Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৪ (২)

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৪ (২)

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৪ (২)
jannatul firdaus mithila

“ চাল ওঠ বান্দীর ছেলে! গাড়িতে বস।”
রূঢ় মানবের বাজখাঁই কন্ঠে ভ্রম ছুটলো আহত এডউইনের। ঝাপ্সা দৃষ্টিযুগল ভাব ধরেছে অনড়! দিশাহীন দ্বিধাদ্বন্দ্বতায় বুদ হয়ে আছে আহত মানব। নড়বড়ে মস্তিষ্কে কেবল চলছে —
“ সত্যিই দ্য হার্টলেস শ্যাডো মনস্টার এসেছে আমায় বাঁচাতে? আমার মতো কালপ্রিটকে যেচে বলছে গাড়িতে উঠতে?”

এডউইন নিস্তব্ধ! একদৃষ্টে চেয়ে আছে কেবল। মাফিয়া বিস্ট নির্বিকার ভঙ্গিতে সিগার ফুঁকছে। তার সুদর্শন মুখমণ্ডলের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে সিগারের কলুষিত ধোঁয়া! বিপরীত দিক থেকে এখনো গাড়ির গায়ে বর্ষিত হচ্ছে অনবরত অগ্নিসীসা। তবুও নিরুত্তাপ মাফিয়া বিস্ট! দাম্ভিকতার সঙ্গে গা এলিয়ে বসে আছে ড্রাইভিং সিটে। নির্বিকারে ডানহাতের মধ্যমা এবং তর্জনীর চাপায় আঁটকে রাখা মোটা সিগারখানায় বসাচ্ছে লম্বা লম্বা টান। এককথা দ্বিতীয়বার আওড়ানোর বদঅভ্যেস নেই মাফিয়া মনস্টারের। সে পরিপ্রেক্ষিতে সে কেমন শক্ত মুখে চোখ পাকিয়ে তাকাল এডউইনের পানে। এহেন দৃষ্টে ভড়কায় এডউইন। দূর্বল দেহের সঙ্গে আঁটকে থাকা পেশিবহুল হাতদুটো খানিক নাড়াতে চাড়াতেই কর্ণে পৌঁছুলো মনস্টারের চাপা হুংকার!
“ উঠবি? না আমার হাতের গুলি খাবি?”

সহসা দূর্বল হাতদুটো জমিনে ভর দিয়ে উঠে বসল এডউইন। উষ্ণ তাজা লহুতে জবুথবু বদনখানি টেনেটুনে কোনমতে উঠে এলো গাড়িতে। বেচারার আর গাড়ির দুয়ার আটকানোর ফুরসত মিললো না। তার আগেই হাওয়ার গতিতে টার্ন নিলো মাফিয়া বিস্টের গাড়িটি। ঘটনার আকস্মিকতায় ব্যাকসিটের গায়ে হেলে পড়েছে দূর্বল এডউইন! পরমুহূর্তে নিজেকে কোনমতে সামলে নিয়ে, তড়িঘড়ি করে দরজাটা টেনে লাগালো গাড়ির সঙ্গে। ওদিকে মনস্টারের দক্ষ হাত স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছে! স্পিড কাউন্টারের লাল রঙা কাটাঁটা ছোটাছুটি করছে ২৮০/ঘন্টার দোরগোড়ায়। এডউইন ত্রস্ত ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল। সাই সাই করে বেশকিছু গাড়ি ছুটে আসছে তাদের পেছন পেছন। অনবরত ছুড়ছে গুলি! অজানা আশঙ্কায় কন্ঠা শুকালো এডউইনের। ভীত-সন্ত্রস্ত নেত্রে দৃষ্টি ঘোরালো এদিক-ওদিক। ঠিক তখনি তার ঝাপসা দৃষ্টে আটকালো এক অদ্ভুত দৃশ্য। সম্মুখ থেকে হাওয়ার বেগে ছুটে আসছে দু’টো কালো রঙা এসইউভি গাড়ি।

দেখতে অবিকল মনস্টারের গাড়ির মতো! হতভম্ব বনে গেল এডউইন। বিস্ময়াবহে আঁটকে গিয়ে তার চোখদুটো হয়েছে অপলক। ওদিকে গাড়ি দু’টো হাওয়ার বেগে ছুটে এসে আচানক ওভারটেক করল মনস্টারের গাড়িকে। সহসা আঁতকে উঠে এডউইন! তড়িঘড়ি করে নজর ঘোরায় পেছনে। গাড়ি দু’টো কেমন সাপের ন্যায় এঁকেবেঁকে ইউ-টার্ণ নিচ্ছে। নিকসহ বাকিদের গাড়িগুলোর গতিরোধ হয়েছে খানিক। ততক্ষণে কালো রঙা এসইউভি গাড়ি দু’টো একযোগে এসে তাল মিলিয়েছে মনস্টারের গাড়ির সঙ্গে। তক্ষুনি এডউইনের নজর গিয়ে ঠেকল ফ্রন্ট মিররের দিকে। সেথায় প্রতিবিম্বিত হচ্ছে — দ্য গ্রেট রুশদী কিংয়ের দক্ষ কুটিল হাসি! মুহুর্তেই গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরল ৭৫° এঙ্গেলে। বা-পাশ থেকে অবিকল দেখতে গাড়িটা ওভারটেক করে এগিয়ে গেল সম্মুখে, ডানপাশের গাড়িটা স্লো-মোশনে পিছিয়ে গেল খানিক। মনস্টার তখন আলগোছে গাড়ি ঢোকালেন মধ্যকার ফাঁকা অংশে। তিনটে অবিকল দেখতে গাড়ি পালাক্রমে নিজেদের স্থান পরিবর্তন করছে! অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ায় বোঝা মুশকিল, আপাতত মনস্টার রয়েছে কোন গাড়িতে! ওদিকে পিছু নেওয়া গাড়িগুলো কেমন দিকবিদিকশুন্য হয়ে পড়েছে। ওভারটেক করতে চাইলেই পথ আঁটকায় ভিন্ন কৌশলে।

প্রায় মিনিট দশেক ধরে চলল এহেন কান্ড! এরইমধ্যে তিনটে অবিকল দেখতে এসইউভি গাড়ি ছুটে গেল তিন রাস্তার মোড়ে। অতঃপর চোখের পলকে গাড়ি তিনটে পথ ধরল তিনদিকে। তক্ষুনি একযোগে ব্রেক কষল পিছু নেওয়া গাড়িগুলো! দিকবিদিকশুন্য হয়ে থেমে রইল কিয়তক্ষন। নিক কেমন কটমট করছে! রাগ-ক্ষোভে সিটের গায়ে অনবরত পাঞ্চ বসিয়ে গর্জন তুলছে বারংবার। কটমটিয়ে শুধায়,
“ আবারও নিজের কুট-কৌশল কাজে লাগিয়ে বেঁচে গেলেন মনস্তার! তবে আর কতদিন? আপনার সেই বুদ্ধিদীপ্ত মস্তিষ্ক ঝং ধরার সময় হয়েছে। এবার শুধু সুযোগের অপেক্ষা!”

