হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৫
সাঞ্জেনা শাজ
শুভ্রতাদের পরিক্ষা শেষ হয়েছে বেশ সময় নিয়ে। পরিক্ষার মাঝখানে দীর্ঘ গ্যাপ অসহ্যনীয় ছাড়া আর কিছুই না তার মতে। তবে বাঁচা গিয়েছে। গ্যাপ ততটাও পরেনি। এখন শুধু প্র্যাক্টিক্যাল গুলো বাকি আছে।
পরিক্ষার এ ক’টা দিন মেহরাদ ওকে আর সোহানাকে বেশ সময় দিয়েছে। আর শুভ্রতা? ও বেচারি তো একেবারে নাকের ডগায় চোখের সামনে ছিলো। এদিক সেদিক নড়তে গেলেও খেয়েছে নিষ্ঠুর মানবের ধমক। এই এক পরিক্ষার উছিলায় বেচারিকে ধমকে ধামকে কিছু আর রাখলো না!! এ নিয়ে আফসোসের শেষ নেই বেচারির।
পরিক্ষা শেষ হওয়ার খুশিতে শুভ্রতার হাওয়ায় ভাসতে মন চায়, প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়তে মন চায়, চঞ্চল চড়ুই পাখির মতো ছুটোছুটি করতে মন চায়। কিন্তু মেহরাদের অনুপস্থিতি যেন সেই আনন্দ-সমুদ্রে অতর্কিত এক ভাটার টান। যে মনে খুশির ঢেউ খেলে যাচ্ছিল, সেখানে এখন জলোচ্ছ্বাসের ন্যায় প্রবল অনুভূতিরা এক নোনা জলরাশিতে ডুবে আছে।
মেহরাদের শুন্যতা মেয়েটার হৃদয়ের তাবৎ অনুভূতিকে তছনছ করে দিয়েছে, যেখানে আনন্দের ঝিলিক থাকলেও প্রিয়জনের অভাবের তীব্রতা সবটুকু উচ্ছ্বাসকে এক বিষণ্ণ হাহাকারে পরিণত করেছে।
আজ এক্সাম হল থেকে বের হয়েও সে মেহরাদকে পায় নি মেয়েটা। ভেবেছিলো হয়তো ব্যাস্ততা, কিংবা অফিসে হবে। কিন্তু সময় গড়িয়ে রাত ন’টায় এসে থেমেছে ঘড়ির কাঁটা, তবুও মানবের কোন খবর নেই।
ফোন তুলছে না। কোন খোঁজ পাচ্ছে না। নাছোড়বান্দা অসহনীয় এক দুশ্চিন্তায় শুভ্রতার কাঁদতে মন চাচ্ছে। অবুঝ বালিকার ন্যায় হাত পা ছড়িয়ে তুমুল জেদ দেখিয়ে কাঁদতে মন চাচ্ছে মেয়েটার। রাতের খাবার টুকুও খেতে ইচ্ছে হয়নি তার। সুতরাং, না খেয়েই রয়েছে এ পর্যন্ত।
তার কথা হচ্ছে, কোথাও গিয়েছে ভালো কথা। একটু বলে যাওয়া যেতো না? বলে না যাক, এখন ফোনও তুলছে না কেন? তার কি দুশ্চিন্তা হয় না? সে কি ভালোবাসে না লোকটাকে?
প্রশ্ন গুলো মনসাপটে ভেসে ভেরাতেই,তৎক্ষনাৎ আবারও অভিমানী কিশোরীর ন্যায় দু’চোখ ছলছল করে উঠে মেয়েটার। আজ সন্ধ্যায় তালুকদার বাড়ির বড়ো পুত্রবধূর সব টুকু সম্মান তার গা’য়ে লেপ্টে দিয়েছে তার বড়ো মা। নতুন এক নোজপিন, হাতের চুড়ি , গলার অলংকার, সব দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে তাকে। তার নিজের কাছেই নিজেকে নতুন বঁধু, বঁধু লেগেছিল ওই মহূর্তে। সেই মানুষটার তাকে দেখে ঠিক কি অনুভূতি হবে তা ভেবেও লাজ রাঙা অনুভূতির ঢেউয়ে লাল নীল হয়েছিলো বেশ।
কিন্তু সময়ের বিয়োগে সব উজ্জ্বল অনুভূতিরা ফিকে হয়ে বিবর্ন রুপ ধারণ করেছে। প্রতিক্ষিত মানবের শুন্যতা, অনিশ্চিত দুশ্চিন্তায় রমনী অবুঝ অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়ে কাদে। স্বর্নালংকার ভর্তি রিনঝিন হাত দিয়ে দু’হাটু বুকে চেপে মাথা এলিয়ে রাখে তার অগ্রাবাগে। দু’চোখের কোল ঘেঁষা অশ্রুর বারিধারায় ঘুমে তলিয়ে যেতে থাকে ফুলো ফুলো অভিমান পুষে রাখা অবুঝ মানবী। প্রবল তন্দ্রা ঘোরে মাথাটা কখন বিছানার হ্যাডবোর্ডে হেলে পরেছে, সম্পূর্ণ বেখবর রমনী তাতে।
“ভাই এতটা রিস্ক নিয়ে এসব করার কি কোন প্রয়োজন ছিলো? পুলিশের কাস্টাডিটিতেই তো ছিলো! ” গভীর রাতের নিস্তব্ধতা চুড়ে গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে জিজ্ঞেস করলো আদনান। কথার পাছে মৃদু আশংকা।
