Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১৪

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১৪

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১৪
রুপান্জলি

,,, মরন বিদারক চিৎকার দিয়ে গাল চেপে ধরলো পারমিতা। ইসস!! গালটা জ্বলে যাচ্ছে,, কোন দানবের হাড্ডি তার সব শক্তি পারুর গালে প্রয়োগ করেছে আল্লাহ মালুম। পারু চোখ উচিয়ে চর দেওয়া ব্যাক্তির দিকে তাকানোর আগেই গাল বরাবর আরো দুটো চর পরলো। পরপর তিনটা চড় খেয়ে মাথা ঘুরে উঠলো পারুর। পরে যেতে নিয়েও বহু কষ্টে নিজেকে সামলে নিলো,,গালের ব্যাথায় কান্না করতে মন চাইলেও সামনে দ্বীপকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো মেয়েটা। এই লোক এখানে কি করছে? কখন এলেন? আর উনি জানলেন কিভাবে সে যে এখানে আছে? পারু তো কিছুই বলেনি,, শুধু বলেছে তার জ্বর আর বুক ব্যাথা করছে। সেসব শুনে তো এই লোক তাকে অসহ্য বলে কল কেটে দিয়েছিলো,, তাহলে এখন বাচাতে এলো কেনো? ওর মতো সস্তা মেয়েদের যখন এতোই অপছন্দ তাহলে এখন এতো নাটকের কি হলো? মরে যেতে দিক। মন ভরা প্রশ্ন নিয়ে অবাক চোখে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে আছে পারমিতা। এদিকে পারুকে পর পর তিনটা চর মেরেও শান্তি হচ্ছেনা দ্বীপের। সে ফাপরের ন্যায় শ্বাস টানছে আর নিজের রাগকে দমানোর চেষ্টা করছে। চাঁদের নরম আলো আর দূর থেকে আসা স্ট্রিট লাইটের আলোয় দ্বীপের বিদ্ধস্ত চেহারাটা দেখে পারু ফুপিয়ে উঠলো। এতো বড়ো অন্যায় করে এখন আবার ওকে কাদতে দেখে দ্বীপ নিজের রাগকে দমাতে পারলো না। তেড়ে গিয়ে পারুকে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো পরপর হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো–

— কি করতে যাচ্ছিলি তুই? মরতে যাচ্ছিলি? মরবি তুই? মরতে চাস? বেয়াদবের বাচ্চা। তকে আজকে আমি নিজ হাতে খুন করবো তারপর নিজে মরবো।
,,,পারু সমানে ফুপিয়ে যাচ্ছে,, কান্নার দমকে বারবার শরীর কেপে কেপে উঠছে। ওর কান্না দেখে মায়া হলো না দ্বীপের। কতো বড়ো সাহস এই মেয়ের,, সে দ্বীপকে একা রেখে পরোপারে যাওয়ার পায়তারা করছে। এই মেয়ে কি আদেও জানে? দ্বীপের বুকের ভিতর এখন কি চলছে? জানবে কি করে? এই মেয়ে কিছু জানেনা, কিছু বুঝেনা। শুধু জানে দ্বীপকে আঘাত করতে,, কষ্ট দিতে। রাগ সামলাতে না পেরে আরও শক্ত করে পারুর মুখ চেপে ধরলো দ্বীপ। ফাপরের ন্যায় শ্বাস টেনে বললো — বেয়াদবের বাচ্চা,, আমাকে মেরে ফেল তুই। আমাকে মেরে তারপর যা খুশি কর। তর মতো ত্যারা আমি আর একটাও দেখিনি বিশ্বাস কর। এসে থেকে জীবনটা বরবাদ করে দিয়েছিস। তর জন্য এক বিন্দু শান্তি অবধারিত নাই জীবনে।

