নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন
পাগল না তবে সাইকো,,,
নুবা তখন কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে আর তার মাকে পটি পটি করে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে বাড়িতে একটা পাগল এসেছে নাম তার আরহাম,,সে যাতে ভুলেও তার পাশে পাশে না যায়,, কারণ তার মা ব্যতিত তার এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই,,,
হাজেরা শুধু মেয়ের কথায় মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা মা,, তুই যা বলবি,,
নুবা পুরোপুরি রেডি হয়ে রুম থেকে বেড় হলো,,আগে আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো আরাফ আছে কিনা,,
পরপরই দেখলো না এখানে কেউ নেই,,নুবা আস্তে করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,তখনি কানে ভেসে আসলো কারো গুঙ্গানির শব্দ,,,যেনো কোনো ছোটো বাচ্চা কান্না করছে
নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,তার জানা মতে তো বাড়িতে কোনো বাচ্চা নেই,,, কিছু সময় চুপ করে থাকার পর মনে পড়লো,,আইস কালকে না বাসায় ছোট্ট একটা পরি আসলো,,,
নুবার সেই কথা মনে পড়েই নুবা এগিয়ে গেলো,,, লিভিং রুমে যেএ দেখলো আয়রা কান্না করছে,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো কারণ এই বাচ্চাকে সোফায় কে রাখলো যদি পড়ে যায়,,,
নুবা কাঁধের ব্যাগ রেখে আশে পাশে তকালো যে কেউ আছে কিনা,,না একটা মাছিও নেই,,,
নুবা আলতো করে যেএ আয়রাকে কোলো তুলে নিলো,, পরপরই তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করতে লাগলো,,, বাচ্চা টাকে তার কাছে প্রচন্ড ভালো লাগলো,, কান্না করতে করতে নাক গাল ঠোঁট লাল বানিয়ে ফেলেছে,, মনে হচ্ছে কোনো সাজানো পুতুল,,,
নুবার ধরনা নেই বাচ্চাদের কিভাবে সামাল দেয়,,তবু নুবা আয়রাকে থামানোর চেষ্টা চালালো,,,তবে আয়রা কান্না থামালো না,,নুবা বিচলিত হলো,,, পরপরই কিছু একটা ভেবে আয়রার গালে চুমু খেলো,,তাকে নিজ গালের সাথে ঠেকিয়ে দোল দিতে দিতে বললো
_ চুপ করো বাবু,,Your dad doesn’t like screaming. Please don’t cry,,, please ,,,
নুবা বুঝতে পারলো না বাচ্চা টাকে কি বলে সম্বোধন করবে,,, কারণ কোনো সম্পর্কই নেই তাদের ভিতরে,,না রক্তের না তাত্ত্বিক,,,
আয়রা ফুপাতে লাগলো,,সাথে নুবা স্পস্ট শুনতে পেলো আয়রার পেট থেকে কেমন অদ্ভুত শব্দ আসছে,,,নুবা নিজের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারলো আয়রার ক্ষুদা লেগেছে,,,
নুবা আয়রাকে বুকর সাথে আগলে নিলো,, বিচলিত হয়ে আশে পাশে তাকালো,,,সবাই যে কোথায় গেছে কে জানে,,,
এদিকে আয়রা ক্ষুধায় নুবার বুক হাতরাতে শুরু করলো,,,তার ছোট্ট ছোট্ট ঠোঁট দিয়ে নুবার বক্ষ স্থল ছুঁয়ে দিলো,,,নুবার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,,সাথে কেমন অদ্ভুত লাগলো,,,নুবা তাড়াতাড়ি আয়রাকে নিজের থেকে আলাদা করে সবাইকে খুঁজতে লাগলো,,,
