৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৪
রুপান্জলি
আসসালামু আলাইকুম!! সুপ্রিয় সহপাঠী এবং সিনিয়র,জুনিয়র ভাই বোনদের সবিনয়ের সাথে জানানো হচ্ছে যে, আর কিছুক্ষণ সময় পেরুলেই আমাদের ভার্সিটি প্রাঙ্গণে পা রাখবেন বিশিষ্ট অর্থ মন্ত্রী মোহাম্মদ শাহিন মির্জা সাহেব, সাবেক এমপি মোহাম্মদ মাহিন মির্জা সাহেব,, আপনাদের সুপ্রিয় সাবেক ভিপি দ্বীপ জোহান মির্জা,, এবং বিশিষ্ট শিল্প পতি বিহান আব্র মির্জা। আপনারা যারা তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন,, তারা গেইটের নিকট এগিয়ে যান। আর ক্ষানিক বাধেই উনারা পদার্পন করতে চলেছেন ঢাবির গেইট প্রাঙ্গনে। উনাদের আমন্ত্রিত স্লোগান দেওয়ার পূর্বে আরও একবার স্বরন করতে চাই আমাদের দেশ ও দেশের মাটিকে।
,,,কথাটা বলেই অর্পনা মাইকে “” ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা”” গানটি প্লে করে দিলো। তার হৃদপিণ্ডটা খুব কাপছে,,এখন টানা দু – তিন ঘন্টা তাকে দ্বীপের সামনে উপস্থাপনা করতে হবে,, সাথে দুই চাচা শ্বশুর তো আছেন ই। এইযে এতোক্ষণ আরও নেতাদের নাম এনাউন্স করলো,, তারা প্রবেশ করলো,, তারা স্টেজে আসতেই ফুলের বুকে এগিয়ে দিলো, কই তখন তো একটু ও নার্বাস ফিল হয়নি? তাহলে এখন কেনো হৃদপিণ্ডটা এমন ধুকপুক করছে? এই দ্বীপ মির্জার কাছে সে এতোটা দূর্বল কেনো? কেনো জেদ করেও করতে পারছেনা? বার বার ভুলে যাবো ভেবেও ভুলে যাওয়া হচ্ছেনা? এর কোনো উত্তর নেই তার কাছে। অর্পনার গভীর ভাবনার মাঝেই একজন সিনিয়র এসে ধীরো কন্ঠে বললো– অর্পন!! মির্জাদের পাশাপাশি মন্ডলদের গাড়িও গেইটে ঢুকবে মনে হচ্ছে,, যদিও দুই দল উল্টো পথ থেকে এসেছে কিন্তু সময়টা একসাথে। দু পক্ষ সামনাসামনি হওয়ায় ভার্সিটিতে কোনো ঝামেলা হবে নাতো?
,,, অর্পনা প্রথমে চিন্তিত হলো পরক্ষণেই মনে হলো দ্বীপের সাথে বিহান আছে,, ঐ লোক মাথা গরম করলেও বিহান ভাই ঠিক সামলে নিবে। অর্পনা ছেলেটির চিন্তিত ভঙ্গিতে বলা কথা গুলোর বিপরীতে রিলেক্স থাকতে বলে মাইকে আবারও এনাউন্স করলো।
,,, সম্মানিত সাবেক এমপি, মন্ত্রী এবং ভিপি সাহেবের সাথে সাথে আমাদের ভার্সিটি প্রাঙ্গনে উপস্থিত হচ্ছেন, রমনার বর্তমান এমপি সমিরন মন্ডল এবং তার সুযোগ্য পুত্র অজয় মন্ডল। তাদেরকে জানাই ঢাকা ইউনিভার্সিটির তরফ থেকে নমস্কার এবং অভিনব শ্রদ্ধা। উভয়ে যেহেতু একসঙ্গে প্রবেশ করছেন সেহেতু,, আমার সিনিয়র ভাইদের কাছে একি সাথে সকলের নাম নিয়ে স্লোগান পেস করার আবেদন করা হচ্ছে। আশা করবো ভার্সিটি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে উভয় পক্ষ শান্ত মেজাজে আজকের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন,, আমরা সমযোতা চাই,, কোনো বিবাদ নয়।
,,,, অর্পনার সতর্ক বানী টুকু গেইটের কাছাকাছি আসতেই বিহান, মাহিদ মির্জা, শাহিন মির্জার কানে পৌছালো,, বিপক্ষ দলীয় লোকদের আগমনে শাহিন মির্জা, মাহিন মির্জা গম্ভীর থাকলেও বিহান ঠোঁট টিপে হেসে দ্বীপের দিকে তাকালো। দ্বীপ ফোনে কিছু একটা মন দিয়ে দেখছে। বিহান জ্বীব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে দ্বীপের দিকে হালকা ঝুকে বললো —
,,, ভাই!! তর বউ তকে সাবধান করে দিচ্ছে। আজ কিন্তু কোনো রকম ঝামেলায় জড়াতে পারবি না।
,,,দ্বীপ কান থেকে ইয়্যার পড সরিয়ে বললো — কিছু বললি? কথাটা ক্যাচ করতে পারিনি। আবার বল।
,,,, বিহান হতাশ হলো, দুদিন ধরে ছেলেটা ফোনে কি যেনো মনোযোগ দিয়ে দেখতেই থাকে কিন্তু কি দেখে কে জানে? দেখতে দেখতে মাঝে মধ্যেই ঠোট বাকিয়ে হাসে আবার কখনো রাগে চোয়াল শক্ত করে নেয়। বিহান কৌতুহল বসত মোবাইলের দিকে উকি দিতেই সেটা সরিয়ে নিলো দ্বীপ, হালকা রাগি কন্ঠে বললো– হোয়াটস প্রবলেম? গা ঘেঁষে বসছিস কেনো?বউয়ের দরকার পরলে মির্জা বাড়িতে যাহ !!
