Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ১৬

সে খলনায়ক পর্ব ১৬

সে খলনায়ক পর্ব ১৬
ফারহানা সানিয়াত

বিকেলের আকাশে লালচে আভা ছড়িয়ে। বাহিরে মৃদু বাতাস বইছে সাথে গাছ গাছালিতে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ এমন মনমুগ্ধকর সুন্দর পরিবেশে আবরার ম্যানসনের গার্ডেনে আজ পুরো পরিবার একসাথে বসা সবার হাতে চায়ের কাপ আর সামনের টেবিলে রাখা কিছু নাস্তা ,,
রাইমা মৃদু হেসে বলে উঠেন,,সারা কে খুব মিস করছি মেয়েটা সাথে থাকলে পরিবার একদম সম্পূর্ণ লাগে।
পাশে থাকা হাবিব হুমায়ুন দুজনের ঠোঁটেও হাসি,, হুম এর জন্যই তাকে খুব দ্রুত এই বাসায় পার্মানেন্ট ভাবে আনার ব্যবস্থা করেছি,,
বরাবর বসা দামিয়ান গম্ভীর মুখে চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াছে আর আহানাফ ফোনের দিকে তাকিয়ে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এই কথাগুলো এখন না তুললেই নয় কি, (মনে মনে বলে)

__আমি কিছুদিনের মধ্যে বাসায় একটা পার্টি রাখার কথা ভাবছি সেখানে দামিয়ান আর সারার এই মাসের শেষে এনগেজমেন্ট সেটা অ্যানাউন্স করে দেব।
হাবিব ভাইয়ের কথার সায় জানায়,, হ্যাঁ এটা ভালো হবে তবে কাল মিস্টার চৌধুরীদের বাসায় পার্টি আছে, মনে আছে তো?
হুমায়ুন মৃদু হেসে মাথা নাড়ান হুম আছে, বলে
তিনি বরাবর বসা দামিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলেন,,
__ তোমার মমের সাথে কাল সকালে কথা হয়েছিল
বলেছিলাম সমস্যা না থাকলে আমাদের বাসায় থাকার জন্য,
দামিয়ান হাতের চায়ের কাপ টেবিলে রাখে,, মমের জন্য হোটেল বুক করা হয়েছে সে সেখানেই থাকবে।
হুমায়ুন দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, ঠিক আছে ,,

অন্যদিকে আশ্রমের সদর দরজার কাছে মন খারাপ করে বসে আছে প্রাণপ্রিয়া তার সামনে ছোট শখ একা একা খাবার খাওয়া শিখছে পাশে মিসেস সেলিনা চোখে চশমা পড়া কাথা সেলাই করছেন,,
প্রাণপ্রিয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে কি করবে বুঝতে পারছে না
সে ১০০% শিওর ওই গেস্ট হাউসে ই তার ফোন আছে কিন্তু!
__ এত ভেবোনা প্রিয়া , সেলিনা কাথা সেলাই করার মাঝে বলে ওঠেন ‌,,আমি সুফিয়া কে বলব তোমার মোবাইলটা খুজে দিতে একটু ধৈর্য রাখো। প্রাণপ্রিয়া মাথা নিচু করে ঠোঁট কামড়ে মেরে ধরে,, সেলিনা আড়চোখে প্রাণপ্রিয়াকে দেখে হা করে শ্বাস ফেলেন।
__ যদি আন্টি খুঁজে না পায়,, বিরস গলায় বলে ওঠে প্রাণপ্রিয়া,
সেলিনা হাত থামিয়ে প্রাণপ্রিয়ার দিকে তাকান… পাবেনা কেনো মোবাইল যখন সেখানে আছে অবশ্যই পাবে, তুমি একটু নিজের ধৈর্য ধরে রাখো বলেই তিনি মৃদু মাথা নাড়িয়ে হেসে আবার কাঁথা সেলাই মনোযোগ দেন।
প্রাণপ্রিয়া চোখ তুলে আন্টির দিকে তাকায় এরপর ফের দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘাড় ঘুরিয়ে উঠানে দৃষ্টি ফেলে,,

