Home সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২৪

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২৪

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২৪
jannatul firdaus mithila

সফেদ রঙা টাইলসের ঝকঝকে মেঝেতে সেন্সলেস অবস্থায় পড়ে আছে মুগ্ধ। নিশ্বাসটা আদৌও চলছে কি-না কে জানে! ওদিকে ডাক্তার সাহেব সে-ই কখন হনহনিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন মির্জা বাড়ি হতে। প্রায় বেশ কিছুক্ষণ পর, বাড়িতে ছুটে আসেন তৌকির সাহেব। অস্থির হয়ে এদিক ওদিক দৃষ্টিপাত করে খুঁজতে লাগলেন ছেলেকে। যে-ই দেখলেন ছেলে তার মেঝেতে উবুড় হয়ে পড়ে আছে ওমনি তিনি ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে গেলেন ছেলের কাছে। দুপা মেঝেতে ছড়িয়ে তৎক্ষনাৎ ছেলেকে ধরে-টরে সোজা করলেন কোনরকম। ছেলের রক্তা*ক্ত অচেতন মুখপানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে অস্থির গলায় ডাকতে লাগলেন,

“ সায়ান? সায়ান উঠো।”
শুনছেনা মুগ্ধ! জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে কেমন। তৌকির সাহেব আর দেরি করলেন না। তক্ষুনি গলা উঁচিয়ে ডাক দিলেন,
“ মকবুল! মকবুল! কোথায় মরলি তোরা? তারাতাড়ি আয়।”
মকবুল মিয়া আশেপাশে কোত্থাও নেই। তবে এরইমধ্যে মির্জা ভিলার সদর দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকছিলেন তাহের ওসমান। তৌসিফ মির্জার বামহাত। তিনি তৌকির সাহেবের ওমন হাঁক ডাক পাওয়া মাত্রই ছুটে এলেন তক্ষুনি। এসেই কেমন এদিক-ওদিক নজর বুলিয়ে ভ্রু কুঁচকালেন। সন্দিগ্ধ চোখে একটুখানি এগিয়ে আসতেই হঠাৎ দেখলেন মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা মুগ্ধকে। ছেলেটার মুখ বোঝা যাচ্ছে না র*ক্তের বহরে। তাহের ওসমান খানিকক্ষণ স্তম্ভিত থেকে হুট করেই গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে ওঠেন,

“ ওকে আবার কে মারলো?”
তৌকির মির্জার চোখেমুখে একরাশ ব্যাকুলতা। ছেলের জন্য বোধহয় অস্থিরতায় মরে যাচ্ছেন মানুষটা। তাহের সাহেবের কন্ঠ পেয়েই লোকটা কেমন গুটিয়ে গেলেন। সামান্য নাক টেনে মোটা কন্ঠে বললেন,
“ ওসব নিয়ে পরে আলোচনা করব। আগে ওকে তারাতাড়ি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করো।”
তাহের সাহেবের গুটিয়ে রাখা ভ্রু-দ্বয় শিথিল হয়নি এখনো। বাহির থেকে মুখাবয়ব গম্ভীর থাকলেও মানুষটা বোধহয় মনে মনে বেশ উচ্ছ্বসিত। কিছুক্ষণ আগেই তো আকাশকে এভারকেয়ার হসপিটালে ভর্তি করিয়ে এলেন তিনি। ছেলেটার যা অবস্থা হয়েছে না… ঠিকঠাক মতো নিশ্বাস অব্ধি নিতে পারছিলো না বেচারা। মুগ্ধ কী আর কম মেরেছে তাকে? তাহের সাহেব এপর্যায়ে খানিক গম্ভীর হলেন। মনে মনে ভেবেই যাচ্ছেন — কার এতবড় স্পর্ধা হলো এই হিংস্র ব্যাটাকে উধম কেলানি দেওয়ার। কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই তাহের সাহেব পকেট হাতড়ে ফোন বের করে আনলেন। দক্ষ হাতে আঙুল চালিয়ে কল লাগালেন এম্বুল্যান্সের নম্বরে। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই তিনি ব্যগ্র কন্ঠে বললেন,

“ আরেকবার মির্জা বাড়িতে আসুন। আরেকজন মাইর খাইয়া চিৎপটাং হইয়া পড়ছে।”
শেষ কথাটুকু শ্লেষাত্মক কন্ঠে বললেন তাহের সাহেব। তৌকির সাহেব শুনেও তেমন একটা প্রতিত্তোর করলেন না। কেননা কথায় আছে — হাতি যখন ফাঁদে পড়ে তখন চামচিকেও না-কি লাথি মারে। এমুহূর্তে তার ছেলের সঙ্গে বোধহয় এমনটাই হচ্ছে!

