Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৯৬

দাহশয্যা পর্ব ৯৬

দাহশয্যা পর্ব ৯৬
Raiha Zubair Ripti

সোলেমানের ডিভোর্স পেপারে চোখ বোলানো শেষ হতেই সাথে সাথে কয়েক টুকরোয় তা ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দিলো। কতবড় সাহস ঐ পিচ্চি মেয়ের,সোলেমান কে ডিভোর্স পেপার পাঠায়! পিটানি খাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে বুঝি? দিবে না ডিভোর্স। জীবনেও দিবে না। মৃত্যুর আগে পরে কোনো কালেই সে মেহরিন কে ডিভোর্স দিবে না। মেহরিন যা করার করে নিক। পকেট থেকে ফোন বের মেহরিনের খোঁজ নিলো সোলেমান। ভুঁইয়া বাড়ির চারিপাশে সে লোক লাগিয়ে রেখেছে। ফোন করেই জানতে পারলো আগামীকাল
মেহরিন ঢাকা যাচ্ছে তার বাবার সাথে। একসপ্তাহ পর তার এইচএসসি এক্সাম।
সোলেমান কপাল স্লাইড করলো বৃদ্ধা আর তর্জনী আঙুল দিয়ে। মেয়েটা ঠিকমতো পড়াশোনা করছে তো? কোভিডের কারনে মেহরিন দের শর্ট সিলেবাসে কেবল গ্রুপের সাবজেক্ট গুলোর এক্সাম হবে। বাকি গুলো এসএসসি থেকে টেনে নিবে। সোলেমান ফোন কে’টে বেলকনিতে আসলো। কতগুলো দিন হলো ল্যাদা বউকে সে দেখে না। পাষাণ মেয়ে থাকছে কি করে তাকে না দেখে! সোলেমান লাইটার টা দিয়ে পকেট থেকে বের করে আনা সিগারেট টা ধরালো। চেয়ারে বসে সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া গুলো আকাশের দিকে ছেড়ে দিয়ে গলা ছেড়ে গাইলো…

~ জীবনের ঐ পাড়ে যদি,আরেক জনম থাকে….
সাধের জনম বন্দক দিয়া,পাই যেন তোমারে।
আমি জনম জনম আমার সুরে তোমারি গান গাই,
আমি যে তোমার হইয়াছি,এই ভেবে সুখ পাই।
ঠুনকো জীবন স্বপ্ন যেমন,গড়া সুখে দুঃখে,
কি পাইলাম না এই ভেবে বুক,ভরবো না আর শোকে।
আমি কেবল কি পাইলাম হিসাব রাখতে চাই,তার..
আমি যে তোমার হইয়াছি,এই ভেবে সুখ পাই!!!
রাত এখন একটা বাজে। মেহরিনের হাতে তার বাবার দেওয়া বাটন ফোন। সোলেমানের দেওয়া সেই আইফোন টা মেহরিন চালায় না। বন্ধ করে ফেলে রেখেছে। নতুন সিম কিনে দিয়েছে মোতালেব ভুঁইয়া। ঐ ফোনে সোলেমান একটু পরপর ফোন দিত। এই নতুন ফোনে নতুন নম্বর। সোলেমান যেন তাকে বিরক্ত করতে না পারে সেজন্য। দশটার দিকে ব্যাগপত্র গুছিয়ে দিয়েছে সানজিদা বেগম। ভোরে রওনা দিবে তারা। মেহরিনের চোখ মুখে আর দিনগুলোর মতো উচ্ছ্বাস নেই। তার চোখ মুখে কালো মেঘেরা এসে বসে আছে। ঐ বিষাক্ত শহরে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। তারপরও মনের বিরুদ্ধে তাকে যেতেই হবে। ঢাকা শহর মূলত কাউকে কিছু দেয় না। কেবল কেঁড়ে নেয়। সুখ,মানুষ,টাকা.. সব।

