Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৪

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৪

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৪
তামান্না ইসলাম শিমলা

রান্নাঘরে সবজি কাটছে তনয়া, আজ সে নিজে রান্না করবে তেহরাবের জন্য। তাসলিমাকেও ঢুকতে দেয়নি রান্নাঘরে, তেহরাবোর পছন্দের খিচুড়ি ও হাঁসের মাংস। তেহরাবের সাথে কথা না বলে যে সে থাকতে পারছে না!
বসার রুম থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে চমকায় তনয়া, ভ্রু কুঁচকে দৌড়ে বের হয় রান্নাঘর থেকে। বসার রুমে আসতেই দেখে ইরা সোফায় বসে কাঁদছে, তনয়া অবাক হলো। হঠাৎ কি হলো? ইরার কান্নার শব্দ পেয়ে তাসলিমাও নিচে আসল, তনয়া ইরার কাছে এসে প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কি হয়েছে আপু কাঁদছেন কেন?”
ইরা তনয়ার দিকে তাকায়, কিছু বলছে না শুধু কেঁদেই চলছে। তাসলিমা দৌড়ে এসে ইরার পাশে বসে ইরাকে জড়িয়ে ধরে,

“কি হয়েছে মা, কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন?”
ইরা কাঁদতে কাঁদতেই জবাব দেয়,
“আম্মু ভাইয়া…
তাসলিমা চমকায়, তেহরাব? কি হয়েছে তেহরাব? তেহরাবের কথা শুনে তনয়া ইরার সামনে এসে বসে, অস্থির কন্ঠে প্রশ্ন করে,
“ কি কি হয়েছ? উনার কি? ব বলুন না!”
ইরা কপালে হাত রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“ভাইয়া এনাম মেডিকেলে ভর্তি, ভাইয়া আইসিইউতে আছে। আর কিছু জানি না আমি!”
ইরার কথা কর্ণপাত হতেই ছিটকে পরল তনয়া, তাসলিমার কিছুক্ষণ সময় লাগল সবটা নিতে। তার তেহরাব আইসিইউতে? কি বলছে এসব? তাসলিমা ইরার বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরায়,
“এই কি বলছিস এসব? কি হয়েছে আমার তেহরাবের? ইরা তুই মজা করছিস বল? আমার ছেলেটা…
“আব্বুর নাম্বার থেকে ফাহিম ভাই কল করেছিল আম্মু, আব্বু নিজেও অসুস্থ হয়ে পরেছে। আর কিছু বলল না, ওমা ভাইয়া হাসপাতালে।”

ইরা আবারও কাঁদতে লাগল, এবার তাসলিমাও চিৎকার করে উঠল। আর তনয়া? তনয়া এখনো সবটা মস্তিষ্কে গ্রহন করতে পারছে না, মূর্তির মতো বসে রয়েছে। তেহরাব হাসপাতালে, কথাটা মাথায় আসতেই চট করে উঠে দাঁড়াল তনয়া। দৌড় লাগাল দরজার দিকে, যেতে যেতে বলল,
“নাহ নাহ কিচ্ছু হয়নি উনার, মিথ্যা বলছে সবাই। আমি যাব, হাসপাতালে যাব।”
তনয়াকে দৌড় দিতে দেখে ইরা আর তাসলিমাও উঠে দাঁড়াল, ইরা এক পলক মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি থাক, চিন্তা করো না প্লিজ। আমি আসছি!”
অতঃপর ইরাও দৌড় লাগাল পিছু, তাসলিমা কাঁদতে কাঁদতে বসে পরল সোফায়। কি হলো তার ছেলেটার?
ইরা বাড়ির বাইরে আসতেই দেখে তনয়া অটো দাঁড় করাচ্ছে, ইরা দৌড়ে তনয়ার কাছে গেল,
“তনয়া শান্ত হও প্লিজ, এখন এমন করার সময় না। আমিও যাচ্ছি চলো।”
তনয়া জবাব দিল না,উঠে বসল অটোতে। রওনা দিল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে!!

আইসিইউ এর বাইরে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে ইউসুফ, এক নাগাড়ে সেও কেঁদে চলেছে। তার অশান্ত ভবঘুরে ছেলেটা এখন কি অবস্থায় আছে, একটু পরপর বড় বড় ডাক্তারদের আসা যাওয়া লাগছে। ফাহিম বড় করে শ্বাস নিল, শান্ত করল নিজেকে। এই মূহুর্তে তাকে ভেঙে পরলে চলবে না, ফাহিম গিয়ে বসল ইউসুফের পাশে।
“আঙ্কেল প্লিজ এভাবে ভেঙে পরবেন না, তেহরাব ঠিক হয়ে যাবে!”
ইউসুফ মাথা নেড়ে নেড়ে আরো কান্না করতে থাকে, বলতে থাকে,
“কেউ কিচ্ছু বলছে না, না ডাক্তার না তোমরা। আমার তেহরাব!”
ফাহিম ইউসুফের কাঁধে হাত রাখল,
“প্লিজ শান্ত হন আঙ্কেল, আপনারা এমন করলে তেহরাবের কি হবে?”
ইউসুফ সোজা হয়ে বসল, হঠাৎ তার চোখে মুখে ফুটে উঠল গম্ভীর ও রাগান্বিত ভাব।
“সবটা জানতে চাই আমি, কি করে হলো এসব? বল ফাহিম!”