,,, বলেই পারুকে ঝটকা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলো,, পরপর ধপ করে রাস্তায় হাটু গেড়ে বসে পরলো। তার নিজেরি মরে যেতে মন চাচ্ছে। কোনো ভুলে এই ইদুরের বাচ্চাকে ভালোবেসেছিলো সে? আল্লাহ মালুম। দ্বীপকে বসে পরতে দেখে পারু ও দ্বীপের সামনে রাস্তায় বসে পরলো। মেয়েটা কাদছে তো কাদছেই। দ্বীপ নিজেকে সামলাতে চেয়ে পারুর দিকে তাকালো,, কিন্তু সামলানো দায়। কোনোকিছু না ভেবেই পারুকে টেনে কোলের উপর বসিয়ে দিলো। পারুর কি হলো কে জানে? সেও সব লজ্জা সংকোচ,, ভয় ভিতি,, ন্যায় অন্যায় ভুলে ছোট্ট বিড়াল ছানার ন্যায় দ্বীপের বুকে মিশে রইলো। দ্বীপের বুকে মাথা রাখতেই সেখানে চলা তান্ডবের আভাস পেলো পারমিতা,, বুকের ভিতর কেমন ধ্রীম ধ্রীম শব্দ হচ্ছে,, ঘন ঘন শ্বাস টানার ফলে সেই শব্দ তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে। পারু মনোযোগ দিয়ে শুনলো সেই ধুকপুকানি। পারুকে মিশে যেতে দেখে দ্বীপ ওর মাথাটা শক্ত করে বুকে চেপে ধরে,চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো। আজ কি হতে যাচ্ছি ভাবতেই দ্বীপের দম বন্ধ হয়ে আসছে। আল্লাহ এর অশেষ রহমত, পারু হল থেকে বেড়িয়ে যেতেই হল সুপার তাকে কল করে জানিয়েছিলো। নয়তো আজ এই মেয়ে কোথায় থাকতো আর দ্বীপ কোথায় থাকতো,, ভাবতেই দ্বীপের হাড় হীম হয়ে আসছে। দুজন দুজনার সাথে মিশে থাকার মাঝে কতোটা সময় কেটেছে তারা কেউ জানেনা। তবে অনেকটা সময় পেরোতেই পারু পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো,, শুরুতে মনে শান্তির হাওয়া বয়ে গেলেও এখন শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তাই মাথাটা দ্বীপের বুক থেকে তুলতে চাইলো। কিন্তু দ্বীপ ছাড়লো না বরং হাত দিয়ে ওর মাথাটা আরও শক্ত করে চেপে ধরে আটকে দিলো। বাধা পেয়ে কিছুক্ষন চুপ করে থাকলেও কিছু সময় পেরুতেই পারু আবারও উঠার চেষ্টা করলো। পরপর এমন করায় দ্বীপ বিরক্তিতে ” চ ” সুচক বাক্য উচ্চারণ করে বললো —

,,, কি হলো? এতো নড়িস কেন? মার খাবি?
,,, পারু কয়েকবার পলক ঝাপটে দ্বীপকে দেখে নিলো। কিছুক্ষণ আগে দ্বীপের বলা কথাগুলো মনে হতেই শক্তি খাটিয়ে নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে কাদতে কাদতে বললো — ছাড়েন আমাকে,, এভাবে ধরলেন কেনো শুনি? আমি তো আপনাকে বলিনি আমাকে বাচাতে আসতে, তাহলে আসলেন কেনো? আমাকে মরে যেতে দেন, এই বিষাক্ত দুনিয়ায় শ্বাস নেওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আমার।

