৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৯
রুপান্জলি
,,, মাঝে কেটেছে আরও কয়েকদিন। অর্পনা ভার্সিটির জন্য রেডি হয়ে রুম থেকে বের হলো,, মন মেজাজ ভালো নেই। ঘন্টাখানিক আগে দ্বীপ রাগারাগি করে বেড়িয়ে গিয়েছে,, পাপ্পাকে কিছু বুঝতে দিবে না ভেবে ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও খাবার টেবিলে এসে বসলো। আরশাদ জামান নিজেও ডিউটির জন্য রেডি হয়ে মেয়ে আর মেয়ের জামাইয়ের অপেক্ষায় ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে ছিলেন। মেয়েকে চেয়ার টেনে বসতে দেখে মেয়ের দিকে রুটি আর মাংস এগিয়ে দিয়ে বললেন — বিরক্তিকর ছেলেটা কোথায়? খাবে না?
,,, অর্পনা প্লেট গুলো কাছে টেনে ধীর কন্ঠে বললো– উনি বাসায় গিয়েছেন,, ওখান থেকে অফিসে যাবেন।
,,, বাসায় কেনো? এখান থেকেই যেতে পারতো।
,,, হয়তো কোনো কাজ আছে তাই।
,,, আরশাদ জামান অনুভব করলেন মেয়ের কন্ঠে মলিনতা। তিনি গ্লাসে পানি ঢেলে অর্পনার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন — অল ওকে মাম্মা?
,,, অর্পনা জোর পূর্বক ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বললো — হুম!! সব ঠিক ঠাক আছে। খাবার কান্টিনিউ করো।
,,, বলেই খাওয়ায় মনোযোগ দিলো অর্পনা। আরশাদ জামান কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন,, চোখ দুটো ফোলা, চোখের পাপড়ি এখনো ভিজা,, নাকটা লাল হয়ে আছে,, ঠোঁট দুটো ও ফোলা। এরকমটা তখন হয় যখন অর্পনা খুব কাদে। তাহলে কি অর্পনা আর দ্বীপের মাঝে কোনো ঝামেলা হলো? প্রশ্ন করতে চেয়েও করলেন না আরশাদ জামান। হাসবেন্ড ওয়াইফের মাঝে ঝামেলা হওয়াটা স্বাভাবিক কিন্তু তার মাঝখানে তৃতীয় ব্যাক্তির প্রবেশটা অগ্রহণযোগ্য। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়। আরশাদ জামান নিজেও খাওয়ায় মনোযোগি হলেন। অর্পনা খেতে খেতে বললো —
,,, পাপ্পা!! একটু গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিলো। বিষয়টা বেশ সিরিয়াস।
,,, আরশাদ জামান মনোযোগি হলেন — বলো মাম্মা, শুনছি।
,,, আমি রাতকে বোন হিসেবে চাই।
,,, অর্পনার কথায় ভ্রু কুচকে নিলেন আরশাদ জামান — মানে? বুঝতে পারিনি।
,,, অর্পনা ভনিতা বিহিন উত্তর করলো– আমি চাচ্ছি, তুমি রাতের মাম্মাকে বিয়ে করো।
,,, আরশাদ জামানের খাওয়ার হাত থেমে গেলো,, এতোক্ষণ সহজ ভাবে থাকা মুখটা এবার গম্ভীর হলো — আমার সাথে মজা করছো তুমি? আমার সাথে তোমার মজার সম্পর্ক? ভুলে যেওনা আমি তোমার পাপ্পা।
,,, এখানে সম্পর্ক ভুলার মতো তো কিছুই দেখছি না পাপ্পা। রাতের সম্পর্কে সবটাই জানো তুমি,, ওর বাবা নেই। অরুনের বাবা মা বড়োলোক হলেও মনমানসিকতা অত্তন্ত ছোটলোকি। মানুষকে মানুষ বলে মনে করেনা। অরুন আর রাত্রির বিয়েটা এমনি মেনে নিবেনা,, তার উপর আবার রাতের বাবা নেই। বুঝতে পারছো কতো বড়ো ঝামেলা বাধবে? সুহাসিনী আন্টির ক্যারেক্টার নিয়ে টানাহেঁচড়া হবে। উনার মতো একজন মানুষ নিশ্চই এই অসম্মানটা ডিসার্ভ করেনা? আমরা উনাকে কথা দিয়েছি রাত আর অরুনের কারনে উনাকে কখনো ছোট হতে হবে না। আমি বরাবরই আমার কথা রাখতে তৎপর। তুমি রাত আর ওর মাম্মাকে মেনে নিলে সবটা সল্ভ হয়ে যাবে,, দেট্স ইট।
,,, রেগে গেলেন আরশাদ জামান,, চোখ মুখের রং বদলালো, কপাল আর গালের একপাশে থাকা রগটা ফুলে দৃশ্যমান হলো — দেট্স ইট? তোমার কাছে এটা সাধারণ মনে হচ্ছে? যতোটা সিম্পলি কথাটা বললে জীবনটা ততোটা সিম্পল না অর্পন। নেক্সট টাইম আমি এসব শুনতে চাইনা।
,,, অর্পনার এমনি মন মেজাজ খারাপ তার উপর পাপ্পার রাগ যেনো তার মনটা আরও বিষিয়ে তুললো। খাওয়া থামিয়ে চাপা স্বরে হিসহিসিয়ে বললো– আমি এখানে টাফের কিছুই দেখছি না পাপ্পা। তুমি অকারন সাউট করছো। আমি যখন একবার বলেছি তুমি রাতের মাম্মাকে বিয়ে করছো মানে করছোই। নেক্সট ফ্রাইডেতেই বিয়েটা হবে। আর এটাই ফিক্সড,, আমি আর একটা কথাও শুনতে চাইনা।
,,, মেয়ের অবাধ্যতায় আজ প্রথমবারের মতো বিরক্ত হলেন আরশাদ জামান,, ভুলে গেলেন মেয়েটা দ্বীপের সাথে ঝগড়া করে কান্নাকাটি করেছে। ভুলে গেলেন উনার মেয়েটা অসুস্থ,, এতোটাই অসুস্থ যে অর্পনার একটা ভুল সিদ্বান্ত ওর মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। সম্পর্কের প্রতি বিতৃষ্না জন্মালে একেবারের মতো অর্পনাকে হাড়িয়ে ফেলতে পারে। তিনি সব ভুলে নিজের রাগকে প্রশ্রয় দিয়ে টেবিলে শব্দ করে চাপর মেরে চিৎকার করে বললেন– অর্পন!! ডন্ট ক্রস ইউর লিমিট। আদর করতে করতে বাদর বানিয়ে ছেড়েছি তোমায়। এখন বাবার বিষয়ে ডিসিশন নিচ্ছো তুমি? এখন কি তোমার কথায় চলতে হবে আমাকে?
,,, বাবাকে চিৎকার করতে দেখে অর্পনাও চিৎকার করে উঠলো — হ্যা চলতে হবে। আমি যখন বলেছি, তখন তোমাকে বিয়েটা করতেই হবে। হবে মানে হবেই।
,,, অর্পন!” তুমি সত্যি ই একটা বেয়াদবে পরিনত হয়েছো। আমার উপর এভাবে সাউট করছো? কতোটা বেয়াদব হলে বাবার উপর সাউট করা যায়? আফসোস!! তোমাকে ভালো শিক্ষা দিতে পারিনি আ,,
,,,, আরশাদ জামানের কথা শেষ হওয়ার আগেই পানির গ্লাসটা টেবিলের সাথে বারি দিয়ে ভেঙে ফেললো অর্পনা। চমকে উঠলেন আরশাদ জামান,, সহসা মাথায় খেলে গেলো উনি কতো বড়ো ভুল করে ফেলেছেন। আরশাদ জামান কিছু বলতে নিবেন, সেই ফুসরত টুকু দিলো না অর্পনা। নিমিষেই ভাঙা গ্লাসটা হাত দিয়ে চেপে ধরলো সাথে সাথে একদলা রক্ত ছিটকে পরলো খাবার টেবিলে। চোখ বড়ো বড়ো করে নিলেন আরশাদ জামান। অর্পনার হরিনী চোখে আগুনের লেলিহান তাপ,, সমানে ফুসছে,, নিজের হাতে কাচ দাবানোর পরেও মেয়েটার কোনো ভাবাবেগ নেই,, সে আহত বাঘের ন্যায় হিংস্রতা প্রমান দিতে কাচ হাতে রেখেই খাবারের প্লেটগুলো মেঝেতে ফেলে দিলো। আরশাদ জামান দ্রুত গতিতে এগুতে চাইলে ভাঙা গ্লাস উচিয়ে সাবধান করলো অর্পনা–
,,, নো,, একদম আমার কাছে আসবে না। আমায় টাচ করলে এটা একদম গলায় ঢুকিয়ে দিবো। আমার কারোর মায়া লাগবে না,, ঐ দ্বীপ মির্জাকেও বলে দিবে উনার ভালোবাসাকে প্রতিদিন দশবার পায়ের তলায় নিয়ে পিষে গুরো করি আমি। ভালোবাসা মাই ফুট। আমি বেয়াদব,, খারাপ, ন*ষ্ট, ওকেহ!! লাগবে না কাউকে। বাপ, স্বামী কাউকে প্রয়োজন নেই আমার। অর্পনা একাই লাইফ লিট করতে পারে,, কোনো ফা*কিং সম্পর্কের ধার ধারার সময় নেই তার।
,,, বলেই চেয়ারে লাত্থি মেরে বেড়িয়ে যেতে নিলো, আরশাদ জামান ছুটে এসে অর্পনার সামনে দাড়ালো, হাত ধরতে নিলে পিছিয়ে গিয়ে হাত উপরে তুলে আরও শক্তি খাটিয়ে কাচটা চেপে ধরলো। ঠোঁটে একরাশ হাসি ফুটিয়ে হুমকি স্বরুপ বললো– আমার মাথা ঠিক নাই পাপ্পা,, আমার কাছে এগুলে আজকে কাফনের কাপর কিনতে হবে তোমায়,, কসম!!