বিদঘুটে অন্ধকার যেন গিলে খাচ্ছে গহীন জঙ্গলটাকে। অদূর থেকে ভেসে আসছে খেকঁশেয়ালদের ম’রা কান্না। মনস্টারের গাড়ি থেমেছে জঙ্গলের দ্বার ঘেঁষে বয়ে যাওয়া নির্জন রাস্তায়। রূঢ় মানব কেমন নির্বিকার ভঙ্গিতে সিগার ফুঁকছে এখনো। ব্যাকসিটে বসে থাকা এডউইন ঘাড় ঝুঁকিয়ে রেখেছে অপরাধীত্বের ভারে। মাথা বরাবর চেপে রেখেছে আইস-ব্যাগ। সে-তো নির্দয় মনস্টার দিয়েছে বলে! এডউইন ঢোক গিলছে বারংবার। শুকনো জিভ ঠেলে শুষ্ক অধরজোড়া খানিক ভিজিয়ে নিয়ে কথা সাজালো মনে মনে। রয়েসয়ে আমতা আমতা স্বরে শুধালো,

“ ও-ওরা মে-মেয়েটার খবর পেয়ে গেছে মনস্তার!”
মুহুর্তেই থমকালো গাড়ির অভ্যন্তরের পরিবেশ। থমকাল যুবকের ঠোঁটের আগায় নিয়ে আসা সিগার ধরা হাতখানা। তীক্ষ্ণ হলো বাদামী অক্ষিপুট। যুবকের পিয়ার্সিং করা ঠোঁটের কোণে আচমকা উত্থাপিত হলো একটুকরো রহস্যময় বাঁকা হাসির ঝলক। পরক্ষণে ঠোঁটের ফাঁকে সিগার গুঁজতে গুঁজতে ভাবলেশহীন কায়দায় প্রতিত্তোরে আওড়াল,
“ সো হোয়াট?”
বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকায় এডউইন। হতবাকতার শীর্ষে পৌঁছাল গম্ভীর মানব। মনস্টার এ কথাটা শুনেও এতো শান্ত রইল কি করে? উনার রাগ হচ্ছে না? এডউইন কেমন হতবুদ্ধির ন্যায় তাকিয়ে আছে! এদিকে মুগ্ধ মহাশয় ফের চাবি ঢোকালেন গাড়ির ইঞ্জিনে। গাড়িতে স্টার্ট বসিয়ে গিয়ার টানতে টানতে শক্ত চোয়ালে কটমটিয়ে শুধায় সে,
“ এই পৃথিবীর বুকে এমন কোনো বাপের ব্যাটা এখনো জন্মায়নি, যে কি-না মন্সটারের কাছ থেকে তার বান্দীর মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে।যে আমার, সে আমৃত্যু শুধু আমারই। নো ওয়ান ক্যান ইভেন ডেয়ার টু টাচ হার! নো ওয়ান মিনস ফা’কিং নো ওয়ান!”

“ তুমি? নিজের বাড়িতে এভাবে মুখ লুকিয়ে ঘুরছো কেনো চাচ্চু?”
শ্যামপুরুষের এহেন বক্তব্যে চিবুক নামল তায়েফ সাহেবের। মলিন মুখখানায় তার ছেয়ে গেল একরাশ অস্বস্তি। তিনি কেমন হাসফাস করছেন। নজর লুকচ্ছেন এদিক-ওদিক। রৌদ্র কপাল গোছালো তা দেখে। কন্ঠে গাম্ভীর্যের ছাপ ফুটিয়ে সন্দিগ্ধতার সহিত গমগমে গলায় শুধালো,
“ আড়াল থেকে আমার কথা শুনছিলে?”
সহসা ভড়কায় তায়েফ সাহেব। চোখ উঠল আনমনে। চোখের ভাষায় একরাশ কাতরতা ফুটিয়ে লোকটা কেমন মোটা কন্ঠে বলে ওঠে,
“ সামনে থেকে সরে দাঁড়া রোদ। আমি ঘরে যাব!”
মধ্যবয়স্কের এহেন অযাচিত প্রসঙ্গ এড়ানোর উৎকন্ঠা দেখে ভ্রু-দ্বয়ের মধ্যকার ভাঁজ তীব্র হলো রৌদ্রের। বলিষ্ঠ দেহখানা হলো টানটান। সে সামনে থেকে সরার বদলে, উল্টো গা ছড়িয়ে দাঁড়াল। দৃঢ় চোয়ালখানা শক্ত করে ফুটিয়ে গমগমে গলায় ফের আওড়াল,

“ আর কতদিন এভাবে সত্যটা লুকিয়ে রাখবে চাচ্চু? ঠিক আর কতদিন? আচ্ছা.. তুমি না একজন বাবা? কি করে পারছো মেয়েটার জন্য কিছু না করে থেকে? কি করে পারছো চাচ্চু? যতবার তোমায় জিজ্ঞেস করেছি মুগ্ধের ব্যাপারে ঠিক ততবার তুমি নিজেকে আড়াল করেছো। প্রসঙ্গ ঘুরিয়েছ! এমনটা করে কি লাভ হচ্ছে তোমার চাচ্চু?”
মুখে রা নেই তায়েফ সাহেবের। ঘাড়ের হাড়ে বোধহয় ঝং ধরেছে তার! ফের ঝুঁকে এসেছে বেশ। এদিকে তার এহেন নির্বাকতা দেখে মেজাজ খিচল রৌদ্রের। তার মুখাবয়বে নামল এক আকাশসম রাগ! যুবক বোধহয় হিতাহিত জ্ঞান হারাল এপর্যায়ে। তক্ষুনি রাগের মাথায় সিঁড়ির লৌহ রেলিঙে আঘাত বসালো জোরালো মুঠোর। আর ওমনি ঝনঝনিয়ে উঠল নিরবতায় মুদে থাকা চারপাশ। সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নতমুখী তায়েফ এহসান সহসা বুঁজে নিলেন নিজ চোখদুটো। রৌদ্র কেমন কটমট করতে করতে পা বাড়াল উল্টোপথে। দু’টো কদম এগোতেই পেছন থেকে হুট করে শোনা গেল — তায়েফ এহসানের ভারী কন্ঠ!