,, বিহান মুখ বাকিয়ে বললো– তোকে বলছি আমার বউ লাগবে? আমার দিকে ফোকাস না করে তর বউয়ের দিকে ফোকাস কর। সে এই মাত্র তকে সতর্ক করলো যেনো কোনো ঝামেলায় না জড়াস।
,,, দ্বীপ ভ্রু কুচকে বললো — আমার বউ এখানে কি করছে?
,,, বিহান কাধ উচিয়ে না জানার ভঙ্গিতে করে বললো– উপস্থাপনা করবে বোধহয়,,, শিউর জানিনা।
,,, কথাটা কর্নকূহর হতেই রাগে ফেটে পরলো দদ্বীপ,, দাতে দাত চেপে বললো— ওফ্ফ!! বে*য়াদবের বাচ্চার মনে হয় মরার সখ জেগেছে,, সামনে পাই খালি একবার। মেরে মুখের নকশা বদলে দিবো।
,,, বিহান তাচ্ছিল্য হেসে বললো– যেই মুখের জন্য এতোটা সুস্থ জীবনে ফিরতে পেরেছিস,, সেই মুখ ভেঙে দিবি? আমিও বা কাকে কি বলি? তর মতো অকৃতজ্ঞের দ্বারা সব পসিবল।
,,, বিহানের খোচা মারা কথায় ধমকে উঠলো দ্বীপ। — অনার্থক কথা বলবি না,, অতিরিক্ত কথা আমার অপছন্দ।
,,, বিহান ও সমান তালে রাগ ঝড়া কন্ঠে বললো– এখন তো লাগবেই না। অথচ মেয়েটা তকে আগলে রাখবে বলে, আদ্রিয়ানের এক আকাশ সমান ভালোবাসা পায়ে পিষে দিয়েছে। তর চোখে ভালোবাসা খুজবে বলে আদ্রিয়ানের চোখে এক সাগর ভালোবাসা থাকা সত্তেও তাকিয়ে দেখেনি। তকে পাগল অবস্থা থেকে ঠিক করবে বলে আদ্রিয়ানকে পাগল প্রায় বানিয়ে দিয়েছে। কথা ছিলো অর্পনা আদির বউ হবে,, ওর বাবাও মেনে নিয়েছিলো,,কিন্তু মেয়েটা স্ব-ইচ্ছায় তকে বিয়ে করে বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। অথচ মেয়েটার বাবা ছাড়া এই পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই। বলছি না, ওর উপর মায়া দেখিয়ে কাছে টানতে,, ভালোবেসে কাছে টান। মেয়েটা ভালোবাসা লোভি, বিশ্বাস কর,, এমনিতে অর্পনাকে যতটা শক্ত দেখায় ভিতর থেকে তার চেয়েও হাজার গুন বেশি দূর্বল। একটু ভালোবেসে জড়িয়ে ধরলেই দেখবি কেদে দিবে,, বিশ্বাস না হলে একবার ট্রাই করে দেখিস।
,,,, দ্বীপ বিহানের দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো — আমার বউকে আমার থেকেও ভালো চিনিস মনে হচ্ছে?
,,, বিহান আবারও তাচ্ছিল্য হেসে বললো — তুই তর বউকে চিনিস?
,,, দ্বীপ মুখটা গম্ভীর করে একবার ফোনটা তুলে স্ক্রিনে হাত ভুলিয়ে বললো– আল্লাহ এর পর, ওর পাপ্পার থেকেও বেশি। ও নিজেও বোধহয় নিজেকে অতোটা চিনে না যতটা আমি ওকে চিনি।
,,, বিহান উৎসুক কন্ঠে জানতে চাইলো– এর পরেও বলবি তুই ওকে ভালোবাসিস না?
,,, দ্বীপ তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো — চিনতে হলে মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হয়, ভালোবাসার প্রয়োজন পরেনা।
,,, তার মানে তুই বলতে চাচ্ছিস, ওকে তুই কখনোই ভালোবাসবিনা?
