প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৭৯
সাইয়্যারা খান
আবহাওয়া খুবই ঠান্ডা। বাইরে বরফ পড়বে আজ, এটাই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানালো মাত্র। নিউজ চ্যানেল বদলে দিলেন মিস্টার কিবরিয়া। বের হবেন তিনি। একবার শালাদের সাথে দেখা হলে মন্দ নয়। যথেষ্ট ব্যাস্ত থাকেন তিনি। বাসায় সময় দেওয়া হয় না ততটা। শালা দুজন এসেছে বলেই অপেক্ষা করছেন তিনি। তায়েফা রান্নাঘরে আজ খুবই ব্যাস্ত। তার তুরাগটাও যদি আসতো। তিন ভাই নিয়ে খুব আনন্দ করতো সে। হেলেদুলে রুম থেকে বের হয় তুহিন। পরণে চিকন হাতার টিশার্ট আর টাউজার। মিস্টার কিবরিয়ার পাশে ধপ করে বসেই বললো,
“দুলাভাই, তুমি নাকি কালা ব্যাবসা করো?”
মিস্টার কিবরিয়া ভদ্রলোক, শালা দুলাভাই সম্পর্ক হওয়ার দরুন তুহিনের সাথে একটু রসিক আলাপ জমালেন।
“এই তো। একটা বউ, দুটো বাচ্চা নিয়ে এই এলাকায় টিকে থাকার জন্য একটু আকটু করি।”
“এতো খুবই খারাপ কথা জানালে। যৌতুক নিতে পারতে।”
“ঐ আমলে শশুর আব্বা সেঁধেছিলেন অবশ্য।”
“নিলেই পারতে।”
“মেইল ইগোতে হার্ট হতো তো।”
“তাও ঠিক। তা দেখাও দেখি মেইল ইগো। আমিও একটু দেখি।”
“অবশ্যই অবশ্যই। আজ বিকেলে দেখাব।”
“অপেক্ষায় থাকব আমি।”
“তুহিন!”
তায়েফার ধমক খেয়ে তুহিন থতমত খেয়ে গেলো তবুও বললো,
“তুমি কান পাতো কেন? দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলছি না?”
তায়েফা এবারে স্বামীকে ধমক দিলো,
“তুমি তাল দিচ্ছো এই বাদরকে?”
“আমি তো শুধু হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলাচ্ছি।”
তায়েফা চোখ গরম দেখালো। কাজে দিলো অবশ্য। ইহান এসেই মায়ের সাথে হাতে হাতে কাজ করছে। তাদের ছোট থেকে অভ্যাস এগুলোর। তায়েফার অবশ্য মেইড আছে৷ এসে অতিরিক্ত কাজগুলো সেই করে যায়। ইহান ডিম উল্টে দিয়ে গলাটা উঁচু করে জিজ্ঞেস করলো,
“মেঝ মামা উঠে নি?”
তুহিনও গলা ছেড়ে উত্তর দিলো,
“না না, হানিমুনে আসছে তো। এখন উঠলে হবে নাকি? রাতে উঠবে ঘুম থেকে। লাজ শরম কিচ্ছু বাকি নেই৷ বোনের বাড়ী এসে রংঢং করছে।”
তায়েফা জিভ কাটলো। ছুটে এসে তুহিনের পিঠ ফাটালো জোরে চড় দিয়ে। শাসালো কঠিন ভাবে,
“তুই জানিস কত জোর করে এখানে এনেছি? এগুলো শুনলে থাকবে তুসু?”
