নীরব উন্মাদনা পর্ব ১
সুরাইয়া জিয়াসমিন
র!ক্ত বর্ন চোখ দিয়ে নুবাইরা আরাফ শাহরিয়ার মির্জা দিকে তাকালো,,রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো
_আপনাকে বিশ্বাস করা আমার জীবনের চরম ভুল হয়েছে,আপনি আমাকে বুঝিয়ে দিলেন সবাই বিশ্বাসের যোগ্য না”
আরাফ মির্জা অনাকাঙ্খিত ভাবে মুখে দুঃখী দুঃখী ভাব নিয়ে আসলো, কিছু সময় চুপ থেকে পরপরই আফসোরের সুর টেনে বলে উঠলো
_তুই আমাকে বাধ্য করেছিস এমন করতে রে নুবা,, প্রথমেই ধরা দিয়ে দিলে এমন হতো না,, তুই আমার ভিতরের কষ্ট টা বুঝিসনি,, আফসোস তাই আমি বাধ্য হলাম,,,
নুবাইরা যাকে মিষ্টি করে ডাকা হয় নুবা,,আরাফ বাক্য টুকু শেষ করে দুই কদম এগিয়ে আসলো,,,নুবা ভয়ে পিছিয়ে গেলো,,রাগে নুবার শরীর কাঁপছে সাথে ভয়ে কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে,,,
আরাফ এগিয়ে এসে নুবরা হাত ধরার চেষ্টা করলো তবে নুবা সরে গেলো,, কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ ছু,, ছুঁবেন না আমাকে,,,দূরে যান,,
আরাফ ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,ঘোর লাগা কন্ঠে সুধালো,,
_ বাসায় কেউ নেই,,বুঝতে পারছিস,, তুই নিজে ধরা দে বিশ্বাস কর কেউ জানতে পারবে না,,,আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছি,, তোর আর আমার ভিতরে সবকিছু এখানেই দাফন হয়ে যাবে,,বাট আমাকে ফিরিয়ে দিস না,,আমি নিরাশ হলে বুঝতেই পারছিস আমি কি করবো,,,
নুবার রাগে দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,, ঘৃনা ভরা দৃষ্টি আরাফের দিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে ছি উচ্চারণ করলো অতঃপর বললো
_ আপনার মতো অ!মানুষ আমি জীবনে একটা দেখিনি,,,
আরাফ এক কদম দু কদম করে এগিয়ে আসতে আসতে বললো
_ জীবনটাই কতটুকু তোর,,হুম,,
নুবা রাগে সাথে ভয়ে কাঁপতে লাগলো,,, দাঁত কিরমির করে বললো
_এই নুবা মরে যাবে তাও আপনার হাতের নাগালে আসবে না,,,
_ ও oh,,তাই না,,,
নুবা দিক পাঁচ না চেয়ে রুম থেকে বেড় হওয়ার চেষ্টা করলো,,,তবে আরাফ ধরে ফেললো,, দাঁত কিরমির করে বললো
_ বাসায় কেউ নেই,,কার কাছে যাবি তুই হুম,,জীবনের ভয় থাকলে আমি যা বলছি তাই কর,,
নুবা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,,,তবে আরাফ ছাড়লো না,,নুবা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,,বিরবির করে বললো
_ আপনার লজ্জা করে না এই সব করতে,, আপনার হবু বউ যদি এই সব জানতে পারে আদেও আপনাকে বিয়ে করবে,,,
আরাফ ঠোঁট বাঁকিয়ে বেঙ্গ করে বললো
_ জানলে তবে তো,,,তোর আর আমার ভিতরের কথা কে বলবে তাকে
_ যদি আমি বলে দেই,,,
নুবার শক্ত কন্ঠে আরাফ তেতে উঠলো,,,হাত শক্ত করে চেপে ধরে বললো
_ তুই বলবি তুই,,,