“ আসবো?”
বারান্দার দ্বার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে অরিন। চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষা করছে প্রিয় মানুষটার আগমনের। মাথায় চলছে নানান দুশ্চিন্তা! মনে জেগেছে অজানা ভয়। নিজ ভাবনায় নিমগ্ন থাকা অবস্থাতেই ঘরের দরজার কাছ থেকে ভেসে আসে কবির সাহেবের গম্ভীর কন্ঠ! অরিনের সম্বিত ফিরল এহেন কন্ঠে। সে তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে পেছনে তাকায়। ঠোঁটের কোণে জোরপূর্বক হাসি টেনে নম্র স্বরে বলে,
“ অবশ্যই বড় আব্বু।”
গম্ভীর মুখো কবির সাহেব কোমরের পিঠে দু’হাত বেঁধে গুনে গুনে পা ফেলে ঘরে ঢুকলেন। সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে বলেন,

“ রোদ কোথায়?”
অরিন নিশ্চুপ! গলার স্বর কাপছে তার। অধিক অস্থিরতায় দু’হাত কচলাচ্ছে অনবরত। বিচক্ষণ কবির সাহেব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন অরিনের পানে। সময় নিয়ে মেয়েটাকে পরোখ করে বললেন,
“ যেভাবে শিখিয়ে দিয়েছিলাম সেভাবে বলেছো না?”
অরিন নতমস্তকে মাথা নাড়ায় দুয়েকবার। কবির সাহেব চুপচাপ দেখলেন তবে মুখ ফুটে বললেন না কিছু। গম্ভীর মুখে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আচমকা বললেন,
“ রোদ এলে আমার ঘরে পাঠিয়ো। ওর সাথে আমার কথা আছে।”
এবারে মাথাটা হালকা কাত করে অরিন। কবির সাহেব আর দাঁড়ালেন না মোটেও। গটগট পায়ে তক্ষুনি বেরিয়ে গেলেন ঘর ছেড়ে। তিনি যেতেই হাঁফ ছোড়ে বাঁচল অরিন। তৎক্ষনাৎ ওড়নার আঁচল দিয়ে ঘামতে থাকা কপালখানা আলতো করে মুছে নিলো মেয়েটা। মনে মনে ভাবতে লাগলো সন্ধ্যার ঘটনাটা…..
ঘন্টা দুয়েক আগের ঘটনাঃ-

“ ঐ বাস্টার্ডের নাম কী?”
অরিন শুকনো ঢোক গিললো পরপর। মাথাটা আগের ন্যায় নুইয়ে রেখে থেমে থেমে বলল,
“ পুরো নাম শুনিনি। তবে শেষেরটুকু শুনেছি — মুগ্ধ!”
এহেন কথা কর্ণগোচর হওয়া মাত্রই ভ্রু গোটায় রৌদ্র। কপালের মসৃণ চামড়ায় দেখা মিললো গোটাকতক ভাঁজের।ছেলেটা খানিক নড়েচড়ে চোয়াল শক্ত করে তাকালো। হুট করেই কেমন সন্দিগ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ কোন মুগ্ধ? নামটা কেমন শুনেছি শুনেছি মনে হচ্ছে!”
অরিন আলতো করে চোখ তুললো এবার। শুষ্ক অধরজোড়া জিভ দিয়ে খানিক ভিজিয়ে নিয়ে রয়েসয়ে জবাব দিলো,
“ রেহান ভাইয়ার কাজিন।”
এবার বুঝি টনক নড়ে রৌদ্রের। কপালের ভাঁজগুলো আরও খানিকটা গাঢ় করে, চোখেমুখে একরাশ জিজ্ঞাসু ভাবসাব বজায় রেখে শক্ত মুখে বলে ওঠে,
“ তারমানে নিচে যেসব ভাংচুর দেখে আসলাম ওগুলোও কি ঐ ছেলেই করেছে?”
অরিন প্রতিত্তোরে কেবল মাথা ঝাকায়। রৌদ্র কেমন সন্দিহান এপর্যায়ে। তৎক্ষনাৎ বসা ছেড়ে দাঁড়ালো কোমরের ওপর দু’হাত চেপে। দাঁত কিড়মিড় করতে করতে বলল,

