Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৫ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৫ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৫ (২)
রুপান্জলি

ইশারা অনুযায়ী তিনজন গার্ড এসে আদ্রিয়ানকে সযত্নে আগলে নিলো। রাগে ফুসছে অর্পনা, গাড়ির ভাঙা কাচ থেকে একটা মাঝারি সাইজের কাচ নিয়ে তেড়ে গিয়ে দ্বীপের গলায় কাচ চেপে ধরে বললো —
,,, কাছে আসলে একদম খুন করে ফেলবো।
,, অথচ অর্পনা হুমকিটা দ্বীপের কাছে এসেই দিয়েছে,, হাইট ডিফারেন্ট বেশি হওয়ায় গলায় কাচ ধরলেও বেশ একটা সুবিধা করতে পারছেনা অর্পনা। দ্বীপ জ্বীব দিয়ে ঠোট ভিজিয়ে অর্পনার কোমর চেপে ধরে মাটি থেকে এক হাত উচুতে তুলে নিয়ে বললো — মার ডালো,, তোমার হাতে মরবো বলেই তো এলাম। মেরে দাও বউ, একেবারে মেরে দাও।
,,,অর্পনা কাচটা একদম দ্বীপের গলার চামড়ার সাথে মিশিয়ে কাট কাট গলায় বললো — লিভ মি, আদার ওয়েজ আই রিয়্যাললি কিল ইউ।

,,, দ্বীপ এক হাতে অর্পনাকে সামলে অন্য হাতে অর্পনার হাত সহ কাচটা গলায় আরেকটু চেপে ধরে বললো — হুম, পারমিশন দিলাম মেরে দাও। চলো তোমায় আমি হেল্প করছি।
,,, বলতে বলতে কাচটা আরো একটু চেপে ধরলো সাথে সাথে ফিনকি দিয়ে রক্ত গড়ালো,, এরুপ কান্ডে হকচকিয়ে গেলো অর্পনা,, দ্রুত হাত ছাড়াতে নিলে দ্বীপ ছাড়ে না,, অর্পনা হাত মুচড়াতে মুচরাতে বললো — ছাড়ুন,, পাগল নাকি ভাই? নিজের গলায় নিজেই আঘাত করছে,, ছাড়ুন। আহ!! আল্লাহ! ”
,,, অর্পনার ব্যাথাতুর শব্দটা কানে আসতেই হাত ছেড়ে দিলো দ্বীপ,, ছাড়া পেয়ে অর্পনা হাত থেকে কাচটা ফেলে দিয়ে দ্বীপের থেকে ছাড়া পেতে চাইলো। অর্পনার মুচড়ামুচড়িতে বিরক্ত হলো দ্বীপ,, জোড় করে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখে অর্পনার ডান হাতটা টেনে দেখতে চাইলে অর্পনা আবারও হাত মুচড়াতে লাগলো। বিষয়টা পছন্দ হলোনা দ্বীপের। সেকেন্ডের গতিতে কাধে তুলে নিলো ওকে,, হাটা দিলো হেলিকপ্টারের উদ্দেশ্যে। দ্বীপের এহেন কান্ডে প্রথমে থমকালেও পরবর্তীতে তরপাতে লাগলো অর্পনা,,চেচিয়ে বললো–
,,, ছাড়ুন আমায়, সবসময় জোড় করে চাইলেই সবকিছু পাওয়া যায়না,, আমি পারু নয় যে আপনার ধমক আর জোড়াজুড়িতে গলে যাবো। ভয় পেয়ে আপনার কথা মতো চলবো। ছাড়ুন আমায়,, নাটক সিনেমা করার মুডে নেই আমি। ৬ টায় আমার ফ্লাইট!! আল্লাহ!!

,,, কোমরের তীব্র ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো অর্পনা,, ইদানীং দ্বীপের এই হুটহাট টানাটানি, ধাক্কার ফলে বার বার কোমরে ব্যাথা পাচ্ছে সে। নিজেকে হেলিকপ্টারের ভিতর আবিস্কার করতেই নামার চেষ্টা করলো তবে সফল হলো না, দ্বীপ উঠে ডোর লক করে দিয়েছে। অর্পনা তেতে উঠে দ্বীপের কলার চেপে ধরলো,, হাত কাটা থাকায় হাতে ব্যাথা হচ্ছে খুব তবুও দাতে দাত চেপে নিজের রাগ ঝাড়তে বললো — কাহিনি করছিস আমার সাথে? দ্বীপ মির্জা আমায় তুই চিনিস না,, আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু হলে তর জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দিবো আমি। যেতে দে আমায়,, নামবো আমি,, তর জীবনে আমি থাকবো না,, মরলেও না,, মেরে ফেললেও না।
,,,দ্বীপ বিপরীতে কিছু বললো না,, নিরব থেকে আবারও অর্পনার হাত টেনে দেখতে চাইলো,, কিন্তু অর্পনা তো অর্পনাই, সে কিছুতেই দ্বীপের নিকট আত্মসমর্পণ করবেনা। ভরা সভায় অপমান করে এখন কাটা হাত দেখার মতো লেইম কান্সান তার চাইনা। দ্বীপ হাত শক্ত করে ধরে দেখতে চাইলে অর্পনা এবারো হাত মুচরে ব্যাথা সহ্য করতে লাগলো। ওর এই চুপচাপ ব্যাথা সহ্য করাটা দ্বীপকে খুব ব্যাথা দেয়,, একদম বুকের বাম পাশে যেনো কেউ কামরে ধরে। সেই ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে দ্বীপ এবার অর্পনার ডান হাতটা ছেড়ে দিলো,, ছাড়া পেতেই সাথে সাথে অর্পনা নামার জন্য ছটফট শুরু করে দিলো। দ্বীপ নিজের উপর বিরক্ত হলো,, সে ভুলে গেলো কি করে? তার বউয়ের ঘাড়ের রগ যে কয়েকটা ত্যাড়া। এটাকে ছাড় দিলে আরও ত্যাড়ামি করবে। অগত্যা অর্পনার কোমর চেপে আবারও ছিটে বসিয়ে দিয়ে অর্পনার পা দুটো নিজের পা দ্বারা আটকে দিলো পরপর হাত দুটো ধরে বিহানের উদ্দেশ্যে বললো —

