Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 43

Mad for you 2 part 43

Mad for you 2 part 43
তানিয়া খাতুন

থরথর করে কাঁপছে মেয়েটা। ভয়ে যেন বুকের ভেতরটা একেবারে শূন্য হয়ে গেছে।
হৃদপিণ্ডটা এত জোরে ধুকপুক করছে যে মনে হচ্ছে এই বুঝি বুক চিরে বাইরে বেরিয়ে আসবে।
প্রায় পনেরো মিনিট ধরে কোনো রকমে অন্ধকার ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে রুহি।
চারদিকে এতটাই নিস্তব্ধতা যে নিজের দ্রুত নিঃশ্বাসের শব্দটুকুও তার কানে স্পষ্ট ভেসে আসছে।
ঘরের প্রতিটি কোণ অন্ধকারে ডুবে আছে। বাইরে ঝড়ের দাপট এখনও থামেনি।
মাঝে মাঝেই বিদ্যুতের ঝলকানি জানালার কাঁচে এসে পড়ছে, আর ঠিক পরক্ষণেই বিকট বজ্রধ্বনি যেন পুরো বাড়িটাকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিটি শব্দে রুহির শরীর আরও বেশি করে কেঁপে উঠছে।
ভয়ে তার পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এসেছে, ঠোঁট শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে।
ঠিক তখনই…

কোথাও যেন একটা ভারী শব্দ হলো।
রুহি চমকে উঠে মাথা তুলল। আতঙ্কে তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেছে। সে কান খাড়া করে শব্দটা বোঝার চেষ্টা করল।
কিন্তু না…শব্দটা থেমে গেল না।
বরং ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হতে লাগল। মনে হচ্ছে কেউ খুব ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে।
প্রতিটি পদশব্দ যেন নিস্তব্ধ ঘরের ভেতর আরও ভয়ংকর হয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
প্রতিটি শব্দের সঙ্গে সঙ্গে রুহির বুকের ধুকপুকানিও যেন বেড়ে যাচ্ছে। তার মনে হলো, আর কয়েক সেকেন্ড পরেই হয়তো সে ভয়েই অজ্ঞান হয়ে যাবে।
‘না… না… এটা মানুষ হতে পারে না… নিশ্চয়ই… নিশ্চয়ই ওটা ভূত…!’
মনে মনে কথাগুলো বলেই সে চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল।
ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে আল্লাহকে ডাকতে লাগল।
ঠিক সেই মুহূর্তেই…
প্রচণ্ড শব্দে ঘরের দরজাটা হাট করে খুলে গেল।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বাইরের ঝোড়ো হাওয়া ঘরের ভেতর ঢুকে সবকিছু এলোমেলো করে দিল।
জানালার পর্দাগুলো উড়তে লাগল, আর বিদ্যুতের এক ঝলক আলোয় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লম্বা কালো অবয়ব স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সেই দৃশ্য দেখেই রুহির বুক থেকে আতঙ্কভরা এক চিৎকার বেরিয়ে এলো।

— আ..আআআআ… ভূত…!
সে লাফিয়ে উঠে দৌড়ে পালাতে যাবে, কিন্তু তার আগেই কালো অবয়বটি দ্রুত এগিয়ে এসে অন্ধকারের মাঝেই তাকে শক্ত করে নিজের বাহুর মধ্যে আটকে ফেলল।
হঠাৎ করে শক্ত দুটি বাহুর বন্ধনে আটকা পড়ে রুহি আরও ভয় পেয়ে গেল।
সে ছটফট করতে লাগল, হাত-পা ছুড়তে লাগল, কিন্তু কোনোভাবেই নিজেকে ছাড়াতে পারল না।
— ভূত…ভূত ভূত বাঁচান……কেউ আমাকে বাঁচান…!
ভয়ের চোটে কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে সে সামনে থাকা মানুষটার কাঁধে সমস্ত শক্তি দিয়ে জোরে কামড়ে বসায়।
ব্যথায় ক্রুশ দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
তবুও সে রুহিকে একটুও ছেড়ে দিল না। বরং আরও শক্ত করে তাকে আগলে রেখে শান্ত, গভীর কণ্ঠে বলল,