“পিঠ জ্বলে গেলো আপা।”
“জ্বলার জন্যই দিয়েছি।”
তুহিন আপার আঁচল ধরে টানলো। তায়েফা পাশে বসলো। কোলে কুশন রেখে মাথাটা নিলো ছোট ভাইয়ের। তুহিনটা ছোট থেকেই ভীষণ আদুরে। তৌসিফও কম না। আম্মু বলতে পাগল ছিলো দুজন। ভাইয়ের চুলগুলোয় হাত বুলাতে বুলাতে তায়েফা আবেগী হয়ে পড়লো। তুহিন বোনের এক হাত ধরে রাখলো। আবদার ধরে বললো,
“দুপুরে খিচুড়ি খাব আপা। আজ ঠান্ডা অনেক।”
“ঠান্ডা তো এভাবে খালি গায়ে ঘুরছিস কেন? ইরা? ইরা? হিটারটা মামার কাছাকাছি আনো।”
ইরা ইটার এনে পাশে রাখলো। তায়েফা ভাইকে আদর করলো বেশ সময় নিয়ে।
তৌসিফের ঘুম ভেঙেছে কিছুক্ষণ আগে। চোখ খুলেই দেখেছে পৌষ জেগে আছে। তৌসিফ ওর আধঘুমন্ত বউকে জড়িয়ে রেখেছে তখন থেকে। পৌষ এবারে একটু মোচড় দিলো,
“ছাড়ুন। উঠি এখন।”
“উঁহু।”
“প্লিজ।”
“উঁহু।”
“সবাই কি ভাবছে?”
“ভাবতে দাও। আমি খুব ডিসটার্ব পৌষরাত।”
পৌষ একটু এমুখো হলো। হাতটা তৌসিফের পিঠে পৌঁছাল সহসা। দাগটা ছুঁয়ে দেখে দেখে বললো,
“ব্যথা হচ্ছে?”
তৌসিফ ওর হাতটা পিঠ থেকে সরিয়ে বুকে রাখলো। চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“এখানে! ঠিক এখানে ঝামেলা হচ্ছে।”
চোখ দুটো নিমিষেই বড় বড় হয়ে এলো পৌষের। সন্দিহান কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“বুকের ব্যথা কেন হবে? আপাকে বলুন, এখানে ভালো ডাক্তার দেখাই।”
পৌষ ছটফট করছে। তৌসিফ ওকে পেঁচিয়ে ধরলো। কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো,
“ব্যথা কমাতে ডাক্তার না অন্য কিছু লাগবে।”
“কিহ্?”
“পালাতে হবে আমাদের।”
পৌষের কপাল কুঁচকে এলো। পালাবে কিন্তু কেন? ওর কপালে তৌসিফ ঠোঁট ছোঁয়ালো। বিরবির করে বললো,
“এই খোলা ময়দানে আমার হানিমুন হবে না। সব প্রস্তুতি বৃথা যাবে আমার। আমি মোটেও এটা হতে দিব না।”
“কি বলছেন?”
“কিছু না।”
পৌষকে পুরোপুরি অবাক করে দিয়ে গতরাতে তৌসিফ কিছুই করে নি তেমন৷ ছোট ছোট আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলো। ক্লান্ত থাকায় পৌষ ঝামেলা পাকায় নি নাহয় এটা নিয়েও বিশাল ঝগড়া লেগে যেতো। তৌসিফ একাই এই হানিমুন নিয়ে লাফাচ্ছিলো, এখন যখন গতরাতে ওমন অস্থির করছিলো তখন গিয়ে পৌষের সন্দেহের অবকাশ থাকার কথাও না৷ ধীরে ধীরে পৌষ উঠে বসলো। চারপাশে ফুল ছড়িয়ে আছে৷ পাশ থেকে কিছু গোলাপ তৌসিফের মুখে ছিটিয়ে মিষ্টি হেসে বললো,
“আমার সিম লাগবে। বাসায় কথা বলব।”
“ইহান এনে দিবে।”
পৌষ মাথা নেড়ে উঠে বাথরুমে চলে গেলো। তৌসিফ গভীর চিন্তিত হয়ে আলমারির কাছে এসে নিজের ঐ ব্যাগটা একবার ধরলো, কিছু মনে করে রেখেও দিলো। ফোন হাতে তুলে এবারে কল করেই ফেললো। এভাবে টিকা যাচ্ছে না৷ দমবন্ধ হয়ে আসছে তার।
“আজকের প্ল্যান কি?”