ফাহিম দীর্ঘশ্বাস ফেলল, সে নিজেও কিছু জানে না। তেহরাব তখন ফোন না করলে হয়ত সেখানে যেতেও পারত না,
“আমি জানি না আঙ্কেল, তেহরাব কল করে মিজুর গোডাউনে যেতে বলে পুলাপান নিয়ে। আমি গিয়ে দেখি মিজুর লোকেরা ওকে মারছে, আমি নিজেও বুঝতে পারছি না মিজুর সাথে ওর শত্রুতাটা কি নিয়ে, উনি তো আপনাদের আত্মীয়।”
ইউসুফ ভ্রু কুঁচকায়, কিছুটা আন্দাজ করতে পারছেন তিনি। তার মানে মাহিমের খবর জেনে গিয়েছে? ইউসুফের মাথা কাজ করছে না, তার ছেলে কেন বিনা কারনে মাহিমকে আটকে রেখেছিল, এমনটা না করলে আজ তেহরাবের এই অবস্থা হতো না।
ইউসুফ চোখ মুখ গম্ভীর করে উঠে দাঁড়ায়,

“আমার ছেলের কিছু হলে ওর গোটা পরিবারকে জেলের ভাত খাওয়াব।”
।বলেই পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে কাউকে একটা কল করতে করতে চলে যায় ইউসুফ, বসে রয় ফাহিম। এমন সময় আইসিইউ থেকে একটি ডাক্তার দ্রুত বের হলেন, ফাহিম ও দৌড়ে তার কাছে গেল,
“স্যার স্যার, ওর কি অবস্থা একটু বলুন না।”
ডাক্তার কাউকে একটা খুঁজতে খুঁজতে দ্রুত স্বরে বলেন,
“ একদম বাজে, প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে তার উপর ক্ষত গুলোও গভীর। জানি না বাঁচবে কিনা!”
ফাহিমের মেজাজ খারাপ হয়,
“এসব কি ধরনের কথা? কি বলছেন এসব, বাঁচবে না মানে? তেহরাবকে সুস্থ চাই আমরা, ওর যদি কিচ্ছু হয়েছে তো এই ক্লিনিক জ্বালিয়ে দেব।”
ডাক্তার বিরক্তিকর চাহনি নিক্ষেপ করলেন,

“এসব হুমকি ধমকি আমাদের দিয়ে লাভ নেই, এসব মারামারি করার আগে ভাব উচিত ছিল। সৃষ্টিকর্তাকে স্বরণ করুন, সবটা তার হাতে। আর রোগীর অবস্থা একদম বাজে, পাল্সরেট ক্রমশ কমছে, কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এখন তো মনে হচ্ছে আইসিইউ তেও কাজ হবে না, লাইফ সাপোর্টে রাখতে হবে।”
এমন সময় ভেতর থেকে ডাক পরে ডাক্তারের,উনি দ্রুত ভেতরে চলে যান। ফাহিম ধপ করে বসে পরে, তেহরাবের কিছু হতেই পারে না। এবার আর নিজেকেও সামলাতে পারে না ফাহিম, নিজেঃ কেঁদে ফেলে। ছেলেটাযে তার আপন ভাইয়ের থেকেও বেশি, সেই ছোট্ট থেকে একসাথে তারা, আজ এই রাগচটা ছেলেটার এই অবস্থা। ফাহিমেরই শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, তেহরাবের কিছু হলে সেই বা কি করে থাকবে?
“ভাই প্লিজ ফিরে আয়, আল্লাহ গো ছেলেটারে ঠিক কইরা দাও আল্লাহ।”
“ভাইয়া, উ উনি কোথায়? ঠিক আছেন তো উনি?”
হঠাৎ নারীকণ্ঠ কর্ণপাত হতেই চমকে উঠে ফাহিম, সামনে তাকিয়ে দেখে তনয়া দাঁড়িয়ে আছে, ইরাও দৌড়ে এদিকে আসছে। ফাহিমকে কাঁদতে দেখে তনয়া নিজের চোখের পানি মুছে হাসি হাসি মুখ করে বলে,
“কাঁদছেন কেন? উনি কই? কি হয়েছে উনার?”

