Home Born to be villains Born to be villains part 27 (2)

Born to be villains part 27 (2)

Born to be villains part 27 (2)
মিথুবুড়ি

ক্যাপাডোসিয়ার আকাশে তখন রঙিন হট এয়ার বেলুনের মেলা। এলিজাবেথের চোখে মুগ্ধতা আর বিস্ময়ের সংমিশ্রণ। কিন্তু বেলুনটি যখন মাটি ছাড়িয়ে বেশ উঁচুতে আকাশে উড়ছিল, তখন হঠাৎ করে এলিজাবেথের প্যানিক অ্যাটাক হয়। একই সাথে ওখানকার প্রতিকূল আবহাওয়ার সাথেও কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছিল না সে। এলিজাবেথের এমন অবস্থা দেখে রিচার্ড তাদের পরবর্তী সব প্ল্যান ক্যানসেল করে দেয়।
এই ধকল কাটিয়ে উঠতেই রিচার্ড তাদের পরবর্তী হানিমুন ডেস্টিনেশন হিসেবে বেছে নেয় পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক দেশ গ্রীসকে। গ্রীসের সেন্টোরিনির সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেল সেন্ট আগে থেকেই বুকিং করে রেখেছিল রিচার্ড।

সাধারণ কোনো গাড়িতে নয়, হোটেলের নিজস্ব প্রাইভেট ক্রুজশিপে চড়ে তারা যখন এজিয়ান সাগরের বুক চিরে হোটেলের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ধীরে ধীরে চারপাশের রূপ বদলাতে শুরু করে। নীল আর সাদার অপূর্ব মিতালিতে যেন হারিয়ে গেছে পুরো জায়গাটা। এলিজাবেথ অবাক চোখে তাকিয়ে দেখে সবটুকু জায়গা। তার চোখের ক্লান্তি নিমেষেই উধাও হয়ে যায় অনিন্দ্য মুগ্ধতায়। ক্রুজশিপ থেকে নেমে যখন তারা হোটেলের বারান্দায় এসে দাঁড়াল, এলিজাবেথের মনে হলো সে বুঝি কোনো জীবন্ত ক্যানভাসের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা ধবধবে সাদা রঙের বাড়িগুলো, আর তাদের নীল রঙের গম্বুজাকৃতির ছাদ….সব মিলিয়ে স্বর্গীয় দৃশ্য। ঠিক যেন আকাশের নীল রঙটুকু কেউ পরম মমতায় জলছাপ করে মেখে দিয়েছে পুরো দ্বীপ জুড়ে। সামনে দিগন্ত বিস্তৃত এজিয়ান সাগরের গাঢ় নীল জলরাশি, যার ওপর দুপুরের রোদের আলো পড়ে হিরের টুকরোর মতো চকচক করছে। মৃদু ঠাণ্ডা বাতাস এলিজাবেথের লালচে চুলগুলো উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এই বাতাস ছিল ক্যাপাডোসিয়ার সেই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির ঠিক বিপরীত।
হোটেলের প্রাইভেট ইনফিনিটি পুলের স্বচ্ছ পানি আর সাগরের নীল জল যেখানে মিশেছে, সেখানে দাঁড়িয়ে রিচার্ড আলতো করে এলিজাবেথের কাঁধে হাত রাখল। এলিজাবেথ রিচার্ডের দিকে তাকিয়ে একচিলতে হেসে ফিসফিস করে বলল,

