Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ শেষ পর্ব

প্রেয়সীর অনুরাগ শেষ পর্ব

প্রেয়সীর অনুরাগ শেষ পর্ব
Sadiya Jahan Simi

রাতের শেষ প্রহরটা ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিয়েছে নিজেকে। আকাশের কালচে নীল রঙ ফিকে হয়ে একসময় দুধসাদা আলোয় ভরে উঠতে শুরু করল চারপাশ। দূরের মসজিদ থেকে ভেসে এলো ফজরের আজান। নরম, শান্ত একটা ডাক, যেন পুরো পৃথিবীকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।
জানালার কাঁচে জমে থাকা রাতের শিশিরে সকালের আলো পড়ে ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝিলমিল করছে। সাদা পর্দাগুলো হালকা বাতাসে আস্তে আস্তে দুলছে।যেন রাতের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে সকালকে স্বাগত জানাচ্ছে। বাইরে গাছের পাতায় জমে থাকা পানি টুপটাপ করে নিচে পড়ছে। ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশটা আরও কোমল লাগছে।
রাস্তাগুলোও ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। পাখিরা বিদ্যুতের তারে বসে একসাথে ডাকছে, যেন তারা সবার আগে সকালটাকে চিনে ফেলেছে।

ঘরের ভেতরেও রাতের আবেশ আর নেই। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা বউয়ের কাঁচা হলুদ শাড়ির উপর সকালের আলো এসে পড়েছে। গোলাপের পাপড়িগুলো একটু শুকিয়ে গেলেও তাদের গন্ধ এখনও ঘর জুড়ে রয়ে গেছে। খোলা জানালা দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে মনে হচ্ছে, দীর্ঘ অন্ধকারের পর অবশেষে সবকিছু আবার নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে। বা কারো জীবন শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন সূর্যাস্ত আজ যেন কেমন ফিকে লাগছে। চারপাশে কাকের ডাক। সুদূর হতে ভেসে আসছে কুকুরের ডাক। কেমন আজহারি করছে কুকুরগুলো। যেন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে তারা।
সারা রাত ধুমধাম করে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পুরো বিয়ে বাড়ি এখন এক নিঝুম পুরী। মাইকের কানফাটানো আওয়াজ আর ধোঁয়া ওঠা ফুলের সুবাস মিলিয়ে গিয়ে চারদিকে এখন এক অদ্ভুত বিষণ্ণ শান্ত পরিবেশ। ডেকোরেটরের কুঁচকে যাওয়া রঙিন কার্পেট, উল্টে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার আর মঞ্চে ঝুলে থাকা বাসি গাঁদা ফুলের গন্ধ মিলেমিশে একাকার। মরিচ বাতিগুলো তখনও জ্বলছে, তবে ভোরের আবছা আলোয় সেগুলোর উজ্জ্বলতা ম্লান দেখাচ্ছে।পুরো বাড়ির মানুষ এখন ক্লান্তির চরম সীমায় পৌঁছে ঘুমে বিভোর। কাজিন মহলের ছেলেরা বসার ঘরের মেঝেতেই জটলা পাকিয়ে, কোলবালিশ জড়িয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। ভেতরের ঘরগুলোতে খাটের ওপর গাদাগাদি করে মায়েরা-চাচিরা অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। কেউ কারও খোঁজ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই, যেন পুরো বাড়িতে এক জাদুকরী ঘুমের মায়া ছড়িয়ে পড়েছে।

মিমের রুমে ঊষা, মাইশা,রাফসা এবং মিমের ফুফাতো বোন ঘুমিয়েছে। সারারাত পার করে ভোরের দিকে শুয়েছে তারা। তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঘুম ভেঙ্গে গেল রাফসার। গানের অতিরিক্ত আওয়াজ এবং বেশিক্ষণ জেগে থাকার দরুন তার মাথা ধরে আছে। ধীর গতিতে উঠে বসল বিছানায়। মাথা ঘুরছে বেশ। ফ্রেশ হতে বেড থেকে নামতেই কারো পায়ের সাথে পা বাঁধল। তড়িঘড়ি করে সরে দাঁড়ায় রাফসা। নিচে কে শুয়ে আছে দেখার জন্য তাকাতেই আটকে উঠলো। মিম শুয়ে আছে মেঝেতে। বেডে তাকিয়ে দেখল ঊষা মাইশা এবং মিমের ফুফাতো বোন শুয়ে আছে। জায়গা যথেষ্ট আছে। তাহলে এখানে কেন শুয়েছে! মাথায় একটু চাপ দিতেই মনে পড়ল ভোরের শেষে শোয়ার পর মিম ফিসফিস করে কথা বলছিল। এক প্রকার বিরক্ত হয়েই মাইশা নিচে নামিয়ে দেয় মিমকে। তারপরও কোনো দ্বিধা করেনি। হালকা কাঁথা মেঝেতে বিছিয়ে শুয়ে শুয়ে কথা বলছিল জিহাদের সাথে।

