Home হৃদয় রাঙানো প্রেম হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ১৮

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ১৮

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ১৮
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

“ জিরার গুঁড়ার বয়াম টা দিন তো। ”
হুমায়রার কথায় তৎক্ষনাৎ পিছনে তাকাল কৃশান। দেখল একসাথে সবগুলো মশলার বয়াম রাখা তাও আবার একই রঙের। এমনিতেই তো জিরার গুঁড়াই চেনে না সে। আবার এগুলোর মাঝ থেকে সেটাকে খুঁজে বের করতে গিয়ে পড়ল মুসিবতে। বিভ্রান্তের ন্যায় কিছুপল চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ জিরার গুঁড়া দেখতে কী কালার? ”
প্রশ্নটা শুনে আহাম্মক বনে গেলো হুমায়রা। আজ মনে হয় বিস্ময়কর সব ঘটনা দেখতে দেখতেই অক্কা পাবে সে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভেবে উত্তর করল,

“ কিছুটা কফি কালারের মতো। ”
একে একে সবগুলো বয়ামের ঢাকনা খুলে দেখতে লাগল কৃশান। তিন নাম্বার বয়ামের ঢাকনা খুলতেই দেখা মিলল কাঙ্ক্ষিত রঙের মশলার। সাথে সাথেই সেটার ঢাকনা লাগিয়ে হুমায়রার দিক ঢিল ছুঁড়ে মারল। বলল,
“ নেহ, ”
বয়াম খুলতেই নাকে প্রবেশ করল ম্যাজিক মশলার তীব্র সুঘ্রাণ। দুদিন আগেই ঘরের মধ্যে বানিয়েছিল ইয়াসমিন বেগম। সবগুলো মশলাই একটু বেশি রঙ আনিয়ে ব্লেন্ডার করেছে যার দরুণ রঙটা অনেকটা কফির মতোই এসেছে। স্বামীর পানে অসহায় চিত্তে চাইল মেয়েটা। বলল,
“ এটা ম্যাজিক মশলা! ”

ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে কৃশানের। হাত দিয়ে ঘাড় ডলে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা চালাল। বিরক্তি নিয়ে বলল,
“ সবগুলারে ভিন্ন রঙের বয়ামে রাখলেই তো হতো! আ*বাল নারীজাতি! ”
চোখ ছোট ছোট করে তাকাল হুমায়রা। তারা তো বাইরে থেকেই মশলার পরিমাণ দেখে বয়াম চিনে ফেলে। এখন মহাশয় বয়াম খুলে দেখেও যদি চিনতে না পারে এটা তাদের দোষ! অবশ্য না চেনাই স্বাভাবিক। কিছুক্ষণ আগে স্বামীর দেয়া নিষেধাজ্ঞা ভুলে বসল মেয়েটা। পা এগিয়ে এদিকটায় আসতে নিবে ওমনিই খেঁক করে উঠল মানুষটা,
“ এই এই তুই এদিকে আসছিস কেন? নিষেধ করেছি না তোকে? কথা না শুনলে পা কেটে ঘরে বসিয়ে রাখবো! ”
চলন্ত কদম স্থির হলো রমনীর। চুপসে যাওয়া মুখে বলল,
“ আপনার তো চিনতে সমস্যা হচ্ছে তাই ভাবলাম আমিই….”
“ এতো ভাবতে হবে না তোর। ”

হুমায়রাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল কৃশান। এগিয়ে এসে ছুঁ মেরে বয়ামটা নিয়ে নিল। পরপর আবারও জিরার বয়াম খুঁজতে লেগে পড়ল। আর হুমায়রা অবাক চোখে তার কান্ড দেখে গেলো। এক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়েই গেলো কৃশান। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সেটা নিয়ে হুমায়রার দিক এগোতে লাগল।
এর মাঝেই খাবারের এঁটো বাসন নিয়ে কথা বলতে বলতে রান্নাঘরে ঘরে প্রবেশ করলেন দুই জা। সামনে তাকাতেই জবানে কুলুপ এঁটে গেলো তাদের। ইয়াসমিন বেগমের হাত থেকে বাসন গুলো পড়তে নিলেই দৌড়ে এসে সামলে নিল হুমায়রা। ভদ্রমহিলার সেদিকে খেয়াল নেই। তিনি জবান শৃঙ্গে তোলে বললেন,
“ আপা এ কী দেখছি আমি! আমার রান্নাঘরে স্বয়ং নবাবপুত্র নাকি! ”
নাজমিন বেগম কথা খুঁজে পেলেন না। পলকহীন চোখে কৃশানের মশলার বয়াম ধরা হাতে তাকিয়ে রইলেন। মা- চাচি দের এমন রিয়েকশন এ বিরক্ত হলো ছেলেটা। দরজার ফাঁক গলিয়ে ড্রয়িং রুমে তাকাল। দেখল আজাদ এখন সেখানে নেই। তৎক্ষনাৎ বয়ামটা আগের জায়গায় রেখে স্থান ত্যাগ করল। তিন জোড়া দৃষ্টি একত্র হয়ে তার প্রস্থান পথে চেয়ে রইল।
কৃশান যেতেই ইয়াসমিন বেগম হুমায়রার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন,