অন্যদিকে আয়রা বারবার ক্ষুধার চোটে নুবার বক্ষ স্থল হাতরাতে শুরু করলো,,নুবা অস্থির হয়ে পড়লো,,এ যেনো সে মহা বিপদে ফেসেছে,,,মায়াও লাগছে আবার আয়রার কান্ডে নুবা uncomfortable ফিল করছে,,,
নুবা তাড়াতাড়ি ছাদে গেলো,,যেএ দেখলো সবাই ওখানেই,,ছাদ পরিষ্কার করা হচ্ছে কারণ এখানে বিয়ের কিছু অংশ অনুষ্ঠান হবে,,,
নুবা যেএ দেখলো আমিনা বেগম কয় একটা লোক ডেকেছে এবং তাদের কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে,,সাথে আরশিও আছে,,,আরহাম বিয়ের ফানশনের জন্য Wedding Decorator সাথে কথা বলছে,,,আরহামকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোথায় কি বসবে,,
নুবা বুঝতে পারলো না কার কাছে যাবে,,এক পলক সবার দিকে তাকিয়ে সে আমিনা বেগমের দিকে এগিয়ে গেলো,,
আমিনা নুবাকে দেখে বললো
_ তুই এখনো কলেজে যাসনি,,
নুবা আয়রাকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ ওর ক্ষুধা লেগেছে চাচি,, কান্না করছিলো,,
আমিনা ভুরু কুঁচকে বললো
_ ও তো আরাফের কাছে ছিলো আরাফ কোথায়,,
_আমি জানি না তো চাচি,,আয়ারকে আমি সোফায় পেয়েছি,কলেজে যাচ্ছিলাম দেখি কান্না করছে,,তাই নিয়ে আসলাম,,
আমিনা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,চোখ বড় বড় করে বললো
_ আরাফের বুদ্ধি লোপ পেয়েছে নাকি, বাচ্চাটাকে ওখানে রেখে চলে গেছে,,,আজ বাসায় আসুক,,
আমিনা আয়রাকে কোলে নিলো নুবা এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে পিছনে ফিরলো চলে যাওয়ার জন্য,,,আমিনা বেগম নুবাকে ডেকে বললো
_ আচ্ছা শুন নুবা,,
নুবা ফিরে তাকালো,,আমিনা নরম কন্ঠে বললো
_ বিয়ের আর বেশি দিন নেই মা,,,এই কয় দিন না হয় কলেজটা অফ দে,,বাসায় কত কাজ,,আর আয়রাকে দেখার জন্য আলাদা মানুষ প্রয়োজন হবে,,, তুই থাকলে একটু সাহায্য হবে,,,
_ কিন্তু চাচি সামনে আমার exam,,,
আমিনা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোর মাও অসুস্থ ওকে কি করে কাজে বলি,, ইচ্ছে হলেই বাড়িতে ২/৩ টা কাজের লোক রাখা যায় কিন্তু এই যুগে কাকে বিশ্বাস করবো,,তার উপর আরহাম ওকে নিয়ে আর এক ঝামেলা,,বাসায় অচেনা মানুষ ও আনা যথার্থ হবে না,, বুঝতেই তো পারছিস,,
আরশি পাশ থেকে বলে উঠলো
_ don’t worry নোবা,, class এর সব নোট পেয়ে যাবি,, আরাফ ভাইয়া কে বলে তোর class teacher এর সাথে বলিয়ে দিবোনে,,,
নুবা কিছু সময় ভেবে বললো
_ আচ্ছা,,,
আরশি এক গাল হাসলো,, তাড়াতাড়ি এসে নুবরা এক হাত পেঁচিয়ে ধরে ফিসফিস করে বললো
_ আমি বাড়িতে থেকে একা মরবো বোইন,, এবার থেকে আমি যেখানে তুই সেখানে,,না মানে যা করবো এক সাথে করবো ঠিক আছে,,
নুবা ঠোঁট বাঁকিয়ে আবারো মুখ গম্ভীর করে বললো
_ কক্ষনো না,,, তুমি একটা চতুর মাইয়া,, আমাকে ফাসাইয়া দিবা,,ভাই আমার এখনো বিয়া সাদি হয় নাই,,আমি তোমার সাথে থেকে মরতে চাই না,,,
আরশি নুবার গালে আলতো করে চাপর মেরে বললো