মেহরাদ সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত। পুরোষ্ঠ ঠোঁট ফুড়ে বেরিয়ে আসা বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো নিঃশব্দে মিলিয়ে যাচ্ছে মধ্য রজনীর শীতল বায়ুমন্ডলের বুকে। গাড়ির জানালায় ঠেকিয়ে রাখা বলবান হাতে শুকিয়ে যাওয়া তাজা রক্তের সরু রেখা। রাতের অন্ধকার চাকায় পিষে চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকার দিকে ছুটছে মেহরাদদের বাহন। চকচকে নতুন কালো গাড়িটি রাস্তা জুড়ে স’দর্পে দাপিয়ে চারদিকের নিঝুম নীরবতাকে পাল তোলা নৌকার মতো সঙ্গী করে ছুটছে গন্তব্যে।
“এভ্রিথিং ইজ ফেইর এন ইজি ফর মা’ লাভ। সামান্য এক পাশার গলায় ফা’স পড়ানো কি আর রিস্কি হতে পাড়ে! হি ডিজার্ভড মাচ্ মোর খাতিরদারি! বাট আফসোস….. অল্পতেই মুক্তি পেয়ে গেলো।” নিস্তব্ধতা চিড়ে রাশভারী স্বরের শীতল কন্ঠ ধ্বনিত হলো নিষ্ঠুর মানবের। মূহুর্তেই অমোঘ রজনীর ঘোর আমানিশায় ছেয়ে গেলো গাড়ির ভেতরে। ঠান্ডা শীতল কন্ঠটি বরফ কেটে ফেলার মতোই ক্ষুরধার ধারালো তলওয়ারি যেন!
আদনান অন্ধকার চিড়ে বন্ধুর নিষ্ঠুর দানবীয় চেহারাটা একটু দেখার চেষ্টা করলো। কিন্তু ব্যার্থ হলে মূহুর্তেই আবারও গাড়ি চালানো তে ফোকাস করলো। ফোস করে শ্বাস টেনে ভেতরের উৎকন্ঠা টুকু ঝেড়ে ফেলে খানিক বিস্মিত হতাশা নিয়ে বলল,
“এতটা হার্টলেস কবে থেকে হলি? তুই এতটা নির্দয়?”
মেহরাদ সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত। নিস্প্রভ শূন্য চোখ দুটো বাহিরের অন্ধকারকে যেন গিলে খাচ্ছে। নিস্পৃহ স্বরে বলল,
“যে যেমন, আমি তার সাথে তেমনই। ওই জানো’য়ার আমার কলিজায় হাত দিয়েছিলো। ওর বুক চিড়ে কলিজা টেনে বের না করে আমি ছাড়বো? ইফ ইটস এভাউট মাই লাভ’স, আমি এতটা সদয় নই। কখনোই ছিলাম না। পরিস্থিতি কখনোই এরকম আসে নি। যদি আসতো, এর চেয়েও ভয়ংকর রূপ দেখতি। ”
“এর চেয়েও ভয়ংকর….! ” বিস্মিত কন্ঠ ছেলেটার।
“গুনে গুনে তিন মাস একুশ দিন! এই একশত এগারো দিন বেচে থেকেও প্রানহীন মূর্তিতে পরিনত হয়েছিলাম। আমার জা’ন, চঞ্চল পাখিটা হাটতে পারছে না ভালো করে, সে কি এক বিবিষিকাময় সময় কাটালাম! এতো সব কিছুর মূল্য আরও ভারী কিছুই হওয়া উচিত ছিলো …. ” মেহরাদের অনুভূতি শূন্য নিশ্চল ধারালো স্বর। যা বিপরীত পক্ষের রক্ত জল করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট।
আবারও চারদিকে থৈ থৈ নীরবতায় ছেয়ে গেলো। আদনানের চোখে ভাসতে লাগলো আজ সারাদিনের বিবৎস চিত্র গুলো। মূহুর্তেই ঝিমঝিমিয়ে উঠলো মস্তিষ্ক। শক্ত ঢোক চেপে দুপাশে অনবরত মাথা নাড়িয়ে স্থবির করলো নিজেকে।
শুভ্রতাদের পরিক্ষার হলে পৌছে দিয়েই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলো তারা। মেহরাদ বারন করার সত্যেও জোর খাটিয়ে এসেছিলো সে। আজ মেহরাদ আর শুভ্রতার উপর আক্রমণ চালানো হুমায়ুন পাশা কে এক কাস্টাডি থেকে অন্য কাস্টাডিতে ট্রান্সফার করার কথা। আদনান ভেবেছিলো মেহরাদ মেহরাদ হয়তো দেখা করে হুমকি ধমকি দিবে, বেশি হলে শাস্তি বাড়াবে। কিন্তু মেহরাদের পৈশাচিক নিষ্ঠুরতা তার কল্পনাতীত ছিলো। এরকম নির্মম হত্যাকান্ডও কেউ চালায়….!