এয়ারপোর্ট সময় রাত সাড়ে সাতটা,, গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দামিয়ান পাশে নিকলাই বার বার হাত ঘড়ির দিকে দেখছে,,দুজনের দৃষ্টি সামনে। তবে এয়ারপোর্ট বলতে তারা গাড়ি পার্কিং করে সেখানে দাঁড়িয়ে।
অতঃপর কিছু সময় পার হলে দূর থেকে লং শার্ট প্যান্ট পড়া ৪৫ বছরের ক্যাথরিন হেঁটে হেঁটে আসছেন, পাশে আরেকজন বাঙালি মহিলা বয়স ৩০-৩৫ হবে কিন্তু দুজনকে দেখলে তাদের বয়স আপাতত বয়সের অর্ধেকের ও কম লাগছে।
দামিয়ান নিজের মম কে দেখে সোজা হয়ে দাঁড়ায়,,
ক্যাথরিন সামনে এসে, অত্যন্ত খুশি মুখে দামিয়ানকে জরিয়ে ধরেন,,আমার ছেলে আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি,,
দামিয়ান মৃদু হাসে অতঃপর দুজন দুজনকে ছেড়ে দাঁড়ায়,,
পাশ থেকে নিকলাই ,,হ্যালো ম্যাম,,
ক্যাথরিন নিকলাইয়ের দিকে ঘুরেন,, হ্যালো নিকলাই কি অবস্থা তোমার কাল তো তুমি রাশিয়া ব্যাক করছ,

__ জি ম্যাম , নিকলাইয়ের হালকা কাঁপা কন্ঠ,
ক্যাথরিন কিঞ্চিত হাসেন এরপর হাত বাড়িয়ে নিকলাইয়ের কাঁধ হাতে রেখে বলেন,,
__ আমি সব ব্যবস্থা করে এসেছে তুমি শুধু সবকিছুর খেয়াল রাখবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
নিকলাই ঢোক গিলে,, জি ম্যাম,,
পাশে দাঁড়ানো দামিয়ান হাত ঘড়িতে সময় দেখে,, আমাদের যাওয়া উচিত মম,ক্যাথরিন ছেলের কথায় মাথা নাড়িয়ে বলেন,, হুম চলো।অতঃপর সবাই মিলে গাড়িতে উঠে যায় আর ব্যস্ত নগরী রাস্তা দিয়ে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
প্রায় এক ঘন্টা পর,
গুলশান renaissance হটেলের সেভেন ফ্লোরের বিলাসবহুল একটা কামরায় সোফায় ওপর বসে আছে বিদেশি ক্যাথরিন পাশে ওই বাঙালি মহিলাটিও,, মহিলাটির নাম রাত্রি ক্যাথরিনের বিশ্বস্ত হেল্পিং হ্যান্ড বললে চলে।
কামরায় এক পাশে কাঁচে দেয়াল সেখানে বাহিরের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দামিয়ান তার থেকে কিছু দূরে নিকলাই এক কোণায় দাঁড়ানো,,
ক্যাথরিন পায়ের উপর পা তুলে সোনালি রঙের চুল গুলো কাঁধের এক পাশে রাখতে রাখতে বলেন,,

__ তোমার এংগেজমেন্টের প্রোগ্রাম শেষ হলে আমাদের দ্রুত রাশিয়া যেতে হবে দামিয়ান। বিশাল বড় সংখ্যার ‌অস্ত্রের সাপ্লাই দিতে হবে তুমি ছাড়া এই কাজ আমি একা করতে চাইছি না।
দামিয়ান হালকা ঘাড় ঘুরায়,, কোনো কিছু নিয়ে বসে থাকা আমার পছন্দ না। নিকলাই !! (গম্ভীর উচ্চস্বরে ডাক)
কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা নিকলাই,, জি স্যার,
__ আমি যাতে কাজে কোনো গড়মিল না পাই সাপ্লাইয়ের কাজ তুমি গিয়ে সামলাবে।
নিকলাই ঢোক গিলে টিস্যু দিয়ে কপালের ঘাম মুছে,, জিজ স্যার।
ক্যাথরিন হা করে শ্বাস ফেলে বসা থেকে উঠে দামিয়ানের কাছে এগিয়ে যান,,
__ তোমার সিদ্ধান্তের উপর বিশ্বাস আছে আমার, কোনো কাজ হাতছাড়া হবে না আমি জানি।
দানিয়ান ঠোটের কোনে হালকা হাসি নিয়ে তার মমের দিকে তাকায়,, তোমার রেস্ট নেওয়া দরকার মম।

