রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩
মহাসিন
আরিফ অনবরত বেল্ট দিয়ে নীলাঞ্জনাকে মা*রতে লাগল।
চামড়ার মোটা বেল্টটা সপাং সপাং করে আছড়ে প*ড়ছে পিঠে, বাহুতে, কোমরে, উরুতে। প্রতিটা আ*ঘাতের সাথে নীলাঞ্জনার চামড়া ফে*টে লাল দাগ বসে যাচ্ছে।
“আহ্! কী করছেন এসব? আমি কী এমন ভুল করলাম যে আমাকে এভাবে মা*রেন কেন?” ব্য*থায় কুঁকড়ে যেতে যেতে চিৎকার করল নীলাঞ্জনা।
আরিফ থামল। ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে সে। কপালের রগ দপদপ করছে, ঘাড়ের শিরা ফুলে উঠেছে। চোখ দুটো র*ক্ত জবার মতো লাল। হাতের বেল্টটা শক্ত করে ধরে নীলাঞ্জনার দিকে তে*ড়ে এসে হিং*স্র গলায় গর্জে উঠল,
_______“তুই কল রিসিভ করলি কেন? তোর সাহস কী করে হয়? তোকে কতবার বলেছি, আমার ফোনে কল এলে রিসিভ করবি না। আমার কথা কানে যায় না? তোর কান কি বয়ড়া হয়ে গেছে?”
কথা শেষ করেই নীলাঞ্জনার গালে পরপর দুটো সজোরে চ*ড় কষাল। প্রথম চ*ড়েই নীলাঞ্জনার ঠোঁট কে*টে র*ক্ত বেরিয়ে এল। দ্বিতীয় চ*ড়ের তাল সামলাতে না পেরে ছিটকে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের কো*ণায় বাড়ি খেল। কপালের পাশটা ফে*টে গলগল করে র*ক্ত বেরোতে লাগল।
আরিফ তাতেও শান্ত হলো না। মেঝেতে পড়ে যাওয়া নীলাঞ্জনার পেটে সজোরে লা*থি মা*রল।
______“উঠবি না। ওখানেই পড়ে থাক।”
নীলাঞ্জনা “মাগো” বলে আ”র্তনাদ করে দুহাতে পেট চেপে ধরে কাত হয়ে গেল। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার।
তবুও র*ক্তমাখা মুখেই উঠে বসার চেষ্টা করল নীলাঞ্জনা। আরিফের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বলল, “কেন? আপনার প্রেমিকার সম্পর্কে জেনে যাব, তাই? আপনি কেন এমন করেন? ছোট মেয়েটা মুখের দিকে তাকিয়েও আপনার মায়া হয় না? আমি কিভাবে চলে যাবো? আমি যদি চলে যাই তাহলে আমার মেয়েটার কি হবে?মেয়ে টা যে মা হাড়াবে! আমি শুধু আমার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এখানে পড়ে আছি! আর না হলে কবে চলে যেতাম!”
কথাটা শুনেই আরিফের মাথায় যেন আ*গুন ধরে গেল। এক লাফে এগিয়ে নীলাঞ্জনার চুলের মু*ঠি চেপে ধরল টেনে তুলল। টেনে-হিঁচড়ে দাঁড় করিয়ে দেয়ালের সাথে সজোরে ঠে*সে ধরল। বাঁ হাতে গ*লা চেপে ধরেছে, নীলাঞ্জনার চোখ উ*ল্টে আসছে।
___“তোকে আমার ভালো লাগে না, বুঝিস না?” দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিসিয়ে বলল আরিফ। “তুই কেন আমার জীবন থেকে চলে যাস না? আমাকে মু*ক্তি দিতে পারিস না? তোর সাথে থেকে আমি সু*খী না। তোকে আমার পছন্দ না। তোকে বিয়ে করে আমার লাইফটাই হেল হয়ে গেছে। তোকে আমি এত ক*ষ্ট দিই, এত অ*ত্যা*চার করি, তবুও কেন তুই পড়ে আছিস? নি*র্লজ্জ কোথাকার!” তুই চলে যা , আমার মেয়ে জন্য তোর চিন্তা করতে হবে না! তুই চলে গেলে আমি বিয়ে করে নিজের জন্য বউ আনবো! আমার মেয়ে মা পাবে আর আমি বউ পাবো!