,,, তর ভাবিকে থামানোর যন্ত্র গুলো দে।
,,, অর্পনা ছুটতে চেয়ে চিৎকার করে বললো — ছাড়ুন,, আদি কোথায়? ওনাকে কি করেছেন আপনি? উনার কোনো ক্ষতি করলে আপনার জান নিয়ে নিবো আমি, বলে দিলাম।
,,,অর্পনার মুখে আদ্রিয়ানের শর্টকাট নাম শুনে তেতে উঠলো দ্বীপ, হাত ছেড়ে মুখ চেপে ধরে বললো — আমার জান নেওয়ার আগে তর জবান বন্ধ করে দিবো আমি। এমনি তর উপর রাগ উঠে আছে আমার। আর রাগাস না,, খোদার কসম তকে এ*সিডের ভিতর চুবাবো আমি,, একটু খানি মায়াও লাগবেনা।
,, অর্পনা গোঙিয়ে উঠে ফোস ফোস করতে করতে বললো — তা লাগবে কেনো? আমি তো একটা ঝড়া পাতা,, মূল্যহীন। আমি মরলেও কি আর বাচলেও কি? আমি মরলে বরং আপনি খুশি হবেন,, বেচে যাবেন একটা ঝামেলা থেকে। এ*সিডে চুবাবেন বলছেন না? আপনাকে করতে হবেনা,, আমি একবার ছাড়া পাই, নিজেই এ*সিড দিয়ে নিজের মুখটা ঝলসে দিবো। এই মুখের জন্যই তো পিছনে পরেছেন তাইনা? রাখবো না এই মুখ,, আই হেইট মাই ফেইস। ছাড়ুন আমায়, ছাড়ুন!!

,,,বলতে বলতে আবারও হাত পা ছাড়াতে চাইলো অর্পনা,, সাথে সাথে দ্বীপের দিকে বিহান দুটো হেন্ডকাফ এগিয়ে দিলো,, হেন্ডকাফ দেখে পাইলট টা গোল গোল চোখে বিহানের দিকে তাকালো। বিহান ঠোঁট টিপে হেসে মাথা নাড়িয়ে ভাবনা সঠিক নয় বুঝাতেই পাইলট টি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো। দ্বীপ অর্পনার দুহাত চেপে ধরে হেন্ডকাফ লাগিয়ে দিলো। চরম ছুটাছুটি করেও হাত দুটো বাচাতে সক্ষম হলো না অর্পনা,, মুখ নাড়িয়ে কিছু বলতে নিলে দ্বীপ পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখে বেধে দিলো। এবার পা ছুড়তে নিলে দ্বীপ চেপে রাখা পা দুটো টেনে কোলের উপর রেখে পায়েও হেন্ডকাফ লাগিয়ে দিতে দিতে আফসোসের স্বরে বললো — আলহামদুলিল্লাহ!! আমার বউয়ের পায়েও হেন্ডকাফ পড়ানো যায়,, এতো মোটা কেউ হয় বউ? আরেকটু চিকন হতে পারতে।

