রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১
মহাসিন
ভাইয়া আমার সাথে এম*ন ক*রবে*ন না! প্লি*জ ছে*ড়ে দেন আমি এখনো ছো*ট! সিয়াম শাপলার কোন কথা শুনলো না। শাপলার ঠোঁ*ট দুটো দখ*ল করে নিলো।
এর পর সিয়াম শাপলার ঠোঁ*ট ছেড়ে দিয়ে গলায় কি*স কর*তে লাগলো। শাপলার হার্টবিট বেড়ে গেল। ভয়ে লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেল। সিয়াম খা*লি গায়ে তার পরনে শুধু একটা শর্ট প্যান্ট।
শাপলা এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইল, পারল না। তেইশ বছরের সিয়ামের লোহার মতো শক্ত মুঠোয় তার কব্জিটা আটকে গেছে।
সিয়াম এক পা এগিয়ে এলো। ঠোঁটের কোণে সেই চেনা দুষ্টু হাসি— ছুরির ফলার মতো ঝলসে উঠল। গলাটা নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, “কোথায় পালাচ্ছো, শাপলা? পালিয়ে যাবে কোথায়?”
শাপলার নিঃশ্বাস আটকে এলো। সিয়ামের খালি গা থেকে ভেসে আসা পুরুষালি গন্ধটা ঘরময় ছড়িয়ে পড়েছে।
সিয়াম আরেকটু ঝুঁকে এলো। তার কালো চোখ দুটো শাপলার চোখে গেঁথে গেল। “কাছে আসো,” গলাটা ভারী, আদেশের মতো নরম, “তোমাকে মন-প্রাণ ভরে আদর করি। এই দূরত্বটা আমার সহ্য হয় না।”
শাপলার হৃৎস্পন্দন বুকের পাঁজর ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। শাপলার গলা কেঁপে উঠল, শব্দগুলো ভাঙা কাচের মতো ঝরে পড়ল, “ভাইয়া… আপনি আমার সাথে খারাপ কিছু করলে আমি কিন্তু সব আন্টিকে বলে দেব।”
সিয়াম ঠোঁটের কোণে বাঁকা দিয়ে বলল,
“মা তোর কথা বিশ্বাস করবে না?” আমি বলব তুই আমার কাছে পড়তে চাস না তাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলছিস।”
ঘরের বাতাস থমকে গেল। সিয়ামের খালি গা থেকে ভেসে আসা পুরুষালি গন্ধ, তার পরনের ঢিলে কালো শট প্যান্ট, শরীরের ঘাম— সব মিলে শাপলার নিঃশ্বাস এলোমেলো করে দিচ্ছে।
সিয়াম এক পা এগিয়ে এলো। তার ছায়া শাপলাকে ঢেকে দিল। “তার চেয়ে শোন তুই আমার হয়ে যা, শাপলা। আমি তোকে ভালোবাসায় ডুবিয়ে রাখবো! এমন সুখ দেব, যে সুখের কথা তুই কোথাও শুনিস নায়!”