“ এর পিছনে রিজনটা কী?”
অরিন ঘাবড়ে গেল কেন যেন। শুকনো ফাঁকা ঢোক গিলে আসল ঘটনাটা বেশ কায়দা করে লুকিয়ে ভুজুংভাজুং সুরে বলতে লাগলো,
“ সেজো আব্বুর সাথে পুলিশি ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে বেশ ক’দিন আগে থেকেই না-কি তার কথা-কাটাকাটি চলছে। সে-ই ঘটনার রেশ টেনেই তিনি আজ বাসায় এসে অতর্কিত ভাংচুর চালিয়েছে। যার দরুন ভুলবশত আমার ঠোঁটের কোণে কাঁচের টুকরো লেগে কেটে গেছে আরকি..!”
ডাক্তার সাহেব আবার তার বউজানের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী! তাইতো মেয়েটার ভুজুংভাজুং কথাগুলোও কেমন অন্ধের মতো বিশ্বাস করে গেলেন। পরক্ষণেই তো সাহেব শক্ত মুখে চলে গেলেন মুগ্ধের খোঁজে!

বর্তমানঃ
খাটের একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে আছে অরিন। বারংবার দৃষ্টি ফেলছে সম্মুখের দেয়াল ঘড়ির পানে। সময়ের কাটাঁ যেন আজ দৌড়াচ্ছে রীতিমতো! ঘন্টার কাটাঁ ইতোমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে দেড়টার ঘরে। অথচ রৌদ্র নামক পুরুষটার এখনো বাড়ি ফিরবার নাম নেই। অরিন সে-ই কখন থেকে কল দিয়ে যাচ্ছে তার নম্বরে তবে রৌদ্রের আজ কি হলো কে জানে! ছেলেটা কল তুলছেই না! এতে যেন অরিনের হাসফাস বাড়ছে ক্রমশ। মাথায় জেঁকে বসেছে বেশ কিছু অজানা চিন্তা। লোকটা তখন রিভলবার নিয়ে ছুটেছে। বাড়ির কেউ যদি একথা ঘুনাক্ষরেও টের পায় তাহলে কি যে হবে কে জানে! ভাবতে ভাবতেই অরিন দু’হাতে নিজের মাথাটা চেপে ধরে তক্ষুনি। চোখদুটো কুঁচকে ফেলে মানসিক অশান্তিতে। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বেশ কিছুক্ষণ একইভাবে বসে থাকতেই হঠাৎ সে টের পেলো তার পাদু’টোয় কারো হাতের শীতল স্পর্শ! অরিন হকচকিয়ে তাকায় সম্মুখে। দেখতে পায় — তার প্রিয় মানুষটা কেমন শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে তার পানে। চোখদুটো তার বেশ ক্লান্ত! অরিনের পাদু’টোয় আলতো করে ধরে রেখেছে তার ডানহাত। অরিন একমুহূর্তের জন্য বেভুলার ন্যায় তাকিয়ে রইলো কেবল। ঠিক তখনি রৌদ্রের কে জানে কি হলো! ছেলেটা কেমন হুট করে দু’হাতে ঝাপটে ধরলো অরিনকে। বেশ শক্তপোক্ত হাতের বাঁধনে আটকালো মেয়েটাকে। অরিনের সম্বিত ফিরল তক্ষুনি! সে কেমন হকচকিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলো,

“ কোথায় ছিলেন আপনি? এতো রাত হলো যে? এই ডাক্তার সাহেব? কথা বলছেন না কেনো?”
রৌদ্র চুপচাপ পড়ে আছে অরিনের বুকে। নিশ্বাস ফেলছে ঘনঘন। এতে অরিনের চিন্তা বুঝি বেড়ে গেল কয়েকগুণ। সে তৎক্ষনাৎ নিজেকে ছাড়াতে উদ্যোত হলেই শোনা গেল রৌদ্রের ভরাট ক্লান্ত কন্ঠ!
“ নড়ে না জানবাচ্চা! আমি খুব ক্লান্ত! একটু ঘুমোতে দে আমায়।”
অগত্যা রৌদ্রের এহেন ক্লান্ত কন্ঠ পেয়ে অরিনটা কেমন চুপটি করে বসে রইলো। ওদিকে রৌদ্র ঠিকই মেয়েটার বুকে মাথা গুঁজে চোখবুঁজেছে পরম শান্তিতে। অথচ অরিনের চোখে ঘুম ধরা দিচ্ছে না আজ। তা কেন তা কে জানে!

