Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২০

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২০

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২০
রুপান্জলি

২৩-০৭-২০১৯
,, পারু এখন তিন কবুলে শাক্ষি করা দ্বীপের বউ,, মেয়েটা বউ হয়েছে ঠিকি তবে সংসার করা আর হলোনা। বিয়ের পরপরি আবারও জ্ঞান হাড়িয়ে পড়ে ছিলো হসপিটালের বেডে। তারপর থেকে কখনো অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান ফিরেছে,, কখনো কখনো টানা চার পাচদিন জ্ঞান ফিরেনি। যতোক্ষন পারুর জ্ঞান থাকে সেই সময়টাতে দ্বীপ ওকে ভালো রাখার আপ্রান চেষ্টা করে। আজকেও জ্ঞান ফিরেছে পারুর,, একটু আগেই ফিরলো। ডক্টর ইদানীং দ্বীপকে পারুর সাথে থাকার পারমিশন দিয়েছেন তাই দ্বীপ সর্বোক্ষন পারুর পাশেই থাকে। পারু চোখ মেলে হালকা ঘোঙানির শব্দ তুলতেই দ্বীপ হুড়মুড়িয়ে উঠলো,, পারুর মাথায় আদুরে হাত ভুলিয়ে বললো —
,,, কেমন লাগছে সোনা? শরীর খারাপ লাগছে? ডক্টরকে ডাকবো?
,,, পারু চোখ মেলে তাকালো, তার ঠোঁটে মলিন হাসি,, পারু এখন হাটা চলা করতে পারেনা,, অনেক কিছুই মনে করতে পারেনা,, মাঝেমধ্যে নিজের নামটাও ভুলে যায়। তবে, সব ভুলে গেলেও এখনো পর্যন্ত দ্বীপকে একবারো ভুলেনি মেয়েটা। পারু তার কাপা কাপা হাত তুলে দ্বীপের গালে রাখলো, অল্প করে ঠোঁট নাড়িয়ে বললো — বেবি,, আমার পাশে একটু শুবে, প্লিজ!! আমি তো উঠতে পারিনা, তোমার বুকে মাথা রাখতে খুব ইচ্ছা করছে,, একটু প্লিজ!!

,,,দ্বীপের চোখ জোড়া ভিজে উঠলো, মাঝে তো দুটো মাস কেটে গেলো,,, পারুর অবস্থা ও খুব খারাপ,, মেয়েটা আর কতোদিন আছে তার কাছে? কতোদিন? ওফফ!! আর ভাবা যাচ্ছেনা। দ্বীপ বসা থেকে উঠে গিয়ে পারুর পাশের খালি জায়গাটায় শুয়ে পরলো,, জায়গাটা ছোট হওয়ায় দ্বীপ পরে যেতে নিয়েও নিজেকে সামলে নিলো,, পরপর পারুর মাথাটা আছতে করে তুলে দিলো বুকের উপর। তেলোবতীর মাথায় এখন আর চুল নেই,, ক্যান্সারের প্রভাবে সব ঝরে যাচ্ছিলো বলে, মাস দেরেক আগে সব চুল কেটে দিয়েছিলো দ্বীপ। সেসব ভেবে দ্বীপের বুকটা ভার হয়ে এলো। দ্বীপ চোখের পানি মুছে পারুর মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতেই পারু মলিন স্বরে বললো —
,,, আমি আর বেশিদিন বাচবোনা তাই না? ব্রেইন ক্যান্সার হলে তো মানুষ বাচেনা, এটাই স্বাভাবিক।
,, ব্রেইন ক্যান্সারের কথা শুনে অবাক চোখে তাকালো দ্বীপ,, পারু ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বললো —
,, আমি সব বুঝতে পারি বেবি, আমি তো বাচ্চা নয় বলো। আমার একটা আবদার আছে,, রাখবে প্লিজ?
,,,দ্বীপ কিছু বললো না, শুধু ছলছল দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো, পারু বহু কষ্টে দ্বীপের বুকে ঠোঁট ছুইয়ে বললো — আমি কতোদিন বাহিরের আলো দেখিনা,, কোমল বাতাস গায়ে মাখিনা,, আমার বড্ড কষ্ট হয় দ্বীপ,, আমায় একটু বাহিরে নিয়ে যাবে? এখন তো রাত,, সকাল হলে আমাকে একটা ডাইরির দোকানে নিয়ে যাবে? আমি একটা ডাইরি কিনতে চাই,, সেই ডাইরিতে তোমার আমার প্রেম কাব্য রচনা করতে চাই। আমি তো লিখতে পারিনা, হাতে পায়ে একদমি শক্তি নেই, তোমায় ছুতে পর্যন্ত পারিনা। আমার হয়ে তুমি লিখে দিবে? আমি বলবো আর তুমি লিখবে।

