সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২১
Raiha Zubair Ripti
মুনতাহা সিকান্দার কে রুমে নিয়ে আসার পর সিকান্দারের মনের অবস্থার বিন্দুমাত্র চেঞ্জ হলো না। বরং অস্বস্তি হলো আরো রাগ হলো। তার অর্নব কে খুব মারতে ইচ্ছে করছে। কতবড় সাহস ওর,ও নিজের বউকে নিয়ে এসব বলে।
মুনতাহা কফি বানিয়ে সিকান্দারের সামনে ধরলো। সিকান্দার সেটা নিয়ে কোনো কথা না বলে বাগানে চলে আসলো। বেতের সোফায় বসে কফির মগ টা টেবিলের উপর রেখে ফোনটা বের করলো। কিছুক্ষণ ফোন ঘাটাঘাটি করার পর কফির মগে চুমুক দিতে গিয়ে বুঝলো কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। মন ভালো হওয়ার বদলে আরো খারাপ হলো। সাথে সাথে মগটা তুলে নিয়ে পেছন দিকে না তাকিয়েই ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।
সাইদা মির্জা আসছিলেন সিকান্দারের দিকে।ল, একটু ঠান্ডা মাথায় কথা বলতে। কিন্তু আকস্মিক নিজের মুখের উপর পানি জাতীয় কিছু এসে পরতে দেখে চমকে উঠে। সামনে তাকিয়ে দেখলো সিকান্দার মগ টা শব্দ করে রেখে চলে যাচ্ছে। সাথে সাথে পুরো শরীর টা রাগে পুড়ে উঠলো। সিকান্দার তার মুখে কফি ছুঁড়ে মারলো! এত বড় সাহস!
পেছন পেছন সেলিম মির্জাও আসছিলেন। না জানি বউ তার উল্টাপাল্টা কিছু বলে দেয়,তখন যদি ছেলেটা আরো রেগে বউয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তখন? কিন্তু এটা কি হলো! বউকে যেতেও হলো না সিকান্দারের কাছে। তার আগেই সিকান্দার এই কাজটা করে বসলো!
যদিও সিকান্দার পেছনে কেউ আসছে সেটা দেখে নি। তারপরও মনে হচ্ছে অজান্তেই ছেলেটা একটা উচিৎ কাজ করে বসছে। এতো ভাবে এরা জ্বালাচ্ছে তাকে। তার একটু তো আঁচ তাদেরও পাওয়া উচিৎ।
সেলিম মির্জা ট্যিসু দিয়ে স্ত্রীর মুখ মুছে দিতে লাগলেন। সাইদা মির্জা স্বামীর হাত ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“ সব কিছু তোমার জন্য হচ্ছে। এ কেমন কালো যাদু হু? আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি কেনো? হওয়ার তো উচিৎ ওর আর মুনতাহার মাঝে। ওরা তো দিব্যি ঠিক আছে। সম্পর্কে তো কোনো ফাটল ধরলো না। কোন ফালতু তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলে তুমি? ”
“ তান্ত্রিক আগেই আমাকে বলেছিল এটা। কালো যাদু করলে তার মূল্য আমাদের ও দিতে হতে পারে। সেজন্য এমন টা হচ্ছে। ”
সাইদা মির্জা চলে গেলেন ভেতরে। সিকান্দার বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা অফিসে চলে আসছিলো। অফিসে এসে একাকী বসে আছে নিজের কেবিনে। তার একটুও ভালো লাগছে না এই জীবন টা। কেমন ভারী লাগছে।
মুনতাহা সিকান্দার কে সারা বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে ফোন করলো। সিকান্দারের টেবিলের উপর থাকা ফোনটা বাজতে দেখে বিরক্তিতে কপালে দুটো ভাজ পরলো। ইচ্ছে করলো না ফোনটা তুলে হাতে নিয়ে দেখতে যে কে ফোন করেছে। দ্বিতীয় বার কল আসলো। মুনতাহার কখনো এক বারের জায়গায় ২ বার কল দিতে হয় নি সিকান্দার কে। সিকান্দার প্রথম কলেই সব সময় ফোন রিসিভ করে। কিন্তু আজ ধরছে না দেখে তারও কেমন যেন লাগলো।
