Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৩ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৩ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৩ (২)
রুপান্জলি

ঘারত্যারা অর্পনা আরও ত্যারামি করে বললো– বেশ করেছি বলেছি,, আরও বলবো। আপনার কি? বলুন, কি এসে যায় আপনার? আমি তো উনার ফ্লাটে থাকি ইভেন উনার রুমেও,,
,,, আরও শক্ত করে মুখ চেপে ধরলো দ্বীপ, শাসিয়ে বললো– মিথ্যা বললে মুখ ভেঙে দিবো। কি ভাবিস? তুই কি করিস, কার বাড়িতে থাকিস তার কিছুই আমি জানিনা? বিয়ে করেছি, বউ বানিয়েছি আর বউ কোথায় কি করে খবর রাখিনা? আমাকে তর বলদ মনে হয়?
,,, মুখের ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো অর্পনা, গাল থেকে দ্বীপের হাত সরানোর চেষ্টা করতে করতে বললো– রাখেন বুঝি? ভালো তো। আমি একটা ছেলের সাথে রাতে একই বাড়িতে থাকি বিষয়টা নিশ্চয়ই আপনার খুব ভালো লাগে? আমারো লাগে,, খুব আনন্দ লাগে।

,,,দ্বীপ বুঝলো অর্পনা ব্যাথা পাচ্ছে, তবুও রাগ সামলাতে পারছেনা। মুখটা ঝাড়া মেরে ছেড়ে দিয়ে দাতে দাত পিষে বললো– থাকিস কেনো? এখন তর বাপ কই? সকালে তো বাপ নিয়ে কত পটর পটর করলি, এখন তুই বাপের বাড়ি রেখে একটা ছেলের ফ্লাটে পরে আছিস কেনো? তর বাপের কাছে যাহ!! স্বামীর বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যখন একটা ছেলের বাড়িতে থাকতে হবে তাহলে বেড়িয়ে আসলি কেনো? তকে কেউ বেরুতে বলেছিলো? এমনি তর কারনে প্যাচে পরে আছি। ঘাড় ত্যারা নারী একটা,, তর ঘাড়ের রগ আমি একটা একটা ছিরবো তারপর হসপিটালে ভর্তি করিয়ে,, অপারেশনের মাধ্যমে সেগুলো সোজা করে তর ঘারত্যাড়ামির স্বভাব দূর করবো।

,,, অর্পনার ভিতরটা ভেঙে এলো,,, যার জন্য চুরি করলো সেই আজ চোর বলে গালি দিচ্ছে। এই লোকের জন্যই তো পাপ্পার সাথে ঝামেলা করে নিজের বাড়ি, ঘর, শখ, নিজের পুরো অতিত ফেলে চলে এসেছিলো। আজ এই লোক তাকে খোটা দিচ্ছে, কেনো সে বাপের বাড়ি যাচ্ছেনা? ভিতর ভিতরে কষ্ট হলেও উপরে উপরে তা প্রকাশ করলো না অর্পনা,, শক্ত হয়ে তাকিয়ে রইলো নিরবে। কিছু কিছু সময়ে নিরবতা সম্মতির লক্ষন হয়না। কখনো কখনো ব্যার্থতা,, অসফলতা,, নিরব যন্ত্রণাও আমাদের বোবা বানিয়ে দেয়। আমরা যারা চট করেই মানুষের সামনে কাদতে পারিনা তারা বুকের মাঝে হাজারটা তোলপাড় চললে এর বিপরীতে শুধু নিরব থাকতে জানি। অর্পনাও সেই ধাচের মানুষ,, যতই একা একা কাদুক না কেনো,, খুব বিশ্বস্ত কারোর সামনেও কাদতে পারেনা মেয়েটা,, নিজের দূর্বলতা কারোর কাছে প্রকাশ করা তার দ্বারা সম্ভব না। তাই চুপ রইলো কিন্তু ওর নিরবতা সহ্য হলো না দ্বীপের। যদিও মেয়েটার মুখে মুখে তর্ক করার স্বভাবটা তার বিরক্ত লাগে তবুও এখন তর্ক না করায় কেমন ফাকা ফাকা লাগছে। দ্বীপ হালকা ধমকের স্বরে আবার বললো —

