Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৭

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৭

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৭
রুপান্জলি

লাইব্রেরির উদ্দেশ্য হেটে যাচ্ছে ইরা আর রাত্রি তাদের মূল আলোচনা অর্পনাকে ঘিরে,, তারা কখনোই ভাবতে পারেনি দ্বীপ এমন একটা কাজ করবে। হয়তো ভেবেছিলো অর্পনাকে চলে যেতে দিবে কিন্তু আটকে দিলো,, এমন ভাবে আটকালো বিষয়টা একদমি কল্পনাতিত। মাঝে মধ্যে বিষয়টা নিয়ে খুশি হচ্ছে দুজন, পরোক্ষনেই দ্বীপ চরিত্রটা নিয়ে বড্ড ভয় হচ্ছে। এতোগুলো দিনে দ্বীপের সম্পর্কে যতটা শুনেছে তাতে সবারি মিশ্র অনুভুতি হয়েছে। আদেও পর্যন্ত দ্বীপ মির্জার চরিত্রটাকে একজায়গায় স্থির করা যায়নি। কখনো মনে হয় দ্বীপ অর্পনাকে ভালোবাসে এবং মারাত্মক হাড়ে ভালোবাসে।

আবার কখনো মনে হয় শুধু দায়িত্বের খাতিরে অর্পনাকে কাছে রাখতে চাইছে,, এর বেশি কিছুই না। কখনো তাকে খুবি গম্ভীর মনে হয় আবার কখনো বাচ্চা সুলভ। কখনো মারমুখো আবার কখনো শান্ত। কখনো গোছালো আবার কখনো চরম অগোছালো। এতো এতো ক্যারেক্টার একা একা বহন করছে একজন লোক। তাহলে তার আসল ক্যারেক্টার কোনটা? সেকি খুব রাগি নাকি শান্ত? ভদ্র নাকি অভদ্র? দায়িত্বশীল নাকি দায়িত্ব হীন? প্রেমিক নাকি অপ্রেমিক? সেকি হাসবেন্ড হওয়ার যোগ্য নাকি প্রেমিক-অপ্রেমিক হয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দিবে? সেদিক থেকে দেখতে গেলে অবশ্য দ্বীপের খাটি প্রেমিক হওয়া উচিৎ নয়তো অর্পনাকে পাবেনা। দায়িত্ব কিংবা হাসবেন্ডের অধীকার খাটাতে গেলে অর্পনা মানবে বলে মনে হয়না। দ্বীপ মির্জার চরিত্রটা বুঝতে হবে,, একটা জায়গায় স্থির করতে হবে। সে কি চাইছে? কি করছে? কেনো করছে? তার উত্তর খুজতে হবে। এমনি এমনি তো আর জীবন চালানো যায়না। কেউ ভালোবাসলোনা অথচ জোর করে কাছে রাখতে চাইছে ,, বিষয়টা ডিফিকাল্থ!! ভাবাচ্ছে দুজনকেই। দুজনার এই গভীর আলোচনার ইতি ঘটলো লাইব্রারির ভিতরে ঢুকে। ক্লাস চলাকালীন লাইব্রারিতে তেমম কেউ থাকেটা তাই আপাতত লাইব্রারি ফাকা। ভিতরে ঢুকতেই রাত্রি ইরার উদ্দেশ্য বললো — কি বই নিবি? নাম বল, খুজে দিচ্ছি।
,,, ইরা কিছুটা ভাবুক হলো তারপর এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো — দোস্ত!! তার আগে তুই একটু লাইব্রারিয়ানের সাথে গিয়ে কথা বলে আয় ,, আমি নাহয় বই খুজে নিচ্ছি।

,,,ইরার কথায় সায় জানালো রাত্রি,,ধীরো পায়ে এগিয়ে গেলো লাইব্রারিয়ানের কাছে। বইয়ের সেল্ফ প্রথম দিকে সাজানো থাকলেও লাইব্রারিয়ানকে পেতে হলে ভিতরের দিকে যেতে হয়। রাত্রি ভিতরে গিয়ে দেখলো লাইব্রারিয়ান নেই,, তাই ফিরে আসতে নিবে তখনি ওর হাত টেনে ধরলো কেউ,, পরপরি একটা ঝটকা লাগলো আর খেই হাড়িয়ে অরুনের বুকে হুমরি খেয়ে পরলো রাত্রি। সেভাবেই সময় গড়ালো কিছুটা,, অরুন রাত্রিকে শক্ত করে নিজের সাথে আটকে রেখেছে আর রাত্রিও সব ভুলে অরুনের সাথে মিশে রয়েছে। তবে যখন সবটা বুঝতে পারলো আর নিজের মনের টানাপোড়েন টা মস্তিষ্কে হানা দিলো তৎক্ষনাৎ অরুনকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলো। চমকে গেলো অরুন,, তবে তা প্রকাশ করলো না বরং রাত্রির বাহু চেপে আবারও কাছে নিয়ে এলো, কপালে উষ্ঠ ছোয়াতে নিতেই আবারও ধাক্কা মারলো রাত্রি। বারবার এমন হওয়ায় ধমকে উঠলো অরুন– এই কি হয়েছে তর? আমার সাথে এমন করছিস কেনো? দুদিন পর পর কি নাটক শুরু করে দিস তুই? নাটকবাজ একটা!!
,,, রাত্রি ঢোক গিলে শান্ত স্বরেই বললো — আমার থেকে দূরে থাক,, আমার এসব ভালো লাগছেনা।
,,, কথাটা কানেই তুললো না অরুন, সে আবারও রাত্রিকে কাছে টেনে নিলো,, গাল আকরে ধরে সুধালো — কি ভালো লাগছেনা? বল, কি অপরাধ করেছি আমি? আমাকে এতো ইগনর করছিস কেনো রাত? আমরা না পরশুদিন একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম?