রাফসা আর দাঁড়ালো না। ওয়াশরুমে যায় ফ্রেশ হতে। মিনিট পাঁচেক বাদেই বেরিয়ে এলো রাফসা। চোখে মুখে পানির বিন্দু বিন্দু কোণা। তাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। নিচে গুটি কয়েক জন মানুষ দেখা যাচ্ছে। বারান্দায় কিছুক্ষণ থেকে রুমে চলে আসে। লম্বা চুলগুলো আঁচড়ে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিল। তারপর গায়ে চাদর জড়িয়ে বেরিয়ে এলো রুম থেকে। হাঁটতে হাঁটতে একটা দরজার সামনে এসে দাড়ালো। ধাক্কা মেরে বুঝল ভেতর থেকে লক করে রাখা। বিরক্ত হলো বেশ রাফসা। এখানে দাঁড়িয়ে আর সময় নষ্ট করল না। ফের ছুটল ঘরের দিকে। বালিশের নিচ থেকে ফোন বের করে ফোন লাগালো কাঙ্খিত নাম্বারে। কয়েকবার রিং হতেই ওপাশ থেকে রিসিভ হলো। রাফসা তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দিলই না। গড়গড় করে বলল,

” কোথায় আপনি? এখনো ঘুমাচ্ছেন! তাড়াতাড়ি দরজা খুলে বের হয়ে আসুন। পাঁচ মিনিট দিলাম।”
ওপাশ থেকে উদ্যানের গভীর ঘুম এতোক্ষণে উবে গেছে। অবাক হয়ে বলল,
” কেন কি হয়েছে? কোনো প্রবলেম!”
” হুঁ আমার খিদে পেয়েছে প্রচুর। তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসুন।”
” ওকেহ। ওয়েট কর একটু। আসছি।”
ওপাশ থেকে খট করে ফোন কেটে গেল। উদ্যান পুরো কথাটা পুরো শেষ করতে পারল না। তার আগেই রাফসা ফোন বিচ্ছিন্ন করেছে। উদ্যান মাথা ঘামায়নি আর। আদেশ যেহেতু দিয়েছে আর শুয়ে থাকা যাবে না। ওঠে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসে। হুডি পরে পকেটে ওয়ালেট ঢুকাতেই একটা কন্ঠ ভেসে এলো।
” কোথায় যাচ্ছ ভাইয়া? হসপিটালে!”
উদ্যান কথাটা শুনে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো। মাহিন ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে আছে। চোখজোড়া বেশ ছোট। এবং লাল হয়ে আছে। উদ্যান স্বাভাবিক ভাবেই গম্ভীর গলায় বলল,
” নো। কাজ আছে একটু।”
তারপর আর দাঁড়ালো না। বেরিয়ে গেল রুম থেকে। মাহিন ফের ঘুমে তলিয়ে গেল।

