Home নূর ই মহব্বত নূর ই মহব্বত পর্ব ১৩

নূর ই মহব্বত পর্ব ১৩

নূর ই মহব্বত পর্ব ১৩
তাবাসসুম তাজ্বওয়ারী

– এক বারের জন্য কি আমি ছেলেটাকে একটু কোলে নিতে পারি? আমার কলিজাটা যে একটুখানি ওকে আদর করতে ছটফট করছে নওমি! একটা বার শুধু ছুঁয়ে দেখতে দাও? প্লিজ?
আযলান নওমির দিকে অত্যন্ত আকুল, কাঁপাকাঁপা এবং ভীরু চোখে তাকিয়ে হাত দুটো বাড়িয়ে দিল। নওমির বুকের ভেতর ধুকপুক করছে কিন্তু আযলানের আকুলতা দেখেও “না” বলতে পারছে না। পরিস্থিতির দিকে চিন্তা করলে আযলান দোষী নয় ঠিকই কিন্তু মনকে তো বোঝাতে পারছে না! আবার ছেলের জন্য আযলানের কষ্টের কথা চিন্তা করলে মনটা নরম হয়ে যাচ্ছে। এত ভাবনায় বিভ্রান্ত হয়ে সকল চিন্তা একপাশে রেখে আদনানকে আঁকড়ে ধরা হাতের বাঁধন শিথিল করলো। নওমির হাতের বাঁধন ঢিলে হচ্ছে বুঝতে পেরে আযলান উঠে এসে আদনানকে আলতো করে পাঁজাকোলা করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। বাচ্চার নরম শরীরের স্পর্শ পেতেই ভেতরে পুঞ্জীভূত সব কষ্ট যেন এক লহমায় উবে গেল আযলানের। সে আদনানের ছোট্ট পিঠে হাত রেখে, ওকে নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে চেপে ধরল। বাচ্চার গা থেকে ভেসে আসা চেনা অথচ অচেনা সেই মিষ্টি সুবাসটা আযলানের নাসিকারন্ধ্র হয়ে সোজা তার কলিজায় গিয়ে আঘা’ত করল। এতটা বছর যে বুকটা এক তীব্র শূন্যতা আর হাহাকারে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছিল, আজ সেখানে যেন এক নিমিষেই শান্তির সুশীতল বৃষ্টি নেমে এলো।

আদনান শুধু দেখেই যাচ্ছে। হুট করে মায়ের কোল থেকে নেওয়ায় কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিল প্রথমে। কিন্তু পরে শান্ত হয়ে বসে আছে। তার চেনা চেহারা, এটা তো তার বাবা তাই না? বুঝছে কি না কে জানে!
আযলান আদনানের ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে দিল। তার চোখ থেকে নোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগল অবাধ্যের মতো। তার উত্তপ্ত চোখের জল আদনানের নরম পিঠ ছুঁয়ে দিতেই আদনান প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেল। সে চোখ দুটো বড় বড় করে ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ের দিকে তাকানোর চেষ্টা করল কিন্তু কাঁদলো না কেন যেন। বোধহয় রক্তের টান! আযলানের গায়ের চেনা একটা টান আর এই নিবিড়, নিরাপদ আলিঙ্গনে হয়তো তার অপরিচিত লাগে নি তাই তো নিজের ছোট্ট পুচকে হাত দুটো দিয়ে আযলানের শার্টের কলারটা শক্ত করে খামচে ধরল। আযলান মুখ তুলে আদনানের সারা মুখে, কপালে, গালে অজস্র চুমু খেতে লাগল। আবার বুকে শক্ত করে জড়িয়ে বিড়বিড় করল,

– আমার বাবা… আমার কলিজার টুকরো! আমাকে ক্ষমা করে দিস বাপ। তোর এই অভাগা বাবা তোকে চিনতে পারেনি। আমি কেমন বাবা রে, যে নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য এতগুলো বছর অপচয় করে ফেলল!
নওমি এতক্ষণ পাথরের মতোই বসে সবটা দেখছিল। আদনানের জন্য আযলানের করা আর্তনাদ শুনে তার নিজের বুকের ভেতরটাও তখন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল। আদনানের জন্য ব্যাকুলতা তো খাঁটি! এই দৃশ্য দেখে তার খুব আফসোস হলো। কেন সত্যটা তিনবছর বছর আগে সামনে এলো না? কেন তাদের জীবনটাকে একটা মিথ্যের ঝড়ে তাসের ঘরের মতো ভে’ঙে পড়তে হলো? এরকমটা তো না হলেও পারতো! একটা সুখের সংসার তাদেরও হতো? নওমি নিজের ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে কান্না আটকানোর চেষ্টা করল। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে চোখের কোণ মুছে ফেলল। সে চাই না আর কাউকে কোনোরকম দুর্বলতা দেখাতে।

