শক্ত মুখে বসে আছেন সোফার এককোণে। ওদিকে জুবাইদা বেগম যেন শুনেও শুনলেন না ছেলের কথা। তিনি উল্টো ব্যস্ততা দেখালেন কাজের। রাফিয়া বেগম রৌদ্র কন্ঠ পেয়েই দৌড়ে চলে গিয়েছেন কিচেন রুমে। রৌদ্র আড়চোখে সবার মুখাবয়ব পরোখ করলো একবার। পরক্ষণে ফের কাঠকাঠ কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ কথা বলছো না কেনো তোমরা?”
কবির সাহেব এদফায় মুখ খুললেন। কোমরের পিঠে দু’হাত বেঁধে রেখে কপট গম্ভীর ভাব ধরলেন।
“ কি বলব?”
বাবার এহেন সোজাসাপটা উত্তরে নাখোশ রৌদ্র। কপালে গোটাকতক ভাঁজ পড়লো তার। ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে ফের বলল,
“ বাড়িতে কে এসেছিল?”
ভড়কালেন কবির সাহেব। ছেলের এরূপ কাঠকাঠ আন্দাজে চিন্তায় পড়লেন তিনি।তবুও মুখের ওপর কুলুপ এঁটে দাঁড়িয়ে রইলেন কেমন। রৌদ্রের মেজাজ চটলো এবার। ঝাঝাঁল কন্ঠ উঁচিয়ে বলে,
“ সমস্যা কি তোমাদের? যা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দিচ্ছো না কেন?”
এবারেও নিশ্চুপ সবাই। রৌদ্র চোয়াল শক্ত করল তখন। দাঁতে দাঁত চেপে বিরবিরায় সে,
“ তোমরা ভেবোনা তোমরা আমাকে এ বিষয়ে কিছু না বললে আমি জানতে পারবো না ব্যাপারটা। কাহিনি কি ঘটেছে তা আমি ঠিক বের করে আনবো, জাস্ট ওয়েট!”
বলেই রৌদ্র পা বাড়ায় সিঁড়ির দিকে। উদ্দেশ্য নিজের কামরায় যাওয়া। পেছন থেকে কবির সাহেব কেমন উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তিনি বেশ জানেন ছেলের কেমন রক্তগরম! তখনকার ঘটনাগুলো সে যদি একটুখানিও আচঁ পেয়ে যায়, সে নিশ্চয়ই চুপ করে বসে থাকবেনা। ঠিক চলে যাবে ঐ ভিনদেশী বেপরোয়া যুবকের কাছে।এহেন চিন্তাতেই কবির সাহেব দিশেহারা। কোমরের পিঠে দু’হাত বেঁধে মুখ বুঁজে দাঁড়িয়ে রইলেন এককোণে।
গটগট পায়ে সিঁড়ি ডিঙিয়ে দোতলায় ছুটছে রৌদ্র। সরু করিডরে পা রাখতেই হঠাৎ তার চোখ পরলো নিজের ঘরের দিকে। ঘরের দুয়ারের দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে আহিরা। মুখটা বেশ চিন্তিত তার। দু’হাতে ধরে রাখা প্লাস্টিকের বোল। দূর থেকে মনে হচ্ছে বোলে হয়তো পানি জাতীয় কিছু একটা আছে। রৌদ্র ভ্রু গোটায়। তৎক্ষনাৎ পায়ের গতি বাড়ায় ঘরের দিকে। দরজার দিকে এগোতে এগোতে হঠাৎ গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,
“ কি হয়েছে এখানে?”
হঠাৎ ডাকে ভড়কায় আহিরা। ত্বরিত হতচকিত নেত্রে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় সে। রৌদ্রকে সম্মুখে গম্ভীর মুখাবয়বে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই মেয়েটা কেমন ঢোক গিললো সামান্য। আমতা আমতা করে বলল,
“ কই? কি হবে?”