,,, সম্ভব না।
,,, বিহান ঠোট কুচকালো,, মুখে নিদারুন তিক্ততা নামিয়ে বললো — তাহলে আজীবন বাসর না করেই থাক। এরকম ভালোবাসা ছাড়া অর্পনার তর কাছে ফিরবে ও না,, তর বাসর করাও হবেনা। শেষ মুহুর্তে চিরকুমার হয়ে মরতে হবে।
,,, বিহানের কথায় ঠোট বাকিয়ে হাসলো দ্বীপ। তার যখন মন চাইবে তখনি বউকে কাছে আনতে পারবে। বাসর করা কি এমন ব্যাপার? তবে এইরকম কিছু সে বিহানের সামনে প্রকাশ করলো না বরং উল্টো বিহানকে প্রশ্ন করলো — আমার তো আট মাস, তুই বিয়ে করেছিস সারে চার বছর। তর বাসর হয়েছে তো?
,,, দ্বীপের প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলো বিহান। অন্যাকে পচাতে গিয়ে নিজে পচানি খাওয়া যাকে বলে আরকি। সে নিজেই তো এখনো বাসর টাসর করতে পারলো না,, আবার অন্যকে খোচাতে আসে। বউটা তো কাছেই আসতে চায়না,, পরোক্ষনেই ভাবলো তার জীবনটা আর পাচটা সাধারণ মানুষের মতো নয়। আর না হওয়া সম্ভব। মেধা হয়তো এখন নিজের উপর অনেকটা কনফিডেন্ট হতে পেরেছে তবে তার কাছ পর্যন্ত পৌছাতে পারেনি। তাদের সাধাসিধে একটা সংসার বোধয় কখনোই হওয়ার নয়। বিহানকে অন্য মনোষ্ক হতে দেখে দ্বীপ আর কিছুই বললো না। হয়তো বুঝতে পেরেছে এই বিষয়ে বিহানকে কিছু বলা উচিৎ হয়নি।
,,,ওদের নিরবতার মাঝেই গেইট বরাবর গাড়ি এসে থামলো,, দুজন গার্ড গাড়ি থেকে নেমে পিছনের ডোর খুলে দিতেই দ্বীপ আর বিহান নেমে এলো। ওরা দুই ভাই এগিয়ে গিয়ে বাবা চাচার জন্য গাড়ির ডোর খুলে দিতেই শাহিন মির্জা, মাহিন মির্জা নেমে এলেন। দু প্রজন্মের চার শক্ত পোক্ত পুরুষ তাদের মধ্যকার গাম্ভীর্যতা বজায় রেখে সামনের দিকে হেটে গেলেন। গেইট বরাবর আসতেই সমীরণ মন্ডল এবং অজয় মন্ডল ও তাদের চ্যালাপেলাদের সম্মুখীন হলো। দ্বীপ সোজা নজর তাক করে বাপ ছেলেকে একবার করে দেখে নিলো,, পরপরি ঠোঁট কামরে হেসে লম্বা চুলগুলো বেক ব্রাশ করলো। ইসস!! প্রিয়জন হাতড়ানোর শোক কতই না ভয়াঙ্কর। যার হাড়ায় সেই জানে। তার উপর যদি সেই প্রিয় মানুষের লাশ টুকু চোখে না দেখা যায়,, মাটিতে শায়িত করা না যায়,,শেষ বারের মতো ছুয়ে দেওয়া না যায় তখন খুব পুড়ে। এতোটাই পুড়ে সেই পোড়ার ঘ্রান আমাদের শান্তিতে বাচতে দেয়না,, প্রান খুলে নিশ্বাস নিতে দেয়না। দ্বীপকে হাসতে দেখে অজয় মন্ডল তিক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকালো। হয়তো বুঝতে চাচ্ছে,, দ্বীপের মনে ঠিক কি চলছে যার জন্য তাদের দেখেই এরকম অস্বাভাবিক আচরন করছে। পরক্ষণেই ভাবলো,, দ্বীপ তো পাগল ছিলো এতোদিন,, এখনো বোধহয় পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। ভাবতেই অজয় একটু শব্দ করেই হাসলো। ওরা দু দল যখন মুখোমুখি অবস্থায় দাড়িয়ে তখনি মাইকিং সিস্টেমে শুনা গেলো অর্পনার সুমিষ্ট স্বরে বলা সতর্ক বানি। —
—- ইতিমধ্যে আমাদের মাঝে সকলেই উপস্থিত আছেন,,, আমরা আপনাদের সাদরে গ্রহন করছি। বিনয়ের সাথে অনুরোধ করা হচ্ছে,, আপনারা মাথায় রাখবেন এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিজেদের মধ্যকার কিংবা রাজনৈতিক কোনো দন্দ এখানে প্রকাশ করবেন না। আমরা শান্তির আয়োজন করেছি,, শান্তি বজায় রাখবেন। আপনারা সমন্বয়ে এগিয়ে আসুন। আমার সিনিয়র এবং জুনিয়র আপুদের আকর্ষণ করছি,, আপনারা যে যার পজিশন খেয়াল রেখে দাড়াবেন এবং মহামান্য গনরা যখন ভার্সিটিতে পদার্পণ করবেন তখন আপনাদের হাতে থাকা পুষ্প তাদের উপর অর্পন করবেন।,, আসসালামু আলাইকুম!!