আশ্চর্য সে। টাকা থাকলে বাঘের চোখও কেনা যায়, আজ তার প্রমাণ পেয়েছে সে। এভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের প্রশাসনকে নিজের হাতে নিয়ে আসা মেহরাদের সেকেন্ডের কাজ ছিলো। তুড়িতেই মাঝ রাস্তা হতে হুমায়ুন পাশাকে তুলে নিয়ে এসেছিলো তারা। কি কূটনৈতিক চাল ছেলেটার! টানা ঘন্টা খানেক নির্মম অত্যাচার চালিয়ে মৃত্যু দিয়েছে। তারপর পাহাড়ি রাস্তা হতে গাড়ি খাদে ফেলে দয়েছি। খুব সহজেই নিউজ প্যাপারে ছাপা হবে, অপরাধী হুমায়ুন পাশার গাড়ি কাস্টাডি হতে ভিন্ন থানায় ট্রান্সফার হতে এক্সিডেন্ট এ মৃত্যু বরন করেছে । গাড়ি সহ সম্পূর্ণ লাশ বেপাত্তা।
ছেলেটা বরাবরই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন সে জানে। দেখেছে সে।কিন্তু আজ মনে হলো বুদ্ধিমান ম্যাক্স প্রো বোধহয়। এতো কিছুতে তার দু’চোখ স্বাক্ষী মনে হলেই মাথা ভন ভন করে উঠে তার। হাত পা অসার হয়ে আসে। তালুকদার বাড়ির একেকটা ড্যাঞ্জারেস। ভাই যেমন বোন গুলোও তেমন। তাকে শুধু একেকটা এট্যাক দিতে থাকে!!! এদিকে সে যে কান্ড ঘটিয়ে বসেছে, তার কি হবে…!
“থাক, যা হওয়ার হয়েছে। তুই আর টেনশন করিস না। সিগারেট টা ফেলে দে এবার। সারা রাস্তা একটার পর একটা ফুকেই যাচ্ছিস। চেইন স্মোকার হয়ে গেলি নাকি??? নাকি স্ট্রেসড তাই?” ভ্রম থেকে বেরিয়ে, নীরবতা ভেঙে সন্দিগ্ধ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো আদনান।
মেহরাদ সিগারেট ভুলেও হাত থেকে ফেললো না। আরেকটা টান দিলো আয়েশি ভঙ্গিতে। কপালে গুটি কয়েক ভাজ টেনে অন্ধকার হাতড়েই সামান্য ঘার বাকিয়ে আদনানকে দেখার প্রয়াস চালালো। অনুভূতিহীন নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল,
“আমি মোটেও টেন্সড নই। এরকম মামুলি বিষয়ে টেন্সড আমি কখনোই হই না। আর চেইন স্মোকার! শুভ্রতাকে না পেলে নির্ঘাত হয়ে যেতাম। এই যে এখনো স্মোক করছি! শুধু ওর থেকে সামান্য দূরত্বটা আমায় মস্তিষ্ক জমাট বাধিয়ে দিচ্ছে। আই ক্যান্ট ফিল এনিথিং উইদাউট হার।”
” তুই পাগল হয়ে যাচ্ছিস দিন দিন। ওর কাছেই তো যাচ্ছিস! তবুও এতো অস্থিরতা? ”
“উমমম, রাইট! আ’ম ক্রেজি। ক্রেজি এভাউট হার। জাস্ট লাইক এ ম্যাড ম্যান। হু লাভ’স হার, হু লিভস ফর হার।”
দ্বিধাহীন কন্ঠ ঘোষিত হলো মানবের। শুভ্রতা নামক রমনীর জন্য তার ভালোবাসাটা দিনের আলোর মতোই স্বচ্ছ,স্পষ্ট। পুরুষালী ওষ্ঠের বাক ফুড়ে বেরিয়ে আসা ধোঁয়া গুলো কুন্ডলী পাকিয়ে আঁধারের রজনীতে নিমজ্জিত হচ্ছে, সেই সাথে কতো কতো নির্মম, নিষ্ঠুরতার সমাধি গেড়ে যাচ্ছে এ চট্টগ্রামের মাটিতে!!
মেহরাদের গাড়ি তালুকদার বাড়িতে ঢুকেছে ভোর চা’রটা নাগাদ। আদনান পথিমধ্যেই নেমে গিয়েছে। গাড়ির শব্দে আবারও শুভ্রতার তিন্দ্রাভাব ছুঁটেছে কিছুটা। শব্দ কিছুটা স্পষ্টতর হতেই শরীর ঝাকিয়ে ধরফরিয়ে উঠলো মেয়েটা। আজ বিষাদের রাত টুকু অনেকটা দীর্ঘতমই মনে হয়েছে তার। অনিশ্চিত আশংকায় তন্দ্রা ছুটে বার বার ধরফরিয়ে উঠেছে বুক। এই বুঝি কল আসলো! কোন সংবাদ আসলো লোকটা কোথায়!