বড়সড় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় জ্বলছে নীল রঙা ড্রিম লাইট। অদূরের রকিং চেয়ারে বসে কেউ বুঝি দুলছে চুপচাপ। ঘরের দরজার নবে হাত ঠেকিয়ে থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে আছেন তৌকির সাহেব।ভেজা চোখের কাতর দৃষ্টি তার আপাতত অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরেতে নিবদ্ধ। তিনি রয়েসয়ে নিরবে পা বাড়ালেন ঘরের ভেতর। দুলতে থাকা রকিং চেয়ারের বেশ নিকটে এসে গম্ভীর অথচ ঝাঁঝাল কন্ঠে বলে ওঠেন,
“ কি করছো এই অন্ধকারে?”
রকিং চেয়ারে দুলতে থাকা শারমিন বেগম নিরবে মুচকি হাসলেন যেন। তবে তার ওমন মুচকি হাসি চক্ষুগোচর হলোনা তৌকির সাহেবের। তিনি আগের ন্যায় দুলতে থেকে শান্ত মেজাজে বললেন,
“ রিল্যাক্স হচ্ছি!”
এহেন উত্তরে তৌকির সাহেব চটলেন যেন। মুহুর্তেই কপালের রগগুলো তার দপদপিয়ে জ্বলে ওঠল। তিনি কেমন বাজখাঁই কন্ঠে পরক্ষণেই বললেন,
“ ওদিকে ছেলেটা আমার হসপিটালে ভর্তি, আর তুমি কি-না এখানে বসে রিল্যাক্স হচ্ছো? সিরিয়াসলি শারমিন? মা হিসেবে এই তোমার বিবেক?”

দুলতে থাকা রকিং চেয়ারটা থেমে গেল হঠাৎ। বসে থাকা শারমিন বেগমের চোয়াল শক্ত হলো মুহুর্তেই। তিনি কোনরূপ প্রতিত্তোর না করে তৎক্ষনাৎ দাঁড়ালেন বসা ছেড়ে। গটগট পায়ে দু-কদম এগিয়ে গিয়ে আলগোছে ঘরের দরজাটা লাগিয়ে দিলেন। পরক্ষণেই দাঁত কিড়মিড় করতে করতে পেছন ফিরে বললেন,
“ আগেও বলেছি এখনও বলছি, কোনো বে*শ্যা মা*গীর ছেলের মা আমি নই! তাই তোমার এসব আলগা পিরিতের ঢং পৃথিবীর বাদবাকি মানুষের সামনে করলেও আমার সাথে করতে আসবেনা তৌকির মির্জা!”
এহেন বাক্যে মুহূর্তেই মুখাবয়বে পরিবর্তন ঘটলো তৌকির সাহেবের। চেহারা থেকে এতক্ষণের দুঃখ দুঃখ ভাবটা তৎক্ষনাৎ সরে গিয়ে সেথায় ভীড় জমালো একরাশ ক্রুরতা। তিনি কেমন বাঁকা হেসে চুপচাপ গা এলিয়ে বসলেন পেছনের রকিং চেয়ারে। তারপর কেমন মোহগ্রস্ত নয়নে তাকালেন সম্মুখে নাইট ড্রেস পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শারমিন বেগমের পানে। নীল রঙা ড্রিম লাইটের টিমটিমে আলোয় মধ্যবয়সী শারমিন বেগমকে যথেষ্ট আবেদনময়ী লাগছে তৌকির সাহেবের কাছে। তিনি তক্ষুনি একহাত আলগোছে সামনে বাড়িয়ে দিয়ে ডাকলেন,

“ কাম ক্লোজার টু মি বেবি!”
শারমিন বেগম বাঁকা হাসলেন। এগিয়ে আসতে মোটেও তেমন তাড়া দেখালেন না তিনি। রয়েসয়ে এসে বসলেন তৌকির সাহেবের ডান উরুর ওপর। দু’হাতে আলগোছে তৌকির সাহেবের গলা জড়িয়ে বললেন,
“ আই মাস্ট সে হানি, তুমি খুব ভালো অভিনয় জানো!”
তৌকির সাহেব মুখ ডুবিয়েছেন স্ত্রীর কন্ঠায়। দু’হাতে শারমিন বেগমের কোমর চেপে পরমুহূর্তেই হালকা হেসে জবাব দিলেন,
“ আই নো!”
কথাটা বলতে বলতেই তিনি ঘনিষ্ঠ হতে লাগলেন শারমিন বেগমের সাথে। শারমিন বেগমও নিজেকে মেলে ধরেছেন বেশ নিপুণতায়।তৌকির সাহেব উম্মাদের ন্যায় ডুব দিচ্ছেন স্ত্রীর মাঝে। রকিং চেয়ারে খুব একটা সুবিধে হচ্ছে না তাদের। এতে বুঝি তৌকির সাহেব বিরক্ত হলেন খানিকটা। তিনি তৎক্ষনাৎ অর্ধনগ্ন স্ত্রীকে কোলে তুলে হাঁটা ধরলেন বিছানার কাছে। দু’হাতে শারমিন বেগমকে নরম মখমলের বিছানায় ছুঁড়ে ফেলতেই শারমিন বেগম কেমন খিলখিল করে হেসে ওঠেন। দু’হাত সামনের দিকে ছড়িয়ে আবেদনময়ী ভঙ্গিতে হেসে ডাকলেন,
“ কাম! ”