,,, আরশাদ জামান পিছিয়ে গেলেন। অর্পনার হাতের তাজা রক্তে মেঝে লালচে রং ধারন করেছে। আরশাদ জামান অর্পনার হাতের দিকে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বললেন– মা,, এমন করিস না, ওটা ফেল। এদিকে আয়,, পাপ্পার কাছে আয় ,, নিজেকে কষ্ট দিস না। পাপ্পা সরি,, মা,, আমার মা, এটা ফেলে দে,, সোনা।
,,, অর্পনা পাত্তা দিলো না,, চোখ থেকে দুফোটা পানি গড়ালো,, সে রক্তাক্ত হাতে চোখের পানি মুছে আরশাদ জামানের পাশ কাটিয়ে যেতে যেতো বললো — একদম আমার পিছু করবে না,, যদি করেছো তাহলে আমায় আর কখনো দেখতে পাবেনা। কখনো না মানে কখনোই না,,
,,, বলেই হনহন করে বেড়িয়ে গেলো,, আরশাদ জামান তাড়াহুড়ো করে আদিকে কল করতে নিয়ে মনে পরে গেলো আদি এখন আর অর্পনার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। অগত্যা দ্বীপকে কল করলো,, দ্বীপের ফোন বন্ধ। আরশাদ জামান পাগল প্রায় হয়ে মেয়ের পিছু পিছু নিচে নেমে এলো। অর্পনা ততোক্ষণে পার্কিং লটে পৌঁছে গিয়েছে,, বহুদিন পর বের করলো নিজের কাওয়াসাকি নিন্জা-125 বাইকটি। আরশাদ জামান পৌঁছানোর আগেই ফুল স্পিডে জায়গা থেকে প্রস্থান নিলো অর্পনা। দ্বীপকে ফোনে না পেয়ে এবার কল করলো পল্লবকে,, উনি ভালো করেই জানেন অর্পনা এখন তার শান্তির জায়গা বন্ধু বান্ধবের কাছেই যাবে তাই বর্তমানে তারাই একমাত্র ভরসা।
,, অর্পনার কাটা হাতে জোরপূর্বক বেন্ডেজ করে দিচ্ছে অরুন,, পল্লব ছুটে গিয়ে বাজার থেকে এসব নিয়ে এসেছে। রাত্রির চোখ জোড়া ছলছল। কাচ চেপে ধরায় হাতের কব্জি অনেকটাই দেবে গিয়েছে সাথে অনেক জায়গায় ক্ষত হয়েছে। তবুও মেয়েটার কোনো অভিব্যাক্তি নেই, ব্যাথা নেই, দুঃখ নেই,, যেনো ওর কিছুই হয়নি। ওরা বর্তমানে কার্জন হলের পিছনে বসে আছে, চারদিকে টুকটাক স্টুডেন্ট ঘুরাঘুরি করছে তবে খুব বেশি নয়। পল্লব উঠে এসে অর্পনার সামনে দাড়িয়ে ওর নিচু করে রাখা মাথাটা দু আঙ্গুল দিয়ে উপরে তুললো,, অর্পনা চোখ তুলে পল্লবের দিকে তাকাতেই পল্লব বললো–
,,, টানা তিন ঘন্টারো বেশি সময় ধরে কান্না করেছিস,, কি হয়েছে বলতো। কে কি করেছে? এই হাত কাটার কারন কি? আজ পারশোনালের দোহাই দিলে আমি এখান থেকে চলে যাবো,, তারপর আর কোনোদিন তদের সাথে আমার দেখা হবেনা,, কথাও হবেনা,, কিছুই হবে না। আজ এখানেই সব ক্লোজ।
,,, পল্লবের কথায় আতকে উঠলো রাত্রি,, কিছু বলতে নিবে কিন্তু বললো না। সে পল্লবের সাথে অভিমান করেছে তাই ওর সাথে কথা বলা বাদ। অরুন ক্ষেপা দৃষ্টিতে পল্লবের দিকে তাকালো — কি আবোল তাবোল বকছিস? ক্লোজ মানে কি? কোনো ক্লোজ ট্লোজ হবেনা। অর্পনা!! কি হয়েছে বলতো? ভাইয়ার সাথে ঝগড়া হয়েছে? দ্বীপ মির্জা তকে কিছু বলেছে? কি হলো বল,, বলবি নাকি গাল বরাবর দিবো একটা?
,,, অর্পনার কি হলো কে জানে,, এই প্রথম বন্ধুদের সামনে ঠোঁট ভেঙে কেদে দিলো। পরপর বলতে শুরু করলো জীবনের শুরু থেকে আজকের সকালে দ্বীপের সাথে হওয়া ঝগড়া পর্যন্ত,,
,,, ফজরের নামাজ পরে অর্পনা জায়নামাজ ভাজ করে মাথা থেকে হিজাবটা খুললো,, আজ আর ঘুমাবে না সে,, একটু এক্সারসাইজ করা উচিৎ,, দিনকে দিন কেমন অলস হয়ে যাচ্ছে। অর্পনা হিজাব খুলতেই দরজা খোলার শব্দ হলো। দ্বীপ রুমে এসে দরজা আটকে অর্পনার দিকে এগিয়ে এসে অর্পনাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। কাধে থুতনি ঠেকাতেই অর্পনা প্রশ্ন করলো —
,,, আপনি আবার ঘুমাবেন?
,,, দ্বীপ উল্টো প্রশ্ন করলো– তুমি ঘুমাবে?
,,, না!! এক্সারসাইজ করবো।.
,,, তাহলে আমিও না।
,,, অর্পনা মাথা ঝাকিয়ে কম্ফোর্টার ভাজ করার কাজে মনোযোগী হলো। দ্বীপ বড্ড নাছোড়বান্দা,, সে অর্পনাকে জ্বালাচ্ছে। অর্পনা যতোবার কম্ফোর্টার ভাজ করছে ততোবার সেটা খুলে দিচ্ছে , বিরক্ত করার খাতিরে গলায়, ঘারে চুমু খাচ্ছে। অর্পনা শুরুতে বিরক্ত হলেও পরবর্তীতে হেসে ফেললো, লোকটার পাগলামি গুলো তার মন্দ লাগে না। অনেক্ষন জ্বালানোর পর ক্ষান্ত হলো দ্বীপ । অর্পনার কানের লতিতে নাক ঘষে বললো —
,,, ওপাশের রুমটা কার? যেটা সবসময় তালা বন্ধ থাকে?
,,, অর্পনা আনমনেই বললো– আদির!”
,,, সম্মোধন শুনে থেমে গেলো দ্বীপ — কার?
,,, অর্পনা আবারো আনমনে বললো– প্রোফেসরের।
,,, মুহির্তেই দ্বীপের চোখ মুখের রং বদলালো,, কন্ঠে গম্ভীরতা ঢেলে প্রশ্ন করলো — বুঝতে পারিনি,, কার ঘর ওটা?
,,, দ্বীপের এরুপ কন্ঠ স্বরে সম্ভিত ফিরলো অর্পনার। যখন বুঝতে পারলো দ্বীপ রেগে যাচ্ছে তখন নিজেকে সুধরে নিয়ে বললো — আদ্রিয়ান স্যারের।
,,, দ্বীপ অর্পনার হাত থেকে কম্ফোর্টারটা ছুড়ে ফেলে দিলো। ওকে ঘুরিয়ে নিজের দিকে ফিরিয়ে শক্ত কন্ঠে প্রশ্ন করলো — আদ্রিয়ান সমসময় এখানে থাকতো? তোমাদের সাথে?
,,, অর্পনা মিথ্যা বললো না, সে খুব প্রয়োজন না হলে মিথ্যা বলেও না। আর মিথ্যা বলেই কি লাভ? দ্বীপ চাইলে নিজ থেকেই সব জানতে পারবে তাই অর্পনার নিজেরি সব বলে দেওয়া উচিৎ। এতে করে সম্পর্কে কোনো ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হবে না। অগত্যা অর্পনা শায় জানিয়ে বললো — হুম!! নিজের এপার্টমেন্টে কম থাকতো,, বেশিভাগ এখানেই ছিলো।
,,, আদ্রিয়ান তকে কখনো টাচ করেছে?
,,, করেছে।
,,, এটুকু কথাই বোধয় যথেষ্ট ছিলো দ্বীপকে উন্মাদ বানানোর জন্য। সে সর্বসক্তি দিয়ে অর্পনার বাহু চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো — কোথায় কোথায় টাচ করেছে?