আকাশে আজ বিশাল চাঁদ। ঢাকায় গিয়েই তাকে রাজউক কলেজে যেতে হবে এডমিট আর রেজি কার্ড সংগ্রহ করতে। কোনো কিছু সংগ্রহ করে নি সে।
বেলকনির এই নীরব শূন্যতার মাঝে মেহরিন হুহু করে কান্না করে দিলো। দিনে নিজেকে যতই শক্ত দেখাক,রাত হলেই মেহরিন গলে যায়। তার সংসার, তার পাপিষ্ঠ স্বামী তার সন্তান সবার কথা মনে পড়ে। কি এমন হতো তার স্বামী সন্তান নিয়ে একটা সুখের সংসার হলে? কারো কি কোনো ক্ষতি হতো? কার ক্ষতি হতো? মেহরিন কে বলতো। মেহরিন না হয় ক্ষতিপূরণ দিত। তারপরও তার সংসারটা হতো। কিন্তু নাহ! জীবন সেই অপশন রাখে নি তার কাছে। এমন ভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো যে মেহরিনের মন বিষিয়ে গেলো সেই সংসার,সেই মানুষটার প্রতি। আসল ভাগ্যবতী বোধহয় ঊর্মি তাই না? বাপ মরার পর থেকে অভাব অনটনে জীবনযাপন করলেও বিয়ের পর কি সুখী! অথচ মেহরিন জীবন যেন ঊর্মির জীবনেরই বিপরীত স্বত্বা। কেউ বিয়ে হয়ে সুখী হলো আর কেউ বিয়ে করে অসুখী হলো।
তিনটে বাজতেই মেহরিন রুমে আসলো। একটু চোখ বুজতেই কানে ফজরের আজান ভেসে আসলো। তাকিয়ে দেখলো ৪টার বেশি বাজে। ওজু করে ফজরের নামাজ আদায় করতেই মোতালেব ভুঁইয়া আসলেন। মেয়েকে একেবারে রেডি হয়ে বের হতে বললেন। খাওয়াদাওয়া করেই বের হবে।
বাতাসিও যাবে ঢাকা। মেহরিনের সাথে থাকবে তেহরান দের বাড়ি। তারপর একটা চাকরি খোঁজ করে পাওয়া মাত্রই চলে যাবে।

মেহরিন বাতাসি দু’জনই রেডি হয়ে খাবার খেয়ে মোতালেব ভুঁইয়ার সাথে বের হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে। দুপুরের পরপর এসে পৌঁছাল ঢাকায়। তানজিলা বেগম অনেক কিছু রান্না করেছে তাদের জন্য। তানভীর তো অনেক খুশি। ভাই চলে যাওয়ার পর ছেলেটা একদম একা হয়ে গিয়েছিল। মেহরিন আসায় অন্তত কথা বলার মতো কাউকে পেলো বাড়িতে। খাওয়াদাওয়া করে রেস্ট নিয়ে বিকেল বিকেল রাজউক কলেজে গেলো বাবার সাথে রেজি আর এডমিট কার্ড আনতে।
কলেজে ঢুকতেই মেহরিনের খুব অস্বস্তি হতে লাগলো। মনে হলো আশেপাশে তার কেউ আছে। কারো অস্তিত্ব অনুভব করছে। দুরুদুরু বুকে অফিস রুমে ঢুকতেই দেখা হলো বায়োলজির টিচার নওয়াজ সোলেমান সুলতানের সাথে। মেহরিনের একবার নজরে আসতেই দ্বিতীয় বার আর তাকালো না ভুল করেও। মোতালেব ভুঁইয়া এই ছেলেকে এখানে দেখে রেগে গেলে মেহরিন হাত ধরে শান্ত করে বলল,,
“ উনি এই কলেজের টিচার আব্বু। আমরা যেই কাজে এসেছি সেটা করি? ”
অফিসের পিওনের কাছ থেকে নাম ক্লাস রোল বলে রেজি কার্ড আর এডমিট কার্ড টা সংগ্রহ করলো। সংগ্রহ করা শেষে বাড়ির পথে হাঁটা ধরলে সোলেমান এসে তার সামনে দাঁড়ায়। মোতালেব ভুঁইয়া হঠাৎ করে তাদের পথ আটকাতে দেখে রাগী গলায় বলল,
“ কোন ধরণের অভদ্রতা এটা? রাস্তা আটকালে কেনো আমাদের? ”
সোলেমান তার সাইড দেখিয়ে বলল,
“ আমি তো আপনার রাস্তা আটকাই নি শ্বশুর মশাই। আপনি যেতে পারেন। আমি কেবল আপনার মেয়ের রাস্তা আটকিয়েছি। ”

শ্বশুর মশাই ডাক শুনে তিনি অত্যাধিক রেগে গেলেন।
“ খবরদার শ্বশুর মশাই ডাকবে না। তোমাকে ডিভোর্স পেপার পাঠানো হয়েছে না? সাইন করো নি কেনো এখনো? ”
সোলেমান সটান হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“ সাইন করার জন্য কলম নেই আমার কাছে। তাই করি নি। লাইটার ছিলো। কি আর করার লাইটার দিয়েই কাজ চালাতে হলো। ”
মেহরিন ধারণা করেছিল সোলেমান এমন কিছুই করবে।
“ মানে? কাগজ টা তুমি পুড়িয়ে ফেলছো? ”
“ ইয়েস শ্বশুর মশাই। আপনি একটু সাইডে যাবেন? আপনার মেয়ের সাথে পার্সোনাল কথা বলবো। আপনি বাবা হয়ে শুনলে লজ্জা পেতে পারেন। ”
মোতালেব ভুঁইয়া মেয়ের হাত টেনে চলে যেতে যেতে বললেন,
“ তোমার কোনো কথা নেই আমার মেয়ের সাথে। আমার মেয়ের আশেপাশে আসার চেষ্টা করলে ভালো হবে না বলে রাখছি। ”