উদ্যান সিঁড়ির কাছে আসতেই দেখল রাফসা নামছে সিঁড়ি বেয়ে। প্রায়ই অর্ধেক সিঁড়িতে আছে সে। খুব ধীরে পা ফেলছে যেন সিঁড়ি ব্যথা পাবে। গম্ভীর মানবের মুখে ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল। বড় বড় পা ফেলে ধরল রাফসাকে। এইদিকে এতো জোরে কারো পায়ের শব্দ শুনে পেছনে ফিরে তাকাতে চাইল রাফসা। তবে তা ফুসরত করতে পারল না। কারো এক জোড়া হাত বন্দি হলো মেয়েলি বাঁকানো কোমড়ের মাঝে। রাফসা হতভম্ব হয়ে তাকালো। চোখে ভয়ের হানা। তবে অপর পাশের ব্যক্তিকে দেখে নিমিষেই ভয় কেটে গেল। ড্রয়িং রুম সম্পূর্ণ ফাঁকা। ফাঁকা বললে ভুল হবে। বেশ কয়েকজন ছেলে শুয়ে আছে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তারা।
” কি খাবেন মিসেস?”
উদ্যানের সাথে তাল মিলিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে রাফসা বলল,
” কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।‌ আবার পেটে প্রচন্ড খিদে। কি করা যায় এখন!”
রাফসার কথায় উদ্যান কিছু বলল না। বেরিয়ে এলো বাইরে। তবে এখন‌ দু’জনে স্বাভাবিক ভাবেই আছে। ডেকোরেশনের কয়েক জন আছে উঠোনে। তাদের পেরিয়ে গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল দুজন। উদ্যান গাড়িতে উঠে বসতেই রাফসা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। এই লোক গাড়িতে উঠছে কেন আজব! চোখ ছোট ছোট করে বলল,

”একি কোথায় যাচ্ছেন আপনি?”
উদ্যান ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে রাফসা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। জীভ দিয়ে গাল ঠেললো সজোরে। ভ্রু নাচিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
” উঠে আসো। যেখানেই যাই পরে দেখবে।”
রাফসা মুখ বাঁকিয়ে ফ্রন্ট সিটে গিয়ে বসলো। রাফসা বসতেই গাড়ি স্টার্ট হলো। ধোঁয়া উড়িয়ে বেরিয়ে যায় গাড়িটি।
জানুয়ারির শহরটা যেন কুয়াশার পাতলা চাদরে মোড়া। রাস্তার দু’পাশে লাইটপোস্টগুলো ধোঁয়াটে আলো ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দ প্রহরীর মতো। ঠান্ডা বাতাস জানালার কাঁচে বারবার ধাক্কা দিচ্ছে, আর দূরের কোনো চায়ের দোকান থেকে ভেসে আসছে ধোঁয়া আর মানুষের ক্ষীণ কথাবার্তা। শহর এখনো পুরো জেগে ওঠেনি, তবু কোথাও কোথাও জীবনের শব্দ ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে।

সেই শহরের বুক চিরে গাড়িটি ছুটে চলছে অবিরাম। হেডলাইটের সাদা আলো কুয়াশা কেটে সামনের পথ খুলে দিচ্ছে। চাকার নিচে ভেজা রাস্তার শব্দ যেন রাতের নীরবতার সঙ্গে মিশে এক অদ্ভুত সুর তৈরি করছে। জানালার বাইরে একের পর এক ফেলে আসা ভবন, ফাঁকা মোড়, ঘুমন্ত দোকান—সবকিছু দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, গাড়িটি শুধু রাস্তা পেরোচ্ছে না, পেরিয়ে যাচ্ছে সময়, স্মৃতি আর অজানা কোনো
উদ্যানের চোখ স্থির সামনে, অথচ ভেতরে ভেতরে যেন সেও কোনো অদৃশ্য অস্থিরতায় ভেতর ডুবে আছে। গাড়ির ভেতরে হালকা গরম বাতাস, তবু জানালার কাঁচে জমে থাকা শিশিরে আঙুল ছোঁয়ালেই ঠান্ডা অনুভব হয়। দূরের কোথাও কোনো চলন্ত গাড়ি হতে ক্ষীন গানের স্বর ভেসে আসছে।বোঝা যাচ্ছে না—শুধু সুরটা কেমন বিষণ্ন হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।

শহরের বড় বড় বিলবোর্ড কুয়াশার আড়াল থেকে হঠাৎ দেখা দিচ্ছে, আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো মোড়ে ট্রাফিক সিগনালের লাল আলো একা জ্বলছে, যেন রাতভর জেগে থাকা ক্লান্ত চোখ। দূরে কোথাও একটা ট্রেনের হুইসেল ভেসে এলো, তারপর আবার সব শান্ত।
গাড়িটি তখনো ছুটে চলছে অবিরাম। মনে হচ্ছিল, থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই তার। সামনে শুধু দীর্ঘ রাস্তা, কুয়াশা আর জানুয়ারির ঠান্ডা রাত। আর সেই পথের শেষে কী আছে—ফিরে পাওয়া কোনো মানুষ, নাকি হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি গল্প—তা এখনো কেউ জানে না।
গাড়িটি এসে থামল এক রেস্টুরেন্টের সামনে। সম্পূর্ণ কুঁড়ে ঘরের তৈরি সেটি।টিনের ছাউনি বেয়ে টুপটাপ শিশির পড়ছে, আর বাঁশের বেড়াগুলো শীতের কুয়াশায় ভিজে গাঢ় রঙ ধারণ করেছে। গাড়ি থেকে দুজন বেরিয়ে আসতেই ঠান্ডা হাওয়া ছুঁয়ে গেল তাদের দেহের ভাঁজে। উদ্যান রাফসার এক হাত মুঠোয় নিয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। যেন ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যাবে। রাফসা তা দেখে মৃদু হেসে বলল,