,,,রাত্রি গাল থেকে অরুনের হাত সরিয়ে দিয়ে বললো — তাতে কি? জড়িয়ে ধরেছি বলে প্রতিদিন ধরতে হবে? তুই এভাবে হুটহাট কাছে আসবিনা অরুন, বিরক্ত লাগে। গা ঘিনঘিন করে।
,,,, কথাটা শেষ করতে দেরি রাত্রির চোয়াল চেপে ধরতে দেরি করলোনা অরুন। শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে রাত্রিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে হিস হিস করে বললো– আমার স্পর্শে তর গা ঘিনঘিন করে? বিরক্ত লাগে? ওককে!! লাগলে লাগুক। তকে আমি স্পর্শ করবো তাও আরও গভীর ভাবে,, পারলে ঠেকা।
,,,, সেকেন্ডের গতিতে রাত্রির উষ্ঠ যুগল আয়ত্তে নিয়ে নিলো অরুন। বিষয়টা জোর জবরদস্তির ছিলো যেখানে রাত্রির কোনো শায় ছিলোনা। রাত্রি কাদছে,, ছাড়া পেতে চাইছে কিন্তু বলিষ্ঠবান অরুনের সাথে পেরে উঠলো না। রাত্রি ভাবতেও পারেনি অরুন এতোটা উগ্র হবে,, এতোটা বাজে আচরন করবে। মনে জমে থাকা সব ভালোবাসা ঘৃনায় রুপ নিলো। ছাড়া পাওয়ার জন্য অরুনের বুকে আঘাত করতে নিলে অরুন আরও শক্ত করে চেপে ধরলো ওকে। হাল ছেড়ে দিলো রাত্রি,, ভালোবাসার মানুষটা যখন যত্ন সহকারে বিশ্বাস- ভরসা ভাঙতে চায় তখন আর কিছু বলার থাকেনা। রাত্রিকে পাথর বনে যেতে দেখে ছেড়ে দিলো অরুন। কপালে কপাল ঠেকিয়ে ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলে বললো– সরি, সরি রাত, স,

,, কথা শেষ করার আগেই ঠাস করে চর পরলো অরুনের গালে। অরুন অবাক চোখে রাত্রির দিকে তাকালো,, এমন নয় রাত্রি ওকে আগে মারেনি। মেরেছে,,বাহুবার মেরেছে কিন্তু সেই মারে ঘৃণা ছিলোনা। আজকের মারে তিব্র ঘৃণা প্রকাশ পেলো। রাত্রি অরুনের শার্টের কলার খামচে ধরে ফুসে উঠে বললো — তুই একটা নিচ!! তর গায়ের রঙের মতোই কুৎসিত তর ভিতরটা। আমাকে প্র*স্টেটিউট মনে হয় তর? নো*রামি করে ছেড়ে যাওয়াটা ছাড়া তরা ছেলেরা আর কি পারিস? জানোয়ার সব।
,,, রাত্রির বলা সবগুলো কথার মাঝে সবচেয়ে বেশি দাগ কাটলো গায়ের রং নিয়ে বলা কথাটা। অরুন তাচ্ছিল্য হাসলো,, নিজের গালে হাত ছুইয়ে বললো — আমার গায়ের রঙে প্রবলেম তোর? এটা আগে দেখিসনি? অরুন তো শুরু থেকেই শ্যামলা। যখন তোর সাথে প্রথম দেখা হয়েছিলো তখন থেকেই শ্যামলা। তাহলে এতো নাটক কেনো করলি? কেনো আমার সাথে অভিমান অভিমান খেলা খেললি? কেনো কাছে এলে থমকে যেতিস? কেনো আমার স্পর্শ অনুভব করার নাটক করতিস? মায়া মায়া চোখে আমার দিকে কেনো তাকাতি রাত? আমরা ছেলেরা খারাপ? আর তরা যে দিনের পর দিন ভালোবাসার লোভ দেখিয়ে কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দিস সেটা খারাপ নয়? তুই প্রশ্রয় না দিলে আমি তর কাছে আসতাম? তর চোখে ভালোবাসার ভাষা খুজতাম? বল, এন্সার মি রাত!!( ধমকে)

