৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২৪
রুপান্জলি
এই প্রথম পাপ্পার সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে অর্পনা। এর আগে কোনোদিন সে কারোর কাছে মাথা নত করেনি,, কাউকে লাইন বাই লাইন কইফিয়ত দেয়নি। অথচ আজ একটা স্বল্প পরিচিত, একদিনের হাসবেন্ডের জন্য মাথা নত করে গত তিন দিনে ঘটা সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরন দিলো। অর্পনার কথা শেষ হতে দেরি ওর গালে চর পরতে দেরি নেই। চর খেয়ে অবাক চোখে পাপ্পার দিকে তাকালো অর্পনা। পাপ্পা তাকে মারলো? এই ২২ বছরে অর্পনা কতো উল্টা পাল্টা কাজ করেছে,, অন্যায় করেছে,,কই তখন তো পাপ্পা ওকে মারেনি, আজ মারলো কেনো? কান্নাকাটির স্বভাব নেই বলে অর্পনা শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। অর্পনাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ধমকে উঠলেন আরশাদ জামান — তোমাকে লাই দিতে দিতে একটা বেয়াদব তৈরি করেছি আমি,, তোমাকে আমি ছাড় দিয়েছি মানে ছেড়ে দেইনি অর্পনা। আমার অনুমতি ব্যাতিত এতো বড়ো সিদ্ধান্ত তুমি কিভাবে নিতে পারো? আমার মেয়ে হয়ে কিনা শেষে তুমি একটা পাগলকে বিয়ে করলে? লজ্জা হলোনা তোমার?
,,,, দ্বীপকে সরাসরি পাগল বলে গালি দেওয়ায় রাগ হলো অর্পনার,, সামনের মানুষটাকে সে চিনতে পারছেনা। যেই পাপ্পা সারাজীবন তাকে অন্যের সেবা করার, উপকার করার শিক্ষা দিয়ে এসেছেন,, সেই পাপ্পার মুখে নিজের বিয়ে করা হাসবেন্ডকে অপমানিত হতে দেখে অর্পনা প্রতিবাদি কন্ঠে বললো — উনি অসুস্থ হতে পারেন তবে পাগল নয়। ডক্টর বলেছে আর বছর খানিকের মাঝেই উনি সুস্থ হয়ে পরবেন। এরপর থেকে আমার হাসবেন্ডকে নিয়ে এভাবে কথা বলবেনা পাপ্পা, ওনাকে এসব বললে আমার রাগ হয়।
,,, মেয়ের কথায় তাচ্ছিল্য হাসলেন আরশাদ জামান,, নাকের পাটা ফুলিয়ে তিক্ত কন্ঠে বললেন– হাসবেন্ড? তোমার হাসবেন্ড তোমাকে চিনে? তুমি যে অর্পনা এটা জানে? জানেনা!! সে তোমাকে পারু ভাবছে তাই নিজের কাছে ঘেষতে দিচ্ছে। যেদিন সুস্থ হয়ে যাবে সেদিন তোমার দিকে ফিরেও তাকাবেনা। তুমি কষ্ট করে ওকে সুস্থ করে তুলবে আর ও সুস্থ হয়ে সর্বপ্রথম তোমাকেই জীবন থেকে বের করে দিবে। তাই ওসব মানব সেবা ছাড়ো,, বাড়ির মেয়ে বাড়িতে ফিরে আসো। কাগজে কলমে যেহেতু বিয়ে হয়নি,, সুস্থ হয়ে গেলে তালাক নামাটা চেয়ে নিলেই হবে। যাও ঘরে যাও।
,,,সেই এক কথা,, দ্বীপ সুস্থ হলে ওকে ছুড়ে ফেলে দিবে, ওর জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। ওর সুখ শান্তি বিলীন হয়ে যাবে। আচ্ছা!! অর্পনা কি এতেদিন খুব সুখে ছিলো? যার যার মনের দগ্দতার খবর শুধু সেই সেই জানে। অর্পনা বাবার বিপরীতে বললো — ছুড়ে ফেলবে তো? ফেলুক,,আমার জীবন নষ্ট হয়ে যাক, শুকনো পাতার মতো জীবনটা ঝরে পরুক। তবুও আমি ওনার থেকে সরে আসবোনা। প্রয়োজনে আমার একটা জীবন আমি ওনার নামে কোরবান করে দিলাম,, তবুও ওনাকে আমি এই মাঝপথে ছেড়ে দিতে পারবোনা। একবার যখন ভেবেছি উনাকে সুস্থ করে তুলবো তখন তুলবোই। আর যদি বাড়ি ফিরার কথা উঠে,, তাহলে বলবো,, উনি সুস্থ হওয়ার আগে আমি কিছুতেই বাড়ি ফিরবোনা। উনি একবার সুস্থ,,