— ভয় পেয়ো না, বাটারফ্লাই… আমি ভূত নই…।
পরিচিত সেই কণ্ঠস্বর কানে আসতেই রুহির সমস্ত শরীর হঠাৎ থেমে গেল। ছটফট করাও বন্ধ হয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল। ঠিক তখনই বিদ্যুতের আরেকটি ঝলকানি পুরো ঘর আলোকিত করে তুলল।
আলো নিভে যাওয়ার আগের সেই এক মুহূর্তেই রুহি স্পষ্ট দেখতে পেল— তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ক্রুশ।
রুহির বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত ভয় যেন এক নিমিষেই মিলিয়ে গেল।
তার জায়গায় ভর করল লজ্জা আর অস্বস্তি।
এতক্ষণ সে কী কাণ্ডটাই না করেছে!
লজ্জায় নিজের জিভ কেটে ফিসফিস করে বলল,
— সো… সরি…! আমি… আমি বুঝতে পারিনি। খুব লেগেছে…?
কথাটা বলতে বলতেই তার চোখ ক্রুশের শরীরের দিকে চলে গেল।
মাথা থেকে শুরু করে পুরো শরীর বৃষ্টির পানিতে ভিজে একাকার।
ভেজা শার্টটা শরীরের সঙ্গে লেগে আছে। চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে।
রুহির বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।
উদ্বিগ্ন কণ্ঠে সে তাড়াতাড়ি বলল,

— আপনার শার্টটা খুলুন…! পুরো ভিজে গেছেন। এভাবে বৃষ্টির মধ্যে এলেন কী করে?
রুহির একের পর এক প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না ক্রুশ। সে শুধু নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার শক্ত দুটো হাত এখনও রুহির কোমর জড়িয়ে আছে।
যেন এক মুহূর্তের জন্যও তাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে রাজি নয়।
রুহি ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— কী হলো? কিছু বলছেন না কেন? এত ভিজলেন কী করে? আর আমি এত জোরে কামড়ে দিলাম… খুব ব্যথা করছে না?
তবুও ক্রুশের মুখে কোনো শব্দ নেই। শুধু গভীর, স্থির দৃষ্টিতে সে রুহির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
অবশেষে অধৈর্য হয়ে রুহি নিজেই ক্রুশের শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করল।
তার আঙুলগুলো কাঁপছিল, কিন্তু তবুও সে থামল না আর ক্রুশও যেন এটাই চাইছিল।
কোনো বাধা না দিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্যও রুহির মুখ ছেড়ে অন্য কোথাও গেল না।
শার্টটা খুলতেই রুহি দ্রুত ক্রুশের পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করল।
তারপর টর্চ জ্বালিয়ে আলোটা কাঁধের ওপর ফেলতেই তার বুকটা ধক করে উঠল।
যেখানে সে কামড়েছিল, সেই জায়গাটা বেশ লাল হয়ে ফুলে উঠেছে।
দাঁতের স্পষ্ট দাগও পড়ে গেছে।
দৃশ্যটা দেখে রুহির মুখটা সঙ্গে সঙ্গে মলিন হয়ে গেল।
অপরাধবোধে ভরা চোখে সে আলতো করে সেই জায়গায় হাত বুলিয়ে দিল।
তার আঙুলের স্পর্শ ছিল ভীষণ কোমল, যেন সেই স্পর্শ দিয়েই ব্যথাটা কমিয়ে দিতে চায়।
মৃদু কণ্ঠে সে জিজ্ঞেস করল,

— খুব… বেশি লেগেছে?
ক্রুশ চোখ বন্ধ করে সেই স্পর্শ অনুভব করল। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।
তারপর খুব নিচু, কর্কশ কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
— আমার সারা শরীরেও যদি তুমি এভাবে কামড় দাও… তবুও আমি একটুও মাইন্ড করব না।
কথাটা শুনেই রুহি থতমত খেয়ে গেল।
লজ্জায় তার গাল দুটো মুহূর্তেই টকটকে লাল হয়ে উঠল।
কয়েক মাস আগেও এমন কথা শুনলে হয়তো সে লজ্জায় পালিয়ে যেত।
কিন্তু এখন ধীরে ধীরে ক্রুশের লাগামহীন কথাগুলোর সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
তবুও লোকটার এমন নির্লজ্জ স্বভাব মাঝে মাঝেই তাকে একেবারে বাকরুদ্ধ করে দেয়।
মুখ ঘুরিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে সে গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করল।