সিকান্দার আস্তেধীরে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে মুনতাহার নম্বর। সাথে সাথে নিজের শরীর টা ঝাড়া দিয়ে নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করলো। ফোনটা রিসিভ করে কানে নিতেই ওপাশ থেকে অস্থির গলায় মুনতাহা বলে উঠলো-
“ আপনি কি ঠিক আছেন? ফোন দিছিলাম, ধরছিলেন না যে। ”
সিকান্দার সালামের জবাব দিয়ে বলল-
“ হু আমি ঠিক আছি। ”
“ কোথায় আপনি? সারা বাড়িতে খুঁজেও পেলাম না আপনায়। ”
“ আসলে আমি অফিসে চলে আসছি। ”
মুনতাহা অবাক হলো সে কথা শুনে।
“ আমাকে বলে গেলেন না তো। ”
সিকান্দার কপাল স্লাইড করতে করতে বলল-
“ অ্যাম সো সরি। আমার একটুও খেয়াল ছিলো না। প্লিজ রাগ করবেন না। ”
“ আচ্ছা খাবার খেয়ে নিবেন অফিসে।।”
“ আপনিও খেয়ে নিবেন। ”
সিকান্দার ফোন টা কেটে দিয়ে একটা শ্বাস ফেললো। তার নিজের মধ্যে এই আচমকা পরিবর্তন টা মোটেও স্বাভাবিক লাগছে না। ঔষধ তো খাচ্ছে। কই তার ফল তো পাচ্ছে না। মুনতাহার গলার স্বর শুনে আর আগের মতো সিকান্দারের অস্থিরতা কমছে না। বরং অস্বস্তি হচ্ছে। সে অনেক চেষ্টা করে মুনতাহার সামনে রাগ চাপিয়ে রাখতে। কিন্তু সে পারছে না। তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সে আর বাড়ি যাবে না যতদিন না তার এই অস্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন না হয়। এজন্য সিকান্দার এখন বাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিলো। স্ত্রীর সাথে যেন ভুলেও খারাপ ব্যবহার করে না বসে, সেই ভয়ে সে বউয়ের সাথে বেশি কথা বলে না। ফোনটা বেশির ভাগ সময় সুইচ অফ করে রাখে। রাতে বাড়িতেও আসে না। বাড়িতে জানিয়েছে অফিসে অনেক কাজের চাপ সেজন্য অফিসে থাকতে হচ্ছে। অথচ সে রাত কাটায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে। সারা রাত সে আল্লাহর ইবাদত করে। তাহাজ্জুদ পড়ে,কুরআন পড়ে,আল্লাহর নামে জিকির করে। সব শেষে সে সেই মসজিদেই ঘুমিয়ে পড়ে। আবার বউকে না দেখেও থাকতে পারে না বলে ভোরে লুকিয়ে বাড়িতে আসে। এক নজর বউকে দেখে বউয়ের ঘুম ভাঙার আগেই আবার চলে যায়।
এভাবেই কাটলো সিকান্দারের এক সপ্তাহ। এই এক সপ্তাহে সিকান্দার কে অচেনা লাগতে শুরু করলো। চোখ মুখে সেই আগের লাবণ্য নেই। কেমন চুপসে গেছে। চোখের নিচে কালো দাগ বসে গেছে। তার নিজেকে এত অসহায় লাগছে যা বলার বাহিরে। আজও সে বায়তুল মোকাররম মসজিদে এসেছে। মধ্য রাত তখন। তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় হলো শেষ রাত,তথা রাতের এক তৃতীয়াংশে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- প্রতি রাতের শেষে তৃতীয়াংশে আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন। এবং বলেন – ডাকার জন্য কেউ আছে কি? যার ডাক আমি শুনবো? চাওয়ার জন্য কেউ আছে কি যাকে আমি দেব? গুনাহ থেকে মাফ চাওয়ার কেউ আছে কি যার গুনা আমি মাফ করবো।