,,, ধমক শুনে কেপে উঠলো রাত্রি। ভেজা ভেজা পল্লব ঝাপ্টে অরুনের দিকে তাকিয়ে বললো — প্রশ্রয় দিয়েছি আর দিতে চাইনা। আমার থেকে দূরে থাকবি। ফ্রেন্ড আছিস ফ্রেন্ডের মতো বিহেভ করবি। এখন থেকে মাথায় রাখবি, তর আর আমার মাঝে কিছু নেই,, বন্ধুত্বের বাহিরে নাথিং!!
,,, অরুন এবার বেশরম হলো,, গায়ের রং নিয়ে করা সকল অপমানকে তুচ্য তাচ্ছিল্য করে আবারও রাত্রির গাল ছুলো। কপালে জোর জবরদস্তি স্বরুপ উষ্ঠ ছুইয়ে কাতর স্বরে বললো — রাত!” লুক এট মি জান। আমি ততোটাও শ্যামলা নই,, তোর আর আমার গায়ের রঙের অনেক তফাৎ থাকলেও আমার গায়ের রং খুব একটা খারাপ না। সোনা!! আমি তো চাইলেই গায়ের রং পাল্টাতে পারবোনারে কিন্তু ভালোবাসতে পারবো। আমি তকে অনেক ভালোবাসবো,, পৃথিবীতে যতো রকমের ভালোবাসা হয় সব তোর পায়ের কাছে এনে ফেলবো রাত। তাও ছেড়ে যাসনা,, আমার ভালোবাসাটাকে অপমান করিসনা। তুই আমায় ঠকালে ভালোবাসা থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে। ঠকাসনা এভাবে।

,,, অরুনের চোখে পানি চিকচিক করছে,, রাতের বুকটা মুচরে উঠলো। ছেলেটা এতো কাতর হচ্ছে কেনো? তাদের তো ভালোবাসাবাসির সম্পর্ক এখনো তৈরি হয়নি। এতেই এতোটা কষ্ট পাচ্ছে,, যখন ভালোবাসতে বাসতে অনেক দূরে পৌছে যাবে তখন সত্যিটা জানলে হাজার গুন বেশি কষ্ট পাবে। হয়তো রাতকে ঘৃনা করবে,, চরম ঘৃণা। এখনকার এই ঘৃণা থেকে তখনকার ঘৃনাটা বেশি কষ্ট দিবে রাতকে। তাই এই সম্পর্কে আগানল যাবেনা। যেই সম্পর্কের ভবিষ্যত নেই সেই সম্পর্ক শুরু করার কোনো মানেই হয়না। বুকে একরাশ বেদনা চাপা রেখে কাট কাট গলায় বললো রাত্রি — লাগবে না তর ভালোবাসা। প্লিজ, আমাকে আমার মতো থাকতে দে। তর আচরন গুলো আমাকে বিরক্ত করছে,, তুই এভাবে বিরক্ত করলে দেখবি আমি টিসি নিয়ে এখান থেকে চলে যাবো। আর ভার্সিটিতে আসবোনা। তখন নিশ্চয়ই খুশি হবি?

,,,অরুনের ভিতরটা জ্বলে যাচ্ছে,, রাত্রি দুটো দিন ধরে তাকে ইগনর করছে,, আঘাত করার জন্য যা খুশি বলে যাচ্ছে। প্রতিটি কথায় বড্ড আঘাত পেয়েছে সে কিন্তু বহু প্রচেষ্টায় নিজেকে সামলে রেখেছে। ভেবেছিলো রাত্রি বোধয় কোনো কারনে রাগ করেছে অথচ এখন দেখছে সেসব কিছুই না। যত সমস্যা সবটা তার গাশের রং নিয়ে। অরুন জ্বিব দিয়ে ঠোর ভিজিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বললো — খেলে দিলি রাত? আমার জীবন,, আমার ইমোশন,, আমার ভালোবাসা নিয়ে একটা বিরাট গেইম খেলে দিলি। আমি তকে মাফ করবো নারে,, ইহো জনমে,, পরো জনমে,, কোনো জনমেই তকে ক্ষমা করবোনা। এই রুপ নিয়ে খুব দেমাগ না তর? আমাকে তর অযোগ্য মনে হয়? দেখবি তর থেকেও হাজার গুন সুন্দরীকে বিয়ে করবো আমি। তাও খুব শিগ্রই,, দেখে নিস।

,,, কথাটা বলে হালকা ধাক্কায় রাত্রিকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বাহিরের দিকে চলে গেলো অরুন৷ অরুন যেতেই উড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে ফুপিয়ে উঠলো রাত্রি,, অরুন কতো অবলীলায় বলে গেলো সে রাত্রির থেকেও সুন্দর মেয়ে বিয়ে করবে। কেনো বললো এটা? কই আদ্রিয়ান স্যারকে তো অর্পনা কত্তো অবহেলা করলো তিনি তো কখনোই বলেননি অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে কিংবা ভালোবাসবে? আরও বলেছেন,, জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অর্পনার ভালোবাসার কাঙাল হয়ে থাকবেন তিনি। অরুন ও তো পারতো ওকে এটুকু আশ্বাস দিতে কিন্তু দিলোনা। এতোটা নরবরে ভালোবাসা নিয়ে রাত্রির অস্তিত্ব সম্পর্কে জেনে কখনোই স্থির থাকবেনা অরুন। ঠিকি ছেড়ে যাবে,, তাই এই সম্পর্কটা এখানেই বিরতি নিক। বুকসেল্ফের অপর পাশ থেকে পায়ের শব্দ আসতেই রাত্রি উড়না দিয়ে চোখ মুছে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।কিছুটা পথ এগুতেই পল্লবকে দেখতে পেলো। রাত্রির কান্নাভেজা কানন দেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো পল্লব। এগিয়ে গিয়ে মাথায় মৃধু চাটি মেরে বললো —

