Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩২

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩২

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩২
রুপান্জলি

,,,সারাটা দিন যতই নিজেকে শক্ত আবরনে আবৃত করে রাখুক না কেনো,, রাত হতেই সব আবরন ছিন্ন হয়ে অর্পনার জিবনটা যেনো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিছানায় গা হেলিয়ে দিতেই সাপের মতে পেচিয়ে ধরা বনমানুষটার জন্য বুকটা খা খা করে উঠলো। অর্পনা জানেনা তার সাথে কেনো এতো বেইমানি করা হচ্ছে,, কেনো ঐ লোকটাকে সে এক সেকেন্ডের জন্য ও মন থেকে সরাতে পারছেনা। এমনিতে তো গলাবাজি করে বলতে পারে,, যার থেকে একবার মুখ ফিরিয়ে নেই তার দিকে ফিরেও তাকাইনা,, তাহলে আজ কেনো সেসব ধরে রাখতে পারছেনা? আজ কেনো সেই লোকটাকে ভুলতে পারছেনা?

ঘৃণা করতে পারছেনা? বেপোরোয়া মনটা বার বার বায়না করছে ছুট্টে গিয়ে মির্জা বাড়ির ঐ বড়ো ছেলের বুকে ঝাপিয়ে পরতে। কলারটা শক্ত হাতের ব্যাস্টনিতে পেচিয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে,,, আপনি আমার দ্বীপ,শুধুই আমার। আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি আর আপনি নিজেও আমাকে ভালোবাসেন। বিশ্বাস করুন, ১১ দিন আগেও আপনার চোখে আমি আমার জন্য ভালোবাসা দেখেছি। সেই ভালোবাসা সামান্য একটা পরিচয়ে মিথ্যা হতে পারেনা। আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না দ্বীপ,, আপনাকে ছাড়া অর্পনা মরে যাবে। আপনি যেমন পারুকে ছাড়া পাগল হয়ে গিয়েছিলেন, তেমনি আমিও হবো। তখন আমায় কেউ সুস্থ করতে পারবেনা, আপনার মতো দেখতে হাজার জন অর্পনার জীবনে এলেও অর্পনা সুস্থ হবেনা। কিন্তু বলতে পারছেনা, আর না পারছে ছুটে যেতে। কারনটা আত্মসম্মান, যেই লোকটা ১০ দিনেও একটা খবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি তার মুখ ফুটে বলার অপেক্ষা রাখেনা, সে যে অর্পনাকে চায়না।

