Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৮

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৮

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৮
রুপান্জলি

,,, জোহান, আমার কথা শুন ভাই। একটা ছেলে ওর দিকে তাকাতেই পারে এতে তো পারুর কোনো দোষ নেই বল। বাচ্চা একটা মেয়ে, এমনি তকে ভয় পায়। এভাবে রাগারাগি করলে ও কোনোদিন তর সাথে সহজ হতে পারবেনা আর না তকে ভালোবাসবে। একটু শান্ত হো ভাই, শান্ত হো।
,,,বিহানের বলা প্রতিটা কথার লজিক আছে,, কিন্তু দ্বীপের মন মানছেনা, তার চোখে শুধু ঐ সময়কার কথা ভাসছে, ঐ ছেলেটা কেনো তার পারুকে দেখবে? পারু তো শুধু তার, একান্ত দ্বীপের পারু সে। দ্বীপ অধৈর্য হয়ে বললো — তাহলে ঐ ছেলেটাকে শেষ করে দেই?

,,,, বিহানের কেমন যেনো হাসি পেলো তবে হাসলোনা। হাসলে আজ তার অবস্থা খারাপ করে দিবে এই ছেলে, তখন তার মেধার কি হবে? মেধার জন্য হলেও তার বেচে থাকাটা জরুরি। বিহান দ্বীপকে মানানোর মতো করে বললো — আচ্ছা!! ঐ ছেলের কেইসটা আমার হাতে ছেড়ে দে, তুই শুধু পারুতে ফোকাস কর। ও যদি একবার তর সাথে সহজ হয়ে যায় তাহলে আর তকে এভোয়েট করতে পারবেনা ভাই। বিশ্বাস কর, তর যেই চোখ!! মেয়ে হলে আমি নিজেই তর গলায় ঝুলে থাকতাম। সত্যি, কসম আল্লাহর।

,,, দ্বীপ ভ্রু কুচকে বিরক্তিকর কন্ঠে বললো— সরতো, মেয়েদের মতো কথাবার্তা বলবিনা, সহ্য হয়না।
,,,বিহান হাসলো, দরজার কাছে গিয়ে উকি ঝুঁকি দিয়ে দেখলো পারু ক্লাস থেকে বের হয় কিনা। কিন্তু নাহ!! মেয়েটা এখনো আসছেনা। এই রাগী বদমেজাজি দ্বীপকে সে কিভাবে সামলায় সেটা একান্ত সেই জানে। এই মুহুর্তে মেয়েটা না এলে দ্বীপকে সামলানো কঠিন। যতটা শান্ত হয়েছে সেটাও কখন না জানি বিগরে যায়। বিহান মনে মনে আল্লাহ এর কাছে দোয়া করছে এবার যেনো পারু বের হয়, এবার যেনো পারু বের হয়। বিহানের দোয়া কবুল হলো, মেয়েটা পুতুলের মতো ধীরে ধীরে হেটে আসছে, বিহানের ঠোটে হাসি ফুটলো। কথায় আছেনা? পরের সুখে সর্গবাস, বিহানের হয়েছে সেই দশা। সে মনে মনে আল্লাহ এর কাছে বহুবার দোয়া করেছে, পারু যেনো দ্বীপকে ভালোবাসে। দ্বীপ যে পারুর মাঝে আটকে যাবে এটা প্রথম দিনেই বুঝেছিলো বিহান। যেই দ্বীপের সি*গারেটে বিহান এই ২৪ বছরেও এক টুকরো ভাগ বসাতে পারেনি। সেখানে একটা মেয়ে চাইতেই সাথে সাথে সেটা দিয়ে দিলো? আর এই কদিনে দ্বীপের মাঝে যে পাগলামির আভাস সে দেখেছে সেটাই বার বার প্রমান করে দিতো, দ্বীপ পারুর জন্য অস্থির, বিহানের ভাবনার মাঝেই পারু ওর সামনে এসে দাড়ালো। এটা করিডোরের শেষের দিকের ক্লাসরুম, এক ক্লাস পেরুলেই নিচে নামার শিরি। পারু এসে দাড়াতেই বিহান ছোট করে বললো—