কিন্তু না, তেমন কিছুই হয় নি। বারংবার মোবাইল চেক করেও আশানুরূপ কোন সংকেত না পেয়ে শেষ মেষ সব রাগ উগলে দিয়েছিলো যান্ত্রিক যন্ত্রটার উপর। অদূরে ছুড়ে ফেলেছে কাউচে। আবারও অপেক্ষারত অবস্থাতেই ভয়,শংকা, অভিমান নিয়ে তন্দ্রাঘোরে ডুবে গিয়েছিলো রমনী।
মেহরাদ বাড়িতে এসেছে কথাটা মস্তিষ্ক জানান দিতেই পূর্বের সকল রাগ, অভিমান, ক্লেশানুভূতি একযোগে ঝেকে ধরলো রমনীর অবুঝ মনকে। গাট হয়ে বসে রইলো বিছানার মধ্যভাগে। স্বামীর শূন্যতায় অশ্রু বিসর্জনের কল্যানে ভাসা ভাসা দু’চোখ রক্তিম হয়ে ফুলে উঠেছে। সরু নাকের পাটাটা ফুলেফেপে উঠছে তীব্র ক্লেশ অভিমানের তাড়নায়। তিরতিরিতে কেপে উঠছে ছোট্ট থুতনি টুকু। দরজা খোলার কেচ্ করে শব্দ হতেই তৎক্ষনাৎ অভিমানী দৃষ্টি যুগোল ছুড়ে দিলো দরজার পানে। মূহুর্তেই দু’চোখের সামনে উদ্ভাসিত হলো নিষ্ঠুর মানবের এক ক্লান্ত অগোছালো অবায়ব।
শুভ্রতাকে এভাবে জাগ্রত পেয়ে একটুও অবাক হয় নি মেহরাদ। বরং এতটুকু আশা করেই নিচ থেকে শুকিয়ে যাওয়া লহুর ছিটেফোঁটা অংশ ধুয়ে মুছে এসেছে। এখানেও সম্পূর্ণ নির্লিপ্তই তার অভিব্যক্তি ধরে রাখলো । প্রেয়সীর অভিমানী দৃষ্টিতে নিস্পৃহ দৃষ্টি ডোবালো । ভারী কদমে প্রেয়সীর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলিষ্ঠ হাতের আস্তিন উন্মুক্ত করে শার্টের বোতামে হাত চালাচ্ছে সে। দৃষ্টি স্থীর তখনও রক্তিম দু’নয়নে। যেখানে পলকেই অভিমানী বর্ষন নেমে আসতে পারে।
দুরত্বের পথ কমিয়ে, অর্ধউন্মক্ত মানবের বাড়ানো একেকটা গতিশীল কদমের সাথে অষ্টাদশীর মন কুঠরীর পুঞ্জিভূত কষ্টগুলো পাল্লা দিয়ে উতলে উঠছে কূলহীন জলরাশীর ন্যায় । অভিমানের তাড়নায় ছোট্ট কিশোরীর ন্যায় ঠোঁট ভেঙে আসছে রমনীর। ভাসা দু’চোখের কূল ঘেঁষে অভিমানী মুক্তার দানা ঝরে পরতেই তৎক্ষনাৎ ব্যাগ্র কদমে সমগ্র দুরত্বের ইস্তফা ঘটালো মেহরাদ।
প্রতিশোধী রক্তের ছোয়া লেগে থাকা শার্টটা সম্পূর্ণ তাচ্ছিল্য ভঙ্গিতে অদূরে ছুড়ে মারলো কোথাও। বিছানার মধ্যভাগে হাটু গেড়ে, অভিমানী ছোট্ট মুখশ্রীটা দু’হাতের আজলায় তুলে নিতে নিতে ধ্বনিত হলো মানবের অস্ফুট স্বরের স্বীকারোক্তি ,
“আ’ম সরি। খুব করে সরি,হু? আর কোথাও একা রেখে যাবো না। কান্না করে না লক্ষিটি। ‘
অভিমানী কিশোরীর মন কিছুতেই গললো না। বল খাটিয়ে ছাড়িয়ে নিতে চায় আঁজল হতে নিজেকে। পূর্বের সুক্ষ্ম রাগের আচ টুকু মেহরাদের নরম স্বীকারোক্তিতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো মূহুর্তেই। জেদ দেখিয়ে বলিষ্ঠ দু’হাত সরিয়ে দিতে দিতে কন্ঠে তেজ ঢেলে বলল,
” যেখানে খুশি যাক! আমার কি! আমি কে!”
“হুশশশ!” তুই’ই তো আমার সব!”
“সব মিথ্যে কথা। একটা বার কি বলে যাওয়া যেতো না? কি এমন কাজ বলা যাবে না? সারাটাদিন কোথায় ছিলো? আমার দুশ্চিন্তা হয় না? আমাকে কি মানুষ মনে হয় না…..”
