Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৮

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৮

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৮
বন্যা সিকদার

“দেখেন প্রফেসর সাহেব! একদম আমার ওপর মিথ্যা অ্যালিগেশন দেবেন না বলে দিলাম। আমি কত লিলিপুট‚ বাচ্চা একটা মেয়ে। আর আপনি আমাকে বলছেন আমি নাকি প্রশ্ন আউট করেছি‚ তা-ও আবার আমার নিজের জানের টুকরো স্বামীজানকে বন্ধক দিয়ে? সিরিয়াসলি? কোন না কোন ডাইনি আপনাকে কী বোঝাল‚ আর আপনি অমনি চোখ বুজে সেটা বিশ্বাস করে নিলেন?
​উজান কিছু বলতে যাবে তার আগেই মৌ কপালে হাত দিয়ে আক্ষেপের সুরে আবার শুরু করল‚ “এই জন্যই আমার দাদি বলতো ‘স্বামী মানেই আসামি’! এরা জাত গতভাবেই খারাপ। কুত্তার লেজ যেমন কোনোদিন সোজা হয় না‚ এরাও তেমন! এদের কপালে যতই ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হোক না কেন‚ এদের নজর সবসময় অন্যের বউ’য়ের দিকেই থাকে। কার না কার ডাইনি বউ আপনাকে আমার নামে কু-বুদ্ধি দিয়ে দিছে‚ আর তার জন্য আপনি এখন ঘরে এসে আমাকে খারাপ বলছেন? নষ্ট পুরুষ একটা!

​উজান নিজের রক্তচক্ষু নিয়ে স্তম্ভিত হয়ে মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে রইল। এই মুহূর্তে তার মন চাইছে‚ এই বিচ্ছু মেয়েটাকে দুটো চ্যালা কাঠের বাড়ি দিয়ে সোজা সাইজ করতে! কিন্তু আফসোস‚ সে তা করতে পারছে না। মেয়েটা ঠিক কোন লেভেলের ত্যাঁড়ো আর জাউড়া‚ তা আজ উজান হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে। নিজে এত বড় একটা অপকর্ম করেও‚ কী সুন্দর উল্টো অন্য জনের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। তার এই অভাবনীয় কাণ্ড দেখে উজান জাস্ট হা করে তাকিয়ে রইল। সে নিজের সিআইডি ক্যারিয়ারে ও এই শিক্ষকতা জীবনে বহু পাঁজি আর ধূর্ত অপরাধী দেখেছে কিন্তু তার ঘরের এই বৈধ বউটা যে এত বড় মাপের পাঁজি হতে পারে‚ তা তার দূরতম কল্পনাতেও ছিল না। ​ততক্ষণে উজান নিজের রাগ সামলাতে না পেরে পুরো ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল।
​“জাস্ট শাট আপ‚ ইডিয়ট মেয়ে। আমাকে তোমার কোন অ্যাঙ্গেল দিয়ে নষ্ট পুরুষ মনে হয়‚ হ্যাঁ? আর আমি মোটেও কোনো মিথ্যা কথা বলছি না। শিরিন আমাকে নিজের মুখে সব বলেছে। তুমি তার কাছ থেকে অলরেডি দুটো বিষয়ের প্রশ্নপত্র আগেভাগে নিয়ে এসেছো। ফার্স্ট সেই প্রশ্নগুলো কোথায় রেখেছো আমাকে দাও।

​মৌ নিজের বড় বড় চোখ দুটো ছোট ছোট করে উজানে’র সব কথা শুনছিল। হঠাৎই সে মুখ কুঁচকে নিলো৷ বেশ ভাব নিয়ে বলে উঠল‚ “আপনাকে সব দিক দিয়েই নষ্ট পুরুষ মনে হয়। শালার ঘরে এত সুন্দরী‚ অপ্সরা বউ থাকতেও বাইরে ওই ডাইনিদের দিকে নজর যায়? হায় আল্লাহ! এ তুমি কেমন লুচ্চা বর দিলা আমায়? এ নিজের ঘরের বউ’কে চোখে দেখে না কিন্তু পরের বউকে ঠিকই দেখে! ওনার কাছে আমার কথার কোনো ভ্যালুই নেই‚ ওনার কাছে নিজের ওই প্রাণের এক্স-ডাইনি শিরিনে’র ভ্যালু বেশি!
​“জাস্ট শাট আপ পিচ্চি! ফাজলামোর একটা লিমিট আছে। অন্যায় করে আবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছো? কান ধরে এখনই একশো বার ওঠবস করো ফার্স্ট! নয়তো এর পরের পানিশমেন্ট কিন্তু আরও অনেক বড় হবে।