রৌদ্রের কুঁচকে রাখা ভ্রু-দ্বয় এখনও শিথিল হয়নি। তার সর্বমুখে লেপ্টে আছে একরাশ সন্দেহের ছাপ। সে তখন গম্ভীর মুখে ফের বলে,
“ সাইডে সর।”
কথাটা শুনতে দেরি, তৎক্ষনাৎ পা গুটিয়ে দরজার কাছ থেকে সরে আসতে দেরি নেই আহির। রৌদ্র শক্ত মুখে ঘরে ঢুকে এবার। তৃষ্ণার্ত চোখদুটো এদিক-ওদিক হন্যে হয়ে ছুটছে তার প্রেয়সীর খোঁজে। সে তখন আলগোছে বাহাতে ঘরের দরজা ভেতর দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে কন্ঠ উঁচিয়ে ডেকে ওঠে,
“ সানশাইন? কই তুই?”
প্রতিত্তোর আসেনি এখনো। রৌদ্রের কুঁচকে রাখা ভ্রু-দ্বয় বুঝি কুঁচকে গেলো আর-ও। একহাতে ঘাড়ের ওপর থেকে স্ট্যাথোস্কোপটা টি-টেবিলের ওপর নামিয়ে রেখে, এপ্রন রাখলো কাউচের ওপর। তারপর গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলো বারান্দার দরজার কাছে। বারান্দার থাই দরজার দ্বার ঘেঁষে দাঁড়াতেই তার দৃষ্টিগোচর হলো অদূরের ঝুলন্ত স্ট্যান্ড দোলনায় চুপচাপ বসে থাকা অরিনকে। রৌদ্র এতক্ষণে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন। বুক ফুলিয়ে খানিক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে গম্ভীর মুখে বলল,
“ কতক্ষণ যাবত ডাকছি, কানে শুনিসনি?”
এবারেও মৌন অরিন।ঘাপটি মেরে বসে আছে দোলনার ভেতরে। মাথায় আজ ঘোমটাও টেনেছে বেশ! বড় বড় চুলগুলো দিয়ে মুখের একপাশটা ঢেকে রাখা। তা আদৌও ইচ্ছাকৃত কি-না কে জানে! ওদিকে রৌদ্র কেমন গম্ভীর মুখেই এগিয়ে এলো দোলনার নিকট। হালকা ঝুঁকে ভেতরে ঢুকে ঠিক পাশ ঘেঁষে বসলো মেয়েটার। ফলাফল স্বরুপ ঝুলন্ত দোলনাটা কেমন নড়েচড়ে ওঠে সামান্য। সে-ই সাথে দুলে ওঠে অরিনের ক্ষুদ্রকায় বদনখানি। রৌদ্র আলতো হেসে একহাত বাড়িয়ে রাখল অরিনের কোমরের পাশে। পরক্ষণেই মেয়েটাকে একটানে বেশ কিছুটা কাছে টেনে আনে নিজের। আলতো করে অরিনের ঘোমটাপরা মাথা বরাবর নরম ঠোঁটের পরশ একেঁ আদুরে কন্ঠে বলে,
“ আজ হঠাৎ ঘোমটা টেনে বউ সেজেছ কেন বউজান? আমাকে নাহয় আগে থেকে একটু বলে দিতে, আমিও তাহলে জামাই সেজে আসতাম। এরপর দু’জনে মিলে নাহয় আরেকবার স্পেশাল বাসর করতাম।”
লজ্জায় কুন্ঠা যাচ্ছে অরিন।মাথাটা তৎক্ষনাৎ নুইয়ে গিয়েছে তার। রৌদ্র দেখলো কি-না কে জানে। ছেলেটার ঠোঁটের কোণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে বাঁকা হাসির রেশ। তার হাতদুটোও তো হয়েছে বেপরোয়া। ছুটছে মেয়েটার কোমল গায়ে। অরিনের নিশ্বাসের গতি তীব্র হচ্ছে। রৌদ্রের তাতে কী? সে তো ব্যস্ত অরিনের কাঁধ থেকে চুল সরাতে। দু-আঙুলের টুকটাক স্পর্শে অরিনের কাঁধে পড়ে থাকা চুলগুলোকে আলতো করে সরিয়ে দিয়ে, আরেকহাতে মেয়েটার কাধঁ থেকে জামা নামিয়েছে একটুখানি।পরক্ষণে বেচারা নাক ডুবিয়েছে সেথায়। নাকের সরু ডগা ঘষছে অরিনের মসৃণ কাঁধে। অরিন ঠোঁট কামড়ে বসে আছে। চোখদুটো কেমন কুঁচকে রাখা তার। ওদিকে ডাক্তার সাহেব এবার নাক ঘষা থামিয়ে চুমুর বর্ষণ ঝড়াচ্ছেন অরিনের কাঁধে। অরিন কাঁপছে এবার।
