Mad for you 2 part 41
তানিয়া খাতুন
বিয়ের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি।
শহরের অন্যতম অভিজাত শপিং মলটা যেন আজ আরও বেশি আলোকোজ্জ্বল।
কাঁচের বিশাল দেয়ালে প্রতিফলিত হচ্ছে হাজারো আলোর ঝলক, চারপাশে মানুষের ব্যস্ত পদচারণা, কোথাও শিশুদের উচ্ছ্বাস, কোথাও আবার যুগলদের হাসি—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ।
সেই ভিড়ের মাঝেই পাশাপাশি হাঁটছে চারজন।
নীল, আয়েশা, ক্ৰুশ আর রুহি।
সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত ছিল নীল। বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে তার উত্তেজনার শেষ নেই।
অন্যদিকে আয়েশার চোখেমুখেও স্পষ্ট আনন্দের ছাপ।
তবে সেই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে একটুখানি সতর্কতা।
রুহির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল সে।
মেয়েটা এখনও আগের সবকিছু পুরোপুরি মনে করতে পারেনি।
চিকিৎসকও বলেছিলেন, অতীতকে জোর করে মনে করানোর চেষ্টা না করাই ভালো।
স্মৃতি যদি ফিরে আসে, তবে সেটা স্বাভাবিকভাবেই আসুক।
সেই কারণেই প্রথম দেখার মুহূর্তে আয়েশা এমনভাবে নিজের পরিচয় দিয়েছিল, যেন আজই প্রথম দেখা।
এরপর আর সময় লাগেনি।
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুজন এমনভাবে গল্পে মেতে উঠল, যেন বহু বছরের বান্ধবী।
কখনো কোনো ড্রেস হাতে নিয়ে মতামত চাইছে, কখনো একে অপরকে নিয়ে মজা করছে, আবার কখনো হেসে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কেনাকাটা চলল।
নীল নিজের সব কেনাকাটা শেষ করেছে।
আয়েশাও প্রয়োজনীয় সবকিছু গুছিয়ে ফেলেছে।
এখন বাকি শুধু একজনের…রুহি।
আর ঠিক সেই একজনের শাড়ি কিনতেই যেন পুরো দোকানের কর্মচারীদের পরীক্ষা নিচ্ছে ক্ৰুশ।
— “এই ডিজাইনটা নয়… অন্য কিছু দেখান।”
— “এটার রঙটা খুব সাধারণ।”
— “নতুন কালেকশন নেই?”
— “আরও একবার দেখান তো…”
একটার পর একটা শাড়ি খুলে দেখানো হচ্ছে।
সিল্ক…কাতান…অর্গাঞ্জা…জামদানি…বেনারসি…
দোকানের বড় টেবিলের ওপর রঙের পর রঙ ছড়িয়ে পড়েছে।
একজন কর্মচারী ঘেমে নেয়ে আরেকজনকে বলল,
— “স্যারকে নতুন কালেকশনগুলোও এনে দাও।”
মুহূর্তের মধ্যেই আরও পাঁচ-ছয়টা প্যাকেট খুলে ফেলা হলো।
কিন্তু এত কিছুর পরও তার মুখে সন্তুষ্টির কোনো ছাপ নেই।
একটা শাড়ি হাতে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড দেখছে, তারপর মাথা নেড়ে আবার সরিয়ে রাখছে।
যেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত শাড়িটাই তার দরকার।
রুহি ধীরে ধীরে বিরক্ত হয়ে উঠল।
শোরুমের প্রায় সব ক্রেতাই কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।
কেউ মুচকি হাসছে, কেউ আবার ফিসফিস করে কী যেন বলছে।
অথচ সেদিকে ক্রুশের বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই।
সে নিজের জগতে ডুবে থেকে শুধু একের পর এক শাড়ি দেখেই চলেছে।
রুহি জীবনে এই প্রথম দেখল, একটা শাড়ি পছন্দ করার ব্যাপারে কেউ এতটা খুঁতখুঁতে হতে পারে।
মনে হচ্ছিল, মানুষটা যেন শাড়ি কিনতে নয়, কোনো অমূল্য রত্ন বেছে নিতে এসেছে।
ধীরে ধীরে রুহির অস্বস্তি বাড়তে লাগল।
চারপাশে তাকিয়ে দেখল, দোকানের অনেক ক্রেতাই নিজেদের কেনাকাটা থামিয়ে তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।
রুহি নিচু গলায় ক্ৰুশ কে বলল,
— “শুনছেন…”
ক্ৰুশ শাড়ির ভাঁজ খুলতেই ব্যস্ত।
— “হুম?”