“ খারাপও করতে পারবেন না। ৫ মিনিট নিবো আপনার মেয়ে। বেশি নিব না। ”
মেহরিন বাবার থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
“ তুমি যাও আব্বু,আমি আসছি। ”
মোতালেব ভুঁইয়া যেতে চাইলেন না। কিন্তু মেহরিন জানে এই লোক কথা না বলে মেহরিন কে যেতেও দিবে না। মোতালেব ভুঁইয়া দূরে গিয়ে দাঁড়ালেন। মেহরিন সোলেমানের সামনে দূরত্ব অনেকটা বজায় রেখে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি অন্য দিকে তাক করে বলল,
“ বলুন কি বলবেন? ”
“ ডিভোর্স পেপার কেনো পাঠিয়েছো? ”
“ মানুষ ডিভোর্স পেপার কেনো পাঠায়?

“ ডিভোর্স চাও? মুক্তি চাও মেয়ে আমার থেকে? খুবই দুঃখের সহিত জানাতে হচ্ছে, আমার থেকে ডিভোর্স তুমি এই জীবনে কেনো? হাজার টা জনম আসলেও পাবে না। তুমি আমার স্ত্রী হয়ে আমার পরিচয়েই বাঁচবে, আমার পরিচয় মাথায় নিয়েই মরবে। আর একটা কথা ভুলে যেও না তালাক দেওয়ার অধিকার কেবল তোমার আল্লাহ স্বামীদেরই দিয়েছেন। আমি তো আমাদের বিয়ের কাবিননামাতেও তোমাকে তাফওয়ীজ তালাকের ক্ষমতা দেই নি। সেখানে তুমি কোন সাহসে আমাকে এসব ফালতু কাগজ পাঠাও মেয়ে? ”
মেহরিন এবার ভয়ংকর রাগী চোখে তাকালো। শক্ত গলায় বলল,
“ আমাকে ধর্ম শেখাচ্ছেন? আর সেটাও আপনি? হাস্যকর হয়ে গেলো না? আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, তোমরা তাদেরকে সুন্দরভাবে রেখে দাও অথবা সুন্দরভাবে বিদায় দাও। আপনি তো আমায় সুন্দর ভাবে রাখতে পারেন নি। সুতরাং বিদায় টা অন্তত সুন্দর ভাবে দিন। ঝামেলা করবেন না। ”
“ পাবে না তো ডিভোর্স। ”
“ কিজন্য পাবো না? সংসার করতে চাই না আমি আপনার সাথে। ”
“ আমার চেয়েও অনেক খারাপ মানুষের সাথে মানুষ সংসার করে। তুমি কেন পারবে না? ”
“ ফর ইয়্যুর কাইন্ড ইনফরমেশন, আমি আর সবাই না। ”
“ আসলেই তুমি আর সবাই না। সবার থেকে ডিফরেন্ট। বাড়ি আসবে কবে বলো। ”

“ কোনোদিন না। ”
“ ভালোবাসো না? ”
“ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ কি? ”
“ ভালোবাসা। ”
“ আর বিশ্রী শব্দ? ”
“ বিশ্বাসঘাতকতা। ”
“ এই দুটোই যদি আপনার জীবনে আসে তাহলে আপনি কি করতেন? ”
“ তোমার জীবনে তো দুটোই এসেছে। তাহলে তুমি বলো তুমি কি করতে? ”
“ নিঃসন্দেহে আরো একটা ভয়ংকর শব্দ কে বেছে নিব।”
“ কি সেটা? ”
“ বিচ্ছেদ। ইতিমধ্যে যেটা আমি বেছে নিয়েছি। ”
“ সুখকর হবে? ”
“ বিচ্ছেদ কখনও সুখের হয়? ”
“ না। ”
“ তাহলে জিজ্ঞেস করছেন কেনো? ”
“ তুমি চলে যাওয়া মানে আমার জীবন থেকে সুখ চলে যাওয়া। আমি চাই আমার সুখ স্থায়ী হোক।
“ যে নিজ হাতে সুখ পুড়ায়,তার জীবনে দুঃখ হয় স্থায়ী । ”
“ আমার করণীয় কি তাহলে? ”