পরপরই আরাফ হেসে উঠলো,,,হাসতে হাসতে বললো
_ কলঙ্ক তোর গায়ে লাগবে আমার না,,সময়ের সাথে সাথে সবাই ভুলে যাবে সব অতীত তবে তোকে কিন্তু সবাই মনের গৃহীনে গেঁথে রাখবে,,বল চাস সামাজের সামনে অপমানিত,, লাঞ্চিত,,,হতে,, অবশ্য তোর মতো দুটাকার চাকরের সম্মানি বা কোথায়,,
নুবার বুক ফেটে কান্না আসলো,,আরাফ তাকে এভাবে অপমান করলো,, পরপরই ভাবলো এই অমানুষটার থেকে আর কিই বা আসা করা যায়,,
আরাফ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ অনেক ফেলো ড্রামা হয়েছে,,এবার এই ড্রামার সমাপ্তি ঘটিয়ে চল,,চল চল তাড়াতাড়ি কর,,আমি খুবি excited ,,i know উপর দিয়ে ফেতফেত করলেও তুই আমাকে চাস,,,
নুবা রাগে ক্ষোপে চিৎকার করে বললো
_ ছি,,, আমার হাত ছাড়ুন,,,না হলে আমি,,আমি আপনাকে,,,,,
_ কি করবি,,,তোর খুশি হওয়া উচিত যে আমি তোকে কাছে টানছি,,না হলে তোর মতো বংশ মর্যাদাহীন,লোকের বাড়িতে কাজ করা দুটার আশ্রয়িতাকে কোন সু পুরুষ ভালো চোখে দেখবে,,ছি ছি করছিস যে,,
নুবা অপমানে নুইয়ে গেলো,,আজ পর্যন্ত তাকে কেউ এভাবে মনে করিয়ে দেয়নি যে,সে মাত্র দুটার চাকার,,, অবশ্য ভালোই হয়েছে সে হয়তোবা ভুলে গেছিলো তার যোগ্যতা বা সে এই বাড়ির কি,,,
নুবা হিচকি তুলে বললো,
_আমার মতো দুটাকার বংশ পরিচয়হীন চাকোরের সাথে শু*** চাইছেন লজ্জা লাগে না,, তাহলে তো দেখা গেলো আপনিও যোগ্যতাহীন মানুষ,,
আরাফ তেতে উঠলো,,নুবার কানের কাছে যেএ নিরবে ফিসফিস করে বললো
_অফ যা নুবা,, নিজেকে ভাগ্যবতী মনে কর,আরাফ মির্জার মতো মানুষের তোকে চোখে ধরেছে,,
নুবা এক গাদা থুথু ফ্লোরে ফেলে বললো
_আপনার নজর তো সব মেয়ের উপড়েই পড়ে,,কবে না জানি নিজ বোন মায়ের উপর পড়ে যায়,,,
নুবার কথাটা বলতে দেরি,,আরাফের কষিয়ে থাপ্পর মারতে দেরি হয়নি,,
আরাফের থাপ্পর খেএ নুবা কাঁদতে কাঁদতে মৃদু হেসে উঠলো,,,বিরবির করে বললো
_ নিজের মা বোনের কথা শুনে খুব লেগেছে তাই না,,আমিও তো কারো মেয়ে,,কারো বোন,,তার বেলায়,,
আরাফ অধৈর্য হলো,,,নুবাকে কাছে টেনে বললো
_ অনেক হয়েছে,,এতো এতো ফিল্মি ডাইলোগ শুনতে এই আফার এখানে দাঁড়িয়ে নেই,,আর এক মূহুর্ত সময় নষ্ট করতে চাইছি না,,বিছানা রেডি আছে,,আমিও প্রস্তুত,, pleaseবিছানায় যেএ আমাকে উদ্ধার কর,,, অবশ্য তুই চাইলে ফ্লোরে ___
আর কোনো কথা বলতে পারলো না আরাফ তার আগেই নুবার সুচালো দাঁত গুলো আরাফের হাতে বসিয়ে দিলো,,,আরাফ নুবার হাত এক ঝাটকায় ছেড়ে দিলো,, পরপরই আর্তনাদ করে উঠলো
এই সুযোগে নুবা রুমের দরজা খুলে ভৌ দৌড় দিলো,,,,এক দৌড়ে দিক পাঁচ না চেয়ে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে গেলো,,
একটি বড়ো আধো আলো কক্ষে বসে আছে “আরহাম শাহরিয়ার মির্জা” কোলে তার ছোট্ট নবজাতক,,, ছোট্ট একটা পরি,,যার বয়স কিনা ১ মাসও হয়নি,,,