,,, অর্পনার সতর্ক বানী শেষ হতেই সে মাউথ স্পিকারটা কানে লাগিয়ে দূরে সরে গেলো। কয়েকজন সিনিয়র ছেলেরা এসে সমস্বরে প্রত্যেকের নাম নিয়ে শুভেচ্ছা আর সাগতম স্লোগান দিচ্ছে। এমতাবস্থায় দ্বীপ রা এগিয়ে এলো গেইটের পথ ধরে। দ্বীপের চোয়াল শক্ত ,, এই ঘারত্যারা বউটাকে একবার কাছে পেয়ে নিক, সবার আগে মুখটা চেপে ধরবে। কতো বড়ো সাহস তার মিষ্টি স্বরধ্বনি সে বাহিরের পুরুষদের শুনাচ্ছে। মন চাচ্ছে জিহ্বার উপর গরম কয়লা রেখে জবানটা সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দিতে,, বেয়াদব নারী একটা। আজকে যদি কোনোভাবে ঐ মেয়েকে সাজগুজ করা অবস্থায় পায় তাহলে ভার্সিটিতে আজ আগুন জ্বলবে। তখন এই শান্তি বাক্য কই থেকে কই যায় সেটা সে দ্বীপ এই মেয়েকে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়াবে।
,,,, অর্পনা স্টেজের মধ্যবর্তি স্থান থেকে দ্বীপদের দিকে নজর তাক করলো,, সব ছাড়িয়ে দ্বীপের দিকে নজর পরতেই থমকে গেলো অর্পনা। একত্রিশ বছর বয়সি প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের শরীর খানা সাদা পাঞ্জাবী আর সাদা পায়জামায় আবৃত। সাদা ফর্সা হওয়ায় তাকে সাদা পাঞ্জাবীতে অসম্ভব মানিয়েছে,, এক হাতে সিলভার কালারের ওয়াচটা রৌদ্রের তাপে জ্বল জ্বল করছে। অন্য হাতে ফোন,,তিনি হাটতে হাটতে কি যেনো করছেন মোবাইলে। মোবাইল স্ক্রল করতে করতে হঠাৎই স্টেজের দিকে তাকালো দ্বীপ,,,সাথে সাথে চোখাচোখি হলো দুজনার। অর্পনার হৃদয়টা ধুকপুক করে উঠলো। ইসস!! উনি এভাবে সোজা এদিকে তাকাবে অর্পনা ভাবতেও পারেনি। লোকটা তাকিয়েছে তো তাকিয়েই আছে,, অর্পনার এবার হাসফাস লাগছে,, সে মাথায় থাকা লাল উড়নার ঘোমটা টা আরেকটু টেনে টুনে নিজেকে ঠিক ঠাক করতে করতে এদিক ওদিক নজর সরালো। তখনি হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ আসলো,, অর্পনা ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করতেই দেখলো সেখানে অসুন্দর করে লেখা “” বাসর করতে ইচ্ছা করছে বউ”” মেসেজটি পড়ে একটা শক্ত পোক্ত ঢোক গিললো অর্পনা। এসব আবার কেমন এস এম এস? ছিহ!! এই লোক তো মানুষ হিসেবে এমনি ই ভালো না,, এখন মনে হচ্ছে লোকটা চরম অসভ্য এবং ঠোঁট কাটা সাথে চরি*ত্রহীন ও বলা যায়। নয়তো কাউকে ভালো না বেসে এসব কথা বলতে পারা যায়? নাহ!! একদমিনা। সাথে সাথে আরেকটা এস এম এস আসলো,, “” এটুকু লজ্জা বাসরের সময় ও চাই “” পরপর আরেকটা “” সোনা বউ আমার!! আমি স্টেজে উঠার আগেই স্টেজ থেকে চলে যাও। নয়তো তোমার জিহ্বায় আমি গরম কয়লা লেপন করবো। আমার নারী হয়ে অন্য পুরুষদের শান্তি বাক্য শুনাবে,, তাতো মানা যায়না। আমার নারী আমার,, ভালোবাসলেও আমার, না বাসলেও আমার। এটাতে ভাগ দেওয়া দ্বীপ মির্জা একদম পছন্দ করেনা!! “”
অর্পনা শুনতো,, দ্বীপের প্রতিটা কথা সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতো যদি না শেষের এই ভালোবাসা আর না বাসার কথাটুকু বলতো। ভালো যেহেতু বাসেনা সেহেতু অর্পনার উপর তার কোনো অধিকার নেই,, অর্পনা সেসব মানবেনা। তাই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো,, সে এখান থেকে কোথাও যাবেনা তো যাবেইনা বরং আরও মিষ্টি স্বরে উপস্থাপনা করবে যেনো এই লোক বুঝে,, অর্পনার উপর জোর খাটানো যায়না। সে অর্পনা, পারু নয়,, এটুকু বুঝতে হবে উনাকে। অগত্যা ঠাই দাড়িয়ে রইলো। ইতিমধ্যে দ্বীপরা চলে এসেছে। প্রথমে স্টেজে উঠলেন শাহিন মির্জা এবং মাহিন মির্জা। অর্পনা সালাম এবং শুভ কামনা জানিয়ে দুজনকে দুটো ফুলের বুকে এগিয়ে দিলো। পরপর এলো সমিরন মন্ডল এবং আরেকটা পুরুষ তার নাম অর্পনা জানেনা। তাদেরকেও সালামের সহিত ফুলের বুকে এগিয়ে দিলো। তারা এগিয়ে যেতেই দ্বীপ আর বিহান এলো। অর্পনা বিহানকে একটা ফুলের বুকে এগিয়ে দিয়ে দ্বীপের দিকে আরেকটি বুকে এগিয়ে দিতেই সেটা পিছন থেকে কেউ নিয়ে নিলো পরপরি শুনা গেলো একটা কৌতুক মাখা পুরুষালি স্বর — তোমায় দেখে মুসলিম হওয়ার শখ জাগছে,, তোমার মাঝে একটা বউ বউ ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। মুসলিম রা সুন্দর কিছু দেখলে কি যেনো বলে? ও মেয়ে!! আমি তো জানিনা। তুমি বলে দাও তো, সুন্দর কিছু দেখলে কি বলা হয়?