“ক্যাপাডোসিয়ার আকাশ আমাদের জায়গা দেয়নি ঠিকই, কিন্তু সেন্টোরিনির এই নীল-সাদা স্বর্গ আমাদের সব কষ্ট এক নিমিষেই ভুলিয়ে দিল, তাই না মি. কায়নাত?”
রিচার্ড প্রত্যুত্তর করল না। কালচে অধর কোণ একপাশে এলিয়ে নৈঃশব্দ্যে হেসে এলিজাবেথের কাঁধ জড়িয়ে ধরে ওকে নিয়ে বারান্দায় গেল। বারান্দায় পা রাখতেই তাদের সামনে উন্মোচিত হলো দিগন্তজোড়া ক্যালডেরা। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্য যেন একটিমাত্র জানালার ফ্রেমে বন্দী হয়ে আছে। নিচে গভীর নীল সমুদ্র, দূরে আগ্নেয় দ্বীপ, আর চারপাশে খাড়া পাহাড়ের বুকে ছড়িয়ে থাকা সাদা বাড়িগুলো সোনালি সন্ধ্যার আলোয় স্বপ্নের মতো ঝলমল করছে।বিস্ময় আর মুগ্ধতার সংমিশ্রণে বড় বড় হয়ে উঠল এলিজাবেথের ডাগর আঁখি জোড়া। তা লক্ষ করে রিচার্ড পিছন থেকে এলিজাবেথকে জড়িয়ে ধরল। কাঁধে থুতনি রেখে নরম গলায় জানতে চাইল,

“ডু ইয়্যু লাইক দ্যাট, হানি?”
এলিজাবেথ কণ্ঠে বিস্ময় জড়িয়ে বলল, “এই দৃশ্য আমি কখনো ভুলতে চাই না।”
রিচার্ড নিঃশব্দে হাসল, “ভুলে গেলে আমরা আবার এখানে আসব।”
“কস্টিং তো অনেক!”
রিচার্ড ঠোঁট কামড়ে বাঁকা হাসল, তার দাম্ভিক কণ্ঠে গর্ভের রেশ লুকানো গেল না, “টাকা-পয়সা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, ম্যাডাম। আপনার দায়িত্ব ওড়ানো, আর আমার দায়িত্ব কামানো।”
তারপর এলিজাবেথকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রিচার্ড অকস্মাৎ ওকে কোলে তুলে নিল। এলিজাবেথ চমকে উঠল। আত্মরক্ষার্থে খামচে ধরল রিচার্ডের কুচকুচে কালো শার্টের কলার। এলিজাবেথের পরনে ছিল ব্যাকলেস রেড সিল্ক গাউন। গাউনের ফ্লোরটাচ অংশটি রিচার্ড কোলে নেওয়ার পরও নিচের পুলের পানিতে কিছুটা ভিজে গেল। ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে রিচার্ডের দৃষ্টি। সে এলিজাবেথকে নিয়ে সরাসরি বেডরুমের দিকে এগিয়ে গেল। বেডরুমের ভেতরে পা রাখতেই মনে হলো কেউ যেন সাদা মেঘ কেটে গড়ে তুলেছে এক জলমগ্ন স্বপ্নরাজ্য। বরফশুভ্র গুহাময় দেয়াল জুড়ে আলো-ছায়ার মিষ্টি খেলা। সামনের অংশে পায়ের নিচে কাচের মতো স্বচ্ছ জল, আর তার বুক চিরে এগিয়ে গেছে কাঠের সরু সাঁকো। মাঝখানে জলের ওপর দুলছে একটি বিশাল দোলনা। ভাসমান সেই দোলনার নিচে নীল পানির একটি জাকুজি (Jacuzzi)। যেখান থেকে বুদবুদ করে উঠছে উষ্ণ জল। ভাসমান দোলনাটির ওপর লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে যত্ন করে লেখা—Happy Honeymoon.