আর যে চায়না তার জীবনে জোর করে, নিজের অসহায়ত্বের দোহাই দিয়ে থেকে যাওয়াটা বোকামি। অর্পনা অতোটাও সেইম ল্যাস নয়, যে কেউ ফিরিয়ে দিলে তার পায়ে ধরে অনুরোধ করবে রেখে দেওয়ার জন্য। একবার তো করেছিলো, তার বিনিময়ে কি পেলো? ভরা সভায় লাত্থি উষ্ঠা ছাড়া কিছুই জুটেনি। আবারও একি পরিস্থিতির শিকার হতে পারবেনা অর্পনা। সেই ভয়েই তো এক প্রকার পালিয়ে এসেছে সে। লোকের সামনে অপমানিত হতে খুব কষ্ট হয়,, সে অভদ্র, অসভ্য হতে পারে কিন্তু কুকুর বিড়াল নয় যে মানুষ চাইলেই লাত্থি উষ্ঠা মেরে তাড়িয়ে দিবে। এরকম হাজারটা যুক্তি তর্কের মাধ্যমে মনকে মানাতে চাইলো অর্পনা কিন্তু মনতো সেসব মানতে চায়না। অর্পনার মন ভালোবাসা চায়,, জেদি দ্বীপকে চায়। যে সারাক্ষণ ওর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য জেদ করবে,, ছটফট করবে,, ভালোবাসা না দিলে রাগ দেখাবে, সেই দ্বীপকে চাই অর্পনার। ঐ জেদি দ্বীপের বুকে নিজেকে লুকাতে চায়। ভাবতে ভাবতে ডুকরে উঠলো অর্পনা। কোল বালিশটা জড়িয়ে ধরে তাতে মুখ গুজে নিশ্বব্দে কাদতে লাগলো। সে বেইমান,, সে ভালোবাসা বুঝেনি,, ভালোবাসা দেখেনি ,, সে শুধু চেহারা দেখেছিলো। তার একমাত্র ভালোবাসা আর প্রথম স্ত্রী এর চেহারাটা দেখেছিলো। নাহ!! প্রথম স্ত্রী নয়,, তার একমাত্র স্ত্রী এবং একমাত্র ভালোবাসা। সে তো অর্পনাকে মানেই না। মানলে আজ অন্তত একটা কল দিতো। ঐ লোকটার কলের আশায় এখনো সিম পাল্টায়নি অর্পনা, আর না ফোন বন্ধ রেখেছে। কই সে তো একটা কল দিলোনা? একবার জানতে চাইলো না, কেনো বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলো? জানতে চাইবে কি করে? সে হয়তো জানেই না, অর্পনা যে বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে। এটুকু ভাবতে গিয়ে না চাইতেই অর্পনার কান্নার বেগ বাড়লো। শত চেষ্টা করেও, মুখ বালিশের সাথে চেপে ধরেও শব্দ নিশ্চিন্হ করতে পারছেনা। অর্পনার কান্নার মাঝে খট করে রুমের দরজা খুলে গেলো। আদ্রিয়ান দ্রুততার সাথে রুমে ঢুকে অর্পনার বিছানার পাশে হাটু মুড়ে বসে মাথায় হাত রেখে কাতর কন্ঠে সুধালো —

,,, জানেম!! ও জানেম,, তুমি কাদছো কেনো? শরীর খারাপ লাগছে? কেমন লাগছে বলো। জানেম, তুমি তো কাদোনা,, কান্না করা ভুলে গিয়েছিলে। আজ কেনো কাদছো? তুমি দ্বীপ মির্জার জন্য কাদছো জান? তুমি ওকে খুব ভালোবাসো তাইনা? আমায় কেনো ভালোবাসলেনা? তুমি তো আমাকে ভালোবাসতে,, বিশ্বাস করো আমি যদি আগে জানতাম, ঐ প্রিথা জামান আর অর্পনা জামান একই মানবী তাহলে তোমায় আমি কখনোই এভাবে অপমান করতাম না। আমার দোষ, আমি জানি। কিন্তু তোমাকে অবহেলা করার পিছনে তুমি ই দায়ি। আমি তো তোমার গানে মজে ছিলাম, এক অদেখা প্রেমে মজে ছিলাম কিন্তু জানতাম না ঐ অদেখা ভালোবাসার মানুষটা তুমি, মানে আমার ফুপাতো বোন অর্পনা। ও জানেম! দ্বীপকে ভুলে যাও৷ আমাকে বিয়ে করতে হবেনা,, ওকে ভুলে যাও। আমরা এভাবে পাশাপাশি রুমে কিংবা পাশাপাশি ফ্লাটে সারাজীবন একসাথে কাটিয়ে দিবো। আমায় ভালো না বাসো,, প্রতিবেশির মতো তোমার আশেপাশে একটু জায়গা দিয়ো। প্লিজ!!
,,,,আদ্রিয়ানের উপস্থিতি টের পেতেই কান্না থামিয়ে দিয়েছে অর্পনা। মাথায় থাকা আদ্রিয়ানের হাত টুকু সন্তর্পণে নামিয়ে দিয়ে উঠে বসলো। দুহাতে চোখের পানি মুছে নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলো — আপনি আবারও দরজার বাহিরে বসে ছিলেন?
,, আদ্রিয়ান মাথা নিচু করে উত্তর দিলো — তুমি তো অসুস্থ, যদি তোমার কিছু লাগে সেজন্যই আরকি। আচ্ছা আর বসবো না।