_ বড় বোনের কথা অমান্য করিস ছি,,,
নুবা মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ ছি,,ছোট বোনকে মরার ফাদে ছেড়ে আসো ছি,,
আরশি নতুজান হয়ে বললো
_ আমি ইচ্ছে করে করেছি বল,,ওই পাগল টাকে দেখলেই আমার ভয় হয়,, তুই দেখেছিস কোনো সময় ভাইয়ার সাথে আমাকে কথা বলতে,,
নুবা একটু ভেবে বললো
_ কালকেই তো আমি উনাকে প্রথম দেখলাম,,,তালহে বুঝবো কি করে তুমি কথা বলেছো কিনা,,
নুবা ড্রেস চেঞ্জ করে রান্না ঘড়ে দাঁড়িয়ে আছে,,তাকে আর আরশিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আয়রাকে খাওয়ানোর,,
নুবা আরশির কথা মোতাবেক দুধ তৈরি করছে,,,আরশি আয়রাকে নতুজান করে থামানোর চেষ্টা করছে,,,
নুবা ফিটার বানিয়ে হাতে দিয়ে দেখলো গড়ম কিনা তার পর আরশিকে ধরিয়ে দিলো,,,
আরশি আয়রাকে খাওয়াচ্ছে কিন্তু আয়রা কোনো মতেই খাচ্ছে না,, এদিকে আরশিরও তেমন বাচ্চা নিয়ে অভিজ্ঞতা নেই,,,আয়রা খেতেই চাচ্ছে না,,বারবার আরশির বুকের সাথে লেপটে মেকে ফেলছে,,যেনো সে এই দুধ খেতে চায় না,,,তার বুকের দুধ প্রয়জন,,,
আরশি অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে,,,প্রায় কান্না পেয়ে যাচ্ছে তার,,,
_ আমার মা,,খেএ নে ফুপু তোকে কত ভালোবাসে,,,না খেলে তোর বাপ আমাকে এসে পানিতে চুবানি খাওয়াবে,,খা না মা,,
এদিকে আরশির অবস্থা দেখে নুবা খিলখলি করে হাসছে,,,যত চিন্তা সব আরশির,,
আরশি নুবাকে হাসতে দেখে আর চোখে তার দিকে তাকালো,, পরপরই খেয়াল করলো আরহাম এদিকে আসছে,, কিন্তু নুবা নিচের দিকে চেয়ে হাসতেই আছে
আরশি বিরবির করে বললো
_ দারা দেখাচ্ছি মজা,,খুব হাসি পাচ্ছে না,,,
আরশি নুবাকে আদেশ করে বললো
_ নুবা বাবুকে একটু ধর তো,,আমি হাতটা ধুয়ে আসি পুরাই মেখে ফেলেছে,,,
নুবা অনেক কষ্ট করে নিজের হাসি থামিয়ে হাত বাড়িয়ে বললো
_ দেও,,,
আরশি মিচকে শয়তানের মতো হেসে নুবার হাতে আয়রাকে ধরিয়ে দিলো, অন্য হাতে ফিডার ধরিয়ে দিয়ে চুপচাপ সরে গেলো,,,
নুবা শরীরের ওরনা দিয়ে আয়রার মুখ মুছে নাক টেনে দিলো,,,আয়রার গালে হাত বুলিয়ে বললো
_ কেনো খাচ্ছো না পচু বাবু,,,ফুপি কত কষ্ট পাচ্ছে,,একটু খেলে কি হয়,, তোমার না ক্ষুধা লেগেছে,,,
আয়রা ড্যাব ড্যাব করে নুবার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলায়,,,নুবার আয়রার ঠোঁট ফুলানো এতো ভালো লাগে না পেরে তার গলুমলু গাল ঠেসে চুমু খায়,,,
আয়রা চোখ মুখ খিচে কান্না করে উঠে,,নুবা বেশ ভয় পেয়ে যায়,,তখনি নুবা শুনতে পায়
_ What are you doing with my child? (তুমি আমার বাচ্চার সাথে কি করছো)
এরকম কর্কশ কন্ঠে নুবার মস্তিষ্ক পুরাই নড়ে উঠে,,,নুবা দুই বার চোখের পলক ফেলে শুকনো ঢোক গিলে,,, পরপরই আস্তে, আস্তে মাথা তুলে তাকালো নুবা,,,
আরহাম কপাল কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,নুবা কি বলবে বুঝতে পেরে বললো
_ আ,,আমি ওকে ফিড করানোর চেষ্টা করছিলাম,,ওর কোনো ক্ষতি করিনি,, trust me,,