“ ২৪ বছর আগে সদ্য পাশ হওয়া বিসিএস ক্যাডার হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছিলাম আমি। চাকরীতে জয়েন্ট হবার ২৫দিনের মাথায় হঠাৎ থানার ফ্যাক্স বক্সে একটা মেইল এলো।”
থামলেন তায়েফ এহসান। চোখদুটো তার ঠেকিয়ে রাখা সিলিংয়ের দিকে। অক্ষিকোটর হয়েছে ছলছল! রৌদ্র ঘুরে দাঁড়াল ততক্ষণে। চটজলদি কদম পিছিয়ে এসে দাঁড়ালো চাচ্চুর মুখোমুখি। তায়েফ এহসান দূর্বল মানুষ! মেয়েটার অনুপস্থিতিতে অপরাধবোধে ভুগতে থাকা মানবের সর্বাঙ্গের প্রতিটি রন্ধ্রে বুঝি ধরা দিয়েছে অবসাদ! সে পরিপ্রেক্ষিতে পাদু’টোর শক্ত হাড়ে দূর্বলতা নামল অচিরেই। শক্তপোক্ত মানুষটা হাঁটু ভেঙে বসতে উদ্যোত। সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন তৎক্ষনাৎ হাত বাড়াল সাহায্যের। নিজ উদ্যোগে চাচ্চুকে ধরে ধরে বসাল সিঁড়ির ওপর। তায়েফ এহসান খানিক সময় নিলেন। অতঃপর ফের আওড়াতে লাগলেন,
“ একদিন একটা ফ্যাক্স এলো। যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিলো — কলকাতার এক কুখ্যাত অপরাধী বাংলাদেশে গা লুকিয়ে বসে আছে। ভারত সরকার সেই কুখ্যাত অপরাধীকে নিজেদের জিম্মায় চান! অপরাধীর নাম ছিল — শ্যামৌপ্তি দেবী রায়। তার বিরুদ্ধে ছিল বেশকিছু অভিযোগ। তন্মধ্যে একটি ছিল — বেআইনী অস্ত্রপাচার, নারীপাচার ইত্যাদি। আমার মাথায় তখন, নিজের ক্যারিয়ারকে উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে যাওয়ার এক প্রবল আকাঙ্খা! নিজে থেকে হাতে নিলাম কেসটা। মাত্র ২মাসের চিরুনী অভিযানে অবশেষে ঘোড়াশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুঁজে পেলাম অপরাধীকে। বাহিনী নিয়ে ছুটে গেলাম তাকে ধরতে। তবে গিয়ে দেখলাম…. ”
থামলেন তায়েফ এহসান। এপর্যায়ে কন্ঠ কাঁপছে তার। চোখদুটোর কোটর ছাড়িয়ে টুপ করে গালের ওপর গড়িয়ে পড়ল একফোঁটা নোনাজল। তিনি কেমন কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আবারও শুধালেন,

“ এক অপরূপা যুবতীকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশি গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। অপরূপা কাঁদছিল! সে-কি হৃদয় নিঙড়ানো করুণ কান্না তার। বারবার সবাইকে ধরে বলছিল — আমি কিচ্ছু করিনি। আমি নিরপরাধ। তখন কেউ শোনেনি তার কান্না ভেজা কন্ঠ! আমিও কানে তুলিনি। পুলিশের মন, অপরাধীর প্রতি কঠিন না হলে কি আর চলে? আমিও কঠিন ছিলাম সেদিন। বাজখাঁই কন্ঠে মেয়ে কনস্টেবলকে আদেশ দিয়েছিলাম — তাকে গাড়িতে তুলতে। কনস্টেবল তাই করল। অপরূপাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলল। আমি পিছু ঘুরে নিজের গাড়ির দিকে এগোতে গেলেই কোত্থেকে যেন একজোড়া নরম তুলতুলে হাত এসে আচানক আঁকড়ে ধরল আমার বাহাত। আমি তৎক্ষনাৎ ঘাড় বাকিয়ে তাকাতেই দেখি —একটা নাদুসনুদুস বাচ্চা আমার হাত আঁকড়ে ধরেছে! বাচ্চাটার চোখেমুখে ছিল এক রাজ্যসম মায়া। বয়স আর কত হবে? বড়জোর — ৫/৬। মায়াবী গোলগাল মুখটা তার লাল হয়েছিল অধিক কান্নার ফলে। তার বাদামী দু’টো চোখ আমার দিকে অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে থেকে, কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল,

“ আঙ্কেল! আঙ্কেল দয়া করে আমার আম্মাকে ছেড়ে দিন। আমার আম্মা কিচ্ছু করেনি। আঙ্কেল দরকার হয় আপনি আমাকে শাস্তি দিন, তবুও আমার আম্মাকে ছেড়ে দিন। ও আঙ্কেল! আঙ্কেল, ছেড়ে দিন না আমার আম্মাকে। আঙ্কেল, আমি আপনার পায়ে পড়ছি আঙ্কেল!”
বলতে বলতেই বাচ্চাটার নরম হাতদুটো আমার পা আঁকড়ে ধরে। অনবরত কান্না জুড়ে আবারও নিজের মা’কে ছাড়ানোর আবদার করে। অথচ আমি? আমি স্রেফ নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অপরাধীর সাজা তো হবেই। বাচ্চা ছেলেটা থোড়াই জানে তার মা অপরাধী! ওদিকে পুলিশি গাড়ি থেকে আরেকজন কন্সটেবল তখন ছুটে এসে জোর করে বাচ্চাটাকে নিয়ে গেল আমার চোখের সামনে থেকে। বাচ্চাটা তখনও চিৎকার করে আমায় ডাকছিল। আমি শুনেছি! বুকে পাথর বেঁধে চুপ করে শুনেছি তার কান্না। সেদিন প্রায় বিকেল নাগাদ বাংলাদেশ বর্ডার পার করে অপরাধীকে পাঠানো হয় ভারতের মাটিতে। সঙ্গে আমার যাওয়ার কথা থাকলেও আমি সেদিন যাইনি। কিন্তু…. ”

কন্ঠরোধ হলো তায়েফ এহসানের। হাত-পায়ে শুরু হলো অজানা কম্পন। রৌদ্র কপাল গোছালো! উদ্বিগ্ন হয়ে তক্ষুনি চেপে ধরল চাচ্চুর দু’হাত। লোকটার হাত-পা কেমন ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে! অনবরত কাঁপছে সর্বাঙ্গ! তবুও তায়েফ এহসান আবারও বলা শুরু করলেন,
“ কিন্তু… কিন্তু… ঠিক ২দিন পর আবারও ফ্যাক্স পেলাম — দূর্বৃত্তের গু লি তে নিহত হয়েছে শ্যামৌপ্তি রায়। কলকাতা থেকে আদেশ এসেছে — তার শেষকৃত্যে আমি যেন সেখানে উপস্থিত থাকি। তাই সেদিনই রওনা হলাম কলকাতার উদ্দেশ্যে। ঠিক ৬ঘন্টা পর গিয়ে পৌঁছালাম লোকেশনে, যা ছিল কলকাতার শোভা বাজারে। সেখানকার অত্যন্ত পুরনো এক রায় জমিদার বাড়ি! মানুষে গিজগিজ করছিল সেখানে। কোনরকমে ভীড় ঠেলে বাড়ির অন্দরমহলে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখলাম — বাইরে যতটা ভীড় ছিল, ভেতরে ততটাই সুনশান নিস্তব্ধতা। কোথাও কেউ নেই! আমি হতবুদ্ধির ন্যায় হাঁটতে হাঁটতে অন্দরমহলের বা-দিকে পা বাড়াই। আশ্চর্যের বিষয় ছিলো — অন্দরমহলের সবকটা দরজা বাইরে থেকে তালা দেয়া থাকলেও একদম শেষের দিকের একখানা ঘরের দরজার একপাশ খুলে রাখা। সন্দেহের বশে সেদিকে এগোই। একহাতে দুয়ারের অন্যপাশ ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখি…. ”