,,, দ্বীপ অধৈর্য্যের মতো পারুর মাথাটা বুক থেকে তুলে ধরলো। মেয়েটার কি পরিমান সাহস হলে দ্বীপের কোলে বসে দ্বীপের মুখের উপর এসব বলতে পারে। আজকে বাড়ি ফিরেই বিহানের গালে গুনে গুনে চারটা চর বসাবে দ্বীপ। সারাদিন খালি তার সামনে এসে বলতে থাকে,, পারু শান্ত, বাচ্চা একটা মেয়ে, কিছু বুঝেনা, এভাবে রাগারাগি করিস না,, বিহান কি জানে? এই মেয়ে কতো বড়ো বেয়াদব আর পাষান? কিছু হলেই দ্বীপের ইমোশন ধরে টান দেয়। তীব্র রাগে জিদ্দে আবারও পারুর গাল চেপে ধরলো দ্বীপ,, ওর মুখটা একদম নিজের মুখের সামনে এনে হিসহিসিয়ে বললো — কি বললি তুই? মরবি? মরার এতো শখ তর? সয়তানের বাচ্চা,, আরেকবার বল। আরেকবার উচ্চারন করে দেখ,, তারপর যদি তকে কেটে কুটি কুটি করে নদীর পানিতে না ভাষিয়েছি, তবে আমার নাম দ্বীপ জোহান মির্জা নয়।
,,,, এমনি পরপর তিনটা চর খেয়েছে, এখন আবার মুখ চেপে ধরায় কান্নার দমকে আর কিছু বলতে পারলোনা পারু,, কাদছে তো কাদছেই। এদিকে জ্বরের তোপে পারুর শরীরের তাপমাত্রা তর তর করে বাড়ছে। দ্বীপ সেটা অনুভব করতেই কিছুটা নরম হয়ে এলো। পারুর দুগালে হাত ভুলিয়ে পুরো মুখে পাগলের মতো চুম্বন করতে করতে বললো —

— আমার জান!! পারু জান আমার। এরকম টা কেউ করে? ব্রিজের উপর উঠেছিলি কেন সোনা? যদি তর কিছু হয়ে যেতো? আমি তখন কি করতাম বল? আমার কি হাজারটা পারু আছে? যে একটা গেলে আরেকটাকে ভালোবাবো? এতো কষ্ট কেনো দিস জান? আমার জন্য মায়া হয়না তর? আমার কথা কি তুই কোনোদিন ভাববি না পারু? এতো পাষান তুই? ভালোবাসি বলে যা খুশি করে ফেলবি? যেভাবে ইচ্ছা আঘাত করবি? আমি কি মানুষ না? আমার কষ্ট হয়না?
,,,পারু কান্না আটকে চোখের পলক ঝাপটে দ্বীপের চোখে তাকালো। বার কয়েক নাক টেনে বললো — আপনার কথা আমি কেনো ভাববো? আপনার তো হবু বউ আছে। আমার মতো সস্তা, নাচনেওয়ালি মরে গেলে আপনার কি আসে যায়? আপনি তো আমাকে চান না,, আপনি সুশীল ভদ্র মেয়ে চান। আমি তো অভদ্র তাইনা।
,,, পারু নিজেকে নিজে সস্তা বলছে এই জিনিস টা একদমি পছন্দ হলো না দ্বীপের। বলার হলে সে বলবে,, সস্তা, নাচনেওয়ালি, খারাপ,, আরও যা যা মন চাইবে সব বলবে। কিন্তু তার পারুকে, সে ব্যাতিত অন্য কেউ খারাপ বলবে সেটা মেনে নিবেনা দ্বীপ,, কিছুতেই না,, কখনোই না। সহসা পারুর চোখে চোখ রেখে দাতে দাত চেপে বললো — মুখে খই ফুটেছে? মুখ ভেঙে দিবো একদম। আমার পারু ভালো নাকি খারাপ সেটা আমি দেখবো। তুই বলার কে? তর কাছে জানতে চেয়েছি আমি?