”এমন ভাবে ধরেছেন যেন আমি অনেক দূরে চলে যাবো। কোথাও যাবো না আমি এখন। আমাদের ছোট্ট একটা সংসার পড়ে আছে সবার আড়ালে। আপনার সাথে আমার সংসার করা বাকি। একটা জীবন পাড়ি দেওয়া বাকি। আমার এতো সুন্দর সংসার ফেলে কোথাও যাবো না।”
রাফসার কথায় বুকটা কেঁপে উঠলো বোধহয় সামনের মানুষটির। চোখ কেমন টলটল করছে। কেমন করে যেন বলল,
”এমন কথা বলো না জান। আমার খুব ভয় হয় তোমাকে হারানোর। তোমাকে পাওয়ার লোভে এতো কষ্ট দিয়েছি। দিন শেষে তোমাকে পেয়ে যাবো এই নিশ্চিন্তে। তোমাকে হারিয়ে ফেললে আমি পাগল হয়ে যাবো।”
রাফসা ফিক করে হেসে উঠলো। উদ্যানের এক বাহু দুই হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরল। চোখে চোখ রেখে শাণিত গলায় বলল,
”আমি‌ না থাকলে আমায় মিস করবেন খুব? আমাকে যে এতো কষ্ট দিয়েছেন,তার জন্য আফসোস করবেন? আমাকে না পেলে কাকে বকাবকি করবেন? গভীর রাতে চুপিসারে রুমে এসে কাকে আদর করবেন?”
রাফসা থেমে গেল। আর বলল না। বাহু টেনে সামনে যেতে যেতে বলল,
”এতো তাড়াতাড়ি কোথাও যাচ্ছি না আমি। একটা গুডনিউস দেওয়া বাকি। আগে আমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আপনার বউ করে ঘরে তোলার ব্যবস্থা করুন মিস্টার রাওদ।”

টেবিল হরেকরকম খাবার সাজানো। খাসি মাংসের ঝোল,চালের রুটি,মালাই চা,নোলার ঝোল গরুর কালো ভুনা। রাফসা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল। অবাক হয়ে বলল,
”এতো খাবার কেন? আল্লাহ কত গুলো!”
উদ্যান চুপচাপ শুনল বউয়ের কথা। হাত ধুয়ে রুটি ছিঁড়ে খাসির মাংসের ঝোল লাগিয়ে রাফসার মুখের সামনে ধরে। রাফসা ভ্রু কুঁচকে উদ্যানের হাতের দিকে তাকালো। অস্বাভাবিক ভাবে পুরুষালি হাত কাঁপছে। বলল,
”আপনার হাত কাঁপছে কেন এমন করে! আপনি কি অসুস্থ?”
উদ্যান ছোট করে বলল, ”উহুঁ।”
রাফসা হেসে খাবারটা মুখে নিল। চিবোতে চিবোতে বলল, ”বুঝেছি আপনার মন খারাপ। একটু ওয়েট করুন গুডনিউস শুনলেই মন ভালো হয়ে যাবে।”
এই‌ কথারও উওর দিল না সে। কেমন চুপচাপ খাইয়ে যাচ্ছে বউকে। রাফসা নিজেও খাইয়ে দিতে চাইলে আস্তে করে বলল,