আরহাম ঝুঁকে আয়রাকে কোলে তুলে নিলো,,,বাবাকে পেয়ে আয়রা আয়রা কিছুটা শান্ত হলো,,,বাবার শার্টে নিজের দুধে মাখা হাত মুখে মুছে নিতে শুরু করলো,,,
আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বললো
_By feeding the children like this, you have made them dirty. (বাচ্চাদের এভাবে খাওয়ায়,,, তুমি তো ওকে নোংরা করে ফেলেছো)
নুবা মাথা নিচু করে নিলো,,হালকা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ sorry,,,
আরহাম নুবার হাত থেকে ফিডার নিয়ে নিলো,,পাশে বসে আয়াকে আলতো করে কোলে নিয়ে খাওয়াতে শুরু করলো,,আয়রা একটু বাহানা করলেও এবার পুরা খেএ উঠলো
এদিকে নুবা নাক ফুঁপিয়ে সামনে তাকিয়ে আছে কারণ আরশি সামনে দাঁড়িয়ে ঠোঁট টিপে হাসছে,,নুবা বুঝতে পারলো আরহামকে দেখেই তাকে ফাসানোর জন্য আয়রাকে তার কাছে দিয়েছে,,,
আরহামক মেয়েকে ফিড করানো শেষে কপালে চুমু খেলো,,,মেয়ের গাল ছুঁয়ে বললো,,
_ don’t worry,,papa is always by your side ma,,,(চিন্তা করো না,,পাপা সবসময় তোমার পাশে থাকবে মা)
নুবা আস্তে করে ওখান থেকে উঠে চলে গেলো,,,
আয়রা ঘুমিয়ে আছে তাকে বিছানায় শুইয়ে আরহাম কিছু পার্সেল unboxing করছে,,,বাড়িতে অনেক বড় বড় পার্সেল এসেছে,,সব আয়রার জন্য,,দোলনা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জিনিস আরহাম নিচে পছন্দ করে অর্ডার করছে,,,সাথে সব থেকে ভালো জিনিস টা মেয়ের জন্য বেছে নিয়েছে,,
তবে দুঃখ জনক ব্যপার হলো এই সকল পার্সেল আরশি আর নুবা টেনে হিচরে রুমে নিয়ে আসছে,, কারণ আরহমা আদেশ করেছে,,
নুবা আর আরশি রুমের এক পাশে বসে আস্তে আস্তে পার্সেল গুলো খুলছে,,,আরহাম অন্য পাশে এগুলো কোথায় কি থাকবে গোছাচ্ছে,,
দুই জন ভয়ে ভয়ে কাজ করছে ভুলেও বেশি শব্দ করছে না,,আর না কোনো ভুল করছে,,
এর ভিতরেই ঘটলো বিপত্তি আরশি একটা পার্সেল খুলতে যেএ ভিতরের কিছু জিনিস ভেঙ্গে ফেললো,,সাথে সাথে ভাঙ্গার বিকট শব্দ হলো,,,আরহাম বিরক্তি নিয়ে পিছনে তাকালো,,,আরশি শুকনো ঢোক গিলে ভাই এর দিকে তাকালো,,
নুবা কিছুটা দূরত্বে অবস্থান করলো,, কারণ এখন কি সে জানে না,,আরশিই বলেছিলো আরহাম ভুল পছন্দ করে না,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নিচে পড়ে থাকা জিনিস টার দিকে তাকালো,,,,,
আরশি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,আরহাম কঠোর কন্ঠে তাকে বকছে
_ থুমি কোনো কাছ ভালো মথো করতে পারোও না (তুমি কোনো কাজ ভালো মতো করতে পারো না)
আরশি শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ sorry ভাইয়া,,i will try my best but unfortunately ____
_ just shut up,,, you know that,, I don’t know this,,,
এদিকে আরশিকে থাপ্পর খেতে দেখে নুবার একটু ভালো লাগলো,, কারণ বুঝুক তার ভাই এর হাতের থাপ্পর কিরকম,,,এতো সময় অনেক কষ্ট করে হাসি আটকে রাখলেও আরহামের ইংরেজির মতো বাংলা শুনে নুবা ফিক করে হেসে দিলো,,,