রাসূল ﷺ বলেছেন-
“বান্দা যখন সিজদায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে কাছে থাকে।”
আর রব বলেন –
“ বল বান্দা তোর কি প্রয়োজন? তুই শুধু চেয়ে দেখ। আমি রব তোকে তার চাইতেও বেশি দিব। ”
রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার সময় সিকান্দার আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারলো না। সিজদাহ্ তে লুটিয়ে সে কান্না করে দিলো। রবের নিকট নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে আত্মসমর্পণ করে বলল-
“ আমি এই নফসের বিরুদ্ধে আর লড়তে পারছি না ইয়া রব। আপনি তো জানেন আমি এমন নই। এই জীবন নিয়ে আমার বিতৃষ্ণা জাগছে প্রতিনিয়ত। নিজেকে আমি আর চিনতে পারছি না। আমার অন্তরটা এত অস্থির কেন? আমি তো কারও ক্ষতি চাই না। আমি তো আমার রবকে হারাতে চাই না। তাহলে কেন আমার ভেতর এমন আগুন জ্বলে? কেন আমি মানুষের প্রতি রাগ হয়ে উঠি? নিজের রাগ কে আমি আমার নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছি না। মনে হচ্ছে আমি নিজের ভিতরেই হারিয়ে যাচ্ছি। অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি। ইয়া রব, আমাকে বাঁচান। আমাকে ফিরিয়ে নিন আপনার দিকে। আমাকে ক্ষমা করুন। আমার অন্তরকে পরিষ্কার করে দিন। যদি আমার উপর কোনো অজানা অন্ধকার নেমে এসে থাকে, আপনি তা সরিয়ে দিন। আমাকে আপনার নূরের দিকে ফিরিয়ে নিন। আমি আপনি ছাড়া আর কোথাও শান্তি পাই না। আমার স্ত্রী কে আমি কষ্ট দিয়ে ফেলছি রব। আমি ভয়ে তার কাছে যেতে পারছি না। মনে হচ্ছে আমার এই রাগ তাকেও গ্রাস করবে। আমি তার সাথেও খারাপ ব্যবহার করে ফেলবো। দয়া করে আমাকে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করুন। আমাকে এমন এক জীবন দান করুন যেখানে আমি আমার স্ত্রী কে নিয়ে একটা সুন্দর সংসার আর আপনার দিনের পথে চলতে পারবো ইয়া রব। আমার এই জীবনে আপনি আর আমার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। আমাকে এই দুনিয়ার কোলাহল থেকে দূরে সরিয়ে নিন আপনার নিকট। ”
কিছুক্ষণ পর সে ধীরে ধীরে উঠে বসল। বুক ভারী, মাথা নিচু। চোখে ক্লান্তি। মসজিদের এক কোণ থেকে একজন বয়স্ক ইমাম তাকে অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছিলেন। তিনি প্রতিদিনই এই যুবককে দেখেন। রাত গভীর হলে আসে, দীর্ঘ সময় নামাজ পড়ে, কাঁদে, আবার চুপচাপ বসে থাকে।
ইমাম ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন। সিকান্দারের নামাজ শেষ হতেই তিনি বলে উঠলেন-
“ তুমি কে বাবা? এক সপ্তাহ ধরে খেয়াল করছি তোমাকে। রোজ রাতে আসো এখানে। সারা রাত আল্লাহর ইবাদত করো। তোমার চোখে আমি ক্লান্তি দেখছি, আর তোমার অন্তরে একটা যুদ্ধ দেখছি। বলো তো, কী হয়েছে?”
