স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৩৭
সানজিদা আক্তার মুন্নী
তৌসির আর নাজহার জন্য আজকের রাতটা অন্যরকম। আজকের রজনী তাদের জন্য জীবনের প্রথম বসন্তের রজনী অপেক্ষা আর আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতার প্রহর কেটেছে আজ। রজনীগন্ধায় মোড়ানো স্নিগ্ধ গোধূলি তা।এক নতুন রূপকথার প্রথম পাতা এই রাত। তৌসির আজ নাজহাকে নিজের সাথে পুরো দমে জড়িয়ে নিয়েছে। ওর শক্ত এই বাঁধন থেকে নাজহা আজ আর নিস্তার পায়নি। বেচারির কান্না করতে করতে একদম যায় যায় অবস্থা। চোখের পানিতে সযত্নে দেওয়া কাজল ভেসে গিয়ে ফর্সা গালে লেপ্টে একাকার হয়ে গিয়েছে। এখন তৌসির নাজহার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে ফিসফিস করে বলে ওঠে,
“কৈতরি কাঁদিস না, আরাম পাবি ধৈর্য ধর।”
নাজহা জোরে জোরে শ্বাস ফেলে কান্না থামানোর চেষ্টা করে। ঢোক গিলে হাঁপাতে হাঁপাতে তৌসিরের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলে ওঠে,
“না না সরুন না… সরুন আপনি। ভালোবাসার কথা বলে কষ্ট দিচ্ছেন কেন? তৌসির সরুন না, আর সহ্য হচ্ছে না।”
তৌসির নাজহার পাজর থেকে মুখ তুলে ওর মুখের সামনে নিজের মুখটা নিয়ে আসে তারপর নাজহার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে,
“এটা তো মিঠা যন্ত্রণা কৈতরী, সহ্য করে নে।”
নাজহা তৌসিরের হাতটা ঝাপটা মেরে সরিয়ে দিয়ে রেগে গিয়ে বলে,
“সহ্য তো করছি, আর কত করবো? মেরে ফেলবেন নাকি?”
কথাটা বলেই নাজহা আরো জোরে চিৎকার করে ওঠে, “ছাড়ুন বলছি আমায়য়য়য়!”
তৌসিরের তো চক্ষু চড়কগাছ! এই মেয়ে তো দেখছি মান-ইজ্জত সব খেয়ে দেবে। এবার না পেরে তৌসির নাজহাকে চুপ করানোর জন্য ধমকে ওঠে,
“দূর ছিনাল, আস্তে চিল্লা! আমার মানইজ্জতের ডিসপ্লে মাইরা দিবি।”
তৌসিরের ধমকে নাজহা আবারও ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে। তৌসির নিশ্চুপে নাজহার মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ঘরে আবছা ড্রিম লাইটের আলো জ্বলছে। এমনিতে জীবনেও ড্রিম লাইট অন করে না তৌসির, অযথা বিদ্যুৎ খরচ হবে বলে। কিন্তু আজ বিশেষ কাজ আছে বলেই অন করেছে। ড্রিম লাইটের আলোয় তৌসির স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে নাজহার অবস্থা। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তার কৈতরীর চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছে। আলোয় নাজহার শরীরের দিকে তাকিয়ে তৌসিরের বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠে। ধবধবে ফর্সা গায়ে লালচে আভা ফুটে আছে, যা তৌসিরের ছোঁয়ারই স্বাক্ষর। নাজহার পিঠে, বুকে, গলায় আর ঘাড়ে ছোট ছোট রক্ত জমাট বাঁধার মতো দাগ তৌসিরের দাঁত আর দাড়ির খোঁচা লেগে ফুটে উঠেছে। তৌসির তাকে জোর করেনি, সব স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে কিন্তু নাজহার শরীর তুলনাহীন সৌন্দর্যে ঘেরা বলেই হয়তো এমন দশা। তার চোখের কাজল চোখের পানিতে ঘেঁটে লেপ্টে গেছে চোখের চারপাশে। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দেওয়া ছিল, তার সামান্য একটু এখন ঠোঁটের কিনারায় আধছাটা লেগে আছে, আর বাকিটুকু তৌসিরের ভেতরেই চলে গেছে। তৌসির বাকিটুকুও নিজের ভেতর নেওয়ার জন্য নাজহার রক্তিম ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট বসিয়ে দেয়। নাজহা তৌসিরের পিঠ খামচে ধরে কান্না করতে করতে আচমকা জিজ্ঞেস করে বসে,
“আমি সিওর আপনি কেগেল এক্সারসাইজ করেন, তাই না?”