দু’হাতে খামচে ধরেছে জামার একাংশ। চোখবুঁজে নিশ্বাস ফেলছে ঘনঘন। রৌদ্র আরেকটু ঘনিষ্ঠ হতে উদ্যোত হলেই ঘটলো আরেক অঘটন। যেইনা রৌদ্র আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে চোখ তুলে তাকালো অরিনের মুখপানে ওমনি যেন মুহুর্তেই এক ছটাক বিদ্যুৎ বয়ে গেল তার সম্পূর্ণ শরীর জুড়ে। অরিনের ঠোঁটের কোণ ফুলে উঠেছে। সেথায় একটু-আধটু র*ক্তের উপস্থিতিও বিদ্যমান। তা দেখামাত্রই রৌদ্রের মুখাবয়বে পরিবর্তন ঘটলো যেন। এতক্ষণের আবেশিত ভাবসাব মুহুর্তেই সরে গিয়ে মুখাবয়বে ভর করল একরাশ কঠিন ভাব। অরিন চোখবুঁজে থাকলেও রৌদ্রের চোখদুটো বুঝি অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ন্যায় জ্বলছে এবার। সে তৎক্ষনাৎ একহাতে চোয়াল চেপে ধরে অরিনের। এহেন হঠাৎ আক্রমণে ভড়কায় অরিন। হকচকিয়ে তাকায় রৌদ্রের দিকে। এদিকে রৌদ্রের চোয়াল শক্ত। সে কেমন দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“ তোর ঠোঁট কাটলো কিভাবে?”
চোয়ালের ব্যাথায় ককিয়ে যাচ্ছে অরিন। ঠোঁটদুটো কোনরকমে নড়ছে তার। রৌদ্রের কঠিন দৃষ্টি এখনো অরিনের ঠোঁটের কোণে নিবদ্ধ। সে দাঁতে দাঁত চেপে আবারও জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কথার উত্তর দে সানশাইন! আমার ব্যাক্তিগত জায়গায় আঘাত লাগল কিভাবে?”
অরিন আর পারলো না চুপ করে থাকতে। চোয়ালের ব্যাথায় ফুপিয়ে কেঁদে উঠে মেয়েটা। রৌদ্রের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হলো এবার। ডান হাতের আঙুল খানিক ঢিলে হতেই সশব্দে কেঁদে ওঠে অরিন। চোয়াল চেপে ধরে আর্তনাদ করতেই, মেয়েটার চুলের মুঠি শক্ত করে টেনে ধরে রৌদ্র। দাঁত কিড়মিড় করে ঝাঁঝাল কন্ঠে বলে,
“ বাড়িতে কে এসেছিল? উত্তর দে অরি!”
অরিন কেঁপে ওঠে এহেন কন্ঠে। ছলছল চোখজোড়া রৌদ্রের পানে তাক করতেই রৌদ্র ফের বলে,
“ কার এতবড় কলিজা আমার সানশাইনের গায়ে হাত তোলে? কার এতবড় দুঃসাহস উত্তর দে! আমি রৌদ্র নিজ হাতে ওর কলিজা মেপে দেখে আসব কতটুকু বড় হয়েছে!”
ভয়ার্ত ঢোক গিলে অরিন। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে মিনমিনিয়ে তখনকার ঘটে যাওয়া সকল ঘটনাগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করছে সে। রৌদ্রের চোয়াল শক্ত হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়েছে মুহুর্তেই।ঘাড়ের মোটা মোটা রগগুলো ফুলে হয়েছে ডাবল। অরিনের কথার মাঝপথেই রৌদ্র কঠিন মুখাবয়বে উঠে দাঁড়ায়। কটমট করতে করতে শার্টের দু’হাতা বেশ কিছুটা গোটাতে গোটাতে বলে,
“ বাস্টার্ডের নাম কী?”