,,,ভাবি, জোহান খুব রেগে আছে, কিছু বললে রাগ করবেন না। পারলে একটু সুন্দর করে কথা বলবেন। আপনি সুন্দর করে কথা বললে ওর রাগ কমে যাবে, আশা করার যায়।
,,,পারু কিছুই বললোনা শুধু কাঠের পুতুলের মতো হেটে ক্লাস রুমে চলে গেলো, যেনো তাকে কেউ জাদুবল দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্লাসে ঢুকে দেখলো দ্বীপ একটা বেন্চের উপর বসে আছে, চোখ মুখ রাগে লাল হয়ে আছে, তবে পারুকে সে কিছুই বলছেনা, একপ্রকার অন্য দিকেই তাকিয়ে আছে। পারু মিনিমিনে স্বরে বললো– কিছু বলবেন?
,,,,দ্বীপ তেড়ে গিয়ে পারুর বাহু শক্ত করে ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো। রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে, মন চাচ্ছে ঐ ছেলে আর পারু দুটোকে কেটে কুটি কুটি করে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে। দ্বীপ রাগত স্বরে বললো — তুই বুঝিস না কি বলবো? তুই কি বাচ্চা? ঐ ছেলেটা তোর দিকে তাকিয়ে ছিলো কেনো? ওকে কিছু বললিনা কেনো তুই ?
,,,হাতের ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো পারু, চোখ মুখ খিচিয়ে কিছুটা সাহস নিয়েই বললো — আপনিও তো আমার দিকে তাকান, আমি কি আপনাকে কিছু বলি?

,,, মুখে মুখে তর্ক করাটা পছন্দ হলোনা দ্বীপের। সে হাতের চাপ বাড়িয়ে দিলো, তিব্র বেথায় পারুর চোখ ছল ছল করে উঠলো। দ্বীপ দাতে দাত চেপে হিসহিসিয়ে বললো — আমার সাথে সবার জোড়া? আমি তকে বিয়ে করবো, ভালোবাসবো, আদর করবো। তারমানে কি ওরাও তকে এসব করবে? নিজেকে সস্তা বানাচ্ছিস কেনো?
,,,পারু চুপ রইলো, ওর নিশ্চুপতা দ্বীপের সহ্য হয়না। আবার মুখে মুখে তর্ক করাটাও পছন্দ না। সে চায় পারু তার সাথে একটু মিষ্টি করে হেসে কথা বলুক। কিন্তু এই মেয়ে সবসময় তার ইচ্ছার বিপরীতে চলে। কি এমন ক্ষতি হয়ে যাবে একটু মিষ্টি করে কথা বললে? দ্বীপ যে এই মেয়ের জন্য কতোটা পাগল সেটা কি এই মেয়ে কোনোকালেই বুঝবে না? পারুর ব্যাথিত মুখ খানা আরও কষ্ট দিলো দ্বীপকে। সহসাই পারুর হাত ছেড়ে গাল আকরে ধরলো, আবারো সেই ঠোটের নিচে থাকা তিলকে হাত ছুইয়ে বললো, — চলোনা বিয়ে করি।
,, ঝটকা মেরে সরে গেলো পারু, দ্বীপ এগুতে নিলে সে পিছিয়ে গেলো। থেমে গেলো দ্বীপ, আর ওর দিকে এগুলো না। দুজনার মাঝে এখন বেশ খানিকটা দূরত্ব। পারু পিছাতে পিছাতে বললো– পৃথিবীতে মেয়ের অভাব নেই, আপনি চাইলেই যেকোনো মেয়েকে নিজের করতে পারবেন। শুধু আমাকে ছেড়ে দিন, আমি অত্যন্ত সাধারন একটা মেয়ে, আপনার সাথে লড়াই করে বাচতে পারবোনা। প্লিজ আমার পিছু ছেড়ে দিন।

