হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪২
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
নতুন দিনের সূচনা, আজকে রেখা বেগমের মধ্যে এক অন্যরকম ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে যেন একটু বেশিই ব্যস্ত তিনি। সকাল সকাল চুলোয় লেগে পড়েছেন। বাহারি রকমের রান্নার তোড়জোড় চলছে। হুমায়রা এদিকটায় এগিয়ে এলো। মামনির এতো আয়োজন দেখে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ আজকে কি কেউ আসবে মামনি.? ”
“ তোর মামা আসবে। ”
“ ওহ। ”
তার মামা কাজের ফাঁকে সপ্তাহে একবার বাড়িতে আসে। সেদিন সাধ্য অনুযায়ী ভালো কিছুই রান্না করেন রেখা বেগম। তবে এতো আয়োজন কখনো করতে দেখেনি হুমায়রা। মেয়েটা খানেক অবাক হলো। তবে মুখে কিছু বলল না।
“ আমাকে কিছু করতে হবে? ”
“ না দরকার নেই। তুই বরং গিয়ে মামনির মেশিনে বসে কটা জামা সেলাই করে ফেল। অনেকগুলো কাপড় জমা হয়ে আছে। ”
“ আচ্ছা। ”
সংসার সামলানোর পাশাপাশি কাপড় সেলাই এর কাজও করেন রেখা বেগম। এলাকার প্রায় সব মহিলাদের কাপড়ই তার হাতে সেলানো। ভদ্রমহিলার সেলাইয়ের হাত বেশ দক্ষ। হুমায়রাকেও অনেক আগেই সেলাই কাজ শিখিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের আগে, সে যখন মাদ্রাসা থেকে বাসায় আসতো তখন বেশিরভাগ কাজই তাকে দিয়ে করাতেন রেখা বেগম।
মেশিনে এসে বসল হুমায়রা। সেখানে প্রায় বিশটির মতো থ্রি পিস কেটে রাখা। সবগুলোই একজন মহিলার। মহিলাটিকে চিনে হুমায়রা। এ কদিনে বেশ কবারই রেখা বেগমের কাছে এসেছেন তিনি। একদিন হুমায়রার রুমেও এসেছিল। সেদিনই তাকে দেখেছে সে।
হুমায়রা মনোযোগ সহকারে কাপড় সেলাই করছিল এর মাঝেই মলিন মুখে রুমে প্রবেশ করল অর্না। সেদিকে তেমন একটা ধ্যান দিল না হুমায়রা। বোনের নিকট ধীরপায়ে এগিয়ে এসে অর্না ডাকল,
“ আপু….! ”
“ হুম বল। ”
“ ফেরারি মানব- আইডি, পেইজ কোনোটাই খুঁজে পাচ্ছি না। আম্মু বোধ হয় ব্লক করে দিয়েছে। ”
কর্মরত হাত খানা থামিয়ে ভ্রূ কুঁচকে তাকাল হুমায়রা। বলল,
“ ঠিকি আছে। সারাদিন ঐসব নিয়ে পড়ে থাকিস কেন? ”
“ আম্মু দেখেনি তো আমি যে ঐ আইডিতে গিয়েছি। সকালে উঠে হুট করেই এসব করেছে! তুমি একটু ব্লক থেকে খুলে দাওনা আপু? ”
“ আমি পারিনা এসব। আমি কি মোবাইল সম্পর্কে অত বুঝি নাকি? তুই ই তো আমার থেকে ভালো বুঝিস। ”
“ আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু পারি না। ”
“ অর্না তুই কিন্তু আজকাল বেশি বাঁদরামি করছিস, যা গিয়ে গোসল সেরে কুরআন তেলাওয়াত কর। ”
“ সকালেই তো একবার পড়লাম তোমার সাথে! ”
“ মোবাইল স্ক্রোল করার সময় তো বলিস না- সকালে স্ক্রোল করেছি এখন করব না! ”
“ তুমি দিনদিন কেমন যেন হয়ে যাচ্ছ! আগে আমার সব আবদার রাখতে! ”
বিরস মুখে বলল অর্না। হুমায়রা পূর্ণদৃষ্টি নিক্ষেপ করল ছোট বোনের উপর। পরপর দুহাতের আজলায় বোনের কপোলদ্বয় নিয়ে বলল,