অরিন শুকনো ঢোক গিললো এবার। মাথাটা আগের ন্যায় নুইয়ে রেখে থেমে থেমে বলে,
“ পুরো নাম শুনিনি। তবে শেষেরটুকু শুনেছি — মুগ্ধ!”
ব্যস! এটুকু শুনতেই মেজাজ বিগড়ায় রৌদ্রের। শক্ত মুখে বারান্দা থেকে ঘরে ঢুকে, গটগটিয়ে চলে গেলো ক্লজেটের কাছে। একহাতে থাই দরজাটা খানিক ঠেলে দিতেই উম্মুক্ত হলো গুছিয়ে রাখা কাপড়ের স্তুপ। রৌদ্র সময় নিয়ে এদিক-ওদিক হাতরায়। কিছু একটা খুজতে ব্যস্ত সে। এদিকে অরিনও ইতোমধ্যে চলে এসেছে রুমে। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রৌদ্রের পানে। এরইমধ্যে রৌদ্র হাত বাড়িয়ে পিস্তল জাতীয় কিছু একটা কোমরের পিঠে গুঁজতেই আঁতকে উঠে অরিন। আতঙ্কের সাথে দু-কদম এগিয়ে এসে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে ,
“ এই আপনি এটা কি নিলেন?”
রৌদ্র ভাবলেশহীন! কঠিন অভিমূর্তিতে অটল সে। ঘাড় বাকিয়ে একপলক তাকায় অরিনের পানে। পরক্ষণেই একটুখানি এগিয়ে এসে দাঁড়াল অরিনের মুখোমুখি। হাত বাড়িয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিল মেয়েটার ফোলা ফোলা ডান গাল। শান্ত অথচ নিরেট কন্ঠে হঠাৎ বলল,
“ সরি বউজান!”
হতবাক অরিন।বুঝলোনা রৌদ্রের হঠাৎ ক্ষমা চাওয়ার কারণ। সে কেমন জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থেকে বলল,
“ কিন্তু কেনো?”
প্রতিত্তোর করেনি রৌদ্র। স্রেফ ঠোঁটের কোণে তার ফুটে উঠল এক চিলতে রহস্যময় বাঁকা হাসির রেশ!
অন্ধকার রাত! গ্লাস হাউজের বড়সড় লিভিং রুমের মেঝেতে উদোম গায়ে পড়ে আছে মুগ্ধ! দু’হাত দু’দিকে ছড়িয়ে রাখা। দুপায়েরও একই দশা! গভীর ঘুমে তলিয়ে সে, নাক দিয়ে বের করছে ভোস-ভোস শব্দ। ছেলের মাথার পাশে চুপচাপ বসে আছেন তৌকির মির্জা। একদৃষ্টিতে অবলোকন করছেন ছেলের ঘুমন্ত নিষ্পাপ মুখ। যত দেখছেন, ততই যেন আশ্চর্য হচ্ছেন তিনি! একটা মানুষ জাগ্রত থাকাকালীন ঠিক যতটা হিংস্র থাকে , ঘুমিয়ে পড়লে সে-ই মানুষটা যে এতটা নিষ্পাপ হয়ে যায় তা বুঝি মুগ্ধকে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবেনা। তৌকির সাহেব কিয়তক্ষন মুগ্ধের ঘুমন্ত মুখপানে তাকিয়ে থেকে উঠে দাঁড়ালেন। উদ্যোত হলেন চলে যেতে। বাড়ির সদর দরজায় এসে পা রাখতেই হঠাৎ শুনলেন বাইরে চেচামেচির শব্দ! তিনি খানিক উঁকি দিয়ে দাঁড়ালেন। পরক্ষণেই দেখলেন — বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী এক যুবক, হাতে হকিস্টিক নিয়ে গটগটিয়ে এগিয়ে আসছে এদিকে। তৌকির সাহেব ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইলেন একমুহূর্ত। ওদিকে যুবক ততক্ষণে তার সামনে হাজির। তৌকির সাহেব তৎক্ষনাৎ পথ আগলে দাঁড়ালেন। কঠিন গলায় বললেন,
“ কে তুমি? এদিকে কোথায় যাচ্ছো?”