,,, অর্পনা বাহুর ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো হাত দিয়ে ছাড়াতে চেয়ে বললো— কি বলছেন এসব? কোথায় কোথায় মানে? অরুন আর পল্লব যতটা লিমিট রেখে চলাচল করে আদ্রিয়ান স্যার ও তেমনি ছিলো।
,,, দ্বীপের মেজাজ সাভাবিকতা হাড়াচ্ছে, অর্পনার ভয় হলো,, দ্বীপের ধূসর রঙা বিড়াল চোখ জোড়াতে হিংস্রতা,, সে দাতে দাত পিষে বললো– ও তকে জড়িয়ে ধরেছে?
,,, অর্পনা মাথা নত করে নিলো,, সে দ্বীপকে কিভাবে বলবে সেই সময় গুলোর কথা যখন তারা একসাথে ছিলো। আদ্রিয়ান অর্পনাকে বহুবার এক তরফা ভাবে জড়িয়ে ধরেছে,, অর্পনা অবশ্য সেটা নিয়ে ওকে অনেক কথা শুনিয়েছে কিন্তু অস্বীকার করার যো নেই,, অর্পনা আদ্রিয়ানকে প্রশ্রয় দিয়েছে বলেই আদ্রিয়ান ওকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছে নয়তো পারতো না। “” একটা মেয়ে যদি একটা ছেলেকে প্রশ্রয় না দেয় তাহলে কোনোমতেই ছেলেটা বার বার অধিকার খাটাতে পারেনা”” তবে অর্পনা যা করেছিলো,, নিজের সার্থের জন্য করেছিলো। তখন তো আর সে জানতো না যে,, সে আবারও কাউকে ভালোবেসে ফেলবে কিংবা সংসার জীবনে জড়াবে। তখন প্লান ছিলো অন্যরকম। আদিকে নিজের অনুরুপ যন্ত্রণার সামিল করে সারা জীবন একা থাকবে বলে ঠিক করেছিলো। কিন্তু মানুষ যা ভাবে তার সবটা পুরন হয়না,, বিধির বিধান বলেও একটা কথা আছে। আল্লাহ অর্পনার প্লানের চেয়েও ব্যাটার প্লান করে রেখোছিলো তার জন্য,, তাইতো দ্বীপকে পেলো। নয়তো তার তো এই মানুষটার সামনে থাকার কথা ছিলো না। অর্পনাকে মাথা নত করে নিতে দেখে দ্বীপ ওকে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দিয়ে নিজেই নিজের মাথার চুল টেনে ধরে দ্রুত শ্বাস নিতে নিতে বললো
,,, ওফফ!! সস্তার বাচ্চা। ও তকে ছুবে কেনো? তুই ওকে ছুতে দিয়েছিস কেনো? আদ্রিয়ান কেনো তকে জড়িয়ে ধরবে? কু*ত্তার বাচ্চা!! তুই আবার আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বি?
,,, দ্বীপকে চুল খামচে ধরতে দেখে বিছানা থেকে উঠে দাড়ালো অর্পনা, দ্বীপকে ছুতে নিলে আবারও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো দ্বীপ,, দ্বীপের মাথা কাজ করা বন্ধ, নিজেকে পাগল পাগল লাগছে। হুটহাট ধাক্কায় ব্যাথার চেয়েও বেশি ভয় পাচ্ছে অর্পনা। দ্বীপের মাথা গরম হয়ে গেলে ওর কিছু মাথায় থাকেনা। সামনে কে আছে, কাকে আঘাত করছে, কি বলছে কিছুই মাথায় থাকে না। দ্বীপ তীব্র রাগে অর্পনার দিকে ঝুকে ওর চুল টেনে ধরলো,, চুলের ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো অর্পনা,,
,,, আদ্রিয়ান তকে কতোবার জড়িয়ে ধরেছে? কতোটা কাছে এসেছে? এতোটা,, এতোটা,, নাকি এতোটা?
,,, বলতে বলতে অর্পনাকে গভীর ভাবে ছুতে থাকলো। প্রতিটি স্পর্শে মিশে আছে হিংস্রতা,, এই স্পর্শে ভালোবাসা নেই। অর্পনার তীব্র রাগ হলো,, তবে রাগ প্রকাশ করলো না। কজ,, সে দ্বীপকে ভালোবাসে। ভালো না বাসলে এই আচরনের জন্য দ্বীপকে তার কঠোরতার মুখমুখি হতে হতো,, এক প্রকার যুদ্ধ চলতো দুজনার মাঝে কিন্তু তাতো সম্ভব না। অর্পনা সবটা চুপচাপ সহ্য করে দ্বীপের ভিতরকার তোলপার শান্ত করার প্রয়াশ চালিয়ে বললো — দ্বীপ! ” আপনি ভুল বুঝছেন। আদ্রিয়ান আমাকে কয়েকবার এক তরফা ভাবে জড়িয়ে ধরেছে,, জাস্ট মিচুয়্যাল হাগ। এর বাহিরে কিছুই না,, প্লিজ শান্ত হোন।
,,, শান্ত হওয়ার পরিবর্তে দ্বীপের রাগ বারলো,, অর্পনার এই সরল স্বীকারোক্তি টুকু মাথায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে যেনো। হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে দ্বীপ অর্পনার চোয়াল চেপে ধরলো– ন*ষ্টার বাচ্চা!! তর সাহস হয় কি করে আমার আমানতের খেয়ানত করার? আমার জিনিসের ভাগ অন্য কেউ কোনো পেলো? এন্সার মি,, তর বাড়িতে পরপুরুষ কেনো থাকবে?
,,, ন*ষ্ট কথাটা বড্ড লাগলো অর্পনার,, ফুসে উঠলো — সম্মান দিয়ে কথা বলুন। এসব ভাষায় বকাবকি করছেন কোনো? যখন এসব হয়েছে তখন কিন্তু আমি আপনার বউ ছিলাম না। আমার তো সংসার করার কথাই ছিলো না।
,,, ছিলো না যখন, না হতো। এসেছিস কেনো তুই আমার জীবনে? তকে ডেকে এনেছি আমি? নাকি আমি নিজে গিয়েছি? কেনো এসেছিস? বল!! কেনো এসেছিস? তুই জানতি না,,আমি সস্তা নারীদের পছন্দ করিনা? ডায়েরিতে লেখা ছিলোনা দ্বীপ মির্জা কেমন? জানার পরেও সস্তা রুপ নিয়ে কেনো এসেছিস?
,,, দ্বীপের প্রশ্নে অর্পনার অভিব্যাক্তি শীতল হলো,, সত্যি ই তো দ্বীপ তাকে চায়নি,, সে নিজে জোর করে এসেছে। অর্পনার চোখে পানিরা ভীর জমালো,, অভিমানরা ভীর করলো বক্ষস্থলে,, সে দ্বীপের চোখে চোখ রেখে অভিমানী স্বরে বললো — চলেই তো যাচ্ছিলাম, কেনো এনেছিলেন? আবার বিয়ে করেছেন কেনো? ছেড়ে দিতেন।
,,, অর্পনার অভিমানী স্বরে দ্বীপের ভাবান্তর হলো না,, তার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে আদ্রিয়ান অর্পনাকে ছুয়েছে,, এই শরীরটায় আদ্রিয়ানের স্পর্শ মিশে আছে,, সেটা মিচুয়্যাল হোক কিংবা ডিপ। আদ্রিয়ান ওকে ছুবে কেনো? ওরা একসাথে একই ফ্লাটে থাকবে কোনো? দ্বীপ আর ভাবতে পারছেনা,, হাতের চাপ বৃদ্ধি করে বললো — আমি জানতামনা তুই এতোটা নিচ,, নিজের ঘরে পরপুরুষ রেখে দিয়েছিস। এতোই যখন মোহাব্বত তাহলে ওকেই বিয়ে করে নিতি,, আমার কাছে এসেছিস কেনো?
