Mad for you 2 part 19
তানিয়া খাতুন
ডাইনিং রুমের পাশের বড় সোফাটিতে গম্ভীর মুখে বসে আছেন রুহির আব্বু।
তাঁর মুখের রেখাগুলো অস্বাভাবিক রকম কঠিন হয়ে আছে।
চোখদুটো স্থির টেলিভিশনের পর্দায়, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে—তিনি শুধু সংবাদ দেখছেন না, এর পেছনের ঘটনাগুলোও বোঝার চেষ্টা করছেন।
তাঁর পাশেই বসে আছেন রুহির আম্মু।
মাঝে মাঝেই তিনি স্বামীর মুখের দিকে তাকাচ্ছেন।
এত বছরের সংসারে তিনি জানেন, মানুষটা যখন এভাবে চুপ হয়ে যান, তখন তাঁর মাথার ভেতর অসংখ্য চিন্তা ঘুরপাক খায়।
টেলিভিশনের পর্দায় একের পর এক সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে।
সেখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশি পাহারায় শরীফুল খানকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
চারপাশে সাংবাদিকদের ভিড়। অসংখ্য মাইক্রোফোন আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।
দেশজুড়ে পরিচিত একজন প্রভাবশালী মানুষের এমন পরিণতি দেখে সবাই বিস্মিত।
ঘরের ভেতর এক ধরনের চাপা নীরবতা বিরাজ করছে।
সেই নীরবতার মাঝেই সোফার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে রুহি।
দুই হাঁটু বুকের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে সে।
মুখটা ফ্যাকাশে।
চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
মেয়েটা বারবার নিজের আঙুল মুচড়ে যাচ্ছে।
তার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে ক্ৰিশ নিশ্চয়ই বাড়ি ফিরে গেছে।
আর বাড়ি ফিরে তাকে খুঁজে না পেয়ে কী অবস্থা হয়েছে, তা ভাবতেই তার বুক কেঁপে উঠছে।
ক্ৰিশের রাগ সে খুব ভালো করেই জানে।
লোকটা যখন রেগে যায়, তখন তার চোখদুটো কেমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।
সেই চোখের কথা মনে পড়তেই রুহির শরীর শিউরে উঠল।
আজ সকালেই ক্ৰিশ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।
তার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ পুলিশ আর সংবাদমাধ্যমের লোকজন খান বাড়ি ঘিরে ফেলে।
প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেনি রুহি।
চারপাশে শুধু চিৎকার, দৌড়াদৌড়ি আর প্রশ্নের ঝড়।
পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে শরীফুল খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল।
রুহি দূরে এক কোণে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল।
কিন্তু ঘটনাগুলোর অর্থ বুঝে ওঠার আগেই আরেকটি ঘটনা ঘটে।
তার আব্বু সেখানে পৌঁছে যান।
টেলিভিশনে সংবাদ দেখে তিনি আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি।
মেয়েটাকে সেই পরিবেশে রেখে আসার সাহস তাঁর হয়নি।
তাই সুযোগ পেয়েই রুহিকে নিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে এসেছেন।
এখন সেই সিদ্ধান্তের কথা ভেবে তিনি স্বস্তি পেলেও মন থেকে দুশ্চিন্তা দূর করতে পারছেন না।
দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর তিনি গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন।
—“কী ভাবছো?”
সমীর সাহেব কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন।
তারপর টেলিভিশনের দিকে তাকিয়েই বলেন,
—“আমি একটা বিষয় ভেবেই ভয় পাচ্ছি।”
—“কোন বিষয়?”
—“একজন মানুষ বাইরে থেকে এত সম্মানিত, এত ক্ষমতাবান। অথচ ভেতরে ভেতরে এত ভয়ংকর কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে..।”
তিনি কিছুক্ষণ থামলেন।
তারপর ধীরে ধীরে রুহির দিকে তাকালেন।
মেয়েটা তখনও ভয়ে সিঁটিয়ে বসে আছে।
সমীর সাহেবের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
—“বাবা যদি এমন হয়… তাহলে ছেলেটা কেমন হতে পারে, ভেবেছো?”