,,, কথাটা বলে অর্পনার পা ধরে টেনে কোলের উপর বসিয়ে দিলো। অর্পনা রাগে হেন্ডকাফ থেকে হাত পা ছাড়াতে চাইলে দ্বীপ আচমকা অর্পনাকে নিজের বুকের মাঝে লুকিয়ে নিলো।পরপর চুলের ভাজে হাত চালাতে চালাতে বললো — শুনো বউ!! তোমাকে একটা গল্প শুনাই। এক গ্রামে একটা রাগি, জেদি শাঁকচুন্নি ছিলো,, তার প্রধান কাজ ছিলো মানুষকে উত্তক্ত করা। সেই শাঁকচুন্নির জ্বালায় গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে শত শত তান্ত্রিককে ডেকে আনতো, শাঁকচুন্নিটাকে বোতল বন্দি করার উদ্দেশ্যে,, কিন্তু কেউ সফল হয়নি। কেনো হয়নি জানো? কারন শাঁকচুন্নিটি সবসময় গাছের উপর বসে থাকতো আর তার হাত ছিলো অনেক লম্বা,, সাথে তার সকল জাদু ও ছিলো ঐ হাতের মাঝে। যেই কাছে যেতে চাইতো তাকেই চর থাপ্পড় মেড়ে মেড়ে একদম টপকে দিতো মাঝেমধ্যে হাত থেকে আগুনের গোলা বের করে সবাইকে ঝলসে দিতো। যার ফলে ধীরে ধীরে গ্রামের লোকজন ভয়ে নিজেদের গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যেতে লাগলো। গ্রামের এমন হাল দেখে সেই গ্রামের সবচেয়ে বুদ্ধিমান লোকটি শেষ বারের মতো চেষ্টা করতে সেই শাঁকচুন্নির কাছে গেলো,, সাথে নিলো একথলি ইলিশ মাছ। শাঁকচুন্নিরা তো ইলিশ মাছ ভালোবাসে তাই লোকটা সেই শাঁকচুন্নিকে ভুজুংভাজুং দিয়ে ইলিশ মাছের লোভ দেখিয়ে গাছ থেকে নিচে নামিয়ে আনলো। বোকা শাঁকচুন্নিটি যখনি ইলিশ মাছে হাত দিতে নিবে তখনি সেই বুদ্ধিজিবী দড়ি দিয়ে শাঁকচুন্নিটির হাত বেধে দিলো। যেমন করে আমি তোমার হাত বেধে দিলাম তেমন করে,,বুঝলে? যদিও তুমি শাঁকচুন্নি নও,, তুমি হচ্ছো ঘারত্যারা। জেদি দ্বীপের ঘাড়ত্যারা বউ তুমি। তোমাকে শান্ত করতে শুধু হাত নয় সাথে মুখ, পা এমনকি পুরো তুমিটাকেই নিজের সাথে আটকে রাখতে হয়। গল্প বলতে বলতে অর্পনার মাইন্ড ডাইভার্ড করতে চাইলো দ্বীপ,,উদ্দেশ্যে সফল ও হলো। গল্প শুনতে শুনতে অর্পনা কিছুটা শান্ত হলে ওর ডান হাতটা টেনে নিলো দ্বীপ। ভালো করে পরখ করতেই দেখলো হাতে লম্বা করে একটা কাটা দাগ। দেখেই বুঝা যাচ্ছে এটা ইচ্ছাকৃত কাটা হয়েছে। এটুকু দেখে দ্বীপের রাগের পারদে যেনো ধোয়া ছুটলো। সে অর্পনার মাথাটা বুক থেকে তুলে সামনাসামনি এনে দাতে দাত চেপে বললো — বেয়াদবের বাচ্চা!! এটা কি করেছিস তুই? হাত কাটলি কেনো? ওফ্ফ!! আল্লাহ আমার কপালে এই তাড়ছিড়াকেই কেনো রাখলে? বউটা একটু ভালো হলেও তো পারতো।

,,, দ্বীপের কথায় অর্পনার চোখ ছলছল করে উঠলো, লোকটা এভাবে বলতে পারলো? ওর তাকানোর মানে বুঝতে পারলো দ্বীপ। অর্পনার ভাবনাকে ভুল প্রমান করতে দ্বীপ দ্রুত অর্পনার কপালে চুমু একে বললো — রাগ করেনা সোনা, আমি ওভাবে বলতে চাইনি। আমি বলতে চাইলাম তুমি নিজের কথা কেনো ভাবোনা? এতো ঘারত্যাড়ামি কেউ করে? দেখোতো কতটা কেটে গিয়েছে, ঔষধ ও লাগাওনি তাইনা? কেউ লাগিয়েও দেয়নি? তোমার ডিটেকটিভ বাপ তো কোনো কাজের না। না পেরেছে মেয়ের খেয়াল রাখতে আর না পেরেছে মেয়েকে হাসবেন্ডের সাথে কিভাবে ব্যাবহার করতে হয় সেটা শিখাতে। শুধু শিখাতে পেরেছে কিভাবে দেমাগ দেখাতে হয় ঘাড়ত্যারামি করতে হয়,, মুখে মুখে তর্ক করতে হয়।

,,, শেষের কথাগুলো শুনে ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো অর্পনা, হাত পা মুচড়ামুচড়ি করতে নিতেই দ্বীপ আবারও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো — আচ্ছা! আচ্ছা!! তোমার বাপ অনেক ভালো,, একদম কিউট কিউট একটা শ্বশুর মসাই ঠিক আছে? শান্ত হও, এভাবে নড়িসনা জান আমারো হাতে ব্যাথা। বিহান ফাস্ট এইড বক্স আছে? থাকলে দে,, তর ভাবি যেই ঘাড়ত্যারা,, এখন ঔষধ না লাগালে আর সুযোগ পাবো বলে মনে হয়না।
,,, অর্পনা আবার মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলো, সে কিছুতেই দ্বীপের সাথে যাবেনা আর না তার হাতে ঔষধ লাগাবে। আদ্রিয়ানের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে অর্পনার। উনাকে তো সে নিজের সাথে নিয়ে এসেছিলো আবার বিপদেও ফেলে দিলো। লোকটা যদি আদির কোনো ক্ষতি করে দেয়? ভাবতে পারলো না অর্পনা,, ক্ষমা করুক আর না করুক আদি ওর মামাতো ভাই সেই সাথে একসময়,,, আদির কিছু হলে নিজেকে ক্ষমা করা দায়। অর্পনার মনোভাব কিভাবে যেনো ধরে ফেললো দ্বীপ , সে অর্পনার গাল আকরে মুখের সামনে মুখটা এনে অর্পনার চোখে চোখ রেখে শাসিয়ে বললো —