“বন্দি বিচ বা রোজ বে তে যাই সবাই।”
ইহান প্রথম প্রশ্নটা করতেই তুহিন উত্তর দিলো। এখান থেকে কাছাকাছি জায়গা দুটো। তৌসিফ কথা বলছে না। চুপচাপ খাচ্ছে সে। পৌষ তায়েফার সাথে বসা। তৌসিফ ইহান আর তুহিনের পরিকল্পনা দেখছে, মোটেও শুনছে না সে। এসব শুনার সময় নেই তার। সে মোটেও আন্দাজ করতে পারছে না এটা হানিমুন কিভাবে হলো? এটা তো ফ্যামিলিমুন তাও আবার দামড়া কিছু ছেলেপেলের সাথে।
“মেঝ মামা তুমি কি বলো?”
তৌসিফ মাথা কাত করলো। ওরা যা বলবে তাতেই সই। পরিকল্পনা অনুসারে সবাই তৈরীও হলো, বাদ গেলো শুধু তায়েফা ও মিস্টার কিবরিয়া। ওনারা নিজেরাও ভ্যাবাচেকা খেয়ে আছেন। তৌসিফ শান্ত ভাবে আছে বলে আরো অবাক হয়ে আছেন৷ তৌসিফ শান্ত মানুষ না, মোটেও না৷ পৌষের সাথে বিয়ের পরই কি তাহলে এই উন্নতি হলো তার? নিজেদের ছেলে-মেয়েরা যেতেও চাইছিলো না, তুহিন ফুলসেছে। তায়েফা তৌসিফকেই পর্যবেক্ষণ করছে। ও জানে এসব নিয়ে পৌষের মাথা ব্যথা নেই৷
মোটা একটা জ্যাকেট পৌষের গায়ে তুলে দিলো তৌসিফ। গলায় মাফলার দিয়ে একটা কান ঢাকা টুপিও পরালো। পৌষ হাসিমুখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। তৌসিফ ওর এই নিষ্পাপ হাসিমুখটা দেখার জন্যই তো তড়পাতে থাকে। সারাক্ষণ বিচলিত থাকে। এখনও চিন্তার মাঝে হেসে ফেললো ও। পৌষের ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট অল্প ছুঁয়ে দিয়ে বললো,
“রেডি?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি ওদের সাথে বের হও। আমি দশ মিনিট পর জয়েন করছি।”
“একসাথে বের হই?”
“জাস্ট টেন মিনিটস হানি৷”
পৌষ ভাবলো হয়তো কোন কাজ আছে। ও বেরিয়ে গেলো তুহিন, ইহান ও ইরার সাথে। তৌসিফ নিজের ঐ বিশেষ ব্যাগটা নামালো। বুক ফুলিয়ে শ্বাস টেনে বললো,
“আমার হানিমুন ধ্বংস করার জন্য আমারই চৌদ্দ গুষ্টি উঠেপড়ে লেগেছে।”
নিজের আরো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস তৌসিফ নামালো অতঃপর ফোন লাগালো এক নাম্বারে।
“ফুপাতো বোন, আমার ভাই কোথায়?”
“দশ মিনিট পরই আসবে।”
“হানিমুনে স্বামী রেখে চলে এলে? এই তোমার পারিবারিক শিক্ষা?”
“মনটা ভালো আছে, উল্টাপাল্টা কথা বললে হাসিমুখে চাপা ভেঙে দিব।”
ইহান দেবড় ভাবীর এমন ঝগড়া দেখে বললো,
“মেঝ মামা দেখলে তোমাকে খুব বকবে।”
“হাহ্, এমন শয়তান বউ থাকতেও কপাল লাগে বুঝলি ইহান।”
“আমি কিন্তু এখন সত্যিই রেগে যাব।”
“তো যাও। কে ধরে রেখেছে?”
“পৌষরাত?”
তৌসিফ বেশ হাঁপাতে হাঁপাতে এগিয়ে এলো এদিকে। সময়টা পরন্ত বিকেল,
তৌসিফ আভ ঠেলে বেরিয়ে এলো। পৌষের সামনে দাঁড়িয়ে কোমড় আঁকড়ে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলো। তুহিন এক ভ্রুঁ তুলে বললো,
“এত তারাতাড়ি চলে এলে?”