— আগে গিয়ে সব বদলে নিন। না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
বলেই মোবাইলের টর্চের আলোটা ওয়াশরুমের দিকে ধরল।
কিন্তু ক্রুশের মুখের ভাব একটুও বোঝা গেল না।
সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ এমন এক কাণ্ড ঘটাল, যার জন্য রুহি মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
বিদ্যুৎগতিতে সে রুহির হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নিয়ে বিছানার ওপর ছুড়ে ফেলল।
মোবাইলটা বিছানায় পড়তেই ঘরটা আবার আধো অন্ধকারে ডুবে গেল।
পরের মুহূর্তেই কোনো সময় নষ্ট না করে ক্রুশ দুহাতে রুহির কোমর শক্ত করে চেপে ধরল।
এক ঝটকায় তাকে নিজের বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নিল।
আকস্মিক ঘটনায় রুহির নিঃশ্বাস আটকে গেল।
ঠিক তখনই বাইরে প্রচণ্ড শব্দে বিদ্যুৎ চমকে উঠল।
সেই ক্ষণিকের সাদা আলোয় রুহি স্পষ্ট দেখতে পেল ক্রুশের মুখ।
তার গভীর, অস্থির দৃষ্টি যেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা আকুলতা, অভিমান আর ভালোবাসায় ভরে আছে।
চোখ দুটো একদৃষ্টিতে শুধু রুহির মুখটাই দেখছে।
সেই দৃষ্টি দেখে রুহির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে কিছু একটা বলতে ঠোঁট নাড়তেই যাচ্ছিল…
কিন্তু সুযোগ পেল না।

তার আগেই ক্রুশ মুখটা ঝুঁকিয়ে আনল। দুজনের নিঃশ্বাস একে অপরের মুখে এসে মিশে গেল।
মুহূর্তের মধ্যেই তাদের মাঝের সামান্য দূরত্বটুকুও হারিয়ে গেল, আর ক্রুশ তার রুক্ষ, উষ্ণ ঠোঁট আলতো করে রুহির ঠোঁটের ওপর ছুঁইয়ে দিল।
ক্ৰুশ ধৈর্য ধরে রুহির দুই ঠোঁটের ফাঁকে নিজের ঠোঁট মিশিয়ে চুম্বন করল।
দুই রুক্ষ হাত দিয়ে রুহির কোমর শক্ত করে আঁকড়ে ধরল।
মেয়েটা যেন নিজের সঙ্গেই যুদ্ধ করছিল। নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল বারবার।
কিন্তু ক্ৰুশের অবস্থা যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
সে যেন রুহির মায়াবী উপস্থিতিতে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে গিয়েছিল।
বেশ খানিকটা সময় পর ক্ৰুশ ধীরে ধীরে ঠোঁট সরিয়ে রুহির কলারবোনে মুখ ডুবিয়ে দিল।
তার উষ্ণ ঠোঁটের স্পর্শ ধীরে ধীরে সেখানে বিচরণ করতে লাগল।
রুহি অস্থির হয়ে ক্ৰুশের চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরল।
তার যেন পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও হারিয়ে যাচ্ছিল।
ক্ৰুশ বিষয়টা বুঝতে পেরে তাকে নিজের দুই পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখল।
ঠোঁটের স্পর্শ ধীরে ধীরে আরও নিচে নামতে লাগল।
বুকের কাছে মুখ গুঁজে ক্ৰুশ ফিসফিসিয়ে বলল,

— “বাটারফ্লাই, আজ আর আমাকে ফিরিয়ে দিস না।
অনেক সময় দিয়েছি তোকে। আজকের রাতটা শুধু আমাকে একটু আদর করতে দে, তোকে একটু ছুঁয়ে দিতে দে।”
রুহি বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। কাঁপা গলায় বলল,
— “আজ নয়… অন্য কোনো দিন।”
ক্ৰুশ নিজের আঙুল আলতো করে রুহির ঠোঁটের ওপর বুলিয়ে দিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
— “চুপ… দিন নয়, যা হবে আজ রাতেই হবে।
সারাদিন আমি তোর কথা শুনব, আর সারারাত তুই আমার কথা শুনবি। সমান সমান অধিকার, জান।”
রুহি নিচু স্বরে বলল,