আরহাম শাহরিয়ার মির্জা নিরব দৃষ্টিতে ছোট্ট নবজাতকের দিকে তাকিয়ে আছে,,তবে তার বুকে আগুন জ্বলছে,,,তার ইচ্ছা হচ্ছে সব কিছু ধংস করে দিতে,,তবে সে মোটেও এমন নয়,,তাই সে চাইলেও নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে না,,
আরাফ মাথাত চুল খামচে ধরে রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে পড়লো,,রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে,,,ওই মেয়ের কত বড় সাহস তাকে প্রত্যাখ্যান করে,,আরাফের মন বলছে এখন নুবাকে হাতের কাছে পেলে কাঁচা চিবিয়ে খাবে,,,
রাতে ঘড়ির কাটা যখন ৮ টায় যেএ পৌঁছালো,,তখনি মির্জা বাড়িতে সকল লাইট গুলোর জ্বলে উঠলো,, মূহুর্তের মধ্যে ফাঁকা বাড়ি ভরে গেলো,, চিল্লাচিল্লি পড়ে গেলো,,
“হাজেরা আফা রাতের খাবার টা বানিয়ে দেও”
“হাজেরা আন্টি একটু পানি দেও”
হাজেরা এটা করো হাজেরা ওটা করো
হাজেরা বেগম আস্তে আস্তে সবার কাজ গুছিয়ে দিতে লাগলো ,,
আরাফ বারবার রুমে পাইচারি করছে,, বারান্দায় যাচ্ছে,,,এখনো রাগ কমেনি তার,,,শুধু মনে মনে ভাবছে “নুবা যেখানেই যাক না কেন তাকে ফিরতেই হবে”
আরাফের ভাবনা চিন্তার মাঝখানে তার মা আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করলো,,, বিচলিত কন্ঠে বললো
_ কিরে বাবা কখন এসেছিস,
আরাফ প্রথমে চকমকে উঠলেও নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো,, শান্ত কন্ঠে বললো
_ কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কারনে একটু আগেই ফিরেছি
আমিনা বেগম আফসোস করে বললো
_ ইস তুই তাড়াতাড়ি ফিরবি আগে জানলে হাজেরাকে না হলে নুবাকে রান্না টা সেরে ফেলতে বলতাম,,এখন না খেএ থাকবি
আরাফ মায়ের নিকটে এগিয়ে যেএ মুচকি হেসে বললো
_ এতো চিন্তা করো না আমি খেএ এসেছি
আমিনা হেঁসে মিষ্টি কন্ঠে বললো
_ আরো তাড়াতাড়িই আসতাম তোর বেয়াদব বোনটার আবার মার্কেটে যেতে হয়েছে,, প্রতিদিন ওর কিছু না কিছু লাগেই,,তাই দেরি হয়ে গেলো
_ সমস্যা নেই তুমি যেএ রেস্ট নেও আম্মু,,,আমি রান্না শেষ হলে আবারো খেএ নিবো,,
_ আচ্ছা,,,আসলে মনে হলো তুই চিন্তিত তাই আরকি,,যাক এখন রেস্ট নে,,,
নুবা ঘাপটি মেরে চুপচাপ বাড়িরির পিছনের বাগানে বসে আছে,,যেমন মানুসিক ভাবে দুর্বল সে তেমনি শারীরিক ভাবেও,,তার ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে আরাফ তাকে শুধু ব্যবহার করতে চেয়েছিলো,,যাকে বলে সুজোগের সৎ ব্যবহার,,ও দুঃখীত অপব্যবহার,,
নুবার চিন্তায় মাথা ফেটে যাচ্ছে,,,, যে ভেবে পাচ্ছে না সে কোন দিকে যাবে,,,বাড়ির ভিতরে যাবে,,যদি আরাফ থাকে,,,না গেলে কোথায় যাবে
অনেক চিন্তাভাবনার পর নুবা খেয়াল করলো বাড়িতে শোরগোল শোনা যাচ্ছে,,তাহলে কি সবাই চলে এসেছে,,??