— “এতগুলো শাড়ি দেখার দরকার আছে?”
— “আছে।”
— “কিন্তু সবাই আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।”
ক্ৰুশ একবারও মাথা তুলল না।
শান্ত গলায় বলল,
— “তাকাতে দাও।”
— “আপনার লজ্জা করে না?”
— “না।”
— “আমার কিন্তু করছে।”
এবার ক্ৰুশ মাথা তুলে তার দিকে তাকাল।
আমার বউয়ের জন্য আমি শাড়ি দেখছি এটা আমার কাছে লজ্জার ব্যাপার নয় ভালো লাগার ব্যাপার।
কথাটা শুনে রুহির বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল।
কেন জানে না…এই মানুষটার মুখে এমন কথা শুনলে তার ভীষণ ভালো লাগে আজকাল।
যদিও অতীতের সব স্মৃতি এখনও ঝাপসা, তবুও ক্ৰুশের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত মাঝেমধ্যে অস্পষ্ট ছবির মতো ভেসে ওঠে।
মনে হয়…এই মানুষটার এমন যত্ন সে আগেও পেয়েছিল।
হয়তো অনেকবার।
হয়তো প্রতিদিন।
অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে বলল,
“হয়তো আমি সত্যিই আবার নতুন করে এই মানুষটার প্রেমে পড়ছি…”
অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ক্রুশ দুটো শাড়ি আলাদা করে রাখল।
নীল ক্লান্ত ভঙ্গিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করে বলল,
— “মাইরি! এতক্ষণ ধরে কেউ নিজের লাইফ পার্টনারও চুজ করে না!”
কথাটা শুনেই আয়েশা ফিক করে হেসে উঠল।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই ক্রুশের রাগী দৃষ্টি নীলের ওপর পড়তেই সে তাড়াতাড়ি নিজের হাসি চেপে ফেলল।
ক্রুশ আর কোনো কথা না বলে শাড়ি দুটো হাতে তুলে নিল। তারপর স্বাভাবিকভাবেই রুহির হাত ধরে বলল,
— “তোরা গিয়ে কিছু খেয়ে আয়। আমরা এগুলো ট্রাই করে আসছি।”
ক্রুশের কথা শুনে নীল এমনভাবে তার দিকে তাকাল, যেন জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কথা শুনেছে।
কয়েক সেকেন্ড পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে সে বিস্মিত গলায় বলল,
— “ভাই… তুমি কি এখন শাড়ি পরবে?”
নীলের কথা শেষ হতেই ক্রুশ তার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাল। চোখ দুটো মুহূর্তেই সরু হয়ে এল।
দাঁত চেপে কটমট করে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
— “বেশি বকবি তো, যেভাবে তোর বিয়েটা কনফার্ম করেছি, ঠিক সেভাবেই আবার ক্যানসেলও করে দেব।”
কথাটা শুনে নীলের মুখের হাসি মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল।
সে নিজের ভাইকে খুব ভালো করেই চেনে। লোকটা একবার যা বলে, সেটা করে দেখানোর ক্ষমতাও রাখে।
এতদিন পর কত কষ্টে বিয়েটা ঠিক হয়েছে। এখন যদি সত্যিই এই পাগলটা রাগের মাথায় সব ভেঙে দেয়, তাহলে তার কপালে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
তাই আর একটাও কথা না বাড়িয়ে সে দ্রুত আয়েশার হাত ধরে বলল,
— “চলো আয়েশা… আমরা বরং একটু ঘুরে আসি। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই।
একজন বউ পেয়ে জামা-প্যান্ট ছেড়ে শাড়ি পরার জন্য এত সিরিয়াস হয়ে গেছে।
চেঞ্জিং রুমের সামনে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছিল ক্রুশ।
রুহির জন্য যত্ন করে পছন্দ করা দুটো শাড়ির মধ্যে একটি নিয়ে সে ভেতরে ঢুকে পড়েছে আর ক্রুশ দরজার বাইরেই হাত গুটিয়ে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
কয়েক মিনিট কেটে গেল।
ভেতরে রুহি প্রাণপণ চেষ্টা করেও ঠিকমতো শাড়িটা পরতে পারল না।
ইতালিতে জীবনে কোনোদিন শাড়ি পরার প্রয়োজন পড়েনি তার।
তাই কোন দিকটা কোথায় যাবে, আঁচল কীভাবে ফেলতে হয়—কিছুই তার জানা নেই।
অনেক কষ্টে কোনো রকমে শরীরে জড়িয়ে নিলেও আয়নায় নিজেকে দেখে তার নিজেরই হাসি পাচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত সাহস করে দরজাটা অল্প ফাঁক করে উঁকি দিল সে।
ক্রুশের চোখ তখন থেকেই দরজার দিকেই ছিল। হঠাৎ রুহির মুখটা বেরোতেই সে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “কী হলো?”