তৌকির সাহেব আরেকবার ডুব দিতেই যাবেন স্ত্রীর মাঝে ওমনি তার পকেটে থাকা ফোনটা কেমন বাজখাঁই শব্দ তুলে বেজে উঠল! এতে যেন মহাবিরক্ত হলেন শারমিন বেগম। তৌকির সাহেবেরও তো একই মনোভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি বিরক্তিতে চোখমুখ কুঁচকে রেখেই পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে আনলেন। ফোনের জ্বলজ্বল করতে থাকা স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নাম্বারটা দেখতেই তিনি কেমন নড়েচড়ে দাঁড়ালেন। তৎক্ষনাৎ লম্বা লম্বা কদম ফেলে বউকে ছেড়ে চলে গেলেন খোলা বারান্দায়। একহাতে কল রিসিভ করে ফোনটা কানে ঠেকিয়ে কেমন বিনয়ী সুরে কথা বলতে লাগলেন কোরিয়ান ভাষায়। ওদিকে শারমিন বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন স্বামীর দিকে। সময় নিয়ে শোয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। মেঝেতে পড়ে থাকা নাইট ড্রেসটা কোনরকম গায়ে পেঁচিয়ে চুপচাপ গিয়ে দাঁড়ালেন বারান্দার দরজার কাছে। কান খাঁড়া করে শুনতে লাগলেন স্বামীর কথাগুলো। তৌকির সাহেব কাকে যেন ভীষণ অনুনয় বিনয় করছেন। আবার কিছু একটা দিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞাও করছেন। এটুকু শুনতেই কপালে গোটাকতক ভাঁজ পড়লো শারমিন বেগমের। মুখটা হয়ে গেলো গম্ভীর। তৌকির সাহেব বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে কল কাটলেন। গম্ভীর মুখে পেছনে ফিরতেই স্ত্রীকে দেখে খানিকটা চমকে উঠেন তিনি। বললেন,

“ এখানে দাঁড়িয়ে কী করছো?”
শারমিন বেগম শক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছেন দু’হাত বুকের কাছে বেঁধে। তৌকির সাহেব দেখেও যেন অদেখা করলেন বউয়ের ওমন মুখভঙ্গি। তিনি চুপচাপ শারমিন বেগমকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন কামরায়। গটগট পায়ে বিছানার সাইড টেবিলের কাছে এগিয়ে এসে, ড্রয়ার খুললেন দ্বিতীয়টা। কিয়তক্ষন এদিকওদিক হাতড়ে বের করে আনলেন বিদেশি সিগারের মোটা বক্সখানা। সেখান থেকে একটা সিগার উঠিয়ে ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজতেই শারমিন বেগম গমগমে গলায় বলে ওঠেন,
“ কার সাথে কথা বললে?”
তৌকির সাহেব লাইটার দিয়ে সিগার ধরাচ্ছেন। স্ত্রীর এহেন কথায় চোখদুটো খানিক উঁচিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন শারমিন বেগমের পানে। পরক্ষণে কেমন বাঁকা হেসে উঠে দাঁড়ালেন। সিগার ফুঁকতে ফুঁকতে ফের শারমিন বেগমকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন বারান্দায়। এতে বুঝি বেজায় অসন্তুষ্ট হলেন শারমিন বেগম। গটগটিয়ে চলে গেলেন স্বামীর পিছুপিছু। বারান্দার দরজার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দাতঁ খিঁচে বললেন,
“ কথার উত্তর দিচ্ছো না কেনো? কার সাথে কথা বললে তখন?”
তৌকির মির্জা অদূর আকাশপটে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন। স্ত্রীর ওমন ঝাঁঝাল কথার পিঠে নির্লিপ্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন,