লেখাটা পড়ামাত্রই এলিজাবেথ তার তলপেটে তীব্র চাপ অনুভব করল। ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল তার। রিচার্ড কাঠের সরু সাঁকো পেরিয়ে এলিজাবেথকে নিয়ে দোলনাটার দিকে এগিয়ে গেল। সামনের অংশটা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। সেখান থেকে বহুদূরের ধূসর সমুদ্র স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রের কোল ঘেঁষে মাটি কেটে তৈরি করা আঁকাবাঁকা রাস্তা দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। হঠাৎ করেই চারপাশ কালো মেঘে ঢেকে গেল।
রিচার্ড দোলনার কাছে গিয়ে এলিজাবেথকে আলতো করে বসিয়ে দিল। এলিজাবেথ শঙ্কিত চোখে চারপাশটা খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে হঠাৎ তার দৃষ্টি আটকে গেল দোলনার ছাদটার ওপর। আতঙ্কে শিউরে উঠল সে! দোলনার ওপরের অংশটি স্বচ্ছ কাচের তৈরি।যেখানে তাকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। জাকুজির পানির বুদবুদের শব্দে এলিজাবেথের সম্বিৎ ফিরে এলো। সে চমকে উঠে রিচার্ডের দিকে তাকাল। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে কিছুটা দৃঢ়তা এনে বলল,

“মি. কায়নাত, এটা আমাকে অস্বস্তিতে ফেলছে।”
রিচার্ডের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। হঠাৎ সে হাত তুলে একবার তালি বাজাল। তালির মৃদু প্রতিধ্বনি চারদিকে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে নিভে গেল সব আলো। চারপাশ গ্রাস করল ক্ষণিকের গাঢ় অন্ধকার। এলিজাবেথ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারের বুক চিরে একে একে জ্বলে উঠল অসংখ্য থ্রিডি আলোর মায়াবী কারুকাজ। যেন আলোর শিল্পী নিজের সমস্ত কল্পনা ঢেলে সাজিয়েছে পুরো প্রাসাদটিকে। নীল, বেগুনি, রোজ গোল্ড আর রূপালি আলোর ঢেউ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কখনো নক্ষত্রমালার মতো ছড়িয়ে পড়ছে, কখনো আবার অরোরার মতো নেচে উঠে একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। পায়ের নিচে কাঁচের মতো স্বচ্ছ, গাঢ় নীল জল নিঃশব্দে দুলছে। জলের প্রতিটি ঢেউ রঙিন আলোর ছোঁয়ায় যেন তরল হীরা হয়ে ঝিকমিক করছিল। মনে হচ্ছে নিচে কোনো সমুদ্র নয় বরং সহস্র নীলকান্তমণি বিছিয়ে রাখা হয়েছে।

এলিজাবেথ ধীরে ধীরে মাথা তুলে চারদিকে তাকাল। বিস্ময়ে তার চোখ দুটি বড় হয়ে উঠেছে। পলক ফেলতে পর্যন্ত ভুলে গেছে সে। ঠোঁট সামান্য ফাঁক হয়ে আছে। অথচ কোনো শব্দ বেরোল না। এমন দৃশ্য কল্পনাতেও কখনো দেখেনি সে। তাছাড়া রঙিন আলোয় এবার আর কাঁচে তার প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে না। ক্ষণিকের মোহগ্রস্ত ভাব কাটিয়ে এলিজাবেথ তাকাল রিচার্ডের দিকে। রিচার্ডের দিকে তাকাতেই বুকের ভেতর চাপ অনুভব করল সে।রিচার্ডের সমুদ্র-নীল চোখের দৃষ্টি আজ তার ভাবনার চেয়েও গভীর। সে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “আ–আপনি আমাকে এখানে নিয়ে এলেন কেন?”
রিচার্ডের কণ্ঠস্বর তার দৃষ্টির চেয়েও গভীর শোনাল,”আমাদের এখনও একটা জিনিস বাকি রয়ে গেছে, ওয়াইফি।”