নাছোড়বান্দা মেয়েটা জেদ দেখিয়ে নিজেকে ছাড়াতে ব্যাস্ত। দু’চোখের কোল ঘেঁষে আলগোছে নেমে এসেছে মুষলধারা বৃষ্টি। অভিমানী কিশোরীর মুখ ফুটে নিঃসৃত একেকটা বাক্যে অধিকারবোধের চরম বিস্ফোরণ ঘটছে। নিঃশব্দে ঠোঁট বেকে আসে মেহরাদের। রমনীর মিষ্টি রাগের ভালোবাসাটুকুতে ঠোঁটের আগায় এক চিলতে নরম হাসি খেলে যায় মূহুর্তেই। চট্রগ্রামের নির্মম, পৈশাচিক রূপ এ রূপের কাছে বড্ড অপরিচিত। যেন দুটো ভিন্ন গ্রহের মানুষ!সম্পূর্ণ দুটি আলাদা সত্তা।
অবাধ্য কিশোরীর ন্যায় ছটফটিয়ে উঠা তেজস্বী রমনীর কপাল বরাবর পুরোষ্ঠ দু’ঠোট চেপে ধরলো মেহরাদ। অতর্কিত শীতল ছোয়ায় মূহুর্তেই স্তম্ভিত হয়ে গেলো ছটফটানো রমনী। বিছানা জুড়ে বহমান তান্ডবলীলা মূহুর্তেই শান্ত হয়ে গিয়েছে। নিঝুম নীরবতা নেমে এসেছে রুম জুড়ে। ফুস করে ভারী নিশ্বাস ছেড়ে নরম কন্ঠে বিড়বিড়ালো মেহরাদ,
“চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। বলে গেলি দুশ্চিন্তা করতি। ”
চড়াক করে মস্তিষ্কটা ঝাকিয়ে উঠলো শুভ্রতার। মূহুর্তেই মাত্রা ছাড়ালো আশংকা । চট্টগ্রাম মানেই এক বিবৎস স্মৃতি তার জন্য। তার জীবনের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে ওই নিষ্ঠুর শহর। আতংকিত হয়ে ঠোঁট ভেঙে কেদে উঠলো মেয়েটা। বাধ ভাঙা অশ্রুর প্লাবনে মুষ্টিবদ্ধ শীর্ন দু’হাতের আঘাত হানে বলিষ্ঠ মানবের উন্মুক্ত বুকে। ঝরঝরিয়ে কাদতে কাদতে অভিমানী কন্ঠে ছুড়ে প্রশ্নের বান,
“ওখানে কেন গিয়েছেন আপনি? কেন? কেন? আমার সব শেষ করে দিয়েছে ওই জঘন্য জায়গাটা। আপনি কেন গেলেন আবার? কি কাজ সেখানে? সারাদিন কি করেছেন ওখানে? আমায় না বলে কেন গেলেন? যদি আবার কিছু হয়ে যেতো? আল্লাহ! কেন গেলেন আপনি? কেন……”
মেয়েটার পাগলামো মাত্রা ছাড়াচ্ছে। লতানো হাতের চুড়ির রিনঝিনে শব্দটুকু মস্তিষ্কে ভ্রম ধরিয়ে দেওয়ার উপক্রম মেহরাদের। ওই ছোট ছোট নাজুক আঘাতে তার কোন কিছু না হলেও, মেয়েটা হাপিয়ে উঠছে বারংবার । হাপড়ের ন্যায় উঠানামা করছে তার নারী সত্তা।
“পাগলামি করবি জানতাম। দ্যাটস হোয়াই তোকে বলে যাই নি। এই দেখ? একদম সুস্থ আছি। কিচ্ছু হয় নি তো! ইমারজেন্সি ছিলো একটা। না গেলে অনেক বড়ো লস হয়ে যেতো। আদনান গিয়েছিলো তো সাথে। একা যাই নি। প্লিজ জান,শান্ত হও এবার…..” রাশভারী কন্ঠে এক ডালা আদর মেখে, খুব গুছিয়ে মিথ্যে বলতে বলতে ছুটন্ত দু’হাত আলগোছেই বলিষ্ঠ এক হাতের দ্বারা বুকের মধ্যিখানেই চেপে ধরলো মেহরাদ। আরেক হাতে ছটফটিয়ে উঠা ছোট্ট নারী দেহের পেলব কোমরের খাজ গলিয়ে পৃষ্ঠদেশ আঁকড়ে ধরলো। ছটফটানি তবুও থামার নয় অষ্টাদশীর। এযাত্রায় সম্পূর্ণ দুরত্বটা ঘোচালো মেহরাদ। ক্ষন প্রবাহে তেজস্বী রমনীকে বুকের মধ্যে পিষে ফেললো বলিষ্ঠ দু’হাতের দৃঢ়তায়। তেজী কিশোরীর ভেতরের ধুকপুকানি যন্ত্রটার দাপাদাপি স্পষ্ট টের পাচ্ছে সে।
মন্থর গতিতে ছটফটানির মাত্রা কমে আসলো কিছুটা শুভ্রতার, কাঙ্খিত পুরুষের সান্নিধ্যে। নিস্তেজ হয়ে বলিষ্ঠ বুকে মুখ ডুবিয়ে রাখলো । ফুপিয়ে উঠছে ক্ষনে ক্ষনে। প্রকম্পিত হচ্ছে সর্বাঙ্গ। অতীতের বিবৎস স্মৃতি গুলো মানস্পটে উঁকি দিতেই কণ্ঠনালী জমে আসে মেয়েটার। বিবৎস দিন গুলো আর্তনাদ হয়ে বেরিয়ে আসতে চায় কন্ঠতালু চিড়ে। ওই দিন গুলো সে কখনোই ফিরে পেতে চায় না৷ কখনোই না।
মেহরাদের উন্মুক্ত বুকে নিজেকে সপে দিয়ে নিস্তার পেতে চায় মেয়েটা। অবিলম্বে দৃঢ় হাতে আঁকড়ে ধরে বলিষ্ঠ পৃষ্ঠদেশ। ভেতরের তোলপাড় করা অনুভূতি গুলো কণ্ঠনালীতে জমা হতেই, অশ্রুসিক্ত কন্ঠে ঝরঝর করে বলতে আরম্ভ করে,
“আজকে আমি কতো এক্সাইটেড ছিলাম পরিক্ষা শেষ সেই খুশিতে । আর আপনি? আপনি কি করলেন? একদম উধাও হয়ে গেলেন? তা-ও সেই চট্টগ্রাম গিয়ে? নো কলস, নো ম্যাসেজ। উল্টো আমার একটা কল ও রিসিভ করেন নি। কি নিষ্ঠুর আপনি দেখুন? আমায় কথা দিন আপনি, আর কখনো যাবেন না চট্টগ্রাম। ওই চট্টগ্রাম একটা কুফা। সয়তান এটা একটা। আর যাবেন না। বলুন যাবেন না?”