,,,অর্পনা দ্বীপের দিকে তাকালো,, দ্বীপ কটমট করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। অর্পনা বুঝলো দ্বীপ রেগে যাচ্ছে,, বিষয়টা বুঝতে পেরে আরও রাগিয়ে দিতে নরম স্বরে বললো — মাশা-আল্লাহ!!
,,,সাথে সাথে অজয় মন্ডল ফুলের বুকে নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে নরম স্বরে বললো — মাশা-আল্লাহ!! ইউ লুকিং লাইক অ্যা বউ বউ।
,,,অজয় চলে যেতেই অর্পনা আরেকটা বুকে দ্বীপের দিকে এগিয়ে দিয়ে নরম স্বরে বললো — আসসালামু আলাইকুম স্যার। আমরা বরাবরই আপনার সুস্থতা কামনা করি। আপনি আমাদের ভার্সিটির প্রাক্তন ভিপি,, সেই ক্ষেত্রে ভার্সিটির প্রতিটি স্টুডেন্ট আপনার ছোট ভাই বোন কিংবা পরিবার তুল্য। আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি, আপনার ভাইবোনদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। আপনার লাইফ জার্নি,, অসুস্থতার সময় কিংবা,, আপনার সবচেয়ে শিক্ষনীয় সময় সম্পর্কে আমাদের জানান। আমরা জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।
,, দ্বীপ ফুলের বুকেটা নেওয়ার সময় অর্পনার হাত খামচে ধরলো,, ব্যাথা পেলো অর্পনা, তবুও দাতে দাত চেপে সহ্য করে গেলো। দ্বীপ মাইকের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগে অর্পনার উদ্দেশ্যে ফিসফিস করে বললো — বে*য়াদবের বাচ্চা!! তকে আমি এ*সিডের বালতিতে চুবাবো। বউ বউ লাগছে তাই না? আজ থেকে তর সাদা আর লাল জামা পরা নিষেধ। চিনিস না আমায়,, আমি কতটা খারাপ আর ভয়াঙ্কর সেটা ভবিষ্যতে বুঝবি। তর এই গদ গদ করে কথা বলা মুখটা যদি আমি শীল পাটা দিয়ে থ্যাতলে না দিয়েছি তাহলে আমার নাম দ্বীপ মির্জা না।
,,, দ্বীপের হুমকিতে ঢোক গিললো অর্পনা,, মনে মনে ভয় পেলেও উপরে তা প্রকাশ করলো না। নিজেকে ঠিক ঠাক করে নিয়ে বললো — স্যার!! প্লিজ সবার উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন।
দ্বীপ অগ্নি ঝড়া চোখে অর্পনার দিকে তাকিয়ে মাইকের দিকে এগিয়ে গেলো। পরপরি সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে গভীর, শান্ত কণ্ঠে বলল–
“আসসালামু আলাইকুম।আমার প্রিয় ছোট ভাই ও বোনেরা।আজ এই মুহূর্তে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারা আমার জন্য শুধু সম্মানের নয়, বরং এক গভীর আবেগের বিষয়। একটা সময় ছিল, যখন আমি ভাবতেও পারিন আমি আবার সুস্থ হয়ে তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবো। আল্লাহর অশেষ রহমত, তোমাদের দোয়ার বরকতেই আজ আমি দ্বীপ মির্জা আবারও এখানে দাড়িয়ে আছি। এই ভার্সিটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়,,এটা আমার জীবনের একটা সুন্দর অধ্যায়। এখানে আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় একটা অধ্যায় খুজে পেয়েছিলাম যা আমার জীবনে এখনো ৩৭ টা পৃষ্ঠা দখল করে আছে। এগুলো কোনো সাধার কাগজ নয়, এগুলো আমার অস্তিত্ব। ঐ অধ্যায় ছাড়া দ্বীপ মির্জা শুন্য,, একেবারে নিশ্ব। যাই হোক!! আমি যখন ভিপি ছিলাম, তখন যেমন নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল, তেমনি ছিল ভুল করার সুযোগ, শেখার সুযোগ, নিজেকে গড়ার সুযোগ। আজ পেছনে তাকিয়ে বুঝি,,ডিগ্রি নয়, রেজাল্ট নয়,, আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল মানুষ হতে শেখা।