বিছানায় শুয়ে আছে প্রাণপ্রিয়া তার দৃষ্টি জানালার বাহিরে আকাশে চাঁদের দিকে । আজ আকাশে পূর্ণিমা চাঁদ উঠেছে,, চাঁদের আলো প্রাণপ্রিয়ার অন্ধকার ঘরটা হালকা আলোয় আলোকিত রাত ও অনেকটা হবে আশ্রমের পরিবেশ একদম নিস্তব্ধ ঘুমিয়ে পড়েছে হয়তো সবাই কিন্তু ঘুম নেই শুধু প্রাণপ্রিয়ার চোখে তার মাথায় ঘুরছে গেস্ট হাউসে রেখে আসা ফোন টা নিয়ে উফফফ !! সে আসলেই একটি ‌ধৈর্য ছাড়া মেয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে ,,নাহ ফোনটা হাতে নেওয়া না পর্যন্ত তার ঘুম আসবে না সারাদিন যতটুক না অস্থিরতা বোধ করেছিল এখন এই ফোন নিয়ে এর থেকে বেশি করছে। প্রাণপ্রিয়া দুহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে মাথায় কিছু দুষ্টু বুদ্ধি আসছে, হয়তো করা ঠিক হবে না কিন্তু!!! আচ্ছা ঐ লোকটা তো বলেছিল রাতে কোথায় যেন যাবে এর মানে গেস্ট হাউসে এখন কেউ নেই!! বিছানা থেকে‌ দ্রুত নেমে প্রাণপ্রিয়া ঘরে পায়চারি করা শুরু করে আন্টি বলেছিল সুফিয়া আন্টিকে বলবে ফোনটা খুঁজে নিয়ে আসতে কিন্তু যদি না পায়! আচ্ছা আমি যদি লুকিয়ে লুকিয়ে এখন গেস্ট হাউসে ঢুকি !! কথাটা ভেবে প্রাণপ্রিয়া দাঁড়িয়ে যায়।

আবরার ম্যানশনের বিশাল বড় গেট দিয়ে ধীর গতিতে কালো রঙের গাড়ি ঢুকে সোজা গেস্ট হাউজের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আর দাঁড়াতেই গাড়ির পিছনের দরজা খুলে বের হয় দামিয়ান,, বাড়ির চারপাশে টিমটিম আলোয় আলোকিত হলেও গেস্ট হাউজের দিক টা মোটামুটি অন্ধকার কারণ গেস্ট হাউজ এর ভিতরে সব লাইট অফ আশেপাশের যতটুকু আলোয় আলোকিত হয়ে আছে।
দামিয়ান পা বাড়িয়ে অন্ধকার গেস্টহাউজের ভিতর ঢুকে তার পড়নের কোর্ট খুলতে খুলতে,,এরপর তার রুমে গিয়ে কোর্ট এক জায়গায় রেখে অন্ধকারের মধ্যে আয়নার সামনে গিয়ে হাত ঘড়ি খুলতে থাকে। বাহিরে পূর্ণিমা চাঁদের আলো জানালা দিয়ে এসে ঘরের কিছু অংশ আলোকিত । দামিয়ান হাতের ঘড়ি খুলে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখতে যাবে মনে আসে ওই আশ্রিতার ফোনের কথা,
সে ঠোঁটের বাকিয়ে হাসে হাত ঘড়িটা রেখে কালো রঙের ফোনটা নিজের হাতে নেয়, এরপর পা বাড়িয়ে গিয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে পা তুলে বসে। তার মনে পড়ে দুপুরে ওই মেয়ের আসার কথা সে চেয়েছিল ওই আশ্রিতা আসুক শুধু একবার না বারবার তাই তার কাছে ফোন থাকার পরও দেয়‌নি। সে দেখতে চায় ওই মেয়ের অস্বস্তি মুখ ছটফট করা শরীর যে তার কাছ থেকে পালাতে চায় তবুও আসতে হয় এটা হয়তো একটা বিনোদন এর থেকে বেশি কিছুই না।

পূর্ণিমা চাঁদের ঝলমলে আলোয় জঙ্গলের পথ পার করে প্রাণপ্রিয়া চুপি চুপি গেস্ট হাউসের সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর আশেপাশে কেউ আছে নাকি দেখে গেস্ট হাউসের সদর দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়,, সে একটু কনফিউজড ছিল যে দরজা খোলা থাকবে নাকি, কিন্তু আরে বাহ ! দরজা তো খোলা। তবে পুরো গেস্ট হাউস অন্ধকার। প্রাণপ্রিয়া দাঁত বের করে নিঃশব্দে ‌হিহি করে হেসে আস্তে আস্তে ভেতরে ঢুকে,,,
দামিয়ান এক হাত মাথার নিচে দিয়ে আরেক হাতে ফোন নিয়ে নিজের মতো নানান কথা ভাবছে তবে
হঠাৎ পায়ের শব্দ শুনে কপালে বাজ ফেলে দৃষ্টি দরজার দিকে ফেলে,গুটি গুটি পায়ে একটা মেয়ে তার ঘরে প্রবেশ করছে জানাল দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় মেয়েটার মুখ স্পষ্ট। দামিয়ান কপাল কুঁচকে বিছানা থেকে উঠতে নেয় কিন্তু কিছু একটা ভেবে আবার বসে পড়ে সে নিঃশব্দে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে অবশ্যই মেয়েটা আবার আসুক চেয়েছিল কিন্তু রাতের অন্ধকারে চোরের মত!!