,,, কি হয়েছে রে? তরা দুজন এরকম মন মরা কেনো? অরুনকে নাকি ইগনর করছিস? ব্যাচারা তো কেদে কেটে অস্থির। কি করেছে আবার বদমাশটা? বল আমায়,, আমি ওকে একটু শিক্ষা দিয়ে সব মিটমাট করে দিবোনে।
,,, মনের দগ্ধতা লুকিয়ে শব্দ করে হাসলো রাত্রি,, পল্লবের কাধে চাপর মারতে নিতেই পল্লব রাত্রির মাথায় হাত রেখে বললো– অভিনয় করতে হবেনা, তুই অভিনয়ে খুব কাচা রাত। বল কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে, আমি মিটিয়ে দিবো। তদের জীবনটা সুন্দর করে সাজিয়ে দিবো।
,,, এই পর্যায়ে কিছুটা উদাস হলো রাত্রি,, তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো– চাইলেই সব মিটানো যায়নারে,, সাজিয়ে গুছিয়ে পারিপাটি করা হয়না। হোয়াট এভার!! আমি আমাদের সম্পর্কটা এগুতে চাচ্ছিনা। এখানে মুখ্য কারনটা পারসোনাল আর পারসোনাল বিষয়ে আস্ক করা,,

,, রাত্রিকে বলতে না দিয়ে পল্লব ই বাকিটা বললো– আস্ক করা নিষেধ,, বাড়াবাড়ি করলে ফ্রেন্ড সারক্যাল থেকে বের করে দেওয়া হবে তাইতো? তদের মেয়ে মানুষের ঢং!! এজন্যই মেয়েদের ন্যাকামি সহ্য হয়না আমার। তুই এক ন্যাকা, অর্পনার বাচ্চা একটা পাক্কা অভিনেত্রি। এটাকে সিনেমায় নিলে সাকিব খান আরও হিট করতে পারতো।
,,, বলতে বলতে রাত্রি মাথায় ধরে টানতে টানতে সামনের দিকে হাটা ধরলো পল্লব। ওর কান্ডে হেসে ফেললো রাত্রি,, হাসি দমিয়ে আবারও উদাস কন্ঠে বললো– এই ক্ষেত্রে বেশ উপকারি করেছে অর্পনা। তার পারসোনাল লাইফ সম্পর্কে জানাতে দিবেনা বলে,, রুল্স তৈরি করে আমাদের অনেককেই বাচিয়ে দিলো।
,,, কথার বিপরীতে পল্লব আর কিছু বললো না। লাইব্রেরির বাহিরে আসতেই ইরা আর অরুনকে দেখতে পেলো। তারা কি নিয়ে যেনো আলোচনা করছে। রাত্রিকে পল্লবের সাথে আসতে দেখে চোখ তুলে তাকালো অরুন,, সহসা অরুণ আর রাত্রির চোখাচোখি হলো। দুজনার চোখেই বেদনা,, একজন পরিস্থিতির কারনে কষ্ট পাচ্ছে,, আরেকজনকে ইচ্ছা করে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। ফ্রেন্ড সারক্যালে ছেড়ে না যাবার রুল্স থাকায় যতই ঝামেলা হোক ছেড়ে যাওয়াটা বোধয় কোনোদিনি হবেনা। অগত্যাই চারজন হাটা দিলো ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্য। সবাই যখন হাটতে হাটতে সামনের দিকে চলে যাচ্ছিলো তখন ধীরে ধীরে কিছুটা পিছিয়ে গেলো পল্লব। শুষ্ক ঠোঁট জোড়া চোখা করে শিস বাজালো–

,,, তুমি কি জানো কেউ আড়ালে বসে,,
তোমাকে জীবন দিয়ে ভালো সে বাসে,,
,,তার মনে যত কথা,, তার গোপন প্রেমের ব্যাথা,,
বলে যায় আমারি গান, আজ বলে যায় আমার এ গান
মনে রেখো আমার এই গান, শুধু মনে রেখো আমার এ গান!!
,,,পল্লবের শিসের শব্দ শুনে ফিরে তাকালো রাত্রি আর ইরা। ইরা ভ্রু উচিয়ে বললো– মেয়ে পটানো বাধেও আরেকটা গুন আছে তর,, বেস্ট!!
,,, চুলে বেক ব্রাশ করে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো পল্লব , ইরা ঠোঁট টিপে হেসে বললো– এভাবে হাসিস না মামা, ফেসে যাবো। আমি কিন্তু খ্রিস্টান!!

,,,ইরার কথায় শব্দ করে হাসলো পল্লব, ইরাও হাসলো শুধু হাসলোনা রাত্রি আর অরুন। অরুনের সাথে পথ চলতে খুব অস্বস্থি হচ্ছে রাত্রির,, মনটা ভেঙে চুরে দূর্বল হতে চাচ্ছে তাই মাঝ পথে দাড়িয়ে গিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো– তরা থাক, আড্ডা দে, আমি বাড়ি যাবো।
,,,বলতে বলতে অনুমতি না নিয়েই সামনের দিকে চলে যেতে লাগলো। বিষয়টাতে অবাক হলোনা ইরা, সে জানে রাত্রি কোনো কারনে অরুনকে ইগনর করছে আর সেই কারনটাই খুজে বের করতে হবে। অরুন রাত্রির যাবার দিকে তাকিয়ে মলিন কন্ঠে বললো — কুৎসিত মানুষদের সাথে না থাকাই ভালো,, থাকতে থাকতে হয়তো সে নিজেও কুৎসিত হয়ে যাবে।
,,, খুব একটা দূরে পৌছাতে পারেনি রাত্রি, যার ফলে অরুনের বলা কথাটা কানে এসে পৌছালো। সহসাই রাত্রির পদযুগল থমকে গেলো,, চোখের পানি বাধ মানলো না। নাক টেনে বিরবির করে বললো — এ মনে কি আছে পারো যদি খুজে নাও।
,,, অরুন তপ্ত শ্বাস ফেলে মলিন কন্ঠে ঠোঁট নাড়িয়ে আওড়ালো — আমি যে কে তোমার তুমি তা বুঝে নাও।