,,, অর্পনার কথা শেষ হওয়ার আগে খেকিয়ে উঠলেন আরশাদ জামান,, সোফার হাতলে সজোরে আঘাত করে বললেন — হোয়াট রাবিশ? জীবনটাকে ফ্যান পেয়েছো? তুমি এখন ঐ পাগলের কাছে যাবে, আর ঐ পাগল যখন তোমাকে ছুড়ে ফেলে দিবে তখন তুমি আমার বাড়িতে ফিরে আসবে? আমাকে জোকার মনে হয় তোমার? আমার বাড়ি থেকে যদি তুমি আজ বেড়িয়ে যাও তাহলে আর কোনোদিন এই বাড়িতে পা রাখবেনা। জেনে রাখবে,, আরশাদ জামানের দরজা তোমার জন্য আজীবনের জন্য বন্ধ। যাও, গেলে এখোনি বেড়িয়ে যাও,, আর কখনো যেনো তোমাকে আমার দুয়ারে না দেখি।
,,,, পাপ্পার কথায় অর্পনার চোখ জোড়া লাল হয়ে এলো তবে চোখে পানি এলোনা। অর্পনার চোখে কেনো যেনো পানি জমেনা, শত কষ্টেও না। অর্পনা সোফা ছেড়ে উঠে দাড়ালো,, মনটা ভঙ্গুর হলেও কন্ঠে ত্যাজ এনে বললো — ওকেহ, আসবোনা। যেদিন দ্বীপ আমাকে অস্বীকার করবে সেদিন মরে গেলেও তোমার বাড়িতে ফিরবোনা পাপ্পা। তুমি ভালো করেই জানো,, তোমার অর্পন এক কথার মানুষ,, সে মরবে তবুও কথার নরচর করবেনা।
,,,কথাটা বলে অর্পনা সোফা ছেড়ে রুমের দিকে পা বাড়াতেই ঝড়ের গতিতে ওর সামনে এসে দাড়ালো আদ্রিয়ান। হুট করেই আদ্রিয়ানের আগমনে কিছুটা ভয় পেয়েছিলো অর্পনা কিন্তু ওর লাল হয়ে যাওয়া চোখ,, কান্না ভেজা বদন দেখে চুপ রইলো। আদ্রিয়ান চোখের পানি মুছে অর্পনার গালে দুহাত রেখে ফিসফিসানো স্বরে বললো — জানেম!! তুমি বিয়ে করে নিয়েছো? অন্য কাউকে? বলোনা জানেম,,বিয়ে করেছো তুমি? আমার জানেম এখন অন্য কারোর বউ? ও অর্পনা!! আমি তোমায় আর জানেম বলে ডাকতে পারবোনা? কল দিয়ে বিরক্ত করতে পারবোনা? ভালোবাসতে পারবোনা? তোমায় পিছু করতে পারবোনা? সারা রাত তোমার পাহারায় দরজার বাহিরে ঘুমিয়ে থাকা হবেনা? অর্পন,, এই!! আমায় কেনো বিয়ে করলেনা? আমি পাগল নই বলে? দেখোনা,, আমার ভিতরটা ছিড়ে যাচ্ছে,, এখন পাগলামি করলে বিয়ে করবে? বলো!! আমিও যদি ঐ লোকটার মতো পাগলামি করি,, আমায় বিয়ে করবে তুমি ? এভাবে যত্ন করবে? বলোনা জানেম,, এই!!
,,,বলতে বলতে অর্পনার গালে হালকা চাপর দিচ্ছিলো আদ্রিয়ান। অর্পনা চোখ বন্ধ করে নিলো পরপর গাল থেকে আদ্রিয়ানের হাত সরাতে চেয়ে বললো — ছাড়ুন প্রোফেসর,, আমার আপনাকে কিছু বলার নেই। আমাকে যেতে হবে।
,, আদ্রিয়ান অসহায়ের মতো অর্পনার দিকে তাকিয়ে রইলো, অর্পনা তো বরাবরি এমন ব্যাবহার করে,, কই তখন তো আদ্রিয়ানের এতো কষ্ট হয়না? তাহলে আজ কেনো হচ্ছে? অর্পনা অন্য কারোর বউ বলে? আদ্রিয়ান মৃদু আকারের দম ফেলে অর্পনার মুখটা অবলোকন করতে গিয়ে দেখলো অর্পনার কপালের এক পাশ কাটা। বিচলিত হলো আদ্রিয়ান, কাটা জায়গায় হাত ছুইয়ে বললো –জানেম!! এটা? এটা কিভাবে হলো? তোমার কপাল কেটেছে কিভাবে? ইশশ,, জায়গাটা কালো হয়ে আছে,, কি করো এসব,, নিজের যত্ন নেওনা কেনো?