কথাটা শুনে রুহির আম্মুও চুপ হয়ে গেলেন।
তিনি উত্তর খুঁজে পেলেন না।
কারণ গত কয়েক দিনে তারা নিজেরাও ক্ৰিশের কিছু আচরণ দেখেছেন, যা স্বাভাবিক ছিল না।
সমীর সাহেব আবার বললেন,
—“আমি শুধু এটুকুই জানি, আমার মেয়েকে আর কোনো ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারব না।”
রুহি মাথা নিচু করে রইল।
তার বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে আসছে।
ভয়, অনিশ্চয়তা আর অদ্ভুত এক অস্থিরতা তাকে গ্রাস করে আছে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ প্রচণ্ড একটি শব্দে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল।
মনে হলো যেন কেউ সদর দরজায় সজোরে লাথি মেরেছে।
রুহি, তার আম্মু এবং সমীর সাহেব একসঙ্গে চমকে উঠলেন।
পরের মুহূর্তেই আরেকটি বিকট শব্দ।
তারপর হুড়মুড় করে ডাইনিং রুমের ভেতরে ঢুকে পড়ল ক্ৰিশ।
তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ, মুখ শক্ত, আর নিঃশ্বাস দ্রুত ওঠানামা করছে।
দেখে মনে হচ্ছে সে যেন কয়েক ঘণ্টা ধরে পাগলের মতো কাউকে খুঁজে বেড়িয়েছে।
ঘরে ঢুকেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল রুহির ওপর।
মুহূর্তের মধ্যে সে বড় বড় পা ফেলে সামনে এগিয়ে এল।
কেউ কিছু বোঝার আগেই তার হাত উঠে গেল।
ঠাস!
পুরো ঘরে থাপ্পড়ের শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল।
আঘাতে রুহির মুখ একপাশে ঘুরে গেল।
গালটা মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল।
ব্যথায় তার চোখে পানি চলে এল।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সে কোনো কথা বলল না।
শুধু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
এই দৃশ্য দেখে সমীর সাহেব আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।
তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দাঁড়ালেন।
—“তোমার সাহস কী করে হয় আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার মেয়ের গায়ে হাত তোলার?”
ক্ৰিশের চোখের দৃষ্টিতে তখনো রাগের ঝড় বইছে।
—“শাট আপ জাস্ট শাট আপ.”
—“ও আমার স্ত্রী। আমার কথা অমান্য করলে আমি শাসন করবো সেটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।”
কথা শেষ করেই সে রুহির হাত শক্ত করে ধরে টান দিল।
রুহি ভয়ে কেঁপে উঠল।
কিন্তু সমীর সাহেব সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়ালেন।
মেয়ের হাত নিজের দিকে টেনে নিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন—
—“কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ওকে?”
ক্ৰিশ দাঁতে দাঁত চেপে বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলল।
স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।
—“আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে যাবে। এটাই স্বাভাবিক।”
—“না, যাবে না।”
সমীর সাহেবের কণ্ঠ এবার আরও কঠিন হয়ে উঠল।
—“তুমি ওকে নিয়ে কোথায় থাকবে?”
—“…”
—“তোমার থাকার মতো বাড়ি আছে?”
—“…”
—“তুমি কী কাজ করো? কী দিয়ে আমার মেয়েকে খাওয়াবে? সংসার চালাবে কীভাবে?”