— “নষ্ট…”
মুহূর্তের মধ্যেই ক্ৰুশ রুহিকে কোলে তুলে নিয়ে মৃদু হেসে বলল,
— “হ্যাঁ, আমি নষ্ট। তোকে নিয়েও নষ্ট হতে চাই।
অনেক দিন তোকে ছুঁইনি, বাটারফ্লাই। আজ ভীষণ ইচ্ছে করছে সেই কান্নাভেজা মুখটা দেখতে।”
অন্ধকারে মোড়া ঘরটার নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছিল।
সেই অন্ধকারের মধ্যেই ক্ৰুশ রুহিকে বিছানার ওপর ফেলে দিল।
এক টানেই নিজের প্যান্টের বেল্ট খুলে ফেলল সে।
ঠিক তখনই জানালার বাইরে বিদ্যুতের ক্ষণিকের ঝলক পুরো ঘরটাকে এক মুহূর্তের জন্য আলোকিত করে তুলল।
সেই ক্ষণস্থায়ী আলোতেই রুহি অস্পষ্টভাবে বুঝে ফেলল মানুষ টা কী করতে যাচ্ছে।
অজানা এক ভয় মুহূর্তের মধ্যেই তার বুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
লজ্জায় কাঁপতে কাঁপতে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ল সে।
ক্ৰুশ বিছানার ওপর হাতড়ে ফোনটা খুঁজে বের করল।
ফোনের ক্ষীণ আলো জ্বালিয়ে টেবিলের ওপর রেখে আবার রুহির দিকে এগিয়ে এল।
তারপর ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে তাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিল।
রুহি চোখ নামিয়ে কাঁপা গলায় বলল,

— “ছিঃ… আপনি এত নির্লজ্জ কেন?”
— “চেইনটা… আটকান…”
ক্ৰুশ রুহির দুই হাত বিছানার ওপর আলতো শক্তিতে চেপে ধরে তার দিকে ঝুঁকে এল।
ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমি মেশানো এক বাঁকা হাসি ফুটিয়ে নিচু স্বরে বলল,
— “এত লজ্জা কিসের, বাটারফ্লাই? তুই তো এটা আগেই দেখেছিস।”
রুহি চোখ-মুখ কুঁচকে মাথা নাড়ল। তারপর লজ্জায় লাল হয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
— “হ্যাঁ… কিন্তু আমার কিছুই মনে নেই।”
ক্ৰুশ মৃদু হেসে তার হাত নিজের আপত্তিকর স্থানে নিয়ে যায়,
— “কোনো সমস্যা নেই… নতুন করে চিনে নে।”
ক্ৰুশের কথা আর কাজে রুহি যেন আরও বেশি অস্বস্তিতে পড়ে গেল।
লজ্জায় হাঁসফাঁস করে উঠল। কিন্তু লজ্জা পাওয়ার সেই মুহূর্তটুকুও যেন বেশিক্ষণ স্থির হয়ে রইল না।
ক্ৰুশ আবারও তার ঠোঁটে হামলে পড়ল। আকস্মিক সেই আচরণে রুহি আরও অস্থির হয়ে উঠল।
ক্ৰুশ তার থ্রি-পিস টেনে খুলে ফেলল। চারপাশের সমস্ত কিছু যেন মুহূর্তের মধ্যেই এলোমেলো হয়ে গেল।
দুজনেই তখন আবেগে বিক্ষিপ্ত। ক্ৰুশ বারবার রুহির শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।

রুহি লজ্জা, সংকোচ আর অস্থিরতার মিশ্র অনুভূতিতে কেঁপে উঠছিল।
সে বারবার নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু পরিস্থিতির তীব্রতায় যেন কিছুই আর নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিল না।
মেয়েটি লজ্জায় কুঁকড়ে গুঙিয়ে উঠল, তবুও ছাড় পেল না।
ক্ৰুশ যেন আজ এক অদৃশ্য শপথ নিয়েছে—রুহির সমগ্র অস্তিত্বের প্রতিটি কোণে নিজের আবেগের ছাপ রেখে যাবে।
তার সমস্ত অনুভূতি যেন একসঙ্গে উথলে উঠেছে, আর সেই আবেগের প্রবল স্রোতে রুহিকে সম্পূর্ণভাবে আলোড়িত করে দিতে চাইছে।