“ আইন তো আপনাকে শাস্তি দিতে পারবে না। কারন আইনকে পকেটে নিয়ে ঘুরেন আপনি। সেজন্য বলছি সব ছেড়েছুড়ে ভালো হন। দ্বীনের পথে চলুন। নরক থেকে বের হয়ে আসুন। ভালো হোক আপনার। ”
“ এখান থেকে ফেরার কোনো সু্যোগ নেই মেহরিন। ”
“ তাহলে আপনি আমাকে কোন বেসিসে ফিরতে বলেন আপনার জীবনে? আর কি আছে আপনার এই জীবনে কেবল ধ্বংস ছাড়া? ”
“ ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন এভাবেই বাঁচতে হবে আজীবন। আমি না হয় তোমার জন্য নরক টাকেই স্বর্গ বানিয়ে দিব। ”
“ দুঃখিত সম্ভব নয়। আমার ফেরার পথ টা সত্যি অসম্ভব করে দিয়েছেন আপনি। তেল আর পানি যেমন একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারে না। আপনি বলেন আপনি পাপ,আর আমি পবিত্র। তেল পানির মতো পাপ আর পবিত্রও কখনোই একই পথে হাঁটতে পারে না। সেজন্য বলছি দু’জনের জন্য মঙ্গল এখন দু রাস্তায় হেঁটে চলা। ”
“ বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া সম্ভব নয় মেহরিন। ভুলে যেও না পৃথিবী গোলাকার। আমাদের কেন্দ্রবিন্দু ঘুরেফিরে এক রাস্তাতেই এসে থামবে। ”

“ আপনি সামনে দেখলেই আমি ফের উল্টো পথে হাঁটা ধরবো। ফেলে আসা স্থানে দ্বিতীয় বার যেতে নেই। বিচ্ছেদ কখনও পূনরায় মিলনের জন্য হয় না। ”
“ তাহলে কি বুঝাতে চাইছো সব শেষ আমাদের মাঝে? ”
“ জ্বি, সব শেষ। ”
সোলেমান হাসলো।
“ তুমি যেখানে সব শেষ বলছো,আমি নওয়াজ সোলেমান সুলতান সেখান থেকেই শুরু বলছি। শেষ বলতে কোনো শব্দ নেই আমার ডিকশনারি তে। তাই কান খুলে শুনে রাখো,দ্বিতীয় বার ওসব থার্ডক্লাস মার্কা কাগজ পাঠিও না। ফল ভালো হবে না। ”
“ কি করবেন পাঠালে? মারবেন? ”
“ মেরেছি কখনো তোমাকে? ভালোবাসি। ”
মেহরিনের মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো।
“ ভালোবাসেন? তাহলে প্রমাণ করুন। ”
“ কিভাবে? ”
“ আমাকে মুক্তি দিয়ে। এক চুল পরিমানও যদি ভালোবেসে থাকেন তাহলে মুক্তি দিন,এই সম্পর্ক থেকে,এই নাম থেকে। ”