হাজেরা বেগম কাজ করছেন আর একমাত্র কলিজার টুকরা মেয়েকে খুঁজেছেন,, কিন্তু মেয়েটা কোথায় গেলো খবর নেই,,
এবার হাজেরা বেগম আর না পেরে রান্না বসিয়ে লিভিং রুমে আসলো,,, পরপরই দেখলো আরাফ কপালে হাত দিয়ে বসে আছে,,,
হাজেরা বেগম আঁচলে হাত মুছে বললো
_ আরাফ বাবা নুবাকে কোথাও দেখেছো,,,এসে থেকে পাচ্ছি না,,কোথায় যে গেলো
আরাফ একটু খেকিয়ে উঠে বললো
_ আপনার মেয়ে কোথায় গেছে আমি কি করে জানবো,,যেএ দেখেন এই রাত করে কোন ছেলের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে,,, যত্তসব,,,
হাজেরা বেগম বিচলিত হলো,, অস্থির কন্ঠে বললো
_তুমি তো নুবাকে চিনো বাবা,আমার মেয়ে এমন না
আরাফ দাঁত খিটমিট করে বললো
_ হতে কতক্ষন সময় লাগে,,, ইদানিং আপনার মেয়ে কলেজে যাওয়ার নাম করে যা শুরু করেছে__
বলতে বলতে আরাফ চলে গেলো,,,
হাজেরা বেগম নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে বুঝতে পারছে না কি করবে,,, পরপরই পাশ থেকে আরশি বলে উঠলো
_ তাড়াতাড়ি করো আন্টি,, ক্ষুধা লাগছে,,
হাজেরা বেগম আরশির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ালো,,
_ দাঁড়াও মা হয়ে গেছে,,,
বলেই হাজেরা বেগম রান্না ঘড়ে চলে গেলো,,আরশি হাজেরা বেগম করে চিন্তিত দেখে তার পিছন পিছন গেলো,,নরম কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে আন্টি,,এতো চিন্তিত দেখাচ্ছে,,
হাজেরা বেগম হাতের কাজ সারতে সারতে বললো
_ আসার পর থেকে নুবাকে দেখছি না,,মেয়েটা আমার রাত করে কোথায় গেলো,,
_ গেছে হয়তোবা,,, এতো চিন্তা করো না তো,,
হাজেরা বেগম দিগুন চিন্তিত কন্ঠে বললো
_নুবা বাসা থেকেই বেড় হতে চায় না,,আর রাত করে___
আরশি ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে নরম কন্ঠে বললো
_ আরে চিল আন্টি,, তোমার মেয়ে বড় হয়েছে,,এখন আর ছোট্ট নেই যে এতো চিন্তা করবে,, হয়তোবা বন্ধু-বান্ধব এর সাথে গেছে,, তুমি তাড়াতাড়ি রান্না করো তো,,
_ ahhh,,, ছাড়ুন,,, ব্যথা লাগছে,,,আমি কিন্তু চিৎকার করবো,,,
আরাফ নুবার মুখ এক হাত দিয়ে চেপে ধরলো,,অন্য হাত দিয়ে নুবার দুই হাত বন্দি করে বললো
_ নে চিৎকার কর,,,
নুবার নিঃশ্বাস আটকে আসলো,,, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আরাফের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,,তবে আরাফ ছাড়লো না,,
নুবা মুখ দিয়ে “উম”উম” শব্দ করতে শুরু করলো,,এক পর্যায়ে নুবা না পেরে এবারো হাতে কামড় দেওয়ার চেষ্টা চালালো,,তবে পারলো না,,,
আরাফ নুবার চেহারার ডান পাশ দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো,,নুবা ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলো,,,বিরবির করে বললো
_ ছাড়ুন,,, আমার লাগছে,,,
আরাফ আরো শক্ত করে চেপে ধরে বললো
_ তুই দুপুরে আমার হাতে পড়লে,,তোর শরীর থেকে চামড়া আলাদা করে ফেলতাম,,, আমাকে ফাঁকি দেওয়া,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,,এতো সময় বাগানেই লুকিয়ে ছিলো,,আর আরাফ তাকে কোথায় কোথায় না খুঁজেছে,,,