ঝড়-বৃষ্টি অনেকটাই কমে এসেছে, তবুও ডাক্তারকে আনা সম্ভব হলো না।
কারণ এই অবস্থায় বেশিরভাগ রাস্তাই গাছপালা ভেঙে পড়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এমন দুর্যোগে কেউ আসতেও রাজি হচ্ছে না।
এদিকে আমান একটি বালতিতে পানি এনে তার মধ্যে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে নিল।
উদ্দেশ্য, সিমরানের জ্বরে পুড়ে যাওয়া হাত-পা মুছে দেওয়া।
মেয়েটা জ্বরের ঘোরে অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে আছে, যেন চারপাশের কোনো কিছুরই হুঁশ নেই।
এমন অবস্থায় কী করবে, কী করা উচিত—কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না আমান।
তবুও নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে সে সিমরানের পাশে গিয়ে বসল।
আলতো করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে নরম কণ্ঠে ডাকল,

— সিমরান… এই, চোখ খোলো। একবার আমার দিকে তাকাও।
কিছুক্ষণ পর সিমরান ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল।
ঝাপসা দৃষ্টিতে আমানের মুখটা দেখতেই আমান যেন স্বস্তির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— একটু উঠে বসো। আমি তোমার হাত-পা মুছে দিই।
সিমরান শুকনো মুখে, ক্লান্ত চোখে আমানের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট কণ্ঠে বলল,
— প্রয়োজন নেই… আমি নিজেই করে নেব।
কথাটা শুনেই আমান ধমকে উঠল,
— কী করে করবে শুনি? ঠিকমতো চোখই খুলে রাখতে পারছ না, আর বলছ নিজের শরীর নিজেই মুছবে?
এরপর আর কোনো কথা না বলে আমান সিমরানের ওড়নাটা আলতো করে একপাশে সরিয়ে দিল।
মুহূর্তেই সিমরান অস্থির হয়ে উঠল। দুর্বল শরীর নিয়ে যতটা সম্ভব নিজেকে সরিয়ে নিতে নিতে কাঁপা গলায় বলল,
— আমার ওপর দয়া দেখাতে হবে না। আমার জন্য অনেক করেছেন… আর নয়।
— আর হ্যাঁ… আমি ভেবে নিয়েছি, আমি আবার ইতালিতে ফিরে যাব।
আমি বুঝে গেছি, আপনার সব মায়া আসলে আপনার মেয়ের জন্য। আমার কোনো গুরুত্বই নেই আপনার কাছে…
সিমরান কথাগুলো শেষ করতেই হঠাৎ করেই এক ঝটকায় আমানের হাত তার গালে এসে পড়ল।
চড়ের আঘাতে ব্যথায় সিমরানের চোখ ভরে উঠল পানিতে।
দুর্বল শরীরটা সামলাতে না পেরে সে আবার খাটের ওপর লুটিয়ে পড়ল।
আমান যেন নিজের সমস্ত রাগ, কষ্ট আর অসহায়ত্ব হারিয়ে ফেলেছে।
কাঁপা কণ্ঠে সে বলে উঠল,

— তুই আমার বউ… আমার সন্তানের মা। তুই আমার সঙ্গেই থাকবি, আমাকেই ভালোবাসবি।
তাহলে কেন সব সময় আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবিস?
তারপর নিজের বুকের ভেতরের জমে থাকা যন্ত্রণা উগরে দিয়ে চিৎকার করে বলল,
— যেতে চাইছিস না? যা… চলে যা! এখনই চলে যা! আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যা!
কথাগুলো মুখে বললেও আমানের চোখ ইতিমধ্যেই অশ্রুতে ভরে উঠেছে।

Mad for you 2 part 42

সে কখনো এমন একটা সম্পর্ক চায়নি, যেখানে বারবার হারিয়ে ফেলার ভয় তাকে গ্রাস করবে।
সে শুধু চেয়েছিল একটা স্বাভাবিক, সুন্দর, শান্ত সংসার—যেখানে ভালোবাসা থাকবে, বিশ্বাস থাকবে, আর থাকবে একে অপরকে সারাজীবন আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি কিন্তু এই মেয়ে বুঝলে তো.……

Mad for you 2 part 44

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here