,,,অর্পনা আহত হলো,, এতোটা ভালোবাসার দরকার ছিলোনা। সে কখনোই সেই রাতের কথা ভুলতে পারবেনা।সেদিন সে শুধু অপমানিতই নয়, মলেস্ট ও হয়েছিলো। সেদিন যদি পাপ্পা ঠিক সময় না আসতো তাহলে,, আর ভাবতে পারলোনা অর্পন। সে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বললো– আদ্রিয়ান!! আপনাকে বুঝতে হবে আমি বিবাহিত। আমাদের দুজনের দৃষ্টিতেও পাপ সৃষ্টি হবে। আমি চাইনা আপনার পাপ হোক, কারন আপনি আমাকে এখোনো ভালোবাসাময় দৃষ্টিতে দেখেন। প্লিজ আদ্রিয়ান!! আমার রুমের আশেপাশে থাকবেন না। আপনি এরকম করলে আমি এখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হবো। আই নিড স্পেচ, প্লিজ চলে যান। আমি নিজেকে সামলাতে জানি।
,,, আদ্রিয়ান যেতে চাইলোনা, সে অনর হয়ে বসে থেকে আবদার ভরা কন্ঠে বললো — আমি একটু থাকি? তুমি ঘুমালেই চলে যাবো। প্রমিজ!!
,,,ক্ষু্দ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো অর্পনা, রাগত স্বরে বললো — আপনাকে যেতে বলেছি আদি,, আমি আমার স্বামীর থেকে দূরে থাকলেও তার এক চুল পরিমান হক কাউকে নষ্ট করতে দিবোনা। আপনি আমাকে সর্বোচ্চ রিকোয়েস্ট করায় এখানে এসেছি নয়তো নিজের রাস্তা অর্পনা নিজেই বেছে নিতে পারে। প্লিজ লিভ!! নয়তো এখোনি আমি এখান থেকে বেড়িয়ে যাবো।

,,,রিস্ক নিলোনা আদ্রিয়ান, নিশ্বব্দে জায়গা থেকে প্রস্থান করলো। আদ্রিয়ান যেতেই উঠে গিয়ে ভিতর থেকে দরজা আটকে দিলো অর্পনা। পর পর বিছানার পাশ ঘেঁষে মেঝেতে হাটু মুড়ে বসে পরলো। আজ গিটারটার কথা খুব মনে পরছে। টানা আট মাস দ্বীপকে কাছে পেয়ে গিটার, গান, লাইভ সব ভুলে গিয়েছে অর্পনা। ঐ লোকটার মাঝে কি এমন জাদু ছিলো কে জানে? সেই যাদু বলে অর্পনা নিজের শখের সাথে সাথে নিজেকেও হাড়িয়ে বসেছে। চোখে জল জমলেও এবার আর কাদলো না অর্পনা। বালিশের তলা থেকে ফোনটা বের করে স্ক্রিন অন করলো। দুপুরের পর অকারনেই ফোনের ডাটা অফ করে রেখেছিলো সে। বিষয়টা একেবারেই অকারন নয়,আসলে ডাটা অন থাকলেই একটার পর একটা কল আসতো আর অর্পনা মনে করতো দ্বীপ কল দিয়েছে। কিন্তু তাতো সম্ভব নয়,, সে কখনোই অর্পনাকে কল দিবেনা। ভাবতে গিয়ে আবারও চোখে জল জমলো। অর্পনা দুহাতে চোখ মুছে ডাটা অন অন করতেই একটার পর একটা নোটিফিকেশন আসতে লাগলো। নোটিফিকেশনের ভারে কখন না জানি মোবাইল ই হেং মেরে যায়। টানা তিন মিনিট পর মোবাইলটা শান্ত হলে অর্পনা ফেইসবুকে ঢুকলো। পোস্ট সেটিং অনলি মি করে একটা পোস্ট করলো —