যুবকের বেড়াল চোখদুটো দিয়ে বুঝি এবার আগুন বেরুবে। শক্ত চোয়ালখানা কটমট করছে কেমন! তৌকির সাহেব ভড়কালেন এহেন দৃষ্টিতে। আমতা আমতা করে যেইনা কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে ওমনি তাকে এক ধাক্কায় পথ থেকে সরায় রৌদ্র। হাতের হকিস্টিকটা শক্ত করে চেপে ধরে ছুটলো বাড়ির ভেতর। পুরো বাড়ি অন্ধকার! কোথাও নেই এক ছটাক আলো। রৌদ্র তখন বাজখাঁই কন্ঠে চেঁচিয়ে বলে,
“ মুগ্ধ কোথায়? কোথায় ঐ জানোয়ারের বাচ্চা?”
তৌকির সাহেব হতভম্ব! নিজেকে কোনমতে সামলে লিভিং রুমের বা-দিকে দৌড়ে গেলেন তক্ষুনি। লাইটের সবগুলো সুইচ একসাথে অন করে দিতেই পুরো বাড়ি ঝলমলিয়ে উঠে সাদা-হলুদ মিশেলের আলোয়। সে-ই আলোয় ঘুম হালকা হয়ে এলো মুগ্ধের। ওদিকে রৌদ্র দাঁড়িয়ে আছে কয়েক কদম দূরে। তার বাজপাখির ন্যায় দৃষ্টিযুগল আপাতত নিবদ্ধ মেঝেতে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা মুগ্ধের দিকে। রৌদ্র আর সময় নিলোনা। মুহুর্তেই ঘটালো এক অতর্কিত আক্রমণ! ধুপধাপ পায়ে এগিয়ে এসে ঘুমন্ত মুগ্ধের ঘন বাদামী চুলগুলো মুঠোয় চেপে ধরলো ভীষণ শক্তভাবে। এহেন আক্রমণে ভড়কায়নি মুগ্ধ! সে উল্টো চোখদুটো বুঁজে রেখেই কপাল কুঁচকালো কেমন। রৌদ্র তৎক্ষনাৎ মুগ্ধের চুল চেপে রেখে তাকে শোয়া ছেড়ে উঠালো। একহাঁটু গেঁড়ে ফ্লোরে বসে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
“ চোখ খোল জানোয়ারের বাচ্চা! আই ওয়ান্না সি ইউর পেইন ইন ইউর আইস।”
রৌদ্রের বাদবাকি কথাগুলো মুগ্ধের কান অব্ধি গেল কি-না কে জানে! তবে ছেলেটার দু-কানে রৌদ্রের বলা স্রেফ একটা কথাই বাজছে আর সেটা হচ্ছে — জানোয়ারের বাচ্চা! তড়াক চোখ খুলে মুগ্ধ! আচমকা নিজের শক্তপোক্ত ডানহাতের ঘুষি বসিয়ে দিলো রৌদ্রের মুখ বরাবর। এহেন হঠাৎ আক্রমণে খানিকটা টললো রৌদ্র। তবে ছাড়লো না মুগ্ধের চুল। এদিকে মুগ্ধ চোখ মেলেছে ঠিকই কিন্তু চোখের সামনে সবটাই কেমন ঝাপসা লাগছে তার। হয়তো তার নেওয়া ড্রাগসের প্রভাব এখনো কাটেনি তেমন। তার বাদামী চোখদুটো কেমন রঙ পাল্টেছে দেখো! এদিকে রৌদ্র গাল বাঁকিয়ে রেখেই বাঁকা হাসলো একটুখানি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলল সম্মুখে বসে থাকা মুগ্ধের পানে। মুগ্ধ টলছে!
