Mad for you 2 part 36
তানিয়া খাতুন
আজ অফিসের পক্ষ থেকে একটি বড়সড় পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।
সেই পার্টিতেই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল রুহি।
সকালের ঘটনাগুলো বারবার মাথায় ঘুরে ফিরে এলেও আপাতত সেগুলো ভুলে থাকার চেষ্টা করছে সে।
নিজের মনটা কে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখতে চায়।
কারণ ক্ৰুশ আজ সকালে যে কথাগুলো তাকে বলেছে, তার একটিও বিশ্বাস করতে পারেনি রুহি।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আবারও কথাগুলো মনে পড়ে গেল।
ক্ৰুশের দাবি, তাদের অতীত একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব?
ছোটবেলা থেকেই তো সে ইতালিতে বড় হয়েছে।
নিজের মায়ের মুখে সবসময় শুনে এসেছে, তাদের পরিবার বহু বছর ধরেই এখানে বসবাস করছে।
তাহলে হঠাৎ করে বাংলাদেশের গল্পগুলো কোথা থেকে এলো?
আর ক্ৰুশ?
তার সঙ্গে নাকি তার বিয়েও হয়েছিল!
ভাবলেই হাসি পায় রুহির।
এত বড় একটা ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে তার কিছুই মনে থাকবে না কেন?
স্মৃতির কি সম্পূর্ণ অস্তিত্ব মুছে যেতে পারে?
না, বিষয়টা যত ভাবছে ততই তার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে।
বরং তার মনে হচ্ছে, পুরো ব্যাপারটাই ক্ৰুশের কোনো পরিকল্পনা।
লোকটা শুরু থেকেই রহস্যময় আচরণ করছে।
কখনো অদ্ভুত সব দাবি করছে, কখনো এমন সব প্রমাণ দেখাচ্ছে যার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় না।
নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে।
আর সেই উদ্দেশ্যটা তাকে খুঁজে বের করতেই হবে।
রুহি ঠোঁট কামড়ে মনে মনে বলল,
— কোনোভাবে একবার ফোনটা আমার হাতে আসুক।
তারপর দেখব তোমার সব চালাকি কোথায় যায়, মিস্টার ক্ৰুশ আলতাফ।
নিজের ভাবনার মাঝেই কখন যে মুখে ব্লাশার দিতে শুরু করেছিল, খেয়ালই করেনি সে।
অবশেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সব চিন্তা আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল।
আজ এসব নিয়ে ভাবতে চায় না।
আজ শুধু নিজের মনটাকে একটু হালকা করতে চায়।
আয়নায় নিজেকে আরেকবার ভালো করে দেখল রুহি।
পরনে গাঢ় লাল রঙের একটি গাউন।
গাউনের এক পাশের কাট ডিজাইন টি আরও আকর্ষণীয় ও আধুনিক করে তুলেছে।
পোশাকটি তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যেন দারুণভাবে মানিয়ে গেছে।
হাতে একই রঙের একটি মার্জিত পার্স।
পায়ে উঁচু হিলের স্টিলেটো।
পিঠের ওপর ঝরে পড়া চুলগুলো সুন্দর করে কার্ল করা।
নরম ঢেউ খেলানো সেই চুল তার সৌন্দর্যে যেন বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
হালকা মেকআপে মুখটাকে আরও উজ্জ্বল লাগছে।
সবকিছু শেষ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একবার ঘুরে দেখল সে।
ঠিক সেই সময় দরজাটি ধীরে ধীরে ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল ক্ৰুশ।
কালো শার্ট আর কালো প্যান্টে সজ্জিত যুবকটিকে আজ যেন অস্বাভাবিক সুদর্শন দেখাচ্ছিল।
কয়েক মুহূর্ত আগেও সে নীলের কক্ষে গিয়েছিল কিছু প্রয়োজনীয় কাজের জন্য।
রুমে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তার সমস্ত মনোযোগ অন্যদিকে সরে গেল।
দরজার কাছে দাঁড়িয়েই সে স্থির হয়ে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে রুহি।
মৃদু আলোয় মেয়েটিকে আজ যেন অন্যরকম লাগছিল।
সাজসজ্জা খুব বেশি নয়, তবু তার সৌন্দর্যের মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত আকর্ষণ।
দীর্ঘ চুলগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা, মুখে হালকা প্রসাধন, আর সেই পোশাক—যা তাকে আরও মোহময় করে তুলেছিল।
এক মুহূর্তের জন্য ক্ৰুশের মনে হলো তার হৃদস্পন্দন যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে।
সে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
তবে মুগ্ধতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
রুহির পরনের পোশাকটির দিকে নজর পড়তেই তার ভেতরে যেন রাগের আগুন জ্বলে উঠল।
দাঁতে দাঁত চেপে সে দ্রুত এগিয়ে এসে বলল,
— এটা কী পরেছ তুমি? এখনই গিয়ে বদলে ফেলো।
রুহি হতবাক হয়ে গেল। এতক্ষণ ধরে সে প্রস্তুত হয়েছে, আর এখন আবার সব বদলে ফেলবে? তাও শুধু এই লোকটার কথায়?
