Mad for you 2 part 3
তানিয়া খাতুন
কলেজ বিল্ডিংয়ের পুরনো সিঁড়িগুলো দিয়ে ওপরে উঠছিল ক্ৰিশ।
সিঁড়ির ধাপে ধাপে তার পায়ের শব্দটা অদ্ভুতভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, যেন প্রতিটা শব্দেই জমে থাকা রাগ আর অস্থিরতা প্রকাশ পাচ্ছে।
তার পেছন পেছন হাঁটছিল তার পুরো বন্ধুবাহিনী—রুদ্র, অর্ক, আর বাকি সবাই।
একটু দূরেই হাঁপাতে হাঁপাতে এসে তাদের সাথে যোগ দিল আমান।
আমান বারবার ক্ৰিশের পাশে এসে নিচু গলায় বলছিল,
“ভাই, নতুন স্টুডেন্ট… ছেড়ে দে না। প্রথম দিনেই এতটা করিস না…”
কিন্তু ক্ৰিশ যেন কিছুই শুনছিল না।
তার চোখ দুটো অস্বাভাবিক লাল, চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।
তার হাঁটার ভঙ্গিতে এমন একটা তীব্রতা ছিল, যেন সে যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে।
আশেপাশে যারা ছিল, তারা কেউই সাহস পাচ্ছিল না তার সামনে এসে কিছু বলার।
সিঁড়ি পেরিয়ে করিডোরে উঠতেই ক্ৰিশ এক মুহূর্তও দেরি করল না।
গটগট করে হাঁটতে হাঁটতে সে সোজা ফার্স্ট ইয়ার ক্লাসরুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল, তারপর এক ঝটকায় দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
তার পেছন পেছন তার বন্ধুরাও ঢুকে গেল।
ভেতরে তখন একজন প্রফেসর ক্লাস নিচ্ছিলেন। হঠাৎ এতগুলো ছেলের ঢুকে পড়ায় পুরো ক্লাস থমকে গেল।
প্রফেসরের কণ্ঠ থেমে গেল মাঝপথেই।
ক্ৰিশকে দেখে তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল—স্পষ্ট ভয় আর অস্বস্তি ফুটে উঠল তার চোখে।
কারণ এই কলেজে ক্ৰিশকে চেনে না এমন কেউ নেই।
কলেজের একজন বড়ো ডোনার শরিফুল খানের ছেলে হিসেবে ক্ৰিশের একটা আলাদা পরিচয় আর প্রভাব আছে।
প্রফেসররাও তাকে একটু সমীহ করেই চলে।
প্রফেসর গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
“ক্ৰিশ… কিছু বলবে? কোনো দরকার?”
কিন্তু ক্ৰিশ যেন তাকে দেখেই না। সে ধীরে ধীরে পুরো ক্লাসের দিকে চোখ বুলাতে লাগল।
তার দৃষ্টি ছিল তীক্ষ্ণ, খুঁজে বেড়াচ্ছে সন্দেহজনক কাউকে—
ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। কেউ কেউ ভয়ে মাথা নিচু করে ফেলেছে, কেউ আবার কৌতূহলী চোখে দেখছে—কি হতে যাচ্ছে এখন?
এদিকে সিমরান আর রুহি পরিস্থিতি বুঝে আগেই বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে পড়েছে।
দুজনের বুক ধকধক করছে ভয়ে। তারা একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে আছে, যেন একটু সাহস পায়।
ক্ৰিশের ধৈর্য শেষ হয়ে গেল।
সে তীক্ষ্ণ গলায় ধমক দিয়ে বলে উঠল,
“রুদ্র! অর্ক! এদিকে আয় তো!”
তার কণ্ঠে এমন একটা রাগ ছিল, যা শুনে পুরো ক্লাস কেঁপে উঠল।
রুদ্র আর অর্ক একটু ইতস্তত করলেও শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলো।
ক্ৰিশ তাদের দিকে তাকিয়ে দাঁত চেপে বলে,
“বল—কোন মেয়েটা ছিল?”
পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ। কেউ একটা শব্দও করছে না। সবাই শুধু তাকিয়ে আছে এই দৃশ্যের দিকে।
কিছু মেয়ে ভয়ে কুঁকড়ে গেছে, আবার কিছু মেয়ে অবাক হয়ে ক্ৰিশের দিকে তাকিয়ে আছে।
তাদের চোখে ভয় নয়, বরং একটা অদ্ভুত আকর্ষণ—যেন ক্ৰিশের এই রাগী, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বটাই তাদের টানছে।
অর্ক আর রুদ্র দুজনেই পুরো ক্লাসটা ভালো করে চোখ বুলিয়ে দেখে।
একেকটা বেঞ্চ, একেকটা মুখ—কেউই বাদ যায় না তাদের দৃষ্টি থেকে।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর দুজনেই একটু অস্বস্তি নিয়ে একে অপরের দিকে তাকায়।
রুদ্র নিচু গলায় বলে,
“না ভাই… এখানে তো ওই মেয়েটাকে দেখতে পাচ্ছি না…”
অর্কও মাথা নেড়ে সায় দেয়,
“হ্যাঁ, নেই তো… নিশ্চিত নেই…”
ক্ৰিশের চোখের দৃষ্টি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। যেন তার ভেতরের রাগটা ধীরে ধীরে বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ করে একটা ফোনের রিংটোন পুরো ক্লাসের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয়।
সবাই চমকে ওঠে। একসাথে সবার দৃষ্টি চলে যায় ক্লাসের একেবারে শেষ বেঞ্চের দিকে।
সেখানে বসে থাকা রুহি আর সিমরান দুজনেই আঁতকে ওঠে।
রুহি চোখ বড় বড় করে সিমরানের দিকে তাকায়, আর মনে মনে গাল দেয়,
“এই মেয়েটার ফোনটা এখনই বাজতে হলো! আর একটু পরে বাজলে কি হতো না!”
সিমরান কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা বন্ধ করতে গিয়ে হাত কাঁপিয়ে ফেলে। দুজনেই মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে পড়ে।
ঠিক তখনই আশিষ হঠাৎ করে বলে ওঠে,
“ভাই! এই তো ওই মেয়েটা… হোয়াইট কুর্তি!”
কথাটা শোনা মাত্রই রুহির বুকটা ধক করে ওঠে। ভয়ে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। সে সাহস পায় না মুখ তুলতে, মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে থাকে।
ক্ৰিশ ভ্রু কুঁচকে গভীরভাবে রুহির দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন চোখ দিয়ে তাকে ভেদ করে ভেতরটা পড়ে ফেলতে চাইছে।
আমানও এবার ভালো করে রুহির দিকে তাকায়। কোথায় যেন একটা চেনা চেনা ভাব লাগছে তার, কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছে না—কোথায় দেখেছে এই মেয়েটাকে।
হঠাৎ করেই ক্ৰিশ বড় বড় পা ফেলে সামনে এগিয়ে যায়। পুরো ক্লাস নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে।
সে গিয়ে সরাসরি তাদের বেঞ্চের সামনে দাঁড়ায়। প্রথমে সিমরানের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা কিন্তু ভয়ঙ্কর কণ্ঠে বলে—
“আউট…”
ক্ৰিশের গলায় এমন একটা ধমক ছিল, যা শুনে সিমরান প্রায় লাফিয়ে ওঠে।
তাড়াতাড়ি করে বেঞ্চ থেকে সরে গিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে পড়ে।
রুহি তখনো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে সে প্রায় কাঁপছে। মনে মনে আল্লাহকে ডাকছে—
“আল্লাহ… বাঁচাও…”
হঠাৎ করেই ক্ৰিশ এক লাফে বেঞ্চের ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সে রুহির হাত চেপে ধরে তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।
রুহি কিছু বুঝে ওঠার আগেই—
ক্ৰিশ তার ঠোঁট চেপে ধরে রুহির ঠোঁটে।
পুরো ক্লাস যেন এক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়।
রুহি একদমই প্রস্তুত ছিল না এর জন্য।
তার মাথা ঘুরে যায়, যেন সবকিছু থেমে গেছে। কয়েক মুহূর্তের জন্য সে নিস্তব্ধ হয়ে থাকে—কিছুই বুঝতে পারে না।
তারপর যখন হুঁশ ফিরে আসে, সে রাগে, অপমানে হাত তুলে ক্ৰিশ কে চড় মারতে যায়।
কিন্তু ক্ৰিশ তার হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলে।
তার চোখে তখন অদ্ভুত এক উন্মাদনা… কণ্ঠে কাঁপা কাঁপা আকুলতা—
“কলিজা… কোথায় ছিলে তুমি? সেই জন্মের পর থেকে খুঁজছি তোমায়…”
রুহি হতভম্ব হয়ে যায়। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে, কিন্তু ক্ৰিশ তাকে একদমই ছাড়ে না।
এরপর কোনো কথা না বলে, হঠাৎ করেই ক্ৰিশ তাকে কাঁধে তুলে নেয়।
পুরো ক্লাস হতবাক হয়ে যায়। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছে না, ঠিক কী হচ্ছে!