নাজহার এমন অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তরে কী জবাব দেবে, তৌসির যেন ভেবেই পায় না। কথাটা তো সত্যিই! সে আমতা-আমতা করে বলে,
“ঐ ঐ ঐ বিয়ার পর থাইকা করি আরকি। কিন্তু এইডার নাম তুমি কেমনে জানলা?”
নাজহা এটা শুনে আরো দ্বিগুণ রেগে যায়। তৌসিরের কাঁধে জেদ মেটাতে সজোরে কামড় বসিয়ে দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য বলে ওঠে,
“আপনি একটা কুত্তা! আপনি সরুন, আমার কাছ থেকে সরুন বলছি।”
তৌসির নাজহার কথায় বিন্দুমাত্র পাত্তা দেয় না। উল্টো নাজহার চুলের একাংশ শক্ত করে চেপে ধরে। নিজের বুকের সাথে নাজহার মাথাটা পিষে ধরতে ধরতে সে বলে,
“কাম না সাইরা সরমু না।”
এ বলপ তৌসির নাজহার গালে, কপালে বাকে ঠোঁটে ঠোঁটের কিনারায় চুমু খেতে থাকে উন্মাদের মতো।
ঘরে ইয়াদ সোফায় বসে একমনে নিজের কেসের ফাইলগুলো ঘাঁটছে। অন্যদিকে নওরি সারা ঘরে পায়চারি করছে, উদ্দেশ্যহীনভাবে এটা-ওটা নেড়েচেড়ে দেখছে। তার মনের ভেতর চিন্তার ঝড় বইছে আর তা হলো ‘ইয়াদ যাকে ভালোবাসে, সে কি জানে তাদের এই বিয়ের কথা? আচ্ছা, সে যদি কখনো জানতে পারে, তবে কি নওরিকে এই সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে? যদি যেতেই হয়, তবে কোথায় যাবে সে?’
ভাবনার অথৈ সাগরে যখন নওরি হাবুডুবু খাচ্ছে, ঠিক তখনই ইয়াদের আকস্মিক ডাকে ঘোর কাটে তার, “নওরি, এদিকে এসো তো।”
ইয়াদের এমন হঠাৎ ডাকে ভেতরে ভেতরে বেশ বিচলিত হয়ে পড়ে নওরি। ইয়াদ তো সাধারণত তার সাথে খুব একটা কথা বলে না! তাহলে হঠাৎ ডাকলো কেন? নিশ্চয়ই কোনো দরকার পড়েছে! মাথায় ওড়নার ঘোমটাটা আরেকটু টেনে ইয়াদের পাশে গিয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়ায় গিয়ে তারপর একদম নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করে, “জি, বলুন।”
ইয়াদ নিজের পাশের জায়গাটা দেখিয়ে ইশারা করে বলে, “বসো আমার পাশে।”
কথাটা শোনা মাত্রই নওরির ভেতরটা আলতো কেঁপে ওঠে। অনেক কষ্টে নিজের কাঁপুনি থামিয়ে ধীর পায়ে ইয়াদের পাশে গিয়ে বসে সে। ইয়াদ আড়চোখে একবার নওরির দিকে তাকায়। নওরির এমন কম্পমান অবস্থা দেখে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মুচকি হাসি ফুটে ওঠে তার ইয়াদ স্নিগ্ধ স্বরে বলে, “ভয় পেও না নওরি। আমি এমনিই ডেকেছি, বিশেষ কোনো কারণে নয়।”
নওরি ইয়াদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে, “না… তেমন কিছু না।”