,,, দ্বীপের বলা প্রতিটি কথার উজন বিশাল যা অর্পনার নারী সত্তায় আঘাত হানছে। নারী সম্মানের এই অপৃান সহ্য করার নয়। অর্পনার চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি গড়ালো — আপনি নিজেও জানেন আমি খারাপ মেয়ে না,, তাও কান্টিনিওয়াসলি অপমান করে যাচ্ছেন। বিশ্বাস করুন,, এখন যা যা বলছেন তার জন্য মাথা ঠান্ডা হলে তীব্র আফসোস করবেন। তখন আপনি চাইলেও আমি এসব ভুলতে পারবো না,, এই কথাগুলো আমার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ করে তুলবে,, তখন আফসোস করেও কিছু ঠিক করতে পারবেন না।
,,, অর্পনার কথাগুলো ধরার প্রয়োজন মনে করলো না দ্বীপ আর না বুঝতে চাইলো মেয়েটা তাকে সতর্ক করতে চাচ্ছে। দ্বীপ শুধু নিজের মস্তিস্কের জেদটাকে প্রশ্রয় দিলো আর ঠোট ফুরে বেরিয়ে এলো কিছু তিক্ত কথা– আমার তো এখন আফসোস হচ্ছে,, আমি কেনো সেদিন এক্সিডেন্টে মরে গেলাম না? মরে গেলে অন্তত তর মতো মেয়ের সাথে সংসার করতে হতো না। তুই আসলেই মানুষের বাচ্চা না,, অমানুষের বাচ্চা!! আমার জীবনটা জাস্ট হেল করে দিয়েছিস,, না পারছি বাচতে আর না মরতে।
,, এই পর্যায়ে অর্পনার ঠোটের হাসি চওড়া হলো,, চোখে টইটুম্বুর পানি আর ঠোটে হাসি। এর থেকে বিব্রতিকর দৃশ্য বোধয় দ্বিতীয়টি হয় না। বর্সাকালে মাঝে সাজে যখন আকাশে রোদ আর বৃষ্টি থাকলে জনমানব বিভ্রান্ত হয়ে পরে অর্পনা অভিব্যাক্তি দেখে দ্বীপের অবস্থা এখন তেমন। অর্পনা তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে আওড়ালো– এতো আফসোস? এতোটা? বুঝতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম আমায় পেয়ে বোধহয় আপনি সন্তুষ্ট,, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম অর্পনা বিষাক্ত। সে গেস্ট্রিকের অসুধের ন্যায়,,, এক চামচ করে একমাস ঠিক আছে কিন্তু মাসের পর মাস খেলে ফুসফুসে পচন ধরে। আমাকে আর সহ্য করতে হবে না,, আপনার নসিব হতে আল্লাহ আমায় উঠিয়ে নেক,, আপনাকে আর আফসোস করতে না হোক।
,,, অর্পনার এহেন কথায় রাগে ফেটে পরলো দ্বীপ,, এতোক্ষনকার বিভ্রান্ত রুপ মুহুর্তেই হিংস্র হয়ে উঠলো। নসিব থেকে উঠিয়ে নেওয়ার কথাটা বলে সবচেয়ে বড়ো ভুল করেছে অর্পনা। দ্বীপ একঝটকায় অর্পনার চোয়াল ছেড়ে গলা চেপে ধরলো — বেয়াদবের বাচ্চা!! ন*ষ্টর বাচ্চা,, তকে খুন করে ফেলতে মন চাচ্ছে। ওফফ!! তুই আসলেই একটা অভদ্র,, অবাধ্য আর উগ্র,, তকে মেরে,, নিজে মরে শান্ত হবো আজ। তর অনিচ্ছায় তকে হাজার বার রেপ করা হলেও আমি মেনে নিবো কিন্তু তর ইচ্ছায়!! তর ইচ্ছায় কেউ তর চুল স্পর্শ করলেও তার আগে তকে খুন করবো আমি। এই পৃথিবীতে তর অস্তিত্বই রাখবো না,, মরে যাহ তুই,, এখনি মেরে ফেলবো তকে আমি।
,,, বলতে বলতে হাতের জোড় বাড়িয়ে অর্পনাকে বিছানার সাথে চেপে ধরলো ,, গলা চেপে ধরায় অর্পনার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে,, সে গলা কাটা মুরগীর ন্যায় ছটফট করতে লাগলো। মুহুর্তেই চোখ মুখ লাল হয়ে চোখ উল্টে এলো,, এই পর্যায়ে এসে নিজ থেকেই দম আটকে দিলো অর্পনা,, নিশ্বাস নিবে না,, মরে যাবে। এই লোকের এতো আফসোসের ইতি ঘটাবে আজ। সে জোর করে এসেছিলো এবার নিজ থেকেই সরে যাবে,, এই আফসোসের জীবন আর না। অর্পনাকে দম আটকে নিতে দেখে দ্বীপের বুক কেপে উঠলো,, দ্রুত গতিতে গলা ছেড়ে দিলো কিন্তু দম ছাড়লো না অর্পনা,, জেদ করে দম আটকে রইলো। অর্পনার এই ত্যাড়ামিটা বরাবরি অপছন্দ দ্বীপের। সে কোনো বার্তা ছাড়াই অর্পনার মাথা আকরে ধরে উষ্ঠ যুগল দখল করে নিলো,, অর্পনা তবুও নিশ্বাস ছাড়লো না,, দ্বীপ ওর গালে চাপর দিয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করতেই দ্বীপের সাথে না পেরে নিশ্বাস আদান প্রদানে বাধ্য হলো অর্পনা। ধীরে ধীরে দ্বীপের স্পর্শ গভীর হলো,, এই স্পর্শ গুলোতে ভালোবাসার চেয়েও বেশি ছিলো রাগ, অভিমান আর অসন্তুষ্টতা। দুজনার মধ্যকার তীব্র ঝামেলাতেও দুজন দুজনাতো মত্য হলো। দুজনার মাথায় রাগ আর মনে তীব্র অভিমান তবুও কেউ কারোর থেকে দূরে যেতে রাজি না। আবারও একটা সর্বনাশা মুহুর্ত এলো দুজনার জীবনে। দ্বীপ জেদ নিয়েই অর্পনাকে গভীর ভাবে আলিঙ্গন করলো আর অর্পনা সেসব চুপচাপ মেনে নিলো।
,,,, অর্পনার দীর্ঘ বাক্য শেষ হতেই তপ্ত শ্বাস ফেললো অরুন। রাত্রি কাদতে কাদতে অর্পনাকে জড়িয়ে ধরলো। অর্পনা ছোট থেকে এতোকিছু সহ্য করেছে তারা তো জানতোই না। আদি স্যার সেদিন চাইলেই অর্পনাকে বাচাতে পারতো কিন্তু বাচালো না,, অসুস্থ সময় একটা খোজ নিতে পারতো কিন্তু নিলো না,, আরও বডি সেইম করলেন।আদ্রিয়ান একটা মেয়েকে এতোটা অপমান জনক কথা বলতে পারে তারা তো কল্পনাই করতে পারেনি। সবার নিরবতার মাঝে অর্পনা নিজের ভাগ্যের উপর তীব্র অভিমান করে আওড়ালো — “‘আমারে কেউ চাইলো না,, একজন ও না,, সবাই খালি দয়াই দেখাইলো,, পাওনের পর আফসোস করলো। আমার কেউ নাই,, আমার নিজের একটা মানুষ নাই”” একটা পাপ্পা ছিলো সেই পাপ্পা ও আজ আমাকে নিয়ে আফসোস করলো,, আমার আর বাচতে ইচ্ছা করছে নারে,, আমি যদি মরে যেতাম ভালো হতো।
,,, কথা শেষ করার সাথে সাথে অর্পনার গালে চর পরলো,, অরুন আরেকটা চর দিতে নিয়েও হাত নামিয়ে নিলো,, হিসহিসিয়ে বললো — কে বলে আঙ্কেল ছাড়া তর কেউ নেই? আমরা কি তর কেউ না? আমরা দয়া করেছি তকে? আমাদের ভালোবাসাটা তর চোখে পরেনা?
,,, অর্পনা মাথা নিচু করে হেসে ফেললো্ ,,ধীরে ধীরে হাসির শব্দ তীব্র হলো। পাশে বসে থাকা অরুনের বুকে হালকা ধাক্কা মেরে বললো– হাসাইছ না মামা,, আমার বুকটা ভার হয়ে আছে,, এই মুহুর্তে হাসতে ইচ্ছা করছেনা।
,,, বলে আবারও হাসতে লাগলো। বোকা বনে তাকিয়ে রইলো তিনজন। হুট করেই হাসি থামিয়ে দিলো অর্পনা,, এক হাতে উন্মাদের মতো চোখ মুখ ডলে মোছার চেষ্টা করে বললো — দয়া তো তরাও করেছিস। প্রথম দিন আমার সাথে বন্ধুত্ব করলেও মাসখানিক পর যখন দেখলি আমি মানুষটা ভালো না,, কাউকে পরোয়া করিনা,, তদের কাউকে দাম দেইনা,, নিজের ইচ্ছা মতো চলি সাথে তদের ও চালাই তখন তরা আমাকে ছেড়ে যেতে চাসনি? ইগনর করিসনি? করেছিস তো। ভুলে গিয়েছিস? আমি ভেবেছিলাম তরা হয়তো আমার সাথে আর কথা বলবিনা, ছেড়ে যাবি,, তদের ইগনরে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলামরে,, একা একা অনেক কেদেছিলাম,, নিজেকে কতোটা আঘাত করেছি ধারনারো বাহিরে। সেসব কেউ জানেনা,, আমি কাউকে জানতেই দেইনি। তরা ভাবতিস আমি হয়তো পাথর, নিষ্ঠুর,, আব্বে আমার নিজেরো একটা মন আছে, আমারো কষ্ট হয়। আমি জানতাম আমায় কেউ চায়না,, আমার সাথে সারা জীবন থাকা যায়না,, যেই আমার জীবনে আসে একটা না একটা সময় আফসোস নিয়ে ছেড়ে যায়। তাই প্রথমদিন তদের শর্ত দিয়েছিলাম,, যতো যাই হয়ে যাক কখনো ছেড়ে যেতে পারবি না। তবুও তরা ছারতে চেয়েছিস কিন্তু ছাড়তে পারিসনি কারন আমার পাপ্পা তদের রিকোয়েস্ট করেছিলো। সব জানিরে আমি,, অর্পনা অতো বোকা না। আমাকে ঘিরে কখন, কোথায় কি হয় সব জানা আমার। এই একজীবনে আমার বাপ ছাড়া কেউ আমায় ভালোবাসেনি। সবাই খালি দয়াই করে গেলো।
,,, অর্পনার কথায় অরুন আর রাত্রি মাথা নত করে নিলো,, পল্লব স্থির দৃষ্টিতে অর্পনার দিকে তাকিয়ে,, অনেকটা সময় পেরুনোর পর উঠে দাড়ালো পল্লব,,সাথে অর্পনাকে এক ঝটকায় দাড় করিয়ে দিলো। পরপর কাধে হাত পেচিয়ে ধরে বললো — খেয়েছিস?