“ সেই কৈফিয়তও কী তোমায় দিতে হবে?”
মেজাজ চটলো শারমিন বেগমের। মুখটা হয়ে গেলো শক্ত। মানুষটা এবার চিড়বিড়িয়ে ওঠে,
“ আমায় বলবেনা তো কী তোমার বিদেশি রক্ষিতাদের বলবে?”
তৌকির সাহেব ঠোঁট কামড়ে হাসলেন। ঠেস দিয়ে বলে ওঠেন,
“ হিংসে হয় বুঝি?”
শারমিন বেগম নাকমুখ কুঁচকান। মুখ ঝামটি দিয়ে ওঠেন পরক্ষণেই।
“ তোমার মতো এমন চরিত্রহীন আর দুটো দেখিনি আমি।”
তৌকির সাহেবের গায়ে লাগলো না কথাটা। তিনি কেমন পাত্তাহীন ভঙ্গিতে জবাব দেন,
“ চরিত্রহীন বলেই তো তোমায় বিয়ে করেছি, ভালো হলে থোড়াই করতাম!”
কথাটা বুঝি বেশ গায়ে লাগলো শারমিন বেগমের। মানুষটা কেমন তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন মুহুর্তেই। ভীষণ রাগে গজগজ করতে করতে বলে ওঠেন,
“ মুখ সামলে কথা বলো তৌকির! তুমি কার ক্ষমতায় এমন করছো তা কিন্তু বেশ ভালো করে জানি আমি। সো আমার সাথে গেম খেলতে আসবেনা।”
তৌকির সাহেব ঘাড় বাঁকালেন একটুখানি। ঠোঁটের কোণে ক্রুর হাসির ছাপ স্পষ্ট তার। তিনি কেমন অদ্ভুত শান্ত কন্ঠে বলে ওঠেন,

“ সো হোয়াট?”
শারমিন বেগম এপর্যায়ে রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য! মুখাবয়বে একরাশ আগুন লেপ্টে ঝাঁঝাল কন্ঠে বলেন,
“ অতি লোভ ভালো নয় তৌকির মির্জা! এখনো সময় আছে পিছুপা হও।”
তৌকির মির্জা আগের ন্যায় আঙুলের ভাঁজে সিগারেট চেপে ফুঁকছেন আপনমনে। পেছন থেকে শারমিন বেগমের কথাগুলো আদৌও তার কানে গেলো কি-না কে জানে! এদিকে স্বামীর এহেন নিরবতায় যেন মাথাভর্তি আগুনে ঘি পড়ল শারমিন বেগমের। তিনি তৎক্ষনাৎ মেজাজ দেখিয়ে বলতে লাগলেন,
“ তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো যে বনের হিংস্র বাঘ কখনো পোষ মানেনা তৌকির মির্জা। তোমার ছেলে মুগ্ধ ওপস সরি! তার নামতো মুগ্ধ নয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তাকে যেন কী বলে? ওহ হ্যা… দি শ্যাডো মনস্টার। যে কিনা স্বভাবগত ভাবে একজন হিংস্র বন্য বাঘ। যাকে পোষ মানানো তো দূর, তার সামনে সামান্য হাত বাড়ালেও সে হাত বাহু থেকে ছিঁড়ে আনে সে। তাকেই কি-না পোষ মানাতে তুমি এত ছল-কৌশল ব্যাবহার করছ? সিরিয়াসলি? মনে রেখো তৌকির মির্জা — তোমার ছেলে কিন্তু সাধারণ কেউ নয়। ওর কাছে সামান্যতম ভুলেরও প্রায়শ্চিত্ত মানে মৃত্যু। যেদিন সে তোমার আসল রূপগুলো টের পেয়ে যাবে, ঠিক সেদিনই সে তোমাকে একপ্রকার ছিড়েখুঁড়ে খাবে। কেননা তুমি তো খুব ভালো করেই জানো, মুগ্ধ নামক মন্সটারের কাছে সম্পর্ক নিছক বিনোদনের উপকরণ মাত্র!”
বাঁকা হাসলেন তৌকির মির্জা। ঠোঁটের ভাঁজে আটকানো সিগারেটের শেষ ভাগে আরেকবার ফুকঁ টেনে বলতে লাগলেন,