ফাহিম ঠোঁট কামড়ে উঠে দাঁড়ায়, কি জবাব দেবে সে তনয়াকে?
“ভাইয়া কোথায় ফাহিম ভাই? কি হয়েছে বলুন না? আর বাবা কই?”
ফাহিম ভেবে পাচ্ছে না কি জবাব দেবে এই দুজনকে, এখন যদি বলে তেহরাবের অবস্থা মোটেও ভালো না তাহলে দুজনের একজনকেও তো সামলাতে পারবেনা।
এমন সময় আইসিইউ থেকে বের করা হয় একটি স্ট্রেচার, আশে পাশে অনেক ডাক্তার নার্স। স্ট্রেচারে শুয়ে আছে তেহরাব, তনয়া পা বাড়ায় সে দিকে। তনয়াকে তাদের দিকে আসতে দেখে ডাক্তার নার্সকে বলে,
“কেউ যেন না আশে, আর তারাতারি সিসিইউ ইউনিটে নিয়ে যাও। একটা মিনিট সময়ও নষ্ট করা যাবে না।!”
একজন নার্স এসে আঁটকে দেয় তনয়াকে,

“আরেহ কি করছেন, ওদিকে যাওয়া যাবে না। রোগীর অবস্থা ভালো না!”
।তনয়া নার্সকে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে নার্স হাত ধরে আঁটকে নেয়,
“আরে এনাকে কেউ আটকান, রোগীর আশে পাশে কোনো মানুষই এখন যেতে পারবে না।”
“আরেহ ছাড়ুন না, উনাকে কই নিয়ে যাচ্ছেন? আমি দেখব, কথা বলব, ছাড়ুন না আমাকে। ও ইরা আপু বলো না আমাকে ছাড়তে, কীসের সিসিইউ তে নিচ্ছে উনাকে? কিচ্ছু হয় নি তো উনার, বলো না একটু।”
ইরা এসে তনয়াকে ঝাপটে ধরে, কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে,
“তনয়া কি করছো এসব, বাস্তবে আসো তনয়া, ভাইয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হচ্ছে। ভাইয়ার অবস্থা ভালো না।”
তনয়া ছাড় পাওয়ার জন্য মুচড়ামুচড়ি আরম্ভ করল, হাসি হাসি মুখ করে বলল,
“আরেহ কি বলছেন এসব, কিছুই হয়নি উনার। আসলে উনি আমার সাথে রাগ করেছে তো তাই আমাকে কষ্ট দিতে এসব করছে, আমি কথা বললেই ঠিক হয়ে যাবে। নার্স আপু যেতে দিননা আমাকে একটু, দেখবেন উনি একদম সুস্থ।”

নার্স ইরার দিকে তাকাল,
“উনাকে সামলান, আমি আসছি।”
নার্স দৌড়ে চলে গেল, ইরা ছাড়ল না তনয়াকে। তনয়া এখনো একই ভাবে পাগলামি করছে, সে মানতেই পারছে না তেহরাবের কিছু হয়েছে। কি করে হতে পারে? লোকটা না কালকেও তার সাথে রাগ করল, এত অশান্ত মানুষ এত শান্ত ভাবে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকতে পারে বুঝি? একদমই না। তনয়া ইরার হাত ছাড়াতে চেষ্টা করে বলল,
“আপু ছাড়ো না, দেখো নিয়ে যাচ্ছে। উনি রেগে আছে তো, আমি কথা না বললে উনি আরো রাগ করবেন। উনাকে নিয়ে যাচ্ছে, আমাকে ছাড়ো, একটু কথা বলব।”
“ভাবি প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন, তেহরাবের অবস্থা খুব খারাপ। আপনি এমন করবেন না, আল্লাহর কাছে পার্থনা করুন প্লিজ, স্বাভাবিক হোন একটু।”
তনয়া অবাক নয়নে ফাহিমের দিকে তাকাল,

“কেন এমন কথা বলছেন? বললাম তো উনি রাগ করেছে, আমি সব বলব উনাকে তাহলেই আর রাগ করবে না। আপু ছাড়ো না, দেখো দরজা লাগিয়ে দিচ্ছে, ছাড়ো না।”
ইরা এবার না পেরে তনয়ার বাহু ধরে ঝাঁকায়, চিৎকার করে বলে,
“তনয়া বাস্তবে ফিরে আসো, ভাইয়া বাঁচা মরার অবস্থায় আছে, লাইফ সাপোর্টে আছে। ভাইয়াকে সিসিইউতে নিয়ে গিয়েছে, আমি আর কিচ্ছু ভাবতে পারছি না।”
তনয়া ঢুকরে কেঁদে উঠল, কি হচ্ছে এসব। কেন এসব হচ্ছে? তার তেহরাব, তার তেহরাব এই অবস্থায় কেন?
তনয়া মেঝেতে বসে পরল,
“সব দোষ আমার, আমি অনেক খারাপ। আমি উনার জীবনে না আসলে এমন হতোই না, আমি যেখানে যাই সেখানেই ক্ষতি হয়। তনয়া তুই খারাপ, তুই সত্যি অপয়া।”
ইরা নিচু হয়ে তনয়াকে জড়িয়ে ধরে,
“প্লিজ তনয়া শান্ত হও, এখন এসব ভাবা বা বলার সময় নয়। ফাহিম ভাই এসব কি করে হলো? কি হয়েছে ভাইয়ার?”