“ ক্ষণস্থায়ী এই জীবনের মায়ায় দীর্ঘস্থায়ী ঐ জীবনটাকে ভুলে যাসনা বোন আমার। এ দুনিয়ায় আমরা হলাম মুসাফিরের মতো, নিজের কর্মটুকু নিয়ে আবারও খোদার দরবারে ফিরতে হবে আমাদের। আর দিনদিন তোর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বয়সটা আসছে। যৌবন কালের ইবাদত আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়। এ সময়ে অনেক প্রবৃত্তি ও আবেগের তাড়না থাকে, এসব উপেক্ষা করে যে যুবক-যুবতী আল্লাহর বন্দেগী তে মগ্ন থাকবে কেয়ামতের দিনে সে আল্লাহর আরশের ছায়ার নিচে আশ্রয় পাবে। হাদিছে আছে-
“সাত শ্রেণির লোককে আল্লাহ তাআলা সেদিন(কেয়ামতের) তাঁর আরশের ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হলো সেই যুবক/যুবতী যার যৌবনকাল কেটেছে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ন ৬৬০)
অর্না মন দিয়ে শুনে বোনের কথা। কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত সে। হুমায়রা তাকে বলেছে। সে বাধ্য মেয়ের মতো উত্তর করে,
“ আচ্ছা এখন থেকে আমি মোবাইল কম চালাব। ইবাদত করার চেষ্টা বেশি করব। ”
হাসল হুমায়রা। বলল,
“ এইতো লক্ষ্মী বোন আমার, তুই যা আপুও আসছি এই জামা টা শেষ করে। ”
“ আচ্ছা। ”
তপ্ত রোদে ঝলমলে দুপুর, নামাজ এর পর্ব শেষ করে জায়নামাজ ছেড়ে উঠল হুমায়রা ও অর্না। তখনি কক্ষে প্রবেশ করলেন রেখা বেগম। হুমায়রাকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে বললেন,
“ কদিন আগে যে মামনি তোকে নতুন একটা জামা বানিয়ে দিয়েছি ওটা পড় আজকে! ”
“ এটাও তো প্রায় নতুনই মামনি। আর নতুন জামা কেন পড়ব? ”
“ তোর মামা দেখলে বলবে তার ভাগ্নিকে আমি জামা কাপড় বানিয়ে দেইনা। যেটা বলেছি সেটা কর। ”
“ আচ্ছা। ”
রেখা বেগম চলে গেলেন। হুমায়রা অত কিছু না ভাবলেও অর্নার মনে খটকা লাগে তার মায়ের আচরণে। সে তার বাবাকে খুব ভালো করেই চেনে। ভদ্রলোক কখনোই তার স্ত্রীর ঊর্ধ্বে গিয়ে হুমায়রার ব্যাপারে কোনো কথা বলেন না। আজ অব্দি দেখেনি অর্না। সে কিয়ৎক্ষণ ভাবে পরপর রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
আলমারি খুলতেই হুমায়রার চোখের সামনে কাঙ্ক্ষিত জামা টা দৃশ্যমান হয়। জামাটা ওয়াইন কালারের, যেটা কৃশানের সবচেয়ে প্রিয় কালার। কিছুদিন আগেই এটা বানিয়ে দিয়েছে রেখা বেগম। জামাটা দেখতেই সর্বপ্রথম মানুষটার কথা মনে পড়েছিল হুমায়রার।
আচ্ছা মানুষটাও কি এভাবে বেলা অবেলায় তাকে মনে করে? কোনো এক ক্লান্ত বিকেলে তার মতোই কি বিষন্নতারা হানা দেয় হৃদ গহীনে? একটি বারের জন্যও কি ইচ্ছে হয়না তার কাছে ছুটে আসতে? হয়তো বা না! ইচ্ছে হলে কি আর এতগুলো দিন সামান্য যোগাযোগ টাও করত না? কিন্তু মানুষটার চোখে যে স্পষ্ট ভালোবাসা দেখেছিল হুমায়রা। প্রতিটা আচরণ, কথাবার্তা বুঝিয়ে দিত মানুষটা তাকে ভালোবাসে। তবে এই ভালোবাসার পরিণতি এমন কেন হলো? একটা সুখের সংসার কি হওয়া যেত না? কি এমন হয়ে যেত একটা সুখের সংসার হলে?