বলতে বলতেই ডান হাত মুঠো করে নীলাঞ্জনার তলপেটে পরপর তিনটা ঘু*ষি মা*রল। নীলাঞ্জনার মুখ দিয়ে গো*ঙানির শব্দ বের হলো শুধু। শরীরটা নেতিয়ে পড়তে চাইছে। আরিফ চুলের মু*ঠি ছেড়ে দিতেই সে ধপ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।
আরিফ র*ক্তমাখা বেল্টটা নীলাঞ্জনার মুখের উপর ছুড়ে ফেলল। থুথু ফেলল তার গা*য়ে। তারপর আলমারি খুলে কালো একটা শার্ট বের করে গায়ে জড়াতে জড়াতে বলল,
__ “তোর এই র*ক্তমাখা চেহারাটাও দেখতে ইচ্ছে করে না। ঘে*ন্না লাগে।”
দরজাটা এমন জোরে ধাক্কা দিয়ে বেরোল যে পুরো ঘর কেঁপে উঠল।
নীলাঞ্জনা মেঝেতে প*ড়ে রইল। কপাল থেকে র*ক্ত গড়িয়ে চোখে ঢুকছে, ঠোঁট কে*টে ফুলে গেছে । পেটের ব্য*থায় নড়তে পারছে না। তলপেটটা মোচড় দিচ্ছে। দুই হাঁটু জড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।
নীলাঞ্জনার সাথে এসব প্রায়ই হয়।
আরিফ একটা মেয়েকে ভালোবাসত। কিন্তু বাবা-মায়ের জোরে নীলাঞ্জনাকে বিয়ে করতে হয়।। সেদিন থেকেই শুরু হয় অ*ত্যা*চার। মা*র, গা*লি, অবহেলা—কিছুই বাদ যায়নি।
বাড়ির সবাই ভেবেছিল, সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই ঠিক হয়নি। বরং দিন দিন বেড়েছে। এখন আরিফের বাবা-মাও আর সহ্য করতে পারছেন না। নীলাঞ্জনাকে তারা চলে যেতে বলেছেন। বলেছেন,
___“মা, তুমি মুক্তি নাও।”
নীলাঞ্জনা শুধু তার ছোট্ট মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে এই বাড়িতে পড়ে আছে। নইলে কবেই সে এই ন*রক ছেড়ে চলে যেত। কিন্তু সে যদি চলে যায়, মেয়েটার কী হবে? এই একটা প্রশ্নই তাকে শিকলের মতো বেঁধে রেখেছে। নীলাঞ্জনাও যে একটা মা মায়ের মন কি আর মানে নিজের ছোট্ট মেয়েকে রেখে চলে যেতে।
রাত হয়ে গেছে। এখন প্রায় দশটা বাজে। সবাই ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে। নীলাঞ্জনা সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে।
সায়েক আহমেদ খাবার খেতে খেতে শাপলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কিরে, তোর পড়াশোনার কী অবস্থা? ঠিকমতো পড়িস তো?”
শাপলা স্বাভাবিকভাবেই বলল, “হ্যাঁ, পড়ি তো। আমার না বাড়িতে বসে থাকতে ভালো লাগে না। স্কুল থেকে আসার পর বাসার মধ্যে থাকতে আর ভালো লাগে না।”
সায়েক আহমেদ বললেন, “ঘুরতে যেতে চাস নাকি?”
শাপলা নিচু স্বরে বলল, “হ্যাঁ, একটু ঘুরতে যেতে পারলে ভালো হতো। অনেক দিন হলো কোথাও যাওয়া হয় না।”
সায়েক আহমেদ সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কাল বিকেলে তুই শাপলাকে ঘুরতে নিয়ে যাস।”
পাশ থেকে সায়েক আহমেদ এর মেজো ছেলে নিরব আহমেদ বলে উঠল, “না, আমি শাপলাকে ঘুরতে নিয়ে যাব। অফিসের এত কাজের কারণে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। এই সুযোগে আমিও ঘুরতে পারব।”
সিয়াম বলল, “না ভাইয়া, আমি শাপলাকে ঘুরতে নিয়ে যাব।” শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল, “কিরে শাপলা, আমার সাথে ঘুরতে যাবি তো?”
শাপলা সোজাসুজি বলে দিল, “না, আমি নিরব ভাইয়ার সাথে ঘুরতে যাব।”
শাপলার মুখে এমন কথা শোনামাত্রই সিয়াম শাপলার দিকে র*ক্তচক্ষু তাকাল। কিছু বলতে পারল না।
নীলাঞ্জনার শাশুড়ি মহুয়ার চোখ নীলাঞ্জনার কে*টে যাওয়া কপালে পড়ল।
“বউমা, তোমার কপাল কা*টল কীভাবে?”
নীলাঞ্জনা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। আমতা আমতা করে বলতে লাগল, “হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে কে*টে গেছে।”
মহুয়া খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন যে নীলাঞ্জনা মিথ্যা কথা বলছে। আরিফ তাকে মে*রেই এমন করেছ।
শাপলা খাবার খাচ্ছে, এমন সময় ডাইনিং টেবিলের নিচ থেকে সিয়াম বারবার তার শরীরে পা দিচ্ছে। ভয়ে শাপলার বুক ধুক করে উঠল। সে বুঝতে পারল, সিয়াম ইচ্ছে করেই ওর শরীরে পা দিচ্ছে। শাপলা তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে নিজের রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর সিয়ামও চলে গেল।
নিরব নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বলল, “ভাবি, ভাইয়া এখনো আসেনি?”