মাতালরা যেমন জেগে থেকেও টলতে থাকে সে-ও ঠিক তেমনিভাবে টলছে। রৌদ্র তখন হাত মুষ্টি বদ্ধ করে সজোরে আঘাত বসালো মুগ্ধের নাক বরাবর। মুগ্ধ এবার বেশ ব্যাথা পেলো মনে হচ্ছে। ছেলেটা তৎক্ষনাৎ একহাতে চেপে ধরে নিজের নাক। ব্যাথায় তার সকল তন্দ্রা কেটে গেলেও চোখ মেলে রাখা দায় এমুহূর্তে। রৌদ্র আরেক ঘুষি মারতে উদ্যোত হতেই মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ চেপে ধরে রৌদ্রের মুষ্টিবদ্ধ হাত। ঝাপসা চোখে সামনে দৃষ্টি রেখে মাথা দিয়ে আচমকা আঘাত করে বসে রৌদ্রকে। রৌদ্র এবার পিছিয়ে গেলো বেশ কিছুটা। এই সুযোগে ঢুলু ঢুলু পায়ে উঠে দাঁড়ায় মুগ্ধ। চোখদুটোকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়েও ঠিকঠাক মতো খুলতে পারছেনা সে। ছেলেটা এক-কদম সামনে বাড়াতেই হঠাৎ তার পা বরাবর সজোরে আঘাত পড়লো হকিস্টিকের। এহেন আঘাতে মুগ্ধের জায়গায় অন্য কেউ হলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই আর্তনাদে ফেটে পড়ত, তবে মুগ্ধ সামান্য উহঃ অব্ধি করলোনা!
সে কেবল ভ্রু কুঁচকে ঘাড় বাকিয়ে তাকালো পেছনে। মুহুর্তেই তার গাল বরাবর আবারও ঘুষি বসায় রৌদ্র। একবার, দুবার পরপর তিনবার পরতেই গা ঝাঁকিয়ে ওঠে মুগ্ধের। বেচারা এবার মাতালের ন্যায় ঢুলতে ঢুলতে হঠাৎ কয়েক-কদম পিছিয়ে পড়ে গেলো মেঝেতে। মাথাটা বারবার এদিক-ওদিক নাড়াচ্ছে সে। চোখদুটোকে খুলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় মত্ত থাকতেই হঠাৎ সামনে থেকে এক জগ পানি এসে ছিটকে পড়ল তার সর্বমুখে। মুগ্ধ এবার শান্ত হলো! ধীরে ধীরে চোখদুটোকে কোনমতে খুলে নিয়ে সামনে তাকালো সরু চোখে। অদূরের মানুষটা এখনো খুব একটা স্পষ্ট নয় তার কাছে। তবে এটুকু দেখে বোঝাই যাচ্ছে সম্মুখের মানুষটার হাতে কিছু একটা তো আছে! মুগ্ধ আচমকা ক্রুর হাসলো। দু’হাতে আলগোছে নিজের ভেজা চুলগুলোকে কপালের ওপর থেকে ঠেলে সরিয়ে দিলো পেছনের দিকে। মেঝেতে একহাত ভর দিয়ে দাঁড়াল কোনরকম। ঠোঁটের কোণে ক্রুর হাসি বজায় রেখে ঘাড় কাত করে জিজ্ঞেস করল,
“ কে তুই?”
রৌদ্র তৎক্ষনাৎ জবাব দিলো না। হাতের হকিস্টিকটা বেশ কায়দা করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলল,
“ তোর বাপ!”
মুগ্ধ হাসলো! নিরব অথচ গা হিম ধরিয়ে দেবার মতো হাসি। ঝাপসা চোখে পাদু’টো রয়েসয়ে সামনে বাড়িয়ে বলতে লাগলো,
“ এক জীবনে আর কত বাপ বানাব আমি? অলরেডি ২টা আছে। সো তোর ভেকান্সি আপাতত বন্ধ!”