​মৌ নিজের মুখ ভেঙিয়ে বেশ দৃঢ় গলায় উত্তর দিল। “আপনার বা*লের শাট আপ এর গুল্লি মারি। পারব না আমি ওঠবস করতে। কী করবেন শুনি? কী করবেন আপনি আমার?
​মৌ’য়ের এমন ত্যাঁড়োমুখো উত্তর শুনে উজান মোটেও খুশি হতে পারল না; বরং সে নিজের চোখ রাঙিয়ে তার দিকে এক পা এগোল। উজানে’র সেই রাগান্বিত ও ভয়ঙ্কর চোখ দেখে মৌ এবার সত্যি সত্যি শুকনো ঢোক গিলল। মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখ থেকে সব হাসি বিলীন হয়ে গেল। উজান যেই না তাকে ধরতে এক পা বাড়াল‚ অমনি মৌ চিল পাখির মতো বেড থেকে লাফিয়ে নেমে এক দৌড়ে কক্ষ ত্যাগ করল। ​তার এই হুটহাট দৌড়ানোর কাণ্ডে উজান ভীষণ বিরক্ত হলো। ধুর! একটা মেয়ের শরীরে সামান্য ব্যালেন্স থাকা দরকার কিন্তু এর মধ্যে তা বিন্দুমাত্র নেই! মৌ এক দৌড়ে সোজা নিচে ড্রয়িংরুমে গিয়ে হাজির হলো। উজানও তার পিছু পিছু নিচে নেমে এলো। কিন্তু ততক্ষণে মৌ গিয়ে সোজা শাশুড়ি মৌসুমি চৌধুরীর পেছনের দিকে লুকিয়ে ওনার শাড়ির আঁচলটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ঢাল বানিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
​উজান ড্রয়িংরুমে এসে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলল‚ “এই ফাজিল মেয়ে! বের হও আম্মুর পেছন থেকে। উজান চৌধুরীর মুখে মুখে এত বড় বড় তর্ক? বেরিয়ে আসো বলছি‚ আজ তোমাকে মজা দেখাচ্ছি।

​মৌ শাশুড়ির পেছন থেকে একটুখানি মুখ বের করে কাঁপতে কাঁপতে বলে‚ “শাশুড়ি আম্মা বাঁচাও প্লিজ! তোমার এই জল্লাদ‚ গুন্ডা ছেলে আজ আমাকে মেরেই ফেলবে। আমি এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না গো আম্মা। তোমাকে অন্তত একবার ‘দাদি’ বানিয়ে তারপর মরার কথা ভাবব।
​মৌ’য়ের মুখে এই ‘দাদি’ বানানোর কথা শুনে উজান রাগে গজগজ করে বলে উঠল, “ইডিয়ট একটা‚ একদম মুখ ভেঙে দেব তোমার। এত বড় অন্যায় করেও আবার শাশুড়ির কাছে গিয়ে নাটক করা হচ্ছে?
​উজান যেই না হাত বাড়িয়ে মৌ’কে ধরতে যাবে‚ অমনি মৌসুমি চৌধুরী মাঝখানে হাত দিয়ে ছেলেকে বাধা দিলেন। তিনি উজান’কে ধমক দিয়ে বললেন‚ “বাবা কী হচ্ছে এসব? মেয়েটা মাত্রই তো একটু আগে কলেজ থেকে ধকল সয়ে বাড়ি এলো আর তুই এসেই ওকে এভাবে বকছিস কেন‚ হ্যাঁ? বাচ্চা একটা মেয়ে।