“ দুঃখিত,ম্যাডাম আমি আপনাকে চুল পরিমাণ ভালোবাসি না। আস্ত এক হিমালয় পর্বতের সমান ভালোবাসি, তাই প্রমাণ করতে পারছি না। খুবই দুঃখিত আমি। ”
মেহরিন আর কথা বাড়ালো না। হাঁটা ধরলো। সোলেমান পেছন থেকে বলে উঠলো,
“ ঠিকঠাক মতো পড়াশোনা করো। বায়োলজি তে সমস্যা হলে আমাকে ফোন দিও। বুঝিয়ে দিব। ”
মেহরিন উত্তর দিলো না। বাবার সাথে চলে গেলো মতিঝিল।
এক সপ্তাহ পর মেহরিন দের এক্সাম শুরু হলো এইচএসসি। মোতালেব ভুঁইয়া তার দুদিন পরেই চলে গিয়েছিল নওগাঁ। আজ সকালে ফোন দিয়ে মেয়েকে সাহস দিয়েছে। তার মেয়ে এবারও বেস্ট রেজাল্ট করবে। কিন্তু মেহরিন জানে তার প্রিপারেশন কেমন। ভালো না। এই শহরে তার মন বসে না পড়ায়। আজ তানভীরের সাথে যাচ্ছে এক্সাম দিতে মেহরিন সেন্টারে। মোতালেব ভুঁইয়া তানভীর কে পইপই করে বলে দিয়েছে মেহরিনকে এক সেকেন্ডের জন্যও একা না ছাড়তে। একা ছাড়লেই কোথা থেকে কোন চিল শকুন এসে ধরে ফেলে বলা তো যায় না। মোতালেব ভুঁইয়া চিল শকুন বলতে সোলেমান কেই ইঙ্গিত করেছিল।
মেহরিন ফজরের নামাজ পড়ে খাবার খেয়ে বোরকা নিকাব পড়ে একেবারে রেডি হয়। ফাইলটা নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে তানভীরের বাইকে করে সেন্টারে আসে। সেন্টারে এসে ঊর্মির সাথে দেখা হলো। মেহরিন এখনো ঊর্মির বাচ্চা কে দেখে নি। সময় সুযোগ,পরিস্থিতি কোনোটাই হয় নি দেখার। বাচ্চা টা বাড়িতে,ইতি বেগমের কাছে। ঊর্মি কে ইব্রাহিম নিয়ে এসেছে। মেহরিন আর অন্য সময় ইব্রাহিম কে দেখলে সালাম দিয়ে কুশলাদি করতো। আজ ফিরেও তাকাচ্ছে না। ঊর্মি নিজ থেকে কাছে না আসলে হয়তো যেতও না। এখন সে তাদের সামনে থেকে যেতে পারলে বাঁচে।
সেন্টারে ঢুকে নিজের আসন খুঁজে মেহরিন সেখানে বসে প্রথম পরীক্ষা টা দিলো। কুয়েশ্চন হার্ড হয়েছিল। লিখতে গিয়ে বারংবার হিমশিম খাচ্ছিলো মেহরিন। সময় কম,এরিমধ্যে এক টিচার মেহরিনের খাতা সিগনেচার করতে এসে মেহরিনের মুখ ঢাকা দেখে সন্দেহ করে খাতা সাইন না করে মেহরিন কে দাঁড় করিয়ে মুখ দেখাতে বলে। তার মনে হচ্ছে রেজি কার্ড আর এডমিট কার্ডে থাকা মেয়েটা আর এই মেয়েটা সেম না।
মেহরিন যদিও পুরোপুরি পর্দা করে বিষয়টা এমন না। তবে সে এভাবে অপরিচিত এক টিচারের সামনে ফেইস দেখাতে পারবে না বলে বলল..
“ আপনি কোনো ম্যাম কে ডেকে আনুন। আমি আমার ফেইস দেখাচ্ছি। ”
শিক্ষক সেটাও করতে নারাজ। তাকেই দেখাতে হবে। কি আশ্চর্য মেহরিন অবাক হচ্ছে টিচারের এমন বিহেভিয়ার দেখে। এদিকে সময়ের মতো সময় চলে যাচ্ছে। মেহরিনের লেখা বাকি। তাকে লিখতেও দিচ্ছে না। টিচার মেহরিনের নিকাব এখনো সরাতে না দেখে মেহরিনকে অপমান করে বলল-
“ এতই যখন পর্দা করার সখ,তাহলে জেনারেল লাইনে পড়তে এসেছো কেনো? মাদ্রাসার লাইনে পড়লেই তো পারতে। হয় তুমি ফেইস দেখাবে,আর তা না হলে বের করে দিব রুম থেকে। ”
মেহরিন সত্যি সত্যি বের হয়ে গেলো। বের হয়ে করিডর দিয়ে হেঁটে অফিস রুম খুঁজতে খুঁজতে দেখা মিললো সেই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালের সাথে। তিনি ক্লাস রুম ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করছিলো। এত তাড়াতাড়ি একটা মেয়েকে বের হতে দেখে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“ পরীক্ষা শেষ! কেমন হলো এক্সাম? ”
মেহরিন বলল,
“ আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে হল থেকে। ”
লোকটার ভ্রু কুঁচকে আসলো। জিজ্ঞেস করলো,
“ কেনো? কি করেছিলে? ”
মেহরিন সবটা খুলে বলল। সব শুনে প্রিন্সিপাল রেগে গেলেন। “ আসো তো। ” বলেই তিনি মেহরিন কে নিয়ে ঐ রুমের দিকে যেতে লাগলেন। এবং মেহরিন কে তার সিটে বসিয়ে একজন নারী শিক্ষক কে ডেকে নিয়ে মেহরিনের রেজি কার্ডের সাথে ফেইস মিলিয়ে দেখলো দুজনই সেম। প্রিন্সিপাল পরীক্ষা সেজন্য টিচার কে তেমন একটা কিছু বললো না। তবে পরীক্ষা শেষে অফিস রুমে দেখা করতে বললো।
মেহরিনের হাত পা কাঁপছে, রাগে কষ্টে। হাতে তেমন সময় নেই। অথচ তাকে অনেক গুলে প্রশ্ন এখনো লিখতে হবে। তাকে টাইম দেওয়া হয় নি। অথচ ২০ মিনিটের মতো টাইম তার নষ্ট করে দিয়েছে এই টিচার। যেখানে আস্ত একটা সৃজনশীল প্রশ্ন লেখা যেত। মেহরিন পুরো ৫ টা সৃজনশীল লিখতে পারে নি। তার জীবনের সবচেয়ে বাজে পরীক্ষা ছিলো এটা। এমন পরীক্ষা সে আর কখনো দেয় নি।
এক্সাম হল থেকে মলিন মুখে বের হলো সে। ঊর্মির মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার এক্সাম ভালোই হয়েছে। মেহরিন আর ভুলেও ঊর্মির সামনে যায় নি। আলগোছে পাশ কাটিয়ে চলে গেছে দেখার আগেই। তানভীর জিজ্ঞেস করলো,