তার ভাবতেই অবাক লাগছে আরহাম বাঙালি কিন্তু বাংলা কথা বলতে থতমত খায়,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা একটু ভয় পেলো,,আরহাম নুবার দিকে এগিয়ে যেএ বললো
_ what happened,, why are you laughing ,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ sorry,,
ব্যাস আরশি আর নুবা দুই জনেই গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, এদিকে আরহাম রেগে বলছে
_ একছন মার খেলো আর থুমি সহবেদনা প্রক্যাশ করার বদলে হাছছো,এটা কি রকম ভদতা,(একজন মার খেলো আর তুমি সহবেদনা প্রকাশ করার বদলে হাসছো ,,এটা কিরকম ভদ্রতা)
আরহামের এরপর ইংবংলা ভাষা শুনে আরশি আর নুবা চোখ মুখ খিচে হাসি আটকালো না হলে দুই জনি আবারো মার খাবে,,,
আরশি মনে মনে ভাবলো
” ভাইয়া তুমি please ইংরেজিতে কথা বলো না হলে তোমার কথা শুনে আমরা কথা বলতে ভুলে যাবো”
বলেই মনে মনে হেসে গড়াগড়ি খেলো,,,দুই নির্লজ্জ মেয়ে মার খেএ কান্না করাল বদলে মনে মনে হাসছে,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজের কাজে মনযোগ দিলো,,,নুবা আর আরশি চুপচাপ পিছন থেকে বের হতে লাগলো যে বাইরে যেএ দুই জন হাসবে তবে আরহাম বলে বললো
_ where are you going now ,,আমি তুমাতের যেতে বলেছি,,,
আরশি আর নুবা কোনো মতে দাঁতে দাঁত চেপে চুপচাপ রুমে প্রবেশ করলো
রুমের সব গুছিয়ে আরশি আর নুবা রুম থেকে বেড় হয়ে দৌড়ে আরশির রুমে চলে গেলো,, পরপরই হাসির রোল পড়ে গেলো,,এতো সময় বেশ কষ্ট করে হাসি আটকে রেখেছিলো
নুবা হাসতে হাসতে পেটে হাত দিয়ে বললো
_ তোমার ভাই বাংলার বলতে পারে না,,
আরশি বিছানায় শুয়ে খিলখিল করে হেসে বললো
_ আরে পারে,, কিন্তু ছোটো থেকে দেশের বাইরে থেকেছে তাই হয়তোবা গুলিয়ে ফেলেছে,,দেখলি না শুধু ইংরেজি ঝাড়ে,, বাংলা কি করে মনে থাকবে,,
_ তোমার ভাই এর বাংলা শুনলে যারা মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তারা আবারো মৃত্যু বরন করবে,,
বলেই দুই জন মিলে গড়াগড়ি খেতে লাগলো,,
আরাহাম high school এ থাকতে দেখে ছাড়ে,,কোনো একটা কারনে তাকে সবার থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়,,আরহামকে বিদেশেও কারো সাথে মিশতে দেওয়া হতো না,,,
France এ যেএ সুবিধাজনক ভাবে আরহাম ইংরেজি বেছে নেয়,,সেই বাংলার বদলে মুখে মুখে ইংরেজি চর্চা শুরু করছ,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫
তার উপর আরয়ার মা ইলোরাই আরহামের এক মাত্র সঙ্গী ছিলো,,ইরোলা ছিলো ইংরেজ বংশের,,,যার ফলে আরহামকে ইংরেজিতে কথা বলতে হতো,যাতে করে এস আরো গভীর ভাবে ইংরেজিতে আসক্ত হয়ে পড়ে,, আবার ছোটো বেলা থেকে ইংরেজি চর্চা করায় বাংলা প্রায় ভুলতেই বসে,,
অনেক বছর বাংলা চর্চা না থাকায় হঠাৎ করে বাংলা বলায় সে ইংরেজি বাংলা গুলিয়ে ফেলেছে,,তবে আরহামের মতে কয়দিন বাংলা চর্চা করলে সে নিজের আগের মতো শুদ্ধ বাংলা বলতে পারবে,,,