”খাবো না। তুমি খাও।”
রাফসা তবুও সরালো না। জোর করে চেপে ধরে মুখে খাবার ঢুকিয়ে দিল। আজ কেন যেন তার গলা দিয়ে খাবার নামছে না। মনে হচ্ছে তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু জিনিস হারিয়ে যাবে।
” আমি তোমাকে ভালোবাসি উদ্যান ভাই।”
চমকে উঠলো উদ্যান। রাফসার দিকে তাকিয়ে দেখল মিটমাট করে হাসছে। কি মারাত্মক হাসি। ঠোঁটের কোণের কালো তিলটা যেন হাসিটা আরো দ্বিগুন সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিচ্ছে। সেই প্রথম দিনের মতো আজ প্রেম নিবেদন করছে। ঠিক এভাবেই তো রাফসা তাকে মনের কথা জানিয়েছিল। উদ্যানের সবচেয়ে খুশির দিন ছিল। ওর ব্লিডিং হার্ট ওকে ভালোবাসতো। খুব ইচ্ছে করছিল একটু জড়িয়ে ধরতে। চিৎকার করে বলতে আমিও তোকে ‘ভালবাসি’। কিন্তু সেদিন হাত বাঁধা ছিল তার। মনের উপর পাথর দিয়ে এতো ধারালো কথাগুলো বলেছিল।
”উদ্যান ভাই কিছু বলছো না কেন?”
রাফসার কথায় ভাবনার জগৎ থেকে ছিটকে পড়ে উদ্যান। রাফসার পাশে আরেকটু চেপে বসে হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল। মৃদু কন্ঠে জানায়,
” আমার রাজের রানি। আমার হৃদয় নিয়ন্ত্রণকারী। আমার বেঁচে থাকার কারন , আমার অক্সিজেন, আমার জীবন, আমার সব তুমি। আমি নিজের থেকেও বেশি তোমাকে ভালোবাসি। আমার পূর্ণতা। আমার অর্ধাঙ্গিনী। আমার বউ।”
রাফসা খিলখিল করে হেসে উঠলো।তার ব্যক্তিগত পুরুষের কাঁধে মাথায় রেখে বলল, ”আমার সুদর্শন পুরুষ। আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ।”

ওরা রেস্টুরেন্টের থেকে বেরিয়ে সামনে হেঁটে যায় কিছুটা। সামনেই একটা গোলাপের বাগান। সেখানে কিছু ছবি তুলে বাসায় ফিরবে তারা। মেইনরোড পার হয়ে ওপারে গেল। বিশাল বড় এমাথা ওমাথা ফুলের বাগান। চোখ ধাঁধানো সুন্দর। রাফসা হা করে তাকিয়ে রইল।
”ছবি তুলে দাও আমাকে। ইশ্ কি সুন্দর।”
আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল রাফসা। উদ্যান বাধ্য ছেলের মতো পকেট থেকে ফোন বের আনে।‌ রাফসা বেশ কিছু ছবি তুলল।
” আসো একসাথে একটা সেলফি তুলি।”
উদ্যান তাই করল। দুই তিনটে সেলফি নেওয়া পর রাফসা বলল,

”তুমি মোবাইল ধরে রাখো। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসবে। তার ক্লিক করবে।”
দুজনে একে অপরের চোখে চোখ রাখল। মিষ্টি করে হাসলো। রাফসা এক হাত উদ্যানের বুকে ঠেকিয়ে রাখল। মুহূর্তেই ক্যামেরা বন্দি হয় । তারপর রাফসা হুট করেই উদ্যানের গালে ঠোঁট ঠেকালো। হঠাৎ কাজে বরকে গেল সে। রাফসা ঠোঁট দুটো চেপেই তাড়া দিল ক্লিক করতে। উদ্যান তাই করল।
” চলো বাসায় যাই। আর দেরি করলে চলবে না।”
উদ্যান শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরল। বেরিয়ে আসে বাগান থেকে। রাফসা ঠোঁট উল্টে বলল,
”গাড়িটা এখানে নিয়ে এলেই হতো। কষ্ট করে ওপাড়ে যাওয়া লাগতো না। যাও না গাড়িটা নিয়ে আসো। আমি বেশি খেয়ে ফেলছি।”