কাঁপন বাড়ল তায়েফ এহসানের। ভয়ে তটস্থ তার সর্বাঙ্গ! রৌদ্র দিকবিদিক হারাচ্ছে এপর্যায়ে। তড়িঘড়ি করে চাচ্চুর হাতদুটো মুঠোয় চেপে ধরে আওড়ায়,
“ চুপ করো চাচ্চু! আর বলতে হবে না। তুমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছো।”
আজ যেন বাঁধ মানতে নারাজ তায়েফ সাহেব। কাপত্রয়ী কন্ঠে আচমকা ডুব দিলেন অতীতে।
অতীতঃ-
তায়েফ এহসানের ব্যস্ত পদযুগল আচানক আবদ্ধ কামরায় প্রবেশ করতেই থমকে গেল যেন। চোখদুটো হলো বিস্ফোরিত! গোয়াল ঘরের ন্যায় কক্ষে একখানা ছোটখাটো চৌকিখাট। সেথায় নিষ্প্রাণ আকারে পড়ে আছে শ্যামৌপ্তি রায়ের অর্ধ ন গ্ন নিথর দে হ। বুকের ঠিক মাঝখানে পরপর তিনটে গু লি র ছাপ। চোখদুটো হা করে খুলে রাখা তার। সর্বাঙ্গে লেপ্টে আছে অসংখ্য আঁচড়ের ছাপ। লহুতে ভিজে একাকার অবস্থা চৌকির বদন! তায়েফ সাহেব তক্ষুনি চোখ ঘোরালেন অন্যত্র। সর্বাঙ্গ কাঁপছে তার, হাতদুটোয় নেমেছে অসারতা। নি থ র অপরূপার সঙ্গে যে খুব একটা ভালো কিছু হয়নি, তা বুঝতে বিচক্ষণ মস্তিষ্ক তার খুব একটা সময় নিলো না। তায়েফ সাহেব কেমন দাঁত কিড়মিড় করছেন। হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে যেই না পেছনে ঘুরবেন ওমনি কে যেন পেছন থেকে দু’হাতে ভেতরের দিকে ঠেলে দিলো তায়েফ সাহেবকে। এহেন অতর্কিত আক্রমণে তাল সামলাতে না পেরে তক্ষুনি সম্মুখের নোংরা মেঝেতে ছিটকে পড়েন তায়েফ সাহেব। ধুলোপড়া অভিলেখাগারের ছাতাপড়া জমিনে সশরীরে উবুড় হয়ে পড়তেই ব্যথায় চোখমুখ খিঁচে নিলেন তিনি।

কিয়তক্ষন গোঙালেন চাপা স্বরে। পরক্ষণে নিবুনিবু চোখজোড়া ধীরেসুস্থে নিজেদের পর্দা সরাতেই সম্মুখের মেঝেতে দৃশ্যমান হলো এক অতি ক্ষুদ্র মানব দেহ। তাজা লোহুতে আচ্ছাদিত ক্ষুদ্র বদন তার, মাত্রই আকার ধরেছে মানব শরীরের। মাথাটা সম্পূর্ণ গঠন হয়নি এখনো! হাতপায়ের আঙুলগুলো অস্পষ্ট। গায়ে তার ভনভন করছে মাছির দল। মুহূর্তেই ঝটকা খেল তায়েফ সাহেব। চক্ষু ছানাবড়া করে ধীরে সুস্থে ফের নজর উঠালেন চৌকিতে পড়ে থাকা শ্যামৌপ্তি রায়ের পানে। মেঝেতে পড়ে থাকা ক্ষুদ্র মা ন ব দেহের সঙ্গে এখনো সংযোগ বিদ্যমান তার। তা চোখে পড়তেই আচমকা বাঁধ ভাঙা চিৎকারে ভেঙে পড়েন তায়েফ সাহেব। সবকিছুর জন্য নিজেকে দোষাচ্ছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে মুখ লুকচ্ছেন নোংরা মেঝেতে। এ কি করলেন তিনি? কোন গজবের কাছে মেয়েটাকে হস্তান্তর করলেন? এতোটা পাষাণ কর্মকাণ্ড কেউ কি করে করতে পারল? কেনো তিনি হস্তান্তর করলেন মেয়েটাকে?

ভাবতে ভাবতেই নিজ চুলের গোছা খামচে ধরলেন তায়েফ এহসান। দু’হাটুতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন কোনরকম। নজর ঝুঁকিয়ে রেখে তড়িঘড়ি করে নিজ গা থেকে শার্টখানা খুলে এনে আলতো করে ছড়িয়ে দিলেন অর্ধ ন গ্ন মানবীর গায়ে। ঠিক তখনি ঘরের দরজাটা খুলে গেল খট করে। একজোড়া ব্যস্ত কদম কেমন হড়বড়িয়ে ঢুকলেন কক্ষে। তায়েফ সাহেব পাথর হলেন। মুখাবয়বে একরাশ আগুন লেপ্টে সম্মুখে তাকাতেই দেখলেন — কলকাতার সেন্ট্রাল থানার ওসি সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন। লোকটা কেমন বিরক্ত! তিনি এগিয়ে এসেই খপ করে চেপে ধরলেন তায়েফ সাহেবের কনুই। অতপর মানবকে টানতে টানতে ঘর থেকে বের করে এনে দাঁত খিঁচে আওড়ালেন,
“ ডে থ স্পটে গিয়ে কি করছিলেন আপনি? আপনার গা উদোম কেনো? মেয়ে দেখলে হুঁশ থাকে না? অন্তত প্রাণ আছে কি-না দেখে নিতেন।”

আকাশ থেকে পড়লেন তায়েফ সাহেব। হতভম্বতার নজরে নিজে থেকেই ভর করালেন এক আকাশসম ঘৃণা। চোয়ালের পেশি টানটান করে যেই না কিছু আওড়াবেন, ওমনি তার আনমনে দৃষ্টি গিয়ে থমকাল — পাঁচ হাত দুরত্বে পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা নাদুসনুদুস বাচ্চাটার পানে। মুহুর্তেই কন্ঠরোধ হলো তায়েফ সাহেবের। তিনি কেমন নিষ্পলক ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছেন বাচ্চাটার পানে। কাল যে বাদামী চোখদুটোতে রাজ্যসম কাতরতা ছিল, আজ সেথায় অঢেল ঘৃণা। ঐটুকুন গোলগাল মুখটা সে-কি শক্ত হয়েছে তার। রাগে থরথর করে কাঁপছে চোয়াল! তায়েফ সাহেব ভড়কালেন। কদম বাড়িয়ে বাচ্চাটার দিকে এগোতে গেলেই পাশ থেকে ওসি সাহেব দিলেন এক ধমক! চিড়বিড় করতে করতে তায়েফ সাহেবকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেলেন নিজের সঙ্গে করে। অথচ তায়েফ সাহেবের ঠায় দৃষ্টি এখনো নিষ্পলক বাচ্চাটার বাদামী চোখদুটোতে নিবদ্ধ! পারছেনা ঐ চোখদুটো তাকে আস্ত গিলে খেতে। বাচ্চাটা কি তাকে ভুল বুঝল? সে কি সত্যিই ভাবল সে অন্যায় করেছে?

