সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৫
jannatul firdaus mithila
“ হাউ ডেয়ার ইউ থিংক অফ মি এজ আ রে পি স্ট? ব্লাডি ডাম্ব!”
রাগে থরথর করে কাপছে মুগ্ধ! দৃঢ় চোয়ালখানা তার কেমন শক্ত হয়ে এসেছে এখন। চোখদুটো যেন জ্বলন্ত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ! ওদিকে মাহি কেমন হতবুদ্ধির ন্যায় পড়ে আছে মাটিতে! জীবনে প্রথমবার গালে চড় পড়লো কি-না। এর আগে থোড়াই কেউ গায়ে হাত তুলেছে তার! একে তো শান্তশিষ্ট তারওপর মুখচোরা মেয়ে, মুখটা সে-কি নিষ্পাপ!এরকম একটা মেয়ের গায়ে কে হাত তুলে শুনি?দু’হাত কোমরে চেপে, মুগ্ধ কেমন চোয়াল শক্ত করে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগল। ছেলেটার আবার এই এক জ্বালা!
কেউ তার দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতার মত চরিত্রে আঙুল তুললেই, তাকে আচ্ছামত শায়েস্তা করতে না পারলে গায়ের ঝাল যেন মিটে না তার! সে সামনের মানুষটা ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, তাতে তার কিচ্ছু যায় আসে না। মাহি সময় নিয়ে নিজের ডান গালটায় হাত উঠিয়ে রাখলো! মুহুর্তেই ব্যায় চোখমুখ কুঁচকে এলো তার।ইশশ্, নরম-সরম গালটা তার এমুহূর্তে কেমন জ্বলে যাচ্ছে! মনে হচ্ছে কেউ বুঝি মুষ্টিভরে কতগুলো গুড়ো মরিচ ইচ্ছেমত ডলে দিয়েছে তার গালে। মাহি গালে হাত বুলাতে বুলাতেই কেঁদে দিল নিঃশব্দে। চোখ বেয়ে তার গড়িয়ে পড়ছে নিরব অশ্রু। ওদিকে মুগ্ধ কেমন নাকের পাটা ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কয়েক হাত দূরে। কিয়তক্ষন বাদে, সে আরও কিছু বলতে যেই না মুখ খুলবে, ওমনি তার দিকে ছলছল চোখজোড়া তাক করলো মাহি! মুগ্ধ থমকায় মুহুর্তেই।গলার স্বরটা কেমন হুট করেই হারিয়ে গেলো তার।রাগে কুঁচকে রাখা কপালখানিও শিথিল হয়ে এলো তক্ষুনি। বেচারার বুকটা কেমন ধ্বক করে উঠলো মেয়েটার অশ্রুসিক্ত চোখ দেখে। মাহি মিনিট খানেক পেরুতেই নিজের চোখ নামিয়ে আনে। তারপর ধীরে ধীরে মাটিতে দু’হাত ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। পরনের ফ্রকটা খানিক ঝেড়ে নিয়ে,কেমন ধরে আসা কন্ঠে বলতে লাগলো,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“ মাফ করবেন! আমি হয়তো ভুল বুঝেছি আপনাকে!”
কিছুক্ষণ আগেও বোধহয় এটুকু শোনার জন্য বেপরোয়া ছিল মুগ্ধ! ক্ষোভে ফেটে যাচ্ছিলো ছেলেটা অথচ এখন? আশ্চর্য! মেয়েটার মুখ থেকে ওমন ক্ষমা চাওয়া শুনে মনটা কেমন আরও ক’ধাপ উদ্বিগ্ন হলো তার।মাহি মাথা নুইয়ে নাক টানছে। চোখের চশমাটা চড়ের বেপরোয়া কান্ডে আপাতত মাটিতে ছিটকে গিয়ে ভেঙে পড়ে আছে। মাহি ঘোলাটে চোখে এদিক ওদিক তাকালো একবার। পরক্ষণে ঠোঁট কামড়ে চুপচাপ পেছন ফিরে হাটাঁ ধরলো আলগোছে। মুগ্ধ আটকাচ্ছে না তাকে! কেন যেন ছেলেটার মন বলছে মাহিকে একটিবার আটকাতে, কিন্তু অনুভূতিহীন মস্তিষ্ক বরাবরই বাঁধা দিচ্ছে সে প্রক্রিয়ায়। মাহি হাঁটছে টলমল পায়ে। মেয়েটার ক্ষুদ্রকায় দেহটা কাপছে ক্ষনে ক্ষনে। বোধহয় কাঁদছে মেয়েটা!
