Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৪

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৪

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৪
মহাসিন

সিয়াম গুটিগুটি পায়ে হেঁটে শাপলার ঘরে প্রবেশ করল। ঘরের ভেতরটা হালকা আবছা আলোয় ভরা। শাপলা বিছানার একপাশে মুখ গোমড়া করে বসে আছে। সিয়ামকে দেখামাত্রই সে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল।
সিয়াম নিঃশব্দে তার পাশে এসে বসল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নরম গলায় শুধালো,
“কিরে, আমাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিলি কেন?”
শাপলা কোনো উত্তর দিল না। তার ঠোঁট শক্ত করে চেপে রইল।
সিয়াম আবার শাপলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী হইছে? কিছু তো বল।”
এবারও নীরবতা। শাপলা যেন পাথর হয়ে গেছে। সিয়াম আর কথা না বাড়িয়ে তার দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারপর আচমকা শাপলার ঠোঁটে একটা গভীর চুমু খেয়ে বসল।
শাপলা যেন বজ্রাহ*ত হলো। তার শরীরটা এক ঝটকায় শক্ত হয়ে উঠল। পরক্ষণেই সে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল এবং জানালার কাছে চলে গেল। ঘুরে দাঁড়িয়ে রাগে কাঁপা গলায় বলল,
“এত রাতে একটা মেয়ের ঘরে কেন এসেছেন, হ্যাঁ?!”

সিয়ামও ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে তার দিকে এগিয়ে গেল। শাপলার চোখের গভীরে তাকিয়ে, শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“আমি আমার বউয়ের ঘরে এসেছি।”
শাপলা রাগে গজগজ করতে করতে বলে উঠল,
“আমি আপনার কচুর বউ ! আমাকে কি বিয়ে করেছেন যে নিজের বউ বলে দাবি করছেন?”
শাপলার গলার স্বরে রাগের সঙ্গে একটা অভিমানও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঘরের মাঝে দুজনের মধ্যে এখন শুধু অস্পষ্ট আবেগের ঘনঘটা।
সিয়াম শাপলার চোখে চোখ রেখে শান্ত গলায় বলল,
“ও তাই। তুই যদি চাস, তাহলে এখনই তোকে আমি বিয়ে করবো।”
শাপলা অবাক হয়ে তাকাল। “সত্যি? এখনই বিয়ে করতে পারবেন?”
“তুই শুধু একবার ‘হ্যাঁ’ বল।” সিয়ামের কণ্ঠে দৃঢ়তা।
শাপলা একটু ইতস্তত করে বলল, “কিন্তু আপনার পরিবার…”
সিয়াম তার কথা কেটে দিয়ে বলল, “আমার পরিবার তোকে মানুক আর না-ই মানুক, আমি তোকে বিয়ে করবই। আমার জীবনটা তোর সঙ্গেই কাটাব।”
একটু থেমে সিয়াম আবার নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, “আগে এটা বল— তুই কি আমাকে ভালোবাসিস?”
শাপলা একদম চুপ হয়ে গেল। তার চোখ নামিয়ে নিল।
সিয়াম তার চিবুকটা আলতো করে তুলে ধরে বলল,
“কী হলো? বল আমাকে ভালোবাসিস কি না।”
শাপলা এক নিঃশ্বাসে বলে উঠল,
“আমি আপনাকে ভালোবাসি… ভালোবাসি… ভালোবাসি!”

কথা শেষ করেই সে সিয়ামকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তার হাত দুটো সিয়ামের পিঠের উপর আঁকড়ে রইল যেন ছেড়ে দিতে চায় না। সিয়াম খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল। সেও শাপলাকে দু’হাতে জাপটে ধরল। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ভালোবাসা সবটুকু যেন এই আলিঙ্গনে মিশে গেল।
অবশেষে সিয়াম তার শাপলার মুখ থেকে শুনতে পেল সেই কথা, যা তার বুকের ভেতর আজ অনেক দিন ধরে শুনতে চেয়েছিল।
শাপলার চোখে পানি চিকচিক করছে। সে মনে মনে বলতে লাগলো,’যদি সিয়াম ভাইয়াকে হারিয়ে ফেলি? যদি জেরিন তাকে কেড়ে নেয়?
আমি আপনাকে হারাতে পারব না। আমি আপনাকে বিয়ে করব, যাতে কেউ আপনাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে না পারে।’
কিছুক্ষণ পর শাপলা ধীরে ধীরে সিয়ামকে ছেড়ে দিল। তার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি কি আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসেন?”
সিয়াম তার গালে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, “তোকে সত্যি অনেক অনেক ভালোবাসি। তোর জন্য আমি সবকিছু করতে রাজি। যা চাইবি, তাই হবে।”
শাপলা একটু ইতস্তত করে বলল, “আমি যা বলব, তাই করবেন তো?”
“একবার বলেই দেখ।”
শাপলা গভীর শ্বাস নিয়ে বলল, “এখন আমাকে বিয়ে করতে হবে। পারবেন?”
সিয়াম হেসে বলল, “হ্যাঁ, পারব। তুই যা চাস, তাই হবে।”
শাপলা আরও গম্ভীর হয়ে বলল, “কিন্তু দুটো শর্ত। প্রথমত, এই বাড়িতে কেউ যেন এখনই না জানে। এত তাড়াতাড়ি সবাইকে বলা যাবে না। আর দ্বিতীয়ত…”
সে একটু থেমে সিয়ামের চোখের দিকে তাকাল, “বিয়ের পরও আপনি আমার সাথে শা*রী*রি*ক স*ম্প*র্ক স্থা*প*ন করতে পারবেন না। আমি যখন বলব, ঠিক তখনই। তার আগে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।”