আমার জীবনের সবচেয়ে শিক্ষণীয় সময়টা এসেছে আমার অসুস্থতার সময়। তখন বুঝেছি,,ক্ষমতা, পদ, পরিচয় সবই ক্ষণস্থায়ী। একদিন শরীর ভেঙে পড়লে, মানুষ শুধু চরিত্রটাই মনে রাখে। কে পাশে দাঁড়ালো, কে দোয়া করলো, কে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসলো,,সেটাই আসল। আমার জীবনেও এমন একজন এসেছে, সে আমায় নিশ্বার্থ ভাবে আগলে রেখেছিলো,, যার প্রতিদান স্বরুপ সে কিছুই চায়নি। আমিও তাকে কিছুই দেইনি। আমার জীবনে এই কয়েকটা মানুষ খুব ইম্পর্ট্যান্ট। তোমাদের বলবো,,জীবনে শুধু সফল হওয়ার চেষ্টা করো না, মানবিক হওয়ার চেষ্টা করো।শুধু ক্যারিয়ার গড়ো না, নৈতিকতা গড়ো।শুধু নিজের জন্য বাঁচো না, অন্যের জন্য কিছু করতে শেখো।
মনে রেখো, তোমাদের সামনে সময় আছে, শক্তি আছে, স্বপ্ন আছে। কিন্তু অহংকার যেন কখনো তোমাদের চোখ অন্ধ না করে দেয়। কারণ জ্ঞান তখনই পূর্ণ হয়, যখন তার সাথে বিনয় যুক্ত থাকে।আজ যারা এখানে বসে আছো,,,আগামী দিনের শিক্ষক, নেতা, উদ্যোক্তা, প্রশাসক তোমরাই হবে। তোমাদের হাতেই এই দেশ, এই সমাজের ভবিষ্যৎ। তাই দায়িত্বশীল হও, সত্যবাদী হও, এবং নিজের বিবেককে কখনো ছোট কোরো না। শেষে শুধু এটুকুই বলবো—
জীবন কখনো সহজ হবে না, কিন্তু তোমরা শক্ত হলে কোনো বাধা বিপত্তি তোমাদের দমিয়েও রাখতে পারবে না। আজ এই পর্যন্তই,, আসসালামু আলাইকুম!!
,,,, পুরো অনুষ্ঠান টাই লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছিলো। বহুদিন পর ভিপি দ্বীপ জোহান মির্জার ফিরে আসা সাথে এমপি, মন্ত্রীদের আগমন,, মিডিয়া, ক্যামেরা, সাংবাদিক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। দ্বীপ যখন কথা শেষ করে মাইকিং এরিয়া থেকে নাৃতে নিবে সহসাই সেখানে থাকা একজন সাংবাদিক দ্বীপের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়লো —
,,,স্যার!! আমরা যতটুকু শুনেছি তার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সম্ভাবত আপনি আপনার স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তিব্র অসুস্থতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তারপর আপনাকে টানা ৬ বছর রাজনীতি কিংবা ঢাকা শহরের কোথাও দেখা যায়নি। সবাই যখন দ্বীপ মির্জাকে ভুলতে বসেছিলো তখনহ হঠাৎ আপনাকে এভার কেয়ার হসপিটালে দেখা গেলো, সাথে ছিলো এক রমনি। লোক মুখে শুনা যায়,, প্রায় সই আপনার সাথে হসপিটালে একটা মেয়েকে দেখা যেতো,, মেয়েটা সর্বোক্ষন আপনার খেয়াল রাখতো। আমরা কি জানতে পারি সেই মেয়েটি কে? তাহলে কি আমরা দরে নিবো, ভিপি দ্বীপ মির্জা আবারও বিয়ের পিরিতে বসেছিলেন? এবং সেই রমনিটি আর কেউ নয় আমাদের ভবিষ্যত মন্ত্রীর ওয়াইফ?
,,,, দ্বীপ একবার ঘাড় বাকিয়ে অর্পনার দিকে তাকালো,, অর্পনা ওর দিকেই তাকিয়ে। মেয়েটার চোখে এক রাশ প্রশ্ন, দ্বীপ তাকে কি নামে পরিচয় করাবে? কি বলবে সবাইকে? ওয়াইফ বলে পরিচয় দিবে নাকি এড়িয়ে যাবে? এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অট্পনার মাথায়।দ্বীপ অর্পনার চোখ থেকে নজর সরাতে নিতেই নজর আটকালো অজয়ের তিক্ষ্ন চোখের দিকে। অজয় এক দৃষ্টিতে অর্পনার দিকে তাকিয়ে। মেয়েটার গায়ে সাদা গাউন, লাল সালোয়ার আর লাল উড়না,, হাটু সমান লম্বা চুল গুলো ঘোমটার ফাক গলিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মাথায় ঘোমটা থাকায় পুরো নতুন বউ নতুন বউ লাগছে। আর সেই বউ বউ রুপ গুগ্রাসে গিলতে লাগলো অজয় মন্ডল। রাগে ফেটে পরলো দ্বীপ, দ্রুত অর্পনার থেকে নজর সরিয়ে দাতে দাত চেপে বললো–
,,, নাহ!! সে আমার কেউ না,, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
,,,,দ্বীপের কথার প্রেক্ষিতে আরও একজন লেডি সাংবাদিক প্রশ্ন করলো — কেউ হয় না, এই বিষয়টা মানতে পারলাম না স্যার। সে কেউ না হলে সে সর্বদা আপনার সাথে থাকতো না। আমাদের কাছে এর স্ট্রং এভিডিঅ্যান্স আছে। মেয়েটা প্রতিবার আপনার সাথে হসপিটালে যেতো,, এমনি এমনি তো আর কেউ সবসময় সাথ দেয়না, তাইনা?