“ কেমন হয়েছে এক্সাম? ”
মেহরিন বললো,
“ ভালো না। বাজে হয়েছে। ”
“ কেনো? প্রশ্ন অনেক হার্ড হয়েছিল? ”
প্রশ্ন তো এক প্রকার হার্ড হয়েছিলই। তার উপর ওরকম অপমান অপদস্ত, টাইম নষ্ট করা,মেহরিন সব খুলে বললো। সব শুনে তানভীর ভীষণ রেগে গেলো। কোন সাহসে ঐ শিক্ষক মেহরিন কে ওসব বললো? মেহরিন তো বলেছিল নারী শিক্ষক ডেকে আনতে। একবারও তো বলে নি সে কাউকে ফেইস দেখাবে না তাহলে?
বাড়ি ফিরে সে মেহরিনের ঘটনাটা সে তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করলো। ঘন্টাখানেকের মধ্যে সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে গেলো। মেয়েটার নাম,সেন্টারের নাম সব জানতে চাইলো। তানভীর একজনের কমেন্টে রিপ্লাই দিয়ে নাম টাম সব বললো।
সেই পোস্ট সোলেমানের ফিডে এসেছে। মনোযোগ দিয়ে দেখলো। সোলেমান ইচ্ছে করেই আজ সেন্টারে যায় নি। সে চায় নি তাকে দেখে মেহরিন অস্বস্তি ফিল করে এক্সাম খারাপ করুক। কিন্তু ঐ বান্দির বাচ্চা এটা কি করলো! শালারাও চাচ্ছে না সোলেমান তার বউয়ের থেকে দূরে থাকুক। সেজন্য এতবড় সাহস পাচ্ছে! সোলেমান সেন্টারে ফোন করে সকল শিক্ষক কে অফিস রুমে থাকতে বলে বের হলো। সেন্টারে ঢুকে অফিস রুমে এসে পোস্ট টা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“ কোন শিক্ষক এটা করেছে? ”
প্রিন্সিপাল পলাশ নামের সেই শিক্ষক কে দেখিয়ে দিলো। তিনি কেবলই অফিস রুমে ঢুকছিলো। সোলেমান কোনো কথা বলো না আর। সোজা উঠে গিয়ে সেই শিক্ষক কে সবার সামনে পরপর কয়েকটা চড় মেরে আজীবন যেন শিক্ষকতা করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করে ৫ বছরের জন্য জেলে পাঠায়। শিক্ষকতা একটা সম্মানিত পেশা। এই পেশায় এমন থার্ডক্লাস মানুষের থাকার অধিকার নেই।
বিকেলে নিউজ চ্যানেলে সেই শিক্ষককে নিয়ে নিউজ হলো। তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে একজন শিক্ষার্থী কে অপমান অপদস্ত করার জন্য। মেহরিন দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। তার বুঝতে বাকি নেই এটা কে করেছে। মেহরিন পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলো। দ্বিতীয় পরীক্ষার দিন সেন্টারে গিয়ে আবিষ্কার করলো নওয়াজ সোলেমান সুলতান কে। যে কি না টিচার হয়ে এসেছে মেহরিনের কক্ষে। সে আজকে এই ক্লাসেই গার্ড দিবে।
মেহরিনের সংকুচিত হয়ে গেল যখন সোলেমান তার খাতা সাইন করতে আসলো। হাতে হাত স্পর্শ করলো। আর চেয়ার নিয়ে বসলো একেবারে মেহরিনের সামনেই। শ্বাস ফেললেও সেটা মনে হয় সোলেমান শুনে ফেলবে এমন। এভাবে কি এক্সাম দেওয়া যায়? আজকের এক্সামে প্রায় সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছে মোটামুটি মেহরিন। গত পরীক্ষার থেকে ভালোই হয়েছে।
এক্সাম শেষে ফেরার পথে সোলেমান পথ আটকালো। ঊর্মি ইব্রাহিম চলে গেছে বাড়ি। ইহরামের জ্বর ঠান্ডা লেগেছে। ঊর্মি তার ছেলের নাম ইহরাম রেখেছে। রুস্তম নামটা কেবল বার্থ সার্টিফিকেটে থাকবে।
সোলেমানের পথ আটকানো দেখে মেহরিন দাঁত চেপে বলল

“ পথ আটকালেন কেনো? ”
“ আজকের এক্সাম তো খুব খারাপ দিলে দেখলাম। হাতের লেখাও যথেষ্ট খারাপ ছিলো। ঢাকায় কত প্রতিযোগিতা হয় জানো? এসএসসি তে নওগাঁয় দ্বিতীয় হয়েছিলে তাই না? এবার ২০০ জনের তালিকায় থাকতে পারবে তো? অনেক তো বড় বড় কথা বললে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে। এই বুঝি তার নমুনা? পড়ো না ঠিক মতো? ”
মেহরিন আসলেই ঠিকমতো পড়ে না। বই খুললেই তার মন বুক ভার হয়ে যায়। অনেক গুলো দিন গ্যাপ ছিলো। রুমাইসার মৃত্যু, স্বামীর মৃত্যুর নাটক, নিজের হার্ট অ্যাটাক হওয়া, সন্তান হারানো। কত কত ঘটনা ঘটলো একই বছরে। পড়াশোনা থেকে দূরে থাকার ফল। মেহরিন কেবল বলল,
“ আপনি দয়া করে আর আমার সামনে আসবেন না। আমাকে আমার পড়াশোনার প্রতি ফোকাস করতে দিন। খুব ভালো হয় যদি আগামী মেডিক্যাল এক্সামের আগে না আসেন তো। ”
“ আমি সামনে আসলে কি এলোমেলো হয়ে যাও? ”
“ ধরে নিন কিছুটা তেমনই। আশা করি আমার এই কথাটা রাখবেন? তাহলে খুবই উপকৃত হই আমি। ”
“ বেশ রাখলাম। ভালো থেকো। ”
সোলেমান চলে গেলো। অথচ তার বলা এই শেষ বাক্য ভালো থাকো এটায় কিছু তো একটা ছিলো। অভিমান? হাহাকার?