,,, ডাইনিং এ খাবার বাড়ছিলো মেধা,, অর্পনা টুকটাক হেল্প করছে। সাথি বেগম আরিবকে নিয়ে বাপের বাড়ি গিয়েছেন, মেধার বড়ো মামুর শরীর নাকি খুব খারাপ। এদিকে রোমানা বেগমের শরীরেও বেশ জ্বর তাই ওরা কাজের দায়িত্ব নিয়ে উনাকে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে দৌড়-ঝাপ হুড়োহুড়ির কাজটা পরশী ভালো মতো পারলেও রান্না করা, খাবার বাড়া তার দ্বারা সম্ভব না। সেদিক থেকে দেখতে গেলো অর্পনা নিজেও এসব পারেনা তবে মানবতার খাতিরে মেধার পাছে পাছে থেকে হেল্প করছে। অর্পনা তিন কাপ চা আর এক বাটি পপকর্ন নিয়ে সোফার কাছে গেলো। মন দিয়ে গোপাল ভার দেখতে থাকা পরশীর সামনে পপকর্ন রেখে তিন শ্বশুরের সামনে গিয়ে দাড়ালো। সে কখনোই কাউকে চা কফি দেয়নি,, দেওয়ার হলে পাপ্পকে বিয়ার দিয়েছে। এখন চা দিতে বড্ড নার্ভাসনেস কাজ করছে। চা কিভাবে দেওয়া উচিৎ? হাতে দিবে নাকি টি টেবিলে রাখবে? নাকি বিয়ার যেভাবে চট করে রাখা হয় সেভাবেই রাখবে। অর্পনার গভীর ভাবনার মাঝে মাহিদ মির্জা চওড়া হেসে হাত এগিয়ে দিয়ে বললেন — দাও আম্মু,, হাতেই দাও।

,,, লজ্জা পেয়ে গেলো অর্পনা। তার শ্বশুরটা কেমন যেনো সবসময় ওকে বুঝে যায় একদম পাপ্পার মতো। এবাড়ির প্রতিটি সদস্যই খুব ভালো,, সবার সাথে একটা সংসার হলো মন্দ হতোনা। অর্পনা একে একে সবার হাতেই চায়ের কাপ ধরিয়ে দিলো। শাহিন মির্জা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন — আরশাদকে কল করেছিলাম,, বললাম মেয়ে যেহেতু আমাদের বাড়িতে সেহেতু একবার যেনো এসে দেখে যায়। এভাবে দূরে দূরে থাকাটা তো কোনো সমাধান নয়। ছেলে মেয়েতে সংসার সাজালে আমরা বাবার সবসময় ই খুশি।
,,, পাপ্পার কথা বলায় একটু মনোযোগি হলো অর্পনা। মাহিদ মির্জা বললেন– তো কি জানালেন উনি?
,,, কিছুই বলেনি না তেমন, ও তো বরাবরই এমন চাপা,,,ভিতরটা প্রকাশ করতে চায়না। আমাদের বউমা ও আরশাদের গুন ই পেয়েছো। তবে ভাবছি একবার আমি আর মাহিন গিয়ে ওকে দাওয়াত করে আসবো। বাড়ি বয়ে দাওয়াত করলে নিশ্চয়ই ফিরাবেনা?
,,, মাহিদ মির্জা শায় জানালেন সাথে অর্পনার দিকে তাকিয়ে বললেন — যেদিন তোমার পাপ্পা আসবেন, সেদিন তোমার ফ্রেন্ড আর ঐযে কে যেনো একটা ছেলে কাজিন আছে ওকেও ইনভাইট করো। সবাইকে একসাথে দেখলে ভালো লাগবে আমার।

,,,কি বলবে ভেবে পেলোনা অর্পনা,, সে ভাবছে এখান থেকে চলে যাবে আর তার শ্বশুররা ফরমালিটিস মেইটেইন করে তাদের সংসারটা গুছাতে চাচ্ছে। অর্পনা সবার সামনে টেকস টেকস কথা বলতে পারলেও শ্বশুরদের সামনে পারেনা। কেনো পারেনা সেটা নিজেও জানেনা, হয়তো উনাদপর করা স্নেহের কারনেই পারেনা। অর্পনা ভদ্র মেয়ের মতো মাথা ঝাকালো। ওদের কথপোকথনের মাঝেই বাড়িতে ঢুকলো দ্বীপ আর বিহান। অর্পনাকে ঘোমটা মাথায় বাবা চাচাদের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে দ্বীপের বুকে কেমন যেনো একটা অনুভত হলো। বউটাকে একদম বউ বউ লাগছে,, সে ভাবতে পারেনি এমন একটা অভাবনীয় রাত তার জীবনেও আসবে। যেখানে তার ঘারত্যারা বউ সংসারি হয়ে সংসার করবে। মনে মনে মুগ্ধ হলেও সকালে বউয়ের করা অবজ্ঞার কথা মাথায় আসতেই আবার গাল ফুলালো দ্বীপ। মুখটা কাট কাট করে উপরের দিকে হেটে গেলো,, যাবার সময় অবশ্য বাবা চাচাকে সালাম দিয়ে গিয়েছে তবে বউকে পাত্তা দেয়নি। এতে অর্পনার কিছু এলো গেলোনা,, যা খুশি করুক তার কি? অর্পনার ভাবনার মাঝে মেধা কিছুটা উচ্চ স্বরে দ্বীপের উদ্দেশ্যে বললো — ভাইয়া!! ফ্রেস হয়ে নিচে আসো,, খাবার বাড়ছি।