,,, পুরুষ তার প্রথম নারীর বেক আপ হিসেবে দ্বিতীয় নারীকে চায়। যখন তার মাঝে প্রথম নারীকে খুজে পায়না তখনি ছুড়ে ফেলে দেয়। এই পৃথিবীতে ভালোবাসা সুন্দর, তবে সেটা ভালো মানুষদের জন্য।আমাদের মতো জংলীরা শুধু অবহেলাই প্রাপ্য।
,,, কিছু সময় পর আরেকটা পোস্ট করলো —
,, এই ধরিত্রিতে যতবার এক পশলা বৃষ্টি হয়ে ঝরতে চেয়েছিলাম ঠিক ততবারি এ ধরনী আমায় উত্তপ্ত ক্ষড়ার রুপ দিয়েছে।

,,, পোস্ট টা করে গেলারিতে ঢুকলো অর্পনা, তার গেলারিতে দ্বীপ আর তার হাজার খানা ছবি রয়েছে। কোনোটাতে অর্পনার বুকে মুখ গুজে রেখেছে দ্বীপ,, আবার কোনোটাতে দুজন গালে গাল ঠেকিয়ে কম্বলের নিচে বসে আছে। একটা ছবিতে অর্পনা শুয়ে আছে আর তার উপরে দ্বীপ,, আরকটায় অর্পনা নিশ্চিন্তে দ্বীপের বুকে ঘুমিয়ে আছে, এরকম হাজারো খুনশুটিময় ছবি আছে গ্যালারি জুড়ে। সব ছবিকে উপেক্ষা করে একদম শেষে পৌছালো অর্পনা। ঐ মোবাইলটা বাড়িতে রেখে আসার পর বহু কষ্ট ড্রাইভ্যার থেকে এই ছবিটা বর্তমান ফোনে আনতে পেরেছে। ছবিটা দ্বীপ আর অর্পনার প্রথম রাতের। যেটাকে হিসেব মতো তাদের বাসর রাত বলা যায়,, সেই রাতেই দ্বীপের পাগল বেশে একটা ছবি তুলেছিলো অর্পনা। এই লোকের মায়ায় পরার জন্য সেই রাতটায় যথেষ্ট ছিলো,, সেই এক রাতেই অর্পনা পাগল দ্বীপের মায়ায় পড়েছিলো। অর্পনা ছবিটা বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বিছানার কোনায় মাথা হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো। এভাবেই কাটলো মিনিট পাচ, হঠাৎই মেসেন্জার থেকে একটা মেসেজ আসলো, বিরক্ত হলো অর্পনা তবে এভোয়েট করলো। পরপর একটার পর একটা, একটার পর একটা আসতেই থাকলো। অর্পনা বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুলে স্ক্রিনে তাকাতেই দেখলো ” your husband ” আইডি থেকে বার বার মেসেজ আসছে। অর্পনার কেনো যেনো কৌতুহল হলো, সে ইনবক্সে ঢুকে প্রতিটি মেসেজ সিন করলো। সবকয়টা আনসেন্ড করে দিয়েছে ওপাশের ব্যাক্তিটি। অর্পনা মেসেজ দিলো —