আযলান আদনানকে কোল থেকে নামাচ্ছিল না, মনে হচ্ছিল এখন ছেড়ে দিলেই বুঝি এই পরম পাওয়াটা আবার কোনো কুয়াশায় হারিয়ে যাবে। খানিকক্ষণ পর আযলান কিছুটা সামলে উঠলে নওমির দিকে তাকিয়ে বললো,
– আমি জানি নওমি, যেই সময়টা চলে গেছে সেটা ফিরে আসবে না। আমরা পারবো না সেটা ফেরাতে! অতীতের কোনো ক্ষ’তকেই পুরোপুরি মুছে দিতে পারবে না। কিন্তু আজ এই নিষ্পাপ বাচ্চার ছোঁয়া পেয়ে আমার ভেতরের শেষ সংশয়টুকুও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি নিজের অজান্তেই হোক কিংবা পরিস্থিতির চাপে, আমাদের ভালোবাসার সাথে, তোমার বিশ্বাসের সাথে অন্যায় করেছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করতে না পারো নূর, কিন্তু আমাদের এই সন্তানটাকে তার বাবার অধিকার থেকে আর দূরে সরিয়ে রেখো না, প্লিজ!
নওমি চুপ করে মেঝের দিকে চেয়ে আছে। নওমির চুপ থাকা দেখে আযলানের মনে আবার ভয় দানা বাঁধল। আযলান আবারও ব্যাকুল কণ্ঠে বললো,

– প্লিজ নওমি! চুপ থেকো না কিছু তো বলো! দেখো আমি তো না বুঝে ভুল করেছি। আচ্ছা ধরলাম আমি দোষী কিন্তু এর শাস্তি হিসেবে আমাকে আদনান থেকে দূরে সরিয়ে দিও না প্লিজ! আমি সহ্য করতে পারবো না সেটা আর! এতগুলো বছর পর আমি ওকে প্রথমবার আমার কাছে পেয়েছি…
নওমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মেঝের দিক থেকে চোখ তুলে সে আযলানের দিকে তাকাল। ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
– আমি অধিকার কেড়ে নেওয়ার তো কেউ নই। আর আমি অতটা নিষ্ঠুর নই যে একটা বাবার বুক কাছ তার সন্তানকে চিরতরে কেড়ে নেব। আমি আদনানকে আপনার থেকে দূরে সরাব না।
নওমির মুখে এইটুকু আশ্বাস পেয়ে আযলানের ফ্যাকাশে মুখে যেন এক চিলতে স্বস্তির আলো ফুটে উঠল। কিন্তু নওমি তাকে পুরোপুরি শান্ত হওয়ার সুযোগ দিল না। সে নিজের কণ্ঠস্বর আরও কিছুটা শক্ত করে বলল,
– তবে আমার একটা শর্ত আছে আযলান। আপনি ওর বাবা এই সত্য আমি অস্বীকার করছি না। আপনি যখন ইচ্ছে ওর সাথে দেখা করতে পারবেন, ওকে আদর করতে পারবেন কিন্তু…

– কিন্তু?
সময় নিয়ে নওমি জবাব দিল,
– কিন্তু আমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে আলাদা করে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার কোনো চেষ্টা আপনি কোনোদিন করতে পারবেন না। এটা নিয়ে কোনো অধিকার দেখাতে পারবেন না। ও আমার কাছেই থাকবে।
নওমির এই অটল স্পষ্ট শর্ত শুনে আযলানের বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠল। যে সন্তানকে আজ প্রথমবার বুকে জড়িয়ে ধরেছে, তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কোনো অধিকার তার থাকবে না এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া একজন বাবার পক্ষে কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা কেবল আযলানই বুঝতে পারছিল। তবুও নিজেকে ভাঙতে দিল না। এতটুকুতেই মন খারাপ করে বা ভেঙে পড়ে সে সবকিছু আবার নষ্ট করতে চায় না।
আযলান মনে মনে খুব শক্ত করে একটা সিদ্ধান্ত নিলো সে সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে। নওমির এই তার হারানো বিশ্বাস ভালোবাসা আর আদনানের জন্য সুন্দর একটা জীবন সে নতুন করে বানিয়ে দিবে। ধীরে ধীরে নওমিকে মানাতে হবে। সে নিজেকে নওমির জায়গায় দাঁড় করিয়ে ভাবল, একটা মেয়ে একাকী লড়াই করে যে সন্তানকে নিজের জীবনের একমাত্র অবলম্বন বানিয়েছে, তাকে কেড়ে নেওয়ার কথা ভাবাও তো একটা অপরাধ। সে আদনানের দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,