বর্তমানঃ
মুহুর্তেই অতীতের ঘোর ভাঙল তায়েফ সাহেবের। বুকের ওঠানামার গতি বেড়ে গিয়েছে তার। সর্বাঙ্গ ঘামছে দরদর করে। বুকের বাঁপাশে যা যন্ত্রনা হচ্ছে না! তায়েফ সাহেব তক্ষুনি লুটিয়ে পড়লেন সিঁড়ির গায়ে। ওদিকে রৌদ্র অস্থির! অস্থিরতায় গলা উঁচিয়ে ডাকছে পরিবারের সকলকে। তায়েফ এহসান চোখ বুজছেন ক্রমশ। ফ্যাকাশে অধরযুগলের মধ্যকার ফারাক দিয়ে অস্ফুটে আওড়াচ্ছেন,
“ আমি…আমি না চাইতেও শ্যামৌপ্তি দেবীর খু নি। আমি.. আমার..আমার পাপের শাস্তি আমার.. আমার মাহি’কে পেতে..পেতে.. পেতে….দিব না। আমার মাহি..আমার মা…”

নীল রঙা ড্রিম লাইটের আলোয় ডুবে আছে সপ্তদশী’র কক্ষ! মখমলের তুলতুলে বিছানায় গা ডুবে আছে তার। গায়ের ওপর আলতো করে জড়িয়ে রাখা একখানা মোটা ব্ল্যাঙ্কেট। যা ঠান্ডা পড়েছে না! ক্লান্তিতে বড্ড জোরালো ঘুমে আচ্ছন্ন সপ্তদশী। কিউটি ছানা আজও লুকিয়ে আছে মানবীর বুক পিঞ্জরের উষ্ণ ছায়ায়। এরইমধ্যে নীরবতার মোটাতারে ছেয়ে থাকা কক্ষে ধুপধাপ পায়ে প্রবেশ করলেন মাফিয়া মনস্টার। তার মুখাবয়বে নেই বিন্দুমাত্র উদ্বেগ! সেথায় লেপ্টে আছে একরাশ নিস্পৃহতা। সে কেমন জোরালো কদমে নিঃশব্দে এগিয়ে এসে দাঁড়াল মাহি’র বিছানার কাছে। বাঁহাতে আলগোছে সরালো সম্মুখের বেডস্ট্যান্ডে ঝুলতে থাকা সফেদ রঙা ফিনফিনে পর্দা। কুঁচকান দৃষ্টে ঘুমন্ত মাহি’র মুখপানে তাকাতেই মসৃণ ললাটে গোটাকতক ভাঁজ পড়ল রূঢ় মানবের। মুখাবয়বে বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে মনে মনে ভাবল — এইটুকুন একটা মেয়ের জন্য এতগুলো মানুষ কি-না উঠেপড়ে লেগেছে? আহহা! দুনিয়ায় মানুষ কত আজাইরা!
কথাটুকু ভাবতে গিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটল রূঢ় মানবের অধর কোণে। দৃষ্টি হলো সংকুচিত! সে খানিক আলগোছে ঝুঁকে এলো ঘুমন্ত মাহি’র মুখের ওপর। নিজ বাদামী চোখদুটোর কুচকুচে কালো মণিদ্বয় নাচিয়ে, মেয়েটার মুখমণ্ডলের প্রতিটি রেখায় নিখুঁত অবলোকন চালিয়ে মনে মনে ফের বিড়বিড়ালো,

“ ওরা কতবড় পাগল বান্দীর মেয়ে! ওরা কি-না তোকে ছুঁতে চাইছে? যার পিছে স্বয়ং রুশদী কিং দাঁড়িয়ে, তাকে ছোঁয়ার সাধ্যি করতে এলে যে ধ্বংস নিশ্চিত! ওরা কি জানে না?”
ঘুমন্ত মেয়েটার কাছ থেকে থোড়াই উত্তর এলো! রূঢ় মানব কেমন কপাল গোছালো অসন্তুষ্টিতে। তক্ষুনি নিজ রুক্ষ দু’হাত আলগোছে বাড়িয়ে দিলো ঘুমন্ত মাহি’র কোমর এবং ঘাড়ের নিচে। অতঃপর যুদ্ধে গমনোদ্যত সৈনিকের কাঁধে বাঁকান ধনুক তুলবার ন্যায়, ঘুমন্ত সপ্তদশীকে নিজ প্রশস্ত কাঁধে তুলে নিলেন মহাশয়। ঘুমের ঘোরে এহেন অতর্কিত আক্রমণে ভড়কায় মাহি। তক্ষুনি আলগা হলো তার সাধের ঘুম। ঘুমন্ত মস্তিষ্ক হুটহাট জাগ্রত হবার টের পেতেই হকচকায় মাহি। হকচকান কন্ঠে আঁতকে বলে ওঠে,
“ কে? কে? কে নিয়ে যাচ্ছে আমায়? কোথায়? কোথায় আমি? ক-কে আপনি? বিস্ট! বিস্ট কোথায় আপনি? আমাকে কে যেন নিয়ে যাচ্ছে। ধরুন আমায়। বাঁচানননন!”
মেয়েটার এহেন অনবরত চিৎকারে কপাল গোটায় মাফিয়া বিস্ট। তিতিবিরক্ততায় তক্ষুনি চিড়বিড়িয়ে বলে ওঠে,

“ শাট আপ বান্দীর মেয়ে!”
মুহুর্তেই স্থবির হলো মাহি। মস্তিষ্ক তার, সচল হতে সময় নিলো মিনিট খানেক। অতঃপর নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়েটা কেমন ঘুম জড়ানো আদুরে কন্ঠে বলে ওঠে,
“ কই নিচ্ছেন আমায়? উফফ! রাতটায় অন্তত না জ্বালালে নয় কি?”
প্রতিত্তোর করেনি মাফিয়া বিস্ট। পায়ের গতি জোরালো তার। এগোচ্ছে এলিভেটরের পানে। সপ্তদশী খানিক হামি টেনে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কোথায় যাচ্ছি?”
ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে এলিভেটরে পা রাখল মুগ্ধ। প্রতিত্তোরে ঠেস মে’রে বলে উঠল,
“ ম’রতে!”