,,, কথাগুলো সহ্য করতে পারলোনা দ্বীপ, ঝর ঝর করে কেদে দিলো, দ্বীপের ফুঁপানোর শব্দে পারু ও কেদে দিলো। হাত বাড়িয়ে দ্বীপের চোখ মুছে দিতে দিতে বললো — যেই চোখের মায়ায় তোমার পারু মজেছে,, সেই চোখে পানি মানায়না দ্বীপ। তোমার চোখ খানা যে আমার বড্ড প্রিয়।
,,, দ্বীপ পারুর মাথায় চুম্বন করে কাতর কন্ঠে বললো —পারু!! আমায় ছেড়ে যাস না,, তুই একটাবার আমার কথা ভাব। আমি তকে ছাড়া কিভাবে বাচবো? কি নিয়ে বাচবো? আমার জন্য তর মায়া হচ্ছেনা তর ? একটু ও মায়া হচ্ছেনা?

,,, পারু নাক টেনে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো — দেব পারুর বিচ্ছেদ নতুন কিছু নয় দ্বীপ,, এযে চিরো নিঠুর নিয়তি। দেবরা কখনো পারুদের পায়না,, পারুরা কখনো দেবদের হয়না। তেমন করেই,, আমি তোমার হয়েও হলাম না,, তুমিও আমায় পেয়েও পেলেনা। নিয়তি যেনো তার মাঝে থাকা সকল নিষ্ঠুরতা ঢেলে দিয়েছেন আমাদের জীবনে। এতোটা নিষ্ঠুরতম নিয়তি না হলে কি খুব মন্দ হতো? বলো!! একটা জীবনে দ্বীপ পারুর সংসার হলে কি পৃথিবীর নিয়ম পাল্টে যেতো? নিয়তি এতো নিষ্ঠুর কেনো দ্বীপ ? আমাদের কেনো বুঝলোনা?
,,, দ্বীপ ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে, ঠোট ফু্রে একটা কথা বের হয়না। পারু বহু কষ্টে আবারও দ্বীপের চোখ মুছে দিলো, বাচ্চামু ভরা কন্ঠে বললো — এখন আমায় একটু বাহিরে নিয়ে যাবে? রাতের আকাশ দেখবো!!
,,এরকম আবদার ফেলে দেওয়ার নয়, দ্বীপ পারুর চোখে মুখে অফুরন্ত ভালোবাসা একে দিয়ে উঠে বসলো,, পরপর বিহানকে কল দিয়ে ডেকে পাঠালো। এখন হয়তো ডক্টর, নার্সরা আপত্তি জানাবে, সেসবের পরোয়া করবেনা দ্বীপ। পারু ঠোঁট ফুরে যা চাইবে সব এনে দিবে সে। কিয়ৎক্ষন বাদেই বিহান এলো,, দ্বীপ তাকে উদ্দেশ্য করে বললো যেনো পারুর অক্সিজেন সিলিন্ডার টা ওদের সাথে করে নিয়ে ছাদে দিয়ে আসে। বিহান তাই করলো, বাধ্য ছেলের মতো সিলিন্ডারটা তুলে নিলো আর দ্বীপ এগিয়ে গিয়ে রুগ্ন পারুকে কোলে তুলে নিলো। চিকন গড়নের পারুটা এখন আর চিকন নেই, শরীরটা একদম হাড্ডির সাথে মিশে গিয়েছে। বেরুনোর সময় সত্যি ই নার্সরা বাধা দিয়েছিলো তবে সেসবকে পাত্তা দেয়নি দ্বীপ, পারুকে নিয়ে লিফ্টের সাহায্য হসপিটালের ছাদে পৌছালো। নামি-দামি হসপিটাল হওয়ায় ছাদে দোলনা, বাচ্চাদের খেলার জন্য অনেক ধরনের রাইড রয়েছে। দ্বীপ পারুকে নিয়ে ছাদের কর্নারের দোলনায় বসলো। বিহান তাদের সাথেই এসেছিলো,, সে অক্সিজেন সিলিন্ডারটা রেখে একবার দ্বীপ আর পারুকে দেখলো পরপর চোখ মুছতে মুছতে নিচে চলে গেলো। দ্বীপ পারুর প্রতিটি মুহূর্তের শাক্ষি সে,, পারুর প্রতি দ্বীপের উন্মাদনা, আক্ষেপ, আশকারা, সবটা জানা তার। এমন একটা জুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আক্ষেপ তাকেও কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