ক্ৰিশ হেঁটে বের হতে হতে প্রফেসরের দিকে তাকিয়ে বলে—
“আমার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে যাচ্ছি। আপনি আপনার ক্লাস করুন, আমি আমারটা করি…”
এই বলে সে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়, রুহিকে কাঁধে নিয়ে।
ক্লাসের ভেতর তখন ফিসফাস শুরু হয়ে গেছে।
আমান হতবাক হয়ে ফিসফিস করে বলে,
“আমি কি ঠিকই দেখলাম? ক্ৰিশ… একটা মেয়েকে কাঁধে তুলে নিয়ে গেল?”
অর্ক এখনো অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে,
“আমিও তো সেটাই দেখলাম…”
আশিষ একটু হেসে বলে,
“মনে হচ্ছে… এবার আমাদের সত্যিই ভাবি আসতে চলেছে…”
রুহিকে কাঁধে নিয়ে সোজা বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠে আসে ক্ৰিশ।
সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠতে উঠতেই রুহি ছটফট করতে থাকে, হাত-পা নেড়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
“ছাড়ুন! নামান আমাকে!”—কাঁপা গলায় বলে ওঠে সে।
কিন্তু ক্ৰিশ একটুও পাত্তা দেয় না। তার পদক্ষেপগুলো দ্রুত, দৃঢ়—যেন সে ঠিক করেই ফেলেছে কী করবে।
ছাদে পৌঁছাতেই ক্ৰিশ হঠাৎ করে রুহিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে প্রায় ছুঁড়ে ফেলে দেয় মেঝেতে।
ধপ করে পড়তেই ব্যথায় রুহির মুখ কুঁচকে যায়।
“আহ…! এভাবে ফেললেন কেন?”—কষ্টে ভরা কণ্ঠে বলে ওঠে সে।
ক্ৰিশ বাঁকা হেসে ধীরে ধীরে তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। তারপর হঠাৎ করে রুহির গালটা শক্ত করে চেপে ধরে।
“তোর ভাগ্য ভালো তোকে এখানে ফেলেছি… না হলে আমার ইচ্ছে ছিল সোজা এই ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিই…”
কথাটা শুনে রুহির বুক কেঁপে ওঠে। তার চোখ বড় বড় হয়ে যায় ভয়ে। ধীরে ধীরে সে পেছনের দিকে সরে যেতে থাকে।
ক্ৰিশ চোখ সরু করে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
“আমাকে নিজের বয়ফ্রেন্ড বলেছিস কেন?”
আমাকে পছন্দ?
ক্ৰিশের প্রশ্নে পুরোপুরি গুলিয়ে যায় রুহি। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে আসে। তোতলাতে তোতলাতে বলে ওঠে—
“না… না… আপনাকে কেন পছন্দ হবে…”
কথাটা শেষ হতেই ক্ৰিশের মুখের ভাব বদলে যায়। চোখ দুটো আরও লাল হয়ে ওঠে।
হঠাৎ করেই সে ধমক দিয়ে ওঠে—
“তাহলে আমাকে বয়ফ্রেন্ড বলেছিস কেন?”
ক্ৰিশের গলার সেই তীক্ষ্ণ শব্দে রুহি কেঁপে ওঠে। পেছাতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে প্রায় পড়েই যায়।
কোনোমতে নিজেকে সামলাতে গিয়ে আবার বসে পড়ে মেঝেতে।
ফুঁপিয়ে কেদে ওঠে সে।
এই দৃশ্য দেখে ক্ৰ এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। তার ভ্রু কুঁচকে যায়, মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে।
“এই ল্যাদা কাঁদে কেনো?”