“ক…ক—কী?”
“খুব কাছাকাছি আসা।”
এলিজাবেথ দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছিল। রিচার্ডের কথায় সে চমকে আবার তার দিকে ফিরে তাকাল। রিচার্ড ঘোরলাগা দৃষ্টিতে চেয়ে আছে এলিজাবেথের দিকে। এলিজাবেথের কণ্ঠ ভাঙা কাচের মতো কেঁপে উঠল, “মি. কায়নাত.. আ-আ.. আপনি এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”
রিচার্ডের ঠোঁট নড়ল অত্যন্ত শান্তভাবে, “আপনার উপস্থিতি আমার শ্বাসরোধ করে ফেলে, মিসেস কায়নাত।”
এলিজাবেথ কুণ্ঠিত হলো। সে লোকটার মতলব খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে। কিন্তু কেন যেন নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছে না। হঠাৎ করে বাইরে বজ্রপাত হলো, সেই সাথে নামল তুমুল বৃষ্টি। এলিজাবেথ চমকে বাইরে তাকাল। তারা বর্তমানে যে জায়গাটায় আছে, সেখানে কোনো কাচ বা দেয়াল নেই। যার ফলে বাইরের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। টিনের চাল থেকে যেভাবে পানি পড়ে, ঠিক সেভাবে বৃষ্টি ঝরছে। এলিজাবেথের এই অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে রিচার্ড তার খুব কাছে চলে এলো। এলিজাবেথ চমকে উঠল, কেঁপে উঠল। বাধা দিয়ে বলল, “আমার লজ্জা করছে, মি. কায়নাত।”
পুরুষালি আকাঙ্ক্ষা তখন রিচার্ডের কণ্ঠ সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলেছে। সে ফিসফিস করে বলল, “লজ্জা ভাঙার দায়িত্ব আমার।”
রিচার্ড এলিজাবেথকে ছুঁতে গেলে সে হাত সরিয়ে নিল। কেঁপে কেঁপে বলল, “আমার হাত কাঁপছে।”

“একটু পর আর কাঁপবে না।”
এলিজাবেথ রিচার্ডের চোখের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল,”কে–কেন?”
রিচার্ড রমণীর চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি কাছে যাবো তাই।”
“আপনি তো আমার কাছেই আছেন।”
“স্বামী হিসেবে যতটা কাছে আসা প্রয়োজন, ততটা কাছে আসতে চাই।”
এলিজাবেথ শুকনো ঢোক গিলে বলল, “আমার আরেকটু সময়ের প্রয়োজন।”
রিচার্ড বড্ড অধৈর্য হয়ে এলিজাবেথের কাঁধের দিকে হাত বাড়াল, “আর সম্ভব না।”
এলিজাবেথ খামচে ধরল তার হাতটি, “কী সম্ভব না?”
ধীরে ধীরে রিচার্ডের কণ্ঠে অধৈর্য ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে,”নিজেকে ধরে রাখা।”

“কেন?”
“কারণ, আপনি বড্ড ভয়ংকর।”
“আমি ভয়ংকর?”
“ভয়ংকর আপনার উপস্থিতি।”
এলিজাবেথ তাও দোনোমোনো করলে রিচার্ড হিসহিসিয়ে বলে,”প্যারিস নিয়ে যাবো তো।”
বলেই সে একটানে এলিজাবেথের কাঁধের ফিতাটা খুলে ফেলল। তারপর রিচার্ড যখন নিজের শার্টের বোতামে হাত রাখল, তখন এলিজাবেথ তড়িৎ বেগে তার হাত আঁকড়ে ধরল। জড়ানো কণ্ঠে বলল, “আপনি শার্টের বোতাম খুলবেন না প্লিজ। আমার নিঃশ্বাস আটকে যায়।”
রিচার্ড ঠোঁট কামড়ে হাসল। শার্টের বোতাম আর খুলল না বটে, তবে কৌশলে দোলনার একটি ফিতায় টান দিল। যার ফলে দোলনাটি এবার ধীরে ধীরে জাকুসির পানির ভেতর নামতে শুরু করল। চমকে উঠল এলিজাবেথ। তবে সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিচার্ড গভীর আড়ষ্টতায় আঁকড়ে ধরল তার ওষ্ঠজোড়া। চারপাশের সবকিছু তখন ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসছিল। এলিজাবেথের চোখে শুধু ভাসছিল তার স্বামীর উন্মত্ত আচরণগুলো। সে লোকটাকে শেষবারের মতো সতর্ক করে বলেছিল, “বি আ জেন্টলম্যান, ওকে?”
বেপরোয়া লোকটা তখন প্রকাশ্যে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফিসফিসিয়ে উঠেছিল, “স্যরি, আই কান্ট।”
এবং রমণীর বাহুডোরে হারিয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বলেছিল,”দ্বিতীয়বারের মতো আমি আমার অধিকার আদায় করে নিলাম, মিসেস কায়নাত।”