ঘরের ভেতর নীরবতা নেমে এল। শাপলার চোখে ছিল দৃঢ়তা আর অস্পষ্ট ভয়ের মিশ্রণ। সিয়াম তাকিয়ে রইল তার দিকে— ভালোবাসায়, বোঝাপড়ায়।
সিয়াম শাপলার কাঁধে আলতো করে হাত রেখে নরম স্বরে বলল, “আমি তোর শর্তে রাজি । তুই যা চাইবি, তাই হবে। একটু অপেক্ষা কর, আমি আমার ঘর থেকে আসছি।”
একথা বলে সিয়াম ধীর পায়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। যেতে যেতে তার মনে মনে কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে—
‘আমি জানি শাপলা, তুই আমাকে এখন বিয়ে করতে চাইছিস কেন। জেরিন যাতে তোর কাছ থেকে আমাকে কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্যই। আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি। তোর জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। তুই যা চাইবি, আমি তাই করব। এবার তোকে বিয়ে করে সারাজীবনের জন্য নিজের জীবনে অবরুদ্ধ করে রাখব।’

সিয়াম বিড়বিড় করতে করতে নিজের ঘরে ঢুকে গেল।
শাপলা জানালার কাছে গিয়ে পাল্লা দুটো খুলে দিল। বাইরে থেকে চাঁদের নরম আলো এসে পড়ল তার মুখে। রাতের হাওয়া হালকা করে বয়ে যাচ্ছে। শাপলা চাঁদের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলতে লাগল,
“আমার কাছ থেকে সিয়াম ভাইয়াকে আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। এবার সে সারাজীবনের জন্য আমারই হয়ে যাবে। কেউ আর আমাদের মাঝে ঢুকতে পারবে না। সিয়াম ভাইয়া শুধু আমার একান্তই আমার।”
চাঁদের আলোয় তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। ভালোবাসা, অধিকারবোধ আর অস্পষ্ট একটা ভয় মিশে ছিল সেই দৃষ্টিতে। রাত এখন নিঃশব্দে গভীর হচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর সিয়াম আবার ফিরে এল শাপলার ঘরে।

শাপলা ঘুরে তাকাতেই সিয়াম তার দিকে ধীর ধীরে এগিয়ে এসে তার হাত শক্ত করে ধরে উত্তেজিত গলায় বলল,
“চল এবার। তোকে বিয়ে করে সারাজীবনের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখব।”
শাপলা একটু চিন্তিত হয়ে বলল,
“কিন্তু… আমার তো এখনও আ*ঠা*রো ব*ছ*র হয়নি। সবে ষো*লো। কীভাবে সম্ভব?”
সিয়াম তার হাতটা আরও জোরে চেপে ধরে আশ্বস্ত করল,
“তোকে এসব নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। টাকা থাকলে সবকিছু সম্ভব। টাকা দিয়ে সব হয়।”
শাপলা আর কথা বাড়াল না। সিয়ামের হাত ধরে দুজনে পা টিপে টিপে ড্রয়িং রুম পেরিয়ে গেল। অত্যন্ত সাবধানে সদর দরজা খুলে তারা রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ল— বিয়ের উদ্দেশ্যে।