,,,কি হলো, এন্সার দে । কেনো থাকিস ঐ ছেলের বাড়িতে?
,,, অর্পনা মলিন কন্ঠে বললো– এমনি, ছাড়ুন। আমি ফিরতে চাই।
,,, দ্বীপ একটু শব্দ করে হাসলো,, নিজের মাথার হেলমেট টা খুলে পিছনে রেখে অর্পনার গলার ভাজে হাত গলিয়ে মাথাটা উচু করে নিজের মুখোমুখি করে ফিসফিসানো স্বরে বললল — কোথায় ফিরবি? তর ডান বাম,, সোজা-বাকা,, উপর-নিচ,, সামনে- পিছনে সবখানে আমার অস্তিত্ব। যেখানে যাবি সেখানেই দ্বীপ মির্জাকে পাবি৷ ( মুখের উপর থেকে মুখ সরিয়ে অর্পনার কাধে পরে থাকা চুল গুলো সরিয়ে সেখানে লম্বা শ্বাস টেনে) দ্বীপ মির্জা,, তর চারপাশে শুধুই দ্বীপ মির্জা। ( ঘাড় বাকিয়ে অর্পনার দিকে তাকিয়ে) মানুষ ভিলেনের জীবন থেকে পালানোর চেষ্টা করে আর তুই নিজে থেকে এসে হাজিরা দিয়েছিস,, এমনি এমনি ছাড়া পেয়ে যাবি?
,,, দ্বীপের স্পর্শ, না চাইতেও মিয়িয়ে গেলো অর্পনা,, ভিতরকার কোমল অনুভূতি গুলো নাড়া দিলো। সে কিছুটা ব্যাকুল কন্ঠেই বলে ফেললো– ছাড়া পাবোনা কেনো? কেনো ছাড়তে চান না আমায়? এই আটকে রাখতে চাওয়ার কারন কি দ্বীপ? ভালোবাসেন?

,,, দ্বীপের মুখের সেই কাঠিন্যতা হুট করেই নিভে গেলো,, এক হাতে ঘাড় ডলে অন্য দিকে তাকিয়ে ধীরো কন্ঠে বললো– ভালোবাসা? সেটা আর হওয়ার নয়। ভালোবাসা তো একবারি হয়,, আমার পারুর জন্য হয়েছিলো। তবে তোমাকে আমার প্রয়োজন,, তোমার সাথে আট মাস সংসার করেছি,, তোমায় ছাড়তে পারবোনা। ভালো থাকার জন্য হলেও তোমাকে আমার প্রয়োজন। এটুকুই!! শুনো মেয়ে, আমি তোমায় সব দিবো,, সুখ সাচ্ছন্দ্য,, সংসার,, সম্মান,, সব দেবো তবে ভালোবাসাটা সম্ভব না। ওটা পাবেনা,, ওটা একান্ত পারুর,, আশা করোনা।
,,, অর্পনার আপ্লুত হওয়া আবেগ টুকু ধপ করে নিবে গেলো। মন জুড়ে ঘন আধার নামলো,, সে দ্বীপের প্রয়োজন কারন আট মাস সংসার করার পর দ্বীপ অর্পনাকে ছাড়তে পারছেনা। অথচ অর্পনা দ্বীপের প্রয়োজন নয় বরং প্রিয়জন হতে চেয়েছিলো। অর্পনা হুট করেই শব্দ করে হেসে দিলো,,, দ্বীপের বুকে সজোরে ধাক্কা মেরে বললো — তো আপনি কি ভাবেন? আমি আপনাকে ভালোবাসি? নাহ, বাসিনা,, আমিও আপনাকে ভালোবাসিনা,, আর না আপনাকে আমার প্রয়োজন আছে। যেহেতু আমার আপনাকে প্রয়োজন নেই সেহেতু আপনার সাথে থাকার কোনো মানেই হয়না। আমি আমার মর্জি মতো চলবো,, যেমনটা সারা জীবন হয়ে হয়ে এসেছে।

,,, অর্পনা সর্ব শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিয়েও দ্বীপকে এক চুল নড়াতে পারেনি,, এটা অনুভুত হতেই দ্বীপ ঠোট বাকিয়ে হাসলো। অর্পনাকে টেনে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বললো– তোমার মতামত চেয়েছি আমি? তুমি ঘরের বউ, বউয়ের মতো থাকবে, জামাইর কথা শুনবে,, জামাইর আবদার পুরন করবে, দেট্স ইট। আবারও বলছি, তুমি সব পাবে শুধু ভালোবাসা ছাড়া। এটা মানতে শিখো, মানতে না পারলেও সমস্যা নেই। শুধু আমার কথা মতো চললেই হবে।