,,, অর্পনা মাথা নাড়িয়ে বললো– একটু খেয়েছিলাম।
,,, আচ্ছা!! চল তবে আজকে পুরো ঢাকা শহর ঘুরে বেড়াবো। তর বাইকে তুই, আমার বাইকে আমি,, আর অরুনের বাইকে অরুন আর রাত,, ওক্কে?
,,, পল্লবের প্রস্তাব শুনে কন্দরত রাত্রি হুরমুরিয়ে উঠলো,, উৎফুল্ল কন্ঠে বললো — আচ্ছা!! আমি রা,,
,,, বলতে বলতে পল্লবের চোখে চোখ পরতেই চোখ ঘুরিয়ে নিলো,, সে তো ভুলেই গিয়েছিলো সে যে পল্লবের সাথে অভিমান করেছিলো। ছেলেটা এবার নিজে নিজে সরি না বললে রাত একটু ও কথা বলবে না। অরুন উঠে দাড়িয়ে রাত্রিকে একপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে অর্পনা আর পল্লবের পাশাপাশি দাড়িয়ে অর্পনার উদ্দেশ্য বললো — একটা রেইস প্লিজ,, যে হাড়বে সে সবাইকে ট্রিট দিবে,, রাজি?
দিয়া বাড়ির মেইন রোডের মাঝামাঝি এসে কাওয়াসাকি নিন্জা বাইকটি থামলো,, তীব্র হাড়ে ব্রেক নেওয়ায় সফেদ রঙা বেন্ডেজে মুড়ানো হাতের নীল রগ গুলো দৃশ্যমান হলো,, গার্ডার দিয়ে আটকে রাখা সত্তেও সামনের ছোট ছোট চুলগুলো বাতাসের তোপে দুলে উঠলো,, বাইক থামতেই সেই চুলগুলো আবার ঢেকে দিলো রমনির চোখ মুখ। অর্পনা ঠোঁট বাকিয়ে ফু দিয়ে চোখে মুখে আছড়ে পরা চুল গুলো সরিয়ে দিলো। কালো বাইকে অফ হোয়াইট শার্ট আর ব্লাক পেন্ট পরিহিত রমনির এহেন কার্যকলাপ বড্ড আকর্ষণীয় ঠেকলো,, এই মুহুর্তে দ্বীপ মির্জা উপস্থিত থাকলে নিশ্চিৎ আরও একবার তীব্রতার সহিত রমনির প্রেমে মজে যেতো। সফেদ বেন্ডেজে মুড়ানো হাতটা গিয়ার থেকে সরিয়ে ডানপাশে বাড়িয়ে দিলো অর্পনা,, বৃদ্ধাঙ্গুল নিচের দিকে তাক করে পিছনের দুই বাইকারকে ট্রোল করে আবারও গিয়ার চাপলো। তীব্র বেগে আবারও ছুটে গেলো রোড ধরে। ফ্লাই ওভারের উপরে উঠতেই দেখলো একটা গাড়ি দাড়িয়ে আছে,, নরমাল্লি ফ্লাই ওভারে বিপদ আপদ না হলে এভাবে গাড়ি থামিয়ে রাখে না কেউ। অর্পনা ভ্রু কুচকে গাড়িটির পাশাপাশি গিয়ে বাইক থামালো,, একটা ছেলে গাড়ির ফ্রট বোর্ড উপরে তুলে কি যেনো চেক করছে। অর্পনা কিছুটা কৌতুহলী কন্ঠে সুধালো — হোয়াট্স প্রবলেম ব্রো? কার হাস ব্রোকেন ডাউন?
,,, ছেলেটি মুখ তুলে চাইলো সাথে সাথে অর্পনার চোখ জোড়া শীতল হয়ে উঠলো,, অসম্পর্কের খাতিরে এটা অর্পনার ভাই,, মায়ের বড়ো ছেলে অর্জুন,, বয়স আনুমানিক ১৭-১৮। অর্জুনকে দেখে অর্পনা কপাল গুটিয়ে গিয়ার চাপতে নিলে অর্জুন নিরব কন্ঠে বললো — যেও না আপুই !! গাড়িটা খারাপ হয়ে গিয়েছে,, একটু দেখবে প্লিজ? পাপ্পা সাথে নেই,, আমি নিজেই ড্রাইভ করছিলাম।
,,, অর্পনা যেতে গিয়েও থেমে গেলো,, সে জানেনা এই অসম্পর্ক গুলোতেও তার এতোটা টান কিসের। হয়তো মায়ের সাথে যুক্ত বলে। একদিক না একদিক থেকে তো একই রক্ত তারা,, টান থাকাটা কি ব্যামানান? মনে মনে তীব্র টান অনুভব করলেও উপরে উপরে বেশ কঠিন ভাব মুর্তি ফুটিয়ে তুললো অর্পনা। সে বাইক থেকে নেমে ফোল্ড করা হাতাটা টেনে টুনে আরেকটু ফোল্ড করে অর্জুনের দিকে এগিয়ে গেলো। তখনি আরও দুটো বাইক এসে থামলো সেখানে। অরুন, রাত আর পল্লব বাইক থেকে নেমে এলো। অর্পনা অর্জুনের দিকে শক্ত দৃষ্টি তাক করে বললো — ডন্ট কল মি আপুই,, ওইদিকে যা, দেখতে দে।
,,, অর্জুন সরে দাড়ালো,, অর্পনাকে গাড়ি দেখতে দেখে অরুন ও এগুলো,, অর্পনা কিছুক্ষন পর্যবেক্ষন করে জাম্প স্টার্ট করে ব্যাটারির টার্মিনাল পরিষ্কার করে দিলো। পরপর অর্জুনের উদ্দেশ্য বললো — তর বাপ ফকির নাকি? গাড়ির এই হাল কেনো? অল্টারনেটর রিপেয়ার করে নিস। টাকা থাকলে তর বড়োলোক বাপকে বলিস নতুন একটা কিনে নিতে। যাহ!! স্টার্ট দিয়ে দেখ,, চলে কি,
,,, অর্পনার কথা ফুরোনোর আগেই হুট করেই ওর হাত টেনে ধরলো কেউ। আকষ্মিক টানে ফিরে তাকালো অর্পনা, কিছু বুঝে উঠার আগেই গালে সপাটে চর পরলো। আকষ্মিক কান্ডে গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে নিলো অর্পনা,, তৎক্ষনাৎ আবারও আরেকটা চর পরলো। পরপর দুটো চর খেয়ে চোখ বুঝে নিলো অর্পনা। এই স্পর্শটা খুব চেনা, সামনে থেকে আসা স্মেলটাও বড্ড আপন। অর্পনা চোখ বুঝে রেখেই অস্ফুট স্বরে আওড়ালো — মাম্মা!!
,,, ততক্ষণাৎ আরও একটা চর পরলো,, সকাল থেকে মুখে একটার পর একটা আঘাত পেতে পেতে এই পর্যায়ে এসে ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়ালো। অর্পনার ভাবাবেগ হলো না,, আরও কয়েকটা চর খাওয়ার আশায় ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। অর্পনা জানেনা তার মা তাকে কেনো মারছে কিন্তু মা মারার সময় তাকে ছুয়ে দিচ্ছে,, কতো বছর পর মায়ের ছোয়া পাচ্ছে সে,, সেই ভাবনায় গাল পেতে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইলো। অর্পনাকে এভাবে মারতে দেখে জিদে ফেটে পরলো অরুন। পল্লব এগুতে নিলে অর্পনা হাত উচিয়ে থামিয়ে দিলো — তরা দূরে যাহ প্লিজ,, উনি আমার মা।
,,, অরুন আর পল্লব জায়গায় দাড়িয়ে পরলো,, তারা অর্পনার মাকে চিনে না,, কখনোই দেখেনি। রাত্রি থামলো না, সে ছুটে এসে অর্পনাকে জড়িয়ে দরলো। অর্জুন মায়ের হাত ধরে টানতেই বোরখায় আবৃত থাকা সুস্মিতা কাইসার অর্পনার গালে আরও একটা থাপ্পড় মেরে হিসহিসিয়ে বললো — আমাকে একদম মা বলে ডাকবি না,,অমানুষের বাচ্চা!! লোকে ঠিকি বলে,,পর কখনো আপন হয় না। যতই নিজের মানুষের মতো লালন-পালন করি না কেন, সময়-সুযোগ বুঝে একদিন ঠিকই পা দিয়ে গলা চেপে ধরবে। নিমোখহারাম। তকে একদিনো লালন পালন করিনি আমি? এই হাতে খাওয়াইনি? আমার বাপের বাড়ির নুন খাসনি তুই? সাহস হয় কি করে? নিজের বখাটে, গুন্ডা স্বামীকে দিয়ে আমার বাপের বাড়ির ক্ষতি করিস? সার্থপর। কু*লাঙ্গার। আজ বুঝলাম, রাস্তার মেয়েরা রাস্তারি হয়। তকে রাস্তা থেকে তুলে আনাটাই সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিলো আমার।
,,, সুস্মিতা কাইসারের কথায় অবাক চোখে তাকালো অর্পনা,, অনুভুতি হীন চোখ দুটোতে তীব্র কৌতহল। পর মানে? রাস্তার মেয়ে মানে? কিছুই বুঝতে পারলো না মেয়েটা। সহসা মাথা দুলে উঠলো, দুপা পিছিয়ে যেতেই রাত্রি অর্পনাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,, অরুন, পল্লব, অর্জুন কিছুই বুঝতে পারছেনা, সবাই অবাক চোখে অর্পনা আর সুস্মিতা কাইসারকে দেখছে। অর্পনাকে এতোটা অবাক হতে দেখে চোখে হাসলেন সুস্মিতা কাইসার,, মুখ বিকৃত করে কিছু কথা আওড়ালো যা অর্পনার অস্তিত্বকে দুলিয়ে দিতে সক্ষম।
,,, অবাক হচ্ছো কেনো? তোমার বাপ তোমায় এখনো বলেনি,, তুমি যে তার নিজের সন্তান না? তোমার মনে কখনো প্রশ্ন জাগলো না, এতো ভালোবাসার পরেও আমি কেনো তোমার পাপ্পাকে ছেড়ে এসেছি? আসলে সত্যি অর্থে,, তোমার বাপের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতাই নেই,, কাপুরুষ সে। তোমার বাপের কোনো ব্যাক্তিত্ব আছে বলে মনে হয় তোমার? সারাক্ষণ দ্যা গ্রেট ইনভেস্টিগেটর, গ্রেট ইনভেস্টিগেটর শুনা লোকটাও ব্যাক্তিগত ভাবে লুজার,, স্রেফ লুজার,, জানো সেটা?