অবুঝ বালিকার ন্যায় শুভ্রতার ছেলেমানুষী আবদার, অনুযোগ। মেহরাদের ঠোঁট বেকে আসে অষ্টাদশীর চপল অধিকারবোধ দেখে। বাধ্য প্রেমিক পুরুষের মতো বশ্যতা স্বীকার করে আওড়ায়,
“অবশ্যই। আপনি যা বলবেন তা-ই হবে ইয়্যুর ও’নার।”
শুভ্রতার চিকন ভ্রু’দয় কুঞ্চিত হয়ে আসে। নাক টেনে শাসিয়ে আভিযোগ করে,
“আপনি মজা করছেন?” বলতে বলতেই দু’দেহের দূরত্ব বাড়িয়ে, মাথা উচিয়ে মেহরাদের মুখোমুখি হতে চাইলো মেয়েটা। তৎক্ষনাৎ জড়িয়ে ধরা হাতের দৃঢ়তা টেনে ধরে মেহরাদ। মূহুর্তেই মেয়েটা আবারও আছড়ে পরে বলিষ্ঠ বুকে। ধনুকের মতো নারীদেহের বাকানো কোমল খাঁজ পিষে যায় পুরুষালী সৌবিষ্ঠ বুকে। ভেতরের অবাধ্য অনুভূতিরা জাগ্রত হতেই তাতে লাগাম টেনে ধ্বনিত হয় মেহরাদের অস্ফুট স্বরের ফিসফিসানি,
“এভাবেই থাক। আমার সকল ক্লান্তি কেটে যাচ্ছে। তোর সংস্পর্শে এলে আমার দেহের প্রত্যেকটা অরগান স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে উঠে শুভ্রা। তোর দেহের মিষ্টি সুবাস টা টনিকের মতো কাজ করে। কি জাদু জানিস রে? এভাবে তোর জন্য উন্মাদ না বানালেও তো পাড়তি!”
মেহরাদের গলার স্বর চেঞ্জ হয়ে আসছে, সেখানে জড়িয়ে গেছে একরাশ মাদকতা ব্যাপারটি আন্দাজ করতেই শুভ্রতার মুখাবয়ব রক্তিম হয়ে উঠলো আড়ষ্টতায়। কলমি লতার ন্যায় লাজে সংকুচিত হয়ে এলো নমনীয় তনু। লেপ্টে গেলো মেহরাদের সৌবিষ্ঠ বুকেরপাটায়। মিইয়ে আসা কন্ঠে নিজের দিক টুকু মুক্ত করলো,
“আপনিও তো জাদু জানেন তাহলে। এই যে আপনার শূন্যতায় নিশাচারীনি হয়ে অশ্রু বিসর্জন দিলাম সারা রাত! এগুলো কি? পাগলামিই তো। আমাকেও তো পাগল করেছেন আপনার জন্য।” লাজের ভারে কন্ঠে বুদে আসতে চায় মেয়েটার। গমরঙা পেলব কোপল জাফরানি রঙে সেজে উঠেছে লাজুকতায়। তবুও নিজের অনুভূতি প্রকাশে তৎপর অষ্টাদশী।
মেহরাদ আশ্চর্য হয় শুভ্রতার লাজুক অনুভূতির প্রকাশে।
কাধ গলিয়ে সরু ঘার আঁকড়ে ধরে আলতো স্পর্শে। মৃদু টানে ঘার উচিয়ে, মুখোমুখি করে অষ্টাদশীর লাজুক মুখশ্রী। নিগূঢ় দৃষ্টিতে মেয়েটাকে পরখ করতেই হৃদযন্ত্রের রক্তের সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। মেয়েটাকে সম্পূর্ণ নিজের নামে সাজতে দেখে হৃদয়ের পবনে শীতল পরশ বয়ে যায়। অধর কোলে উঁকি দেয় তৃপ্তিময় হাসির ঝিলিক। স্বতঃস্ফূর্ত কন্ঠে ভ্রু উচিয়ে শুধায়,
“খুব মুখ ফুটেছে দেখছি! আই লাইক দ্যাট। নো নো, আই লাভ দ্যাট। এভাবেই পাল্লা দিয়ে আমার সাথে চলবি, ওকে? জাস্ট লাইক, আমি একিবার ভালোবাসি বললে, তুই দশ বার বলবি। একটা চুমু খেলে তুই দশ বারোটা খেয়ে নিবে টপাটপ । একবার আদর করলে তুই বারবার করবি….. ”