,,,, দ্বীপের নরম স্বরে বলা তিক্ত কথাগুলো খুব লাগলো অর্পনার। আচ্ছা!! দ্বীপ কি তাকে দয়া করতে চাচ্ছে? হয়তো ভাবছে অর্পনা অবলা,, ছেড়ে দিলে ওর জীবনটা নষ্ট হয়ো যাবে তাই দয়া করে নিজের কাছে রাখতে চাচ্ছে। অর্পনা এবার রাগলো না,, তপ্ত শ্বাস ফেলে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললো —
,,,আপনি কি আমায় অসহায় মেয়ে ভেবে দয়া করতে চাচ্ছেন? প্রয়োজন নেই ওসবের। আমার নিজের মতো চলার ক্ষমতা আছে,, আমি খুব শিগ্রই নিজের রাস্তা বেছে নিবো। আপনার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই,, যেটা হয়েছে সেটা আমার নিজের ইচ্ছাকৃত। আপনাকে সুস্থ করার দায় কেউ আমার উপর চাপিয়ে দেয়নি,, তাই আপনার এতে কোনো দোষ নেই। আর সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট হলো,, আমি যদি আপনাকে ভালোবেসে ফেলতাম, তাহলে একটা কথা ছিলো। আপনার প্রতি আমার সেরকম ফিলিংস নেই। সুতরাং আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়াটাই বেটার।
,,,,দ্বীপ ঠোঁট কামরে হাসলো, অর্পনার ঠোঁটের মধ্যভাগে থাকা তিলকটা স্পর্শ করে বললো– বয়ান টা সুন্দর ছিলো, ফ্যান্টাস্টিক,, আমার মনে ধরেছে। তো, শক্তিশালী নারী!! রাতে এতো ছটফট করেন কেনো? কোনো ফিলিংস না থাকলে কান্নাকাটি করার কারন কি ডিটেকটিভ কন্যা?

,,, রাতের কথা উঠতেই থতমত খেলো অর্পনা। কি জ্বালা, এই লোক জানে কিভাবে, সে যে রাতে কান্না করেছে? মনে মনে থতমত খেলেও উপরে প্রকাশ করলো না বরং তর্জনী আঙুল তুলে শাসিয়ে বললো– দেখুন, অহেতুক কথা বলবেন না। আমি,,
,,,দুই আঙ্গুল দিয়ে অর্পনার দু ঠোট চেপে ধরলো দ্বীপ,, অনেকটা ঝুকে কানের কাছে মুখ নিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো– হুসসস!! এতো কথা শুনতে চাইনা। আমি এখন রাইড করবো তাও খুব স্পিডে। একদম শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে। ওকে?
,,অর্পনা দ্রুত দুদিকে মাথা নাড়ালো মানে ধরবেনা। দ্বীপ অর্পনার ঠোঁট থেকে হাত সরিয়ে অর্পনার হাত টেনে নিজ উদ্দমে পিঠ বরাবর রেখে বললো–বললাম না একটা কথাও না। যা বলবো চুপচাপ শুনবে,, জড়িয়ে ধরো। (অর্পনা হাত সরিয়ে নিলো,,রেগে গেলো দ্বীপ, ধমকে বললো) শক্ত করে ধরতে বললাম না,, এই বেয়াদবের বাচ্চা কথা কানে যায়না? ধরবি নাকি খুন করবো বল। (বলতে বলতে আবারও অর্পনার হাত টেনে পিঠে রাখলো)
,,,, অর্পনা ঝাড়া দিয়ে হাত সরিয়ে নিয়ে বললো— খুন করে ফেললেও আমি আপনাকে ধরবো না। আমি এখন নামবো, পা ছাড়ুন।

,,, কে শুনে কার কথা? দ্বীপ কখনো কারোর কথা কানে তুলেছে নাকি? সে প্রথমে অর্পনাকে ছাড় দিলো,, ছাড়া পেয়ে অর্পনা কিছুটা অবাক হলো, ভাবতে পারেনি ছেড়ে দিবে। হয়তো অর্পনা নিজেই চায়নি দ্বীপ ওকে ছেড়ে দিক। অর্পনার অবাকতার মাঝে আরও অবাক করে দিয়ে দ্বীপ ওর গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো। আকষ্মিক কান্ডে বাইকের পিছন দিকে হেলে পরলো অনেকটা,, গলায় দ্বীপের গভীর স্পর্শ পেয়ে কেপে উঠলো অর্পনা,, না চাইতেও জড়িয়ে ধরলো পাষান মানবের শক্ত পোক্ত পিঠ। দ্বীপ সেভাবে থেকেই ঠোঁট বাকিয়ে শুক্ষ হাসলো পরপর মুখটা কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বললো– আমি দ্বীপ মির্জা,, খুব ভালো করেই জানি কাকে কোন পথে সোজা করতে হয়,, ঘাড় ত্যারা বউ।