“ ইয়া খোদা! এত্তো পড়া কেনো? আর ভাল্লাগে না। বিয়ের পর কে পড়াশোনা করে?ধুরো!”
টেবিলের ওপর হা করে খুলে রাখা Critical appreciation of English literature বইটি। বইয়ের পাতার ভাঁজে গোটা গোটা অক্ষরে লিখে রাখা পড়াগুলো যেন একেকটা তীর ছুড়ছে অরিনের দিকে। তাছাড়া সময়ের পড়া সময়ে না পড়ে রাখলে তো এমনটা হবেই।এখন অরিনের হচ্ছে মরণ দশা! কয়েকদিন পর ইনকোর্স পরিক্ষা অথচ এখনো কিছুই পড়া হলোনা তার। অরিন ফের পড়ার দিকে সরু চোখে তাকিয়ে থেকে আর্তনাদ করে ওঠে,
“ আহ!! এতো কঠিন কেন!”
কাউচে বসে আছে রৌদ্র। চোখে এঁটে রাখা খয়েরী রঙের চিকন ফ্রেমের চশমাটা পড়ে, সে বেশ মনোযোগ দিয়ে হসপিটালের জরুরী একটা ফাইল ঘাঁটছে।তবে এরইমধ্যে অরিনের ওমন আর্তনাদ কানে আসতেই ছেলেটার সকল ধ্যান ভাঙল।সে তৎক্ষনাৎ চিন্তিত মুখে মেয়েটার পানে দৃষ্টি ফেলল। গম্ভীর কন্ঠে জানতে চাইল,
“ কী হলো সানশাইন?”
আহ্লাদী অরিন তৎক্ষনাৎ মুখ ভার করে বসা ছেড়ে উঠে আসে রৌদ্রের কাছে। রৌদ্রের সামনে এসে দাঁড়াতেই, রৌদ্র তৎক্ষনাৎ মেয়েটাকে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে দিলো। আলতো করে মেয়েটার ফোলা ফোলা গালদুটোতে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,
“ কী হয়েছে আমার জানবাচ্চার?”
অরিন কেমন উদাস মুখে রৌদ্রের কাঁধ জড়িয়ে ধরে। ছেলেটার কন্ঠায় নাক ঘষে আহ্লাদী কন্ঠে বলে ওঠে,
“ পড়াগুলো এতো কঠিন কেনো? আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না। এটা বাদে অন্য একটা কিছু পড়লে হতোনা?”
রৌদ্র দুষ্ট হাসলো এপর্যায়ে।ধীরে ধীরে নিজের হাতদুটোকে জামা ভেদ করে নিয়ে গেলো অরিনের মসৃণ নরম উদরের ওপর। সেথায় আলতো ছোঁয়া দিতেই অরিন তৎক্ষনাৎ সোজা হয়ে বসল।তড়িঘড়ি করে রৌদ্রের কোল থেকে নামতে গেলেই রৌদ্র চেপে ধরল মেয়েটার উদরের নরম চামড়া। অরিনের মুখ থেকে তৎক্ষনাৎ অস্ফুটে বেরিয়ে আসে খানিক ব্যাথাতুর শব্দ। রৌদ্র ঠোঁট কামড়ে হাসলো এবার। কিয়তক্ষন বাদে নিজের মুখটা অরিনের মুখের একদম কাছাকাছি নিয়ে এসে দুষ্ট কন্ঠে বলল,
“ তুমি চাইলে বায়োলজি পড়াতে পারি হানি! একদম প্র্যাক্টিক্যালি বুঝিয়ে -সুঝিয়ে, দরকার পড়লে খানিকটা করেও নাহয় দেখিয়ে দিব।কী হবে না-কি একটা দুটো বায়োলজি ক্লাস? আমি আবার এতে মাস্টার হানি..সো প্লিজ কাম! লেটস গেট ওয়েট টুগেদার!”