,,, তর চোখ শুধু আমার জন্য কাদবে,, তর মন শুধু আমার জন্য খারাপ হবে,, তুই মিস করবি আমাকে,, খুজবি আমাকে,, ভালোবাসবি আমাকে,, ভয় পাবি আমাকে হাড়ানোর,, তুই চিন্তিত হবি শুধু আমার জন্য। তর সর্বত্রতে মিশে থাকবো আমি। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে তকে একদম জেন্ত মাটিতে পুতে ফেলবো, তারপর নিজেও মরে যাবো। তুই তখন বললি না তুই মরলে আমি ঝামেলা মুক্ত হবো? মুক্তি পাবো? সত্যি ই পাবো,, এই কষ্টময় অপূর্ণতার দুনিয়া থেকে মুক্তি পাবো। আমি বেচে আছি শুধু তর আশায় ভেলোরা,, তর কিছু হয়ে গেলে আর বাচবো কি করতে বল?
,,, দ্বীপের বলা কথাগুলো কর্নকূহর হতেই স্থির হয়ে গেলো অর্পনা,, বিহান ফাস্ট এইড বক্স এগিয়ে দিতেই দ্বীপ সেটা নিয়ে নিলো,, অর্পনার হাতটা মেলে ধরে ড্রেসিং করতে লাগলো,, ড্রেসিং করতে গিয়ে দ্বীপ খেয়াল করলো অর্পনা একটু নড়েনি পর্যন্ত, ব্যাথাতুর শব্দ করা তো দূর। অথচ বায়োডিন দিলে চামড়া জ্বলে যাওয়ার মতো যন্ত্রণা হয়। অর্পনার এই কঠিন ভাব মুর্তি একদমি পছন্দ নয় দ্বীপের,, সে অর্পনার হাতে চুমু একে বললো — তোমায় এতো শক্ত হতে হবেনা ,, তুমি আদুরে হবে,, আমার আদুরে বউ ঠিক আছে? আমি থাকতে তোমায় কোনো বিপদ ছুতে পারবে না,, কেউ কষ্ট দিতে পারবে না সোনা।

,,,অর্পনা তাচ্ছিল্য হাসলো,, দ্বীপের থেকে হাত ছাড়িয়ে মুখ থেকে রুমালটা সরিয়ে বললো — আপনি নিজেই আগা গোড়া একটা কষ্ট । আপনি যতোদিন আমার জীবনে থাকবেন ততোদিন কষ্ট পাবো আমি। নিজেকে নিচ, নর্দমার কীট মনে হবে। আর আমার ফেইসটাকে
তো আমার সহ্যই হয়না, সুযোগ পেলেই ঝলসে দিবো। কতোক্ষন আটকে রাখতে পারবেন আমায়? এই পৃথিবীতে এমন কোনো শিকল তৈরি হয়নি যেটা দিয়ে অর্পনাকে আটকে রাখা যায়। আমি একবার যার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেই তার দিকে ফিরেও তাকাইনা। আদ্রিয়ান যেমন আমাকে আটকাতে পারেনি আপনিও পারবেন না। আপনি হীনা মরে যাবো তাও আত্মসমর্পণ করবো না।
,,,দ্বীপ ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো,, অর্পনার মুখের উপরে ঝুকে চোখে মুখে গালে এলোপাথাড়ি চুমু দিতে দিতে বললো —- মায়া নামক শিকল দিয়ে আটকে রাখবো তোমায়,, যত্ন নামক রশি দিয়ে বেধে রাখবো নিজের সাথে। সেই বাধন ছেড়ে কোথাও পালাতে পারবেনা প্রান,, দ্বীপ মির্জাকে এভোয়েট করা এত্তো ইজি না।
,,, মায়া, যত্নের কথা বললো অথচ একটাবার ভালোবাসা শব্দটা উচ্চারণ করলো না। অর্পনা জানে দ্বীপ তাকে ভালোবাসে না,, যতটা এফোর্ট দিচ্ছে ততোটা বিয়ে করা বউ আর পারুর মতো চেহারা বলে। উত্তর জানা সত্তেও অর্পনা প্রশ্ন করলো — আর ভালোবাসা?