,,কথাটা বলে কানের লতিতে অধর ছোয়ালো। দ্বীপের গম্ভীর স্বর, নরম কোমল স্পর্শে দ্বীগুন হাড়ে কেপে উঠলো অর্পনা। সাথে সাথে শক্ত করে ধরলো দ্বীপের পিষ্ট দ্বয়ে থাকা শার্ট। অর্পনার হাতের দৃঢ়তা টের পেয়ে বাইক স্টার্ট দিলো দ্বীপ। বাইক চলছে নিজের মতো তবে দ্বীপ এখনো অর্পনার গলা থেকে সরে যায়নি। অর্পনা সেটা খেয়াল করতেই ভয়ার্ত কন্ঠে বললো– দ,দ্বীপ সরুন,এক্সিডেন্ট হবে।
,,, দ্বীপ ওভাবে থেকেই নরম স্বরে বললো — চলো মরে যাই,, আমার সাথে মরতে পারবেনা?।
,,,অর্পনা কিছু বলতে পারলোনা,, সে পারবে,, সত্যি ই দ্বীপের সাথে মরতে পারবে। এই মরন তার জন্য সৌভাগ্য স্বরুপ হবে। প্রায় অনেকটা সময় পর মুখ তুলে অর্পনার দিকে তাকালো দ্বীপ। পরপরি এক হাতে বাইক হেন্ডেল করে অন্য হাতে অর্পনার মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরলো। বাইকের স্পিডের জন্য অর্পনার ভয় না হলেও এই পাষান, অহংকারী মানবের বুকের ধুকপুকানিতে ভয় হচ্ছে। এই ধুকপুকানি সে টানা আট মাস মন দিয়ে শুনেছিলো,, শুনতে শুনতে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিলো। এর মাঝে ১২ টা দিন শুনতে না পেয়ে তার যা অবস্থা হয়েছিলো,, এখন আবারও পাওয়ার পর না পেলে আরও করুন অবস্থা হবে তার। দ্বীপের বুকের ধুকপুকানি মাপতে মাপতে হুট করেই গতকাল রাতে না হওয়া ঘুমটা চোখে এসে হানা দিলো।সাইকোলজি বলে,, আমরা প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে আসলে ঘুমিয়ে যাই,, অতল ঘুমের রাজ্যে পারি দেই। সেই বাক্যকে সত্যি প্রমান করে অর্পনাও দ্বীপের সান্নিধ্য পেয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। ঘুমের মাঝে মিশে গিয়েছে দ্বীপের প্রসস্থ বুকে,, মুখ গিয়ে ঠেকেছে দ্বীপের খোলা বোতামামের ফাকে থাকা উন্মুক্ত গলায়। দ্বীপ সন্তর্পণে এক হাতে ধরে রেখেছে নিজের ঘাড় ত্যারা বউটাকে। দ্বীপ সত্যি সত্যি ই একদিন বউকে নিয়ে হসপিটালে যাবে। তারপর ঘাড়ের একটা টেস্ট করিয়ে দেখবে বউটার ঘারের রগ গুলো এতো ত্যারা কেনো? সে জেদি মানুষ, তার বউ হবে শান্ত শিষ্ট, জামাই যা বলবে সেই অনুযায়ী উঠবে বসবে,, নাহ, তা না। উল্টো তার বউ তাতে দেমাগ দেখায়,, মুখে মুখে তর্ক করে। ঘাড় ত্যারা নারী একটা।

,,, নিজের উপর শক্ত পোক্ত কিছু অনুভব করে চোখ মেলে তাকালো অর্পনা। বুকে মুখ গুজে থাকা দ্বীপকে দেখে অর্পনা এদিক ওদিক তাকিয়ে রুমটা চেক করতেই দেখলো সে মির্জা বাড়িতে দ্বীপের রুমে শুয়ে আছে। কাল তো বাইকেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলো সে,, তারমানে দ্বীপ ওকে সোজা বাড়িতে নিয়ে এসেছে? কেনো যেনো অর্পনার ঠোটে হালকা হাসি ফুটলো। অনেকক্ষণ একভাবে শুয়ে থাকার ফলে অর্পনার হাত পায়ের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে যার ফলে হাত পা অবস লাগছে। অর্পনা দ্বীপকে আলতো করে ছাড়াতে হালকা নড়াচড়া করতেই দ্বীপ অর্পনার বুক থেকে মাথা তুলে ঘুম ঘুম চোখে একবার তাকিয়ে আবারও মুখ গুজে অস্ফুট স্বরে বললো — এমন করিস না পারু, একটু ঘুমাবো।

,,,,অর্পনার বুকটা মুচর দিয়ে উঠলো। উনি তবে পারুর অভাব পুরন করতে ওকে এখানে এনেছে। ঠোঁটে ফোটা হাসি টুকু হুট করেই মিলিয়ে গেলো,, চোখটা জ্বালা করছে। ওফফ!! কিসের আশা করতে চায় সে? তার মতো মেয়েকে দ্বীপ কেনো ফিরিয়ে আনতে যাবে? তার তো কোনো মুল্যই নেই,, সব মুল্য এই চেহারাটা পাচ্ছে। অর্পনার খুব ইচ্ছা করছে এসিড দিয়ে চেহারাটা পুড়িয়ে দিতে তাহলে আর কেউ তাকে প্রয়োজনে কাছে টানবেনা। ইসস!! সেও যদি মেধার মতো একটা বড়ো এক্সিডেন্টে চেহারাটা হাড়িয়ে ফেলতো নয়তো পারুর মতো বড়ো কোনো রোগ হয়ে মারা যেতো তাহলে খুব খুব খুব ভালো হতো। এই বিষাদের জীবন আর ভালো লাগছেনা। সব দুর্ভোগ কেনো তার কপালেই থাকতে হবে? বাচ্চা বয়সে মা ছেড়ে চলে গেলো, সে নিয়ে স্কুল কলেজে সহপাঠীদের কঠাক্যের শিকার হতে হয়েছে। কত বাজে বাজে কথা বলতো সবাই,, সেসব সহ্য করতে না পেরে সহপাঠীদের মারতে গেলে উল্টো নিজে মার খেয়ে ফিরতো। স্যার ম্যামরাও কথা শুনাতে ছাড়েনি,, মায়া দেখানোর নামে খোচা দিতো অবিরত।