– তুমি নিশ্চিন্তে থাকো। আমি কোনোদিন আদনানকে তোমার কোল থেকে কেড়ে নেওয়ার বা নিজের কাছে আলাদা করে নিয়ে যাওয়ার মতো নোংরা চিন্তা মনেও আনব না। ও তোমার কাছেই থাকবে তবে তোমরা দুইজন থাকবে আহিলের সংসারে!
নওমি চমকে তাকালো। নওমির প্রতিক্রিয়া দেখে আযলানের ঠোঁট আরেকটু প্রসারিত হলো। একইভাবে বললো,
– আমি তোমাকে একটা কথা দিয়ে যাচ্ছি নওমি, আযলান আজওয়াদ আহিল যেমন চার বছর আগে নিজের জেদ আর রাগের মুখে সব হারিয়েছিল, সেই আযলান আজ থেকে নিজের সর্বোচ্চ ভালোবাসা আর ধৈর্য দিয়ে তোমাদের আবার নিজের করে পাওয়ার লড়াই শুরু করবে। তুমি আমার সাথে আজ সহজ হতে পারছো না অতীত ভুলতে পারছো না সেটা খুবই স্বাভাবিক। তবে আমি হাল ছাড়ব না। আমি অপেক্ষা করব নূর! ততদিন পর্যন্ত, যতদিন না তুমি নিজে থেকে মনে করো যে তোমার এই আহিল সত্যি তোমাকে ভালোবাসে! এক নওমি ছাড়া এই আহিল অন্যকারো নয়।

আহিলের মুখে “নূর” নামটা শুনে অদ্ভুতভাবে শিহরিত হলো নওমির মন। আহিল বিয়ের পর প্রায় আদর করে এই নামে ডাকতো। কেউ যত্ন করে তাকে নূর বলে ডাকতো না কখনোই শুধু মাত্র আহিল ছাড়া। প্রায় সময় বলতো, “তুমি আমার নূর, আমার জীবনের নূর! নূর ই মহব্বত হো গেয়া!” তখন কথাগুলো শুনে নওমির মন পুলকিত হতো দোল খেলে যেতো পুরো মনে! শান্ত নিঝুম রাতে আহিল যখন সমস্ত ক্লান্তি ভুলে নওমিকে নিজের বাহুডোরে জড়াত, তখন বড্ড আদর মাখা গলায় খুব মায়া নিয়ে এই একটা নামই উচ্চারণ করতো “নূর”। নওমি চোখজোড়া বন্ধ করে এক সেকেন্ডের জন্য সেই অতীতে হারিয়ে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই রূঢ় বর্তমানের ধাক্কায় নিজেকে সামলে নিলো। আযলান থেকে চোখ সরিয়ে নিজের মনকে শক্ত করার চেষ্টা করলো। একটা ডাকে এত কিছু এত সহজে মুছে গেলে তো হয় না!
আযলান নওমির মনের এই দোলাচলটুকু স্পষ্ট বুঝতে পারল। সে আদনানের নরম গালে আলতো করে নিজের তর্জনীটা ছুঁইয়ে আরেকটু মন ভরে দেখে গালে চুমু খেয়ে নওমির কোলে বসিয়ে দিল। তারপর ঝুঁকে ওর চোখে তাকিয়ে বললো,
– আসছি বাবা! আবার আসবো তোমায় দেখতে কেমন?
আদনান কোনো কথা বলল না, শুধু অবুঝের মতো গোল গোল চোখে আযলানের দিকে তাকিয়ে রইল। আযলান হেসে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আরও একবার নওমির মুখের দিকে তাকাল। ছোট্ট করে “আসছি” বলে পা বাড়ালে দুই কদম হেঁটে আবার পিছু ফিরলো সে। নওমি প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকালো। আযলান নিচু স্বরে বললো,