প্রাণপ্রিয়া গুটিগুটি পায়ে ঘরে ঢুকে আশেপাশে দেখে
অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না কিন্তু সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে জানালার জন্য এই পাশটায় চাঁদের আলোয় আলোকিত এমনিতেই সে সাদা রঙের পাতলা লং শার্ট পড়েছে বাহিরে কেউ থাকলে তো তাকে দেখেই ফেলবে, না না দ্রুত খুঁজে কেটে পড়তে হবে।
আসার আগে প্রাণপ্রিয়া হাতে একটা ছোট টর্চ লাইট নিয়ে এসেছিল সে সেটা জ্বালিয়ে নিঃশব্দে আস্তে আস্তে খোঁজা শুরু করে।
এদিকে দামিয়ান তাকে দেখছে চাঁদে আলোয় কি করছে না করছে সব কিছু বোঝা যাচ্ছে দামিয়ান ঠোঁট কামড়ে হালকা হেসে বলে ওঠে,,

__ তুমি কি এই ফোনটা খুঁজছো,
প্রাণপ্রিয়া আশেপাশে লাইট দিয়ে দেখছিল তবে পুরুষালী ভারের কণ্ঠ শুনে চমকে হাত থেকে ঠাস করে ছোট লাইট টা পড়ে যায় যা নিচে বিরক্তিকর একটা শব্দে গরিয়ে গরিয়ে কোথায় একটা যায়।
দামিয়ান মুখে বাঁকা হাসি নিয়ে বসা থেকে উঠে আস্তে আস্তে প্রাণপ্রিয়ার দিকে এগোয়।
প্রাণপ্রিয়ার ইতিমধ্যে কাঁপাকাপি শুরু করে দিয়েছে মনে হচ্ছে এখন ই নিস্তেজ হয়ে মেঝেতে পড়ে যাবে
তবুও সাহস জুগিয়ে আস্তে আস্তে পিছে ঘুরে,,
দামিয়ান অনেকটা সামনে চলে এসেছে, তার এক হাতে ফোন আর এক হাত পকেটে। চাঁদের আলোয় শুভ্র রঙের শার্টের সামনে দিয়ে ফর্সা বুক স্পষ্ট সামনের চুল সব কপালের দিকে পড়ে,,গম্ভীর মুখে ঠোটের কোণে হালকা হাসি,,
প্রাণপ্রিয়া ঢোক গিলে ভীতু চোখে কয়েকবার পলক ফেলে দৌড় নিতে নিলে,,
দামিয়ান বলে ওঠে,, বললে না তো এই ফোনটা খুঁজছিলে নাকি,,
প্রাণপ্রিয়া থেমে তড়িৎ গতিতে দামিয়ানের হাতের দিকে তাকায়,, তার ফোন!!
দামিয়ান হালকা শব্দ করে হাসে ,, একজন আশ্রমে অশ্রিতা আমার ঘরে চোরের মত এসেছে তাও এত রাতে আমি সাহস দেখে অবাক মিস প্রাণপ্রিয়া,,
দামিয়ানের কথায় প্রাণপ্রিয়া মাথা নিচু করে পরনের শার্ট খামছে ধরে,

__ আআমি অনেক দুঃখিত আমার কাজে কিন্তু আমি আমার নিজের জিনিস নিতে এসেছি,,
__ ওওহ তাই, কোনটা তোমার জিনিস এই ফোন?
প্রাণপ্রিয়া উপর নিচ মাথা নাড়ায় জি,,
__ কিন্তু তুমি তো এটা পাবে না। প্রাণপ্রিয়া চোখ তুলে তাকায়,,
__ তুমি অন্যায় করেছ আর শাস্তি হিসেবে এই ফোন এখন আমি ভেঙে ফেলব।
প্রাণপ্রিয়ার বুকটা চিপ দিয়ে উঠে,, না না দয়া করে এমন করবেন না, দয়া করে।
দামিয়ান কিছুটা রুক্ষ কণ্ঠে বলে,, আমি কারো শাস্তি মাফ করি না।প্রানপ্রিয়া নিজের অস্বস্তি ভয় ভুলে গিয়ে দামিয়ানের কাছে দু পা এগোয়, আপনি এমনটা করতে পারেন না দয়া করে।
দামিয়ান ফোনটা হালকা হাওয়ায় ছুড়ে মেরে আবার হাতে নেয়,, কেনো করতে পারিনা।