,,,, দ্বীপ নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে চাইলো, কন্ঠে কিছুটা আবেগ মিশিয়ে বললো– আমার তো যেকোনো মেয়ে চাইনা পারু, আমার তোকে চাই। তুই আমার হয়ে যা। সত্যি বলছি অনেক ভালোবাসবো, আদর করবো।
,,, কে বুঝে দ্বীপের ব্যাকুলতা? কেউ বুঝেনা। আর এই মেয়ে তো একেবারেই বুঝেনা। বুঝতে চায় ও না। বুদ্ধু, বোকার মতো ফ্যাচ ফ্যাচ করে কেদে দেওয়া ব্যাতিত কিছুই পারেনা এই মেয়ে। এখনো কেদে দিলো পারু,, দ্বীপের পরে যাওয়া রাগটা আরও কয়েক কদম বাড়লো,, এক প্রকার ধমকের স্বরে বললো — যাহ!” তোর ভালোবাসতে হবেনা। আমি একাই বাসবো,, যা এবার ক্লাসে যা। এটাই ফাস্ট এন্ড লাস্ট ওয়ার্নিং,, আর যদি কখনো তোকে ছেলেদের সাইডে বসতে দেখেছি? তবে সেদিনি তোর শেষ দিন। যা এবার, যাহ!!
,,,দ্বীপের প্রতিটা ধমকেই কেপে উঠে পারু, এটা যেনো নিয়ম মাফিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। পারুকে এরকম ভয়ে কাপতে দেখে দ্বীপের মায়া হলো। সামনে দাড়িয়ে থাকা রমনিটা বড্ড নাজুক,, মন খুলে দুটো কথা বলতে পারেনা। সাজ সজ্জাও তেমন নেই, পরনে বাদামি কালারের কুর্তি, মুখে, হাতে পায়ে সরিষার তেল, মাথা বর্তি নারকেল তেল, দেখতে সত্যি তেলোবতীর মতো লাগে। আর এই সাদামাটা তেলোবতীকেই দ্বীপের চাই,, খুব করে চাই। পারুকে এখনো যেতে না দেখে দ্বীপ ভ্রু কুচকে বললো —

,,,কিছু বলবে?
,,, পারু মাথা ঝাকিয়ে মিনমিন করে বললো — আপনি আর আমার হোস্টেলের ভিতরে ঢুকবেন না প্লিজ। সবাই আমাকে খারাপ ভাব্বে।
,,,আচ্ছা ঢুকবো না, তবে তার জন্য তোমাকে শর্ত মানতে হবে।
,,,কি শর্ত?
,,, সবসময় আমার কথা শুনে চলতে হবে। আমি যখন যখন তোমায় দেখতে চাইবো তখন তখন দেখা দিবে। বাড়িয়ে দেখা দিলেও আমার সমস্যা নাই, তোমাকে দেখলে আমার খুব শান্তি শান্তি ফিল হয়। আর,(দুষ্ট হেসে) এই মুহুর্তে আমাকে একটা কিস দিতে হবে তাহলেই অল ওকে,, আর কখনো তোমার হোস্টেলে ঢুকবোনা।
,,, কথাটা বলে দ্বীপ চুমু খাওয়ার উদ্দেশ্যে এগুতে নিবে ততক্ষণাৎ দৌড়ে ক্লাস থেকে বেড়িয়ে গেলো পারু। ও যেতেই ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো দ্বীপ,, সামান্য চুমু দিতে বলায় এভাবে পালালো অথচ দ্বীপ প্লান করে রেখেছে পারু রাজি হলেই বিয়েটা করে নিবে। এখন চুমু দিতে এতো অসুবিধা হলে বিয়ের পর কি করবে মেয়ে? তখন কোথায় পালিয়ে বাচবে? ভাবতে ভাবতে হঠাৎই রেগে গেলো দ্বীপ। তার সব রাগ এখন ঐ ছেলের উপর। তার পারুর দিকে নজর দেওয়ার জন্য ঐ ছেলেকে অমুল্য খেসারত চোকাতে হবে।