,,বলতে বলতে জায়গাটাতে হাত ভুলাতে লাগলো। আদ্রিয়ানের এই বিচলিত কন্ঠ,, কান্না ভেজা স্বর,, কোনোটাই দ্বীপের বলা সামান্য ” ব্যাথা? ” শব্দটার কাছে পৌছাতে পারেনি। দ্বীপ যখন ওর কপালে স্পর্শ করেছিলো তখন মনে হয়েছিলো কেউ তাকে আদরের সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আদ্রিয়ানের ছোয়ায় তেমন কিছুই পেলোনা অর্পনা,, তার শুধু দ্বীপের কথা মনে পরছে। এখানে এসেছে ঘন্টাখানিক হবে,, লোকটার ঘুম ভেঙে যাওয়ার আগেই তাকে ফিরতে হবে নয়তো উঠে যদি পাগলামি করে? জোর খাটিয়ে আদ্রিয়ানের থেকে দূরে সরে গেলো।ওদের কথার মাঝেই শুনা গেলো আরশাদ জামানের তাচ্ছিল্য স্বর — কপালের আঘাতটা কিভাবে পেলে? নিশ্চই তোমার সো-কল্ড পাগল স্বামী দিয়েছে? এটাই লিখা আছে কপালে,, আজ কপাল ফাটিয়েছে কাল জীবনটা ধ্বংস করে ছেড়ে দিবে।
,,,অর্পনার রাগ এবার আকাশ ছুলো। কেউ কেনো তার হাসবেন্ডকে পাগল বলবে? উনি যদি পাগল ও হয় তাহলেও কেউ বলতে পারবেনা,, অর্পনা বলতে দিবেনা। সে আবারও বাবার বিপরীতে গিয়ে বললো– পাপ্পা! সাবধান করে দিচ্ছি, খবরদার!! কেউ আমার হাসবেন্ডকে পাগল বলবেনা। বললাম তো ওর নামে জীবনটা কোরবান করে দিয়েছি,, এবার সে আমায় মারুক, কাটুক, প্রয়োজনে মেরে ফেলুক আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি আমার কিছু ড্রেস,, বই আর গিটারটা নিয়ে যাচ্ছি। যেগুলো নিজের টাকায় কিনা সেগুলোই নিবো,, আজকের পর তোমার চার আনা পয়সা ও আমি ইউজ করবোনা পাপ্পা। যেদিন মন পরিবর্তন করে আমার হাসবেন্ডকে মানুষ রুপে দেখতে পারবে সেদিন আমায় ডেকো,, আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো।
,,,,, কথাটা বলে আবারও রুমের দিকে পা বাড়াতে নিলে আদ্রিয়ান ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। মাথার উপর থুতনি ঠেকিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললো বললো — জানেম! তুমি তো বলেছিলে কখনো বিয়ে করবেনা,, একা থাকবে। তাহলে এখন বিয়ে করলে কেনো? বলো!! তুমি যেওনা জান,, তোমার পায়ে ধরি,,আমাকে এভাবে নিশ্ব করে দিওনা,, মরে যাবো আমি। তোমাকে ভালো না বেসে একটা নিশ্বাস ত্যাগ করাও আমার পক্ষে অসম্ভব। জানেম,, ও জানেম!! শুনোনা, আমায় এতো বড়ো শাস্তি দিওনা,, জানেম!! আদ্রিয়ান মরে যাবে,, অর্পনাকে ছাড়া আদ্রিয়ান মরে যাবে,, ট্রাস্ট মি।
,,,অর্পনা সেসবে কান দিলোনা,, জোর প্রয়োগ করে আদ্রিয়ানের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আবারও রুমের দিকে পা বাড়াতেই আদ্রিয়ান হাটু গেড়ে মেঝেতে বসে অর্পনার কোমর জড়িয়ে ধরে বললো — দয়া করো জানেম,, আমায় এতো বড়ো শাস্তি দিওনা। আমি সত্যি ই মরে যাবো। তুমি তো,, তুমি তো আমাকে পছন্দ করতে বলো। করতে তো,, আজ কেনো করছো না? আমার একটা ভুলের জন্য দুটো বছর ধরে তোমার কাছে পরে আছি। মাফ করে দাওনা,, আমায় ছেড়ে যেওনা জানেন,, মরে যাবো,, আমি সত্যি ই মরে যাবো।