এতো এতো অভিযোগ, অভিমান মনের মধ্যে মাটি চাপা দিয়েই নিজের প্রিয় পুরষের প্রিয় রঙে রঙিন হলো হুমায়রা। চোখ বুজে লম্বা শ্বাস নিল। উচ্চারণ করল প্রিয় তিনটি শব্দ,
“ হাসবুনাল্লাহু ওয়ানিমাল ওয়াকিল! (আমার জন্য আমার আল্লাহই যথেষ্ট) ”
রেখা বেগমের রুমে চুপটি করে বসে আছে হুমায়রা ও অর্না। বসার রুম থেকে মানুষের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। তন্মধ্যে একটা কণ্ঠ চেনা হুমায়রার। একটু আগে যার কাপড় সেলাই করেছে সেই মহিলার কণ্ঠ এটা। সাথে কিছু পুরুষালী কণ্ঠও শোনা যাচ্ছে। অজানা আশঙ্কায় বুক কাঁপে মেয়েটার। পাশে থাকা অর্নার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করে,
“ উনারা কেন এখানে এসেছে? ”
অর্নার চুপসে যায়। রেখা বেগম তাকে সাবধান করে গেছেন হুমায়রা কে কিছু না বলতে। বাইরে যে ভদ্রমহিলা এসেছেন তিনি বেশ বৃত্তশালী। তার একমাত্র ছেলের বউ মাস কয়েক আগেই পালিয়ে গেছে। আজ সেই ছেলের সাথেই হুমায়রার বিয়ে দিতে যাচ্ছেন রেখা বেগম। ছেলেদের বলেছেন হুমায়রার স্বামী মারা গেছে। বেশ আগে থেকেই সবার অগোচরে বিয়ের সব কথাবার্তা সেরে নিয়েছেন রেখা বেগম ও তার স্বামী। নিশ্চয়ই বিয়েটার পেছনে তাদের কোনো বড় স্বার্থ আছে। নয়তো এর আগে যত বিয়ে এসেছে সেগুলোতে রাজি হননি তারা। স্বার্থ সম্পর্কে অর্না অবগত নয়। সেও একটু আগেই বিয়ের ব্যাপারে জেনেছে। হুমায়রার সুখের কথা বলে মেয়েকে নিজের মতো বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন রেখা বেগম। সাবধান করে গেছেন, মোটেও যেন হুমায়রা কিছু জানতে না পারে।
“ কিরে কথা বলছিস না কেন? ”
শক্ত কণ্ঠ হুমায়রার। চমকে তাকায় অর্না। আমতা আমতা করে বলতে নেয়,
“ আমি কিছু…..”
“ তুই অন্তত আমার সাথে মিথ্যে বলিস না অর্না। বোন আমার, দয়া করে বল মামনি কি করতে চাচ্ছে? উনারা এখানে কেন এসেছেন? ”
অর্না ঢোক গিলে এর মাঝেই সেখানে উপস্থিত হয় রেখা বেগম। সাথে সাথেই প্রশ্নের সম্মুখীন হন,
“ মামনি কি করতে চাচ্ছেন আপনি? বাইরে এতো লোকজন কেন এসেছে? ”
ভদ্রমহিলা হাসিমুখে এগিয়ে আসেন। ভাগ্নির নিকট বসে মোলায়েম কণ্ঠে বলেন,
“ শান্ত হ, মামনির কথাগুলো মন দিয়ে শোন। বাইরে তোকে দেখতে এসেছে। ছেলে লাখে একজন। কোনাদিক দিয়ে কমতি নেই। মামনি কি তোর খারাপ চাইব নাকি বল? এতদিনও তো অনেক বিয়ে এসেছে আমি রাজি হয়েছি বল? এবারের ছেলেটা অনেক ভালো সাথে ছেলের পরিবার ও বেশ ভালো। ওদেরকে আমি বলেছি তোর জামাই মারা…..”