মেয়েটির ভেতরে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠল।
সে ধীরে ধীরে হাত গুটিয়ে বুকের সামনে ভাঁজ করে দাঁড়াল।
তারপর শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— মিস্টার ক্ৰুশ আলতাফ, নিজের সীমার মধ্যে থাকুন।
— আমি আপনার স্ত্রী নই যে আপনি আমাকে শাসন করবেন।
আমি কী পরবো আর কী পরবো না, সেই সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নিতে পারি।
— আমি এই পোশাকটাই পরে যাব। আপনার ভালো লাগুক বা না লাগুক।
কথাগুলো শেষ হতেই ক্ৰুশের মুখ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
ক্ৰুশের রাগ যেন আরও বেড়ে গেল।
মুহূর্তের মধ্যে সে রুহির হাত চেপে ধরে টেনে নিজের দিকে আনল এবং তার হাত দুটো পেছনের দিকে মুচড়ে ধরল।
হঠাৎ তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল রুহি।
মনে হলো যেন তার হাত দুটো ভেঙে গেছে।
— শেষবারের মতো বলছি, পোশাকটা বদলাবে।
কিন্তু রুহির জেদও কম নয়। তার মাথায় যেন একরোখা জেদ চেপে বসল।
সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
— না, বদলাবো না। এই পোশাকটাই পরে যাব।
রুহির উত্তর শুনে ক্ৰুশ নিজের ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেল।
সে এক হাত বাড়িয়ে টেবিলের ড্রয়ার খুলল এবং সেখান থেকে একটি কাঁচি বের করল।
কাঁচিটি দেখে রুহির বুক ধক করে উঠল।
পরের মুহূর্তেই ক্ৰুশ কাঁচিটি পোশাকের নিচের অংশের দিকে চালিয়ে দিল।
রুহি সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল।
কিন্তু ক্ৰুশের শক্তির সঙ্গে সে পেরে উঠল না।
ক্ৰুশ একের পর এক কাঁচি চালিয়ে পোশাকটির বিভিন্ন অংশ কেটে দিল।
পিঠের কাছে পোশাকের একটি অংশ ছিঁড়ে যেতেই ভেতরের আবরণ দৃশ্যমান হয়ে উঠল।
সেই দৃশ্য দেখেই ক্ৰুশ হঠাৎ থেমে গেল।
তার শ্বাস যেন এক মুহূর্তের জন্য আটকে গেল।
সে দ্রুত দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিল।
দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগ সংযত করার চেষ্টা করল।
— যাও, আরেকটা সুন্দর পোশাক পরে এসো।
তোমার শরীরের এক ইঞ্চিও যেন অনাবৃত না থাকে।
আর যদি আবার এমন পোশাক পরার কথা ভাবো, তাহলে সেই পোশাকটাকে আমি নিজ হাতে পুড়িয়ে ফেলব।
কথাগুলো বলে ক্ৰুশ মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
অন্যদিকে রুহি অপমান, রাগ ও ক্ষোভে থরথর করে কাঁপছিল।
তার চোখ দুটো জ্বলছিল ক্রোধে, কিন্তু এই মুহূর্তে সে বুঝতে পারছিল, ক্ৰুশের সঙ্গে তর্ক চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
তাই দাঁতে দাঁত চেপে সে তার দিকে একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল, তারপর দ্রুত পায়ে পোশাক পরিবর্তন করার জন্য ড্রেসিং রুমের দিকে এগিয়ে গেল।
অফিসের পার্টিটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল শহরের অন্যতম অভিজাত একটি ফাইভ-স্টার হোটেলের বিশাল বলরুমে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরো হলরুমটি ঝলমলে আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছিল।
ছাদের বিশাল ক্রিস্টালের ঝাড়বাতিগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়া সোনালি আলো পুরো পরিবেশকে আরও রাজকীয় করে তুলেছিল।