,,, সাল ২০০৬ মার্চ মাসের ২ তারিখ।
,,, বিয়ের তিন বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও আজ তৃতীয় বারের মতো বউ সেজেছে সুস্মিতা কাইসার। এরকমটা সে গত তিন বছর ধরেই করে আসছে। আজ আরশাদ আর সুস্মিতার বিবাহ বার্ষিকি অথচ আরশাদ সুস্মিতার সাথে নেই। রাত পেরিয়ে সকাল হওয়ার জোগাড় কিন্তু মানুষটা এখনো তার ডিউটি নিয়েই বিজি। সুস্মিতার বেশ অভিমান হলো। এমন একটা দিনেও উনাকে ডিউটিতে যেতে হলো? গিয়েছেই যখন একটু তারাতাড়ি ফিরতে পারতো,, কিন্তু নাহ!! ফিরলো না,, আসলে আরশাদের কাছে সুস্মিতার অনুভুতির কোনো দাম ই নেই। সে সারাক্ষণ নিজের ডিউটি আর কাজ নিয়েই পরে থাকে । এসব ভাবতে ভাবতেই সোফায় গা হেলিয়ে দিলো সুস্মিতা কাইসার,, চোখ থেকে দু ফোটা পানি গড়ালো। সে ব্যাক্তিটা বড্ড সংসার প্রেমি মানুষ। সংসার ছাড়া কিছুই বুঝে না। কিভাবে স্বামীর মন জয় করে চলতে হয়,, কি করলে স্বামী খুশি হবে,, কোন খাবারটা রান্না করলে স্বামী বেশি প্রশংসা করবে এসব নিয়েই তার দুনিয়া। সাথে বাচ্চা উনার ভিষন প্রিয়,, সারাক্ষণ কল্পনা করে তার আর আরশাদের তিন চারটে ফুটফুটে বাচ্চা হবে। আর সেই বাচ্চারা তার আচল ধরে সারাক্ষণ তাকে মা মা বলে ডাকবে,, আশেপাশে ঘুরঘুর করবে। সুস্মিতা সেই বাচ্চাদের পেলে পুষে মানুষ করবে,, স্কুলে পাঠাবে,, বড়ো হলে বিয়ে সাদি দিবে,, এরকমি হাজারটা সাংসারিক চিন্তা ভাবনা নিয়ে বেচে আছে সুস্মিতা কাইসার। এক কথায় সে বুঝ হওয়ার পর থেকেই বউ হওয়ার চেয়ে বেশি মা হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। কিন্তু তাদের দূর্ভাগ্য!! আরশাদ আর তার বিয়ের তিন বছর পেরিয়ে যাবার পরেও কোনো সন্তান সন্ততির মুখ দেখতে পেলো না তারা । সেই শুরু থেকে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে দুজন,, সুস্মিতা একটার পর একটা ডক্টরের সরমাপন্য হয়েছে তবে আশানুরূপ কিছুই ঘটেনি,, এ নিয়ে তীব্র হতাশায় ভুগে সে। তার বয়স এখন আঠাশ,, এই বয়সটা মা হওয়ার বয়স,, আসেপাশে একটা বাচ্চার অস্তিত্ব টের পাওয়ার বয়স কিন্তু তার ভাগ্যে জুটছে না,, আল্লাহ কেনো যেনো এতো চেষ্টার পরেও একটা বাচ্চা দিচ্ছেন না।
,, সুস্মিতা কাইসারের অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে শেষ রাতে বাড়ি ফিরলো আরশাদ জামান সাথে করে নিয়ে এলো একটা দুই বছরের বাচ্চা মেয়েকে। বাচ্চাটা খুব সুন্দর,, একদম পুতুলের মতো,, কান্নাকাটির ফলে চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। মেয়েটা আরশাদের গলায় মুখ গুজে উকি দিয়ে দিয়ে বার বার সুস্মিতা কাইসারের দিকে তাকাচ্ছে। বাচ্চাটা বেশ নাদুস নুদুস,, পরনে নতুন একটা সুতির ফ্রগ, ফ্রগটাও দারুন, বাচ্চাটির মা হয়তো সেলাই কাজে বেশ পারদর্শী,, ফ্রগটিতে সুনিপুণ হাতে কাজ করা। আরশাদের কোলে এতো নাদুস নুদুস একটা বাচ্চা দেখে এগিয়ে এলো সুস্মিতা। চোখে মুখে অভিমান নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থেকেই প্রশ্ন করলো — মেয়েটা কে? তোমার সাথে কি করছে?
,,, আরশাদ জামান কোলে থাকা বাচ্চা মেয়েটির দিকে একবার তাকিয়ে আবার বউয়ের দিকে তাকালেন — ইদানিং বাচ্চা কিডন্যাপের কেইসটা নিয়ে তোমার সাথে বহুবার ডিসকাস করেছি সুসি,, আজ সেই কেইসেই আটকে গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে ইনফরমেশন এসেছিলো আজকে রাতে বর্ডার পাস করে বাচ্চাদের ভারত পাঠিয়ে দেওয়া হবে তারপর সেখান থেকে সোজা রাশিয়ায়। যার ফল স্বরুপ সন্ধা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়েছে। ইনফরমেশন একদম ঠিক ছিলো,, রাত ১ টা নাগাদ ২৮ জন বাচ্চা সহ ৭ জন ক্রিমিনালকে আটক করেছে আমাদের টিম। সেই বাচ্চাদের সাথেই এই মেয়েটা ছিলো,, এই মেয়েটাই সবচেয়ে ছোট, বয়স দের-দুই হবে। বাবা, মা দুটো বাক্য ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনা,, কারোর কোলেও যেতে রাজি না,, কাদতে কাদতে গলা বসে গিয়েছে। আমি কোলে নিতেই দেখলাম বাচ্চাটা চুপ হয়ে গেলো,, একদম এইভাবে বুকের সাথে মিশে রইলো,, কেউ নিতে চাইলে ভাঙা গলায় বাবা, বাবা বলে ডাকে আর কান্না করে। আমি মায়া কাটিয়ে রেখে আসতে পারিনি,, তাই সাথে করে নিয়ে এসেছি। তুমি কি রাগ করেছো? রাগ করো না। আগামীকাল প্যাপারে মেয়েটির ছবি ছাপানো হবে,, রেডিওতেও দিবো। তারপর তো মেয়েটার পরিবার সম্পর্কে জানতেই পাারবো। যতদিন না মেয়েটার আসল পরিবার খুজে পাচ্ছি, ততোদিন নাহয় মেয়েটা আমাদের সাথে থাকুক। প্লিজ!! আপত্তি করো না।
,,, সুস্মিতা এমনিতেই বাচ্চা পাগল মানুষ,, তার উপর তিন বছর যাবত সন্তান হীনা। এই নাদুস নুদুস মেয়েটাকে দেখে আর মন খারাপ করে থাকতে পারলো না। বিবাহ বার্ষিকিতে স্বামীকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ যেনো এক মূহুর্তে মিলিয়ে গেলো। সে হাত বাড়িয়ে বাচ্চাটাকে নিতে চাইলে মেয়েটা আরশাদের বুকে আরও মিলিয়ে গেলো, শক্ত করে খামচে ধরলো আরশাদের পরনের শার্ট,,অস্ফুট স্বরে আওড়ালো,, বাব্বা,, বাব্বা। আরশাদ বুঝলো মেয়েটা ভয় পাচ্ছে তাই নরম কন্ঠে বললো — এটা তোমার মা, যাও!! মায়ের কাছে যাও।
,,, মা কথাটি শুনে বাচ্চাটি সামনের রমনির দিকে তাকাতেই সুস্মিতা মুচকি হেসে বললো — আসো, মায়ের কাছে আসো। বাবা ফ্রেস হবে তো সোনা,, আসো।
,,, মেয়েটি কিছুক্ষণ সামনের রমনিকে পর্যবেক্ষণ করলো,, পরপর ঠোঁট ভেঙে কেদে আরশাদ জামানের গলায় মুখ গুজে বললো — মা না, মা না। বাব্বা!! মা না।