”নো‌ নিড।”
রাফসা বায়না ধরল।
”ওকে। তুই এখানে দাঁড়া। আমি নিয়ে আসছি।”
রাফসা মাথা নেড়ে সায় দিল। উদ্যান যাওয়ার আগে হাত ছাড়িয়ে নিতেই বুকটা কেমন করে কেঁপে উঠলো। ভাঙ্গা কন্ঠে বলল,
”বউ।”
”হুঁ?”
”আই লাভ ইউ হার্ট।”
”আই লাভ ইউ টু।”
”পৃথিবীতে আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী নারী আমার বউ।”
”আর পৃথিবীতে সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ আমার স্বামী।”
”আমি এক্ষুনি আসব। কোথাও যাবে না।”
”ওকেহ।”

সামনে পা বাড়ায় রাস্তায় গাড়ি দেখে। রাফসা এক পাশেই দাঁড়িয়ে রইল। উদ্যানের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। খুব খুশি লাগছে রাফসার। কিন্তু কোনো কারণে মন ভেঙ্গে আসছে। ভেতর থেকে কান্না দলা পাকিয়ে আসছে। খুব করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। ঠোঁট চেপে দাঁড়িয়ে রইল। ওপাড়ে উদ্যান সবেই গাড়ির কাছে গিয়ে পৌঁছেছে। রাফসার দিকে তাকিয়ে গাড়ির দরজা খোলার মাঝেই রাস্তার চোখ যায়। মুহূর্তেই হাত জোড়া থেমে গেল সেখানেই। এক মুহুর্ত চারদিকে চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসে। শুণ্য হয়ে পড়ল উদ্যান। ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইল জায়গায়। মিনিট যেতেই বুঝতে পারল কি হয়েছে। ততক্ষণে সব থেমে গেছে। উদ্যান প্রাণপ্রণে দৌড়ে যায় রাস্তার ওপাশে। ওর জান রাস্তায় পড়ে ছটফট করছে। সাদা থ্রি পিস টা লাল রক্তে ভিজে যাচ্ছে।
উদ্যান দৌড়ে গিয়ে মাথাটা কোলে তুলে নিল। পাগলের মতো ডাকছে।

”এই জান তাকাও আমার দিকে। আমার সাথে এরকম দুষ্টুমি করো না জান। মরে‌ যাবো আমি। প্লিজ এতো বড় শাস্তি দিও না আমাকে।
এই চোখ খোলা রাখ। খবরদার একদম চোখ বন্ধ করবি না। তোর কিছু হয়ে গেলে আমি মরে যাবো বউ।
আমার এতো বছরের ভালোবাসা তুই এভাবে নষ্ট করিস না বউ। আমাদের এখনো সংসার করা বাকি। চোখ খুলে রাখ না জান। তোর একশোটা বোরকা চাই তাই না? সব দিব। যা চাইবি তাই দিব।
আমার থেকে তুই তোকে কেড়ে নিস না বউ। আমি মরে যাবো জান। তুই হীনা বেঁচে থাকার শক্তি যে আমার নেই বউ।”
রাফসাকে একটা চলন্ত ট্রাক রাস্তার সাইডে এসে ধাক্কা মেয়ে চলে গেছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নাকি পূর্ব পরিকল্পিত জানা নেই তা। মাথায় বাড়ি লেগেছে বেশ।
রাফসা আধো আধো চোখে তাকিয়ে রইল। ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল,

”আ,,আমা,র বাচ্চা। আমাদের বাচ্চাকে বাঁচাও।”
উদ্যান স্তম্ভিত হয়ে পড়ল। কি শুনছে এসব! ওর রক্ত! ওদের দুজনের রক্ত! ভালোবাসার প্রতীক? কি করে নজর রাখল না সে?
”প্লিজ চোখ খুলে রাখ। আমার বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যাস না। আমি বাঁচব না তোদের ছাড়া। এতো বড় শাস্তি দিস না আমাকে।”
এক মুহুর্ত তারপর চারদিকে অন্ধকার হয়ে উঠল। উদ্যান তাকিয়ে আছে। কাঁপা কাঁপা হাতে পালস চেক করল। পরমুহূর্তেই হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলো।
” আল্লাহহহ আমার বউ.. আমার বাচ্চা। এই জান তাকা আমার দিকে। তাকা না আমার দিকে।
এতো বড় শাস্তি দিস না আমাকে। আমার বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যাবি না এতো বড় সাহস দেয়নি আমি তোকে। এই বউ চোখ খুলনা। তোকে অপমান করার শাস্তি দিচ্ছিস! এই ডিজগাস্টিং গার্ল তাকা বলছি। নয়তো থাপড়ে গাল ফাটিয়ে দিবো। ও বউ বউ রে তাকা না। আর কখনো গায়ে হাত তুলব না। কখনো ধমক দিব না। উঠ না।”
মানুষ জন ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কেউ আফসোস করছে। অনেকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এমন করে কে ভালোবাসতে পারে? কেন তারা চলতে পারল না সারাটা জীবন একসাথে!