০৯/০৩/২০১৯
,,,, মাঝে কেটেছে পাচ দিন, আজ দিনটা বুধবার। এই পাঁচ দিনে দ্বীপের মর্জি মতো চলতে চলতে পারুর জীবন উষ্ঠাগত। কখনো ভার্সিটির ক্যাম্পাসে থেকে ডেকে নিয়ে ভালোবাসার কথা জানাচ্ছে তো কখনো ভার্সিটি যাবার পথে বিহানকে নিয়ে তার পিছু পিছু হাটছে। প্রতিদিন সকালে একটা করে ফুলের থোকা দেওয়া যেনো দ্বীপের নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। এখন আর সেই ফুল প্রত্যাক্ষান করেনা পারমিতা। প্রত্যাক্ষান করলেই যে তার ডাক পরবে,, আর দ্বীপ মির্জার ভালোবাসাময় বানী শুনতে হবে। তাই এখন সে ফুলগুলোকে যত্ন করেই নিজের কাছে রেখে দেয়। সে যখন ভার্সিটি প্রঙ্গনে কিংবা ক্যাম্পাসে অবস্থান করে তখন দ্বীপ ভার্সিটির করিডরে ঠিক তার বরাবর দাড়িয়ে থাকে। সারাক্ষণ তার মাঝে কি দেখে এই লোক? পারু জানেনা। তার মতো একটা সাধারন মেয়ের জন্য কিসের এতো বেকুলতা এই দ্বীপ জোহান মির্জার? কি আছে পারুর মাঝে? নাহ তেমন আহামরি কিছুই তো খুজে পায়না সে। অথচ দ্বীপ কতোটা সুন্দর। তার সৌন্দর্য, ব্যাক্তিত্ব, স্টাটাস সব মিলিয়ে যেকোনো নারীর কল্প পুরুষ হওয়ার যোগ্যতা রাখে সে। কিন্তু তার রাজনীতি আর সিগারেট খাওয়ার ব্যাপারটা পছন্দ না পারুর। তবে ঐ লোক তো জানিয়েই দিয়েছে পারুর জন্য সে ওসব ছাড়বেনা, তাহলে পারু কেনো তার জন্য মায়া দেখাতে যাবে? আর মায়া দিয়ে কি ভালোবাসা হয়? মায়া তো রাস্তার ভিক্ষুককে দেখলেও লাগে।

তার মানে কি পারু সেই ভিক্ষুক কে ভালোবেসে বিয়ে করে নিবে? নাহ নিবেনা। ভালোবাসা একটা সুপ্ত অনুভূতি যা চাইলেও কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনা। মানুষ ভালোবাসায় পরলে ঠিক ভুল বুঝেনা, ন্যায় অন্যায় মানেনা। কই পারুর তো দ্বীপের প্রতি তেমন কোনো অনুভুতি হচ্ছেনা? তার মানে পারু দ্বীপকে ভালোবাসেনা। এসব ভাবতে ভাবতে পারু মাথায় তেল দিচ্ছিলো। হিন্দু ধর্মিয় কোনো এক পুজা আর্চনার কারনে আজ ভার্সিটি বন্ধ,, এতে যেনো অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছে মেয়েটা। আজ আর ঐ দ্বীপ মির্জার সামনে পরতে হবেনা আর না ওসব রাগারাগি, বেলাজ কথা বার্তা শুনতে হবে। সেসব ভেবেই বিছানায় গা হেলিয়ে শুয়ে পরলো পারমিতা। সে যখন শান্তিতে চোখ বুঝতে ব্যাস্ত আকষ্মিক ভাবে রুমে তখন হল সুপারের আগমন। হল সুপারের কন্ঠে নিজের নাম শুনে লাফিয়ে উঠলো পারু,, সেদিন রাতের পর থেকে এই হল সুপারটাকে দেখলেই পারমিতার আত্মা ছলকে উঠে। আজ আবার কোন দুঃসংবাদ দিতে এসেছে কে জানে? ছুটির দিন হওয়ায় দুপুরে খাওয়ার পর সিমি আর আদিবা আপু ও ঘুম দিয়েছিলো। এখন হুট করে হল সুপারের ডাকাডাকি শুনে আদিবা আপু ধমকের স্বরে বললো — কি হয়েছে আন্টি চেচাচ্ছেন কেনো? ঘুমাচ্ছি দেখতে পাচ্ছেন না?