লজ্জায় শুভ্রতার দু’চোখ খিচে এলো আপনা-আপনি। ভেতরের অবাধ্য যন্ত্রটা দাপাদাপি করছে নিদারুণ ভঙ্গিতে, যেন ফেটে বেরিয়ে আসবে যেকোনো মূহুর্তে। কন্ঠানালীতে দলা পাকিয়েছে লাজুক আড়ষ্টতা।
লাজুক অষ্টাদশীর পেলব গমরঙা ত্বকে আবারও নিগূঢ় দৃষ্টিপাত করে মেহরাদ। সধ্য অঙ্কুরিত ফুলের কলির ন্যায় কমনীয় রূপে সংকুচিত হয়ে আছে মেয়েটার কোমল অস্তিত্ব । ছোট্ট মুখশ্রী জুড়ে ঠিকড়ে পড়ছে মুক্তঝড়া মায়া। ছোট্ট নোজপিনটা যেন কয়েকগুণ মুগ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে আজ। তৃষ্ণার্ত চাতকের ন্যায় সবটুকু মায়া গ্রাস করে নেয় মেহরাদ। মোহাবিষ্ট চোখ দুটি যেন নিখুত শিল্পের আকা কোন প্রতিমাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে । দু ঠোঁট ফুরে বেড়িয়ে আসে,
“তোকে সম্পূর্ণ আমার আমার লাগছে, জানন…” ঘোর লাগানো হাস্কিস্বর মেহরাদের। শুভ্রতার নিশ্বাস আটকে আসে কন্ঠতালুতে। অসহ্য অনুভূতির জোয়ারে দম ফুরিয়ে আসতে চায় মেয়েটার।
লাজুকলতার লজ্জার আবরনে নুয়িয়ে আসা দেখে অধর সনে দাত পিষে যায় মেহরাদের নির্লজ্জ কায়দায় । রমনীর সবটুকু লাজ লুফে নেওয়ায় ব্যাকুলতায় মূহুর্তেই, চৈত্রের তীব্র দাবদাহে ফেটে যাওয়া চৌচির মাঠের মতো কণ্ঠতালু শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে তার । শুষ্ক দু ঠোঁটের তৃষ্ণা মিটাতে এগিয়ে যায় এক জোড়া কোমল গোলাপের পাপড়ির ন্যায় অধরের পানে।
বেশ কিছুক্ষণ নীরবতা অনুভব করে, খিচে যাওয়া চোখ দুটো মেলে ধরতেই মেহরাদের তৃষ্ণার্ত দু’চোখের সাথে চোখাচোখি হলো শুভ্রতার। হৃৎপিন্ডের রক্ত ছলকে উঠলো প্রণয় পুরুষের সুপরিচিত ব্যাকুলতার আভাসে। ওষ্ঠ ফুরে টু শব্দ’টি-ও ধ্বনিত হওয়ার ফুরসত দিলো না মেহরাদ। আগ্রাসী ধমকে মিলন ঘটালো দু’জোড়া ওষ্ঠের।
মূহুর্তেই ফাকা অধরে তপ্ত পুরুষালী ওষ্ঠের নিগূঢ় স্পর্শ অনুভব করলো শুভ্রতা। তীব্র অনুভূতির জোয়ারে দু’চোখ বুজে আসতে চায় মেয়েটার। লোকটার উন্মাদনায় তাল মেলাতে পারে না রমনী। হিমশিম খায়। খামঁচে ধরে স্বামীর সৌবিষ্ঠ কাধ। পুরো চামড়া ভেদ করে তীক্ষ্ণ নোখের আচড় কেটে যায় গৌড় বর্ন ত্বকে। তবুও, দু ঠোটের গতির স্থিরতা মেলে না মানবের। বরংচ, হাতের তালুতে মাথা ঠেকিয়ে শুভ্রতাকে নিয়ে নরম বিছানায় ছুড়ে ফেলে দুটো সত্তাকে।
পুরুষালী দু ঠোটের তপ্ত নিগূঢ় ছোয়া ক্ষনে ক্ষনে আরও বন্য হয়ে উঠছে। শ্বাস ফেলার ফুরসতটুকু নেই মেয়েটার। কাধের কাছে নোখের তীক্ষ্ণতা বাড়তেই ওষ্ঠ ছেড়ে রমনীর লালিত্য মাখা কমনীয় গ্রীবায় মুখ ডোবাল মেহরাদ। তপ্ত, অশান্ত, চঞ্চল নিশ্বসের ফুয়ারে ঝলসে যাচ্ছে শুভ্রতার কাধ গলার পেলব ত্বক টুকু । ব্যাকুল স্পর্শ শিহরণি শীতল পরশ ভুলিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি লোমকূপে। শিরশির করছে পা’য়ের তালু।