,,,পারু এক দৃষ্টিতে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে আছে,, ওর কেনো যেনো মনে হচ্ছে আর বেশিক্ষণ এই মুখটা সে দেখতে পাবেনা। খুব শিগ্রই তার চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে যাবে। পারুকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে দ্বীপ প্রশ্ন করলো — রাতের আকাশ দেখবে বলে এখানে এসে আমায় দেখছো যে? রাতের আকাশ দেখবেনা?
,,,পারু দ্বীপের বুকে হালকা চুম্বন করে বললো —
—“” ঐ আকাশ থেকে যদি জমিন দেখতে পাওয়ার নিয়ম থাকতো, আমি তোমায় প্রতিদিন দেখতাম দ্বীপ। তোমায় চোখে চোখে রাখতাম”” তাতো কোনো কালেই সম্ভব না। এই মুহুর্তে যদি তোমাকে বিশ্বস্ত কারোর হাতে তুলে দিতে পারতাম। মরার আগে আমার আর কোনো আফসোস থাকতোনা।
,,,দ্বীপ পারুর মুখটা উচু করে ঠোটে ঠোট চেপে বাধা দিয়ে বললো –চুপ, চুপ,চুপ!! এসব বলেনা বউ। তোমার কিছু হবেনা,, কিছু হবেনা। আমার সোনা, তর কিছু হবেনা। কিছুনা, কিছুনা।

— দ্বীপ উন্মাদের মতো বারবার একি কথা বলে যাচ্ছে, যেনো সে বারবার বললেই পারু বেচে যাবে,, ওর কিছুই হবেনা। পারু হাত উচিয়ে দ্বীপের গালে হাত রাখলো, খোচা খোচা দাড়ি গুলো এখন বেশ বড়ো হয়েছে, লোকটা বোধয় সেইভ করেনা। ইসস!!সবসময় পরিপাটি থাকা দ্বীপ মির্জার এ কি হাল হলো। এখোনি এই হাল, পারু যদি মরে যায় তখন দ্বীপের কি হবে?বাচবে তো? না না!! বাচবেনা কেনো? দ্বীপ বাচবে, নতুন করে নতুন মানুষের সাথে বাচবে। ইসস!! নতুন মানুষ? নতুন কেউ দ্বীপের বুকে এভাবে মাথা রাখবে বুঝি? ভাবতেই পারুর বুকটা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। তবুও দ্বীপকে বাচতে হবে। তার জন্য যদি পারুর বুক পুড়ে ছাই ছাই ও হয়ে যায় তবুও পারু সয়ে নিবে,, শুধু দ্বীপের জন্য,,দ্বীপের ভালোর জন্য পারু সব সহ্য করতে পারবে, সব। ভাবতে ভাবতে পারু চোখের পানি ছেড়ে দিলো, পরপর কাতর স্বরে দ্বীপের উদ্দেশ্যে বললো– আমার আরও কিছু চাওয়ার আছে দ্বীপ, দিবে? বলো দিবে? ফিরিয়ে দিওনা, প্লিজ!! আর তো চাইবোনা, এটাই শেষ বার।
,,আর তো চাইবোনা, শেষবার!! এই কথাগুলো কতোটা যে তিক্ত ছিলো,, সেটা বোধয় পারু বুঝতে পারেনি, পারলে অন্তত দ্বীপকে বলতে পারতোনা। এই করুন ব্যাথা সহ্য করার নয়, দ্বীপের চোখ জোড়া ভিজে যাচ্ছে বারবার,, সে নাক টেনে নিজেকে সামলে বললো– কি চাই বলো,, সব দেবো, সামর্থ্যের বাহিরে হলেও দিবো। প্রমিজ!!

,,,, আমার মাথায় ছুয়ে প্রমিস করো দিবে,, না দিলে আমি মরেও শান্তি পাবোনা দ্বীপ, প্লিজ প্লিজ!!
,,, মরার কথা শুনে বুকটা ব্মুচরে উঠলো দ্বীপের, সে আবারো কাতর স্বরে বললো — দিবো তো, এরকম করে কেনো কথা বলছিস পারু? আমার যন্ত্রণা হয়, বুঝিসনা?
,,, পারু দ্বীপের গালে রাখা হাতটা আরেকটু ভুলিয়ে কাতর স্বরে বললো — আমার কিছু হয়ে গেলে নিজের কোনো ক্ষতি করবেনা বলো! সুস্থ ভাবে বেচে থাকবে, কথা দাও।
,,, দ্বীপ মুখ ফিরিয়ে নিলো, আকাশের দিকে তাকিয়ে গভীর শ্বাস টেনে বললো — আমি পারবোনা, এরকম কথা দিতে পারবোনা পারু। আমি তকে ছাড়া কিভাবে বাচবো বল? এরকম আবদার করিসনা, রাখতে পারবোনা। তুই যেদিন আমায় ছেড়ে যাবি আমিও চলে যাবো, আমি দুনিয়ায় থেকে এতো কষ্ট বহন করতে পারবোনা। মুক্তি দে পারু, এসব আবদার করিসনা।