,,, অর্পনার প্রশ্নে চুপ রইলো দ্বীপ,, এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করতে চাইলো। অর্পনা শদ করে হেসে নিজের হাটুর উপরে ঘুষি মারতে মারতে বললো — সিট সিট সিট!! এটা কি করলাম আমি? দ্বীপ মির্জার উইক পয়েন্ট নিয়ে টানাটানি? ওফফ!! মির্জা সাহেব,, আপনি সব পারলেও এটা পারবেন না। ভালোবাসা আর নয়,, তাই তো? তবে আপনিও ভালোবাসবেন,, তাও আমাকে। চেলেন্জ!! কিন্তু আমি আপনার হবো না,, আজো না,, কোনোদিন না। ইহকালেও না পরকালেও না। মিলিয়ে নিবেন কথাটা!!
,,,ঘুষি মারতে মারতে অর্পনা খেয়াল করলো সে হাটুতে ব্যাথা পাচ্ছেনা, একটু ও ব্যাথা হয়নি। কেনো ব্যাথা হয়নি সেটা পরখ করতেই দেখলো দ্বীপের হাত রক্তাক্ত অবস্থায় তার হাটু উপরে এবং হাতের নিচে পরে আছে। হাতে হেন্ডকাফ থাকায় বার বার আঘাত করার ফলে দ্বীপের হাতে থাকা আগের ক্ষত গুলো তরতাজা হয়ে উঠেছে। ধাতব বস্তুু ঘর্ষন হওয়ায় টান হয়ে যাওয়া ক্ষত থেকে রক্ত বেরুচ্ছে। অর্পনা হাত থেকে নজর সরিয়ে দ্বীপের দিকে তাকালো,, লোকটার চাহনি নির্লিপ্ত,, যেনো কিছুই হয়নি। অর্পনা ঢোক গিলে আবারও হাতের দিকে তাকালো,, দ্বীপের ক্ষত গুলো তাকে বড্ড আঘাত করছে। সে তো এরকমটা করতে চায়নি,, সে তো নিজেকে আঘাত করেছিলো যেটা অর্পনা বরাবরই করে থাকে। তাহলে উনি কেনো এভাবে হাত রাখতে গেলেন? এরকমটা তো শুধু পাপ্পা করে,, অর্পনা যেনো আঘাত না পায় সে জন্য সর্বদা ওর আঘাত করা জায়গায় নিজের হাত রেখে দেয়। দ্বীপ কেনো করবে? দ্বীপ তো আর তাকে ভালোবাসেনা। অর্পনার ভাবনার মাঝে ওকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো দ্বীপ। ফাস্ট এইড বক্স থেকে তরল বায়োডিন নিয়ে পুরোট হাতের মধ্যে ঢেলে দিয়ে চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিয়ে বিহানের উদ্দেশ্য বললো — বাড়িতে চল।

,,, সাথে সাথে গড় গড় শব্দ তুলে হেলিকপ্টারটি ফ্লাই করলো মির্জা বাড়ির উদ্দেশ্যে। অর্পনা নিরব হয়ে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে আছে,, যেখানে অল্প একটু বায়োডিন দিলেই চামড়া জ্বলে উঠে সেখানে এক সিসি বায়োডিন হাতে ঢেলে কি প্রমান করতে চাইছে লোকটা? হাতের চেয়েও উনার মনের ক্ষত বেশি? হোক!! মনের ক্ষত হতে হতে ঘা হয়ে যাক,, ফিরেও তাকাবেনা সে। যেই সম্পর্কে ভালোবাসা নেই সেই সম্পর্কে থাকার মানেও নেই। সে কি কারোর মনের ক্ষত সারানোর দায়িত্ব নিয়ে রেখেছে যে চাইলেই যখন তখন তাকে মলম হিসেবে ব্যাবহার করবে? সে মানুষ, তারো মন আছে,, চাইলেই তাকো ব্যাবহার করা যায়না।

,,, ১৫ মিনিটের মাথায় মির্জা বাড়ির বাগানে হেলিকপ্টারটি ল্যান্ড করলো। এই ১৫ টা মিনিট দ্বীপ চোখ বুঝে সিটে হেলান দিয়ে পরে ছিলো। তার নিজেকে খুব ক্লান্ত লাগছে,, খুব ক্লান্ত। সে তো সুস্থ হতে চায়নি আর না চেয়েছে এই যন্ত্রনাময় দুনিয়ায় বেচে থাকতে। পারুকে হাড়ানোর পর বাচার ইচ্ছাটাই মরে গিয়েছিলো তাই কখনোই সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেনি। তারপর জীবনে অর্পনা এলো,, সে বুঝতেই পারলোনা এই মেয়েটা পারু নয়,, সেই একি চেহারা,, একই গায়ের ঘ্রাণ,, একই কোমলতা। কিন্তু যখন সত্যিটা জানলো তখন মনে হচ্ছিলো সে পারুকে ঠকাচ্ছে,, সাথে সাথে ছুটে গেলো পারুর কবরে,, সেখানে সবকিছুর ব্যাবস্থা করতে করতে সময় লেগেছে ছয়দিন। এই ছয়টাদিন দ্বীপ অনেক ভেবেছে,, একবার ভেবেছিলো মরে যাবে পরক্ষণেই অর্পনার কথা মনে হলো। একটা মেয়ে তার সাথে জড়িয়ে গিয়েছে,, আগলে রেখেছে,, আগলে রাখতে গিয়ে হয়তো ভালোবেসে ফেলেছে। ভালোবাসা ছাড়া তো এতোটা আগলে রাখা সম্ভব না। মেয়েটার ভালোবাসাকে সম্মান করে হলেও তার বাড়ি ফিরা উচিৎ,, এরপর সিদ্ধান্ত নিলো বাড়িতে ফিরবে। বাড়ির উদ্দেশ্যে রউনা ও হয়েছিলো কিন্তু পথিমধ্যে সেদিনকার সেই ট্রাকটা দেখতে পেলো যেটা ওদেরকে ধাক্কা দিয়েছিলো। তারপর থেকে ছুটলো সেদিনকার সেই এক্সিডেন্টের রহস্য বেধ করতে। প্রথমে ট্রাক খুজে বের করলো তারপর সেটার মালিকের ডিটেইল ।