তৌসিফ রাগলো না। মোটেও রাগলো না। হেসে হেসে কথাবার্তা বললো। ওদের আগে আগে হাঁটতে বলে নিজে পৌষকে নিয়ে পিছু পিছু হাঁটছে। আড়ালে পৌষের কানে কানে তৌসিফ ফিসফিস করে বললো,
“আমি ওয়ান টু থ্রি বললেই আমার সাথে দৌড় দিবে। ঐ যে কালো গাড়িটা, আমরা ওটায় যাব।”
“কেন? দৌড়ে কেন যাব?”
“হানি, নো মোর কোশ্চেন প্লিজ।”
“ওকে।”
তৌসিফ ভায়ে ভায়ে রইলো। যখনই দেখলো ওরা তিনজন বেখেয়াল ভাবে এদিক ওদিক যাচ্ছে, বিশেষ করে তুহিনের এদিকে খেয়াল নেই তখনই তৌসিফ নিজের আঙুল সোজা করলো। পৌষের হাতটা শক্ত করে ধরে বললো,
“পৌষরাত, ওয়ান, টু এন্ড থ্রি…”
তারা দৌড় দিলো উল্টো দিকে। ওরা কেউ এখনও দেখি নি ওদের। কুয়াশা দিয়ে চারপাশ ঢাকা। সেই ঠান্ডায় দৌড়ে যাচ্ছে তৌসিফ, সাথে পৌষ। এভাবে সে তার হানিমুন নষ্ট হতে দিবে না৷ কিছুতেই না। তৌসিফ জানপ্রাণ বাঁচিয়ে দৌড়ে গেলো। যখন কালো গাড়িটায় দু’জন পৌঁছালো তখনই টনক নড়লো তুহিনের। পেছনে তাকাতে তাকাতে গাড়িতে উঠে গেলো তৌসিফ। তুহিন ওখান থেকেই চেঁচালো,
“ঐ ধর ধর, ভেগে গেলো। ভেগে গেলো রে। পৌষকে নিয়ে মেঝ ভাইয়া ভেগে গেলো।”
তুহিন দৌড়ে গেলেও নাগাল পেলো না। কালো গাড়িটা শো করে চোখের আড়াল হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। ইহান আর ইরাও চমকে দৌড়ে এসেছে তুহিনের চিৎকারে। তুহিন মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইহান নাড়া দিতেই বিরবির করে বললো,
“মেঝ ভাইয়া এই বয়সে এসে কাজটা করলো কি।”
পৌষকে নিয়ে একটা হোটেলে উঠেছে তৌসিফ। বিলাসবহুল হোটেলের বিশাল রুমে পৌষ হা করে বসে আছে। তৌসিফ মাত্রই স্বীকারোক্তি দিলো সে হানিমুন করতে বউ নিয়ে পালিয়ে এসেছে। গতরাতেও এই কারণেই সে কাছাকাছি আসে নি। এত মানুষের সামনে তার হানিমুন ফিল আসছে না। পৌষ অবাক না হয়ে পারে নি৷ সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এখানে এসেছে তৌসিফ। এখন একটা ব্যাগ নিয়ে বসে আছে। একবার খুলেও বন্ধ করে রাখছে। পৌষ কিছুক্ষণ বাসায় কথা বলেছে তাই তৌসিফকে প্রশ্ন করে নি৷
এদিকে তৌসিফ চরম মাত্রায় কনফিউশানে আছে। তার নিজস্ব কিছু সখ আহ্লাদ আছে বউ নিয়ে। কিছু অতিরিক্ত রোম্যান্টিক অনুভূতি জাগাতে সে কিছু ব্যাক্তিগত পোশাক এনেছে পৌষের জন্য। পৌষ শুধু তৌসিফের জন্য শাড়ী বা নাইটিতেই অভ্যস্ত কিন্তু সেগুলো যথেষ্ট ডিসেন্ট। তৌসিফ যা যা এনেছে এগুলো মোটেও ডিসেন্ট না বরং চরম অভদ্র পোশাক। পৌষ পরবে কি না এটা ভেবেই তৌসিফ বিব্রত হচ্ছে। ঐ বাসায় এগুলো পরা সম্ভবও ছিলো না। এত মানুষ, কখন কি হয়। বউ নিয়ে পুরোপুরি সচেতন তৌসিফ। ঠোঁট কামড়ে উঠে দাঁড়ালো তৌসিফ। ব্যাগ থেকে ড্রেস বের করে পৌষের কাছে আসতেই পৌষ ফোন রাখলো। তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বললো,
“কিছু বলবেন? এখানে ঠান্ডাটা বেশি না?”