,,,, আদ্রিয়ানের কথা শুনে অর্পনার মান্সপটে ভেষে উঠলো ৪ বছর আগের এক খানা দৃশ্য। কিশোরী বয়স ছিলো অর্পনার,, তখন তাদের অবস্থানটা বিপরীতে ছিলোনা? অর্পনার জায়গায় ছিলো আদ্রিয়ান আর আদ্রিয়ানের জায়গায় অর্পনা। ওপ্স!! সেসব ভাবতে চায়না অর্পনা। ওসব বিরক্তিকর টপিক নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতেও তার লেইম লাগে। অর্পনা তার কোমর থেকে আদ্রিয়ানের হাত সরাতে চাইলো আদ্রিয়ান ছাড়লোনা।আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো — মাফ করে দেও জানেম,, সেদিন ভুল করেছিলাম। আমি যেই ভুলটা করেছি সেই ভুল তুমিও করোনা জান। আমার করা ভুলে তুমি বেপোরোয়া তৈরি হলেও তোমার প্রত্যাক্ষানে আমি পাগল হয়ে যাবো,, মরে যাবো। দয়া করো জানেম,,, আমায় ছেড়ে যেওনা।
,,, আদ্রিয়ানের পাশাপাশি নিজেও মাটিতে হাটু গেড়ে বসলো অর্পনা। ঠোঁটে তার বিদ্রোপের হাসি,, অর্পনা আদ্রিয়ানের বুকের বাম পাশে আঙুল তাক করে বললো — কষ্ট হচ্ছে? এখানে ব্যাথা ব্যাথা ফিল হচ্ছেনা? আমারো হয়েছিলো,, ইউ নো? আমি সেদিন কেদেছিলাম তাও আপনার থেকে কয়েকগুণ বেশি। আপনি আমার কোমর জড়িয়ে ধরেছেন অথচ আমি আপনার পা ধরে বসেছিলাম। আপনি সেদিন আমার দিকে ফিরেও তাকাননি,, এক ঘর মানুষের সামনে সেদিন অপমানের সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। আজ আমারও মায়া হচ্ছেনা,, এইযে দুটো বছর আমার পিছনে সময় নষ্ট করলেন,, আমার বড্ড আফসোস হচ্ছে। এটুকু সময় যদি আপনি আপনার ফিয়ন্সিকে দিতেন তাহলে এতোদিনে তার বাচ্চার বাবা হয়ে যেতেন। যাই হোক!! সেসব কথা বাদ,, আমাকে আমার হাসবেন্ডের কাছে ফিরতে হবে,, উনার ঘুম ভেঙে গেলে আমায় খুজবেন। না পেলে চিৎকার চেচামেচি করবেন।
,,,অর্পনার মুখে বার বার হাসবেন্ড শব্দটা সহ্য হলোনা আদ্রিয়ানের,, সে অর্পনার গাল আকরে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো — প্রতিশোধ নিচ্ছো? ওকে, নাও। আবারও এক ঘর মানুষ জমাই চলো,, সবার সামনে আমি তোমার পা ধরে কাদবো,, অনেক অপমানিত হবো। তাও ছেড়ে যেওনা,, ও জানেম!! যেওনাগো,,
,,,অর্পনা গাল থেকে আদ্রিয়ানের হাত সরিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো — প্রতিশোধ না আদ্রিয়ান,, আমার প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিলোনা কোনোদিন। এমনকি সেদিনের পর আপনার প্রতি আমার এক বিন্দু ফিলিংস ও অবশিষ্ট ছিলোনা,, আপনাকে আমি বলেছিলাম না আদি? অর্পনা যেমন ভালোবেসে পায়ে পরতে পারে? তেমনি ঘৃনার সাগরে ডুবিয়েও দিতে পারে। তবে আপনাকে আমি ঘৃণা করতে পারিনি,, হয়তো ভালোবাসতাম বলে পারিনি। ঘৃণা করিনি বলে এটা ভাববেন না যে অর্পনা আজো আপনাকে ভালোবাসবে। গত দুবছরেও যখন ভালোবাসার ফিলিংস আসেনি,, ক্ষমা করতে পারিনি,, কোনোদিন পারবো ও না। আর যদি একা থাকার কথা উঠে,, আমি সত্যি আজীবন একা থাকতাম,, এখনো থাকবো। আপনার কি মনে হয়? পারুর জায়গায় দ্বীপ আমাকে মেনে নিবে? নিবেনা। ও পারুকে খুব ভালোবাসে। বুঝতেই তো পারছেন,, কেউ কাউকে কতোটা ভালোবাসলে পাগল হয়ে কবরস্থানে পরে থাকতে পারে। সেই ভালোবাসার কাছে আমার মতো একটা অভদ্র, অসভ্য, বেপোরোয়া নারীর কেয়ার গুলো কিছুই না।