যার ট্রাক সে এই এক্ডিডেন্টের বিষয়ে কিছুই জানতো না,, কারন সে এক লোকের থেকে কম দাম পেয়ে ট্রাক টি কিনে নিয়েছিলো। আবার যার থেকে কিনেছে সেই লোকের খোজ বের করতে গিয়েও জানলো সেও অন্য একজনের থেকে কিনেছে,, এভাবে খুজতে খুজতে আরও তিন জনার পর ট্রাকের মেইন মালিককে খুজে পেলো। সেই লোকের থেকে জানতে পারলো ছয় বছর আগে অজয় মন্ডলের লোক মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তার থেকে ট্রাকটি দুদিনের জন্য ভারা নিয়েছিলো। তবে দুদিন রাখেনি, যেদিন সকালে নিয়েছিলো সেদিন বিকালেই ক্যাস টাকা দিয়ে ট্রাকটি একেবারে কিনে নিয়ে গিয়েছিলো। এসব খুজতে খুজতে আরও চারদিন সময় লেগে গিয়েছিলো। প্রথম ছয়দিন দোটানায় ভুগে অর্পনাকে কল দেয়নি তবে পরশীর থেকে খোজ নিয়েছে যেটা পরশী বাধে কেউ ই জানেনা। তারপরের দিনগুলোতে সে ক্রিমিনালদের পিছনে ছুটতে ছুটতে খাওয়া, ঘুমের সময় টুকু ও পায়নি। যখন জানতে পারলো কাজগুলো সমিরন মন্ডলে আর তার ছেলে অজয় মন্ডল মিলে করেছে তখন ওদেরকে কিভাবে কৌশলে শাস্তি দেওয়া যায় তার ব্যাবস্থা করেছে। এতো এতো জার্নির মাঝে দ্বীপ তিব্র ভাবে অর্পনার শুন্যতা অনুভব করেছে। মন বলেছ শুধু তুই ভেলোরার জীবনে নয় বরং তর জীবনেও ভেলোরার একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই ভেলোরাকে তর প্রয়োজন,, একটা জীবন তুই পারুকে হাড়িয়েও ভেলোরার নামে কাটিয়ে দিতে পারবি। এর মধ্যে অর্পনা বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো,, দ্বীপ প্রথমে ভেবেছিলো অর্পনা যদি তাকে ভুলে গিয়ে ভালো থাকে তাহলে থাকুক। অর্পনা ভালো থাকলেই তার শান্তি অথচ মন মানছিলো না।

মনটা আনচান করছিলো,, খুব মিস করছিলো ভেলোরাকে সাথে তার সেফটি নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পরেছিলো । তাই দ্রুততার সাথে অর্পনার ফোনের ফুল ডিভাইজ, ফ্রন্ট ক্যামেরা, বেক ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম হেক করলো। দেখতে পেলো তার ভেলোরা ভালো নেই,, সর্বোক্ষন তার জন্য ছটফট করে,, কান্নাকাটি করে তাই কল দিয়ে যোগাযোগ করলো। পরদিন সব কাজ রেখে সুযোগ খুজে অর্পনার সাথে দেখা করলো। ওর সাথে দেখা করতে অনেক কষরত করতে হয়েছে,, দলের একটা লোক কে সেচ্ছায় এক্সিডেন্ট হওয়ার জন্য টাকা দিয়েছে। কৌশল করে আদ্রিয়ানকে হসপিটালে পাঠালো,, তারপর বউয়ের সাথে দেখা করলো। বউকে কাছে পেয়ে দ্বীপের অশান্ত বুকটা সেদিন শান্ত হয়েছিলো। সেই শান্তিকে দীর্ঘস্থায়ি করতে অর্পনাকে সাথে করে বাড়িতে নিয়ে এলো,, সারাটা রাত মেয়েটাকে বুকের মাঝে লুকিয়ে রেখেছিলো দ্বীপ। বুঝতে পেরেছিলো তার বেচে থাকার উৎস একমাত্র এই মেয়েটা। তার সকল শান্তি নির্ভর করে ভেলোরার সান্নিধ্যের উপর। সারাটা রাত সে শুধু অর্পনার মুখটাই দেখেছিলো। মুখটা দেখতে দেখতে চোখ লেগে যেতেই স্বপ্নে পারু এলো,, তারা অনেক কথা বললো,, অনেক সময় কাটালো। পারুকে স্বপ্নে দেখতে দেখতেই হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ায় অর্পনাকে দেখে ভুল করেই পারুর নাম নিয়ে ফেলেছিলো। দ্বীপ জানে পারুর নাম নেওয়াতে অর্পনা কষ্ট পেয়েছে সমান হাড়ে দ্বীপ ও ব্যাথিত হয়েছে। ওর মন আবারও দোটানায় ভুগলো,, সে তো পারুকে ভালোবাসে।