স্কুল, কলেজ পুরোটা সময় একা একা কাটিয়েছে, কোনো বন্ধু বান্ধব ছিলোনা। একজনকে মন প্রান দিয়ে ভালো বাসলো সে সবার সামনে অকথ্য ভাষায় অপমান করলো,, মার ধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলো। সেদিন বাড়ি থেকে বেরুনোর পর পাপ্পাকে কল দেওয়ার জন্য ফোন খুজতে গিয়ে দেখলো ফোন ভিতরে ফেলে এসেছে। একা একা রাস্তায় হাটতে নিতেই চার -পাচটা ছেলের ক্ষপ্পরে পরলো। ক্যারাটে জানলেও মনের দূর্বলতায় সেদিন খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি অর্পনা। সেদিন যদি পাপ্পা ঠিক সময় না আসতো তাহলে হয়তো চার বছর আগেই নর্দমায় তার লা*শ পাওয়া যেতো। এতো বছর পর সব ভুলে একজনকে ভালোবাসলো সে এখন তার মাঝে অন্য নারীকে খোজে। আচ্ছা!! অর্পনা এতো সস্তা কেনো? সবাই এতো অবহেলা করে কেনো তাকে? এই পৃথিবীতে পাপ্পা ছাড়া আর এমন একজন ও কি নেই? যে ব্যাক্তি অর্পনাটাকে ভালোবাসবে? সেখানে থাকবেনা কোনো প্রয়োজন, সার্থ কিংবা মোহ? নাহ!! তা বোধয় হওয়ার নয়। অর্পনা আবারও দ্বীপকে সরাতে চাইলে দ্বীপ আবারও মাথা ঝাকিয়ে না করলো। অর্পনা এবার পারুর মতো নরম স্বরে বললো — বেবি একটু সরো,, আমি ওয়াসরুমে যাবো।

,,,দ্বীপ সরে গেলো,, অর্পনার ঠোটে তাচ্ছিল্যের হাসি। ঘড়িতে সবয় দেখলো ৫ টা ৪২ বাজে। কিছুক্ষণ আগেই ফজরের আজান পরেছে,, সবাই নিশ্চই এখন নামাজ পরবে? অর্পনা দ্রুত উঠে স্টাডি টেবিলে কাছে গিয়ে খাতায় কিছু একটা লিখলো তারপর দরজা খুলে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। এই দয়ার জীবন চাইনা তার, বাচার হলে একা বাচবে,, বাচতে না পারলে মরে যাবে তবুও কারোর প্রয়োজন হয়ে বাচবেনা।
,,, অর্পনা বেড়িয়ে যেতেই দ্বীপ চোখ মেলে তাকালো, বালিশের তলা থেকে ফোনটা বের করে মেইন গার্ডের ফোনে মেসেজ পাঠালো — যেতে দাও।
,,, পরপরি বিহানের ফোনে টেক্সট পাঠালো — নামাজের পর ভিসিকে কল দিয়ে ইনভাইটেশন গ্রহণ করবি। এবার বোধয় সবাইকে জানানো উচিৎ, দ্বীপ মির্জা ফিরে এসেছে,,, শত্রুর মুখে ভয় না দেখে খতম করায় মজা নেই। সেই সাথে একজন সাবেক ভিপি হিসেবে ভার্সিটির বাচ্চা কাচ্চাদের পড়ালেখার খোজ খবর নেওয়া উচিৎ,,, কম করে হলেও পরিসংখ্যান বিভাগের ডিটেকটিভ কন্যাকে দু তিনটে রেগ দেওয়া উচিৎ।