“ মামনি…! ”
“ গলা উঁচু করছিস কেন? তুই জানিস নাকি ঐ ছেলে বেঁচে আছে না মরে গেছে! বেঁচে থাকলে কি ছমাসে একবারও তোর খুঁজ নিত না! এতো কথা শুনতে চাইনা আমি। আর কতদিন ঐ ছেলের জন্য এভাবে বসে থাকবি তুই! বিয়ে করতে হবে তো নাকি? তোর ও তো একটা জীবন? আমাকে তোর দিকটা ভাবতে হবেনা! ”
“ আমাকে নিয়ে আপনার এতো ভাবতে হবে না মামনি। আমি বিবাহিত। আমার স্বামীর দেওয়া নাকফুল, চুড়ি সবকিছু এখনো আমার গায়ে। আমি কখনোই তাকে ছাড়া অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে তো দূরে থাক, সামনেও যাব না। ”
রেগে গেলেন রেখা বেগম। হুমায়রার হাত চেপে ধরলেন মুহূর্তেই। গজগজ করতে করতে বললেন,
“ আমিও দেখি তুই কিভাবে পারিস আমার অমান্য হতে! সারাজীবন আমার ঘাড়ে বসে বসে খাওয়ার চিন্তা না? ভালোয় ভালোয় আমার সাথে আয় বলছি। ”
“ যাব না আমি। ”
হাতে আরেকটু জোর প্রয়োগ করলেন তিনি। বললেন,
“ আরেকবার বলবি তো ছোট বেলার মতো ঝাঁটার খাবি বলে দিলাম। ”
“ আপনি আমাকেও মেরে ফেললেও আমি পরপুরুষের সামনে যাব না। ”
এবেলায় এসে মেয়েটার হিজাবের উপর দিয়েই চুলের মুঠি চেপে ধরলেন রেখা বেগম। ওমনিই চেঁচিয়ে উঠল অর্না,
“ আম্মু, চুল ছাড় আপুর! ”
মেয়ের কথা গ্রাহ্য করলেন না ভদ্রমহিলা। হুমায়রা কে টেনে হিঁচড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই মেয়েটা কাতর কণ্ঠে বলল,
“ দোহাই লাগে মামনি, ছাড়ুন আমায়। কেন করছেন এমন? আমার এতদিনের পর্দা, আমার সম্মান নষ্ট করবেন না। দয়া করুন একটু। আমি তো সবসময়ই আপনাকে সম্মান করে এসেছি, আপনার সব কথা শুনেছি তবে আমার বেলায় কেন এতো নিষ্ঠুর আপনি! ”
ভদ্রমহিলার বোধ হয় মায়া হলো, তিনি হাত আলগা করে শান্ত কণ্ঠে বললেন,
“ সেজন্যই তো তোর ভালোটা চাইছি আমি। আমার কথা মেনে নে মা! ”
মেজাজ খারাপ হলো হুমায়রার। সে এক ঝটকায় রেখা বেগমের আলগা হওয়া হাতটা ছাড়িয়ে ফেলল। নির্দিষ্ট দূরত্বে এসে বলতে শুরু করল,
“ আপনি জানেন আমি এখনো বিবাহিত। আমার স্বামী আছে। তাহলে আমাকে অন্য পুরুষের সামনে প্রদর্শন করে কিভাবে ভালো চাইছেন আপনি? আপনি কেন এমন মামনি? আপনি সবসময় আমাকে চোখের বিষ ভেবে এসেছেন। থাকা খাওয়া নিয়ে পুরোটা জীবন খোটা দিয়েছেন অথচ আমাকে যেভাবে খাটিয়েছেন এর বিনিময়ে একটা অচেনা মানুষের ঘরেও অনায়াসে তিন বেলা খাবার জুটতো। আর আমার মা – বাবার দিয়ে যাওয়া জিনিস পত্রের কথা নাহয় নাই বললাম। তবুও জীবনে কখনো আপনাকে অসম্মান করিনি আমি। সবসময় আপনার শুকরিয়া আদায় করেছি। এর মানে এই নয় যে, আমি আপনাদের ভয় পাই সেজন্যে কিছু বলিনা। আমি আমার আল্লাহ কে ভয় পাই সেজন্য কখনো কারো সাথে খারাপ আচরণ করিনা। তবে আজকে আমি কিছুতেই আপনার কথা শুনব না। আমি আমার পর্দা কিছুতেই নষ্ট করব না, পরপুরুষের সামনে যাব না আমি। এর জন্য যদি আপনি আমায় মেরেও ফেলেন তবুও না! ”