,,, দ্বীপের ধমক গুলোতেও কেমন যেনো ভালো লাগা কাজ করলো পারুর। দ্বীপ তাকে প্রটেক্ট করছে,, তার মুখে তার সম্পর্কে বাজে কথা শুনতে চায়না। নিজে যতো যাই বলুক অন্য কেউ পারুর দিকে আঙুল তুললে সেটা মেনে নিবেনা দ্বীপ। এরকম ভাবনা মনে আসতেই স্বভাব সুলভ আদুরে হয়ে উঠলো পারু,, যেমনটা সে তার বাড়িতে থাকে। পারু দ্বীপের বুকের কাছের শার্ট খামচে ধরে অভিমানি কন্ঠে বললো– এখানে কি করছেন আপনি? বাড়ি ফিরে যান, অন্য মেয়ের কাছে এসেছেন জানলে আপনার হবু বউ রাগ করবে।
,,,, পারুর করা আকষ্মিক কান্ডে দ্বীপ ভরকে গেলো। মেয়েটার কি মাথা টাতা খারাপ হয়ে গিয়েছে? পারু তো এরকম করার মেয়ে না? তাহলে ওর সাথে এতোটা মিশে যাচ্ছে কেনো? ভালো টালো বেসে ফেলেছে নাকি? পারু কি তবে সত্যি ই দ্বীপকে ভালোবেসে ফেলেছে? ভাবতেই দ্বীপের চোখ জোড়া উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। পারুর কান্ডে তার সব রাগ পানি হয়ে গেলেও রাগ দেখানোর মতো করে হালকা শাসিয়ে বললো — তকে এতো বাড়াবাড়ি করার সাহস কে দেয় পারু? আমি বলেছি একবার,, যে আমার হবু বউ আছে?

,,, পারু আবারও কেদে দিলো,, কাদতে কাদতে অভিমানী কন্ঠে বললো– বিহান ভাই বললো তো,, ফুচকা স্টলে আসা মেয়েটা আপনার হবু বউ,, তার সাথে আপনার সামনের সপ্তাহেই বিয়ে।
,,,দ্বীপ ঠোট কামরে মৃধু হাসলো,, পরপর পারুর দিকে ঝুকে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো — এর জন্য মরতে এসেছিস? ভালো তো বাসিস না। তাহলে,আমি বিয়ে করলে তর কি এসে যায় পারু?
,,, পারু নাক টেনে নিজের কান্না আটকানোর চেষ্ঠা করে বললো — বাসিতো,, খুব ভালোবাসি। আমি হেড়ে গেছি খারাপ পুরুষ,, আপনার পাগলামি গুলো আমাকেও পাগল বানিয়ে দিয়েছে। আমিও এখন মানসিক রুগিতে পরিনত হয়েছি,, আমাকে আপনার বুকের হসপিটালে এডমিট করাবেন? প্লিজ!!
,,,,দ্বীপ আরও শক্ত করে পারুকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,,চুলের ভাজে অসংখ্য চুমু দিতে দিতে বললো —পারু!! আমার পারু!! আমি ভাবতেও পারিনি আমাদের এ ক্ষদিনের দূরত্ব তকে আমার এতোটা কাছে এনে দিবে। আমিও তোমায় ভালোবাসি সোনা,, খুব খুব ভালোবাসি।
,,,, পারু দ্বীপের গালে হাত ছুইয়ে মলিন কন্ঠে বললো — আমাকে ভালোবাসলে আপনার হবু বউয়ের কি হবে? তাকে বিয়ে করবেন না?

,,, দ্বীপ হাত দিয়ে পারুর হাত ধরে তাতে চুমু খেয়ে আবারো নিজের গালে রেখে কিছুটা দুষ্টমি ভরা কন্ঠে বললো — করবো, তাকেও করবো তকেও করবো। তারপর দুইপাশে দুটো বউ নিয়ে আড়ামছে ঘুম দিবো। ভালো হবেনা? দুজন মিলে মিশে থাকবি আর আমার সেবা করবি।
,,, পারু রাগে হিসহিস করতে করতে দ্বীপকে ধাক্কা দিয়ে উঠে দাড়ালো,, গায়ে জ্বর থাকায় বার বার তাল হাড়িয়ে পরে যাচ্ছে তবুও রাগে জিদ্দে অজানা গন্তব্যে পা বাড়িয়ে বললো — আপনার আমাকে বেহায়া মনে হয়? যে সতিনের ঘর করতে যাবো? খারাপ পুরুষ একটা। ৮ টা দিন ধরে আপনার কাহিনী দেখে যাচ্ছি,, মেয়েদের সাথে এতো হাসাহাসি করতে হবে কেনো? মেয়ে বাজ কোথাকার।