ফাহিম নিজের চোখ নাক মুছে বলে,
“তেহরাবের এক শত্রু তার উপর হামলা করেছে, এর বেশি আমি কিছু জানি না।”
তনয়া আবারো উঠে দাঁড়াল, কাঁদতে কাঁদতে সিসিইউএর দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। কাচের দরজার অর্ধেকাংশ পর্দা দিয়ে ঢাকা, তনয়া দেখল তেহরাবকে। লোকটাকে ইলেক্ট্রিক শক দিচ্ছে, বুকে, পেটে ব্যান্ডেজ, সেলাইন চলছে, সাথে রক্ত। তবে শকেও কোনো কাজ হচ্ছে না, তার তেহরাব তো বিন্দু মাত্র প্রতিক্রিয়া করছে না। উল্টো পালস কমছে,
“আপনি আমাকে একা করে যেতে পারবেন না বলে দিচ্ছি, তনয়াকে পাগল বানিয়ে আপনি মুক্ত হতে চাইছেন? তনয়া বাঁচবে কি করে এবার বলুন? আপনার তনয়াকে একা করে যাবেন না প্লিজ, বাঁচবে না সে।”
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কথাটা বলল তনয়া, ইরা এসে তনয়ার কাঁধে হাত রাখল।
“তনয়া প্লিজ চলো এখান থেকে, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবে না।!”
তনয়া শুনল না, তেহরাবের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় কান্নামিশ্রিত কন্ঠে বলে,
“শুনুন না, একটিবার তাকান সব বলব আমি,
সব বলব। তাকান না,দেখুন আপনার তনয়া
কষ্ট পাচ্ছে, একটু তাকান।”

তেহরাব কি শুনল? তার কর্ণ অব্দি তো শব্দ গুলো পৌছাল না, দুজনের মাঝে যে অনেক দূরত্ব। কাঁচের দরজার ওপার তেহরাবের নিথর দেহটা যেন তনয়াকে ডাকছে, তনয়ার কান্নার শব্দে হাসপাতালের সকলেই হতভম্ব, তাকুয়ে আছে তার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে। কেউ তাকে সামলাতে পারছে না, ইরা এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে। তনয়া আবারও বলল,
“ও আপু উনি তাকাবে না? উনি ডাকবে না আমায়? একটু তাকাতে বলো না, ডাক্তারকে বলো না আমার সাথে কথা বলতে। একটু যাই ভেতরে? ও আপু তোমার ভাই এত নিষ্ঠুর কেন? বলোনা একটু কথা বলতে!”
“এই মেয়ে একটু শান্ত হও, আমিও কষ্ট পাচ্ছি। ভেতরে থাকা ছেলেটা আমার ভাই, আমারো কষ্ট হচ্ছে, তুমি এমন করলে আমরা কি করব বলো?”
ইরার কথা শুনে তনয়া ইরার দিকে তাকাল, দরজা খুলে একটি নার্স বেরিয়ে গেল। দরজা বন্ধ করার আগ মুহূর্তেই উচ্চস্বরে ডেকে উঠল তেহরাবকে,

“তেহরাব!”
তেহরাব কি এবারো সাড়া দেবে না? তার তনয়া তাকে তার নামে ডেকেছে, এই নামে ডাকলে নাকি সে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকলেও ছুটে চলে আসবে। আর এখন তো সে খুব কাছে, তাহলে কেন আসবে না? তনয়া ইরার দিকে তাকাল,

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৩

“আপু শুনো না, উনার কিছু হলে না আমাকেও উনার সাথে কবর দিয়ে দিও। লোকটা যে আমার বেঁচে থাকার সব পথ বন্ধ করে চলে যেতে চাইছে, বড্ড স্বার্থপর মানুষ। আমি কিন্তু মুক্তি দেব না, ঠিক আছে?”
ইরা জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল, সে যে নিজেকেই সামলাতে পারছে না। তনয়া আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল, ঢলে পরল নিচে। মেয়েটা জ্ঞান হাড়িয়েছে, ইরা চিৎকার করে উঠল,
“তনয়া!”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৫