এক নাগাড়ে কথা গুলো বলতে বলতেই গলা খানেক ভেঙে এলো হুমায়রার। রেখা বেগম তব্দা খেয়ে আছেন। এর মাঝেই বাইরে থেকে তার স্বামীর ডাক শোনা গেল। কিয়ৎক্ষণ ভাগ্নির দিক অবাক চোখে চেয়ে থেকে স্থান ত্যাগ করলেন তিনি। সাথে সাথেই হুমায়রা খাটের সাথে হেলান দিয়ে মাটিতে বসে পড়ল। অর্নার উদ্দেশ্যে বলল,
“ দরজাটা লাগিয়ে আয়! ”
অর্না তাই করল। পরপর বসল এসে হুমায়রার পাশে। রয়েসয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ আপু দুলাভাই তো তোমার খুঁজ খবরও রাখে না! নিজের মতো হয়তো নেশা করে, বখাটে পনায় মেতে জীবন কাটাচ্ছে সে। তবে তুমি কেন এতো সহ্য করছো? ”
“ তোরা যেই চোখে একটা নেশাখোর, বখাটে পুরুষকে দেখিস আমি সেই চোখে আমার স্বামীকে দেখি, আমার কিশোরী মনে স্থান পাওয়া আমার একমাত্র হালাল পুরুষকে দেখি। যার মূল্য একটা নারীর জীবনে সবচেয়ে বেশি! ”
অর্না চুপ রয়। শান্ত চোখে তাকিয়ে রয় হাঁটুতে মুখ গুঁজে রাখা আপুর পানে। তখনি দরজার বাইরে থেকে রেখা বেগমের রাগী স্বর ভেসে আসে,
“ হুমায়রা দরজা খুল! বেশি বেড়েছিস তুই! ”
“……….”
“ অর্না? ”
অর্নাও মায়ের ডাকে সাড়া দিল না। রেখা বেগম এবার আরও রেগে গেলেন। বললেন,
“ দরজা না খুললে কিন্তু দরজা ভেঙে ফেলব আমি! উনাদের কথা দিয়েছি আমি। আজকেই তোর বিয়ে হবে। ”
“ আমার স্বামী থাকতে আমি কখনোই অন্য কাউকে বিয়ে করব না। ”
“ তোর স্বামী মারা গেছে অলক্ষ্মী কোথাকার! আর কখনো ফির…………”
“ আসসালামু আলাইকুম শ্বাশুড়ি আম্মা! ওঁর স্বামী ফিরে এসেছে! আপনার সাথে যে অনেক বুঝাপড়া আছে! এতো তাড়াতাড়ি মরে গেলে হয়! ”
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪১
ভদ্রমহিলা কথা শেষ করতে পারলেন না, পথিমধ্যেই পেছন থেকে একটা চেনা পরিচিত পুরুষালী ভরাট কন্ঠের জবাবে থেমে গেলেন। উপস্থিত সকলের উৎসুক দৃষ্টি মুহূর্তেই দরজায় দাঁড়ানো কণ্ঠের মালিকের উপর নিবদ্ধ হলো। রেখা বেগম চমকে গেলেন, বুক সুদ্ধ ছেত করে উঠল তার। সময় নিয়ে পেছন ফিরতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেল! দরজার কাছে ভদ্রভাবে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং কৃশান মির্জা! তবে বেশভূষা পুরোটাই আগের কৃশানের থেকে ভিন্ন।