সিকান্দার মাথা তুলে তাকাল। চোখে এখনো পানি। সিকান্দার একটু চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে সব খুলে বললো,বাড়ির ঘটনা, নিজের অস্বাভাবিক রাগ, স্ত্রীর সাথে দূরত্ব, নিজের ভিতরের পরিবর্তন, আর সেই অজানা অস্থিরতা।
ইমাম মন দিয়ে শুনলেন। তারপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন।
“ নামাজ ঠিক মতো পরছো তো? ”
“ হ্যাঁ। আমার ইবাদতে কোনো বাঁধা আসছে না। কেবল আমি মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে ফেলছি। যা আমি করতে চাই না। ”
“ রুকইয়া করো? ”
“ জ্বি। ”
“ আমি তো অন্য কিছু ভাবছি। ”
“ কি ভাবছেন? ”
“ তোমার বাবা কে? ”
সিকান্দারের মুখ কালো হয়ে গেলো। নিচু স্বরে বলল-
“ চিনেন তাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেলিম মির্জা। ”
ইমাম চমকালো। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে কি না তার সামনে এভাবে বসে আছে!
“ তোমার বাবা তোমাকে খুব ভালোবাসে? ”
“ ছেলে তো। বাসে হয়তো। ”
“ তুমি কি জানো ইসলামে যাদুর অস্তিত্বের কথা বলা আছে। ”
“ জ্বি জানি। ”
“ চোখ কান খোলা রেখো। বিষয়টা নিয়ে একটু ভেবো। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। জানোই তো আমরা আল্লাহর দ্বীনের পথে চলা মানুষ। এমন অস্বাভাবিক কিছু দেখলে আমাদের ধারণা ওদিকেই যায় আগে। বিজ্ঞানের দিকে কম ঝুঁকি আমরা। আর হ্যাঁ কালই বাড়ি গিয়ে বউয়ের সাথে কথা বলবে। ”
“আমি ভয় পাচ্ছি। আমি আমার স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলবো।”
ইমাম দৃঢ় গলায় বললেন-
“ বুঝতে পারছি। বউকে খুব ভালোবাসো। ভালোবাসা আল্লাহর দেওয়া আমানত। এটা ভয়ে দূরে রেখে নয়, সংযমে রক্ষা করতে হয়। নিজের এই দূর্বলতা স্ত্রীর থেকে লুকিয়ে কতদিন দূরে থাকবে? স্ত্রী কে তোমার এই অপারগতার কথা জানাও। আশা করছি তোমার স্ত্রী তোমাকে বুঝবে। ”
সিকান্দার চুপ করে রইলো। ইমাম উঠে দাঁড়ালেন। তারপর চলে গেলেন। পরের দিন সকালে সিকান্দার মির্জা বাড়িতে আসলো। গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে হাঁটার সময় পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বাপ সমতুল্য একজন লোক সিকান্দার কে ডেকে উঠলো। সিকান্দার দাঁড়িয়ে গেলো। লোকটার নাম শফিক। পাশেই তার মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে আর কেউ না শিফা। সুনেহরার প্রাণ প্রিয় বান্ধুবী। যে কি না সিকান্দার কে পছন্দ করতো। সিকান্দার পাশ ফিরে তাকালো শফিক সাহেবের দিকে। তাড়াহুড়ো করে ঢুকতে যাওয়ায় সে আশেপাশে কাউকেই খেয়াল করে নি। সিকান্দার সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ কেমন আছেন চাচা? ”