হঠাৎ ইয়াদ ধীরে ধীরে নিচে ঝুঁকে নওরির পা দুটো নিজের কোলের ওপর তুলে নেয়। এমন একটা ঘটনা নওরির কাছে ভীষণ অপ্রত্যাশিত, এক অসম্ভব দৃশ্য! বিস্ময়ে হতবাক হয়ে স্তব্ধ বসে থাকে সে, বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকে ইয়াদের দিকে। ইয়াদ অত্যন্ত আলতো হাতে নওরির পায়ের আঙুলগুলো ছুঁয়ে টেনে দিতে দিতে তার বিস্মিত মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, “তোমার অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাই না? কেউ কি তোমাকে কিছু বলছে? আমার চাচিরা যদি তোমাকে কিছু বলে, তুমি সরাসরি আমাকে এসে বলবে। আমি মুখে যাই বলি না কেন বা এখনো পুরোপুরি মেনে না নিলেও, তুমি আমার স্ত্রী। আর সেই সম্মানটুকু তোমার প্রাপ্য।”
ইয়াদের এমন কথায় দৃষ্টি নিচু করে নেয় নওরি। নিজের পা দুটো ইয়াদের কোল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আমতা আমতা স্বরে বলে, “আমার পা ছাড়ুন আ-আমাকে কেউ কিচ্ছু বলেনি। আপনি আমার পা ধরে আছেন, এটা একদমই মানায় না।”
নওরির এমন ভীতু ও লাজুক আচরণ দেখে ইয়াদ আবারও হেসে ওঠে। তারপর আচমকা এক টানে নওরিকে নিজের একদম কাছে নিয়ে আসে সে। নওরি যাতে ছুটে পালাতে না পারে, তাই শক্ত করে তার কোমর জড়িয়ে ধরে। আচমকা এই টানে নওরির হাত দুটো গিয়ে পড়ে ইয়াদের চওড়া কাঁধের ওপর। নওরির বুকের ভেতরটা এখন ধুকপুক করছে, ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে তার। কাঁপা কাঁপা গলায় নওরি বলে ওঠে, “ক-কী কী হলো এটা?”
ইয়াদ আলতো করে নওরির থুতনিতে চুমু এঁকে দিয়ে ফিসফিস করে বলে, “এটা হলো তোমার প্রতি আমার সূক্ষ্ম মায়ার এক আলতো টান।”
বাথরুমের ভেতর একটা ছোট টুলের ওপর নাজহাকে বসিয়ে সযতনে গোসল করিয়ে দিচ্ছে তৌসির। ইতিমধ্যে দুবার সাবান দিয়ে সারা শরীর ঘষে দিয়েছে সে। তবুও নাজহার আবদার, “আবার ঘষে দিন!”
তৌসিরের তো এদিকে জান বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড়! কতগুলো সাবান যে নষ্ট হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। মগে করে নাজহার গায়ে পানি ঢালতে ঢালতে সে বলে ওঠে, “আরে আর কত দিমু? দুইবার ঘষে দিছি তো!”
নাজহা দাঁত চেপে তৌসিরের দিকে তাকায়, তারপর বেশ ঝাঁঝালো স্বরেই বলে, “আমার শরীর আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঘষি যতক্ষণ না শরীরে লাল লাল দাগ না বসে যায়! আর আপনি দুবার ঘষে দিয়েই শেষ? সরুন, আমার লাগবে না আপনার গোসল করানো!”