অক্টোবরের সকালটা আজ অদ্ভুত রকমের শান্ত। আকাশে সূর্য উঠেনি । মেঘ ভাসছে আকাশে। চারদিকে বাতাস বয়ছে। অশান্ত হয়ে আছে প্রকৃতি। জানালা দুটো ফাঁকা হয়ে খুলে আছে সম্পূর্ণ। ধবধবে সাদা পর্দাগুলো বাইরের হাওয়ায় ভাসছে। টেবিলের উপর পড়ে আছে বায়োলজি বইটা আধখোলা অবস্থায়। তার উপরে একটা কলম। পাশেই কফির মগ। নিচে একটুখানি কফি লেগে আছে। তা শুকিয়ে গেছে। ষোলো নাম্বার ডায়েরীটি বন্ধ করে একপাশে রাখল। পুরো টেবিল জুড়ে ডায়েরীর ছড়াছড়ি। এক‌ ষোড়শী কন্যা নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল বাইরে। চোখ দুটো দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। নাকের পাটা ফুলে আছে। চোখজোড়া ফুলে উঠেছে কান্নার দরুন। ঠোঁট ভেঙ্গে এলো তার।
” ফুফি তুমি এতো ভালোবাসলে মামাকে!”
নিঃশব্দ কান্নার আওয়াজ। পুরো রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেও আর একটি ডায়েরী পেল না। মাথা চেপে বসে পড়ল সে। বিড়বিড় করে বলল।

” ফুফির অক্সিডেন্ট কি কোনো পরিকল্পিত ভাবে করা ছিল? কে ছিলেন আন‌ ক্রেভিয়ান! আব্বাস দাদার কোন ছেলে আন ক্রেভিয়ান? আভিয়ান শিকদার কোথায় এখন? শায়লা আরিয়ান কে ছিল! কেন আব্বাস দাদা ফরাজী বাড়ির ধ্বংসের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছিল! এই গল্পের শেষ কোথায়? কে বলবে আমাকে এসব? কি হয়েছিল সেদিন!”
”রাইসা এই রাইসা কোথায় তুই? সেই‌ সকালে দরজায় খিল এঁটে বসেছিস। তাড়াতাড়ি দরজা খোল বলছি।”
ভাবনার জগৎ থেকে ছিটকে বেরোয় ষোড়শী কন্যা। চোখ মুখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে। গিয়ে দরজাটা খুলে দিল। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ওর মা।
”কি হলো আম্মু? কিছু বলবে!”
”তোর চোখ মুখ এমন কেন লাগছে?”
”কিছু না।”
”নিচে খেতে আয় এক্ষুনি।”
” আম্মু?”
” হ্যাঁ।”
” মামা কোথায়?”
চোখ মুখ কেমন শুকিয়ে গেল। এতো দিন পর ভাইয়ের কথা শুনে বুকটা কেঁপে উঠলো উষার। চোখে পানি চলে আসে।

”আম্মু আজমল শিকদার কোথায়!”
”নেই এই পৃথিবীতে। আমার রাফসা,সোনামনির চলে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় নিউজপেপারে খবর বেরোয় কে যেন নৃশংস ভাবে হত্যা করে তাকে।”
”আন ক্রেভিয়ান কে ছিল?”
ঊষা ঠোঁট চেপে ধরল। পুরনো দিনগুলো ভেসে উঠছে চোখে।
” কে ছিল সে কেউ জানে না।”
”এই গল্পের শেষ কি ছিল !”