,,, হল সুপারটি বিরক্তিকর দৃষ্টিতে আদিবার দিকে তাকালে আদিবা আবারও চোখ বন্ধ করে নিলো। পারু কয়েক পা হেটে হল সুপারের কাছে পৌছাতেই তিনি পারুর হাতে একটা বক্স ধরিয়ে দিয়ে বললেন– দ্বীপ দিয়েছে এটা। বাহিরে অপেক্ষা করছে, আর তোমাকে বলেছে কল ধরতে। যা যা বলেছে তাই তাই করবে আমি এখন যাই।
,,,বলেই তিনি চলে গেলেন। পারু তপ্ত শ্বাস ফেলে রেপিং পেপারে রেইপ করা গিফ্ট বক্সটা বিছানার উপরে রাখলো। পরপর জানালার পাশে গিয়ে দাড়াতেই দেখলো দ্বীপ আর বিহান বাইকে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। দ্বীপকে দেখে একদম থমকে গিয়েছে পারু,, কালো পান্জাবিতে কাউকে এতোটা সুন্দর লাগতে পারে তা জানা ছিলোনা তার। পারু কতক্ষণ ধ্যান মগ্ন হয়ে দ্বীপকে দেখলো, বুক ঝুরে কেমন শীতলতা বয়ে যাচ্ছে। দেখা শেষ হলে সে আবারও ফিরে গিয়ে গিফ্ট বক্সটা খুলতেই দেখলো সেখানে কালো রঙা একটা শাড়ি, কাজল, আলতা, টিপ, মেচিং চুড়ি, মাটির সিম্পল গয়না রাখা। সাথে রয়েছে একটা চিরকুট। পারু চিরকুট টা মেলে দেখলো তাতে লেখা,,
,,,আমার অবাধ্য প্রেমিকা, আপনার প্রেমিকের খুব প্রেম তৃষ্ণা পেয়েছে। গল্প সিনেমার নায়ক যেমন নাইকাকে নিয়ে রিকশায় ঘুরে প্রেম করে, তেমনি আপনার প্রেমিক ও আপনার সাথে প্রেম বিনিময় করতে চায়। আমি কি সেই সুযোগ পাবো? একটু বধু সেজে দেখা দিবেন? আমি আপনার অপেক্ষায় থাকবো, আপনি যতক্ষণ না আসবেন আমি এখানেই অপেক্ষা করবো।

,,তোমার পারসোনাল লাভার,,,
,,,পারু একবার বক্সে থাকা জিনিসগুলো দেখলো, নাহ কোনোভাবেই এসব পরা সম্ভব না। আর না ঐ লোকের সাথে ঘুরতে যাওয়া সম্ভব। না গেলে কি হবে? হোস্টেলের ভিতর চলে আসবে? আসলে আসুক, ঐ লোকের সাথে শাড়ি পরে ঘুরতে যাওয়ার চেয়ে রাগ সহ্য করে নেওয়া ব্যাটার। যেই ভাবা সেই কাজ, পারু শাড়ীর বক্সটা বন্ধ করে পরার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিলো। পরপর বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো, যদিও দ্বীপের মেজাজ নিয়ে তার চিন্তা হচ্ছে তবুও চোখ বন্ধ করে নিলো। একটা ঘুমের খুব প্রয়োজন, নয়তো চিন্তায় চিন্তায় মাথাটা জ্যাম হয়ে যাবে।
,,,,৪ টার দিকে ঘুমিয়েছিলো পারমিতা, এখন বাজে সন্ধা সাতটা। বাহিরে তুমুল বৃষ্টি, এই বৃষ্টিটা শুরু হয়েছে মাগরিবের আগে, এখনো থামার নাম গন্ধ নেই। পারুর আবার বৃষ্টির শব্দে ভালো ঘুম হয় তাইতো সন্ধা গরিয়ে যাওয়ার পরেও ঘুম থেকে উঠেনি। মেইলি প্রবলেমের কারনে আজ নামাজ পড়ার ও ঝামেলা ছিলোনা তাই শান্তিতেই ঘুমাতে পেরেছে। ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙলো পারু,, মন চাইলো একটু বৃষ্টি বিলাস করতে তাই ধীর পায়ে হেটে জানালার পাশে এসে দাড়ালো। বৃষ্টি এসেছে দেখে বোধয় সিমি ঝানালাটা বন্ধ করে দিয়েছিলো। পারু ঝানালার একটা ফটক খুলে প্রতিবারের ন্যায় চোখ বন্ধ করে নিলো।