__ কারণ আপনি আমার দেখা সবচেয়ে ভালো আর ভদ্র মানুষ এই পূর্বাচলে আপনার থেকে ভালো মানুষ আমি একটাও দেখিনি বলেই ঠোঁট চেপে প্রাণ প্রিয়া মাথা নত করে। মুখে এটা বললেও মনে মনে বলে এমন কখনোই না আপনি একজন নিষ্ঠুর নির্দয়।
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়ার কথায় শব্দ করে হাসে,,
কে বলেছে আমি ভালো আমি একটুও ভালো না আমি এখন মুহূর্তেই তোমার এই ফোন ভেঙে ফেলতে পারি,,
প্রাণপ্রিয় দ্রুত মাথা নাড়িয়ে বলে ‌,,, না‌ না এমনটা করবেন না দয়া করে।
দামিয়ান বাঁকা হাসে হালকা ঘার কাত করে প্রাণপ্রিয়ার দিকে গভীর আর পূর্ণ দৃষ্টি ফেলে,, চিকন চাকন শরীরে পাতলা সাদা রঙের শার্ট কোমর পর্যন্ত হালকা আঁকাবাঁকা চুলগুলো ছাড়া।
__ তুমি একটা ছেলের ঘরে এত রাতে এসেছে এটা নিয়ে তোমার অনেক ভাবার দরকার ছিল কারণ আমি ভালো না কথাটা বলতে বলতে দামিয়ান প্রাণপ্রিয়ার কাছে যেতে থাকে।
প্রাণপ্রিয়া মাথা নত অবস্থায় দামিয়ান কে কাছে আসতে দেখে ঢোক গিলে আস্তে আস্তে পিছে যেতে যেতে বলে,,

__ দয়া করে আমার ফোন দিয়ে দিন আমি আর কখনো আপনার সামনে আসব না।
__ তোমার প্রথম দিন থেকে উচিত ছিল আমার সামনে না আসার তুমি অনেক বিরক্ত করে একটা মেয়ে,, শেষের কথাটা দামিয়ান শক্ত মুখে দাঁতে দাঁত চেপে ধমক দিয়ে বলতেই প্রাণপ্রিয়া ভয় পিছে পড়ে যেতে নিলে দামিয়ান দ্রুত কোমর জড়িয়ে ধরে ফেলে,,
প্রাণপ্রিয়া পিছে ঝুঁকে যায়, যার ফলে শার্টের গলা বড় হওয়ার কারণে তার ফর্সা গলা আর কাঁধের একপাশ দৃশ্যমান হতে ই দামিয়ানের দৃষ্টি সেখানে পড়ে,, চাঁদের আলো প্রাণপ্রিয়ার চোখে মুখে তার শরীরের দৃশ্যমান জায়গায় পড়ছে,, প্রাণপ্রিয়া দ্রুত সোজা হয়ে সরতে নিলে দামিয়ান আরো শক্ত করে ধরে,,

__ আআমাকে ছাড়ুন আমার লাগবে না ফোন আমি চলে যাব।
দামিয়ান ঘোর লাগা দৃষ্টি প্রানপ্রিয়ার ‌ফর্সা গলা আর কাঁধ থেকে সরে তার গোলাপি ঠোঁটের দিকে পড়ে আস্তে আস্তে দামিয়ান তার আরেক হাতে প্রাণপ্রিয়া ঠোঁটে স্পর্শ করতেই।
প্রাণ প্রিয়া হতভঙ্গ হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে,,

সে খলনায়ক পর্ব ১৫

দামিয়ানের হাত ঠোঁট থেকে আস্তে আস্তে গলার দিকে নেমে কানের নিচে হাত রাখতেই হঠাৎ ঘোর ভাঙ্গে য়ায সাথে সাথে দ্রুত প্রাণপ্রিয়াকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে ফোন‌ দিয়ে বলে ওঠে গেট আউট,,
প্রাণপ্রিয়ার বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে তার শরীর একপ্রকার কাঁপছে তার সে ছু মেরে ফোনটা নিয়ে কোনমত দোড়ৌরে ঘর থেকে বের হয়,,

সে খলনায়ক পর্ব ১৭