​“আম্মু সিরিয়াসলি? তুমি এই বিচ্ছু মেয়েটাকে এখনও ‘বাচ্চা মেয়ে’ বলছো?
উজান নিজের কপালে হাত দিয়ে প্রায় আর্তনাদ করে উঠল‚ “জানো তোমার এই গুণবতী বউমা আজ কী কীর্তি ঘটিয়েছে? ও আমাকে ওই শিরিনে’র কাছে বন্ধক রেখে পরীক্ষার প্রশ্ন আউট করেছে। নিজের জীবনে কোনোদিন শুনেছো‚ কোনো বউ নিজের স্বামীকে অন্য মেয়ের কাছে বন্ধক দেয়? এই ফাজিল মেয়ে ঠিক তাই করেছে। যখন দেখল পরীক্ষায় পাস করার জন্য আমাকে কাবু করতে পারছে না‚ তখন সোজা ওই কালনাগিনীর কাছে গিয়ে আমাকে বন্ধক রেখে দুটো প্রশ্ন অলরেডি নিয়ে চলে এলো।
​উজানে’র কথা শুনে ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সবাই যেমন একযোগে হো হো করে হেসে উঠল‚ তেমনই বিস্ময়কর দৃষ্টিতে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। এইটুকু একটা মেয়ের মাথায় এত কুচক্রী বুদ্ধি কীভাবে আসতে পারে‚ তা ভেবে সবাই তাজ্জব। ঠিক তখনই পরিস্থিতি বুঝে মৌ আড়ালে উজান’কে একটা ফ্লাইং কিস ছুড়ে চোখ টিপ দিল। তারপর শাশুড়ির দিকে ফিরে কাঁদো কাঁদো ফেস করে বলে উঠল‚

“শাশুড়ি আম্মা বিশ্বাস করো তোমার ছেলে সব মিথ্যা বলছে। তুমিই বলো‚ এই ইনোসেন্ট বাচ্চা মেয়েটা কি এমন আকাম করতে পারে? সে আমাকে চুমু দিতে চাইছিল‚ শুধু আমি বারণ করেছি সেই জন্য আমার নামে মিথ্যা অ্যালিগেশন দিচ্ছে। মাবুদ সইবে না; আপনার ওপর গজব পড়বে‚ গজব।
​মৌ’য়ের মুখে এমন অবলীলায় বানিয়ে বলা কথা শুনে উজান হতভম্ব হয়ে দু-পা পিছিয়ে গেল। বিষম খেয়ে কাশতে কাশতে সে প্রায় মেঝেতেই বসে পড়ার উপক্রম হলো। ঠিক তখনই কোথা থেকে ইফাত হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এসে উজানে’র পাশে বসল এবং তার কানে ফিসফিস করে। “ভাই আমার ফুলকন্যা কোথায় রে? প্লিজ বল না কোথায় ও?

​মেহেরে’র নাম শুনতেই উজানে’র সব রাগ গিয়ে পড়ল ইফাতে’র ওপর। সে আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে নিজের পা থেকে জুতা খুলে সজোরে ইফাতে’র দিকে ছুঁড়ে মারল। ইফাত ভাগ্যবশত চট করে সরে যাওয়ায় ওটা গায়ে লাগেনি। ঠিক তখনই মৌ ইফাতে’র দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলে উঠল‚
​”দুলাভাই আপনার সে হসপিটালে আছে। আর এই যে আপনাকে এত বড় মিষ্টি খবরটা দিলাম‚ তার জন্য আসার সময় আমার জন্য এক ডজন আইসক্রিম নিয়ে আসবেন।
​ইফাত উজান’কে আর একটু রাগিয়ে দেওয়ার জন্য বাঁকা হাসল। সে মুচকি হেসে মৌ’য়ের উদ্দেশ্যে আওড়াল‚ “ওকে ভাবিজান ডান! আমার দশটা না‚ পাঁচটা না পিচ্চি একটা মাত্র ভাবিজান। তার জন্য আইসক্রিম কেন‚ যা যা লাগবে আমি সব এনে দেব!
​উজান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তেড়ে যেতেই ইফাত এক দৌড়ে সদর দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল। উজান একবার সদর দরজার দিকে তাকায় তো আরেকবার মৌ’য়ের দিকে। পুরো ড্রয়িংরুমের পরিস্থিতি এখন তার হাতের বাইরে; তার মা‚ ভাবি সহ বাড়ির সবাই হেসেই যাচ্ছে। উজান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে গিয়ে মৌ’য়ের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলে‚ ​“আইসক্রিমের ব্যাপারটা না হয় রুমে গিয়ে খুব ভালো করে দেখে নিচ্ছি। কিন্তু তার আগে সবার সামনে দাঁড়িয়ে কী বললে? আমি চুমু দিতে পারিনি বলে তোমার নামে মিথ্যা অ্যালিগেশন দিচ্ছি? সিরিয়াসলি‚ মিসেস চৌধুরী? জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি!