তৌসির ওর কথায় কান দেয় না। কোনোমতে নাজহার গোসলটা শেষ করিয়ে, নিজে দ্রুত গোসল সেরে কোমরে একটা লুঙ্গি জড়িয়ে নেয়। এরপর একটা বড় তোয়ালে দিয়ে নাজহার শরীর মুড়িয়ে, ওকে একেবারে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে এনে বিছানায় বসিয়ে দেয়। নাজহা যেন নিজের শরীরের সমস্ত ভার ছেড়ে দিয়েছে। তৌসির ওকে বসিয়ে দিয়ে একটা থ্রিপিস এগিয়ে দেয়।
মেয়েটার দিকে তাকিয়ে তৌসিরের নিজেরও ভেতরটা কেমন যেন খচখচ করে ওঠে। নাজহার গায়ের রঙ এমনিতেই ফর্সা, তার ওপর কাল রাতের মাত্রাতিরিক্ত ধকল! যেখানেই সে ছুঁয়েছে, সেই জায়গাগুলো লালচে বর্ণ ধারণ করে আছে। নাজহার সারাটা দেহ জুড়েই সেই লালের আভা ছড়িয়ে আছে। থ্রিপিসটা পাশে রাখতে রাখতে তৌসির নরম স্বরে বলে, “তুমি এগুলো পরে নাও, আমি বেদনার ওষুধ নিয়া আই।”
কথাটা বলেই সে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। নাজহার তো সারা শরীরে ঘা ধরার মতো তীব্র ব্যথা করছে। হাড়গুলো মনে হচ্ছে মড়মড় করে ভেঙে যাচ্ছে। এই যন্ত্রণাসিক্ত অবস্থায় কোনো কাজ করাই ওর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তবুও অনেক কসরত করে থ্রিপিসটা গায়ে জড়ায় সে, ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখে। চুলের চুইয়ে পড়া পানিতে বিছানা খানিকটা ভিজে যাচ্ছে।
তৌসির বসার ঘরে রাখা ওষুধের বাক্স থেকে ব্যথা কমানোর ওষুধ নিয়ে ঘরে ঢোকে। ঢুকে দেখে নাজহা যেন লতার মতো নেতিয়ে পড়ছে। এই অবস্থা দেখে তৌসির মনে মনে প্রমাদ গোনে, আগে যদি জানতাম ছোঁয়ার লগে এমনে নেতিয়ে পড়ব, তাইলে জীবনেও ওর কাছে যাইতাম না! ছিঃ ছিঃ, নিজেরই লজ্জা লাগতাছে, নাউজুবিল্লাহ!
সে নাজহার পাশে এসে বসে এবং নিজের হাতে ওষুধটা খাইয়ে দেয়। ওষুধ খেয়ে ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিতে চায় নাজহা, কিন্তু তৌসির তড়িঘড়ি করে তাকে বাধা দিয়ে বলে ওঠে, “ধুর বেটি, ব্যাঙ সাউয়া আমার! সারা বিছানা নাপাক, এখানে শুইস না।”
তৌসিরের ধমক খেয়ে নাজহা নিজের শরীরটা কোনোমতে টেনেটুনে দাঁড় করায়। ওর নজর যায় বিছানার দিকে, যেখানে তার কুমারিত্বের তকমা স্পষ্ট লেগে আছে। কিছুটা বিরক্ত হয়েই নাজহা বলে, “এটা তুলুন না! তাড়াতাড়ি তুলুন।”
তৌসির একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানার চাদরটা টেনে তুলতে তুলতে বলে, “দাঁড়াও, আরেকখানা বিছাইয়া নেই।”
চাদরটা তুলে নিতেই নাজহা আর দেরি করে না, খালি তোশকের ওপরই শরীরটা এলিয়ে দিতে দিতে বলে, “প্রয়োজন নেই চাদরের। আপনি আসুন তাড়াতাড়ি, আমাকে একটু জড়িয়ে ধরুন। আমার খুব ঠান্ডা লাগছে।”
ওর তাড়া দেখে তৌসিরের বুঝতে বাকি থাকে না যে, মেয়েটার জ্বর আসছে। নিশ্চিত জ্বর আসবে! আবার না জানি কত টাকার ধারে তাকে পড়তে হয়। টাকার কথা ভেবে ঘরের লাইটটা অফ করতে করতে তৌসির মনে মনে বিড়বিড় করে” সাউয়ার বাসর তো উত্তেজনার ঠেলায় করে নিলাম! এখন বউয়ের জ্বর উঠলে ওষুধের জন্য কত টাকা ফেলতে হইবো আল্লাহ জানে!”