এভাবে যদি প্রতিদিন সে পারুর নাম নেয় তাহলে অর্পনা কষ্ট পাবে। এই প্রতিদিন কষ্ট পাওয়ার চেয়ে একেবারে কষ্ট পেয়ে তার জীবন থেকে সরে যাওয়া ভালো,, তাই অর্পনাকে সেদিন যেতে দিয়েছিলো। কিন্তু তার মনমাফিক কিছুই হলো না,,, তার মনটা তার সাথে বেইমানি করলো। ভার্সিটি গেইটে বউয়ের কন্ঠ শুনতেই মনটা হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে গেলো। তার বউ, সে বাধে অন্য কেউ তার বউয়ের কন্ঠ শুনবে,, তার বউয়ের শুশ্রি কানন দেখবে,, বিষয়টা মানতে পারলো না দ্বীপ। মনে মনে রাগ হলেও ভার্সিটি গেইট পেরুতেই বউকে দেখে মনের রাগ টুকু মিলিয়ে গেলো,, টুপ করে অর্পনার ফোনে মেসেজ পাঠালো। আদুরে ভঙ্গিতে বললো যেনো স্টেজ থেকে নেমে যায়। অথচ বউটা মানলো না,, ঘারত্যারামি করে দ্বীপকে রাগিয়ে দিলো। সবচেয়ে বেশি রাগ হয়েছে যখন দেখলো তার বউকে অন্য কেউ বউ বলেছে। কাটা ঘায়ে লাল মরিচ বেটে লাগিয়ে দিলে যেমন করে জ্বলে উঠে তেমন করে দ্বীপের বুকটা জ্বলে উঠেছিলো। সাথে মাথায় প্রচন্ড রাগ উঠে গিয়েছিলো,, এমনি সে মেন্টাললি সিক তার উপর জন্ম থেকেই রাগি,, মাথায় যেনো সবসময় রাগের পারদ ছুটে। আবার সেই রাগের মাঝে কেরোসিন ঢেলে দিলো তার বউয়ের বলা মিষ্টি মিষ্টি কথাগুলো। বউটাকে সবাই দেখছিলো,, একদম চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিলো সাথে ঐ অজয় মন্ডল ও । এই প্রতিটা বিষয় দ্বীপকে ক্ষনে ক্ষনে রাগিয়ে দিচ্ছিলো। এর মধ্যে অর্পনা তাকে ভাষন দিতে বললো,, ভাষন দিতে গিয়ে সাংবাদিক গুলো যখন তার সাথে থাকা মেয়েটার কথা জানতে চাইলো তখন ভাবলো সে সবাইকে বলবে ওটা তার বউ ছিলো ।

কিন্তু বাধা হলো অজয়ের তিক্ষ্ন নজর,, সে দ্বীপের সাথে মেয়ে ছিলো এটা জানতে পেরে দ্বীপের দিকে আরও গাড়ো দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। অজয়ের তাকানোতে অর্পনার জন্য ভয় হলো দ্বীপের। অজয় যদি কোনোভাবে টের পায় অর্পনা তার উইক পয়েন্ট তাহলে যাবার আগে নিশ্চিত অর্পনার কোনো না কোনো ক্ষতি করতে চাইবে। সেই রিস্ক টা নিতে চাইলো না দ্বীপ। তার তো একটাই বউ,, পারুটা তো তাকে ফেলে চলে গেলো। এই মুহুর্তে অর্পনাকে হাড়ালে তার এক পল নিশ্বাস নেওয়ার ও ক্ষমতা থাকবেনা। তাই বউকে সেইফ করতে বিয়ে এবং বউয়ের কথাটা অস্বীকার করলো। কিন্তু সাংবাদিকরা তো ছাড়ার পাত্রি নয়,, তারা এমন এক পাপি,, যতক্ষণ না কেচো খুরতে গিয়ে কেউটে বেড়িয়ে আসবে ততক্ষণে তারা থামবে না। তাই সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে জাস্ট মেইড শব্দটা ইউজ করেছিলো। কিন্তু দ্বীপের ঘারত্যার বউ তো সেসব বুঝবেনা,, বুঝতেও চাইবেনা। বউটা নিজের মতো মনগড়া কিছু কথা বানিয়ে নিয়ে কষ্ট পেতে পেতে নিজেকে পাথর বানিয়ে নিলো।

সে কিছুতেই হাসবেন্ডের সামনে মাথা নত করবে না,, হাসবেন্ড যতই পিছু পিছু ঘুরুক না কেনো সে ফিরেও তাকাবেনা। কিন্তু দ্বীপ তো তার বউকে এমন দেখতে রাজি নয়। বউটা বাচ্চা,, তার থেকে গুনে গুনে নয় বছরের ছোট। তাই তার বউ থাকবে আদুরে,, বাচ্চাদের মতো বায়না করবে,, মুখটা সবসময় ইনোসেন্ট করে রাখবে,, দ্বীপের সান্নিধ্যে পেতে চাইবে। কিন্তু নাহ!! দ্বীপের বউ সেসব করবে না। সে নিজেকে পাথর বানিয়ে হাসবেন্ডের থেকে দূরে দূরে পালাবে। মুখে মুখে তর্ক করে হাসবেন্ডের জীবনটা তুলোধুনো করে দিবে। এই ঘারত্যারা বউকে সামলাতে সামলাতে দ্বীপ ক্লান্ত। অর্পনাকে সামলাতে তার যতটা কষ্ট করতে হচ্ছে এতোটা কষ্ট বোধয় তাকে এই ৩১ বছরের জীবনে কোনোদিন করতে হয়নি। তবুও যদি বউটা তাকে একটু বুঝতো। তাকে একটু শান্তি দিতো,, দ্বীপের গভীর ভাবনার ঘোড় কাটলো বিহানের ডাকে,,