সরু চোখে তাকিয়ে আছে অরিন! এখন আর আগের মত হুটহাট ভড়কায় না মেয়েটা। সয়ে গিয়েছে ছেলেটার পাগলামি গুলো! অরিন রৌদ্রের কোলে বসেই আরেকটু এগিয়ে আসে। তৎক্ষনাৎ ঠোঁট কামড়ে চোখবুঁজে নেয় রৌদ্র! অরিন চোখে হাসলো তা দেখে। রৌদ্রের থুতনির মাঝে শোভাময় তীলটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলে ওঠে,
“ মাঝেমধ্যে আমার কী ইচ্ছে করে জানো?”
রৌদ্র তৎক্ষনাৎ চোখ মেলে তাকায়। উৎসুক হয়ে জানতে চায়,
“ কী?”
অরিন তৎক্ষনাৎ জবাব দিলো না। উল্টো মুগ্ধ হেসে ঠোঁট ছোঁয়ালো রৌদ্রের ফুলে-ফেঁপে থাকা পুরুষালী কন্ঠায়। রৌদ্র ফের চোখবুঁজে নেয় আবেশে। অরিন এবার রৌদ্রের কন্ঠায় নাক ঘষতে ঘষতে বলে,
“ ইচ্ছে করে তোমায় একদম কামড়ে খেয়ে ফেলি! ইশশ্ তুমি এতো হ্যান্ডসাম কেন?”
রৌদ্র চোখবুঁজে রেখেই চমৎকার হাসলো।কথায় আছে, পুরুষ না-কি তার প্রিয়তমার মুখে নিজ প্রশংসা শুনতে বরাবরই ভালোবাসে। হয়তো রৌদ্রও তেমনটা! ছেলেটা দু’হাতে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরলো অরিনকে। অরিন তখনও ঠোঁট ছুঁইয়ে রেখেছে রৌদ্রের কন্ঠায়। সে ধীরে ধীরে নিজের ঠোঁট সরিয়ে আনে রৌদ্রের ঘাড়ে। সেথায় আলতো পরশ একেঁ পরক্ষণেই দাঁত বসায় সজোরে। ঘটনার আকস্মিকতায় বেচারা রৌদ্র তৎক্ষনাৎ চেচিয়ে উঠে খানিকটা। ফট করে মুখ থেকে তার বেরিয়ে আসে অস্ফুট ব্যাথাতুর শব্দ!
“ আউচ!”
অরিন ধীরেসুস্থে দাঁত সরায়। পরক্ষণে সেথায় দৃষ্টি ফেলে দেখে ছেলেটার ঘাড় বরাবর তার দাঁতের স্পষ্ট চিহ্ন ফুটে উঠেছে। অরিন আলতো হেসে সেথায় ঠোঁট ছোঁয়ায়। বলে,
“দাগটা কিন্তু দারুণ লাগছে হানি!”
রাত সাড়ে ১২টা!
ওয়েস্টিন ঢাকা, গুলশান -২ এর ২৪ তলা বিল্ডিংয়ের ছাঁদের কিনারায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে মুগ্ধ। হাতে তার একটি বিদেশি বিয়ারের ক্যান। ছেলেটা ক্যানের গায়ে এক-আধটি চুমুক বসাচ্ছে আর তাকাচ্ছে নিচে, ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে। সবটা কেমন ছোট ছোট ঠেকছে তার নজরে। মুগ্ধ ছোট ছোট চোখে তাকিয়ে রইলো সেদিকে। সুদর্শন যুবকের গায়ে একদম সেঁটে আছে কালো রঙা ফিনফিনে শার্টটা। ছাদেঁর প্রচন্ড বাতাসের প্রকোপে শার্টটা কেমন ছিড়ে যেতে চাইছে গা থেকে। তবে শক্তিশালী পুরুষ সেথায় ঠায় বসে রইল নির্বিঘ্নে। মুগ্ধ দু’হাত খানিক পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে চোখবুঁজে বসলো।ঠিক তক্ষুনি তার কল্পনার মানসপটে ভেসে উঠল মাহিরার অশ্রুসিক্ত চোখদুটো।মুগ্ধ তড়াক চোখ মেলে তাকায়। কী একটা অবস্থা! সে-ই তখন থেকে মেয়েটাকে ভুলতে চাইছে সে অথচ পারেছেই না কিছুতে! মুগ্ধ এবার নিজের এহেন পরিনতিতে হাসলো ঠোঁট কামড়ে। বিরবির করে বলল,
“ অথচ তোমাকে ভুলতে চেয়েও সেই তখন থেকে মোট ১০০বার তোমার কথা ভেবে ফেলেছি চশমিস!”