— তুমি কথা দিয়েছো দ্বীপ, বরখেলাপি করবেনা। কথা না রাখলে,,আমি মরেও শান্তি পাবোনা, সত্যি!!
,,,দ্বীপ ঠোট কামরে বাচ্চাদের মতো ফুপাতে লাগলো। মেয়েটা তাকে এতে বড়ো শাস্তি দেওয়ার প্লান করছে কেনো? দ্বীপ দ্রুত মাথা ঝাকিয়ে বললো — আমি পারবোনা, প্লিজ!! এতো বড়ো জীবন তুমি হীনা বহন করা বড্ড কঠিন,, আমি এতোটাও শক্তিশালী নয় পারু।
,,, পারু মলিন হাসলো, পরপর উদাস কন্ঠে আওড়ালো — কই আমি হীনা? আমি থাকবো তো, তোমার মনে থাকবো, আল্লাহ এর কাছে থাকবো, আমার চিন্হ স্বরুপ একটা কবর থাকবে। তুমি যাবে দ্বীপ, আমার কথা তোমার যখন মনে পরবে তখন তুমি আমার কবরে যাবে। আমি হয়তো তোমায় দেখবোনা, কিন্তু তুমি জানবে ওখানে তোমার পারু আছে,, পারুর রক্ত,মাংস, হাড্ডি তো ওখানেই পচবে। পচে গলে মাটির সাথে মিশে যাবে, ঐ মাটিতে আমায় পাবে দ্বীপ,, নাক ঠেকিয়ে ঘ্রান নিলেই আমাক পাবে। সত্যি! বিশ্বাস করো।
,,,দ্বীপ আবারো পারুর ঠোট ঠোট চেপে ধরলো, এসব সহ্য করতে পারছেনা সে। পারুর ঠোটে ঠোট রেখেই বাচ্চাদের মতো জেদ করে বললো — চাইনা!! ওই কবরের মাটিতে মিশে থাকা পারুকে আমার চাইনা। আমার রক্তে মাংসে গড়া পারুকে চাই, আমার তকে কাছে চাই পারু,, ছুয়ে দিতে পারার মতো কাছে চাই তকে। এতো দূরত্ব সহ্য করার নয়,, আমি পারবোনা সহ্য করতে।

,,, পারু ও ফুপিয়ে উঠলো,,কঙ্কালকাস হাত দিয়ে দ্বীপের শার্ট টা খামচে ধরে বলতে ইচ্ছা করলো — আমি বাচতে চাই দ্বীপ, তোমার সাথে বাচতে চাই। আল্লাহকে বলোনা আমায় যেনো আরেকটু হায়াত বাড়িয়ে দেয়,, আমি মরতে চাইনা। কিন্তু বলতে পারলোনা মেয়েটা। এরুপ কথা বললে দ্বীপ সেটা সহ্য করতে পারবেনা,, সারাটা জীবন আক্ষেপ নিয়ে ধুকে ধুকে মরবে। পারু চায়, দ্বীপ ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, একটা সুন্দর জীবন হোক দ্বীপের। পারু দ্বীপের মায়াবী মুখ খানা দেখতে দেখতে মনে মনে আওড়ালো —
,,,তোমার বুকে অন্য কারোর ঠাই,, ভাবতেই আমার বুক কাপে। তবুও চাই তুমি আমায় ছাড়া ভালো থাকো। তোমার জীবনে একজন মিষ্টি চন্দ্রমুখি আসুক আর আমার অগোছালো দ্বিপকে আমার চেয়ে সুন্দর করে গুছিয়ে নিক।
,,,, ভাবতে ভাবতে শব্দ করে ফুপিয়ে উঠলো পারু । এ পর্যায়ে এসে দ্বীপ শক্ত থাকতে পারলোনা,, সেও শব্দ করে ফুপিয়ে উঠে পারুকে শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। যেনো বুক খুরে সেখানে পারুকে লুকিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ছেলেটা। কিন্তু তাতো সম্ভব নয়,, এই পৃথিবীতে পারুকে জোর করে আটকে রাখা যেনো অসম্ভব, তেমনি দ্বীপের বুকের মধ্যিখানে বন্দি করাটাও অসম্ভব । দ্বীপ পারু যখন কান্নার মাধ্যমে নিজোদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে ব্যাস্ত তখন হসপিটালের অপর প্রান্তে,, কোনো এক দোকানের সাউন্ড সিস্টেম থেকে ভেষে এলো,,,

,,, ভাবি যেতে যেতে থেমে,,
এই দেখা শেষ দেখা না হোক,,
তোমার আমার প্রেমে,,
আমি কি একাই সৃতির বাহক?
তুমি সব ভালো আমার, সব আলো আমার,,!!
অন্ধকার তো নয়,,
ইশ্বর কি তোমার আমার মিলন লিখতে পারতোনা?
ইশ্বর কি তোমার আমার মিলন লিখতে পারতোনা?