,,, বার বার একটা বাচ্চা মেয়ের মুখে বাবা ডাক শুনে আরশাদের ভিতরে কি যেনো হচ্ছে,, লোকে বলে মেয়রা নাকি বাবার রাজকন্যা হয়। আজ এটা খুব গভীর ভাবে উপলব্ধি করলো সে। তিন বছর যাবত বাবা না হতে পারার আক্ষেপ যেনো এক লহমায় মিটে গেলো। সেদিন আর সুস্মিতার কাছে যায়নি মেয়েটা। আরশাদ বাচ্চাটিকে নিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকেছিলো। ভেসিনের উপর বসিয়ে ড্রেস চেন্জ করে আবারও কোলে নিয়ে রুমে ফিরে এসেছিলো। সেদিন প্রথমবারের মতো একটা বাচ্চা সহ কেক কেটেছিলো আরশাদ আর সুস্মিতা,, যেটা তাদের বহুদিনের আকাঙ্খা ছিলো। এরপরের দিন সত্যি সত্যি ই খবরের কাগজে মেয়েটার ছবি ছাপানো হলো। তখন তো মোবাইল, টেলিভিশন ছিলো না,, সেই সময় খবরের কাগজ আর রেডিও ই ভরসা। সবজায়গাতেই মেয়েটার পরিবারের খোঁজ খবর চালানো হলো। এর মধ্যে আরশাদের পাগল হয়ে উঠলো দুই বছরের বাচ্চা মেয়েটি। বাবা ছাড়া সে কিছু বুঝে না, খায়না, ঘুমায়না। আরশাদের প্রতি বাচ্চা মেয়েটার এতো যে কিসের টান তা বুঝে পায়না সুস্মিতা। সময় গড়ালো দের মাস,, মেয়েটার পরিবার সম্পর্কে কোনো খোজ পাওয়া গেলো না। এই দের মাসে সুস্মিতা কাইসারকেও টুকটাক চিনে নিয়েছে মেয়েটা, কোলে যায়, হাতে খায় তবে সে বাবা ছাড়া ঘুমায়না। মেয়েটাকে সুস্মিতা কথার ছলে নাম জিজ্ঞেস করলে মেয়েটা আদো আদো কন্ঠে বলে “অ,প্পো,, অপ্পো” এই অপ্পো এর মানে আরশাদ কিংবা সুস্মিতা কেউ বুঝতে পারনা,, এই নামটা ধরে ডাকাও অসম্ভব,, এটা কোনো নাম হলো? অগত্যা তারা বাচ্চাটিকে বাবু বলে ডাকা শুরু করলো। এর কিছুদিন বাদে একদিন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় আরশাদের,, তার বুকের উপর হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে বাচ্চাটি আর বাহুতে মাথা রেখে,, বুকে মুখ গুজে শুয়ে আছে সুস্মিতা। আরশাদের মনে হলো এর থেকে সুখকর দৃশ্য বোধয় কিছু হয়না। অগত্যাই বেকে বসলো সে,,
দুই মাস পেরুনোর পরেও যখন মেয়েটার পরিবারের খোজ মিললো না তখন আর এই মেয়ের পরিবারের খোজ চালাবে না সে। এই মেয়ে তার, এই মেয়ের সাথে অধ্ব প্রান্ত অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে সে ,, মেয়েটাকে ছেড়ে বাচা অসম্ভব। এরপরের দিন সকালে বিষয়টা সুস্মিতাকে জানালে সে অসন্তুষ্ট গলায় বললো — অন্যের বাচ্চাকে নিজের বলে লালন পালন করলেই নিজের হয়ে যায়না আরশাদ। আমার নিজের বাচ্চা চাই,, একেবারে নিজের গর্ভ থেকে আসা।
,,, আরশাদ নিজ স্ত্রীকে কাছে টেনে আশ্বাস দিলো — আল্লাহ চাইলে অবশ্যই আমাদের বাচ্চা হবে সুসি তাই বলে এই মেয়েটা কি আমাদের বাচ্চা হতে পারেনা? তোমার তো অনেকগুলো বাচ্চার সখ,, সেই সখের মাঝে এই মেয়েটাকে রেখে দেই? আমাদের বড়ো মেয়ে হয়ে থাকুক সে?
,,, এই পর্যায়ে সুস্মিতা মেনে নিলো,, মেয়েটা যেহেতু নিজের নাম অপ্পো বলে তাই আরশাদ আর সুস্মিতা মিলে এই নামের কাছাকাছি একটা নাম খুজতে শুরু করলো। তবে আশানুরুপ কিছুই পেলোনা। আরশাদ জামান বরাবরই চাইতেন উনার সন্তান বড়ো হয়ে পরোপকার করবে,, অন্যের জন্য নিজেকে উজার করতেও দুবার ভাব্বে না। অর্পন অর্থ যেহেতু উজার করা। তাই এই নামটাই সিলেক্ট করলো আরশাদ,, সুস্মিতাকে নামটা জানাতেই খুশি হলো রমনি। এই নামটার সাথে অপ্পো নামটাও কাছাকাছি শুনায় তাই মেয়েটির নাম রাখা হলো অর্পন।
সুস্মিতা কাইসার বিদেশি সভ্যতায় অভ্যস্ত হওয়ার দরুন সে মেয়ের নাম রাখলো পৃথা। দুটো নামের মাঝখানে আরশাদ জামানের সারনেইম এড করে অপ্পো হয়ে উঠলো আরশাদ আর সুস্মিতার পৃথা জামান অর্পনা। তাদের এই সিদ্ধান্তে আরশাদ জামানের বাবা মাও বেশ খুশি হলেন,, তারাও চাইতেন মরার আগে নাতি নাতনির মুখ দেখে যেতে যা অর্পনার মাধ্যমে পূর্ন হলো। স্রোতের মতো সময় গড়ালো,, অর্পনা বড়ো হলো,, ধীরে ধীরে অতীতের সব কথা ভুলে গেলো মেয়েটা। সে এখন আর আরশাদকে বাব্বা বাব্বা করে না, সুস্মিতা কাইসারের শিখানো স্বরে পাপ্পা বলে ডাকে,, সুস্মিতাকে ডাকে মাম্মা,, দাদুকে গ্রাপ্পা আর দাদিকে ডাকে গ্রাম্মা। তিন বছর বয়স থেকে অর্পনা তার পাপ্পার জিরোক্স কপিতে পরিনত হলো,, সেইম ড্রেস, সেইম স্টাইল, সেইম হেয়ার কাট, কেউ ওকে দেখলে সহজেই বুঝতে পারতো না ও যে একটা মেয়ে। অর্পনার এটিটিউড ছিলো আকাশ ছোয়া যা আদর দিতে দিতে আরশাদ জামান আরও বাড়িয়ে তুলেছেন। অর্পনার যখন চার বছর তখন সুস্মিতা কাইসার আর আরশাদ জামান বাচ্চা নেওয়ার জন্য একসাথে ডক্টরের সরনাপন্য হলেন। পাচ বছর যাবত বাচ্চা হয়না শুনে ডক্টর দুজনকেই কিছু টেস্ট দিলেন। সেই টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর আরশাদ জামান আর সুস্মিতা কাইসার একটা তীব্র ধাক্কা খেলো।
আরশাদের স্পার্ম কাউন্ট জিরো,, ইম্প্রেশন এজোজ পার্মিয়া,, এফ.এস. এইচ খুব বেশি আর টেসটোস্টেরন খুব কম। সবকিছু সমাধান করা গেলেও স্পার্ম কাউন্ট জিরো হওয়ায় বাচ্চার উৎপত্তি সম্ভব নয়। গর্ভাশয়ে পৌছানোর মতো শুক্রাণু না থাকার দরুন সহসাই বলতে হচ্ছে আরশাদ জামান কখনোই বাবা হতে পারবেননা। এরপর থেকে সুস্মিতা কাইসার পাল্টে যেতে থাকেন ,, সারাক্ষণ একটা নিজের বাচ্চার জন্য আহাজারি করেন, কাদেন আর আরশাদকে দোষারোপ করেন। আরশাদ জামান চুপচাপ মেনে নেয় সেসব,, দোষটা যেহেতু উনার সেহেতু কথা শুনতেই হবে,, এটা স্বাভাবিক। তারো একবছর পর সুস্মিতা কাইসারের ঝগড়ার পরিমান বাড়লো,, প্রতিদিন কারনে অকারনে চেচামেচি করতো, ডিভোর্স চাইতো কিন্তু আরশাদ জামান দিতে রাজি ছিলেন না। হয়তো উনার বাবা হওয়ার ক্ষমতা নেই কিন্তু উনার তো একটা মন আছে,, তিনি একজন মানুষ,, ভালোবাসে সুস্মিতাকে। এতোটাই ভালোবাসে যে,, সুস্মিতা যদি উনার প্রানটাও চায় তাহলে এক মুহুর্ত না ভেবে তিনি সুস্মিতার জন্য প্রানটা বিসর্জন দিয়ে দিবে। আরশাদ জামান বার বার অর্পনাকে দেখিয়ে বলতেন।
,,, আমায় ছেড়ে যেওনা সুসি,, আমাদের তো অর্পনা আছে,, ওটা কি আমাদের বাচ্চা না? আমি তুমি আর অর্পনা সাথে বাবা মা। কতো সুন্দর সংসার আমাদের,, এর থেকেও পরিপূর্ণ কিছু হতে পারে বলো?