​কথাটা শেষ হওয়ার আগেই‚ ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সবার সামনে উজান এক ঝটকায় মৌ’কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে এক গভীর ও নিবিড় ছোঁয়া দিয়ে বসল তার ওষ্ঠ জোড়ায়। ​আচমকা এমন এক অভাবনীয় ও লজ্জাজনক কাণ্ড ঘটবে‚ তা মৌ নিজের দূরতম কল্পনাতেও ভাবেনি। সে একদম পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে গেল। যখন সে চোখ মেলে দেখলো‚ বাড়ির সবাই তাদের দিকে হাঁ করে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে‚ তখন লজ্জায় মৌ’য়ের ইচ্ছে করছিল জীবন্ত মাটির নিচে ধসে যেতে! মনে মনে ভাবল‚ সে একটু বানিয়ে মিথ্যা বলেছে তাই বলে এই জংলি লোকটা সবার সামনে এমন একটা কাণ্ড ঘটিয়ে বসবে? ​ওদিকে উজান মৌ’কে ছেড়ে দিয়ে বুক ফুলিয়ে পুরো ড্রয়িংরুমের সবার উদ্দেশ্যে বিজয়ী হাসিতে আওড়াল‚
​“চুমু তো সবার সামনে দিয়েই দিলাম! এবার অন্তত সবাই বিশ্বাস করো যে এই ফাজিল মেয়েটা সত্যি সত্যিই নিজের বরকে বন্ধক রেখে প্রশ্ন আউট করেছে!

​আরিফুল চৌধুরী এবার অত্যন্ত গর্বের সাথে উজানে’র দিকে এগিয়ে আসলেন। ছেলের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে তিনি মুচকি হাসলেন‚ “বাপ তুই সত্যি বলছিস নাকি বানিয়ে মিথ্যা বলছিস সেসবে আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। তবে তুই এখন সবার সামনে যে কাজটা করলি‚ তাতে আমি বড্ড খুশি হয়েছি। এতদিনে তোকে দেখে মনে হচ্ছে তুই আমার ‘বাপ কা বেটা’! চালিয়ে যা বাপ‚ ফসল সরি‚ সফল তুই হবিই একদিন!
​এই বলে তিনি মৌ’য়ের দিকে তাকাতেই মৌ যেন মেঝেতে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলল। তীব্র এক লজ্জা তাকে চারপাশ থেকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ধরল। সে আর এক মুহূর্তও ওখানে দাঁড়িয়ে না থেকে এক দৌড়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল। ওদিকে উজান নিজেও সবার সামনে লজ্জায় মাথা চুলকাতে চুলকাতে মৌ’য়ের পিছু পিছু উপরে চলে গেল।

​গোধূলি লগ্ন বিকেল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবার মাহেন্দ্রক্ষণ। চারদিক থেকে মৃদু শীতল বাতাস বয়ে আসছে। আর সেই বাতাসে পায়ে পা মিলিয়ে হেঁটে চলছে ইফাত আর মেহের। মেহের’কে হসপিটাল থেকে নিজের বাইকে করে নিতে এসেছে ইফাত। এই মেয়েটার পাশে থাকলে এক অন্যরকম‚ অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করে ইফাতে’র মনে। সেই জন্য বাইক তন্ময়ে’র কাছে দিয়ে হেঁটে চলছে দুজন। ​ইফাত এক হাতে মেহেরে’র কলেজ ব্যাগটা নিয়ে পরম মুগ্ধতা মেশানো এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মেহের তখন আপনমনে স্ট্র দিয়ে ম্যাঙ্গো জুস খাচ্ছিল; এরই ফাঁকে সে আড়চোখে ইফাতে’র দিকে তাকাল। ইফাতে’র ওমন অপলক চাহনি দেখে সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে প্রশ্ন করল।
​”এভাবে হা করে তাকিয়ে আছেন কেন?
​ইফাত চোখ না সরিয়েই বলল‚ “ভাবছি।