সকাল হতেই পারুকে নিয়ে বেড়িয়ে পরলো দ্বীপ, এর জন্য হসপিটাল কমিটি থেকে কইফিয়ত চাওয়া হলে শাহিন মির্জা ব্যাপারটা সামলে নিলেন। পারু চায় আগে যেমন করে সে আর দ্বীপ সময় কাটাতো, এসাইনম্যান্ট বানাতো, নোট করতো, তেমন করেই আজ ডাইরি লিখবে তারা। পারু বলবে আর দ্বীপ লিখে দিবে। সেখানে থাকবে পারু আর দ্বীপের সব সৃতি, আদুরে আলাপ চারিতা এক কথায় যাকে বলে “দ্বীপ পারুর প্রেম কাব্য”” পারু আর দ্বীপের সাথে বিহান,মেধা, ফাহাদ, রিফাত, মিনহাজ আরও কিছু ছেলেপুলেও ছিলো। দ্বীপ পারুকে গাড়িতে মেধার কাছে বসিয়ে দিয়ে একা ডাইরির দোকানে ঢুকলো, উদ্দেশ্য একটা মোটা এবং সুন্দর দেখে ডাইরি কিনা। দ্বীপ যেতেই পারু কাপা কাপা হাতে মেধার হাত ধরলো,, নরম হাতের স্পর্শ পেয়ে চমকে পারুর দিকে তাকালো মেধা,পারু চোখের ইশারায় মানা করে বললো — কেদোনা মেধা, তোমরা কাদলে আমার কষ্ট হয়।
,,,মেধা পারুর হাতটা দুহাতে ধরে তাতে ঠোঁট চেপে শব্দ করে তুলে কাদতে কাদতে বললো — কেনো এলে পারু? আমাদের দেখা হলো কেনো? এতো ব্যাধনা সহ্য হওয়ার নয়,, আমার ভিতরটা ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে। আমার খুব আফসোস হয়, আমি কেনো বাংলাদেশে এলাম আর কেনোইবা ঢাবিতে ভর্তি হলাম। না হলে তো তোমার সাথে সাক্ষাৎ হতো না, আর না আমার সুখে ভরা জীবনটা বিষাদে পূর্ণ হতো। তুমি হাড়িয়ে গেলে আমিও থেমে যাবো পারু, ঐ ভার্সিটি প্রাঙ্গনে পারুর পা না পরলে মেধার পা ও পরবেনা।

,,,পারু ঠোঁট বাকিয়ে মলিন হেসে বললো– কি যে বলো বোকা মেয়ে, কারোর জন্য কাউকে থেমে যেতে হয়না। আল্লাহ একভাবে না একভাবে, সময়ের সাথে সাথে,, সবাইকেই এগিয়ে নিয়ে যায়। তুমিও এগিয়ে যাবে, বিহান ভাইয়ের সাথে তোমার বিয়ে দেখার শখ ছিলো। তা বোধয় আর দেখা হবেনা, তোমরা ভালো থেকো। আমি তো মাঝেমধ্যেই কথা বলার শক্তি হাড়িয়ে ফেলি, আবার ফিরে আসে। ভয় হয় যদি কখনো না ফিরে তখন তো তোমাদের কিছুই বলা হবেনা। মেধা, তুমি আমার খুব কাছের একজন মানুষ, খুব বিশ্বস্ত,, তোমার ভাইয়ার দায়িত্ব আমি তোমাকে দিলাম বোন। উনাকে দেখে রেখো,, লোকটাকে কখনো সিগারেট থেকে আলাদা করতে পারিনি আবার আমায় না পেলে নে*শাদ্রব্য ও পান করে। আমি না থাকলে বিহান ভাইকে বলো যেনো সবসময় উনার সাথে সাথে থাকে, তুমি একটু দায়িত্ব নিয়ে ওনাকে তিন বেলা খাবার খাওয়াবে কেমন? জানি, উনি জেদ করবেন, অগ্রাহ্য করবেন, তখন তুমি আমার কথা বলবে। বলবে যে, উনি না খেলে পারু কষ্ট পাবে। তাহলে দেখবে ওনি তোমার সব কথা শুনবে।