,,, ওপাশ থেকে উত্তর এলো — খাবোনা!!
,,, অর্পনা ভ্রু উচিয়ে সিরির উপরে তাকালো। খাবেনা মানে কি? সকালে নাস্তা করে যায়নি, ঔষধ খায়নি,, দুপুরে কি খেয়েছে না খেয়েছে জানা নেই। এখন রাতের বেলা নাটক করা হচ্ছে,, না খেলে ঔষধ খাবে কি করে? অর্পনা সেদিক থেকে নজর সরিয়ে বিহানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো — আপনার ভাই দুপুরে খেয়েছে? ঔষধ খেয়েছে?
,,, বিহান দাড়িয়ে গিয়ে মাথা ঝাকিয়ে বললো — নাহ!! কতো রিকোয়েস্ট করলাম কিছুই খেলোনা। ঔষধ ও খায়নি।
,,,অর্পনা বিরক্ত হলো। মাহিদ মির্জা সেদিক পানে তাকিয়ে বললেন– সুস্থ হতেই বেখেয়ালিপনা শুরু করে দিয়েছে। যাও তো আম্মু ডেকে নিয়ে এসো। আমরা সবাই টেবিলে বসছি, তোমরা এলে খাওয়া শুরু করবো। বিহান তুমিও যাও,, ফ্রেশ হয়ে আসো।

,,, বিহান এতোক্ষণ মেধার দিকে তাকিয়ে ছিলো,, বড়ো আব্বুর কথা শুনে মাথা ঝাকিয়ে রুমে চলে গেলো। অর্পনা ফ্যাসাদে পরলো,, শ্বশুরকে অমান্য করতে পারবেনা আবার ঐ পুরুষের ভাব ও দেখার মতো না। তার জীবনে সরাসরি অকাল পরেছে নয়তো কে বলেছিলো বিয়ে করতে? বিয়ে-সংসার জীবন মানেই একটা দানব আকৃতির বাচ্চার দায়িত্ব নেওয়া। খেলেও বউকে লাগে না খেলেও বউকে জোর করে টেনে এনে খাওয়াতে হয়। সো কল্ড সংসার সংসার খেলা। শ্বশুরের কথা মতো রুমে এলো অর্পনা। দ্বীপ তখনো ওয়াশরুমে,, বিছানায় তাকাতেই দেখলো এক গাদা ফাইল পত্র এলোমেলো করে রেখে গিয়েছে। জুতা জোরা, পরনের ময়লা শার্ট, ওয়াচ সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা৷। বিরক্ত হলো অর্পনা, এভাবে রুমটাকে অগোছালো করে দেওয়ার মানে কি? যেনো সবাই উনার মেইড লাগে,, হুম মেইড ই তো। যে নিজের ঘরের বউকে মেইড বলতে পারে তার কাছে সবাই মেইড ই হবে৷ অর্পনা বিছানা থেকে শার্ট আর মেঝে থেকে জুতো জোড়া নিয়ে ক্লিনঝাড়ে রাখলো। তারপর ওয়াচটা সানিটাইস্ড করে ড্রেসিং টেবিলে রেখে ফাইল পত্র গোছাতে লাগলো তখনি ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেড়িয়ে এলো দ্বীপ। অর্পনাকে ফাইল গুছাতে দেখে গলা খাকারি দিয়ে বললো — আজকে এতো বউ গিরি করছো যে?

,,, অর্পনা ফাইলের সিরিয়াল অনুযায়ি রাখতে রাখতে বললো — বউ গিরি হতে যাবো কেনো? এগুলো তো মেইডরা করে। আমি মেইডের দায়িত্বই পালন করছি।
,,, বউয়ের সুক্ষ্ম খোচাটা বুঝতে পারলো দ্বীপ,, তাকে খোটা দিচ্ছে এই মেয়ে। কয়েকপা এগিয়ে গিয়ে ফাইল গোছাতে থাকা অর্পনাকে পিছন থেকে দুহাতে জড়িয়ে ধরলো দ্বীপ । পরপর মাথায় খোপা করে রাখা গার্ডার টা মুখ দিয়ে খুলে দিলো,, সাথে সাথে ঝরঝর করে সবগুলো চুল আছড়ে পরলো দ্বীপের চোখে মুখে।
দ্বীপ চুলে নাক ডুবিয়ে লম্বা শ্বাস টেনে গম্ভির স্বরে বললো — ইউ আর মাই মেইড, হাইলি পারসোনাল মেইড।
,,, দ্বীপের আচানক স্পর্শে কেপে উঠলো অর্পনা,, হাতে থাকা সর্বশেষ ফাইলটা পরতে পরতে বেচে গেলো। এমনটা সে আশা করেনি। সেই সাথে দ্বীপের গম্ভীর স্বরে বলা কথাটা ভিতর থেকে কাপিয়ে তুললো। তবে অর্পনার কঠিন সংযোম তাকে অনুভুতির রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে,,, সে নিজেকে সামলে বললো — সরুন তো,, এসব পছন্দ না আমার।