,,, আদ্রিয়ানের ফ্লাটের সামনে আসতেই লিফ্ট হাউজের সামনে আদ্রিয়ানের দেখা মিললো,, সে কোনো কারনে তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে নিচ্ছিলো। আদ্রিয়ানকে দেখে অর্পনার মাথায় রাগ তিরবিরিয়ে উঠলো,, অর্পনাকে দেখে আদ্রিয়ান দৌড়ে এসে বাহুতে হাত রাখতে নিলে অর্পনা দূরে সরে গেলো,, ওকে সরে যেতে দেখে আদ্রিয়ান হাত গুটিয়ে নিয়ে বিচলিত কন্ঠে প্রশ্ন করলো — কই ছিলে জানেম? তোমায় রুমে এসে দেখতে না পেয়ে আমার জান বেড়িয়ে যাচ্ছিলো, ঠিক আছো তুমি? কই ছিলে সারা রাত?
,,, অর্পনার রাগে শরীর ফাটছে,, তবুও শান্ত কন্ঠে বললো– গোরস্থানে ছিলাম,, নিজের কবর খুরে এসেছি।
,,, আদ্রিয়ান অসহায় দৃষ্টিতে অর্পনার দিকে তাকালো,, কন্ঠে কাতরতা ঢেলে বললো — সরি জানেম,, মাঝ রাস্তায় একটা এক্সিডেন্ট হয়ে যায়, তাকে তারাহুরো করে হসপিটালে নিতে গিয়ে বসুন্ধরা পৌছানো হয়নি। কিন্তু তুমি যখন দেখলে আমি যাইনি তখন ফিরে এলে না কেনো?
,,, অর্পনা আদ্রিয়ানের দিকে অবাক নজরে তাকালো,, কয়েকবার পলক ঝাপটে প্রশ্ন করলো — আপনি বসুন্ধরা গেইট যাননি? এর আগেই এক্সিডেন্ট হয়ে গিয়েছিলো?

,, নাহ!! আমি মালিবাগ পেরুতেই একজন ছেলে হুট করেই বাইকের সামনে এসে পরে, আমি কোনো রকম কাটাতে পারলেও পরবর্তীতে একটা গাড়ি এসে ওর গায়ে ধাক্কা মেরে দেয়। সেই ছেলেকে হসপিটালে নিয়ে একটু আগে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে ফ্লাটে ফিরলাম। ফিরে দেখি তুমি নেই, তাই তারাহুরো করে খুজতে যাচ্ছিলাম।
,,,অর্পনা ভাবনায় পরে গেলো। আদ্রিয়ান যদি বসুন্ধরা গেইট না গিয়ে থাকে,, তাহলে শুরু থেকেই দ্বীপ তার সাথে ছিলো? এমনকি রাইড শুরুতে হেন্ড সেক এন্ড পান্চ আদ্রিয়ান নয় বরং দ্বীপের সাথে হয়েছিলো। এই জন্যই শুরুতে একটা কথাও বলেনি দ্বীপ, কত চতুর এই লোক। তাহলে কি দ্বীপ ই কোনো ভাবে তার বাইকের টায়ার পাঙ্চার করিয়েছে? বেয়াদব লোক একটা। অর্পনার ভাবনার মাঝেই আদ্রিয়ান ফ্লাটের দরজা খুললো। অর্পনা ভিতরে ঢুকে সোফায় বসলো,, আদ্রিয়ান দুকাপ কফি বানিয়ে বসলো অর্পনার পাশে। অর্পনা কফির কাপ নিয়ে তাতে চুমুক দিয়ে বললো —

,,, একটা ফেবার করবেন? বিনিময় হিসেবে সুযোগ পেলে আমিও আপনার উপকার করে দিবো।
,,, আদ্রিয়ান কফির কাপে চুমুক দিয়ে বললো— লাগবেনা,, বলো কি করতে পারি?
,,, টিসি নিতে অভিভাবকের প্রয়োজন এবং অনুমতি প্রয়োজন। পাপ্পা তো আসবেনা আর পাপ্পা ছাড়া আমার দুনিয়ায় আপন বলতে তো কেউ ই নেই। তথাকথিত সম্পর্কে আপনি আমার মামাতো ভাই। আমার সাথে একটু যাবেন? সাইন লাগতে পারে তাই, আবার আপনি থাকলে ভিসি তেমন কোনো প্রশ্ন করবেনা।
,,, আদ্রিয়ান নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,, তার জানেম তার কাছে কিছু একটা চেয়েছে আর সে তা দিবেনা তা কখনোই হয়না। সে যতদিন বাচবে ততোগুলো দিন অর্পনার জন্য করে যাবে তাও সবটা নিঃস্বার্থ ভাবে,, যার বিনিময়ে সে কিছুই চাইবে না।