,,,, কথা বলতে বলতে হাপিয়ে উঠলো পারু, মেধা খুব শব্দ করে কান্না করছে। পারু অসহায় দৃষ্টিতে মেধার দিকে তাকিয়ে রইলো, যেনো উত্তর জানতে চায়। মেধা ঠোঁট কামরে মাথা ঝাকিয়ে বললো — করবো, সব দায়িত্ব পালন করবো, তুমি চিন্তা করোনা। ভাইয়াকে ভালো রাখতে সব করবো।
,,, পারু বিনিময়ে হাসলো,,গভীর শ্বাস টেনে আবারো বলতে শুরু করলো — সিমির সাথে কথা হলোনা, মেয়েটা সেদিন এসে অনেক কাদলো কিন্তু কিছুই বলতে পারিনি। তুমি ওকে বলে দিও, পারু ওকে খুব ভালোবাসে। পারু এখন আর ভুতে ভয় পায়না,,তাই ঝানালা বন্ধ করার তাড়া নেই।সেই সাথে, কবরে তো ঝানালাও হয়না,, এটা ভালোই হয়েছে, ঝানালা থাকলেই সিমির কথা মনে পরে যেতো। এখন আর ওকে মনে পরার চান্স নেই।
,,,বলতে গিয়ে শব্দ করে হাসার চেষ্টা করলো পারু, মেধা আর সহ্য করতে পারলোনা, সে গাড়ির জানালায় মাথা ঠেকিয়ে কাদতে লাগলো। মেয়েটা আজ এভাবে কথা বলছে কেনো?যেনো আজি সে শেষ কথা বলছে?আর কখনো বলতে পারবেনা। মেধার কান্না থামানোর শক্তি পেলোনা পারু, সে সিটে মাথা ফেলে শুয়ে রই

,,,, অস্থির চিত্তে উঠে বসলো অর্পনা, গুনে গুনে ডাইরিটা পড়ার দরুন ৩৭ তম পৃষ্ঠায় এসে থেমে গেলো। আর লেখা নেই, অধৈর্য হয়ে পুরো ডাইরি চেক করার পরেও কোনো লেখা পেলোনা। অর্পনা অস্থির হয়ে ডাইরিটা দূরে ছুড়ে মারলো, এরপর কি হয়েছে? পারুর কি হয়েছে? দ্বীপের কি হয়েছে? দ্বীপ কি বেচে আছে? এগুলো কি সত্যি? ডাইরির লেখা অনুযায়ী দ্বীপরা রমনা থানায় ই থাকে,, অর্পনারাও বর্তমানে রমনায় আছে। তারমানে একটু খোজ চালালেই দ্বীপদের খোজ পাওয়া যাবে? অর্পনা কিছু একটা ভেবে ফোনটা হাতে নিয়ে নেট সার্চ করলো। মির্জা বাড়ি লিখে সার্চ দিতেই বাড়ির হুল ডিটেল্স চলে এলো। এটা ২০১৮ এর একটা আর্টিকেল। আর্টিকেলটা পড়ার পর অর্পনা শিউর হলো,, এই কাহিনি সত্যি। দ্বীপ মির্জা, জোহান মির্জা, মাহিদ মির্জা, শাহিন মির্জা, মাহিন মির্জা সবাই বাস্তবে আছেন। অর্পনা ওদের নিয়ে আরেকটু ঘাটাঘাটি করলো। ২০২০ এ মির্জা গ্রুপ বিজনেসে টপ পজিসনে থাকলেও লাস্ট ফাইভ ইয়ার্স তারা ছিক্সথ পজিশনে রানিং। বর্তমান অর্থমন্ত্রি শাহিন মির্জা হলেও এমপির পজিশনে আছে শমিরন মন্ডল। হাউ ইজ দিস পসিবল? ২০২০ এ কি এমন হয়েছে যে মির্জা বাড়ির এই অবনতি ঘটলো? জানতে হবে,, দ্বীপ পারুর শেষ পরিনতি সম্পর্কে জানতে হবে। পারু কি মারা গিয়েছে? যদি মারা গিয়েই থাকে তাহলে দ্বীপ এখন কেমন আছে? বিহান, মেধা, সিমি ওরা কেমন আছে? সবার খোজ নিতে হবে,,আর সবার খোজ জানতে হলে এখন তাকে তার ডিটেকটিভ বাপের সাহায্য নিতে হবে। কি আর করার? ঘুষ হিসেবে নাহয় প্রতিবারের মতো পছন্দের জিনিসটাই নিয়ে যাওয়া যাক।

,,,চলতি একটা কেইস নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলেন আরশাদ জামান। হঠাৎ টেবিলের উপর টুং করে শব্দ হতেই ভ্রু উচিয়ে তাকালেন,,সামনে বিয়ারের বোতল দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হেসে আবারও কাজে মন দিলেন। বাবার পাত্তা না পেয়ে সোফায় ধপ করে বসলো অর্পনা। সোফার কুসনটা কোলে নিয়ে টি-টেবিলের উপরে পা তুলে ক্রস করে বসলো। পরপর হাতে থাকা কিউবটা ঘুড়াতে ঘুরাতে বললো—
,,আই গেইজ ওটা তোমার চাই, বাডি। ( বাডি অর্থ দোস্ত)
,,,আরশাদ জামান আবারো ঠোট বাকিয়ে হাসলেন,, মেয়েটা বরাবর এমন করে। কোনো কিছু চাওয়ার হলে সাথে করে বিয়ার নিয়ে আসবে। এটাই তাদের মধ্যকার লেনদেন। অর্পনা তার পাপ্পাকে বিয়ার খাওয়ার অনুমতি দিবে আর পাপ্পা তার বিনিময়ে অর্পনার ইচ্ছা পুরন করবে। প্রতিবারের ন্যায় আরশাদ জামান মেয়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন — বিনিময়ে তোমার কি চাই?