বাহিরের স্নিগ্ধ কোমল বাতাস আর ঝরঝরে বৃষ্টির ঝাপটা পারুর মুখদ্বয় ভিজিয়ে দিলো। বৃষ্টির পরিমান চেক করতে রাস্তায় নজর দিলো পারু,, ততক্ষণাৎ বিশ্ময়ে হা হয়ে গেলো তার মুখ। দ্বীপ একা বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সাথে বিহান নেই। উনি কি তবে বাড়ি যাননি? পারুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন? পারুর ভিতরে কেমন যেনো করে উঠলো। মাগরিবের আগে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে এখন বাজে ৭ টা হিসেব মতো ঘন্টা খানিক ধরে ভিজে যাচ্ছেন উনি। ওফফ!! এমন কেন লোকটা? নিজেকে নিয়ে এতো বেখেয়ালি হলে চলে? এখন যদি জ্বর আসে তখন কে কষ্ট পাবে? নিজেই তো পাবে, পারু তো আর তার জ্বরে কাতরাতে যাবেনা, তাইনা? কি করবে ভেবে পেলোনা মেয়েটা। বালিসের তলা থেকে বাটন ফোনটা বের করে দ্বীপের নম্বরে কল করলো ওপাশ থেকে রিসিভ করার নাম নেই। একটা, দুটো, পাঁচটা, আটটা কল করার পরেও যখন দ্বীপ কল ধরলোনা তখন পারুর মনে অস্থিরতা কাজ করলো। অজান্তেই বুকের মাঝে কেমন বিষ ব্যাদনা হচ্ছে। পারু ঝানালার সামনে দাড়িয়ে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে রইলো, যদি ওর দিকে একবার তাকায় তাহলে ইশারায় বাড়ি যেতে বলবে। নাহ!! টানা ১০ মিনিটেও একবার উপরে তাকালোনা দ্বীপ। আর কোনো উপায় না পেয়ে গায়ের উড়নাটা ভালো মতো জড়িয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। ১০ টার আগ পর্যন্ত হল থেকে বেরুনোর নিয়ম থাকায় কেউ বাধা দিলোনা তাকে। তবে হল সুপার একবার জানতে চেয়েছিলো, কই যাচ্ছে? পারু তখন ইশারায় দ্বীপের কথা বুঝালে তিনিও ছেড়ে দিলেন।

,,,ভিজে চুপচুপা হয়ে আছে দ্বীপ, পরনে পান্জাবিটা প্রসস্থ দেহে লেপ্টে আছে। ঘাড় সমান চুলগুলো কপালে লেপ্টে আছে, ধূসর রঙা বিড়াল চোখের শিরা গুলো লাল বর্ন ধারন করেছে। অতিরিক্ত ফর্সা হওয়ার দরুন মুখমন্ডল লাল হয়ে আছে। পারু কিছুটা সময় নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দ্বীপকে দেখলো,, সে নিজেও ভিজে চুপচুপা। দুজন সামনাসামনি দাড়িয়ে আছে কম করে হলেও পাঁচ মিনিট হবে কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছে না। পারমিতা নিরবতা ভেঙে বললো– বাড়ি যান।
,,,দ্বীপ নিশ্চুপ, কিছুই বললোনা। ওর নিশ্চুপতা দেখে পারু আবারও বললো — বাড়ি যাবেন কখন?
,,,যাবোনা।
,,, কেনো যাবেন না? বাড়ি যান প্লিজ । এভাবে ভিজলে জ্বর আসবে।
,,, পারুর চিন্তিত ভঙ্গিতে বলা কথাগুলো যেনো বিষের মতো ঠেকলো। রাগে জিদ্দে পরুর বাহু টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো দ্বীপ । এই সময়টাতে হুট করেই বৃষ্টির জোর বাড়লো,, দুজন একসাথে ভিজছে,, দুজনার দৃষ্টি দুজনের মাঝে নিবদ্ধ। এ পর্যায়ে বোধয় পারুর মন কিছুটা গলেছে, সামনের পুরুষ টাকে নিয়ে প্রেম প্রেম ভাবনা জাগলেও জাগতে পারে। দ্বীপ পারুর চোখে চোখ রেখে শাসিয়ে বললো — আমি ভিজলে তোর কি? তুই তো আমাকে ভালোবাসিস না। আমি মরি বাচি তোর কি আসে যায়? যাহ!! হোস্টেলে ফিরে যা। আমার যখন মন চাবে তখন বাড়ি যাবো, ইচ্ছা হলে যাবোইনা। মরবো, বাচবো, ভিজবো সব করবো আমি। তাতে তর কি?
,,, পারু মিনমিনে স্বরে বললো — আমি একজন মানুষ। আমার জন্য কেউ এভাবে কষ্ট করবে সেটা আমার ভালো লাগবেনা। আব্বু বলেছে আমার দ্বারা যেনো সবসময় সবার ভালো হয়, কখনো যেনো কারোর ক্ষতি না করি। প্লিজ বাড়ি যান, আপনার জ্বর হবে।