,,, ভার্সিটিতে পা রাখতেই অবাক হয়ে গেলো অর্পনা। আজ তাদের রেসাল্ট দেওয়ার কথা, যা সর্বদাই নোটিশ বোর্ডে দেওয়া হয়। কিন্তু ভার্সিটির সাজগোছ দেখে মনে হচ্ছে আজ বিরাট কোনো অনুষ্ঠান হতে চলেছে। অর্পনা ধীরে ধীরে ভার্সিটির ভিতরে পৌছালো,, অরুন রাত্রিদের আশপাশে দেখতে না পেয়ে পল্লবের ফোনে কল দিলো। ওপাশ থেকে কল ধরতেই অর্পনা তাদেরকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানালো। ওদের আসতে আরও মিনিট কয়েক সময় লাগবে বলে জানিয়েছে তাই সে করিডরের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়ালো। অর্পনার জন্য জনসমাগমে একা থাকা আহামরি কোনো ব্যাপার না,, সারা জীবন একা একা চলেছে বলে কথা। সে ফোন বের করে ফেসবুক স্ক্রলে ব্যাস্ত হয়ে পরলো। হঠাৎই তার সামনে বাতাসের বেগে পিয়ন এসে দাড়ালো। এতোটাই দ্রুত এসে দাড়িয়েছে যে অর্পনা কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছে,, তাই হালকা রাগত স্বরে জিজ্ঞেস করলো —

,,,,কি হয়েছে জাকির ভাই? মেরে ফেলার প্লান ট্লান করছেন নাকি?
,,, না আপু!! মেরে ফেললে চলবেনা,, আপনাকে এখন ভিসি স্যারের রুমে যেতে হবে। সম্ভাবত আজকেও আপনার কাধে কোনো মহা দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন। যেটা সামলাতে গিয়ে আপনি অক্কা ও পেতে পারেন।
,,, অর্পনার এমনি মন মেজাজ খারাপ ছিলো তার উপর ভিসির কথা শুনে রাগে ফেটে পরলো। এই ভিসিটা বরাবরই তাকে উল্টা পাল্টা কাজে জড়িত করে দেয়,, যা করতে গিয়ে তার জীবনে সকল বিপত্তি বাধে।সেবার যদি লাইব্রারির বই এক্সচেঞ্জ এর লিস্ট করতে না যেতো তাহলে কখনোই এই দ্বীপ মির্জার সাথে পরিচিত হতো না। আর না ওই লোক কে ভালোবাসতো। এই ভালোবাসার জন্যই অর্পনা আজ নিজের অস্তিত্ব হাড়িয়ে ফেলছে,, অন্যের অবহেলা সহ্য করতে হচ্ছে। তার জীবনে যত দুর্ভোগ তার সব দোষ ভিসির নামে করে দিয়ে রাগত স্বরে বললো — আচ্ছা, জাকির ভাই!! আমাকে কি উনি উনার চাকর কিংবা ছেলের বউ মনে করেন? সব কিছুতে আমাকে টানতে হবে কেনো?
,,, আমি কিভাবে বলবো বলুন? ভিসি স্যার তো আর আমার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেনা তাইনা? চলুন তারাতারি নয়তো আবার স্যার আমার উপর রেগে যাবেন।

,,, অর্পনা জাকিরের সাথে হাটা দিলো,, এই মুহুর্তে চাইলেও সে ঘারত্যারামি করতে পারবেনা। কারন,, এখন না গেলে সাথে সাথে ভিসির বাচ্চা পাপ্পাকে কল দিবে। এমনি পাপ্পা রেগে আছে,, যদি কোনোভাবে জানতে পার উনার বন্ধুর সাথে অর্পনা বেয়াদবি করেছে তাহলে আরও রেগে যাবেন। করিড দিয়ে হাটতে হাটতে অর্পনা জাকিরের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলো—
,,, ভার্সিটিতে আজ কিছু আছে নাকি? আমার জানা মতে আজ রেসাল্ট দেওয়াস কথা। সাজগোছ দেখে মনে হচ্ছে বিশেষ কেউ আসবে,, কোনো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আছে নাকি?
,,, জাকির মাথা ঝাকিয়ে শায় জানিয়ে বললো–
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘদিন পর তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় তাকে সংবর্ধনা জানানো হবে। উল্লেখ্য, তিনি বর্তমান অর্থমন্ত্রী শাহিন মির্জার ভাতিজা এবং সাবেক এমপি মাহিন মির্জা তাঁর ছোট চাচা। আজ উনারা সহ আরও কিছু নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সাথে ছাত্র নেতা, চেলা পেলা তো আছেই।

,,, জাকিরের কথায় ভাষা হাড়িয়ে ফেললো অর্পনা,, তারমানে আজ এখানে দ্বীপ আসবে? উনার জন্যই এতো আয়োজন? কই কাল তো কিছু বলেননি? নিজের ভাবনায় নিজেই অবাক হলো অর্পনা। দ্বীপ তাকে কেনো কিছু বলতে যাবে? আজব!! আর তাদের মাঝে কথাই বা হলো কতটুকু? যতটা কথা হয়েছে শুধুই কথা-কাটাকাটি হয়েছে। জাকিরের উদ্দেশ্যে আর কিছুই বললো না অর্পনা। ওকে কিছু জিজ্ঞেস করতে না দেখে জাকির ও আর কিছু বললোনা। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ভিসির রুমের সামনে এসে পৌছালো। জাকির দরজায় হালকা নক করে অনুমতি চাইতেই ভিসি স্যার চোখ তুলে তাকালেন। ভিসির রুমে আরও অনেক স্টুডেন্ট দাড়িয়ে আছে। সবাইকে কিছু একটা সমানে বুঝিয়ে যাচ্ছেন ডি, এইচ স্যার । অর্পনাকে আসতে দেখে ভিসি স্যার মুচকি হেসে বললেন–
,,, আসো আম্মু,, তোমার খোজে আদ্রিয়ানকে দু চারবার কল দেওয়া শেষ। জাকিরকে তো গেইটের সামনে দাড় করিয়ে রেখেছিলাম যেনো তোমাকে দেখতে পেলেই এখানে নিয়ে আসে। আরেকটু দেরি হলে আমি সোজা আরশাদকে কল করতাম।