,,, কিরে বেচে আছিস নাকি গেছিস? বাড়িতে চলে এসেছি,, এবার মেহেরবানি করে বউকে নিয়ে বের হো।
,,, বিহানের ডাকে চোখ মেলে তাকালো দ্বীপ,, ঘাড় ঘুরিয়ে অর্পনাকে একবার দেখে নিলো। সে ঝানালার গ্লাস বেধ করে মির্জা বাড়ি পুরোটা স্কেন করছে। বাড়ি ঘর এতো সাজানো কেনো? সময়টা সন্ধা নাগাত হওয়ায় বাড়ির কোনায় কোনায় জ্বলা ফেইরি লাইট,, ফুলের পাপড়িতে সজ্জিত গালিচা,, বাগানের প্রতিটি গাছে লাগানো ফেইরি লাইট জ্বলমল করছে। বাড়িতে ইতিমধ্যে মেহমানের আনাগোনা শুরু হয়েছে। অর্পনা বুঝতে পারলোনা মির্জা বাড়িতে কিসের আয়োজন চলছে? কি হতে চলেছে আজ? অর্পনার ভাবনার মাঝেই ওর কোমর টেনে কোলে তুলে নিলো দ্বীপ । তারপর নিজের বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়ে পাজা কোলা করে হেলিকপ্টার থেকে নেমে বাড়ির দিকে রউনা হলো। অর্পনা দাতে দাত চেপে সহ্য করছে সবটা। আদ্রিয়ানের চিন্তায় মাথাটা ফেটে যাচ্ছে। আল্লাহ উনাকে হেফাজতে রাখুন। ফুলের পাপড়ি বিছানো গালিচায় পা রাখতেই উপর থেকে বৃষ্টির মতো ফুলের পাপড়ি ঝড়তে লাগলো। অর্পনা মুগ্ধ হলো না,, তার কাছে সব বিষাদ মনে হচ্ছে। হেন্ডকাফ পড়ানো হাতেই দ্বীপের কলার চেপে ধরে দাতে দাত চেপে বললো– এসব কি নাটক? আমার সাথে কি করতে চাচ্ছেন আপনি? আমি কিন্তু এসব মানবো না,, বলুন কি করতে চাচ্ছেন? কি চাইছেন টা কি আপনি?

,,, দ্বীপ অর্পনার কপালে চুমু একে বললো — তোমার অভিযোগ দূর করতে চাই,, তোমায় মেইড বলায় তুমি যেি ব্যাথায় ব্যাথিত হয়েছো সেি ব্যাথা লাঘব করতে চাই। পুরো শহরকে জানাতে চাই তুমি আমার মেইড না বরং প্রান প্রিয় স্ত্রী। আজকের পর তোমার জীবনে কোনো অভিযোগের জায়গা রাখবোনা আমি,, সব কষ্ট , অপূর্নতা ধীরে ধীরে মুছে দিবো। যারা আমার কোমলিনীকে পাথরের মতো শক্ত বানিয়ে দিয়েছে তাদের সবাইকে শাস্তি দিবো। এতোটা শাস্তি দিবো যতটা শাস্তি পেলে মানুষ মরনের জন্য তরপায়।
,, অর্পনা এসবে গললো না,, ফোসফোস করতে করতে বললো — তাহলে নিজেকে শাস্তি দিন,, আপনি সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছেন আমায়। এসব লোক দেখানো সভা ডেকে আমায় ভুলাতে পারবেন ভেবেছেন? যখন সম্মান চাইলাম তখন তো দিলেন না। এখন আপনার এই সো কল্ড পরিচয় আমার চাইনা। তখন বললাম না আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করলে আপনার জীবনটা জাহান্নাম বানিয়ে দিবো। রেডি হোন,, কসম আল্লাহ এর,,আপনার জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দিবো।

,, দ্বীপ অর্পনাকে আরও শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরে বললো– আচ্ছ!!কবুল, তুমি যা করতে চাইবে সব কবুল,, তুমি আমার মরন চাইলে সেটাও কবুল। এবার তুমি কবুল বলো, আমাকে কবুল করে নাও।
,,, অর্পনা ফোসফোস করতে করতে বললো — তালাক, তালাক, তর ১৪ গুষ্টিকে তালাক।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৪

,,, তালাক দিয়েছো, বিষয়টা খারাপ না, দিতেই পারো কিন্তু মেয়েদের তালাক তো কার্যকর হয়না। বউদের হাতে যদি তালাক দেওয়ার অনুমতি থাকতো তাহলে হাসবেন্ড ওয়াইফের মাঝে প্রতিদিন ১০০ বার তালাক হতো আর ১০০ বার বিয়ে হতো। কারন,, এখন তুমি তালাক দিয়েছো ঠিকি,, মিনিট খানিক সময় যাক, আবার আমাকে কাছে পাওয়ার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে দিবে। তখন তোমাকে আবারও বিয়ে করতে হবে আমায়।
,, হঠাৎই পিছন থেকে বিহানের উপহাস ভরা স্বর শুনা গেলো — বেডি মানুষ!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৬