,,, নীতি বাক্য!! এই নীতি বাক্য গুলোই সহ্য হয়না দ্বীপের, সে খেকিয়ে উঠে বললো — দয়া দেখাস আমাকে? দয়া? তোর দয়া আমার লাগবেনা। রুমে যা তুই, ভিজলে জ্বর হবে তোর।
,,,পারু শব্দ করে কেদে দিলো, সে এখন কি করবে? ভালো না বেসে ভালোবাসি বলা যায় নাকি? উনি এভাবে ভিজলে জ্বর হবে। একজন বিবেকবান মানুষ হয়ে সে কিছুতেই রুমে গিয়ে আড়ামের ঘুম ঘুমাতে পারবেনা। পারু দুহাতে মুখ ঢেকে কাদতে লাগলো। দ্বীপ ধমকে বললো — বেয়াদবের জাত কাদছিস কেনো? তকে মেরেছি আমি? অবাধ্য নারী একটা।
,,,পারু কাপা কাপা কন্ঠে বললো — আপনি বাড়ি যান প্লিজ!!
,,, দ্বীপ শক্ত কন্ঠে বললো — তোর কথা শুনতে হবে আমাকে? শুনলে কি পাবো আমি? কি দিবি?
,,,আমার কাছে কিছু নেই, কি দিবো আমি?
,,, দ্বীপ এদিক ওদিক তাকিয়ে নির্লজ্জের মতো বললো— কিছু না থাকলে একটা হাগ দে, শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলবি বেইব বাসায় যাও। বল।

,,,পারু দ্রুত মাথা ঝাকিয়ে বললো– আমি পারবোনা।
,,,তাহলে এখানে ড্রামা করিসনা, হোস্টেলে যা। তদের মেয়ে মানুষের ঢং দেখার সময় নেই আমার।
,,,বলেই অন্য দিকে তাকালো দ্বীপ, পারু এখনো কেদেই যাচ্ছে। কোন পাগলের পাল্লায় পরলো সে? জ্বালিয়ে পুড়িয়ে জীবনটা খাক করে দিচ্ছে। কোনো উপায় অন্তর না পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো দ্বীপের বুকে মাথা ঠেকালো। দ্বীপ কিছুটা রাগত স্বরে বললো —

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৭

,,,শক্ত করে ধর, প্রেমিকা যেমন প্রেমিককে শক্ত বাধনে জড়িয়ে নেয়, ঠিক সেভাবে ধর।
,,,পারমিতা কাদতে কদাতে আরেকটু এগিয়ে গেলে দ্বীপ বাকি দূরত্ব মিটিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। সেবারের ন্যায় এবারেও দ্বীপের পারফিওমের ঘ্রানে মোহাবিষ্ট হয়ে পরলো পারু। এভাবেই মিনিট তিনেক কাটলো, পারু মাথা তুলতে চাইলে দ্বীপ বললো–
,,, তোমাকে কি বলতে বলছি? ওটা বলো।
,,,পারু মোহাচ্ছন্নের ন্যায় বললো — ব,ব বেইব বাড়ি যাও।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৯