,,, অর্পনার কথাটা পছন্দ হলোনা দ্বীপের,,সহসা আরও শক্ত করে কোমর চেপে ধরলো সে। কানের কাছে মুখ নিয়ে হালকা রাগত স্বরে প্রশ্ন করলো — আমার কাছে আসাটা তর পছন্দ না?
,,, অর্পনা কাট কাট গলায় বললো — আপাতত না।
,,, কথাটা কর্নকূহর হতেই ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলো দ্বীপ, ধমকের স্বরে বললো — আচ্ছা যাহ!! আর কখনো আসবিনা আমার কাছে। আসলে একদম মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবো।
,,, আচমকা ধাক্কায় কোমরে ব্যাথা পেলো অর্পনা, সহসা পেট চেপে ধরে একটু ঝুকে গেল। অর্পনার অসুস্থতার কথা মাথায় আসতেই বিচলিত হলো দ্বীপ, তারাহুরো করে অর্পনাকে জড়িয়ে ধরে বললো — ব্যাথা পেয়েছো? ভেলোরা। এই, ব্যথা করছে?
,, বলতে বলতে অর্পনাকে কোলে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নিজে মেখেতে হাটু গেড়ে বসে পরলো। অর্পনাড পেটে হাত দিয়ে নরম স্বরে জানতে চাইলো — খুব ব্যাথা করছে?
,,, অর্পনা স্বাভাবিক কন্ঠে বললো — ইট্স ওকে, এটুকু ব্যাথা কিছুইনা।ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে। যাই হোক খেতে চলুন, আব্বু চাচ্চুরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

,,, দ্বীপ নাকোচ করে বললো –খাবোনা।
,,, কেনো খাবেন না? ( ভ্রু কুচকে)
,,,দ্বীপ মুখ ফিরিয়ে কাট কাট গলায় বললো — আমার ইচ্ছা!! তকে কইফিয়ত দিতে হবে।
,,, অর্পনা দ্বীগুন হাড়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বিছানায় গা হেলিয়ে দিয়ে বললো — ওকে!! না খান, আমার কি? রাতে খিদা পেলে মেধাকে বলবেন,, আমিও শুয়ে পরছি।
,,,অর্পনার নির্লিপ্ত জবাবে হতাশ হলো দ্বীপ, দাতে দাত চেপে বললো– যা খুশি কর কিন্তু করার আগে খাবার খেয়ে আয়।
,,,অর্পনা আবারোনকাট কাট গলায় বললো — খাবোনা।
,,, কেনো? কি সমস্যা? ( ভ্রু কুচকে)
,,, যা খুশি হোক,, আপনাকে কইফিয়ত দিতে হবে আমার?
,,, দ্বীপ বসা থেকে উঠে এক পা নিচে আরেক পা বিছানায় রেখে অর্পনার দিকে ঝুকে, ভ্রু কুচকে বিরক্তিকর কন্ঠে বললো — এই মেয়ে!! আমি তোমার সাথে রাগ করেছি,, তুমি আমার রাগ না ভাঙিয়ে উল্টো আমাকে রাগ দেখাচ্ছো?

,,, অর্পনা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললো– আমি বলিনি কাউকে আমার রাগ সহ্য করতে,, নিজের মতো থাকুন না ভাই,, আমাকে এফোর্ট দিতে কে বলেছে?
,,, দ্বীপ দাতে দাত চেপে বললো– ইডিয়ট!! চলো খাবো।
,,,অর্পনা আগের ন্যায় কাটকাট গলায় বললো — আপনার কথায় সব হবে? জালাবেন নাতো , যান।
,, জ্বালাবেন না মানে কি? দ্বীপ কি এই মেয়েকে জ্বালায়? কই সারাদিন তো বাহিরেই থাকলো তাহলে জ্বালালো কখন? সব ঘারত্যারামির ফল। দ্বীপ উঠে দাড়িয়ে হুট করেই অর্পনাকে পাজা কোলা করে নিয়ে বাহিরের দিকে হাটা দিয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বললো — বেয়াদব!! হাসবেন্ডের মন কিভাবে রক্ষা করতে হয় সেটা জানেনা। সারাক্ষণ ঘারত্যারামি।
,, অর্পনা দ্বীপের শার্টের কলার ধরে বললো — ছাড়ুনতো, কি শুরু করলেন? খাবোনা আমি।
,,, তুই খাবিনা তর বাপ তদন্ত ছেড়ে এসে খাবে।
,,, পাপ্পাকে তুলে কথা বলবেন না।
,,, আমার কথার অবাধ্য হবিনা।
,,,আপনার একটা কথাও আমি শুনবোনা।
,,, তাহলে তর বাপ তুলে কথা বলা কেউ বন্ধ করতে পারবেনা।
,, বেয়াদব মির্জা!!
,,ঘারত্যারা মির্জা!!