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে ওপরে উঠছে মুগ্ধ! কাঁধে তটস্থ হয়ে পড়ে আছে মাহি। চোখমুখ খিঁচে রেখেছে ভয়ার্ত মানবী! অদূর থেকে ধেয়ে আসছে জংলী কুকুরদের ম’রা কান্না। এ নিয়ে ভয়ের শেষ নেই মেয়েটার। শেষে না পারতে হুট করেই বলে বসল,
“ আমার ভ-ভয় লাগছে!”
সিগার ফুঁকতে মত্ত রূঢ় মানব। কর্ণকুহরে মেয়েটার ভয়ার্ত কন্ঠ পৌঁছাতেই কপালের চামড়ায় ভাঁজ স্পষ্টতর হলো তার। মুখাবয়বে বিরক্তির ছাপ লেপ্টে কর্কশ গলায় শুধালো,
“ তো আমি কি করব? পাহাড়ের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে সোহাগ করব?”
মুখ কুঁচকায় মাহি। লোকটার সাথে নরম কন্ঠে কথা বলে ঘাট হয়েছে তার! ঘটে বুদ্ধি থাকলে আর কখনো বলবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে গিয়েও হোঁচট খেল বেচারি। চোখদুটো খিঁচে পড়ে রইল মানবের কাঁধে।

পেন্টহাউজের প্রশস্ত কাঁচের সদর দরজা পেরিয়ে মাত্রই প্রবেশ করল মাফিয়া বিস্ট। পেন্টহাউজের দায়িত্বরত সকল গার্ডস তক্ষুনি নজর ঝোঁকালেন নিজেদের। কেউ কেউ হাঁটু গেঁড়ে জানালেন কুর্নিশ। মাফিয়া মনস্টার নিরুদ্বেগ সেদিকে। ধুপধাপ পায়ে নিরবে এগিয়ে গেল সিঁড়ির দিকে।

কাঁচের স্বচ্ছ স্লাইডিং দরজার নবে দু-আঙুল ঢুকিয়ে আচানক কক্ষের দুয়ার খুলল মুগ্ধ। মেয়েটাকে এর আগে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, আজও ঠিক সে-ই কক্ষেই নিয়ে আসা হয়েছে তাকে। ট্রান্সপারেন্ট কাঁচের ফ্লোরে জোরালো কদমের ছাপ বসিয়ে, দাম্ভিক পুরুষ এগিয়ে গেলেন মখমলে গোলাকার বিছানার কাছে। পাদু’টোয় রুখ টেনে, কোনরূপ আগাম সতর্কসংকেত ছাড়াই মেয়েটাকে আচানক কাঁধ থেকে নামিয়ে ছুঁড়ে ফেলল বিছানার কোলে। এহেন ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকায় মাহি। চোখদুটোর পর্দায় সদ্য ভর করা ঘুমটুকু তার মুহুর্তেই উড়ে গেল হাওয়ায়। মেয়েটা কেমন হা করে তাকিয়ে আছে দেখো। রূঢ় মানব পাত্তা দিলো না সেদিকে। উল্টো চোয়াল শক্ত করে গমগমে গলায় শুধালো,
“ ঘরের বাইরে পা রাখলে, একদম হাত-পা ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে দিব। গট ইট?”
প্রতিত্তোরে নিশ্চুপ মাহি। আশেপাশে নজর বুলিয়ে নিজেকে সামলালো মুহুর্ত ব্যয়ে। চারপাশে ঘোর অন্ধকার! আকাশের বুকে লেপ্টে থাকা কালো মেঘগুলো কেমন দানবের ন্যায় দেখাচ্ছে। মেয়েটা ঢোক গিলল পরপর। রূঢ় মানব উল্টোপথে পা বাড়ালেই সে কেমন হড়বড়িয়ে বলে উঠল,

“ আমি ঘুমাব।”
থামল মুগ্ধের চলন্ত পদযুগল। ঘাড় বাকিয়ে কপাল কুঁচকে তাকাল পেছনে। দৃষ্টিতে সরু ভাবস্রোত ঢেলে কর্কশ কন্ঠে শুধালো,
“ তো যা না রে বান্দীর মেয়ে! তোকে ধরে রেখেছে কে? না-কি আমাকে লাগবে ঘুমানোর জন্য? দেখ বান্দীর মেয়ে, আমি সঙ্গে থাকলে কিন্তু আজ রাতে তোর ঘুমানো হারাম হয়ে যাবে। তাই ভেবেচিন্তে কাছে ডাকিস! ইউ্য নো না? আ’ম আ পিওর ব্যাড বয়।”
মুখগহ্বরে অলক্ষ্যে দাঁত খিঁচল মাহি। নাকের পাটা ফুলিয়ে রাগ্বানিত কন্ঠে আওড়াল,
“ মুখ খুললেই উল্টাপাল্টা কথা বেরোয় তাই-না? আপনাকে আমি বলেছি আমার কাছে আসতে? আমি বলেছি, আমি ঘুমাব, আর আপনি…”

“ আমি?”
মুগ্ধের এহেন সন্দিগ্ধ পাল্টা প্রশ্নে বাক্যটুকু অপূর্ণ রয়ে গেল মাহি’র। জিভের ডগা জলশূন্য হলো আবারও। সে খানিক ঢোক গিলে মিনমিনে স্বরে বলল,
“ এ ঘরেই বসে থাকবেন। আমার ভয় লাগছে!”
সহসা চোয়াল শক্ত হলো রূঢ় মানবের! কপালের চামড়ায় বাড়ল ভাঁজের ছাপ। দাঁত কপাটি একে-অপরের সনে রুষ্ট চাপে পিষতে পিষতে, সে কেমন চিড়বিড় কন্ঠে বলে ওঠে,
“ হোয়াট দ্য ফা’ক বান্দীর মেয়ে! আমার মতো হ্যান্ডসামকে তোর কেয়ারটেকার মনে হচ্ছে?”
ভাবলেশহীন মাহি! নিস্পৃহ ভঙ্গিতে মুখের সামনে হাত নাড়ালো মাছি উড়াবার ন্যায়। আজ যেন সাহস বেড়েছল তার। তাই তো নির্লিপ্ত কন্ঠে জবাব দিলো,
“ উঁহুম! কেয়ারটেকার তো ভালো পদ। আপনাকে দারোয়ানের চেয়ে বেশিকিছু মনে হচ্ছে না।”
মুহুর্তেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে মাফিয়া বিস্ট। গটগটিয়ে এগিয়ে এসে আচানক আঁকড়ে ধরে মাহি’র সুকোমল গ্রীবাদেশ। দাঁত খিঁচে গর্জন তুলে বলে ওঠে,
“ এ্যাই বেয়াদবের বাচ্চা এ্যাই! জিহ্বায় লাগাম টান অসভ্য মেয়েছেলে। নাহলে কিন্তু…. ”
একই তেজে আবির্ভূত মাহি! সহসা মনস্টারের হাত থেকে নিজের গ্রীবাদেশ ছাড়িয়ে এনে, চোয়াল নাড়িয়ে বলে ওঠে,