,,,দ্বীপ উঠে গিয়ে পারমিতার হাত টেনে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। এতোক্ষণ ভনিতা ছাড়া দ্বীপের বুকে পরে থাকলেও এখন কেমন যেনো অসস্থি লাগছে পারুর। লজ্জা সংকোচে পারছেনা মাটির সাথে মিশে যেতে। দ্বীপ ওর কোমর পেচিয়ে ওকে কিছুটা উচু করে নিজের পায়ের পাতার উপর দাড় করিয়ে দিলো। পরপর চাঁদের আলোয় খুটিয়ে খুটিয়ে দেখলো তার তেলোবতীকে। মেয়েটার পরনে তার দেওয়া শাড়ী, গহনা, চুড়ি,, চুলগুলো ও ছেড়ে রাখা। এতো সুন্দর করে সেজেগুজে মরতে এসেছিলো এই মেয়ে? কি বেয়াদব ভাবা যায়? সেদিন এতো করে বলার পরেও একটু সাজলো না, আর আজ কিনা মরবে বলে এতো সুন্দর করে সেজে এসেছে? অবাধ্য প্রেমিকা একটা। মনে মনে রাগ করতে চাইলেও পারুর এমন রুপ দেখে দ্বীপের কেমন আদর আদর পাচ্ছে,, মনের মাঝে হাজারো নিষিদ্ধ অনুভুতির জাগরন হচ্ছে। দ্বীপ নিজের অনুভুতির জোয়ার সামলাতে না পেরে পারুর চুলের ভাজে হাত গলিয়ে মৃধু শ্বাস টেনে ফিসফিস করে আওড়ালো —

,,,শাড়ি পরেছিস? শাড়ীতে তকে খুব সুন্দর লাগছে পারু। আমার কেমন যেনো আদর আদর পাচ্ছে,, একটু আদর করি তকে? একটু বেশি ই আদর করবো। বেশি আদর করলে রাগ করবি?
,,, দ্বীপের স্পর্শ আর কোমল কন্ঠে হাসফাস করে উঠলো পারু,, দ্বীপের দিকে অশান্ত নজর তাক করে আমতা আমতা করে বললো — ম,মানে? কি বলছেন এসব? কি করবেন আপনি?
,,, দ্বীপ পারুর দিকে ঝুকে চুলের ভাজে নাক ডুবিয়ে শ্বাস টেনে বললো — বেশি কিছু না একটু চুমু খাবো। খাই? প্লিজ অস্বীকার করিস না। বড্ড তৃষ্ণার্থ আমি।
,,, দ্বীপের নির্লজ্জের মতো বলা কথাটুকু শুনে পারু লজ্জায় পরে গেলো। কি লোকরে বাবা!! কিভাবে কি বলে ফেলে,, উনাকে না দেখলে পারু জানতেই পারতো না একটা লোক যে এতো নির্লজ্জ হতে পারে। কিন্তু বিয়ের আগে তো এসব চলবে না,, কিছুতেই চলবেনা। আগে বিয়ে হবে তারপর যা খুশি হোক, ভেবেই নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে পারু হালকা মোচড়ামুচড়ি করে বললো — একটু আগেই তো খেলেন,, আমার পারমিশন ছাড়াই পুরো চোখে মুখে চুমু খেয়েছেন আপনি। এখন আবার কিসের চুমু? বিয়ের আগে এসব চলবে না।