,,,অর্পনার কথা শুনে আরশাদ জামান তেতে উঠে বললেন — জানার পরেও ঐ পাগলের ঘরে ফিরে যাবে তুমি? আমি যেতে দিবোনা। তুমি আজীবন একা থাকো,, আদ্রিয়ানকে না মানো তবুও ঐ পাগলের কাছে তোমায় ছাড়বোনা আমি।
,,, আবারও পাগল বলায় অর্পনা রেগে কিছু বলতে নিবে তখনি ওর ফোনটা শব্দ তুলে বেজে উঠলো। পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই দেখলো বিহান কল করেছে,, অর্পনার ভয় হলো,, সে তারাহুরো করে কল রিসিভ করতেই শুনা গেলো বিহানের অশান্ত স্বর — অর্পন,, কোথায় তুমি? জোহান তোমায় না পেয়ে পাগলামি করছে,,ভাঙচুর করছে,, কাউকে কাছে ঘেষতে দিচ্ছেনা,, ওর হাত,,
,,, আর শুনতে পেলোনা অর্পনা তার আগেই ওর থেকে ফোন কেরে নিয়ে কল কেটে দিলেন আরশাদ জামান। অর্পনা ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে ফোন নিতে চাইলে আরশাদ জামান মেয়ের হাত চেপে ধরলেন। অর্পনা হাত ছাড়াতে চেয়ে অশান্ত কন্ঠে বললো — ছাড়ো পাপ্পা,, আমাকে এখন যেতে হবে। উনি ভয় পাচ্ছেন,, ভাঙচুর করছেন,, আমি না গেলে শান্ত হবেনা। ও পাপ্পা ছাড়োনা।
,,,আরশাদ জামান শুনলেন না সেসব,, ওকে টেনে ওর রুমের সামনে নিয়ে গিয়েও থেমে গেলেন। নাহ!! এই রুমে রাখা যাবেনা,, এই রুমে রাখলে অর্পনা পাইপ বেয়ে নিচে নেমে যাবে। অগত্য নিজের রুমে নিয়ে গিয়ে ভিতরে ফেলে বাহির থেকে দরজা আটকে দিলেন। দরজা আটকাতে দেখে অর্পনা তারাহুরো করে দরজার কাছে গেলো,, দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে বললো —
,,,পাপ্পা, পাপ্পা!! ওপেন দ্যা ডোর পাপ্পা। ওর আমাকে প্রয়োজন,, আমার বনমানুষটা কষ্ট পাচ্ছে,, ও ভাঙচুর করলে ওর হাত কেটে যায়। তোমার পায়ে ধরি পাপ্পা!! আমাকে যেতে দাও। ওহ আল্লাহ!! দ্বীপকে হেফাজতে রাখুন। পাপ্পা!! ও পাপ্পা!! খুলোনা,, না খুললে কিন্তু আমি সু*ইসাইড করবো,, ট্রাস্ট মি,মরে যাবো আমি। পাপ্পা!! ও পাপ্পা!!
,,, ওপাশ থেকে রাগে গজগজ করে উঠলেন আরশাদ জামান,,অত্যন্ত রুড় স্বরে বললেন — মরে যা, তর মতো বেয়াদব মেয়ে আমার চাইনা। যে মেয়ে একটা পাগলের জন্য পাগলামি করে,, সে মেয়েকে নিজ হাতে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিবো তবুও ঐ পাগলের কাছে যেতে দিবোনা।
,,,পাপ্পার অনর ভঙ্গিতে বলা কথাগুলো শুনলো অর্পনা। সে যতখানি স্ট্রিক্ট তার চেয়েও কয়েকগুন স্ট্রিক্ট তার পাপ্পা। এখন অর্পনা মরে গেলেও পাপ্পা ডোর ওপেন করবেনা। অগত্যা কোনো উপায় না পেয়ে ভিতর থেকে দরজা আটকে জানালার কাছে গেলো। অর্পনাদের ফ্লাটটা তিন তলায়,, এটা যদি তার রুম হতো তাহলে সে মিনিটেই পাইপ বেয়ে নিচে চলে যেতে পারতো। কিন্তু এটা তো পাপ্পার রুম,, এটা ফ্লাটের পিছন দিক হওয়ায় দুতলা পর্যন্ত পাইপ সিস্টেম থাকলেও লাস্ট এক তলা পুরোটা ফাকা। এদিক দিয়ে নামতে হলে এক তলা থেকে লাফ দিতে হবে। অর্পনা আর কিছুই ভাবতে পারলোনা, তার চোখের সামনে শুধু দ্বীপের নিষ্পাপ মুখটা ভাসছে। এক বুক সাহস নিয়ে ঝানালা দিয়ে নেমে পরলো অর্পনা। এই ঝানালায় গ্রিল লাগানো নেই,, আরশাদ জামান রাতের বেলায়