মজা করার মুডে নেই রৌদ্র। শক্ত মুখাবয়বে এগিয়ে এসে হকিস্টিক উঠালো মুগ্ধের দিকে। তবে এবার আর সে আঘাত গা অব্ধি পড়লোনা মুগ্ধের। তার আগেই হকিস্টিকের আগা শক্ত হাতে চেপে ধরে মুগ্ধ। পরক্ষণে হকিস্টিকটা সজোরে টানতেই রৌদ্রের পা এগিয়ে আসে বেশ কিছুটা। মুগ্ধ তখন বেশ কায়দা করে রৌদ্রকে উল্টো ঘুরিয়ে, তার পিঠ ঠেকালো নিজের বুকের কাছে। একহাত ঘুরিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে রৌদ্রের গলা। রৌদ্রের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“ আর কিছুক্ষণ আগে আসতি ব্যাটা! এটলিস্ট আমি আমার ফুল ফর্মে থাকতাম।”
শুনেনি রৌদ্র। মুগ্ধের কথার মাঝেই ডানহাতের কনুই দিয়ে মুগ্ধের পেট বরাবর আঘাত করতেই মুগ্ধের হাতের বাঁধন ঢিলে হলো এবার। এই সুযোগ কি আর হাতছাড়া করে ডাক্তার সাহেব। মুগ্ধ মুখ কুঁচকে পিছিয়ে যেতেই আবারও ছেলেটার ঘাড় সমান সিল্কি চুলগুলোকে একহাতে টেনে ধরে রৌদ্র। মুগ্ধের নুইয়ে রাখা মুখটায় হাঁটু উঁচিয়ে দিয়ে বসে আরেক আঘাত। এমনিতেই চোখ ঝাপসা মুগ্ধের তারওপর রৌদ্রের এরূপ আক্রমণে ছেলেটা কেমন দূর্বল হচ্ছে ধীরে ধীরে। ওদিকে রৌদ্র থামছেনা। দূর্বল মুগ্ধের পিঠ বরাবর একের পর এক পাঞ্চ মারতে ব্যস্ত সে। পরক্ষণে মুগ্ধের চুলগুলো শক্ত করে চেপে রেখেই, ছেলেটাকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেলো লিভিং রুম সংলগ্ন বেসিনের দিকে। হাত বাড়িয়ে বেসিনের পানি ছেড়ে দিয়ে, পানি যাবার জায়গাটা বন্ধ করে দিলো আলগোছে। মুহুর্তেই বেসিনটা কেমন পরিপূর্ণ হয়ে গেলো পানিতে। রৌদ্র এবার মুগ্ধের চুল ছেড়ে দিয়ে, মুগ্ধের ঘাড় চেপে ধরে শক্ত করে। মুগ্ধ এখন নিরুপায়। হাতপা সব কেমন অবশ হয়ে আসছে তার। স্বাভাবিক! উচ্চমাত্রার ড্রাগস নিলে এমনটা হওয়া খুব অদ্ভুত কিছু নয়। তাইতো সে এখন নিজের আত্মরক্ষায় ব্যর্থ।ওদিকে রৌদ্র তৎক্ষনাৎ মুগ্ধের ঘাড় চেপে ধরে মুগ্ধের মাথাটা টেনে ধরল পানির ভেতর। মুগ্ধ মাথা নাড়ায়নি একবারও।নিস্তব্ধের ন্যায় দম খিঁচে পড়ে রইল কেমন! রৌদ্র সময় নিয়ে মুগ্ধের মাথাটা উঠিয়ে আনে পানি থেকে। তারপর আবারও ঘটায় একই কান্ড। এরূপভাবে চললো বেশ কয়েকবার। ইতোমধ্যেই মুগ্ধের নাকমুখ দিয়ে ঝড়ে পড়ছে লহু। রৌদ্র থামলো। মুগ্ধের পানে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“ তোর ভাগ্য ভালো আমি কাউকে প্রাণে মারি না।”
এটুকু বলেই রৌদ্র তৎক্ষনাৎ মুগ্ধকে ছিটকে ফেলল মেঝেতে। মুগ্ধ এবারেও পা উল্টে পড়ল। কিন্তু হঠাৎ এমনভাবে পড়ে যাওয়ায় পায়ে চোট লাগল বেশ। মুগ্ধ কেমন দাঁত খিঁচে ব্যাথাটা সয়ে নিলো মুখ বুঁজে। এরইমধ্যে রৌদ্র ফের এগিয়ে আসে। কোনরূপ কথাবার্তা ছাড়াই মুগ্ধের উম্মুক্ত বুকের ওপর পা চেপে ধরে শক্তভাবে। বাঁকা হেসে বলল,
“ ভাগ্যিস আমার বউজানের ঠোঁটটুকু কেটেছে শুধু! এরচেয়ে বেশি কিছু হলে ঠিক তোকে আজ কবরে পাঠিয়ে ছাড়তাম আমি।”
মুগ্ধ মাথা ঠেকিয়েছে মেঝেতে। মুখ হা করে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলতে ব্যস্ত যুবক। রৌদ্র দেখেও যেন দেখলোনা তা। সে সময় নিয়ে মুগ্ধের বুকের ওপর থেকে পা নামিয়ে আনে। পরক্ষণে শার্ট ঝাড়া দিয়ে দু-কদম এগোতেই হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে আসে মুগ্ধের ভারি কন্ঠ!