শফিক সাহেব স্মিত হাসলেন। অনেক বড় আশা নিয়ে তিনি মির্জা বাড়িতে এসেছিলেন মেয়েকে নিয়ে। তিনি ধারণা করেছিলেন তার এই বিপদের সময় তার বন্ধু সেলিম মির্জা দাঁড়াবেন তার পাশে। পাঁচ লাখ টাকার জন্য এসেছিলেন। তার শরীর ভালো না। বড় একটা অপারেশন করতে হবে। ডক্টর দেখানোর জন্যই এসেছিলেন ঢাকায়। পরে ডক্টর বললেন অপারেশন করতে ১২ লাখ টাকা লাগবে। সাত লাখ টাকা কোনো রকমে জয়গা জমি গরু ছাগল বিক্রি করে জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু আর ৫ লাখ টাকা কোথাও পাচ্ছিলেন না। সেজন্য বন্ধুর কাছে এসেছিলেন। কিন্তু তার বন্ধু শফিক সাহেবের মুখের উপরেই মানা করে দেয়।
সেজন্য এখন ফিরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে সিকান্দারের সাথে দেখা হওয়ায় ডেকে ফেললেন।
“ ভালো আছি বাবা। তুমি? ”
“ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ভালো রেখেছে। চলে যাচ্ছেন যে? এসেছেন কখন? ”
“ কিছুক্ষণ আগেই এসেছিলাম। ”
“ ঢাকায় এসেছেন, কোনো কাজ ছিলো? ”
“ ডাক্তার দেখাতে আসছিলাম বাবা। ”
“ হ ঐ আর কি একটু কাজে আসছিলাম। তুমি যাইও একদিন বউ নিয়ে আমাদের বাড়ি কেমন? আজ আসি। চল মা। ”
শিফা শেষ বার তাকালো সিকান্দারের দিকে। সিকান্দার ভুল করেও তাকায় নি তার দিকে। চলে গেলো বাবার হাত ধরে।
সিকান্দার বাড়ি ঢুকার সময় দাদির সাথে দেখা হলো। দাদি সিকান্দার কে দেখে বলল-
“ শফিকে চইল্লা গেছে? ”
“ হু। ”
“ পুলাডা টাকার জন্য আইছিলো। তোর বাপ মুখের উপ্রে কেমনে মানা করে দিলো। আমার কি যে খারাপ লাগতাছে সিকান্দার। ”
সিকান্দার ভ্রু কুঁচকালো সে কথা শুনে।
“ কিসের টাকা? ”
“ ওর তো অপারেশন। তার জন্য ১২ লাখ টাকা লাগবো। ৭ লাখ জমিজমা বেইচ্চা গরু ছাগল বেইচ্চা জোগাড় করছিলো। বাকি ৫ লাখ টাকা তোর বাপের থে চাইছিলো। হারামজাদা মানা করে দিলো। এখন পুলাডার অপারেশন হইবো কেমনে ক দেহি। ”
সিকান্দার কিছু একটা ভেবে বলল-
“ কোন হসপিটালে অপারেশন করাচ্ছে? ”
“ ঐ তে ইবনে সিনায় কইলো। ”
“ আচ্ছা আমি দেখছি। ”
সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২০
কথাটা বলেই সে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। আশেপাশে না তাকিয়ে সিঁড়ি বেয়ে সোজা উপরে উঠে নিজের রুমে ঢুকে দেখলো মুনতাহা নেই। পুরো রুম সহ পুরো বাড়ি খুঁজলো সে। নাহ্ মুনতাহা মির্জা বাড়ির কোথাও নেই। মুনতাহা কে ফোন করলো। নম্বর সুইচ অফ বললো। সালমান মির্জা কে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো মুনতাহা সেখানে গেছে কি না। সালমান মির্জা জানালেন মুনতাহা আসে নি। সিকান্দারের বুক ধড়ফড় করতে লাগলো। মেয়েটা সেখানেও যায় নি! মেয়েটা কোথায় চলে গেল তার অনুপস্থিতিতে! নাকি অন্য কিছু…সারা শরীর জমে বরফ হয়ে গেলো ভয়ে সিকান্দারের। বাড়ি থেকে দৌড়ে বের হবার সময় হুট করে রেণু এসে সিকান্দারের হাত টেনে ধরলো।