কথাটা ভেবে লাইট নিভিয়ে তৌসির নাজহার পাশ ঘেঁষে বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে। ধীরলয়ে নাজহার কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের বুকের ওপর টেনে নেয়। নাজহার চুল থেকে ভেজা তোয়ালেটা সরিয়ে দিয়ে, ওর চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে, “কাঁদিস না কৈতরি কষ্ট এগুলো স্বাভাবিক।”
এই সামান্য উষ্ণতাটুকু পেতেই নাজহা যেন মোমের মতো গলে পড়ে। হু হু করে কেঁদে ওঠে সে, তৌসিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ভাঙা গলায় বলে, “আমার আর সহ্য হলো না তৌসির! আমার শরীর ব্যথা করছে… খুব ব্যথা করছে, আমার শরীর কাঁপছে।”
তৌসির নাজহার একটা হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে, “দেখো তালুকদারের মাইয়া, এইডা স্বাভাবিক। আর তোমার বয়স আর আমার বয়স ম্যাচিং খায় নাই, তাই একটু যন্ত্রণা তোমার হইতেছে। একটু শান্ত হও।”
কিন্তু নাজহার কান্নার বেগ যেন এতে দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সে বলে ওঠে, “আপনার জন্য হয়েছে এসব! সব দোষ আপনার!”
“জি ম্যাডাম, সব দোষ এই আমার। আমি মানি।”
“আপনি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন তৌসির!”
“কষ্ট না দিলে আরাম মিলে না। এগুলা কিছুই না। ঘুমাও এখন, এত গইল্লা পইড়ো না। এগুলো খুবই স্বাভাবিক।”
“আপনার কাছে তো স্বাভাবিক হবেই! হবে তো স্বাভাবিক! আর ধমকাচ্ছেন আমাকে? কেন ধমকাচ্ছেন? কাছে আসার সময় তো খুবই তেল মারছিল! এক মাঘে শীত যায় না কিন্তু, মনে রাখবেন।”
এই সূক্ষ্ম অভিমানে নাজহা তৌসিরের বুক থেকে মাথা সরিয়ে বালিশে রাখতে যায়। কিন্তু তৌসির এক হ্যাঁচকা টানে ওকে আবারও নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ধমকে ওঠে, “সাউয়ার সাউয়ার করিস না, বাইনচুদের নাতিন! ব্যথায় মরছিস, তাও সাউয়ার তেজ দেখাইতেছিস!”
নাজহা তৌসিরের কাছ থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে করতে বলে, “আপনার সমস্যা কি? এভাবে গালাগালি করছেন কেন?”
“তোর সমস্যা কি? এমনে নাগিনীর মতো ফ্যাঁত ফ্যাঁত করতেছিস ক্যান?”
“আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই করছি! ব্যথায় সারা শরীর তিরতির করছে, এরমধ্যে কাঁচা ভাষার গালি শোনাচ্ছেন!”
“আমার মুখ থাইকা যাই বের হয়, সেটা তো কাঁচা ভাষাই বের হয়। মাখন দিয়া গলানো ভাষা তো আমি কইতাম পারি না।”
“না, তা বলবেন কেন? শয়তানের মতো শয়তানি কথাবার্তা তো বলতেই হইবো!”
“মাঙ্গের নাতিন, ঘুমা এখন। বেশি কথা কইস না।”
এটুকু বলেই তৌসির নাজহাকে নিজের বুকের ওপর থেকে আলতো করে নামিয়ে, ওকে উপুড় করে শুইয়ে দেয়। তৌসিরের এই হঠাৎ কাণ্ডে ভড়কে গিয়ে নাজহা বলে ওঠে, “কি করছেন টা কি?”