মুগ্ধ বরাবরই গম্ভীর স্বভাবজাত পুরুষ। মনের কোণে হুটহাট জাগ্রত হওয়া অনুভুতিকে বরাবরই নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ পটু সে।তবে আজ যেন কোথাও ধুম করে হারিয়ে গেলো সে-ই পটুত্ব! মুগ্ধ এবার হাত বাড়িয়ে নিজের মাথা চুলকায় খানিকটা।পরক্ষণে পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে এনে ব্যস্ত হাতে কল লাগায় রেহানের নম্বরে।
গায়ে কিচেন এপ্রন। হাতে হ্যান্ড মিক্সার। একটা বোলের ভেতর আইসক্রিমের চিরায়ত টেক্সচারে আনার ব্যপক চেষ্টায় মত্ত রেহান সাহেব। পাশেই কিচেন কাউন্টারে পা ঝুলিয়ে বসে আছে রুহি। মেয়েটার না-কি এতোরাতে মালাই আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করেছে, তাও আবার ম্যাংগো স্লাইস দিয়ে। উপরে একটু পেস্তা ফ্লেভার থাকবে এই যা! এহেন উদ্ভট ধরনের আইসক্রিমের নাম বাবার জন্মেও শুনেনি রেহান! সেক্ষেত্রে এমন আইসক্রিম যদি দোকানে খোঁজ করতে যায় তবে দোকানী তাকে নিশ্চিত পাগল বলে উপখ্যায়িত করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই তার! তা-ই আর কি’বা করার আছে! বউয়ের উদ্ভট আইসক্রিমের ক্রেভিংস যেহেতু উঠেই গিয়েছে তাই রেহান সাহেব লেগে পড়েছেন আইসক্রিম বানাতে। এহেন ভিন্ন ধরনের আইসক্রিম বানাতে সে-কি কসরত করছে বেচারা! রুহি তো বেশ মজা নিচ্ছে তা দেখে! রেহান যখন ব্যস্ত নিজ কাজে ঠিক তখনি কাউন্টারের ওপর পড়ে থাকা তার ফোনটা বেজে ওঠে কর্কশ শব্দে। রুহি আগ বাড়িয়ে ফোনটা রিসিভ করে লাউডে দিলো। তক্ষুনি ওপাশ থেকে ভেসে এলো মুগ্ধের ব্যস্ত কন্ঠ,
“ রেহান! তোর শালি’র নাম্বারটা দে তো!”
এহেন কথায় তৎক্ষনাৎ চোখদুটো কপালে উঠে গেলো রুহির। রেহান কেমন হতভম্ব বনে গেলো মুহুর্তেই! ওপাশ থেকে মুগ্ধ ফের বলে ওঠে,
“ কী রে? কথা কানে যায়নি তোর?”
রেহানের হুঁশ ফিরলো মাত্র। সে খানিক আমতাআমতা করে বলল,
“ ইয়ে মানে.. কোন শালি’র?”
“ ঐ যে..চশমিস আছে না একটা? যার নাকটা সবসময় লাল থাকে,চোখদুটো ডাগরডোগর। গালদুটোতে মাংসের অভাব। বাম ভ্রুর ওপর লাল তীল। ঐ মেয়েটা!”
রেহান এবার আরেকধাপ অবাক হলো যেন। সে কেমন হতবাক কন্ঠে বলল,
“ এতোকিছু খেয়াল করেছিস? অথচ নামটা জানিস না?”