“ এখানে কেন এসেছিল ওঁ? ”
“ আমি নিজেও জানিনা আম্মু, উনি আসলেন কী যেন করলেন, আবার চলেও গেলেন! কিছুই মাথায় ঢুকেনি আমার! ”
“ আরে ছোট বাদ দাও তো, হয়ত বউকে দেখতে এসেছিল। তোমার ছেলে তো আজকাল বউয়ের প্রতি ভালোই গলেছে! দেখলে না তখন ড্রয়িং রুমে কী করল! এখন চলো উনাদের এগিয়ে দিয়ে আসি।”
নাজমিন বেগমের কথা শুনে লজ্জায় মাথা নুইয়ে নিল হুমায়রা। উনারা কী ভাবছেন এসব? মানুষটা কী আর তাকে দেখতে এসছিল নাকি? উল্টো পুরোটা সময় কী আজব কান্ড কারখানা ঘটাল আর তাকে ধমকিয়েই গেলো! তবে প্রশ্ন হচ্ছে ড্রয়িং রুমের কোন কথা বললেন তার শাশুড়ি? কী করেছিলেন উনি(কৃশান)? তার জন্য কিছু করেছিলেন? কিন্তু সেটা কী?

গোধূলির আগমনে লালাভ বর্ণ ধারণ করতে চলেছে নীলিমা। পাখিরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি বাদ দিয়ে বাসায় ফিরায় ব্যাস্ত হয়েছে।
কিছুক্ষণ আগের জনমানব পূর্ণ মির্জা বাড়িটা এখন একেবারে ফাঁকা। কারো উচ্চ শব্দ বা হাসির বালাই নেই। বাড়ির কর্তিরা কাজ শেষে মাত্র যে যার ঘরে বিশ্রাম নিতে গিয়েছেন। সারাদিনের দৌড় ঝাঁপ শেষে এবেলায় এসে একটু বসার জো পেয়েছেন সকলে। রান্নাঘর গুছিয়ে অলস ভঙ্গিতে ইকরার রুমে প্রবেশ করল হুমায়রা। শাশুড়িদের থেকে শুনেছে উভয় পক্ষেরই ছেলে মেয়েকে পছন্দ হয়েছে এমনকি বিয়ের ডেটও নির্ধারিত করা হয়ে গেছে। ইকরার বাবা- চাচারা যেদিন দেশ ছাড়বেন তার আগের দিনই বিয়ে হবে।
দুপুরের পর এতক্ষণে তার সাক্ষাৎ পেয়ে ইকরা ভেবেছিল একটু অভিমান করবে। তবে প্রিয় সখির ক্লান্ত মুখশ্রী দেখতেই সব অভিমান উবে গেল। বলল,
” এখন এখানে আসতে গেলি কেন? একটু গিয়ে বিশ্রাম করে নিতি। ”
“ সমস্যা নেই, খানেক বাদেই তো আযান পড়বে নামাজ পড়েই একেবারে বিশ্রাম নিব। ”
ইকরার পাশে বসল হুমায়রা। মুখ খুলে কিছু বলতে নিবে এর আগেই দরজার বাইরে থেকে গলা খাঁকারি দিল কৃশান। এমন সময়ে তাকে মোটেও এখানে আশা করেনি দুই বান্ধবী। দুজনেই একবার চোখাচোখি করল। পরপর ইকরা বলল,

“ ভিতরে এসো। ”
শার্ট পড়ে একেবারে বাইরে বেরোনোর জন্য তৈরি হয়ে এসেছে কৃশান। ভিতরে ঢুকেই ইকরার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ তো বিয়ে কী ফাইনাল? ”
“ হ্যাঁ। ”
“ দুনিয়াতে এতো ছেলে থাকতে তোর কী এই ছেলেকেই পছন্দ হলো? ”
ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেলো ইকরার। সাথে সাথেই প্রতিবাদ জানিয়ে বলল,
“ পছন্দ না হওয়ার কী আছে? কেন তোমার পছন্দ হয়নি? ”
“ নাহ, ছেলে যেমন তেমন তবে ছেলের পরিবার আমার একদমই পছন্দ হয়নি। ”
নাক সিঁটকাল ইকরা। বলল,
“ তোমার পছন্দ হলেই কী আর না হলেই কী! সবার পছন্দ হয়েছে মানেই বিয়ে ফাইনাল। ”
“ কী খচ্চর রে তুই? বড়ো ভাইয়ের সামনে এভাবে বিয়ের কথা বলিস? এসব শিখেছিস মাদ্রাসায়! ”
মেজাজ খারাপ হলো ইকরার। কথায় কথায় খালি মাদ্রাসার খোটা! সে রেগে মেগে বলল,