“ এক মাঘে শীত যায়না মাদারদোচ!”
রৌদ্র ঘাড় বাকিয়ে তাকায়। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে পেছনে দুঁহাটুতে ভর দিয়ে উঠে বসা মুগ্ধের পানে। মুগ্ধ ধীরে ধীরে দাড়াচ্ছে কোনরকম। ওমনি রৌদ্র কেমন দৌড়ে এসে সজোরে এক লাথি বসালো মুগ্ধের পেট বরাবর। ঘটনার আকস্মিকতায় মুগ্ধ তখন একহাতে পেট চেপে রেখে,একহাঁটু গেঁড়ে উবু হয়ে বসে মেঝেতে। ছেলেটা গলা ঝাঁকিয়ে কাশছে কেমন! কাশের সঙ্গে মুখ থেকে ছিটকে বেরুচ্ছে ছিটেফোঁটায় র*ক্ত! মুগ্ধ পেটের ব্যাথায় কেমন মুখ কুঁচকে রাখলেও মুখ ফুটে টু শব্দটিও করেনি একবার। ঠিক তখনি এক শক্তপোক্ত থাবা এসে পড়লো তার লম্বা চুলগুলোর ওপর। মুগ্ধ এবারেও মুখ বুঁজে সয়ে গেল সবটা। এদিকে সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন যুবকের হাতের মুষ্টি শক্ত শক্ত হচ্ছে ধীরে ধীরে। মুগ্ধের সুন্দর সিল্কি চুলগুলোকে মুষ্টিতে চেপে রেখে,সে ধীরে ধীরে মুগ্ধের নুইয়ে রাখা মাথাটা কেমন উঁচিয়ে তুললো খানিকটা। মুগ্ধ নিবুনিবু চোখে তাকায় সম্মুখে। ধীরে ধীরে চোখের ঘোলাটে ভাবটা কাটছে তার। খুব একটা স্পষ্ট নাহলেও কোনরকমে দেখছে, রৌদ্র নামক বলিষ্ঠদেহী যুবক কেমন বাঁকা হেসে তাকিয়ে আছে তার পানে। যুবকের দৃঢ় চোয়ালখানা ফুটে আছে বেশ তীক্ষ্ণতার সাথে। রৌদ্র সময় নিলো। একহাতে মুগ্ধের চুলগুলো চেপে রেখে, অন্যহাতে তৎক্ষনাৎ চেপে ধরে ছেলেটার লম্বাটে চোয়াল। মুগ্ধের নিবুনিবু চোখে চোখ রেখে দাতঁ কটমটিয়ে বলে ওঠে ,
“ প্রফেশনের দিক থেকে ডাক্তার হলেও, আমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে গুন্ডামি কিন্তু এখনো রয়ে গেছে বাস্টার্ড! নেহাৎ আমার সানশাইনের আবদারে ডাক্তার হয়েছি তবে মারপিট কিন্তু এখনো ছাড়িনি! কান খুলে শুনে রাখ স্কাউন্ড্রেল — তুই যে-ই কলেজের নতুন ছাত্র, আমি বহুবছর আগে থেকেই সে-ই কলেজের প্রফেসর হয়ে বসে আছি। সো ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু টেক মি সো লাইটলি!”
হুট করেই ক্রুর হাসলো মুগ্ধ। রহস্যময় শান্ত কন্ঠে পরপরই বলল,
সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২২
“ দিন গুনতে থাক ছেলে! যেদিন তোকে আমার হাতের কাছে পাব — আই সয়্যার তোকে টেনে ছিঁড়ে ফেলব আমি। এন্ড ইউ নো হোয়াট? সেদিনই তোকে শেষ কান্না কাঁদিয়ে ছাড়ব কথা দিলাম।”
রৌদ্রও একই ভঙ্গিমায় হাসলো। মুগ্ধের চোখে চোখ রেখে বলল,
“ দেখা যাবে! আ’ম ওয়েটিং।”
“ এন্ড ইউ শ্যুড! বাট তুই চিন্তা করিস না বাডি। তোকে আমি খুব বেশিক্ষন ওয়েট করাব না। প্রমিস!”