,,, হু আর ইউ?
,,, সেকেন্ডের মাঝে রিপ্লাই এলো — ইয়্যুর হাসবেন্ড।
,,, ভ্রু কুচকালো অর্পনা, মনে আশা জাগলো। হয়তো দ্বীপ মেসেজ দিয়েছে, ভাবতেই তারাহুরো করে টাইপ করলো– হোয়াট? কে আপনি? কিসের হাসবেন্ড? আপনি কি দ্বীপ?
,,,রিপ্লাই এলো– হু ইজ দ্বীপ? সে কি আপনার হাসবেন্ড?
,,, অর্পনা এবার নিজের প্রতি বিরক্ত হলো। এরকম ছ্যাবলামু করা দ্বীপের সাথে যায়না তাই বিরক্তি নিয়ে টাইপ করলো — নাহ!” সে আমার কেউ না। আপনি এটা বলুন, আপনি কেনো বললেন আপনি আমার হাসবেন্ড?
,,, আবারও রিপ্লাই এলো — আমি তো সব মেয়েদের হাসবেন্ড,, যাদের হাসবেন্ড থাকেনা,, রাতে হাসবেন্ডকে মিস করে,, একা থাকতে ভয় পায়,,তাদেরকে সঙ্গ দেই, এই আরকি।
,,,অর্পনা বুঝলো এটা নির্ঘাত কোনো বাজে ছেলে তাই
এসব আজেবাজে কথা বলছে। অন্য সময় হলে অনেকগুলো বাজে কথা শুনিয়ে দিতো কিন্তু এখন মন ভালো নেই। তাই আইডিটা ব্লক লিস্টে ফেলে দিয়ে আবারও সেভাবেই বিছানায় মাথা হেলিয়ে পরে রইলো। তার মিনিট তিনেক পর ইনস্টাগ্রামে আবারও একটার পর একটা মেসেজ আসতে লাগলো। অর্পনা বিরক্ত হয়ে সেটা চেক দিতেই দেখলো এটাও ইয়্যুর হাসবেন্ড নামের আইডি। সবগুলো মেসেজের নিচে যেই মেসেজটা ছিলো সেটা পড়তেই মেজাজ গরম হয়ে গেলো অর্পনার, ওপাশের ব্যাক্তি লিখেছে,,

— আচ্ছা!! বউ পালিয়ে যাবার পর, অন্যের বউয়ের সাথে প্রেম করা কি অন্যায়? এটাকে কি প*রকিয়ার আওতায় ফেলা যায়?
,,আবার মেসেজ এলো– ফেলা হলেও সমস্যা নেই। আমার বউ আপনার হাসবেন্ডের সাথে রাগ করে পালিয়েছে তাই আমি আপনার সাথে প্রেম করে বউয়ের অভাব পূরন করবো। এট লাস্ট, দ্যা ক্যালকুলেশন ইজ ইকুয়্যাল, ইকুয়্যাল!!
,,,অর্পনা লাস্টের ক্যালকুলেশন টা বুঝলো না, সে মনে করেছে লোকটা বলতে চাচ্ছে তার বউ অর্পনার হাসবেন্ডের সাথে পালিয়েছে। দ্বীপের সম্পর্কে এতো বড়ো মিথ্যা এলিগেশন মানতে চাইলোনা অর্পনা। সে দাতে দাত চেপে রিপ্লাই করলো — একদম বাজে কথা বলবেন না,, আপনি আমার হাসবেন্ডের চরিত্র সম্পর্কে জানেন না,,তাই এমন কথা বলছেন। সে খুব ভালো চরিত্রের অধীকারি,, উনার মতো একজন ব্যাক্তি কখনোই আপনার বউ নিয়ে পালানোর মতো বাজে কাজ করতে পারেনা।
,,,রিপ্লাই এলো– বাহ!! হাসবেন্ডের উপর এতো ভরসা? কিন্তু আমার জানা মতে আপনার হাসবেন্ড অত্যন্ত অসভ্য প্রজাতির প্রানি। সে সর্বক্ষণ আমার বউকে নিয়ে আজে বাজে কল্পনা করে,, অযাচিত ইচ্ছা মনের মাঝে পুষে রাখে। এতোটাই অযাচিতো ভাবনা পোষণ করে রাখে যতটা বর্তমানে আপনাকে নিয়ে আমি পোষন করছি। ইউ আর সু এট্রাক্টিব ম্যাম,, আপনার প্রতি আমি প্রতি মুহুর্তে ফিদা হয়ে যাই,, এক কথায় যাকে ফানাহ হয়ে যাওয়া বলে।
,,, অচেনা একজন লোকের মুখে এরকম লেইম ওয়ার্ড শুনে তেতে উঠলো অর্পনা। সে আবারও দাতে দাত চেপে টাইপ করলো — তুই কে ভাই? অকারনে আমার হাসবেন্ড আর আমার বিষয়ে উল্টা পাল্টা বকছিস কেনো? সাহস থয়কলে নিজের এক্সেক্ট ইন্ট্রো দে, অশিক্ষিত কাপুরুষ। সামনে পেলে একদম মাটির নিচে গেড়ে দিবো।
,,,রিপ্লাই এলো — এতোকিছু করতে হবেনা, শুধু আমার মনের কষ্ট গুলো শুনুন। আপনার হাসবেন্ডের কারনে আমার বউ পালিয়ে গিয়েছে,, এখন আমার বউ ছাড়া থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এতো রাতে আমি একা একা কি করবো বলে দিন নয়তো আমার বউকে ফিরিয়ে দিন।