তারপর সত্যি সত্যি সোলেমান আর মেহরিনের সামনে আসে নি। তৃতীয় পরীক্ষার দিন মেহরিনের চোখ দুটো অজান্তেই খুঁজেছিল সোলেমান কে। তবে যখন বুঝতে পারলে সোলেমান নেই। তখন স্বস্তি বোধ করলো। এইচএসসির এক্সাম গুলো শেষ হলো তার। ফেল করার মতো এক্সাম সে দেয় নি। ফাস্ট সেকেন্ড হওয়া তো দূর কি বাত, সোলেমানের বলা অনুযায়ী আদোও ২০০ জনের ভেতর থাকতে পারবে কি না তাও সন্দেহ।
রেজাল্ট যাই আসুক,সমস্যা নেই। মোতালেব ভুঁইয়া মেহরিন কে ফার্মগেটের উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দিলো মেডিক্যালের প্রিপারেশন নেওয়ার জন্য। নীলক্ষেত থেকে যাবতীয় সব বইও কিনে দিলো। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“ ফাস্ট সেকেন্ড থার্ড এসব কিচ্ছু হতে হবে না মা। তুমি কেবল মন দিয়ে পড়ো। তুমি দেইখো মেডিক্যালে চান্স পাইবা। আমি তোমায় সাদা এপ্রনে গলায় স্টেথোস্কোপে দেখবো। তুমি সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে ঐ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের গেট দিয়ে দৌড়ে আসবে। আমি আর তোমার আম্মা ঠিক ঐ গেটের বাহিরে দাঁড়িয়ে তোমার অপেক্ষা করবো। আর আমার মেয়ে একজন ডাক্তার হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল থেকে বের হবে। ”
মেহরিন জড়িয়ে ধরলো তার বাবার এই কথা শুনে। কি স্বপ্ন তার বাবার এই চোখ দুটোয়। আল্লাহ পূরণ করতে সহায়তা করুক মেহরিন কে।
মেহরিন মন প্রাণ লাগিয়ে মেডিক্যালের জন্য পড়তে লাগলো। মতিঝিল থেকে নীলক্ষেত প্রতিদিন তানভীর তাকে নিয়ে যায়। উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে মেহরিনের নতুন এক ফ্রেন্ড হলো। নাম তার জান্নাত। ঊর্মি মেডিক্যালে পড়বে না। তার স্বপ্ন ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার। তাকে অন্য কোচিং সেন্টারে ভর্তি করলো অনলাইনে। বাচ্চা কে রেখে প্রতিদিব গিয়ে পড়া সম্ভব নয়। ইব্রাহিম অনেক হেল্প করে পড়াশোনা তে ঊর্মি কে। যখন যখন ঊর্মি পড়তে বসে তখন ইব্রাহিম বাবু কে কোলে করে রাখে। বাগনে হাটে।

আর এদিকে মেহরিন একা। তার ঊর্মির মতো একটা ছায়া নেই। ক্লান্ত হলে কেউ এক গ্লাস ঠান্ডা পানি এগিয়ে দেয় না। মাথা ঠেকানোর জন্য একটা শক্ত বুক নেই। কেয়ার করার মতো মানুষ নেই। বড্ড একা মেহরিন। বাবা রোজ ফোন করে। তাতে কি? মেহরিনের মনের অজান্তে যেই শূন্যতা এসে বাসা বাধে তা কি মিটে? না মিটে না।
দেখতে দেখতে মেহরিনের রেজাল্ট ও দিয়ে দিলো এইচএসসির। পয়েন্ট আসলো ৪.৯৭। সোলেমানের কথা সত্যিই হলো। মেহরিনে ২০০ জন দূরে থাক,১০০০ জনের ভেতরও নাই। অন্যদিকে ঊর্মি প্লাস পেয়েছে। সেটা নিয়ে ইব্রাহিম সবাই কে মিষ্টি খাওয়াচ্ছে। অথচ পড়াশোনায় মেহরিনের ধারে কাছেও ঊর্মি ছিলো না। পড়াশোনা করার মতো যে পরিস্থিতি থাকা দরকার সেটা এবার ঊর্মি পেয়েছিল। মেহরিন পায় নি। পায় নি বলেই জীবনের সবচেয়ে জঘন্যতম রেজাল্ট সে পেলো। মেহরিন কাঁদলো এই রেজাল্ট দেখে। ভেবেছিল মোতালেব ভুঁইয়া হয়তো রাগ করবে কিছুটা। কিন্তু নাহ্, মোতালেব ভুঁইয়া একটুও রাগ করে নি। উল্টো বলেছে,এই রেজাল্ট কিচ্ছু না আম্মা। সামনে তোমার আসল পরীক্ষা বাকি। ওটায় মনোযোগ দাও। সব হতাশা দুঃখ কে অস্ত্র বানিয়ে ওখানে কাজে লাগাও। ওটায় বিজয়ী হলে এই আজকের দুঃখ আর দুঃখ মনে হবে না।