“ খেলা এখনো শেষ হয়নি বেবি! যাও ঘুমাও।”
শারমিন বেগমের কপালের চামড়ায় রগগুলো কেমন দপদপ করে জ্বলছে। তিনি শক্ত মুখে তৎক্ষনাৎ পা বাড়িয়ে উদ্যত হলেন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে। ঘরের দরজা খুলে গটগট পায়ে কয়েক কদম এগুতেই সামনে পড়লেন বাড়ির কাজের লোক মল্লিক সাহেব। বেচারা শারমিন বেগমকে ওমন রুপে দেখে খানিক অস্বস্তিতে পড়লেন যেন। তক্ষুনি নিজের দৃষ্টি নত করে ব্যগ্র কন্ঠে বলে ওঠেন,
“ মেজো ভাবি! আপনার ছেলে….”
বাকিটা আর বলতে পারেননি মল্লিক সাহেব। তার আগেই তার গাল বরাবর সপাটে বসে গেল এক ঘা। মল্লিক সাহেব হতভম্ব বনে গেলেন যেন। হতবাক চোখে সম্মুখে দৃষ্টি তুলে তাকাতেই দেখলেন শারমিন বেগম কেমন রণমুর্তি ভাব ধরে হিসহিসিয়ে বলছেন,
“ ও আমার ছেলে নয়! ঐ বে*শ্যা মা*গীর ছেলেকে আমি আমার পেটে ধরিনি! আরেকবার ঐ জারজকে আমার ছেলে বললে তোর জিভ কেটে রাস্তার কুকুরকে খাইয়ে দিব বলে দিলাম!”

সকাল থেকে মাথা ব্যাথায় কুপোকাত মাইমুনা বেগম। বেচারি বিছানা ছেড়ে উঠতেও পারছেনা আজ। তাছাড়া সারারাত জেগে থেকে কাঁদলে তো এমন হবেই! তায়েফ সাহেব গম্ভীর মুখে বসে আছেন স্ত্রীর পাশে। স্ত্রীর কড়া হুকুম — তিনি যেন তাকে স্পর্শও না করে। এহেন হুকুমে বেচারা পড়েছেন মহা বিপাকে। না পারছেন স্ত্রীর প্রতি একটুখানি যত্নআত্তি দেখাতে , আর না পারছেন মুখ ফুটে কিছু বলতে। ওদিকে বেলা গড়িয়ে পড়ছে বেশ। দশ-টা বাজতে চললো অথচ মাইমুনা বেগমের তেমন কোনো রা-শব্দ না পেয়ে রাইসা বেগম ছুটে এসেছেন মাইমুনা বেগমের বন্ধ ঘরের দরজার সামনে। খানিকক্ষণ দোনোমোনো করতে করতে তিনি ঠিকই কড়া নেড়ে বসলেন দরজার গায়ে। ভেতর থেকে তায়েফ সাহেব শুনলেন সে শব্দ।তিনি তক্ষুনি গায়ের কাপড় খানিকটা টেনেটুনে ঠিকঠাক করে নিয়ে পা বাড়ালেন দরজা খুলতে। সময় নিয়ে দরজা খুলতেই ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাইসা বেগম কেমন স্মিত হেসে বলে ওঠেন,

“ সেজো ভাবি কোথায় ভাইজান? তিনি আজ এখনো ঘুমিয়ে আছে…! ”
“ মাথাব্যথা!”
রাইসা বেগমের কথার মাঝেই হুট করে কথাটা বলে ওঠেন তায়েফ সাহেব। বিষন্ন মুখে দরজার কাছ থেকে সরে এসে দাঁড়ালেন ঘরের মাঝখানে। ওদিকে রাইসা বেগম কেমন উদ্বিগ্ন হলেন এরূপ কথায়। তিনি তক্ষুনি ছুটে এলেন ঘরের ভেতর। বিছানায় শুয়ে কাতরাতে থাকা মাইমুনা বেগমের পানে এগিয়ে এসে বিচলিত কন্ঠে বলতে লাগলেন,
“ কি হয়েছে তোমার সেজো আপা? কোথায় কষ্ট হচ্ছে?”
মাইমুনা বেগম মাথার যন্ত্রণায় কথা অব্ধি বলতে পারছেননা তেমন। রাইসা বেগম এবার বেশ চিন্তায় পড়লেন। তিনি তেমন উপায়ন্তর না পেয়ে তক্ষুনি ছুটলেন ঘরের বাইরে।দৌড়ে এসে দাঁড়ালেন রান্নাঘরের দরজার কাছে। রান্নাঘরে ব্যস্ত হাতে কাজ করছেন রাফিয়া বেগম। জুবাইদা বেগম উদাস মুখে চায়ের কাপে চা ঢালছেন। রাইসা বেগম কোনরূপ কালবিলম্ব না করে গলা উঁচিয়ে বললেন,