​”কী ভাবছেন?
​“ভাবছি আমার এই মিষ্টি ফুলকন্যাকে বউ হিসেবে কেমন লাগবে? তার পাশে কি এই ইফাত চৌধুরীকে আদৌ মানাবে নাকি বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা হবে বলো তো?
​মেহের কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠল। তার সেই হাসির মোহময় ঝলকে মুহূর্তের মধ্যেই ইফাতে’র ঠোঁটের কোণেও চওড়া হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু পরমুহূর্তেই মেহেরে’র ফুটফুটে মুখটা কেমন যেন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেল। তার উজ্জ্বল মুখটা হুট করে কালো হয়ে যাওয়ার কারণ ইফাত ঠিক বুঝতে পারল না। সে কপাল কুঁচকে নরম সুরে শুধাল‚ “কী হলো ফুলকন্যা? হুট করে মুড অফ কেন হলো তোমার?
​মেহের একরাশ বিষণ্ণ চোখে ইফাতে’র দিকে তাকিয়ে অসহায় স্বরে আওড়াল‚ “কেন এত মায়া বাড়াচ্ছেন? কোনোদিন যদি তাকদির থেকে আপনি হারিয়ে যান‚ তবে এই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচব কীভাবে?
​ইফাত নিজের গভীর দৃষ্টি মেহেরে’র চোখের ওপর স্থির করল। মেয়েটার কথার ভাঁজে ভাঁজে এক তীব্র সায়হীন অসহায়ত্ব লুকিয়ে আছে। সে যে ইফাত’কে হারানোর ভয় পাচ্ছে, তা ইফাত খুব ভালো করেই বুঝতে পারল। মেহেরে’র মনে হচ্ছে ইফাত হয়তো তাকে কোনো এক মাঝনদীতে একলা ফেলে চলে যাবে। সে জীবনে কখনো এত গভীর ভালোবাসা পায়নি তাই হয়তো তার মনে হারানোর ভয়টাও বড্ড বেশি।
​চারপাশের কোলাহলের মাঝে ইফাত খুব স্লো ভয়েসে আওড়াল‚

“ফুলকন্যা একটু টাচ করতে পারি তোমায়?
​মেহের স্তব্ধ হয়ে তার দিকে তাকাল। চারপাশ দিয়ে এত মানুষ হেঁটে যাচ্ছে‚ তার ওপর বিয়ের আগে এমন এক আবদার সে কীভাবে মেনে নেবে? এতদিনে ইফাত’কে তার মনে ধরেছে ঠিকই কিন্তু মানুষটা তো এখনো তার জন্য পুরোপুরি বৈধ নয়; তবে কেন সে এই নিষিদ্ধ স্পর্শে সম্মতি দেবে? মেহের লজ্জায় ও নীতিবোধ থেকে চট করে নিজের মাথা নিচু করে নিল। তার এই লাজুক প্রত্যাখ্যান দেখে ইফাত শব্দ করে হেসে উঠল।
​“ওকে ওকে‚ মুড অফ কোরো না ফুলকন্যা! আমি খুব তাড়াতাড়িই পুরোপুরি বৈধতা নিয়ে তোমায় টাচ করব‚ এবার অন্তত একটু হাসো!
​মেহের চোখ তুলে তাকাল। মানুষটা তাকে বড্ড ভালো বোঝে কিন্তু তবুও মনের ভেতরের ভয়টা যেন কিছুতেই কাটতে চায় না‚ সে সত্যি তাকে ছেড়ে যাবে না তো? ঠিক তখনই তার কানের কাছে ইফাতে’র দুষ্টুমিভরা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

​“এমন বাচ্চাদের মতো করে জুস কে খায়‚ শুনি? আমি বিয়ে করে ঘরে একটা বউ তুলব নাকি কোনো বাচ্চাকে? শোনো‚ আগেই বলে দিচ্ছি ইফাত চৌধুরী কিন্তু প্রচণ্ড অধৈর্য একটা ছেলে। এখন না হয় দূরে দূরে আছি‚ তবে তোমায় যেদিন পুরোপুরি নিজের করে পাব সেদিন কিন্তু আর একদম ধৈর্য ধরতে পারব না! সেই জন্য নিজেকে আগে থেকেই মেন্টালি তৈরি করে রাখো। শুধু বাচ্চাদের জুস নয়‚ তুমি যা চাইবে আমি তাই এনে দেব। কিন্তু এর বিনিময়ে তোমাকে…..

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৭

“আমার খিদে পেয়েছে!
​মেহেরে’র এমন অপ্রাসঙ্গিক উত্তর শুনে ইফাত মৃদু হাসল। মেয়েটার এই ভয়ার্ত ও লাজুক চাহনি দেখলেও তার মনটা পরম তৃপ্তিতে ভরে যায়। অতঃপর মনের ভেতর একরাশ মিষ্টি প্রেমের আবেশ নিয়ে দুজনই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here