তৌসির নাজহার কাঁধে দুই হাত রেখে শান্ত স্বরে বলে, “হাড় মড়িমড়ি করব না একটু ঘাড়, গর্দনা, পিঠ টিপে দেই।”
বলেই সে সযতনে নাজহার ঘাড়ে, পিঠে আর কোমরে ধীরে ধীরে নিজের দুই হাত দিয়ে মালিশ করে দিতে থাকে। এতে নাজহা কিছুটা স্বস্তি পায়। তৌসির জিজ্ঞেস করে, “আরাম লাগতাছে?”
চোখ বুঁজে শান্তির একটা শ্বাস টেনে নাজহা উত্তর দেয়, “হুম, ভীষণ।”
তৌসির বুঝতে পারে নাজহার কষ্টটা। একে তো তার বয়স খুবই কম, তার ওপর এসব শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে ধারণাও কম। তাই নাজহা যেমন শরীরের দিক দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত, তেমনি মানসিকভাবেও বিচলিত। হঠাৎ নাজহা ফিসফিসিয়ে তৌসিরকে বলে, “তৌসির, আমার অপারেশনের সেলাইয়ে না এখন ধীরে ধীরে একটু একটু ব্যথা অনুভব হচ্ছে। আপনি কি করছেন?”
এ কথা শুনে তৌসির ভুরু কুঁচকে বলে, “আমি তোমার সারা শরীরে ঠোঁট ছুঁয়েছি, স্পর্শ করছি খালি এই এতটুকু বাদে। আমি তো ওখানে কিছু করিনি।”
“তাহলে এমন অনুভব হচ্ছে কেন হঠাৎ?”
” নড়া খাইছে শরীর, এ জন্য এমন করছে। ওষুধ দিমু?”
“না, ওষুধ দিতে হবে না। আরেকটু দেখি।”
“আচ্ছা, আমি একটু দেখি।”
“কি দেখবেন?”
“পেটের সেলাই।”
এ কথা শুনে নাজহা ঘাড় ঘুরিয়ে তৌসিরের দিকে আড়চোখে তাকায়। একটু বাঁকা হেসে বলে, “লুইচ্চামির লিমিট থাকা উচিত! এখন সেলাই দেখার নাম করে কত কি দেখবেন, জানা আছে আমার।”
নাজহার কথা শুনে তৌসিরের ঠোঁটে একটা মিষ্টি বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে। সে হাত বাড়িয়ে উপুড় হওয়া নাজহাকে পিঠে ভর দিয়ে সোজা করে শুইয়ে দিতে দিতে বলে, “না না, শুধু দেখবই।”
এই বলে নাজহার পেটের ওপর থেকে কামিজটা সামান্য সরিয়ে দেয় সে। উন্মুক্ত উদরে থাকা সেলাইয়ের দাগটার দিকে কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। তারপর নাজহার মুখের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমির ছলে জিজ্ঞেস করে, “একটা চুমু খাই নাভিতে?”
নাজহা চোখ বুঁজে, মুচকি হেসে অনুমতি দিয়ে বলে, “একটা নয়, কতটি খান! আজ আপনার জন্য হিসেবের খাতা খোলা।”
স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৩৬
এ কথা শোনার পর তৌসিরকে আর কে আটকায়! সে পরম আদরে মুখ ডুবিয়ে দেয় নাজহার উদরে। নাজহা তৌসিরের ভেজা চুলের ভাঁজে নিজের আঙুলগুলো ডুবিয়ে দিয়ে চুলগুলো শক্ত মুঠোয় ধরে ফিসফিস করে বলে, “ধীরে, মেয়র সাব……
তৌসির তখন বাচ্চাদের মতো নাজহার উদরে নাক-মুখ ঘষতে ব্যস্ত। নাজহার কথা শোনার সময় কোথায় তার!

Eto deri kore den keno apo protidin to ontoto ek porbo kore deoya ocit….
Plz apo tara tari diyen
Opekkha korte korte bori hoiya jamo 🙄🙄🙄🙄
কবে দিবেন একটু বলবেন। অনেক সুন্দর উপন্যাস