” প্রেম কখনও হারিয়ে যায় সময়ের ভীড়ে, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায় মনের গভীরে । কারণ ভালোবাসার প্রথম জন্মই হয় মায়া থেকে — আর মায়া কখনো পুরোপুরি ফুরিয়ে যায় না।”
আমরা যাকে ভালোবাসি তাকে পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ পাগলামি করি।
যাকে সত্যি ভালোবাসা যায়,তার জন্য মানুষ অসম্ভবকেও সম্ভব করতে শেখে।
ঝড়ের ভেতরেও পথ খুঁজে নেয়,হাজার অন্ধকার পেরিয়েও আলো বাঁচিয়ে রাখে।
ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার ইচ্ছে এমন এক নেশা,যেখানে ক্লান্তি হার মানে,
আর অপেক্ষাও হয়ে ওঠে ইবাদতের মতো পবিত্র।
তাকে কাছে পাওয়ার জন্য মানুষ নিজের ভাঙা অংশগুলোও আবার জোড়া লাগায়,
কারণ কিছু মানুষ শুধু ভালোবাসা নয়—
পুরো পৃথিবীর কারণ হয়ে যায়।
তুমি হারিয়ে যাওয়ার পর পুরো শহরটা যেন শব্দ ভুলে গেছে।রাতগুলো আর ঘুম নামে না।শুধু জানালার পাশে বসে থাকে এক দীর্ঘ আর্তনাদ।তোমার না-থাকার শূন্যতায় বুকের ভেতর প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে পড়ে এক পৃথিবী।

হাসতে গেলেও ঠোঁট কেঁপে ওঠে,
কারণ প্রতিটি হাসির নিচে লুকিয়ে থাকে তোমার নাম।
তুমি চলে যাওয়ার পর বুঝেছি—কিছু মানুষ দূরে যায় না,বরং হৃদয়ের গভীরে রয়ে গিয়ে
প্রতিটা নিঃশ্বাসকে কষ্টের মতো ভারী করে তোলে।
এখনও মাঝরাতে হঠাৎ মনে হয়,তুমি হয়তো ডাকবে আমাকে—কিন্তু চারপাশে শুধু নীরবতা,আর সেই নীরবতার ভেতর ডুবে থাকা আমার অসহায় আর্তনাদ।
কতদূরে আছো তুমি জান! আমাকে ছেড়ে থাকতে একটুও কষ্ট হচ্ছে না তোমার? আমার বাচ্চাকে নিয়ে তুমি এতো দূরে কেন চলে গেলে! ও যে বাবা ছাড়া বড় হচ্ছে।বউ চলে আসো না আমার কাছে। তুমি চাইলে হাজারটা বোরকা নিয়ে দিব। আমি বেঁচে থেকেও মরে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত একটু একটু করে। কত পাষাণ তুমি সংসার দেখানোর লোভ দেখিয়ে পালিয়ে গেছো আমার থেকে! ফিরে এসো না জান।”

তোমাকে চাই শুধু, তোমাকে চাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
তোমাকে চাই শুধু, তোমাকে চাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
বাঁধন হারা মনটা আমার
শাসন বারণ মানে না
তোমার প্রেমে পাগল পরাণ
আর কিছু তো জানে না
চোখের স্বপন তুমি
বুকের কাঁপন তুমি
কত আপন তুমি জানা নাই….
তোমাকে চাই শুধু, তোমাকে চাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
তোমাকে চাই শুধু, তোমাকে চাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
সারাটি জীবন ছায়ার মতন
আমার পাশে থাকো না
বুকেরই ঘরে যতন করে
আমাকে তুমি রাখো না…
আমার জীবন তুমি,
আমার মরণ তুমি
কত আপন তুমি জানা নাই…
তোমাকে চাই শুধু, তোমাকে চাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
তোমাকে চাই শুধু, তোমাকে চাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই
” সংসার করার লোভ দেখিয়ে আমাকে একলা রেখে চলে গেলি বউ!”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩৫

বিকেলের আকাশ বড্ড শান্ত। আকাশে পাখি উড়ছে। ঘরে যাওয়ার তাড়া। আপন নীড়ে ফিরে যাবে। বাতাস বয়ছে ছাদে। রাইসা এক পা এক পা করে ছাদে এগিয়ে এলো।
সামনের পুরুষকে দেখে মুহূর্তেই সব খারাপ লাগা উধাও হয়ে গেল যেন। আজ আর কিছু ভাবল না। চুপিসারে পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। ঝংকার করে বলে উঠলো,
”আমি তোমাকে ভালোবাসি রিহান ভাই। তুমি জারা ফুফির মেয়ের সাথে কথা বলবে না। আমার খারাপ লাগে খুব।”
পুনরায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?”

[ কিছু জিনিসের সমাপ্ত হয় না।]