এখানে বসে কেইস নিয়ে স্টাডি করেন,, তাই রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য গ্রিল খুলে রেখেছিলেন। গ্রিল না থাকায় পাইপ পর্যন্ত পৌঁছাতে বড্ড কষ্ট হয়েছে অর্পনার। হাতের কনুই, কব্জির এদিকে ছিলে গিয়েছে। অর্পনা সেসবে পাত্তা দিলোনা। ভাগ্যিস এই ঝানালায় গ্রিল ছিলোনা,, থাকলে তো আজ অর্পনা কিছুতেই নিচে নামতে পারতোনা। যাই হোক, আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে। অর্পনা বহু কষ্টে পাইপ বেয়ে নেমে এক তলার ঝানালার উপরের অংশে দাড়ালো। একবার নিচে তাকালো,, কম করে হলেও ১২ ফিট উচ্চতায় দাড়িয়ে আছে সে। লাফ দিতে হালকা হালকা ভয় লাগছে কিন্তু লাফ তো তাকে দিতেই হবে,, নয়তো দ্বীপের আরও কষ্ট হবে। দ্বীপের কথা মনে আসতেই চোখ বন্ধ করে আল্লাহ এর নাম ঝপে দিলো এক লাফ। পায়ের অসহ্য ব্যাথায় চোখ মুখ কুচকে নিলো অর্পনা। লাফ দেওয়ার ফলে পায়ে দারুন চোট পেয়েছে। ব্যাথায় চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে,, অর্পনা পা ধরে মাটিতে বসে পরলো।
এতো ব্যাথায় ও তার চোখে পানি নেই,, সে ডান পা টা হাঁটুর উপরে তুলে ভালো মতো চেক করে চোখ বন্ধ করে একটা মোচর মারলো। ক্যারাটে শিখার দরুন আগেও বহুবার মার খেয়ে তার পা মোচরে গিয়েছিলো। তখন নিজেরটা নিজেকেই ঠিক করতে হতো আজো তার ব্যাতিক্রম হলোনা। মোচড় মারার পর ব্যাথাটা কমে এসেছে,, অর্পনা পাটা এদিক ওদিক ঘুড়িয়ে উঠে দাড়ালো,, পরপর পেন্টের বালু ঝেড়ে দৌড়ে গেলো রাস্তার পাশে। এদিকটায় দুটো রাস্তা একদিক দিয়ে বড়ো গাড়ি চলাচল করে অপর পাশ দিয়ে রিকশা, ভ্যান চলাচল করে। অর্পনাদের বাড়ি থেকে মির্জা বাড়ি পৌঁছাতে হেটে গেলে আধা ঘন্টার রাস্তা, আরও বেশিও লাগতে পারে। অগত্যা যেতে হলে রিকশা দিয়েই যেতে হবে। টাকা আছে কিনা চেক করতে পকেটে হাত দিতেই মনে পরলো সে ফ্রেস হওয়ার সময় রুমে ওয়ালেট ফেলে এসেছে। বিরক্ত হলো অর্পনা,, সব ঝামেলা একসাথেই আসতে হলো?
পকেটে কোনো খুচরো আছে কিনা চেক করতেই একটা এক হাজার টাকার নোট বেড়িয়ে এলো। অর্পনা সেটা সামনে আনতেই দেখলো এটা তার দেনমোহরের টাকা,, বিয়ের সময় দ্বীপের পক্ষ থেকে বিহান দিয়েছিলো। অর্পনা এটা আবারও পকেটে ঢুকিয়ে রাখলো,, এই টাকাটা সে ভাঙবেনা,, থাকুক না এভাবেই,, কিছু জিনিস না চাইতেও আমাদের জীবনে মুল্যবান হয়ে উঠে। অর্পনা পায়ে ব্যাথা নিয়েই দৌড়ে বড়ো রাস্তা পার করে ছোট রাস্তায় গেলো। এদিকটায় ভালোই মানুষ জন আছে,, অর্পনা একটা রিকশাওয়ালার কাছে গেলো,, টাকা নেই বলতেই লোকটা তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানালো। অরর্পনার নিজেকে আজ বড্ড অসহায় লাগছে,, সে এদিক ওদিক তাকিয়ে একটা পরিচিত মানুষ খুজতে ব্যাস্ত, যে তাকে এই মুহুর্তে ৫০ টা টাকা দিয়ে হেল্প করতে পারে। অর্পনার ভাবনার মাঝেই কেউ এসে জড়িয়ে ধরলো ওকে পরপর ওর গালে হাত রেখে বললো —
,,,পারু, তুমি পারু? কিন্তু পারু তো মারা গিয়েছিলো, তাহলে তুমি কে? তুমি আমায় চিনতে পারছো? আমি সিমি,, বলোনা মেয়ে,, তুমি কি পারু?