“ থাক হয়েছে! গালমন্দ সব একেবারে করে ফেললে কাল কি করবেন? দয়া করে কালকের জন্যও কিছুটা বাঁচিয়ে রাখুন। আপাতত আমি ঘুমাচ্ছি বিস্ট। গুড নাইট!”
তীক্ষ্ণ দৃষ্টে তাকিয়ে রইল মুগ্ধ। মেয়েটা তাকে উপেক্ষা করে আলগোছে মাথা রাখল নরম বালিশে। রূঢ় মানবের রূঢ়তা খানিক কমতে শুরু করল তা দেখে। সে কেমন ঘাড় কাত করে তাকিয়ে আছে মেয়েটার পানে। তার বাদামী চোখদুটো যেন মুগ্ধতায় অস্ফুটে আওড়াচ্ছে,
“ ব্যাপার কী বান্দীর মেয়ে? তোকে ইদানীং আমার আমার লাগে কেনো? কোন জাদু করছিস আবার কে জানে!”
ভাবতে ভাবতেই মুগ্ধের বিমুগ্ধ নয়ন গভীরভাবে ডুব দিলো মাহি’র মসৃণ মুখপানে। সেথায় দৃষ্টি দিয়ে কিয়তক্ষন আঁকিবুঁকি চালিয়ে, মানব নিজ অবচেতন মনে ফের আওড়াল,
“ তুই যদি একটাবার জানতি, তোর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালে আমার ঠিক কেমন লাগে, তাহলে তুই হয়তো আমাকে ধ্বংস করার জন্য হলেও যখন-তখন ঘুমিয়ে থাকার ভান ধরতি পিচ্চি!”
মনে মনে কথাটুকু আওড়ে ক্ষ্যান্ত হননি মাফিয়া বিস্ট। দাঁড়িয়ে রইলেন পাহাড়ের ন্যায়।এদিকে তার লম্বা হাতদুটো মেয়েটার বালিশের কাছে এসে ঠেকেছে। তা বুঝি অস্বস্তি বাড়াচ্ছে মাহি’র। সপ্তদশী খানিক বিরক্ত কন্ঠে চোখবুঁজে রেখে শুধালো,

“ হাত সরান! আমি ঘুমাব।”
এপর্যায়ে আর রাগলেন না রূঢ় মানব। উল্টো ঠোঁটের কোণে অলক্ষ্যে ফোটালেন বাঁকা হাসির রেশ। কন্ঠে কপট মুডি ভাব ধরে আওড়াল,
“ তোর কথা শুনতে আমি বাধ্য নই বান্দীর মেয়ে। ”
মসৃণ ললাটে বিরক্তির ছাপ লেপ্টালো মাহি। নাক কুঁচকে খিটখিটে কন্ঠে বলে উঠল,
“ এই বয়সে এসে এত তেজ দেখাতে ক্লান্ত লাগেনা আপনার?”
আশেপাশেই বোধহয় জোরালো একখানা বাজ পড়ল! রূঢ় মানবের মুখাবয়ব দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। এতো হ্যান্ডসাম, হেলথ কনশাস একটা মানুষকে কি-না বয়সের খোঁটা দেওয়া হচ্ছে? এ যে আর মুখ বুঁজে সহ্য করার মতো নয়। মাফিয়া বিস্ট কেমন গজগজ করছেন রাগে। তক্ষুনি মেয়েটার ওপর ঝুঁকে এসে কঠিন হুংকার ছুঁড়ে বলল,

“ হোয়াট দ্য হেল আর ইউ্য সেয়িং বান্দীর মেয়ে? এই বয়সে মানে? এ্যাই বেয়াদবের বাচ্চা তুই আমাকে বয়স নিয়ে খোঁটা দিচ্ছিস? গালটা কাছে আন জানোয়ার, এক্ষুণি দুয়েকটা না বসালে আমার শান্তি হচ্ছে না।”
মানবের কথাটা গায়ে মাখল না মাহি। উল্টো গো ধরে পড়ে রইল বিছানায়। মুখটা অন্যত্র ঘোরাতে ঘোরাতে অনিহার কন্ঠে বলে ওঠে,
“ আরে হাত সরান তো! বেশি নড়বেন না। আমি ঘুমচ্ছি কিন্তু।”
মেজাজ এবার সপ্তম আসমানে পৌঁছেছে রূঢ় মানবের। চোয়ালের পেশি টানটান! সে কেমন ক্রুর কন্ঠে আচমকা বলে বসল,
“ উড়! যত ইচ্ছে উড়। আর মাত্র ১৭দিন। এরপরই ডানা কাটব! মাইন্ড ইট।”
কথাটা বলে আর একমুহূর্তও দাঁড়ালেন না মাফিয়া বিস্ট। মুখাবয়বে এক আকাশসম রাগ লেপ্টে চলে গেল কক্ষ থেকে। এদিকে চোখবুঁজে রাখলেও সবটা স্পষ্ট শুনল মাহি। মানবের কথা শুনে মুহুর্তেই বুকে মোচড় দিয়ে উঠল তার। এ কথার অর্থ কী? কি হবে ১৭ দিন পর?
অভ্যন্তরীণ উচাটন বাড়ল মাহি’র। এপাশ-ওপাশ দাপড়াল তার শরীর। মস্তিষ্ক কাজে লেগে পড়েছে উত্তর খুঁজতে। আঙুলে গুনছে তারিখ! আর ১৭দিন? এরপর? এরপর কি? গুনতে গুনতে হঠাৎ থমকায় মাহি। তক্ষুনি মেয়েটার চোখদুটো হলো ছানাবড়া। সর্বাঙ্গ দুলে উঠল ভয়ে। নিজ হাতদুটো সামনে এনে মেয়েটা কেমন কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“ আর ১৭দিন..পর আমার জন্মদিন! ঐদিন কি করবে এই লোক? মে’রে ফেলবে আমায়?”
সহসা নিজ চিন্তায় আঁতকে ওঠে মাহি। উচাটনে পা নামাল বিছানা হতে। কাঁপতে কাঁপতে জিভখানা আলগোছে ছোঁয়াল অধরে। লোকটাকে জিজ্ঞেস করতেই হবে — আর ১৭দিন পর ঠিক করবে সে। এহেন ভাবনায় তক্ষুনি উঠে দাঁড়ায় মাহি। মনস্টারের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও গটগটিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর ছেড়ে।