“ইয়্যু ক্যান মেইক দ্যা ইনভায়রোনমেন্ট হট হানি।”
পৌষ চোখ তুলে তাকাতেই তৌসিফ ড্রেসগুলো ওর হাতে ধরিয়ে দিলো। পৌষ নেড়েচেড়ে দেখে হঠাৎ ধুপ করে তৌসিফের মুখে ছুঁড়ে মারলো সেগুলো। তীক্ষ্ণ মেজাজে বললো,
“আমি পরি এগুলো?”
“আমার জন্য পরবে।”
“না না৷ ভালো লাগে না। অন্য কিছু হলে পরতাম।”
“আমি কিন্তু জোর করব হানি।”
“কি আশ্চর্য! আপনি হুমকি দিচ্ছেন?”
“না, তুমি রাজি না হলে আমি এখন আগের তৌসিফ হয়ে যাব। পরতেই হবে। আমি দেখব৷ তোমাকে সব রূপে দেখার হক আমার আছে।”
ভেজা ঢোক গিললো পৌষ। চাপা স্বরে বললো,
“আমাকে মানাবে না এসবে। লাজলজ্জা আপনার সামনে এমনিতেও আসে না আমার। কথা হলো আমার সাথে মানায় না।”
“আমি বেমানানই দেখব।”
ঠেলেঠুলে পৌষকে পাঠিয়ে দিলো তৌসিফ। পৌষ হাতের কাছে থেকে কালোটা তুলতেই তৌসিফ লাল রঙের নাইটি তুলে দিলো। হাসলো দুষ্ট ভাবে। পৌষ বাথরুমে ঢুকে কিছুক্ষণ এদিক ওদিক হেঁটে পরে নিলো পোশাকটা। তার বাঙালীয়ানা মুখের সাথে এই পোশাক যায় না এটা সত্যি। এখনও যাচ্ছে না। পৌষ আয়নায় নিজেকে দেখলো। তার চিকনচাকন দেহটাই দেখতে পেলো। একটু হেসে সে নিজেকে প্রস্তুত করলো, শুধু মাত্র তৌসিফের জন্য।
রুমে পায়চারি করছে তৌসিফ। তার গায়ে শাদা একটা শার্ট আর প্যান্ট। হাতের মুঠোয় কিছু একটা চকচক করছে। পৌষ বেরিয়ে আসতেই তৌসিফ চমকে গেলো।
বেমানান? কোথায় বেমানান? পৌষ এই পোশাকের সাথে নিজেকে মানিয়ে এসেছে। চিরায়ত খোঁপা বা বেণী নেই। চুলগুলো কি সুন্দর সামান্য কার্ল করে ব্যাক ব্রাশ করেছে। ঠোঁটে নুড লিপস্টিক। চোখে মুখে আমুল পরিবর্তন। কিভাবে এলো? তৌসিফ ফাঁকা ঢোক গিললো। পৌষ এগিয়ে আসতে আসতে যখন তৌসিফের সামনে চলে এলো তখন ধপ করে পর পায়ের কাছে বসে পরলো তৌসিফ। পৌষ তাকিয়ে রইলো ওর দিকে, হাসিমুখে। তৌসিফ নিজের মুঠ খুললো। পৌষের উন্মুক্ত কোমড়ে কাঁপা হাতে পেঁচিয়ে দিলো ডায়মন্ড বসানো ওয়েস্ট চেইন। ঠান্ডা স্পর্শে জমে গেলো পৌষ। তৌসিফ তখন ধীরে ধীরে ওর কোমড় পেঁচিয়ে পেটে আলতো চুমু খেলো অতঃপর উঠেই কোলে তুলে নিলো। কপালে চুমু খেয়ে আলতো হেসে জানালো,
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৭৮
“তুমি জানো এরপরে কি?”
“কি?”
“এরপরে আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