,,, সুস্মিতা মেনে যেতেন,, বুঝালে ক্ষনিকের জন্য বুঝতেন কিন্তু দিন পেরুলেই আবারও নিজের একটা বাচ্চার জন্য আহাজারি করতেন। আরশাদ তখন নিরুপায় হয়ে এই ডক্টর, ঐ ডক্টরের কাছে ছোটাছুটি করতো। কিন্তু কেউ কোনো সুরাহা দিতে পারেননি। এর বছর খানিক পর হুট করেই শুনলেন সুস্মিতা প্রেগন্যান্ট। একটা প্রশ্ন ও করেনি আরশাদ জামান। তিনি জানতেন বাচ্চাটা তার নয়,, সুস্মিতা উনাকে ঠকাচ্ছে তবুও অন্ধ ভালোবাসার খাতিরে মেনে নিলেন। অর্পনাটা তখন মা পাগল,, সে এখন পাপ্পার চেয়েও বেশি মাকে ভালোবাসে। মা আর বাবাকে প্রতিনিয়ত ঝগড়া করতে দেখে ছয় বছরের মেয়েটা বুঝে যায় তার মা তাকে যখন তখন ছেড়ে যেতে পারে।
মাম্মা যে খালি পাপ্পাকে ডিভোর্স দিতে চায়,, অর্পনা তো জানে ডিভোর্স মানে দূরে থাকা। তখন সে ক্লাস ওয়ানে পরেনা? তাইতো সব বুঝতে পারতো। মেয়েটা রাতে ঘুমানোর সময় মায়ের শাড়ির আচল হাতের সাথে বেধে ঘুমাতো যেনো মা চলে যেতে চাইলে সে উঠে পরতে পারে আর কেদে কেটে হলেও মাকে আটকে দিতে পারে। এর চারমাস পর সুস্মিতা কাইসারের মিসকারেজ হয়ে গেলো। সেদিন উন্মাদের মতো কেদেছিলো সুস্মিতা কাইসার। একটা অন্যের বাচ্চা মরে যাওয়ায় আরশাদ জামান একজন ঠক নারীকে বুকে জড়িয়ে শান্তনা দিয়েছিলেন সেদিন। এরপর থেকে ঝগড়ার মাত্রা আরও বাড়লো। এই পর্যায়ে বিচ্ছেদ নিশ্চিৎ,, এমনো সময় গিয়েছে আরশাদ জামান সুস্মিতার পায়ে ধরে অনুরোধ করেছে একটু থেকে যাওয়ার জন্য,, সুস্মিতাকে ছাড়া সে বাচবে কি করে? সন্তান না হোক, ভালোবাসাটা তো আছে,, সেটা তো আর মিথ্যে হয়ে যায়নি। কিন্তু সুস্মিতার ভাবাবেগ ছিলো না,, সে মত্ত ছিলো অর্জুনের বাবার মাঝে। অর্পনার যখন সাত বছর তখন আবারও প্রেগন্যান্ট হলো সুস্মিতা কাইসার। আর সেই প্রেগন্যান্সি ই কেড়ে নিলো অর্পনার সুখ, মাম্মা আর সুন্দর একটা জীবন। সেই প্রেগন্যান্সি থেকেই জন্ম হলো অর্পনার সামনে দাড়িয়ে থাকা অর্জুনের।
,,, থরথর করে কাপছে অর্পনার সম্পূর্ণ কায়া,, রাত্রি অর্পনাকে জড়িয়ে ধরেই ফুপিয়ে উঠলো। মেয়েটা কিছুক্ষণ আগেই বাবা ছাড়া কেউ নেই বলে আফসোস করছিলো অথচ এই মুহুর্তে এসে জানলো বাবাটাও তার নিজের না। অর্পনার এবার হবে? কিভাবে মেনে নিবে এসব মেয়েটা? সুস্মিতা কাইসারের বাক্য ব্যায় শেষ হতেই অর্পনা উন্মাদের মতো নাক ডলতে লাগলো,, মুহুর্তেই নোজ ব্ল্যডিং শুরু হলো। আতকে উঠলো সেখানে থাকা সবাই,, ব্রেইনে অতিরিক্ত চাপ পরলে এভাবে নোজ ব্ল্যাডিং হয় যা ব্রেইন স্ট্রোকের পূর্বাভাস। সুস্মিতা কাইসার নিজেও বিচলিত হলেন,, যতই হোক অর্পনাকে সে মেয়ে বলেই মানে। সুস্মিতা হাত বাড়াতে নিতেই অর্পনা বাহুতে নাক ঘষলো,, অর্পনার অভিব্যাক্তি দেখে বুঝার যো নেই মেয়েটা ঠিক কি পরিমান যন্ত্রণা সহ্য করছে,, কি চলছে তার মনে। অর্পনা নাক মুছে বেন্ডেজ করা হাতে ঘাড় ডললো। একটা গাড়ো নিশ্বাস ফেলে রাত্রিকে নিজের থেকে দুরে সরিয়ে দিলো। রাত্রি আবার ধরতে নিলে অগ্নি চোখে তাকালো মেয়েটা পরপর দুপা এগিয়ে একদম সুস্মিতা কাইসারের মুখোমুখি হলো। নিজের থেকেও দু ইঞ্চি লম্বা বোরখা পরিহিত রমনির দিকে বাকা চোখে তাকিয়ে কাট কাট গলায় প্রশ্ন করলো — তারমানে আপনি আমায় জন্ম দেননি? আপনি আমার নিজের মা না?
,,, সুস্মিতা কাইসার দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো মানে জন্ম দেয়নি। অর্পনা ডান হাতটা পিছনের পকেটে নিতে নিতে ফের প্রশ্ন করলো — আমার পাপ্পা বাবা হতে পারবেনা বলে তার বাড়িতে থেকে,, তারটা খেয়ে,, তার বিছানায় ঘুমিয়ে দুই দুইবার প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলেন? তাহলে কি অর্জুন আপনার অবৈধ সন্তান ছিলো?
,, অর্পনার সরাসরি কথায় ভরকে গেলেন সুস্মিতা কাইসার,, দ্বিধান্মিত কন্ঠে বললো — তুমি যেটা ভাবছো সেটা সত্যি না,, আমি তো,,
,,, শেষ করার ফুসরত পেলো না সুস্মিতা কাইসার,, সেকেন্ডের গতিতে একটি বুলেট এসে বিধে গেলো বক্ষ পিন্জরে,, আকষ্মিক গুলির শব্দে কান চেপে ধরলো সবাই। সুস্মিতা কাইসার মরন বিদারক চিৎকার লুটিয়ে পরলেন শান্ত, নিরব রাস্তায়। অর্জুন আতকে উঠে মায়ের পাশাপাশি বসে পরলো। রাত্রি তখনো কান চেপে চোখ বুঝে রেখেছে,, অরুন আর পল্লব অনুভুতি শুন্য হয়ে কি থেকে কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। অর্পনার আবারও নোজ ব্ল্যাডিং শুরু হয়েছে,, মাথা ঘুরছে,, মেয়েটা পাত্তা দিলো না সেসব,, রাস্তায় কাতরাতে থাকা সুস্মিতা কাইসারের বুকে আরও একটা স্যুট করে অগ্নি কন্ঠে আওড়ালো — মাদার ফা*কার,, ব্লা*ডি বি*চ!! মর তুই।
,,, বলেই লাত্থি বসিয়ে হেটে গেলো বাইকের কাছে,, এই পর্যায়ে সম্ভিত ফিরলো অরুন পল্লবের। অর্জুন মাকে কোলে তোলার প্রয়াশ চালাচ্ছে দেখে অরুন এগিয়ে গিয়ে সুস্মিতা কাইসারকে কোলে তুলে নিলো। ইমেডিয়েট উনাকে হসপিটালিস্ট করতে হবে নয়তো অর্পনা জাবত জীবন কিংবা ফাসি নিশ্চিৎ। অর্পনা তখন বাইকে উঠে বসেছে। হাতে থাকা ৮ ইঞ্চি সাইজের লাইসেন্স প্রোভ রিভলবারটা আবারও পকেটে গুজে দিলো। এটা তাকে দ্বীপ দিয়েছিলো আত্মরক্ষার জন্য কিন্তু এটা যে এতোটা কাজে আসবে মেয়েটা ভাবতেও পারেনি।
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৮
অর্পনাকে বাইক স্টার্ট করতে দেখে আটকে দিলে পল্লব,, বিচলিত কন্ঠে আওড়ালো — অর্পন!! দোস্ত,, নাম বাইক থেকে। তকে ঠিক লাগছে না,, নাক থেকে অনবরত রক্ত গড়াচ্ছে,, যা খুশি হয়ে যেতে পারে। নাম প্লিজ!! তর কিছু হলে দ্বীপ ভাইয়ার কি হবে? বল!!
,,, অর্পনা নাক মুছে ফিচেল হেসে পল্লবকে ধাক্কা মেড়ে দুরপ সরিয়ে দিলো পরপর গিয়ার চেপে আওড়ালো — আমার কেউ নেই,, আর না আমি কারোর।