শাপলার চোখ দুটো রসগোল্লার মতো বড় হয়ে গেল। বুকের ভেতর হৃৎস্পন্দনটা পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে। “না… আমি… আমি এসব চাই না,” সে কোনোমতে বলল।
সিয়াম শাপলার চিবুক ছুঁল। একটা আঙুল দিয়ে। ছোঁয়াটা বিদ্যুতের মতো। “ভালো করে দেখ আমাকে। আমি কি দেখতে খারাপ? এই চোখ, এই ঠোঁট, এই শরীর— সব তোর নামে লিখে দিতে চাই।”
সিয়াম আরও ঝুঁকে এলো। নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে। “আমি সুন্দর , সেক্সি হট, আমি রোমান্টিক— আর আমি পাগল। শুধু তোর জন্য। তোকে আমি সারারাত জেগে ভাবি। তোর একটা হাসির জন্য দুনিয়া জ্বালিয়ে দিতে পারি।”
শাপলার গাল লাল, ঠোঁট কাঁপছে। “আমি…”
“চুপ,” সিয়াম তার ঠোঁটে একটা আঙুল রাখল। “কিছু বলিস না এখন। শুধু শোন। তোকে আদরে আদরে পাগল করে দেব। যা চাইবি, পায়ের কাছে এনে দেব। রাজরানী করে রাখব। তুই শুধু একবার বল, ‘আমি তোমার’।”
তার গলার স্বরটা নেশার মতো। কথাগুলো বিষের মতো মিষ্টি। শাপলা টের পাচ্ছে, সে ডুবে যাচ্ছে। সিয়াম নামের এই অতল গহ্বরে। এটা ভয় না প্রেম, ঘৃণা না টান— সে নিজেও জানে না।
সিয়াম এবার শাপলার কপালে কপাল ঠেকাল। “বল শাপলা… আমার হয়ে যাবি? এই সিয়ামটা তোর। পুরোটাই তোর। নিবি?”
শাপলা সিয়ামকে সরিয়ে দিলো। সিয়াম বেশ বিরক্ত হলো।
“তুই এমন করিস না। তুই শুধু আমার হয়ে যা, আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তুই শুধু একবার বল আমাকে ভালোবাসিস, তাহলে আমিও দেখিয়ে দেবো তোকে কতোটা ভালোবাসি।”
শাপলা বলল, “আমি তো আপনাকে ভালোবাসি না।”
সিয়াম বলল, “তুই একবার আমার এই শরীরটা ভালো করে দেখে বল আমি কি দেখতে খারাপ।”
শাপলা মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখতে লাগলো সিয়ামের।
শরীরে শুধু একটা ছোট শর্ট প্যান্ট ছাড়া আর কিছু নেই।
চোখ দুটো গভীর কালো কুয়োর মতো।
ফর্সা গায়ের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে, আর ঠোঁট দুটো ভেজা গোলাপের পাপড়ির মতো টকটকে।
থুতনিতে একদম হালকা দাড়ির রেখা, যেন অন্ধকারে লুকানো কোনো নিষিদ্ধ আদর।
ঘামের ফোঁটা বুক বেয়ে নেমে নাভির গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে, প্রতিটা ফোঁটায় নেশা লেগে আছে।
চওড়া কাঁধ, খোদাই করা পেট, বাহুর শিরায় শিরায় জেগে আছে বুনো তেজ।
এই শরীর দেখে শাপলার নিঃশ্বাস বন্ধ আসছে, বুকের ভেতর বিদ্রোহ শুরু হচ্ছে।
শাপলা গুটি গুটি পায়ে সিয়ামের একদম কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ধীরে ধীরে সিয়ামের বুকে হাত রাখল সে। সাথে সাথে শাপলার হার্টবিট বেড়ে গেল, পুরো শরীর সিরসির করে উঠল। সিয়ামের ঘামে ভেজা পুরুষালি গন্ধটা শাপলার নাকে এসে লাগল— আর অদ্ভুতভাবে সেটা তার বেশ ভালো লাগল।
উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে শাপলা সিয়ামকে জড়িয়ে ধরল। সিয়ামও তাকে শক্ত করে বুকের মধ্যে টেনে নিল।
সিয়াম ফিসফিস করে বলল, “এবার বল, আমার হবি তুই?”
কথাটা কানে যেতেই শাপলা চমকে সরে গেল। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, “আমি কিছু বুঝতে পারছি না… আমার এখন কী করা উচিত। আমার সময় প্রয়োজন।”
এক মুহূর্ত থেমে আবার বলল, “পরে বলব,” এই বলে শাপলা দৌড়ে গিয়ে রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।
সিয়াম এবার আর শাপলাকে আটকাল না। শুধু স্থির দাঁড়িয়ে তার চলে যাওয়া দেখল।