,,, বিছানার দু মাথায় একটা একটা করে বালিশ রেখে মাঝখানে বর্ডার স্বরুপ একটা কোলবালিশ রেখে বিছানার উল্টো দিকে মাথা রেখে শুয়ে পরলো অর্পনা। দ্বীপ সোফায় বসে অফিসের কিছু কাজ করছিলো। অর্পনার এই উদ্ভট কান্ড দেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো — এগুলো কি ধরনের নাটক? এভাবে শুয়েছো কেনো?
,,, অর্পনা কোলবালিশটা জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে বললো — এটা কোনো নাটক নয়,, নাটক করার মতো লো বাজেটের কাজ আমি করিনা,,করলে সিনেমা করতে পারি তাও তামিল কিংবা মালাইলাম। যাই হোক,, শুতে হলে এভাবেই শুন নয়তো সোফায় ঘুমিয়ে পরুন,, আমার কিছু এসে যায়না।
,,, দ্বীপ হাতে থাকা ফাইলটা সাইড করে ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলো — বুঝলাম না, এভাবে শুয়া আর ওভাবে শুয়ার মাঝে পার্থক্য কোথায়?

,,, অতো কইফিয়ত দিতে পারবোনা,, ক্লান্ত আমি,, ঘুমাবো।
,, দ্বীপ কিছু বললো না, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার কাজে মনোযোগ দিলো। এই রাত বিরেতে ঘারত্যারার সাথে তর্ক করার কোনো মানেই হয়না,,একবার ঘুমিয়ে যাক তারপর বাকিটা সে দেখে নিবে। দ্বীপের কোনো রিয়্যাকসন না পেয়ে গভির ঘুমে তলিয়ে গেলো অর্পনা। বিষয়টা বুঝতে পেরে উঠে দাড়ালো দ্বীপ। এক ঠোঁট দিয়ে আরেক ঠোঁট চেপে ধরে কিছুক্ষণ ভাবলো তারপর এগিয়ে গিয়ে অর্পনার জড়িয়ে ধরা কোলবালিসটা সন্তর্পণে নিজের কাছে নিয়ে নিলো। পরপর হাটা দিলো বারান্দার উদ্দেশ্য। বারান্দায় গিয়ে পকেট হাতরে ছোট্ট একটা নাইফ বের করলো। সাইজ আনুমানিক তিন থেকে চার ইঞ্চি হবে। বালিশটা হাতে নিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে টুকরো টুকরো করলো। প্রতিটা আচর এতোটাই তিখ্ন ছিলো যে আচরে আচরে বালিশটির ভিতরে থাকা তুলো পর্যন্ত ছিন্ন ভিছিন্ন হয়ে যাচ্ছিলো। টানা ২০ মিনিট সময় নিয়ে বালিশের রফাদফা করা শেষ হলে আবারও পকেট হাতরে লাইটার বের করলো।

পরপর বালিশের তুলোতে আগুন জ্বালিয়ে বারান্দার রেলিঙের বাহিরে রাখলো। সাথে সাথে ধাও ধাও করে আগুন জ্বলতে জ্বলতে পোড়া অংশ গুলো নিচে পরতে লাগলো। বাড়িতে ঘেড়াও করে দাড়িয়ে থাকা গার্ড গুলো সতর্ক হলো,, সাথে কিছুটা ভিতি ও কাজ করলো। অকারনে দ্বীপ মির্জা কখনো এতোটা হিংস্র হয়না,, নিশ্চয়ই মারাত্মক কিছু হয়েছে। জ্বলতে জ্বলতে আগুন যখন দ্বীপের হাত স্পর্শ করলো তখনি বালিশটা ছেড়ে দিলো দ্বীপ। তার ঠোঁটে বক্র হাসি,, হাসতে হাসতে নাইফ আর লাইটারটা আবারো সন্তর্পণে পকেটে ঢুকিয়ে রুমে চলে গেলো। বিছানার কাছে এসে প্রথমেই শান্ত নজরে অর্পনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত নজর ভুলালো তারপর অর্পনার পায়ের কাছে বসে পরলো। তার জন্য বরাদ্দকৃত বালিশটায় মাথা রেখে অর্পনার বিপরীত হয়ে শুয়ে পরলো। পরপর অর্পনার পা জোড়া বুকের সাথে মিশিয়ে পায়ের তালুতে উষ্ঠ ছোয়ালো। পায়ের পুরো পাতায় চুমু দিতে দিতে নরম স্বরে বললো–

,,,,আমার কোমলিনী!! আমার আদরিনী!! তোমার
অতিতের সব কষ্ট আমি যত্নতার সাথে মুছে দিবো।
তোমার মনে জন্ম নেওয়া প্রতিটি ক্ষত নরম
উষ্ঠের ছোয়ায় সারিয়ে তুলবো। তোমার
চোখের পাতায় ভির করা প্রতিটি অশ্রু কনা
আদরের চাদর দিয়ে মুছে দিবো। আমি বেচে থাকতে
আমার ভেলোরাকে আর কেউ কাদাতে পারবেনা,,

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৬ (৩)

কাদানোর সাহস পাবেনা!! এমনকি আমি নিজেও না।
তোমার আর আমার পথ এক,, আমার থেকে কেউ আলাদা করতে পারবেনা তোমায়। আমাদের মাঝে কোনো দেয়াল আসবেনা। দেয়াল তো দূর জাস্ট সিঙ্গেল পরিমান সুতোও আমাদের মাঝে স্থায়ি হবেনা। প্রমিস!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৮