,,, অর্পনা কিউবে প্যাচ লাগিয়ে সেটা মিলাতে মিলাতে বললো — আই নিড সাম ইনফরমেশন।
,, কার সম্পর্কে?
,,,মির্জা বাড়ি।
,,হঠাৎ?
,,, নো কমেন্টস!!
,,, বাডিকে না বলো পাপাকে অন্তত বলো।
,,,পাপাকে কেউ বিয়ার দেয়?
,,, বলবেনা?
,,নো!!
,,,বলবেইনা?
,,, নো চান্স।
,,,ওকেহ!! বলো কি জানতে চাও?
,,, মাহিদ মির্জা, শাহিন মির্জা, মাহিন মির্জাকে চিনো?
,,, পরিচিত মানুষ গুলোর নাম শুনে ভ্রু কুচকালেন আরশাদ জামান। মেয়ের দিকে তাকিয়ে সন্দেহি কন্ঠে বললো– শাহিন আমার ফ্রেন্ড, হঠাৎ ওদের বিষয় নিয়ে জানতে চাচ্ছো কেনো প্রিন্সেস?
,,, নো কমেন্ট্স পাপ্পা!! এই মুহুর্তে আমি আমার বাডির সাথে কথা বলছি। আপাতত তুমি আমার পাপা নও আমিও তোমার প্রিন্সেস নই। আমাকে জাস্ট ইনফরমেশন দাও।
,,, আরশাদ জামান মুচকি হেসে বললেন –ওকে,, বলো কি জানতে চাও।
,,, শাহিন মির্জা যদি তোমার ফ্রেন্ড হয় তাহলে ওনার পরিবার সম্পর্কে তো তোমার জানার কথা। সবার বিষয়ে জানো?

,,, কার বিষয়ে জানতে চাও?
,,, অর্পনা এবার একটু সিরিয়াস হলো,, হাতের কিউবটা টি টেবিলে রেখে শান্ত স্বরে বললো — পাঁচ বছর আগেও মাহিদ মির্জা বিজন্যাসে টপ ছিলেন অথচ, বর্তমানে উনার অবস্থা টপ ওয়ান, টু, থ্রি কোনোটাতেই নেই। শাহিন মির্জা এখনো অর্থ মন্ত্রী আছেন বাট মাহিন মির্জা এবার রমনার এমপি পদ পেলেন না। কিন্তু কেনো? গত ১০ বছর তো উনি ই এমপি ছিলেন,, এবারে জনগণ উনাকে ত্যাগ করলেন কেনো?
,,, আরশাদ জামান কিছুটা ভাবুক হলেন, পরপরি জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলে বললেন — সবি রাজনীতির চাল আম্মু,, ছয় – সাত বছর আগে মাহিদ ভাইয়ার ছেলে আর শাহিনের ছেলে সম্মিলিত ভাবে রাজনীতি পরিচালনা করতো। তখন তাদের অবস্থান বেশ রমরমা ছিলো,,মাহিদ ভাইয়া ও বিজনেসে বেশ ভালোই পারফরমেন্স করতেন। কিন্তু মাঝে কোনো একটা এক্সিডেন্টে তাদের পতন শুরু হয়। ১৯ সালের মাঝামাঝি পর্যায়ে সবটাই ঠিক ছিলো কিন্তু এরপর থেকে মির্জা বাড়ির সেই আগের দাপট টা আর খুজে পাওয়া যায়নি। অন্য জায়গায় পোস্টিং হওয়ার ফলে ১৯-২২ পুরোটাই আমি তোমাকে নিয়ে সিলেটে ছিলাম। তারপর থেকে ওদের সম্পর্কে খোজ নেওয়া হয়নি,, শাহিনের সাথে এই মাস দুয়েক আগে দেখা হলো। কথায় কথায় জানতে পারলাম কোনো মতে সে মন্ত্রীর পদ বহাল রাখতে পারলেও, মাহিনের এমপির পদ টা হাতছাড়া হয়ে যায়। লাস্ট ইলেকশনে তো এই নিয়ে বেশ মারামারি ও হয়েছিলো। তুমিতো শহর কিংবা দেশের খোজ খবর রাখোনা, তাই কিছুই জানোনা,, একজন ডিটেকটিভের মেয়ে হয়েও তোমার এই বেখেয়ালি চলাফেরা আমাকে হতাশ করে, প্রিন্সেস।