,,, সিমির বলা এতোগুলো কথার মাঝে অর্পনা শুধু সিমির নামটাই নোট করেছে। মেয়েটা তার পরিচিত না হলেও পারুর তো পরিচিত তাইনা? নিশ্চই হেল্প করবে। ভেবেই অর্পনা সিমির হাত ধরে বললো — সিমি!! তুমি, সিমি রাইট? দ্বীপকে চিনো তো তাইনা? আম,,আমাকে ৫০ টা টাকা ধার দিতে পারবে? নেক্সট দেখা হলে দিয়ে দিবো। তুমি বরং ( হাতের ঘড়িটা খুলে সিমির হাতে দিয়ে) আমার ওয়াচটা রেখে দাও,, যেদিন তোমাকে টাকা বেক দিবো সেদিন এটা ফিরিয়ে দিও। বিক্রি করে দিওনা প্লিজ!! এটা আমার বার্থডেতে পাপ্পা দিয়েছে। তারাতাড়ি দাওনা,, তারাতাড়ি!!
,,,অর্পনার তাড়াহুড়োতো সিমি বোকা বনে গেলেও দ্রুত বেগ থেকে একটা ১০০ টাকার নোট বের করে দিলো। অর্পনা টাকাটা চেক ও করলোনা দৌড়ে গিয়ে একটা রিকশায় উঠে বসলো। মেয়েটার যাওয়ার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে সিমি। এটা কি পারু? কিন্তু পারু তো বেচে নেই,, সে নিজ চোখে ওর দাফন কাফন দেখেছে। তাহলে এই মেয়েটা কে? দ্বীপের সাথে কি সম্পর্ক তার ?
,,, মির্জা বাড়ির সদর দরজায় পা রাখতেই পুরো পরিবারের বিদ্ধস্ত রুপ দেখে বুকটা মুচরে উঠলো অর্পনার। দ্বীপের রুম থেকে এখোনো ভাংচুর, চেচামেচির শব্দ আসছে,, অর্পনাকে আসতে দেখে ছুটে এলেন রোমানা বেগম। তিনি অর্পনার হাত ধরে কাতর স্বরে বললেন — আমার ছেলেটা!” মা আমার ছেলেটাকে রেখে কই গিয়েছিলে? তোমার ভরসায় ই তো ওকে বাড়িতে আনা হয়েছে,, তাহলে ওকে রেখে কেনো গেলে? ছেলেটাকে এবার শান্ত করবো কিভাবে বলো? ঘরের ভিতর যে ঢুকছে তার দিকেই জিনিস পত্র ছুড়ে মারছে। ওকে এখ,,
,,, আর শুনার মতো ধৈর্য পেলোনা অর্পনা, সে সিরি বেয়ে দৌড়ে নিজেদের রুমের সামনে গেলো। দরজার সামনে হুইল চেয়ারে বসে চোখের পানি মুচছেন মাহিদ মির্জা,, লোকটাকে এই প্রথম দেখলো অর্পনা।
উনার পাশে দাড়িয়ে আছে মাথায় ঘোমটা দেওয়া মেধা আর বিহান, সাথে আরও একটা মেয়ে,, এই মেয়েটাকে চিনেনা অর্পনা। সে একবার মাহিদ মির্জার দিকে তাকিয়ে বললো — চিন্তা করবেন না আঙ্কেল,, আমি দেখছি।
,,বলেই ভিতরে ঢুকে গেলো,, ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে চারজন। বিহান একবার বাধা দিতে চাইলো পরোক্ষনেই দ্বীপের কথা ভেবে তপ্ত শ্বাস ফেলে চুম মেরে দাড়িয়ে রইলো। অর্পনা ঘরে ঢুকতেই তার দিকে একটা এন্টিকের সামগ্রী ধেয়ে এলো। সরে গেলো অর্পনা,, আর একটুর জন্য মুখে এসে লাগেনি। দ্বীপকে গাগলের মতো দেয়ালে হাত দিয়ে আঘাত করতে দেখে অর্পনা দৌড়ে গিয়ে দ্বীপকে জড়িয়ে ধরলো। শান্ত হলোনা দ্বীপ, সমানে ফোপাতে লাগলো। অর্পনা অনেকটা শক্ত করেই ধরেছে দ্বীপকে,, দ্বীপ এবার ঝারা মেরে সরিয়ে দিলো অর্পনাকে। অর্পনা অবাক চোখে তাকালো দ্বীপের দিকে,, বনমানুষটা কি আবার রাগ করলো নাকি? অর্পনার অবাকতার মাঝেই দ্বীপ ভাঙা জিনিস পত্র গুলো আবারও তুলে ছুড়তে লাগলো। অর্পনা এগিয়ে গিয়ে দ্বীপকে আবার জড়িয়ে ধরতে নিলে দ্বীপ আবারও ওকে সরিয়ে দিলো। অর্পনা আবারও এগিয়ে গেলো,, এবার দ্বীপ ওর হাত ধরে কামর বসিয়ে দিলো।