প্রবেশদ্বারের দুই পাশে সাজানো ছিল তাজা ফুলের মনোমুগ্ধকর আয়োজন।
হলরুমের মাঝখানে কর্মচারী, অতিথি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গল্প ও আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।
এক পাশে মৃদু সুরে বাজছিল লাইভ মিউজিক।
পিয়ানোর কোমল সুরের সঙ্গে ভায়োলিনের মেলবন্ধন পরিবেশকে আরও আভিজাত্যময় করে তুলেছিল।
কোথাও সহকর্মীরা হাসি-আড্ডায় মেতে উঠেছে, কোথাও আবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক আলোচনা চলছে।
ওয়েটাররা সুশৃঙ্খলভাবে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরে ঘুরে অতিথিদের বিভিন্ন পানীয় ও খাবার পরিবেশন করছিল।
লম্বা বুফে টেবিল জুড়ে সাজানো ছিল দেশি-বিদেশি নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার।
খাবারের সুগন্ধ ভেসে এসে অতিথিদের আরও আকৃষ্ট করছিল।
মঞ্চের সামনে বড় একটি এলইডি স্ক্রিনে কোম্পানির বছরের সাফল্য, নতুন প্রকল্প এবং বিভিন্ন অর্জনের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল।
মাঝে মাঝে করতালিতে মুখর হয়ে উঠছিল পুরো হলরুম।
পুরুষদের অধিকাংশই পরেছিলেন দামী স্যুট বা ফরমাল পোশাক, আর নারীরা শর্ট ড্ৰেস ও গাউনে সজ্জিত ছিলেন।
ঝলমলে আলো, প্রাণবন্ত কথোপকথন, মৃদু সঙ্গীত আর হাসির শব্দে পুরো পরিবেশটি ছিল প্রাণচঞ্চল।
দামী গাড়িটি হোটেলের প্রধান ফটকের সামনে এসে থামতেই প্রথমে গাড়ি থেকে নামল ক্ৰুশ।
কালো রঙের স্যুটে তাকে আজ আরও বেশি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লাগছিল।
চারপাশে উপস্থিত অনেকেরই দৃষ্টি অজান্তেই তার দিকে ঘুরে গেল।
গাড়ি থেকে নেমেই সে গিয়ে সামনের দরজাটি খুলে দিল।
কয়েক সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামল রুহি।
ক্ৰুশের কঠোর নির্দেশের পর শেষ পর্যন্ত সে একটি সম্পূর্ণ আবৃত কালো গাউন পরেছিল।
গাউনটির নকশা ছিল অত্যন্ত মার্জিত ও অভিজাত।
শরীরের প্রায় পুরো অংশই ঢাকা, তবু তার সৌন্দর্যকে কোনোভাবেই আড়াল করতে পারেনি পোশাকটি।
গাড়ি থেকে নেমে সে চারপাশে একবার তাকিয়ে নিজেকে সামলে দাঁড়াল।
ঠিক তখনই দুজন তরুণী দ্রুত তাদের দিকে এগিয়ে এলো।
দুজনেরই পরনে ছিল আধুনিক ছোট পোশাক, মুখে উজ্জ্বল হাসি।
তাদের মধ্যে একজন এগিয়ে এসে বলল,
— হ্যালো, রুহি! কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?
রুহি ভদ্রতার খাতিরে হালকা হাসল।
মেয়েটি একটু ইতস্তত করে আবার বলল,
— না মানে… তোমাকে তো সাধারণত অন্য ধরনের পোশাকে দেখা যায়। আজ এতটা… উম… ট্র্যাডিশনাল লাগছে।
কথাটার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে রুহির এক মুহূর্তও লাগল না।
তার ভ্রু সঙ্গে সঙ্গে কুঁচকে গেল।
— I think you should mind your own business.
কথাটি শুনে মেয়েটির মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
পরিস্থিতি বিব্রতকর হয়ে ওঠার আগেই ক্ৰুশ এগিয়ে এসে রুহির হাত ধরে ফেলল।
রুহি বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকাল।
ক্ৰুশ যেন কিছুই ঘটেনি এমন ভঙ্গিতে সামনে হাঁটতে শুরু করল।
রুহির চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
এই মানুষটা আসলে কী চায়?