,,, অর্পনা আবারও সোফায় গা হেলিয়ে দিলো, মনের মাঝে প্রবল উত্তেজনা থাকলেও বাবার দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে বললো — ইউ নো পাপা? আমি প্যারা নেওয়া একদম পছন্দ করিনা, এজন্যই এখনো আমি আনমেরিড, আরো ৩০, ৪০ বছর আনমেরিড ই থাকবো। তারপর বিয়ে করবো কিনা ভেবে দেখবো।
,,,আরশাদ জামান ভ্রু চুলকে কাজে মন দিয়ে, নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো — থাক মা, আপনার বিয়ে সাদি করতে হবেনা। আপনি জনম জনম ধরে পাপ্পার প্রিন্সেস হয়েই থাকবেন। এখন বলুন আপনার আর কিছু জানার আছে?
,,, নো!! বাট, আমার অন্য কিছু চাই।
,,,, হোয়াট?
,,, কালকে আমাদের পঞ্চ মুর্তির জন্য একটা এপোয়েনমেন্ট সেট করে দিতে হবে।
,,, কার এপোয়েনমেন্ট চাই?
,,, বিহান মির্জার, আই গেইজ উনি বর্তমানে গোলসান আছেন,, এতো বড়ো বিজনেসম্যান হয়ে কারোর রেফারেন্স ছাড়া আমাদের সাথে সাক্ষাৎ এ আসবে বলে মনে হয়না। আই নিড ইউর হেল্প পাপা।
,,,, আরশাদ জামান ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলেন — হু ইজ হি? চিনলাম নাতো।
,,,, সন অফ শাহিন মির্জা ,, উনার সাথেই একটা মিটিং সেট করে দাও।
,,, ওকে, তার ব্যাবস্থা নাহয় করে দিলাম। বাট ওদের বিষয়ে এতো ঘাটাঘাটি করার কারন কি মাম্মা? এনি প্রবলেম?
,,, নো, পাপ্পা। তেমন কিছুই না,, এফবি স্ক্রল করতে করতে হুট করেই পুরোনো একটা আর্টিকেল দেখলাম, তাতে মির্জা বাড়ির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা ছিলো,, সেটা পড়ার পর মন চাইলো তাদের বর্তমান হালচালের খোজ নেই,, অতঃপর নেট ঘেটে জানতে পারলাম তারা আগের অবস্থানে নেই। সময়ের সাথে সাথে তাদের অনেক কিছুই পাল্টে গিয়েছে।( কথা কাটাতে) যাই হোক, তুমি তোমার কেইস নিয়ে স্টাডি করো, আমার ঘুম পেয়েছে, আমি আসছি।

,,, বলতে বলতে দুটো ফেইক হামি দিলো অর্পনা, সে আপাতত পাপ্পার প্রশ্নের হাত থেকে বাচতে চাচ্ছে।এই মুহুর্তে বিষয়টা নিয়ে পাপ্পার সাথে আলোচনা করতে চায়না সে। আগে দ্বীপ পারুর শেষটা জেনে নিক, তারপর নাহয় পাপ্পাকে সবটা বলা যাবে। অর্পনাকে হামি দিতে দেখো আরশাদ জামান মেয়ের হাত টেনে কোলের উপর শুইয়ে দিলেন। পরপর মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতে দিতে বললেন— ঘুম পেলে এখানেই ঘুমাও, তুমি কোলে থাকলে আমার কেইস সল্ভ করতে খুব সুবিধা হয়।
,,, কেনো? এমন কেনো? ( উৎসুক দৃষ্টিতে)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১৯

,,, আরশাদ জামান ঠোট টিপে হেসে বললেন — আমি যখন কেইস নিয়ে ভাবতে ভাবতে হতাশ হয়ে যাই তখন তোমার চেহারা টা দেখলে মনে শক্তি পাই। আমার মন বলে,, এটুকু কেইস নিয়ে এতো চিন্তার কি আছে? এর থেকে বড়ো গোলমাল তো তর কোলে শুয়ে আছে। ওটা সামলাতে পারলে এটাও সামলাতে পারবি।
,,,বাবার কথা শুনে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো অর্পনা,,নাক ফুলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কিছুটা শব্দ করেই বললো — পাপ্পা!! ইউ আর সু ব্যাড, আই হেইট ইউ।
,,, আরশাদ জামান মেয়ের কপালে চুমু একে বললেন— আই অলসু লাভ ইউ মাম্মা!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২১