ওপাশে মুগ্ধ চুপ রইল কিয়তক্ষন। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ভাবলো — আশ্চর্য! মেয়েটার ব্যাপারে এতকিছু কবে খেয়াল করলো ও? রেহান নিজের কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নোত্তর না পেয়ে দমলো একটুখানি। পরক্ষণে বলল,
“ আমি হোয়াটসঅ্যাপ এ সেন্ড করছি, চেক কর!”
মুগ্ধ কল কাটলো।উৎসুকভাবে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল। মিনিট খানেকের মধ্যেই নাম্বার এলো। মুহুর্তেই তার চোখদুটো কেমন আনমনেই চকচক করে ওঠলো। সে তৎক্ষনাৎ পাদু’টো উঠিয়ে আনলো ছাঁদের কিনারা থেকে।অতঃপর গটগট পায়ে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।
রাত দেড়টা!
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন মাহি। রাতের দিকে কেঁদেকেটে সে-কি বেহাল অবস্থা তার! গালে না-কি ব্যথা শুরু হয়েছে প্রচন্ড। মাইমুনা বেগম এ নিয়ে জেরা করতেই মেয়েটা কথা কাটিয়ে বলল — মাম্পসের ব্যথা শুরু হয়েছে। অগত্যা তাকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল পুরো এহসান বাড়ি।তায়েফ সাহেব তো ডিউটি ছেড়ে এসেই মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটতে চেয়েছিলেন, তবে মাহি কোনমতে বাবাকে সাত-পাঁচ বুঝিয়ে ঠেকিয়েছে হসপিটাল যাওয়া।
নিস্তব্ধ ঘরটি! ক্ষনে ক্ষনে শোনা যাচ্ছে মেয়ে দু’টোর ফোঁস ফোঁস নিশ্বাসের শব্দ। ঠিক তখনি মাহির আদুরে ঘুমটায় ব্যাঘাত ঘটাতে বালিশের নিচ থেকে তার ফোনটা কেমন কর্কশ শব্দে বাজতে লাগলো! ঘুমন্ত মাহি ঘুমের ঘোরেই ভ্রু কুঁচকালো বিরক্তিতে। তবে যেচে পড়ে কলটি আর রিসিভ করলোনা মেয়েটা!কলটা বাজতে বাজতে নিজে থেকেই কেটে গেল। ওপাশের অধৈর্য্য ব্যাক্তি আবারও নিজের অধৈর্য্যতার প্রমান দিতে কল দিয়ে বসলো মেয়েটার ফোনে।এবার আর ঘুম সইলো না মাহির। খানিক নড়চড় করতেই ঘুমটা কেমন কাঁচা হয়ে গেল তার! সে মুখের মাঝে একরাশ বিরক্তি নিয়ে ফোনটা বালিশের নিচ থেকে বের করে এনে কানে ঠেকায়। ঘুম জড়ানো মায়াবী কন্ঠে থেমে থেমে বলল,
“ হ-হ্যালো!”
ওপাশের অধৈর্য্য ব্যাক্তি মুগ্ধ থমকায় একমুহূর্তের জন্য। হৃৎপিণ্ডটা বোধহয় এক্ষুনি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল একমুহূর্তের জন্য। কী শুনলো সে? এ আবার কার কন্ঠ? একটা সাধারণ বাক্যও কেনো জোরে এসে এতোটা বুকে বিঁধল তার? কি আশ্চর্য কান্ড! মেয়েটা তবে জাদুকরী। জাদু জানে নিশ্চয়ই! মুগ্ধ সময় নিয়ে মুখ খুললো। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“ চশমিস! আর ইউ দেয়ার?”
সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৪
ওপাশ থেকে শুধু ভেসে আসছে ঘনঘন নিশ্বাসের শব্দ। বোধহয় মেয়েটা আবারও ঘুমিয়েছে!মুগ্ধ আর যেচে পড়ে জাগালোনা মেয়েটাকে।উল্টো চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগল মেয়েটার প্রতিটি নিশ্বাসের শব্দ। এটাও কেমন মনোমুগ্ধকর ঠেকছে তার কাছে! কী একটা অবস্থা… দেশে এসে আবার ফাঁদে টাদে পড়ছে না-কি সে কে জানে!