,,, দ্বীপ উন্মাদের মতো পারুর চুলের ঘ্রান নিতে নিতে ছোট্ট করে আওড়ালো — ঠোটে তো খাইনি, একবার খাই,, বিয়ের আগে আর বায়না করবো না। প্রমিজ!!
,,,দ্বীপের সরল স্বীকারোক্তিতে পারুর কান ঝা ঝা করে উঠলো। আল্লাহ!! এই লোকের মুখে কি কোনো লাগাম দেননি আপনি? এতো নির্লজ্জ কেন এই লোক? এখানে আসার পর বিহান আর মেধার কান্ড দেখে পারু কতোই না ছি ছি করলো। শেষে কিনা তার কপালেও এমন এক পিস জুটলো? যে কিনা ওকে সরাসরি এসব বলে। আল্লাহ রহম করুন, এই লোকের মুখে একটু লাগাম দিন। পারু যখন এসব ভাবনায় বিভোর তখনি দূর থেকে শাই শাই করে একটা বুলেট ছুটে এলো তাদের দিকে। দ্বীপ পারুর ধ্যানে মজে থাকায় কিছুই টের পেলোনা,, কিন্তু পারু সেটা বুঝতে পেরেই সর্ব শক্তি খাটিয়ে দ্বীপকে নিয়ে মাটিতে বসে পরলো। প্রথমে উপস্থিত বুদ্ধিতে বেচে গেলেও এখন ভয়ে থর থর করে কেপে উঠলো পারু,, দ্বীপের বুকে একদম মিশে গেলো। বুলেট ছুড়ার শব্দ হতেই পকেট থেকে রিভলবার বের করে নিলো দ্বীপ। পারুকে বুকের সাথে চেপে ধরে যেদিক থেকে বুলেট ধেয়ে এসেছে সেদিক বরাবর একটা গুলি ছুড়লো সাথে সাথে কারোর মরন বিদারক চিৎকারে আকাশ বাতাশ গরম হয়ে উঠলো। দ্বীপকে গুলি ছুড়তে দেখে পারু ভয়ে আরও সিটিয়ে গেলো। পারছেনা দ্বীপের বুকটা খনন করে তার ভিতর ঢুকে পরতে। প্রথম গুলি ছুড়ার পর মিনিট ও পেরুতে পারেনি,,তার আগেই ঝোপ ঝারের আড়াল থেকে শাই শাই করে গুলি ধেয়ে এলো। দ্বীপ ও সমান তালে নিজেদের প্রোটেক্ট করতে সেদিকে গুলি ছুড়ছে। দ্বীপের ২৪ বছরের জীবনে ১০ বছর ধরে সে রাজনীতির সাথে যুক্ত। তাকে মারার জন্য শত্রুর অভাব নেই তাই দ্বীপ কখোনোই শত্রু চিন্হিত করে অ্যাটাক করে না,,বরং অ্যাটাক করার পর লা*শ গননা করার সময় শত্রু চিন্হিত করে। দ্বীপ যতবার গুলি ছুড়েছে ততোবার কারোর না কারোর মরন বিদারক চিৎকার ভেসে এসেছে,, সেই চিৎকার শুনে থর থর করে কেপে উঠছে পারু। আল্লাহ তাকে এই কোন বিপদের সম্মুখীন করে তুললেন? এই পরিস্থিতি থেকে বাচবে কি করে তারা? তাদের ভালোবাসা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে নাতো? এরকম হাজারটা ভাবনা মাথায় আসতেই পারু অস্ফুটে স্বরে আওড়ালো — আমরা কি মরে যাবো বেইব?

,,,,শত্রু মোকাবেলা করতে গিয়েও থমকে গেলো দ্বীপ। এখন দ্বিতিয় বারের মতো পারু ওকে বেইব বলে ডেকেছে তাও নিজের ইচ্ছায়। দ্বীপ ফাপরের ন্যায় শ্বাস টেনে পারুর কানের লতিতে ঠোট ছুইয়ে বললো — না বেবি, আমরা মরবো না। আল্লাহ এর রহমতে আমার উপর ভরসা রাখো। তোমার বেইব বেচে থাকতে তোমার কোনো ক্ষতি হতে দিবেনা।
,,,পারু দ্বীপের গলায় মুখ গুজে কাদতে কাদতে অস্ফুটে স্বরে আওড়ালো — আমার ভয় লাগছে বেইব,, আমি মরতে চাইনা। আমি তোমার সাথে সংসার করতে চাই।
,,,,,পারুকে নিয়ে বড্ড হিমসিম খাচ্ছে দ্বীপ,, ও পাশে না থাকলে সে নিজের জানের পরোয়া করতো না। আপাতত একটা সেইফ জায়গায় পৌছাতে হবে তারপর নাহয় শত্রুর মোকাবেলা করা যাবে। ভেবেই পারুকে নিজের বুকে চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো — বেবি!! আমরা এখন পালাবো,, আমি যেদিকে যাবো তুমি শুধু পা মিলাবে ঠিক আছে? ভয় পেওনা বেবি,, আমি থাকতে তোমার কিছু হবেনা।