,,, অর্পনা আবারো টাইপ করলো — আচ্ছা, বারবার একটা কথা না আওড়িয়ে, বলবেন কি? আমার হাসবেন্ড আপনার ওয়াইফকে কি করেছে? আর আপনার ওয়াইফ ই বা আমার হাসবেন্ডের সাথে পালিয়েছে কেনো ?
,,, কেনো আবার? বউকে আদর করতে নিয়েছিলাম,, হট করেই কাজ চলে আসায় বউকে রেখে একটু বাহিরে গিয়েছিলাম। সেই অপরাধে বউ আমার পালিয়ে গিয়েছে,, এখন আমার বউ ছাড়া থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তার নরম কোমল বদনের অভাবে কলিজাটা শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। তার আলতো স্পর্শ, মিষ্টি স্বর ধ্বনি, তার বিরবির করে দেওয়া বকা, রাগে অতিষ্ঠ হয়ে আমাকেই জড়িয়ে ধরা গুলো খুব মিস করছি। হয় আমাকে আমার বউ ফিরিয়ে দিন নয়তো আপনি চলে আসুন। যেকোনো একটা হলেই আমি খুশি।
,,,এতোক্ষন বহু কষ্টে রাগ দমাতে পারলেও, এবার যেনো পারলো না। অর্পনা অতি রাগে টাইপ করা বাদ দিয়ে বয়েজে ক্লিক করে বললো — অসভ্য, জানোয়ার, বেয়াদব, তকে সামনে পেলে খুন করবো আমি। তর এই ছুকছুকানি স্বভাবের জন্যই তর বউ পালিয়েছে আর তুই আমার নিশ্পাপ জামাইকে দোষারোপ করছিস। সাহস থাকলে সামনে এসে আমার হাসবেন্ডকে নিয়ে কথা বলিস,, একদম জ্বীব টেনে ছিড়ে ফেলবো। সেইম ল্যাস কোথাকার!! ভালো শিক্ষা দিক্ষা পেলে এমন কু*কুরে পরিনত হতি না। জা*নোয়ার একটা!!

,,, দীর্ঘ বয়েজ শেষে আইডিটা ব্লক করে ক্ষান্ত হলো অর্পনা। কোথাকার না কোথাকার ছেলে তার হাসবেন্ডকে নিয়ে বাজে কথা বলতে আসে। যখন সে ভালোবাসতো না তখনি ঐ লোকের ব্যাপারে একটা বাজে কথা সহ্য করতে পারতো না। এখন তো মন প্রান উজার করে ভালোবাসে,, এখন কেনো এসব মেনে নিবে সে? নাহ!!একদমি নিবেনা। লোকটা তাকে না মানুক, সে তো মানে,, খুব ভালোবাসে ঐ দ্বীপ মির্জাকে। আর অর্পনা বেচে থাকতে দ্বীপ মির্জার দিকে কেউ আঙুল তুলতে পারবেনা। কেউ তুললেও সেটা সযত্নে ভেঙে দিবে অর্পনা।