দৃশ্যপট এখন মালদ্বীপের বিলাসবহুল আন্ডারওয়াটার স্যুটের ভেতর। গ্রীসে থাকাকালীন এলিজাবেথ ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। চার-চারটি দিন কেটে গেলেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। কিন্তু রিচার্ডের হাতেও সময় বড্ড কম। যেকোনো মূল্যে দ্রুত এই হানিমুন ট্রিপ শেষ করতে হবে তাকে। তাছাড়া এক দেশে এতোদিন থাকা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই ট্রিপে যেমন এলিজাবেথের স্বপ্ন পূরণ রয়েছে, তেমনি রিচার্ডের ভেতরও রহস্য রয়েছে ।

তাই আর দেরি না করে অসুস্থ এলিজাবেথকে হুইলচেয়ারে বসিয়েই প্রাইভেট জেটে করে তারা উড়ে এসেছিল তাদের বাকেট লিস্টের পরবর্তী গন্তব্য— মালদ্বীপে। এখান থেকে তাদের পরবর্তী গন্তব্য প্যারিস।
হুইলচেয়ারে বসে থাকা এলিজাবেথ তখন অবিশ্বাস্য চোখে ওপরের দিকে তাকিয়ে ছিল। কাঁচের ছাদের ওপারে তাদের ভিলার ঠিক ওপর দিয়ে ডানা মেলে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে বিশাল সব হাঙর। সমুদ্রের এই আদিম সৌন্দর্য ওকে এতটাই মোহাবিষ্ট করে রেখেছিল যে, সে চারপাশের সবকিছু ভুলেই গিয়েছিল। হঠাৎ বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। কোমরে কেবল সাদা টাওয়াল জড়িয়ে বেরিয়ে এলো রিচার্ড।
শব্দের উৎস লক্ষ্য করে এলিজাবেথ চমকে পেছনে তাকাতেই থমকে গেল। রিচার্ডকে এমন অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখে সঙ্গে সঙ্গে লড়াকু লজ্জায় দ্রুত নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল সে। এলিজাবেথের এমন আচরণ দেখে রিচার্ডের কপাল কুঁচকালো। ভাবখানা এমন, যেন সে কোনো বেগানা পুরুষ! হঠাৎ করেই রিচার্ডের ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমিভরা হাসি খেলে গেল। সে ধীর পায়ে এলিজাবেথের ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল। তারপর ভীষণ মিষ্টি এক চিলতে গলায় ডাকল,

Born to be villains part 27

“রেড তাকাও…একটু দেখো!”
কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব শুনে এলিজাবেথ ভেবেছিল হয়তো জরুরি বা বিশেষ কিছু হবে। কৌতূহল আর প্রশ্নভরা দৃষ্টি নিয়ে সে পেছনে তাকাল, “কী দেখব?”
এলিজাবেথ পিছন ফিরে তাকাতেই রিচার্ড এলিজাবেথের উৎসুক চোখের দিকে তাকিয়ে একপাশের ভ্রু নাচাল। ঠোঁটের কোণের বাঁকা হাসিটা আরও চওড়া করে, নিজের সুগঠিত অনাবৃত শরীরের দিকে ইঙ্গিত করে বলল,
“চাঁদ!”

Born to be villains part 28

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here