– আম্মুকে নিয়ে আসবো? খুব খুশি হবে আদনান আর তোমাকে দেখলে। আব্বু খুব আফসোস করেছিলো তোমার জন্য!
শ্বশুর শাশুড়ির কথা মনে পড়তেই মনে কালো মেঘ জমলো নওমির। মানুষগুলো ওকে কত ভালবাসতো কিন্তু সে তাদের কিছু না জানিয়েই চলে এলো। সে আযলানের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বললো,
– জ্বি, আব্বুকেও আনিয়েন।
আযলান খানিক মলিন হাসলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
– আব্বু আসতে পারবে না।
– কেন?
চটপট উত্তর নওমির। সে ভাবলো বোধহয় রেগে আছে তার উপর। আযলান উত্তর দিল,
– আব্বু দুনিয়া ত্যাগ করেছেন দেড় বছর হতে চললো।

নওমির দুনিয়া যেন থমকে গেল। ঠিক শুনলো কি? নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না সে। শরীরটা কেমন যেন অসাড় ঠেকতে লাগল। যে মানুষটা তাকে নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখেছিলেন, পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন সেই মানুষটা দুনিয়াতে নেই বছর পার হয়ে গেল! সে কিচ্ছু জানতে পারলো না? নিজের বাবাও মায়ের মৃত্যুর পর ওকে এতটা ভালোবাসেনি যতটা আযলানের বাবা বেসেছে! নওমির চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।
তার শাশুড়ি একটু আধতু শাসন করলেও শ্বশুর সবসময় তাকে আদরে রাখতো। তিনি বলতেন তার মেয়ে না থাকার আফসোস আর নেই। তিনি তো সবসময় নওমির ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আযলান কোনো কারণে রেগে গেলে তিনিই তো শাসন করে আযলানকে থামাতেন। আর সেই মানুষটা এত বড় একটা কষ্ট বুকে চেপে, ছেলের ভাঙা সংসারের হাহাকার দেখতে দেখতেই একদিন চুপচাপ চলে গেলেন? নওমির নিজেকে খুব বেশি অপরাধী মনে হলো এই পর্যায়ে। বুকের ভেতর একটা ব্যথা টের পেল সে। চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ল।

– এতো বড় একটা খবর…
কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে গিয়েও কণ্ঠস্বর কান্নায় বুজে এলো। আযলানের নিজের চোখ দুটোও তখন ছলছল করে উঠেছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেঝের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত ভারী গলায় বলল,
– আব্বু স্ট্রো’ক করেছিলো। মাস খানিক বিছানায় পরে ছিলো। তোমার কথা প্রায় বলতো। তুমি চলে আসার পর আমি যখন তাদের এত কিছু বললাম আব্বু কিছুতেই বিশ্বাস করলো না তুমি এটা করতে পারো। শেষ কয়েকদিন যখন বিছানায় পড়ে ছিলো তখন পর্যন্ত বলতো, “আমার মা-টাকে এনে দে আহিল, আমি জানি আমার মা এরকম কোনো ভুল করতে পারে না।”
নওমি আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সে। আযলানের একেকটা কথা নওমির বুকে তিরের মতো বিঁ’ধতে লাগল। তীব্র অপরাধবোধ আর শোকে তার বুকটা ফেটে যেতে চাইল। আযলান নিজেকে সামলে আবার বললো,

– আব্বু চলে যাওয়ার পর আম্মু পুরো ভেঙে পড়েছেন। সারাদিন জায়নামাজে বসে থাকতেন সাথে আমার জীবন, আমাকে নিয়ে চিন্তা তো আছেই! আজ সামিয়ার ওই জঘন্য সত্যটা জানার পর আমার যতটা না কষ্ট হচ্ছে, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি আফসোস হচ্ছে এই ভেবে যে আব্বু আজ বেঁচে থাকলে ওনার কলিজার টুকরো দাদুভাইকে দেখে কত না খুশি হতেন! কিন্তু আফসোস তিনি জানতেই পারলেন না!
ঘরের ভেতরের পরিবেশটা এক মুহূর্তে থমথমে পরিবেশ থেকে পরিবর্তিত হয়ে এক ভারী শোকের চাদরে ঢাকা পড়ে গেল। আদনান মায়ের কান্না দেখে নওমির দিকে অবুঝের মতো পুচকে হাত দিয়ে নওমির গালের জল মুছে দেওয়ার চেষ্টা করল। আধো আধো গলায় বললো,

নূর ই মহব্বত পর্ব ১২

– কানো কেনু মা আআ…মা….?
নওমি উত্তর দিলো না। মুখ চেপে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলো। আজ তার মনে হচ্ছে, সামিয়ার প অন্যায় শুধু তার আর আযলানের সম্পর্কটাকেই খু ন করেনি, একটা জলজ্যান্ত হাসিখুশি পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে একজন স্নেহের ছায়া দেওয়া অভিভাবককে!

নূর ই মহব্বত পর্ব ১৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here