একটার পর একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তিনি।
ডাইনিং রুমের পরিবেশ আরও ভারী হয়ে উঠল।
—“তোমার বাবা তো আর জেলখানা থেকে টাকা পাঠাবেন না।”
কথাটা শুনেই ক্ৰিশের মুখ পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল।
চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
চোখের ভেতর অদ্ভুত এক আগুন জ্বলে উঠল।
রুহির বুক ধকধক করতে লাগল।
সে ক্ৰিশকে চেনে।
এই মানুষটা রেগে গেলে কী করতে পারে, সে খুব ভালো করেই জানে।
ভয়ে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এল।
তার মনে হতে লাগল, ক্ৰিশ হয়তো কোনো ভয়ংকর কাজ করে বসবে।
সে আতঙ্কিত চোখে কখনো ক্ৰিশের দিকে, কখনো তার বাবার দিকে তাকাতে লাগল।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ক্ৰিশ রুহির হাত ছেড়ে দিল।
তারপর এক পা সামনে এগিয়ে সমীর সাহেবের একেবারে মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল।
ঘরে তখন পিনপতন নীরবতা।
ক্ৰিশের কণ্ঠস্বর এবার স্পষ্ট, দৃঢ় এবং অটল।
—“আমি ক্ৰিশ খান।”
সে নিজের বুকের দিকে আঙুল তুলে বলে,
—“আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি, দশ দিনের মধ্যে আমি একটা কাজ জোগাড় করব।”
—“নিজের থাকার ব্যবস্থা করব। নিজের পায়ে দাঁড়াব।”
—“তারপর আমি আমার স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে যাব।”
“সেদিন যে আমাকে আটকাবে… খোদার কসম, তার লাশ পড়বে এখানে।”
সমীর সাহেবের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পরও বেশ কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ক্ৰিশ।
চারপাশে সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
এক এক করে রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে উঠছে।
শহর তার স্বাভাবিক ছন্দে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের ভিড়, গাড়ির হর্ন, পথের কোলাহল—সবকিছুই স্বাভাবিক।
শুধু ক্ৰিশের জীবনটাই যেন একদিনে অস্বাভাবিক হয়ে গেছে।
তার দু’হাত প্যান্টের পকেটে ঢোকানো।
দৃষ্টি শূন্য।
মাথার ভেতর বারবার ঘুরে ফিরে আসছে সমীর সাহেবের কথাগুলো।
“কি কাজ করো তুমি?”
“কি দিয়ে আমার মেয়েকে খাওয়াবে?”
“তোমার থাকার জায়গা কোথায়?”
কথাগুলো যেন কাঁটার মতো বিঁধছে তার বুকের ভেতর।
রাগ হচ্ছে।
ভীষণ রাগ।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ সে কারও ওপর রাগ দেখাতে পারছে না।
কারণ কথাগুলো মিথ্যা নয়।
প্রথমবারের মতো ক্ৰিশ উপলব্ধি করল—এতদিন সে নিজের পরিচয়ে নয়, নিজের বাবার পরিচয়ে বেঁচে ছিল।
যে বাড়িটাকে নিজের মনে করত, সেটাও আর তার নেই।
যে টাকাগুলোকে নিজের ভাবত, সেগুলোর ওপরও তার কোনো অধিকার নেই।
এখন তার কাছে আছে শুধু নিজের নাম।
আর রুহিকে নিয়ে বেঁচে থাকার একগুঁয়ে ইচ্ছা।
একসময় শহরের ব্যস্ত অংশ ছেড়ে সে অপেক্ষাকৃত নির্জন এলাকায় চলে এল।
রাত ততক্ষণে গভীর হয়েছে।
হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে।
একটি ছোট পার্কের সামনে এসে থামল সে।
ভেতরে কয়েকটি পুরোনো বেঞ্চ।
দুই-একজন ভবঘুরে মানুষ ঘুমিয়ে আছে।
এক কোণে কিছু পথশিশু নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে।
ক্ৰিশ নীরবে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
জীবনে এই দৃশ্য সে অসংখ্যবার দেখেছে।
কিন্তু কখনও অনুভব করেনি।
আজ অনুভব করছে।
কারণ আজ সে নিজেও তাদেরই একজন।
ধীরে ধীরে একটি খালি বেঞ্চের দিকে এগিয়ে গেল সে।
বসে পড়ল।
মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল।
অন্ধকার আকাশে অল্প কিছু তারা দেখা যাচ্ছে।
ক্ৰিশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
হঠাৎ করেই রুহির মুখটা ভেসে উঠল তার চোখের সামনে।
অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।
— “বাটারফ্লাই…”
— “দেখিস, আমি পারব।”
রাত বাড়তে লাগল।
শীত বাড়তে লাগল।
বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে একসময় তার শরীর ব্যথা করতে শুরু করল।
মশা কামড়াচ্ছে।
ঘাড়ে যন্ত্রণা হচ্ছে।
তবু সে উঠে গেল না।
সারা জীবন আরামের মধ্যে কাটানো মানুষটা প্রথমবার কষ্টকে আলিঙ্গন করল।
ফজরের আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙল ক্ৰিশের।
ঘুম বললেও ভুল হবে।
সারারাত আধো ঘুম, আধো জাগরণে কেটেছে।
বেঞ্চ থেকে উঠে বসতেই ঘাড়ে পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভব করল সে।
কয়েকবার ঘাড় ঘুরিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করল।
তারপর পার্কের পাশের একটি পানির কলের কাছে গিয়ে মুখ ধুয়ে নিল।
বরফশীতল পানি মুখে লাগতেই শরীরটা কিছুটা সতেজ লাগল।
ক্ৰিশ নিজের প্রতিবিম্ব দেখল পানির মধ্যে।
অগোছালো চুল , ক্লান্ত চোখ, শার্টে ভাঁজ পড়ে গেছে।
তবু সে মুচকি হাসল।
আজ তার জীবনের প্রথম দিন।
নিজের পরিচয়ে বাঁচার প্রথম দিন।
সকাল গড়িয়ে দুপুর।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল।
ক্ৰিশ একের পর এক দোকান, অফিস, গ্যারেজ, রেস্টুরেন্টে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
প্রতিবার একই প্রশ্ন।
— “কোনো কাজ হবে?”
আর প্রতিবারই প্রায় একই উত্তর।
— “লোক লাগবে না।”
কোথাও তাকে ভালোভাবে কথা শুনিয়ে বের করে দেওয়া হলো।
কোথাও তাকে উপেক্ষা করা হলো।
কোথাও আবার তার দিকে ঠিকমতো তাকানোও হলো না।
দুপুরের রোদ মাথার ওপর আগুন ঢালছে।
গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
পেটে ক্ষুধা মোচড় দিচ্ছে।
সকালের পর আর কিছু খাওয়া হয়নি।
তবু ক্ৰিশ থামল না।
সে হাঁটতেই থাকল।
এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তা।
এক বাজার থেকে আরেক বাজার।
একসময় ক্লান্ত হয়ে একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে পড়ল।
দোকানদার তার দিকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন।
ক্ৰিশ কৃতজ্ঞ চোখে তাকিয়ে পানিটা খেল।
লোকটি কিছুক্ষণ তাকে পর্যবেক্ষণ করে বললেন,
— “কাজ খুঁজতেছেন?”
ক্ৰিশ মাথা নাড়ল।
— “জি।”
— “অনেকক্ষণ ধরেই দেখতেছি ঘুরতেছেন।”
— “কাজ না পেলে ঘুরতেই হবে।”
লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— “এখন কাজ পাওয়া কঠিন।”
ক্ৰিশ শূন্য দৃষ্টিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল।
লোকটি আর কিছু বললেন না। শুধু নীরবে নিজের কাজে মন দিলেন।
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখল, টাকা আছে কার্ড গুলো সব বন্ধ কারন সে গুলো শরিফুল সাহেবের একাউন্ট।
যা টাকা আছে চাইলে কিছু খেতে পারে। কিন্তু সেই টাকাও যদি পরে দরকার হয়?
মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করল সে।
পেটের ভেতর ক্ষুধা মোচড় দিয়ে উঠছে।
সকাল থেকে এক ফোঁটা খাবার তার পেটে পড়েনি।
তবুও সে নিজের ক্ষুধাকে উপেক্ষা করল।
Mad for you 2 part 18
কারণ আজ তার পেটের খিদের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের অস্তিত্বের লড়াই।
বুকভরা ক্ষুধা, মাথাভরা চিন্তা আর হৃদয়ভরা একগুঁয়েমি নিয়ে সে আবারও কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল।
হয়তো আজও কাজ পাবে না।
হয়তো রাতটাও আবার খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হবে।
তবু ক্ৰিশ থামবে না।
কারণ যে মানুষ ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের যোগ্যতায় কাছে পাওয়ার জন্য পথে নেমেছে, তার কাছে ক্ষুধা কেবল সাময়িক কষ্ট—পরাজয়ের কারণ নয়।