নীলাঞ্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “না।”
এরপর সকলে খাবার খেয়ে নিজেদের রুমে চলে গেল।
বিছানার নরম চাদরে উপর বসে আছে শাপলা। জানালা গলে আসা মৃদু বাতাসে তার খোলা চুল উড়ছে। মনের কোণে শুধু একটাই নাম—সিয়াম। তার বলা প্রতিটি কথা, প্রতিটি চাহনি শাপলার ভাবনার আকাশে ঘুরপাক খাচ্ছে বারবার।
সে কি সত্যিই সিয়ামের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলবে?
হঠাৎ চোখের পাতায় ভেসে উঠল সিয়ামের সেই ছবি—অর্ধন*গ্ন, পৌরুষদী*প্ত অবয়ব। অজান্তেই শিউরে উঠল শাপলার শরীর। এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল শিরদাঁড়া বেয়ে। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল লাজুক, অবাধ্য এক চিলতে হাসি।
সিয়াম যে তার ঠোঁটে গভীর এক চু*মু এঁকেছিল—সেই মুহূর্তটা মনে পড়তেই গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। নিজের মনেই লজ্জা পেয়ে বিড়বিড় করে উঠল শাপলা,
“যাহ্! কী সব ভাবছি আমি!”
শাপলার মনে হলো, সিয়ামের গায়ের সেই তীব্র পুরু*ষালি ঘ্রাণ এখনো তার নিঃশ্বাসে মিশে আছে। কানের কাছে এখনো প্রতিধ্বনি তুলছে সিয়ামের গম্ভীর, ভারী কণ্ঠস্বর। প্রতিটি শব্দ যেন তার র*ক্তে ঢেউ তুলছে।
অস্থির লাগছে ভীষণ। শাপলা আর বিছানায় বসে থাকতে পারল না। ধীরে ধীরে উঠে গিয়ে জানালা কাছে দাঁড়ালো, সাথে সাথে জ্যোৎস্না এসে ভিজিয়ে দিল তাকে।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে উদাস গলায় ফিসফিস করে উঠল, “সিয়াম ভাইয়া… আপনাকে নিয়ে কেন এত ভাবছি আমি? আপনাকে চোখের সামনে দেখলেই বুকের ভেতরটা এমন মাতাল মাতাল লাগে কেন? আগে তো এমন হতো না… আগে তো আপনার ছায়া দেখলেও এতটা অস্থির লাগত না।”
হঠাৎ পেছন থেকে কাঁধে একটা শক্ত হাতের স্পর্শ। শাপলা চমকে উঠল। ভ*য়ে চিৎকার করে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই সিয়াম তার অন্য হাতে চে*পে ধরল শাপলার মুখ।
কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, “চুপ… একদম চুপ। চিৎকার করছিস কেন? আমি তোর সিয়াম ভাইয়া। একা একা কী কথা বলছিলি?”
দম বন্ধ হয়ে আসছিল শাপলার। সিয়ামের পুরুষালি হাতের চাপে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। কোনোমতে হাতটা সরিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
“উফ বাবা! আর একটু হলেই তো দম আটকে ম*রে যেতাম। এভাবে কেউ মুখ চে*পে ধরে?”
সিয়ামের ঠোঁটে খেলে গেল চেনা সেই বাঁকা হাসি। চোখে দুষ্টুমির ঝিলিক তুলে বলল, “মুখ চেপে ধরব না তো কী চেপে ধরব? তুই বল কী চেপে ধরতে হবে,কী চেপে ধরলে তুই খুশি হবি , সুখ পাবি আমি তা চেপে ধরব।”
কথাটা শুনেই লজ্জায় রাঙা হয়ে গেল শাপলা। ঠোঁট কামড়ে ধরে কোনোমতে জিজ্ঞেস করল, “আপনি… আপনি এত রাতে আমার রুমে কেন এসেছেন?”
সিয়ামের চোখে গভীর নে*শা, ঠোঁটে দুষ্টু হাসি। গলার স্বর নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তোকে নিজের করে নিতে এসেছি! আজ তোকে নিজের করে নেব! এবার আর আমাকে আটকাতে পারবি না! আজ রাতে তুই আমার এই সে*ক্সি হ*ট শরী*রে মিশে যাবি!”
শাপলার বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করে উঠল। লজ্জায়, উ*ত্তে*জনায় সারা শরীরে শিরশির করে বয়ে গেল অচেনা শিহরণ। কাঁপা ঠোঁটে সে বলল, “কীভাবে… আমাকে আপনার করে নেবেন?”