অস্থিরতার শির্ষে মেহরাদের সর্বগ্রাসী অস্তিত্বটি। মেয়েটাকে দম ফালানোর ফুরসত টুকু দিতে নারাজ সে। অদম্য ব্যাকুলতায় ছুয়ে দেয় প্রান প্রেয়সীর সর্বাঙ্গকে।বিনাশী দু হাতের আজলায় রমনীর সবটুকু অনিন্দ্য সুন্দর অবয়ব নিরাবরণ করতে করতে অধৈর্য গলায় ধ্বনিত হয় তার পুরুষালী কন্ঠের হাস্কিস্বর,
“লাভ মি ব্যাক, ডিয়ার। জাস্ট লাইক, ইয়্যুর কনফেশন। লাভ মি ব্যাক…… ” অধৈর্য তপ্ত শ্বাস প্রশ্বাসের প্লাবনে মিয়িয়ে গেলো কন্ঠটা। নৈঃশব্দিক নীরবতায় কেবল ধ্বনিত হয় দু’জোড়া তপ্ত শ্বাস প্রশাসের নিষিদ্ধ অনুভূতির টান। যা সম্পূর্ণ হালাল দু’জন মানব মানবীর।
মানবের নিয়ন্ত্রনহীন,বেসামাল স্পর্শে অশান্ত করে তুলছে নাজুক অষ্টাদশী অন্তর। অশান্তের ন্যায় গ্রাস করছে মেয়েটার সবটুকু লালিত্য । গমরাঙা ত্বকে আবারও নিজের আদুরে ছোয়ার আধিপত্যে একে দিচ্ছে নিজস্ব মোহর। মেহরাদ নামের এক অমোঘ চিহ্ন।
শুভ্রতা যেন দুনিয়াতে থেকেও নেই। স্বামীর দেওয়া মিষ্টি-যন্ত্রণা মিশ্রিত সবটুকু আদর গ্রহন করতে বেশ ব্যাগ পোহাতে হচ্ছে রমমীকে। এতদিনের হুটহাট ছোয়া যে আজ দ্বিতীয়বারের মতো সেই চট্টগ্রামের অতর্কিত পূর্নতায় রূপ নিবে কস্মিনকালেও ভাবেনি সে। বেশ হিমশিম খাচ্ছে বুনো মানবকে সামলাতে। স্পর্শের তীক্ষ্ণতার মিষ্টি যন্ত্রনাটুকু লাঘবের প্রয়াসে মাঝেমধ্যে দু’ঠোঁট ফুলিয়ে শ্বাস ফেলছে। দুটি দেহের সংঘর্ষে তলপেটের অস্থির প্রজাপতিরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হন্যে হয়ে। তীব্র রক্তস্রোতের প্রবাহে অস্তিত্বের উষ্ণতা পারদ ছাড়াচ্ছে ।
ব্যকুলতায় উন্মাদ মেহরাদের গ্রাসকারী ছোঁয়ায়, একান্ত মূহুর্তে শুভ্রতা হুট করেই গুঙ্গিয়ে উঠলো ব্যাথাতুর শব্দ তুলে। তৎক্ষনাৎ বন্যতায় স্থীরতা টানলো মেহরাদ। অস্থির, ধৈর্যহীন তার কন্ঠস্বর,
“হোয়াট হ্যাপেন্ড, লাভ? প্রবলেম হচ্ছে?”
শুভ্রতার দু’চোখ খিঁচে আছে হতচ্ছাড়া পা’য়ের ব্যাথাটায়। কপালে ফোটা ফোটা ঘামের সাথে অসহ্য ব্যাথায় কুঞ্চিত হয়েছে কপালের রেখা। উন্মাদনায় বোধহয় এটার কথা ভুলেই বসেছে মেহরাদ।
হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৪
“পা টা….” অস্ফুটে স্বরে বলে উঠলো মেয়েটা।
তৎক্ষনাৎ হুশে ফিরলো যেন মেহরাদের। তবুও এ মূহুর্তে কিছুতেই নিজেকে দমানো তার জন্য অসম্ভব প্রায়। হি নিডস হার৷ রাইট নাউ!
অস্থির চিত্তে বিছানা হতে নাজুক রমনীর কোমল অস্ত্বিত্ব টেনে নিলো বাহুবন্ধনে। ঘটনার আকস্মিকতায় ব্যাথা ভুলে বিহ্বলিত দৃষ্টিতে তাকালো শুভ্রতা। আড়ষ্টতা নিয়ে প্রশ্নাত্নক দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রকম্পিত মৃদুস্বরে ফিসফিসিয়ে উচ্চারণ করলো,
“এ…এভাবে…”
“হুশশশ, জাস্ট ফলো মাই লিড।”