,,, দ্বীপের মাথায় এমনি রাগ চেপে আছে, তার উপর মেয়ে মানুষের ক্যাচাল। দ্বীপ বিরক্ত হয়ে দাতে দাত চেপে বলে উঠলো — সি ইজ জাস্ট মেইড। সে আমার বাড়িতে থাকতো এবং আমার খেয়াল রাখতো, দেট্স ইট। আশা করি আপনাদের আর কোনো প্রশ্ন নেই, আসসালামু আলাইকুম।
,, দ্বীপ কথাটা বলে ঘাড় ঘুরিয়ে অর্পনার দিকে তাকালো। অর্পনার ঠোটে নিরব হাসি, সে এতোটাও সম্মান আশা করেনি। অর্পনারা আবার কাজের মেয়ে হতে পারে নাকি? কাজের মেয়ে হতেও তো যোগ্যতার প্রয়োজন, যা অর্পনাদের থাকেনা। অর্পনার খুব জানতে ইচ্ছা করলো,, আচ্ছা!! আমি যে আপনার বাড়িতে কাজের মেয়ে ছিলাম। তার বিনিময়ে আমাকে কতো টাকা দিয়েছিলেন? কি পেলাম আপনার থেকে? কাজের মেয়েরা এতোটা কাছে থাকে বুঝি? যতটা কাছে আমি ছিলাম? কাজের মেয়েরা নিজের অস্তিত্ব ভুলে মালিকের কাছে ছুটে যায়? বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ছুটে যায়? দিনের পর দিন আঘাত সহ্য করে? তিন বেলা বাচ্চা ভুলানোর মতো করে খাইয়ে দেয়? সকল আবদার পুরন করে? নিজের স্বভাব পরিবর্তন করে? শখ কে মাটি চাপা দেয়? দেয় বোধহয় । তাই তো এতো সম্মানের একটা পদ পেলো অর্পনা। অর্পনার একটু ও কষ্ট হচ্ছেনা, কান্নাও পাচ্ছেনা,, শুধু হাসতে ইচ্ছা করছে,, প্রান খুলে হাসতে মন চাচ্ছে। অর্পনার মনোভাব বুঝতে পারছেনা দ্বীপ, মেয়েটা তার দিকে এভাবে তাকিয়ে হাসছে কেনো? সে কি রাগের মাথায় খুব ভুল করে ফেললো? মেয়েটা কষ্ট পেলো? দ্বীপের মন চাচ্ছে পুরো ভার্সিটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিতে। তার মনের অবস্থাটা কেউ বুঝবেনা,, কেউ বুঝতেও চাইবেনা। ইসস!! রাগের মাথায় কি থেকে কি বললো,, ওফফ! এখন তো কথাটা ফিরিয়েও নিতে পারবেনা। দ্বীপ হুট করেই অর্পনার দিকে এগিয়ে গেলো,, কিছু বলতে নিতেই অর্পনা দ্বীপকে পাস কাটিয়ে মাইকিং এরিয়াতে গিয়ে নম্ন স্বরে বললো–
,,, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ স্যার, আপনি এবার নিজের আসন গ্রহন করুন, আমরা পরবর্তী পদক্ষেপে এগিয়ে যাই।
,,,, কি হয়েছে রাত? এমন করছিস কেনো? তাকানা আমার দিকে,, প্লিজ!! রাত।
,,, অরুনের মায়াভরা ডাকে চোখ তুলে তাকালো রাত্রি, সাথে সাথে চোখ থেকে দুফোটা পানি গড়ালো। অরুন এদিক ওদিক তাকিয়ে লাইব্রারিটা ভালো মতো পর্যবেক্ষণ করে নিলো। সবাই সেহেতু প্রোগ্রামের ওখনে আছে তাই আপাতত এদিকটায় একটা কাক পক্ষিও নাই। এতে যেনো সাহস পেয়ে গেলো অরুন, যদি-ও তার সাহস বরাবরই অনেক বেশি। অরুন রাত্রির গাল দুটো হাতের আজলায় নিয়ে অনেকটা ঝুকে গালে থাকা পানি টুকু অধর দ্বারা মুছে নিলো। আবেশে চেখ বুঝে অরুনের শার্ট শক্ত করে ধরলো রাত্রি,, সাথে সাথে গড়িয়ে পরলো আরও দু ফোটা পানি। অরুন সমান ভাবে সেগুলো মুছে দিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো — একটু বকেছি বলে সারাদিন, রাত, পরদিন ও রাগ করে থাকতে হবে? অরুনকে কষ্ট দেওয়া খুব মজা না?