আরাফ চোখ ঘুরিয়ে আশে পাশে তাকালো,,, পরপরই বলে উঠলো
_ বাসায় গিয়ে এখন কি বলবি,,কোথায় ছিলি এতখন,,,
নুবা উত্তর দিলো না,,আরাফ নুবার হাত মচকে ধরে বললো
_ যদি কাউকে কিছু বলেছিস তবে তোর লাশটাও কেউ খুঁজে পাবে না,,, এমন জায়গায় দাফন করবো কাঠ পক্ষিও টের পাবে না,,,
নুবা ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ আমি কাউকে কিছু বলবো না,,, ছাড়ুন,,,
_ মনে থাকে যাতে,,আর আমার থেকে দূরে দূরে থাকবি না হলে কখন তোর সাথে কি করে বসবো আমি নিজেও জানি না,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,,আরাফ নুবাকে ছেড়ে দিয়ে হাত ঝাকিয়ে কটমট করে বললো
_ বাসায় যা,,যেএ বলবি বন্ধুদের সাথে বাইরে গেছিলি,,,
নুবা কটমট দৃষ্টিতে আরাফ এর দিকে তাকালো,, পরপরই একটা দুঃসাহসী কাজ করে ফেললো,,,এক গাদা থুথু আরাফের মুখে ছুঁড়ে মারলো,,আর এক মূহুর্ত ওখানে না দাঁড়িয়ে দৌড়ে বাসায় ছুটে আসলো,,
আরাফ রাগে হতভম্ব হয়ে গেলো,, দাঁতে দাঁত চেপে চিৎকার করে বললো
_নুবাআআআআ,,,,
নুবা শাওয়ার নিচ্ছে,,বাইরে থেকে তার মা একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ছে,,রাগে যেনো নুবাকে দুটো বসাতে পারছে না
_ আমাকে না বলে তোর কোন বন্ধু বান্ধব জন্মমিয়েছে যে তাদের সাথে রাত করে বেড় হয়ে যাস,,
এভাবেই হাজেরা বেগম নুবাকে বকেই চলেছে,,নুবা চুপচাপ শাওয়ার নিচ্ছে,,তার কথা বলতে একদম ইচ্ছে করছে না,,,তার মাথায় একটা কথাই ঘুরছে “মানুষ এতোটা খারাপ কি করে হয়”
_ কি হলো বলছিস না কেন,, কোথায় ছিলি,,মুখে লাগাম টেনেছিস নাকি,,
নুবা মাথা মুছতে মুছতে বললো
_ ভালো লাগছে না,,দয়া করে চুপ করো,,,
_ কেনো চুপ করবো,, মানুষ মনে হয় না আমাকে,,তোর যা ইচ্ছে তাই করবি আর আমি চুপ করে থাকবো,,,
বলেই হাজেরা বেগম ফুঁপিয়ে উঠলো,,মেয়েটা তার বড্ড আদরের ,,নুবার কিছু হলে সে কি নিয়ে বেঁচে থাকবে,,একটি বারও কি নুবা ভাবে না,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মাকে জরিয়ে ধররো,, মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ হয়েছে,,আমি ঠিক আছি,,এতো টেনশন করো কেন,,
নুবা নিজের মায়ের চোখের পানি মুছে দিলো,,হাজেরা বেগম আহ্লাদে আটখানা হয়ে বললো
_ দুপুরে কি খেয়েছিলি,, খাবার নিয়ে আসবো ক্ষুধা লাগছে না,,হুম
নুবা শুকনো ঢোক গিলে মাথা নাড়ালো,,তার খাওয়া রুচি অনেক আগেই মরে গেছে,, কিন্তু সে চাইলেও তার মাকে না করতে পারবে না,, কারণ তা মাই তার জন্য সবকিছু,,আর তাকে কি করে কষ্ট দিবে,,
নুবা বারান্দায় বসে হালকা বাতাসে চুল গুলো ছেড়ে দিলো,,মনে মনে ভাবলো
মানুষ সত্যিই কি এতটা বদলে যেতে পারে? কখন যে বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, তা বোঝাও যায় না 💔সুযোগ পেলেই কেন যেন সবাই নিজের স্বার্থ খুঁজে নেয়, বিশ্বাস হারিয়ে যায় কোথাও ,বিশ্বাসের জায়গাটা এখন শুধু শূন্যতা আর কষ্টে ভরা।
মানুষকে চেনা যেন সবচেয়ে কঠিন একটা সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে…তবুও বুকের ভেতর কোথাও একটা প্রশ্ন রয়ে যায়—সবাই কি সত্যিই এমন?