“ বিয়ে কোনো খারাপ জিনিস নয়। যত তাড়াতাড়ি বিয়ে হয় ততই ভালো। ”
“ আচ্ছা যাই হোক ওসব বাদ দে, তোকে কতো টাকা দিয়েছে সেটা বল। ”
চোখ ছোট হয়ে গেলো মেয়েটার। এতক্ষণে বুঝতে পারছে এমন সময়ে কৃশানের এখানে আসার কারণ।
“ তোমাকে কেন বলতে যাব? ”
“ এই হুজুরনী, তুই বল কত টাকা পেয়েছে ওঁ? ”
হঠাৎ প্রশ্নে কিছুটা থতমত খেলো হুমায়রা। এতক্ষন নীরব দর্শক হয়ে শুধু ভাই বোনের কথা শুনেছে। তবে ইকরা কত টাকা পেয়েছে তা সে নিজেই জানে না। তাই ইকরাকে চোখ ইশারা করে জানতে চাইল। ইকরা কিছুই বলল না। অসহায় চোখে চাইল মেয়েটা। পরপর আবারও জিজ্ঞেস করল। এবেলায় আর ত্যাড়ামি করল না ইকরা। ভাইয়ের দিক তাকিয়েই উত্তর করল,

“ দুই হাজার দুই টাকা। ”
“ শুন বনু, তুই দুই টাকা রেখে ভাইয়াকে দুই হাজার টাকা দিয়ে দে। ভাইয়া পরে তোকে ডাবল ফিরিয়ে দিব। ”
কথা শুনে চোখ কপালে উঠে গেলো হুমায়রার। ইকরার উপর তেমন একটা প্রভাব পড়ল না কারণ সে আগে থেকেই এরকম কিছু শুনার জন্য প্রস্তুত ছিল। সে চোরা চোখে একবার ড্রেসিং টেবিলের দিক তাকাল। তখন হিজাবের সেফটিপিন খুলতে গিয়ে ওখানেই টাকা টা রেখে এসেছে। চুপচাপ বিছানা ছেড়ে নেমে পড়ল। কৃশানকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে টাকাটা হাতে নিয়ে দিল ভোঁ দৌড়। তবে রুম ছেড়ে যেতে পারল না। এর আগেই তার সামনে এসে দাঁড়াল কৃশান। বলল,

“ কিরে পালাচ্ছিস কোথায়? ”
“ তুমি কী গো ভাইয়া! সব ভাইরা কাজ করে তাদের বোনদের টাকা দেয় আর তুমি আমার থেকে টাকা নাও! ”
“ তোকে কে বলেছে এসব? এখন বাংলাদেশের কোনো ছেলেটা কাজ করে। মেক্সিমাম ছেলেরাই বেকার হয়ে ঘুরে আর ফুর্তি করে। ”
“ কেন আলভি ভাইয়া কাজ করে না? ”
“ তো তোর আলভি ভাইকি বাংলাদেশে আছে নাকি? বাংলাদেশে থেকে টাকা কামানো যায় না। গেলেও তা দিয়ে আমার পকেট খরচই হবে না। আর আমার আবার দেশের প্রতি খুব টান তাই আমি দেশ ছাড়ছি না। তোর বাপের টাকাতেই চিল করে খাব। ”
“ তোমার যা মন চায় তুমি তাই কর, এখন এখান থেকে যাও আমি আমার টাকা তোমায় দিচ্ছি না। ”
“ বনু না ভালো! ”