,,, রাত্রি ভেজা ভেজা পলক ঝাপ্টে অরুনের দিকে তাকালো,, হালকা নাক টেনে বললো — তুই কেনো কষ্ট পেতে যাবি? আমি রাগ করলে তর কি এসে যায়? আর আমি তো খারাপ,, অন্যের ক্ষতি চাই। আমার মতো খারাপ মেয়েদের তো এভাবেই বলতে হয়।
,,, রাত্রির অভিমান ঝড়া কথাগুলোতে ধ্যান নেই অরুণের,, সে এক দৃষ্টিতে রাত্রির ভেজা ভেজা চোখ দুটোতে তাকিয়ে আছে,, চোখের শিরা গুলো হালকা লাল হয়ে আছে,, ঘন ঘন পাপড়ির কোনায় কোনায় জলকনার ভীর,, নাকের ডগা টকটকা লাল রং ধারণ করেছে। অরুনের কি হলো কে জানে, সে হালকা ঠোঁট বাকিয়ে হেসে রাত্রির দু চোখের পাতায় অধর ছোয়ালো পরপর নাকের ডগায়,, পরপর গালে, থুতনিতে অতপর উষ্ঠ পুটে নজর স্থির রেখে বললো — আমর কখনোই একে অপরকে জড়িয়ে ধরিনি রাত,, একবার জড়িয়ে ধরবি প্লিজ? তর উপস্থিতিতে আমার হৃদযন্ত্রের চলাচল কয়েক গুন বেড়ে যায়।আমি জানতে চাই তুই সেখানে মাথা রাখলে আমার হৃদয়ের আন্দোলন আরও বেড়ে যায় নাকি তর স্পর্শে শান্ত হয়ে যায়। একটাবার প্লিজ! একবার। এই রাত!! প্লিজ
,,,,অরুনের ধীরো কন্ঠে করা আবদারের বিপরীতে রাত্রি ওর শার্ট আরেকটু শক্ত করে ধরে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো — আমাদের সম্পর্কের নাম কি অরুণ? আমরা কেনো একে অপরকে জড়িয়ে ধরবো?
,,,,অরুন রাত্রির মুখটা আরেকটু উচু করে বললো– আমার চোখে তাকা রাত, তাহলেই বুঝে যাবি আমাদের সম্পর্কের নাম কি? তাকানা রাত, মনোযোগ দিয়ে দেখ,, মনের সবটুকু ধ্যান আমার চোখে স্থাপন কর।
,,,রাত্রি সেই চোখে তাকানোর সাহস পেলোনা,, আলগোছে মাথা ঠেকলো অরুনের বুকে। এটুকুতে যেনো মন ভরলো না অরুনের সে রাত্রিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। চুলের ভাজে নাক ঠেকতেই মোহিত কন্ঠে সুধালো — তর চুলের স্মেলটা খুব সুন্দর রাত,, এই ঘ্রাণ সারাজীবন গ্রহন করতে চাই। সুযোগ দিবি?
,,, রাত্রি অরুনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো — এটা কি প্রপোজ ছিলো?
,,, অরুন আবারো চুলের ঘ্রান নিয়ে বললো — বলনা!!
,,, সুযোগ দিলে কি করবি?
,,, সযত্নে তকে বাচ্চার আম্মু বানিয়ে দিবো।
,,, অরুণের কথায় লজ্জায় মিয়িয়ে গেলো রাত্রি,,অরুন ওকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করলো— রাত!! তুই তো খুব সুন্দর,, আর তর স্বপ্ন ও ছিলো সুন্দর ছেলে বিয়ে করার। অথচ আমি ততোটাও সুন্দর না,, তর আফসো,,
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৩ (২)
,,, আর বলতে পারলোনা অরুন তৎক্ষনাৎ কানে এলো দ্বীপের বলা এই কথাটা,, সে আমার কেউ হয়না,, সি ইজ জাস্ট মেইড। রাগে জিদ্দে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো অরুনেট,, সে রাত্রিকে নিজের থেকে সরিয়ে দেওয়ালে পাঞ্চ মেরে বললো — ঐ কু*ত্তার বাচ্চার জান নিয়ে নিবো আমি। কতো বড়ো সাহস ও আমাদের অর্পনকে মেইড বলে পরিচয় দেয়। ওর কি এমন যোগ্যতা আছে অর্পনাকে বিয়ে করার? এখন যেই মুখ নিয়ে বড়ো বড়ো কথা বলছে এতোদিন সেসব কোথায় ছিলো? যখন পাগল হয়ে পরেছিলো তখন তো অর্পনা ছাড়া কেউ সামলানোর ছিলোনা,, আজ সুস্থ হয়ে বড়ো বড়ো কথা। এই দ্বীপ মির্জাকে আজ খুন করবো আমি।