,,,, পায়ের তলায় নরম কিছুর আভাস পেতেই ফোন থেকে চোখ সরালো দ্বীপ,, অমাবস্যার গভীরতার ন্যায় কালো রঙের একটি বিদেশি কুকুরের অবস্থান অবলোকন করে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে কুকুরের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলো —
,,,হোয়াট? এখানে কি করছো স্রিফান?
,,সাথে সাথে কুকুরটি মেঝের সাথে মাথা ঘষতে শুরু করলে, দ্বীপ তাকে কোলে তুলে সামনে হাটতে হাটতে প্রশ্ন করলো — বিহান এসেছে?
,,, কুকুরটি দ্বীপের বুকে হালকা আচড় কাটলো,, বিষয়টা পছন্দ হলো না দ্বীপের। সে হালকা ধমকের স্বরে বললো — তকে এখানে আচড় কাটার সাহস দিলো কে ? তুই জানিস না এখানে তর মাম্মা থাকে? সে খুব কোমল আর স্নিগ্ধ, হালকা আঘাতেই একদম মুচরে যায়। তর ধাড়ালো নখ এখানে ঘষার কারনে সে যদি ব্যাথা পায়? ইডিয়ট!!
,,,অবুজ প্রানিটি কি বুঝলো তা জানা নেই তবে সে এবার আলতো করে দ্বীপের বুকে লেহন দিয়ে গাল ঘষলো। এতে যেনো দ্বীপের রাগ আরও বারলো । সে কুকুরটির টুটি চেপে ধরে বললো — তকে আদর করতে বলেছি? আমার বউ যা করার আমি করবো। মারবো, কাটবো, ছেড়ে যাবো, অবহেলা করবে আবার ফিরিয়ে এনে আদর করবো। তুই এখানে নাক গলানোর কে?

,, অবুঝ প্রানিটি এবার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। সে আচর কাটলেও দোষ আবার আদর করলেও দোষ। এখন সে কোথায় যাবে? সে তো প্রথমে পাপ্পার কথায় শায় জানাতে বুকের উপর আচর কেটেছিলো। এতে যে পাপ্পা রেগে যাবে সেটা তো বুঝতে পারেনি। আবার বুঝতে পেরে নিজের ভুল শুধরে আদর করতে নিতেই আবারো পাপ্পা রেগে গেলো। সে ব্যাচারা কি করবে ভেবে না পেয়ো মনে মনে হয়তো গান গাইছে “” আমি ফাইস্যা গেছি, আমি ফাইস্যা গেছি মাইনকার চিপায় “”
,,, কুকুরটির সাথে কথা বলতে বলতে রুম থেকে বেড়িয়ে এলো দ্বীপ। দ্বীপকে আসতে দেখে সোফা থেকে উঠে দাড়ালো বিহান,, দ্রুত এগিয়ে এসে বিচলিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো — ত,তুই কি পাগল? কি করেছিস এসব? মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে? আগের মতো পাগলামি শুরু করেছিস ভাই, কখোনো যদি এসব জানাজানি হয় তাহলে তর অবস্থা কি হবে, কোনো ধারনা আছে?

,,, দ্বীপ সেসবে পাত্তা দিলোনা, স্রিফানকে নামিয়ে দিয়ে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে বললো — যা করেছি বেশ করেছি। তুই কি আমার মরার ভয় করছিস বিহান? তবে আমার সেসবে ভয় নেই কারন, মরতে তারাই ভয় পায় যাদের মৃত্যু ভয় থাকে,, কিন্তু আমি তো মৃত্যুতে আনন্দ খুজে পাই,, সুতরাং এসব বলে আমার কান গরম করতে আসিসনা। ছোট চাচ্চুকে বল ইলেকশনের জন্য রেডি হতে। সামনের মাসে এমপির ইলেকশন হবে আর সেই ইলেকশনে চাচ্চুই জিতবে। আমার অনুপস্থিতিতে যা যা হাড়িয়েছে তা এই এক মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনবো আমি , ইনশাআল্লাহ!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩১

,,,দ্বীপের নির্লিপ্ত জবাবে বিচলিত হলো বিহান, দ্রুততার সাথে দ্বীপের পাশাপাশি বসে আতঙ্কিত কন্ঠে বললো — তাই বলে বর্তমান এমপিকে,,,
,,, বিহানের কথার মাঝে থামিয়ে দিলো দ্বীপ, তর্জনী আঙুল তুলে বিহানের মুখের সামনে এনে বললো — হুসস!! এখোনো করিনি, তবে করবো। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৩