সিয়াম একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল শাপলার চোখে। তার দৃষ্টিতে আ*গুন, ঠোঁটে রহস্য। ফিসফিস করে বলল, “দেখতে চাস? কীভাবে তোকে নিজের করে নিই?”
শাপলা একবার তাকাল সিয়ামের পুরুষালী দেহের দিকে। লজ্জা আর নিষিদ্ধ আকা*ঙ্ক্ষায় ঠোঁট কামড়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,
“হ্যাঁ… দেখতে চাই।”
সিয়ামের চোখে জ্বলে উঠল শিকারির আ*গুন। ঠোঁটে খেলে গেল বাঁকা হাসি। গলার স্বর নামিয়ে, প্রায় গর্জনের মতো আওড়াল,
“সইতে পারবি তো?”
কথাটা শেষ হতেই বিদ্যুতের মতো ঝটকা। এক টানে শাপলার হাত ধরে নিজের দিকে টেনে নিল সিয়াম। এক পাক ঘুরিয়েই তাকে আছড়ে ফেলল নিজের বুকের খাঁচায়। লোহার মতো শক্ত বাহুতে পিষে ধরল তাকে—যেন পালাবার সব পথ বন্ধ।
শাপলার হৃৎপিণ্ডটা পাগলের মতো লাফাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এই বুঝি পাঁজর ভে*ঙে বেরিয়ে আসবে।
সিয়াম ঝুঁকে এলো। তার দৃষ্টি ক্ষুধার্ত বাঘের মতো আটকে আছে শাপলার গোলাপি ঠোঁটে। শাপলার ঠোঁট থরথর করে কাঁপছে। গাল দুটো লাল কাঠগোলাপের পাপড়ির মতো টকটকে লাল, র*ক্ত জমে আছে সেখানে।
সিয়াম ধীরে ধীরে নিজের মুখ নামিয়ে আনছে। এত কাছে যে তার গরম, এলোমেলো নিঃশ্বাসের ঝাপটা আছড়ে পড়ছে শাপলার সারা মুখে। শাপলা নড়তে পারছে না, কাঁপতেও পারছে না। সিয়ামের বাহুর শেকলে বন্দি সে। শুধু চোখ দুটো বন্ধ করে অপেক্ষা করছে সর্ব*নাশের।
ঠিক যখন তাদের ঠোঁট ছুঁই ছুঁই, এক চুল ফাঁক—সিয়াম থেমে গেল। ছেড়ে দিল শাপলাকে।
হঠাৎ মুক্তি পেয়ে শাপলা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। বুক ভরে ঘন ঘন শ্বাস টানছে, যেন এতক্ষণ পানির নিচে ডু*বে ছিল।
সিয়াম তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। সেই হাসিতে আদর আর শিকারের নেশা। ফিসফিস করে বলল, “এত তাড়াতাড়ি না, শাপলা। এই তৃষ্ণা… এই কা*মনা আমি জমিয়ে রাখব। অন্ধকারে, গোপনে। একদিন… একদিন সব সুদে-আসলে উসুল করে নেব। তখন পালাবার পথ পাবি না।”
শাপলার গলা শুকিয়ে কাঠ। কোনোমতে কাঁপা গলায় বলল, “আপনি… আপনি এখন আমার রুম থেকে যান। আমি ঘুমাব।”
সিয়াম একটাও কথা বলল না। পিঠ ঘুরিয়ে ধীর পায়ে দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত গেল। শাপলা ভাবল, চলে গেছে।
কিন্তু না।
হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াল সিয়াম। শিকারির মতো নিঃশব্দে ফিরে এলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শাপলার গালে ঠোঁ*ট ছোঁয়াল—গভীর, অধিকারমাখা এক চু*মু। কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করল, “গুড নাইট, আমার ভবিষ্যৎ পিচ্চি বউ! রেডি থেকো, তোমার সাথে এমন রো*মান্স করবো পা*গল হয়ে যাবে! সব সময় আমার সাথে রো*মান্স করতে চাইবে!”
এই বলে চলে গেল।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২
শাপলা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ভেতরটা তোলপাড়। সিয়ামের এই হিং*স্র আদরে সে হতভম্ব, ভীত, আবার অদ্ভুত এক নিষিদ্ধ সুখে কাঁপছে। ভালো লাগছে—ভীষণ, অন্য রকম ভালো লাগছে।
কাঁপা হাতে দরজায় খিল দিল। জানালার পর্দা টেনে দিল, যেন বাইরের চাঁদটাও তার এই গোপন উন্মাদনা দেখে না ফেলে। তারপর ধীরে ধীরে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। এর পর ঘুমিয়ে পরলো।