সে নিচু স্বরে বলল,
— আমার হাত ছাড়ুন।
ক্ৰুশ কোনো উত্তর দিল না।
বরং তার হাতের মুঠি আরও দৃঢ় হয়ে উঠল।
হোটেলের বিশাল প্রবেশপথ পেরিয়ে তারা যখন পার্টি হলের দিকে এগোতে লাগল, তখন আশেপাশের অনেকেই কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাদের দেখছিল।
রুহির অস্বস্তি আরও বাড়তে লাগল।
মনে মনে সে বিরক্ত হয়ে ভাবল,
“এই লোকটার সমস্যা কী? পুরো পার্টিতে কি আমাকে এভাবেই হাত ধরে ঘুরে বেড়াতে হবে?”
ক্ৰুশ অবশ্য তার মনের কথা জানত না, কিংবা জানলেও যেন তাতে তার কোনো আগ্রহ ছিল না।
সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সে সামনে এগিয়ে চলল, আর রুহিকে বাধ্য হয়েই তার পাশে পাশে হাঁটতে হলো।
ডান্স ফ্লোরে ইতোমধ্যেই কাপল ডান্স শুরু হয়ে গিয়েছিল।
হলরুমের মাঝখানে নরম সোনালি আলো পড়ে এক অপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
ধীরগতির রোমান্টিক সুর ভেসে আসছে চারদিক থেকে।
অসংখ্য যুগল একে অপরের হাত ধরে সুরের তালে তালে নাচছে।
কেউ ধীরে ধীরে ঘুরছে, কেউবা সঙ্গীর চোখে চোখ রেখে মৃদু হাসছে।
সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রুহি অজান্তেই একটি ড্রিংকের গ্লাস হাতে তুলে নিল।
গ্লাসের ঠান্ডা কাঁচে আঙুল ছুঁইয়ে সে দীর্ঘ একটি শ্বাস ফেলল।
অবশেষে কিছুটা স্বস্তি।
কারণ কয়েক মিনিট আগে ক্ৰুশের ফোনে একটি জরুরি কল এসেছিল।
কথা বলার জন্য সে হলরুমের একপাশে চলে গেছে।
ক্ৰুশ পাশে না থাকায় রুহির মনে হচ্ছিল বুকের ওপর থেকে যেন বিশাল এক বোঝা নেমে গেছে।
অন্তত কিছুক্ষণ নিজের মতো করে থাকা যাবে।
গ্লাসে হালকা চুমুক দিয়ে সে আবার ডান্স ফ্লোরের দিকে তাকাল।
ঠিক তখনই এক ভদ্রলোক তার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট, সুগঠিত শরীর, পরিপাটি কালো স্যুট এবং মুখে ভদ্র হাসি। রুহি তাকে চিনতে পারল।
কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা।
এর আগেও কয়েকবার মিটিংয়ে তাদের দেখা হয়েছে।
লোকটি ভদ্রভাবে হাসল।
— Excuse me, Miss Ruhi. May I have this dance?
রুহি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।
লোকটিকে তার সবসময়ই ভদ্র এবং মার্জিত মনে হয়েছে।
কোনো অস্বস্তিকর আচরণ সে কখনো করেনি।
তাই বিনয়ের সঙ্গে হাসল রুহি।
তারপর নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
— Sure, why not?
ভদ্রলোকও হাসিমুখে তার হাত ধরলেন।
দুজন ধীরে ধীরে ডান্স ফ্লোরের দিকে এগিয়ে গেল।
এদিকে হলরুমের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে ফোনের কথোপকথন শেষ করছিল ক্ৰুশ।
কল শেষ করে সে স্বাভাবিকভাবেই চোখ বুলিয়ে নিল চারপাশে।
পরের মুহূর্তেই তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল।
Mad for you 2 part 35
ডান্স ফ্লোরের দিকে।
রুহি আর তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন পুরুষ।
ক্ৰুশের চোখ মুহূর্তেই সরু হয়ে এল।
চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
হাতে ধরা ফোনটি আরও শক্ত করে চেপে ধরল সে।
চারপাশের কোলাহল, সঙ্গীত, মানুষের হাসি—সবকিছু যেন এক মুহূর্তে তার কানে আসা বন্ধ হয়ে গেল।
তার সমস্ত মনোযোগ তখন এক জায়গাতেই।