ভাইয়ের এমন মিষ্টি ডাকেও গলল না রমনী। বুঝতে পারল টাকা ছাড়া এই খচ্চর পুরুষ বিদায় হবে না। কিন্তু সেও কী কম নাকি? এখন টাকা দিলেই গিয়ে বন্ধুদের সাথে লুডু খেলে বা হাবিজাবি খেয়ে আসবে- তাই কখনই টাকা দেওয়া যাবে না। উল্টো ঘুরে আবারও ঘরের ভিতর হাঁটা দিলো। সাথে চলল কৃশানও।
হুমায়রা বসা থেকে উঠে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে দেখছে ভাইবোনের কান্ড কারখানা। কেন জানি দেখতে ভালোই লাগছে তার। ভাই বোনের সম্পর্ক বুঝি এমনও হয়! তার তো কেউই নেই তাই এ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ভাবনার মাঝেই সহসা কৃশানের থেকে বাঁচতে হুমায়রার পিছনে গিয়ে লুকাল ইকরা। শুধু তাই নয় পরপর মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চাপতেই হুমায়রাকে ধাক্কা মেরে বসল। বেশ জোরেই মেরেছে ধাক্কাটা। আকস্মিক ঘটনায় ব্যালেন্স সামলাতে না পেরে হুমায়রা গিয়ে পড়ল একেবারে সামনে থাকা কৃশানের বুকে। হুমায়রাকে পড়া থেকে বাঁচাতে অজান্তেই তার পিট পেঁচিয়ে ধরল কৃশান। নিমিষেই থমকে গেলো পরিবেশ। অপ্রত্যাশিত স্পর্শে বেসামাল হলো দুটি হৃদয়ের স্পন্দন। ভয়ে হুমায়রার ভিতর হাফরের ন্যায় লাফাচ্ছে। বুক থেকে মাথা তুলে ভয়ার্ত চোখজোড়া স্বামীর মুখপানে রাখল রমনী। দেখল ঐ কালো মণি জোড়া তার উপরেই নিবদ্ধ।
নিজের কাজে সফল হয়ে যেই না একটু খুশি হতে নিবে ইকরা। ওমনিই তার খুশিতে এক বালতি পানি ঢেলে নিস্তব্দ পরিবেশে ধ্বনিত হলো কৃশানের চিরপরিচিত ত্যাড়া কণ্ঠ,
“ ব্যাকরাউন্ডে একটা গান লাগাই তারপর স্টার জলসার নায়ক নায়িকা দের মতো পায়ের তলা থেকে শুরু করে মাথা অব্দি দেখ!

থতমত খেয়ে গেলো দুই বান্ধবী। এক লহমায় কৃশানের থেকে দূরত্ব বজায় আনল হুমায়রা। একবার রাগী দৃষ্টিতে তাকাল ইকরার দিক। ইকরার সেদিকে খেয়াল নেই ভাইয়ের অগ্নিদৃষ্টি দেখতেই দৌড় লাগাল সে। দরজার নিকট যেতেই সামনে পড়লেন ইয়াসমিন বেগম। কড়া কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
“ কী হয়েছে এভাবে দৌড়াচ্ছিস কেন? ”
“ তোমার ছেলে….”
পিছন ফিরে কৃশানের দিক আঙুল তাক করে কথাটা বলতে নিয়েও হঠাৎ থেমে গেলো ইকরা।
“ কী করেছে ওঁ? ”
“ কিছু করেনি ছেলেকে আমার পছন্দ হয়েছে কিনা জানতে এসেছিল! ”

মেকি হেসে কথা ঘুরিয়ে ফেলল ইকরা। ভ্রু গুটিয়ে গেলো কৃশানের। হঠাৎ পল্টি মারল কেন এই মেয়ে? তাকে বাঁচানোর জন্য তো কখনই না! উল্টো তার নামে সব বদনাম কীভাবে করা যায় সেই পথ খুঁজে! তাহলে এখন কী হলো? সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ইকরার পানে। পরপর কিছু একটা ভেবে তাকাল পাশে থাকা রমনীর পানে। দেখল চোখ বুজে স্বস্তির শ্বাস নিচ্ছে সে। যেন এই মাত্র কোনো বিপদের থেকে বেঁচেছে। আবার তাকাল ইকরার দিক। দেখল হুমায়রাকে চোখ দিয়ে সান্তনা দিচ্ছে সে। তৎক্ষনাৎ ঘটনা মাথায় ধরল তার। বুঝতে পারল ইকরার কথা ঘুরানোর কারণ।
মেয়ের কথা শুনে কিছু বললেন না ইয়াসমিন বেগম। ছেলের দিক এক পল তাকিয়ে বললেন,

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ১৭

“ ওহ আচ্ছা, এখনি মাগরিবের আযান দিয়ে ফেলবে। কথা শেষ করে নামাজঘরে এসো। ”
মায়ের প্রস্থান হতেই ভাইয়ের দিক এগিয়ে এলো ইকরা। হাতের টাকা থেকে এক হাজার টাকা কৃশানের দিক বাড়িয়ে বলল,
” নাও, আর দিতে পারব না। ”
“ লাগবে না তোর টাকা! তোর কাছেই রাখ। ”
বলেই স্থান ত্যাগ করল কৃশান। দরজার সামনে এসে একবার তাকিয়ে দেখলো কাঙ্ক্ষিত রমনীর মায়াবী মুখপানে।

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ১৯