,,, মনে মনে ভিসির গুষ্টির তুষ্টি ঘোষণা করলো অর্পনা,, আবার বড়ো মুখ করে বলছে আরেকটু লেইট করলে আরশাদকে কল করতাম। মন চাচ্ছে এক ঘুষিতে ভোটকা পেট টা ফাটিয়ে দিতে। মনে মনে রাগ ঝাড়লেও,, ভিতরে ঢুকে ভদ্র মেয়ের মতো স্যারের সামনে দাড়িয়ে মুচকি হেসে বললো — জ্বী স্যার, বলুন।
,,, ভিসি সাহেদ সামির অর্পনাকে বসার জন্য ইশারা করলো। এমনিতে এই চেয়ার গুলোতে প্রোফেসর রা ব্যাতিত অন্য কেউ বসতে পারেনা। তবে অর্পনাকে তিনি সর্বদাই এখানে বসার জন্য ইশারা করেন,, অর্পনা নিষেধ জানালেও শুনতে চাননা। তাই এখন আর নিষেধ করলো না,, চুপচাপ বসে পরলো। অর্পনাকে বসতে দেখে আট-দশটা এ ফোর সাইজের কাগজ এগিয়ে দিলো তার দিকে। অর্পনা সেগুলো হাতে নিয়ে ঘেটে ঘুটে দেখে স্যারের দিকে তাকাতেই সাহেদ সামির নরম স্বরে বললেন– বুঝলে আম্মু!! আমরা অনেকদিন যাবত ই দ্বীপ মির্জা ওরছে সাবেক ভিপিকে সুস্থতার জন্য সংবর্ধনা জানাতে চাচ্ছিলাম। সে এতোদিন ইনভাইটেশন গ্রহণ না করলেও ভোর রাতে জানালেন আজ দুপুর ১২ – ২ টার মাঝামাঝি সময় এখানে উপস্থিত থাকবেন। সেই ভোর থেকেই তোরজোর শুরু হয়েছে,, এখন বাজে বেলা দশটা। সবদিক সামালে নেওয়া হলেও উপস্থাপনার দায়িত্বটা কাউকে ভরসা করে দিতে পারছিনা। আসলে, উপস্থাপনা করতে অনেক কনফিডেন্সের রয়োজন ,, যেটা আপাতত তুমি ছাড়া অন্য কারোর মাঝে দেখতে পাচ্ছিনা আমি। সুতরাং,, আজকের উপস্থাপনাটা করে আমাকে বাচিয়ে দাও, আম্মু। বিষয়টা নিয়ে খুব চাপে আছি।
,,,অর্পনা যেনো বোকা বনে গেলো,, এমনিতে সে সবার সামনে কনফিডেন্ট থাকলেও দ্বীপের কাছে দূর্বল। তার সামনে হোস্টিং করা বেশ চাপের,, তবুও না করলো না অর্পনা বরং ঠোঁট বাকিয়ে হেসে ভিসির উদ্দেশ্যে বললো — করে দিবো আঙ্কেল বাট আমার বিনিময় চাই।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৩

,,, হাসলেন সাহেদ সামির, ড্রয়ার থেকে একটা চকলেটের প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বললো — হবে?
,,, অর্পনা সেট ফিরিয়ে দিয়ে বললো — নো!! বড়ো কিছু।
,,,এবার সাহেদ সামির হালকা ঝুকে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন — সম্পত্তির দলিল লাগবে মামনি?
,,, অর্পনা শব্দ করে হেসে বললো — না না আঙ্কেল, অতটাও লাগবেনা। তবে অনুষ্ঠান শেষে চাইবো, কোনো ঝামেলা ছাড়া দিতে হবে কিন্তু,, কথা দিন।
,, সাহেদ সামির শব্দ করে হেসে হাত মুষ্টি বদ্ধ করে অর্পনার সামনে এনে পাঞ্চ করার ইশারা করতেই অর্পনাও হাত মুষ্টি বদ্ধ করে করে পাঞ্চ মারলো। অর্পনার মাঝে মাঝে জীবনটা সুন্দর ই মনে হয় তবে,,!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৪