,,,পারু মাথা ঝাকিয়ে শায় জানালো। পারুর সাহারা পেয়ে ওকে ছেড়ে দিয়ে হাত ধরে ছুটতে লাগলো দ্বীপ, আপাতত তারা ব্রিজের অপরপ্রান্তের লোকালয়ের উদ্দেশ্যে ছুটছে। একবার লোকালয়ে পৌছাতে পারলে আর কোনো চিন্তা থাকবেনা। এখনো তাদের দিকে শাই শাই করে বুলেট ধেয়ে আসছে,, দ্বীপ পারুকে নিয়ে একটু আকাবাকা হয়ে দৌড়াচ্ছে, যেনো শত্রুপক্ষ ঠিক নিশানা বরাবর গুলি ছুড়তে না পারে। সাথে তার তিখ্ন চোখ আর কান সজাগ রেখেছে, ভুলক্রমেও যদি কোনো বুলেট তাদের দিকে এগিয়ে আসে তাহলে যেনো নিজেদের প্রোটেক্ট করতে পারে। ছুটতে ছুটতে হাপিয়ে উঠছে পারু,,এমনি তার শরীরে জ্বর তার উপরে ভয়ে তার হাত পা কাপছে। ছুটতে ছুটতে হুট করেই পরে যেতে নিলো পারু,, তখনি তার দিকে একটা বুলেট ধেয়ে এলো। সতর্ক দ্বীপ আরও সতর্ক হয়ে পারুকে বুকে টেনে নিলো যার ফলে গুলিটা দ্বীপের পিঠ বরাবর গেথে গিয়েছে। গায়ে গুলি লাগতেই মৃধু চিৎকার দিয়ে উঠলো দ্বীপ,, সাথে সাথে জ্ঞান হাড়িয়ে দ্বীপের বুকে ঢলো পরলো পারু। দ্বীপ ওকে আকরে ধরে এক হাতে কোলে তুলে নিলো,,

পিঠে গুলি লাগার ফলে পারুকে কোলে নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছিলো দ্বীপের। কিন্তু এখন কিছু করার নেই,, তাদের বাচতে হলে পালাতে হবে। এপর্যায়ে এসে দ্বীপের নিজের উপর খুব রাগ হলো,, কেনো সে এরকম একটা নির্জন জায়গায় গাড়ি ছাড়া আসতে গেলো? এখন গাড়িটা থাকলে নিশ্চয়ই তাদের এতোটা কষ্ট করতে হতোনা? দ্বীপ মনে মনে দোয়া করলো, আল্লাহ যেনো তাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এটা একদিন আগে হলেও দ্বীপ এমন দোয়া করতো না, নিজের প্রান বাজি রেখে শত্রুর মোকাবেলা করতো কিন্তু আজকের বিষয়টা আলাদা। দ্বীপকে বাচতে হবে,, পারুর সাথে সংসার করার জন্য হলেও তাকে বাচতে হবে।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১৩

এসব ভাবতে ভাবতে দ্বীপ যখন বাচার রাস্তা খুজছিলো তখনি আকষ্মিক গাড়ির হর্নে ধ্যান চুত্ত হলো দ্বীপ। চেনা পরিচিত গাড়িটি সামনে পৌছাতেই পারুকে নিয়ে মাটিতে হাটু গেড়ে বসে পরলো,, বিহান চলে এসেছে,, দ্বীপের কলিজার একটা অংশ চলে এসেছে,, এবার সে নিশ্চিন্তে জ্ঞান হাড়াতে পারবে। ভাবতে ভাবতেই চোখ বুঝে এলো দ্বীপের, জ্ঞান হাড়ানোর আগে আবছা চোখে বিচলিত বিহানকে দেখলো,, বিহানের সাথে মেধাকে দেখে সস্থির নিশ্বাস ফেললো। যাক!! তার পারুকে গাড়িতে তোলার জন্য বিহানের সাহায্য নিতে হবেনা, মেধা আছে।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১৫