“ বড় বু! মেজো বু। তারাতাড়ি এসো। সেজো বু মাথাব্যথায় কেমন কাতরাচ্ছে!”
হঠাৎ এমন একটা বাক্যে হাত থামলো কর্মরত দু-রমণীর। দু’জনেই কেমন উদ্বিগ্ন হয়ে একযোগে জিজ্ঞেস করে উঠেন,
“ কখন থেকে?”
রাইসা বেগম ঠোঁট উল্টায়। তা দেখে আর ধৈর্য্য ধরলেন বাকি দুজন। তৎক্ষনাৎ হাতের কাজ-কর্ম সবটা একপ্রকার ছেড়ে ছুঁড়ে পা বাড়ালেন মাইমুনা বেগমের ঘরের দিকে। রাফিয়া বেগম এগুতে এগুতেই রাইসা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন,
“ রোদকে ডেকে নিয়ে আয় ছোটো।”
রাইসা বেগম তৎক্ষনাৎ মাথা নাড়িয়ে চলে গেলেন সিঁড়ির দিকে। রৌদ্র আজ এখনো হসপিটাল যায়নি। অথচ অন্যদিন ছেলেটা ঠিকই সকাল সকাল চলে যায় হসপিটালে। তবে আজ কেন গেল না তা কে জানে!

ঠক ঠক ঠক…
দরজায় একাধারে কড়া নেড়ে যাচ্ছে কেউ। এহেন অনবরত শব্দে ঘুম ভাঙলো রৌদ্রের। ছেলেটা কেমন চোখ পিটপিট করে তাকালো এদিক-ওদিক। রয়েসয়ে অরিনের বুকের ওপর থেকে সরে এলো আলগোছে। পরক্ষণে লম্বা একটা হামি টেনে একহাতে চোখ ডলতে ডলতে চলে গেলো দরজার কাছে। দরজার নব ঘুরিয়ে যেইনা দরজাটা খুললো ওমনি সামনে থেকে রাইসা বেগম কেমন ব্যগ্র কন্ঠে বলতে লাগলেন,
“ রোদ! একটু নিচে আসতে পারবি আব্বু?”
ছোট চাচীর এহেন ব্যগ্র কন্ঠে তৎক্ষনাৎ চোখ থেকে সকল তন্দ্রা কেটে গেলো রৌদ্রের। কপালে পড়লো একটুখানি ভাঁজ। গলায় খানিক গম্ভীর সুর টেনে বলল,
“ কি হয়েছে?”
“ সেজো বু মাথাব্যথায় কাতরাচ্ছে। তুই একটু এসে দেখ না বাবা।”

আর বলতে হলোনা রাইসা বেগমের। তার আগেই রৌদ্র কেমন হন্তদন্ত পায়ে ছুটলো নিচে যাবার উদ্দেশ্যে। সিঁড়ি বেয়ে ধুপধাপ পা ফেলে নেমে গেল মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। অতঃপর দ্রুত কদমে তায়েফ সাহেবের কামরায় ঢুকতেই শুনতে পায় — মাইমুনা বেগমের হু হু করে কান্নার শব্দ। রৌদ্র কেমন বিচলিত হয়ে এগিয়ে আসে চাচীর কাছে। তাকে দেখতে পেয়েই মাইমুনা বেগম দমে গেলেন যেন। দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে গেলেন নিজের উটকো ব্যাথাগুলো। রৌদ্র তৎক্ষনাৎ মাইমুনা বেগমের মুখের পানে তাকায়। মধ্যবয়সী মানুষটা একদিনেই বুঝি বয়স্কদের মতো দূর্বল হয়ে গেছেন। চোখদুটো কেমন গর্তে ঢুকে গেছে। সারা মুখমণ্ডল জুড়ে কেমন একটা ক্লান্ত ক্লান্ত ভাব। রৌদ্র চাচীর দিকে কিয়তক্ষন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ বলল,

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২৩

“ চোখদুটো খুলো তো কাকিয়া।”
মাইমুনা বেগম বাধ্যদের ন্যায় চোখ মেলে তাকালেন। তা দেখে রৌদ্র কেমন ভ্রু গুটিয়ে আচমকা বলে ওঠে,
“ সারারাত জেগে ছিলে নাকি? তোমার কি ঘুমের সমস্যা হচ্ছে?”
মাইমুনা বেগম ব্যাথাতুর হাসলেন এবার। চোখ উঠিয়ে দৃষ্টি ফেললেন খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামীর পানে। নির্লিপ্ত কণ্ঠে থেমে থেমে বলতে লাগলেন,
“ আমার আবার ঘুম! সে-তো উড়ে গিয়েছে রোদ। জানিনা মরবার আগে আর কোনোদিন একটুখানি শান্তিতে চোখদুটো বুঁজতে পারবো কি-না।”

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২৫