মৃদু অন্ধকারে ছেয়ে আছে প্রশস্ত করিডর। মাহি ভয়ে ভয়ে সিঁড়ি বেয়ে টপ ফ্লোরের দিকে এগোচ্ছে। মেয়েটার আজ ওতো সাহস এলো কোত্থেকে কে জানে! দুরুদুরু বুকে সে অবশেষে এসে দাঁড়ালো টপ ফ্লোরে। পরক্ষণেই যা দেখল তাতে হোঁচট খেল বেচারি। সম্পূর্ণ ফ্লোরের দুপাশে সশস্ত্র গার্ডস। মেয়েটার উপস্থিতি টের পেয়ে তক্ষুনি সকলে একযোগে দু-হাটুঁ ঠেকাল মেঝেতে। ঘাড় নোয়ালো বাধ্যতায়। এহেন কান্ডে যারপরনাই হতবাক মাহি। তাকে ওভাবে কুর্নিশ জানাচ্ছে কেন লোকগুলো? মাথা-টাথা খারাপ হয়ে গেল না-কি তাদের?
মাহি কেমন গাল ফুলিয়ে তপ্ত নিশ্বাস ফেলল। কিয়তক্ষন দোনোমোনো করে অবশেষে বোকার ন্যায় সম্মুখে নতমুখে বসে থাকা গার্ডদের জিজ্ঞেস করে উঠল,
“ বিস্ট…না না মনস্তার কোথায়?”
মুখে জবাব দিলো না কেউ। জবাব দিয়ে থোড়াই প্রাণ হারাবে তারা। লোকগুলো কেমন থরথর করে কাঁপছে দেখো। সম্মুখ থেকে কেউ একজন স্রেফ তর্জনী তাক করল ছাঁদের দিকে। এতেই বুঝি কাজ হলো। বোকা মানবী পা বাড়ায় সেদিকে।

সুইমিংপুলের দ্বারে পড়ে আছে মনস্টারের দামী স্যুট! পুলের শীতল পানিতে ইচ্ছেমতো সাঁতরাচ্ছে মাফিয়া বিস্ট। অসময়ে গোসল করার বদঅভ্যেস তার। এরইমধ্যে সপ্তদশীর কোমল পদ এসে হাজির সেথায়। তার সরু দৃষ্টি পুলের দিকে পড়তেই দৃশ্যমান হলো — রূঢ় মানবের অর্ধ ন গ্ন দেহ। কেবল একখানা ট্রাউজার পরে সাঁতরাচ্ছে সে। মাহি কেমন শক্ত চোয়ালে তেজী ভাব ধরে এগিয়ে এলো খানিকটা। কন্ঠ উঁচিয়ে আচমকা বলে বসল,
“ ১৭ দিন পর আমার সাথে কি করবেন আপনি?”
তক্ষুনি ঝড়ের বেগে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় মুগ্ধ। সাঁতরাতে থাকা ব্যস্ত শরীরটা থেমে গেল মুহুর্তেই। দৃঢ় চোয়ালখানা তীক্ষ্ণ হলো ব্লেডের ন্যায়। কপাল গুছিয়ে মানব কেমন রুক্ষ কন্ঠে শুধালো,
“ হোয়াট দ্য ফা’ক আর ইউ্য ডুয়িং হেয়ার? তোকে আমি ঘর থেকে বের হতে বারণ বলেছিলাম না?”
মাহি নারাজ সে বাক্য মানতে। মেয়েটা কেমন নাছোড়বান্দার ন্যায় আবারও বলল,
“ আমার কথার উত্তর দিন।”
রূঢ় মানব দাঁত কটমট করছে। শক্ত হাতে নিজ ঘাড়টা সামান্য ডলতে ডলতে একহাতে দুআঙুল উঁচিয়ে আচানক মেয়েটাকে ইশারায় কাছে ডেকে বলে ওঠে,
“ এদিকে আয়, বলছি!”
এগোলো না মাহি। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আওড়াল,
“ ওখান থেকেই বলুন।”
এপর্যায়ে রহস্যময় বাঁকা হাসল মুগ্ধ। বলিষ্ঠ হাতদুটো পানির ওপর ছড়িয়ে অনিহার সুরে বলল,
“ কাছে না এলে বলব না।”

অগত্যা এহেন হুমকিতে না চাইতেও পদযুগল অগ্রসর হলো মাহি’র। সুইমিংপুলের দ্বার ঘেঁষে এসে দাঁড়াতেই রূঢ় মানব পানি ঠেলে এগিয়ে এলেন। অতঃপর অসভ্য বেপরোয়া যুবক তক্ষুনি মেয়েটার কোমর চেপে, তাকে হুট করে ছুঁড়ে ফেলল পুলে। এহেন ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকানোর সময় পায়নি মাহি। সাঁতার না জানায় মেয়েটা পড়েছে মুসিবতে। একবার ডুবছে, তো আরেকবার উঠছে। গিলছে অঢেল পানি! হাত-পা ছুড়ছে বেচারি। এদিকে রূঢ় মানব নির্বিকার। কিয়তক্ষন দাঁড়িয়ে রইল ঠায়। অতঃপর মেয়েটা ক্লান্ত হতেই সে আগ বাড়িয়ে ডুব দিলো পানির গভীরে। পরক্ষণে মাহি’র বাঁকান কোমরে দু’হাত চেপে মেয়েটাকে এক ঝটকায় তুলে আনল খানিকটা উঁচুতে। সপ্তদশী হাঁপাচ্ছে ভীষণ। তার কোমল পিঠ গিয়ে ঠেকেছে পুলের দেয়ালের সনে। তার দোদুল্যমান মসৃণ পাদু’টো এখনো সুইমিংপুলের শীতল পানির গভীরে। পাতলা বাঁকান কোমরটা আঁটকে আছে একজোড়া শক্তপোক্ত রুক্ষ হাতের বাঁধনে। সিক্ত দেহের সনে লেপ্টে থাকা সফেদ রঙা কাপড়ের অন্তরাল ভেদ করে নারী কায়ার প্রতিটি বাকঁ সুস্পষ্টতর। এমতাবস্থা চোখে পড়তেই লজ্জায় হাসফাস করে উঠল মাহি। উদ্বিগ্নতার সাথে তড়িঘড়ি করে দু’হাত উঁচিয়ে কোনমতে নিজ বক্ষস্থল আড়াল করতে ব্যস্ত সে। ঠিক তখনি সুইমিংপুলের গভীর থেকে মাথা তোলে শক্তপোক্ত হাতজোড়ার মালিক। পানিতে টইটুম্বুর সে, মাথাভর্তি বাদামী চুলগুলো ভিজে লেপ্টে আছে কপালে। হাতদুটো সপ্তদশীর কোমরে আবদ্ধ থাকায় খানিক বিরক্ত হলো রূঢ় মানব। সহসা ভ্রু কুঁচকে তাকাল মেয়েটার পানে। আর ওমনি মাহি’র অস্বস্তি বাড়ল। বাড়ল নিজেকে আড়াল করার তীব্র ইচ্ছা! যুবক ভ্রু উঁচায় এহেন কান্ডে। মেয়েটার পানে খানিকক্ষণ গভীর দৃষ্টি তাক করতেই তার চোখেমুখে আচানক ফুটে উঠল এক পশলা বিরক্তির ছাপ। সে কেমন দাঁত খিঁচে চিড়বিড়িয়ে বলে বসল,

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৪

“ এতো আলগা ঢং করতে হবে না রে বান্দীর মেয়ে! মা’ই সিসকিস( Siskis) আর বিগার দ্যান ইউ্য!”
হতভম্ব হলো মাহি। বোকার ন্যায় পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ঁল,
“ সিসকিস কী?”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here