দুই ঘণ্টা পর।
সিয়াম ও শাপলা তাদের বিয়ে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে ফেলেছে। সিয়াম তার চারজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। গোপনীয়তা বজায় রেখে, দ্রুত বিয়ে শেষ করে ।
বিয়ের পর দুজনে আবার চুপিসারে বাড়িতে ফিরে এল। পা টিপে টিপে ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই হঠাৎ পানি খেতে আসা কবিতার পায়ের শব্দ শুনে তারা তড়িঘড়ি সোফার আড়ালে লুকিয়ে পড়ল।
কবিতা কিছু একটা শব্দ শুনে তাড়াতাড়ি লাইট ওয়ান করে দিল। চারদিকে সন্দেহভরা চোখে তাকাতে লাগল। হঠাৎ তার নজর পড়ল সদর দরজার দিকে— দরজা খোলা!
“একি! সদর দরজা খোলা কেন? বাড়িতে চোর-টোর ঢুকল নাকি?” কবিতা উদ্বিগ্ন গলায় বলে উঠল।
কবিতা এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। সিয়াম ও শাপলা দম বন্ধ করে একে অপরের সঙ্গে জড়সড় হয়ে সোফার আড়াল থেকে দেখছে। তাদের বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন যেন বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ।
কবিতা কিছুক্ষণ তন্নতন্ন করে খুঁজে কাউকে না পেয়ে অবশেষে পানি খেয়ে সদর দরজা ভালো করে আটকে দিল। লাইট অফ করে সে আবার নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
শাপলা ও সিয়াম সোফার আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। দুজনেই স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলল। বুকের ভেতর এখনও হৃদস্পন্দন দ্রুত চলছে।
এরপর দুজনে চুপিসারে শাপলার ঘরের দিকে চলে গেল। শাপলা দরজা বন্ধ করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই পেছনে সিয়ামকে দেখে চমকে উঠল।

“একি! আপনি আবার এখানে কেন? আপনার ঘরে যান।”
সিয়াম ফিসফিস করে, চোখে চাপা হাসি নিয়ে বলল, “তোকে বিয়ে করলাম, এবার তো বা*স*র করতে হবে। তাই চলে এলাম। আজ রাতটা আমাদের দুজনের।”
শাপলা কঠিন গলায় বলল, “বিয়ের আগে কী বলেছিলাম, মনে আছে তো?”
সিয়াম এক পা এগিয়ে এসে নরম করে বলল, “সব মনে আছে। কিন্তু এখন খুব ইচ্ছে করছে তোর সাথে…”
“আজেবাজে কথা বলবেন না,” শাপলা রেগে উঠে বলল, “যান তো এখান থেকে।”
সিয়াম আর কথা বাড়াল না। আচমকা এক পা এগিয়ে শাপলার ঠোঁটে একটা গভীর, উষ্ণ চু*মু খেয়ে দ্রুত দৌড়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
শাপলা কোনোমতে দরজা বন্ধ করে দিল। দরজায় গা এলিয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। সিয়ামের চু*মুর অনুভূতি এখনও তার ঠোঁটে জ্বলজ্বল করছে। গালে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ছে।
কিছুক্ষণ পর সে দৌড়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে একা একা বলতে লাগল,
“সিয়াম ভাইয়াকে বিয়ে করে কি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলাম? না… আমি ঠিকই করেছি। যদি জেরিন তাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিত, তাহলে তো আমি একদম শেষ হয়ে যেতাম। এবার আর কেউ সিয়াম ভাইয়াকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। সিয়াম ভাইয়া শুধু আমার— একান্তই আমার।”

আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে শাপলার ঠোঁটে একটা দৃঢ়, অধিকারী হাসি ফুটে উঠল। শাপলার হৃদয়ে এখন ভালোবাসা আর অধিকারবোধের এক অদ্ভুত মিশ্রণ বইছে।
শাপলা গুটিগুটি পায়ে হেঁটে জানালার কাছে গেল। বাইরে আকাশে ঝকঝকে চাঁদ। সে অনেকক্ষণ ধরে চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইল। মৃদু হাওয়ায় তার চুল উড়ছে। ফিসফিস করে বলল,
“কী সুন্দর চাঁদ…”
চাঁদ দেখা শেষে সে আবার গুটিগুটি পায়ে বিছানায় ফিরে এল। গা এলিয়ে দিতেই চোখ বুজল। চোখের পাতায় ভেসে উঠল সিয়ামের মুখ। তার ঠোঁটের কোণে একটা অপার্থিব হাসি ফুটে উঠল। ধীরে ধীরে সে ঘুমের গভীর রাজ্যে হারিয়ে গেল।
রাত ধীরে ধীরে শেষ হয়ে এল। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আহমেদ বিলার ফুল বাগানে পাখির কিচিরমিচির শুরু হয়ে গেল। গাছে গাছে রঙিন ফুল ফুটেছে। সকালের মৃদুমন্দ বাতাস ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছিল চারদিকে।
নীলাঞ্জনা বাগানে এসে চারদিকে তাকিয়ে খুঁজছে তার মেয়েকে।
“আলো! আলো কোথায় লুকিয়েছিস? বেরিয়ে আয় বলছি!”