হাতের ব্যাথায় কেপে উঠলো অর্পনা তবুও একটু ব্যাথাতুর শব্দ করলো না। এরকম করলে যদি দ্বীপের রাগ কমে তাহলে কারুক,, এতে নাহয় সে একটু ব্যাথা পাবে,, দ্বীপ সস্তি পেলে এরকম হাজারটা ব্যাথা সহে নিবে সে। অনেকটা সময় হাতে দাত চেপে রাখার পর দ্বীপের ফোপানো কমলো। শান্ত হতেই নিজ থেকে জড়িয়ে ধরলো অর্পনাকে। অর্পনার হাইট কম হওয়ায় দ্বীপ খুব একটা সুবিধা করতে পারছেনা তাই উসখুস করছে। ওকে এমন করতে দেখে হাটুতে ভর দিয়ে উচু হলো অর্পনা,, দ্বীপ এবার অর্পনার বুকে মুখ গুজে দিলো। দ্বীপের কান্ডে হাত পায়ের ব্যাথাকে অগ্রাহ্য করে ঠোঁট বাকিয়ে মৃধু হাসলো অর্পনা। তাদের মতো শক্ত পোক্ত অর্পনাদের ভেঙে নরম করে দিতে এমন একটা পাগলাটে দ্বীপ মির্জার খুব প্রয়োজন। অর্পনা দ্বীপের চুলের ভাজে এক হাত রেখে পিঠে হাত ভুলিয়ে দিতে দিতে বললো —
,,,সরি বেবি,, সরি!! শান্ত হোন ,, আমি আর যাবোনা, কোথাও যাবোনা। আমি একেবারে আপনার কাছে চলে এসেছি দ্বীপ। আর কোনোদিন আপনাকে ছেড়ে যাবোনা, কিন্তু যদি কখনো আপনি আমাকে রাখতে না চান,, তাহলে হাড়িয়ে যাবো, আর ফিরবোনা। সত্যি!! সবাই বলে আপনি নাকি সুস্থ হয়ে আমাকে ছেড়ে দিবেন,, সত্যি ই দিবেন? দিতেই পারেন। আমি তো অভদ্র, ড্রেসিং সেন্স খারাপ,, ছেলেদের মতো চলাফেরা করি। অর্পনাদের ঝেড়ে ফেলা খুব সহজ দ্বীপ,, খুব।
,,, বলতে বলতে অর্পনার কন্ঠ হালকা ভেঙে এলো,,আজ বহুদিন পর অতিতের এক ঝলক তাকে ব্যাথিত করলো। নাহ!! ভালোবাসা অর্পনাদের জন্য নয়। অর্পনারা শুধু দুহাত উজাড় করে অর্পন করতে জানে। এবারেও করবে সে,, একজনকে উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছিলো,, সে নিতে চায়নি,, অথচ সে আজ দুবছর ধরে তার দোরগোড়ায়। অর্পনা আজো ক্ষমা করতে পারেনি তাকে,, কোনোদিন পারবেও না। এবার নাহয় দ্বীপকে সবটা দিয়ে আগলে রাখবে,, তার বিনিময়ে সে কিছুই চায়না। সে শুধু অর্পন করতে চায়। অর্পনার ভাবনার মাঝেই আবারও ফোপাঁতে লাগলো দ্বীপ,, অর্পনাকে অনেকটা শক্ত করে জড়িয়ে বললো– যাবিনা,, যাবিনা,, কোথাও যাবিনা।
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২৩
,,,অর্পনা মুচকি হেসে দ্বীপকে টেনে তুলতে চাইলো,, লোকটার হাত থেকে রক্ত ঝরছে,, এখোনি ড্রেসিং না করলে আগের মতো ইনফেকশন হয়ে যাবে। বহু কষ্টে টেনে তুললো দ্বীপকে,, ঠেলে নিয়ে বেডের উপর বসালো। ঘরের অবস্থা নাজেহাল, এদিকে ওদিকে কাচ ছড়িয়ে আছে। অর্পনা সন্তর্পনে এগিয়ে গিয়ে এইড বক্স এনে দ্বীপের পাশে দাড়াতেই দ্বীপ আবারও জড়িয়ে ধরলো ওকে। অর্পনার পায়ে খুব ব্যাথা হচ্ছিলো তাই কোনো উপায় না পেয়ে দ্বীপের হাটুর উপরে বসে পরলো। পরপর ওর একটা হাত টেনে ড্রেসিং করতে করতে বললো — এরকম কেউ করে? ঘরটার অবস্থা করেছে কি? এখন এগুলো পরিষ্কার করবে কে?ঘরে তো কাউকে এলাউ করেন না,, কেউ এলেই ভয় পেয়ে চেচামেচি করেন। যান গিয়ে নিজে পরিষ্কার করুন,, এতো সুন্দর রুমটাকে জঙ্গল বানিয়ে ছেড়েছে,, বনমানুষ একটা!!