মেহরিন বাবার কথা রাখলো। রেজাল্টের দিন মেহরিনের কাছে একটা চিঠি এসেছিল। চিঠির পাতায় কোনো নাম টাম ছিলো না। কেবল Michael Jordan এর একটা ছোট বাক্য লেখা ছিলো।
I’ve missed more than 9,000 shots in my career. I’ve lost almost 300 games. 26 times, I’ve been trusted to take the game-winning shot and missed. I’ve failed over and over and over again in my life. And that is why I succeed.”
— Michael Jordan
তার নিচে আবার লেখা “ The scoreboard remembers the winner, but history remembers the fighter,pretty girl. Keep going and never give up. I am always with you.”
Yours sincerely, your well-wisher.
চিঠিটা কে পাঠিয়েছে মেহরিন ধরতে পারলো না। তবে ফ্রেশ একটা মনোভাব উপহার দিলো। তার সব টুকু শ্রম এফর্ট যা যা আছে সব পড়াশোনার পেছনে লাগিয়ে দিলো। দিন রাত এক করে কেবল মেডিক্যালের জন্য পড়তে লাগলো। পড়তে পড়তে কখন যে তার ভোর হয়ে গেছে তা বুঝতেও পারে নি। মেহরিন কেবল মেডিক্যালের জন্য আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ফর্ম তুললো। মেডিক্যালে যদি কোনো ভাবে না হয় তাহলে ব্যাকআপ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যদি এটাতেও না হয় তাহলে আর পড়াশোনা করবে না সে বছর। পরবর্তী বছরে আবার মেডিক্যালের জন্য এক্সাম দিবে। তখন মাইনাস ৫ নম্বর কাট যাবে। রিস্ক থাকে একটা। তাই মেহরিন চাচ্ছে এইবারই যেন সে মেডিক্যালে চান্স পেয়ে যায়।

জান্নাত নামের মেয়েটার সাথে মেহরিনের খুব ভালো বন্ধুত্ব হলো এই কয়েক দিনে। তানভীরের ক্লাস প্রাইভেট থাকে বিধায় মেহরিন জান্নাতের সাথেই যাওয়া আসা করে। এই তো একদিন কোচিংএ পড়া শেষ করতে করতে সন্ধ্যা লেগে যায়। মেহরিন আর জান্নাত গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে বাড়ির পথে যাচ্ছিলো। জান্নাতের বাড়ি একটু আগে আর মেহরিনদের বাড়ি আরো পরে। জান্নাত কে বিদায় সে বাটন ফোনে লাইট জ্বালিয়ে হাঁটছিলো। গোলির রাস্তাটা দিয়ে ঢোকার সময় মেহরিনের মনে হলো কেউ তার পিছু নিচ্ছে। কয়েকবার পেছন ফিরলো। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না। অস্বাভাবিক লাগলো।

দাহশয্যা পর্ব ৯৫ (৩)

সেজন্য তাড়াতাড়ি করে পা চালিয়ে হাঁটার সময় হুট করে অন্ধকারে একটা হাত মেহরিন কে ধরে ফেললো। মেহরিন ভয়ে চিৎকার করতে যাবে তার আগেই আরেকটা হাত মেহরিনের মুখ চেপে ধরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো। গলার কাছে গিয়ে ঠেকলো সেই আগুন্তকের ঠোঁট। মেহরিন ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগলো। আগুন্তক আরো চেপে ধরলো মেহরিন কে নিজের সাথে। মেহরিনের মুখ চেপে ধরা হাত টা সরিয়ে দিয়ে মুখের সামনে থেকে নিকাব টা সরিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল-
“ প্লিজ ডোন্ট শাউট সুইটহার্ট । অ্যাম ইয়্যুরস। কমপ্লিটলি ইয়্যুরস,টোটালি ইয়্যুরস, অনলি ইয়্যুরস, ফরএভার ইয়্যুরস। ”

দাহশয্যা পর্ব ৯৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here