ছোট্ট আলো গাছের আড়ালে লুকিয়ে মায়ের কথা শুনছে না। নীলাঞ্জনা বারবার নিষেধ করেছে গাছ থেকে ফুল ছিঁড়তে, কিন্তু আলোর সে কথা পাত্তা দেয় না ।
নীলাঞ্জনা বিরক্ত হয়ে বলল, “ধ্যাত! এই মেয়েটা আজ আমার মাথা খেয়ে ছাড়বে। আলো! বেরিয়ে আয়!”
হঠাৎ পেছন থেকে আলো দৌড়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরল। “মা ভয় পেয়েছে! এ হে হে… মা ভয় পেয়েছে!”
নীলাঞ্জনা আঁতকে উঠে বলল, “আহ! ফাজিল মেয়ে একটা! আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দে না। তোকে না বলেছি গাছ থেকে ফুল ছিঁড়বি না! গাছের ফুল গাছেই সুন্দর। চল, ঘরে চল।”
বলতে বলতে নীলাঞ্জনা মেয়ের হাত ধরে বাগান থেকে ঘরের দিকে নিয়ে গেল।
ড্রয়িং রুম পেরিয়ে তারা ডাইনিং টেবিলের কাছে চলে এল। নিরব চুপচাপ বসে খাবার খাচ্ছে। টেবিলে কবিতা, জেরিন ও সিয়ামও উপস্থিত। সবাই খাবার খাওয়া মগ্ন।

নীলাঞ্জনা নিরবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “মা-বাবা চলে গেছেন?”
নিরব মাথা নেড়ে বললেন, “হ্যাঁ, অনেকক্ষণ আগেই চলে গেছেন।”
আলো জিজ্ঞেস করল, “বাবা কোথায়?”
নিরব হেসে বলল, “ভাইয়াও অফিসে চলে গেছে।”
এর পর সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে ড্রয়িংরুমে এসে জড়ো হলো সবাই। নিরব অফিসের তাড়ায় আগেই বেরিয়ে গেছে।
সোফায় গা এলিয়ে বসে কবিতা আড়চোখে তাকাল নীলাঞ্জনার দিকে।
“ভাবি, আজকে একটু কেনা কাটা করতে হবে। যাবে নাকি আমার সাথে?”
নীলাঞ্জনা চুলে আঙুল চালাতে চালাতে বলল, “যাব তো। আমারও কিছু জিনিস লাগবে। কিন্তু সমস্যা হলো গাড়ি চালাবে কে?”
কথাটা শুনেই কবিতার চোখ গেল সিয়ামের দিকে। সে তখন মোবাইলে মগ্ন।
“এই ভাই, তুই চল না আমাদের সাথে। নাহলে গাড়ি চালাবে কে শুনি?”
সিয়াম চোখ না তুলেই সোজা না করে দিলো,
“না, আমি পারব না।”
নীলাঞ্জনা এবার একটু নরম গলায় বলল, “এমন করো কেন? চলো না আমাদের সাথে। ঘুরেও আসা হবে।”

অনেক জোরাজুরি, মান-অভিমানের পর অবশেষে সিয়াম রাজি হলো।
“ঠিক আছে, যাচ্ছি। কিন্তু বেশি ঘোরাবে না বলে দিলাম।”
নীলাঞ্জনা খুশি হয়ে উঠে দাঁড়াল।
“আমি দেখে আসি শাপলা যাবে কি না।”
এই বলে সে ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে গেল। শাপলার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজায় টোকা দিল।
“শাপলা! দরজা খোলো।”
ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। ঘুমে কাদা শাপলা। নীলাঞ্জনা এবার গলা চড়িয়ে ডাকল,
“শাপলা, এই শাপলা! আর কত ঘুমাবে? উঠো এবার।”
ঘুম জড়ানো গলায় শাপলা ভেতর থেকে বলল,

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৩

“উফ! ভালো লাগছে না। আমি আরেকটু ঘুমাবো।”
নীলাঞ্জনা হেসে বলল, “আমরা সবাই মিলে শপিং করতে যাচ্ছি। তুমি যাবে?”
“না, যাব না। তোমরা যাও,” শাপলা গড়িমসি করে বলল।
নীলাঞ্জনা আর কথা না বাড়িয়ে বলল, “ঠিক আছে। আমরা তাহলে যাচ্ছি। খাবার ঢাকা আছে, ঘুম থেকে উঠে খেয়ে নিও।”
নিচে নেমে এসে সে বলল, “শাপলা যাবে না। চলো আমরা বের হই।”
এর পর সবাই চলে গেল। বাড়িতে শুধু শাপলা একা একদম একা।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here