রুহির চোখে তখন পানি জমে গেছে। সে কিছু বলতে পারছে না, শুধু ভয়ে কাঁপছে।
ক্ৰিশ বিরক্ত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে ফেলে, তারপর আবার তার দিকে তাকিয়ে দাঁত চেপে বলে—
“এই মেয়ে… চুপ! চুপ বলছি…”
থাপ্পড়ে তোর মুন্ডু ঘুরিয়ে দেবো।
রুহি সঙ্গে সঙ্গে চুপ হয়ে যায়। যেন তার গলার শব্দও হারিয়ে গেছে।
ক্ৰিশ তার দিকে আঙুল তুলে এগিয়ে আসে। তার কণ্ঠ নিচু, কিন্তু ভয়ঙ্কর ঠান্ডা—
“দ্বিতীয়বার যেন তোকে আমার সামনে না দেখি…”
এক সেকেন্ড থেমে সে আরও কাছে ঝুঁকে আসে—
“না হলে তোকে এই ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেব…”
তোর যে কটা বাঁকা হার আছে ভেঙে জুস করে খাবো।
রুহির বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। সে স্থির হয়ে যায়, যেন নড়ার শক্তিটুকুও নেই আর।
এমন ভয়ানক কথা তাঁকে কোনো দিন কেউ বলেনি।
নিজের রুমে ঢুকতেই ছোট্টো কোকো—ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ৰিশের ওপর।
এতক্ষণ পর প্রিয় মানুষটাকে পেয়ে সে যেন খুশিতে আত্মহারা।
ক্ৰিশ হেসে উঠে কোকোকে বুকে জড়িয়ে ধরে, তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেয়।
কোকোও থেমে থাকার পাত্র নয়—আরও গা ঘেঁষে আসে, ক্ৰিশের বুকে মুখ ঘষতে থাকে, লেজ নেড়ে নিজের ভালোবাসা জানাতে থাকে।
“আরে কোকো, আমি তো বাইরে থেকে আসছি… এখনও ফ্রেশ হইনি।
আগে ফ্ৰেশ হয় তারপর তোর সব কথা শুনব…”
কিন্তু কোকো কি আর এসব বোঝে! সে তো নিজের মতো করেই আদর চাইতে ব্যস্ত।
অগত্যা ক্ৰিশ কোকোকে কোলে নিয়েই নিজের শার্ট খুলতে শুরু করে। তারপর তাকে আলতো করে নিচে নামিয়ে দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে।
ঘরের এক কোণে জমে থাকা আগের জামাকাপড়গুলো একসাথে নিয়ে ওয়াশিং মেশিনে দিতে যায় সে।
ঠিক তখনই হঠাৎ করে একটা ছোট্ট কাগজ নিচে পড়ে যায়।
ক্ৰিশ ভ্রু কুঁচকে নিচে তাকায়। কাগজটা তুলে নিয়ে ধীরে ধীরে খুলে দেখে—এটা একটা ডায়েরির পাতা।
পাতায় শুকনো, একটু কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা কিছু লাইন।
ক্ৰিশ চোখ বুলিয়ে পড়তে থাকে, তারপর নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলে ওঠে—
“তাহলে এটা সেই মেয়েটা… যে আমাকে ধাক্কা দিয়েছিল…”
তার ঠোঁটে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে।
“একবার তোকে পাই… ক্ৰিশ খানকে ধাক্কা মারার মজা দেখাব…”
ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে ওঠে।
ক্ৰিশ তাড়াতাড়ি পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে—আমান কল করছে।
“হ্যালো, ভাই?”
“ভাই, মনে পড়েছে! তুই যে মেয়েটাকে আজকে শাসিয়েছিস, ওটাই তোকে ধাক্কা দিয়েছিল।”
ক্ৰিশ ভ্রু কুঁচকে হালকা গলায় বলে—
“ ল্যাদার সাহস কম না…”
আমান একটু থেমে বলে,
“কিছু বললি?”
Mad for you 2 part 2
“না, কিছু না… রাখ। আর শোন—মেয়েটা কোথায় থাকে সেটা খুঁজে বের কর। রাতের মধ্যেই আমার ওর অ্যাড্রেস চাই।”
কথাটা বলেই সে কল কেটে দেয়।
তার চোখে তখন এক অদ্ভুত আগ্রহ আর রাগের মিশ্রণ—