রুহি ইতস্তত করে বলল,
— “দেখুন… পরে ফেলেছি। ভালো লাগছে তো? তাহলে এবার চেঞ্জ করে নিই…”
কথা শেষ না করেই সে দরজা বন্ধ করতে গেল।
কিন্তু দরজাটা আর বন্ধ হলো না।
ক্রুশ এক হাত দিয়ে দরজাটা আটকে দিল। তারপর ভেতরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
হঠাৎ এমনটা হওয়ায় রুহি চমকে উঠল।
বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
সে তাড়াতাড়ি কয়েক পা পিছিয়ে চেঞ্জিং রুমের এক কোণায় গিয়ে দাঁড়াল।
ক্রুশ মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার তাকিয়েই ভ্রু আরও কুঁচকে ফেলল।
— “এটা কীভাবে শাড়ি পরেছেন, ম্যাডাম?”
তার গলায় বিস্ময়ের সঙ্গে চাপা হাসিও মিশে ছিল।
রুহি তাকিয়ে দেখল, ক্রুশ ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে।
এতেই তার ভীষণ রাগ হয়ে হলো।
এমনিতেই শাড়ি পরতে না পেরে সে কোনো রকমে এত কষ্ট করে শরীরে জড়িয়েছে, আর এই লোকটা তাকে সাহায্য না করে উল্টো হাসছে!
রুহি ঠোঁট ফুলিয়ে রাগী গলায় বলল,
— “হাসছেন কেন? আমি তো আগে থেকেই বলেছিলাম, আমি কোনোদিন শাড়ি পরিনি।
এখন যদি না পারি, সেটা নিয়ে হাসার কী আছে?”
তার চোখেমুখে অভিমান আর বিরক্তি স্পষ্ট ফুটে উঠল।
— আপনি ভীষণ শয়তান লোক। আমি শাড়ি বদলাব, আপনি বাইরে যান।
ক্ৰুশ এক পা-ও নড়ল না। আগের মতোই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে মুচকি হেসে বলল, — সমস্যা কোথায়? আমি তো তোমার স্বামী আমার সামনে করো।
ক্ৰুশের কথা শুনে রুহি থতমত খেয়ে গেল। লজ্জায় তার গাল লাল হয়ে উঠল।
চোখ নিচু করে আস্তে করে বলল, — দেখুন… আমার সবকিছু ধীরে ধীরে মনে পড়ছে। কিন্তু আমাকে একটু সময় দিন।
ক্ৰুশের যেন কথাটা খুব একটা পছন্দ হলো না।
সে দু’হাত বাড়িয়ে রুহির কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের বুকে টেনে নিল।
ক্ৰুশের উষ্ণ নিঃশ্বাস রুহির মুখে এসে লাগতেই সে অস্থির হয়ে উঠল এবং নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল।
ক্ৰুশের কাছে রুহির অস্থিরতা ভীষন ভালো লাগলো সে অবাধ্য হয়ে রুহির শাড়ির আঁচল আলতো করে সরিয়ে তাঁর বক্ষভাজে মুখ গুজলো।
রুহির পুরো শরীর কেঁপে উঠল। হঠাৎ কী ঘটছে, প্রথমে সে বুঝে উঠতে পারল না। যখন পরিস্থিতি উপলব্ধি করল, তখন লজ্জায় তার মুখ রক্তিম হয়ে গেল।
কাঁপা কণ্ঠে সে বলল, — এভাবে করবেন না… আমাকে একটু সময় দিন।
ক্ৰুশ গভীর শ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করল, যেন রুহির সান্নিধ্যটুকু অনুভব করতে চাইছে।
তারপর নিচু স্বরে বলল, — যখন তোমাকে জোর করে বিয়ে করেছিলাম, তখনও তুমি সময় চেয়েছিলে।
আজও একই কথা বলছ। আচ্ছা, একটা কাজ করি— তোমাকে প্রেগন্যান্ট করে দিই। তাহলে তো পুরো দশ মাস সময় পেয়ে যাবে।
ক্ৰুশের কথা শুনে রুহি যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে তাড়াতাড়ি নিজেকে ক্ৰুশের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে কয়েক কদম দূরে গিয়ে দাঁড়াল।
লজ্জা আর সংকোচে তার মুখ একেবারে লাল হয়ে গেছে।
পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে বলল, — কী অসভ্য লোক! মুখে কিছুই আটকায় না।
আজ আমানের ফ্ল্যাটে বিশেষ একটি দিন।
সব সত্য জানার পর আমানের বাবা-মা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন।
এতদিন পর জানতে পেরেছেন, তাঁদের একটি ফুটফুটে নাতনি রয়েছে।
সেই খুশিতেই আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে নিজেরাই নাতনিকে দেখতে চলে এসেছেন।
ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আমানের বাবা আর মা ছোট্ট ঐশীকে নিয়ে ব্যস্ত।
কখনো তাকে কোলে নিচ্ছেন, কখনো গালে চুমু খাচ্ছেন, আবার কখনো তার ছোট্ট ছোট্ট হাত ধরে খেলছেন।
ঐশীও নতুন মানুষগুলোকে পেয়ে মিষ্টি মিষ্টি হাসছে, আর সেই হাসিতেই পুরো ঘরটা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
এদিকে আমান মিষ্টি আনতে পাশের দোকানে গেছে।
আর রান্নাঘরে ব্যস্ত সিমরান। নিজের হাতে শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য চা, পকোড়া, লুডেন্স আরও কিছু নাস্তা তৈরি করছে সে।
তবে আজ শুধু আমানের বাবা-মাই আসেননি।
তাঁদের সঙ্গে এসেছেন আমানের চাচিও।
তিনি সামনের সোফায় গম্ভীর মুখে বসে আছেন। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, পুরো বিষয়টা তিনি এখনও মেনে নিতে পারেননি।
কিছুক্ষণ পর সিমরান একটি বড় ট্রেতে করে চা আর সব নাস্তা নিয়ে ড্রয়িংরুমে এল।
হাসিমুখে সবার সামনে ট্রেটা টেবিলে রেখে বলল,
— “আসুন, সবাই নাস্তা করে নিন।”
এক এক করে সবার দিকে খাবার বাড়িয়ে দিচ্ছিল সে।
ঠিক তখনই আমানের চাচি ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললেন,
— “তা বাচ্চাটা কি সত্যিই আমাদের আমানের? নাকি বিদেশে গিয়ে আর কারও সঙ্গে…”
বাকিটুকু আর তাঁর বলা হলো না।
হঠাৎ বিকট শব্দে ঘরের সবাই চমকে উঠল।
সবাই একসঙ্গে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল—
দরজার পাশে রাখা ফুলদানিটা ভেঙে চুরমার হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে।
আর তার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে আমান।
এক হাতে মিষ্টির বাক্স।
অন্য হাত শক্ত মুঠো হয়ে আছে।
রাগে তার চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে।
সে স্থির দৃষ্টিতে নিজের চাচির দিকে তাকিয়ে আছে।
সেই দৃষ্টি দেখে মহিলা ভয় পেয়ে গেলেন।
অন্যদিকে সিমরানের চোখ ইতিমধ্যেই পানিতে ভরে গেছে। অপমান আর কষ্টে সে মাথা নিচু করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আমানের মা তাড়াতাড়ি বললেন,
— “সিমরান মা, তুমি তো অনেক ভালো রান্না করো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সবকিছু খুব মজার হয়েছে।”
সিমরান বুঝতে পারল, তাঁর শাশুড়ি ইচ্ছে করেই প্রসঙ্গটা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।
সে জোর করে একটা হাসি ফুটিয়ে সবার প্লেটে নাস্তা তুলে দিয়ে বলল,
— “আরও নিন। এতটুকু খেলে হবে না।”
আমানের বাবা মৃদু হেসে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— “তা বাবা, তোমরা বাড়ি ফিরছো কবে?”
আমান ধীরে ধীরে ভেতরে এসে মিষ্টির বাক্সটা টেবিলে রাখল।
তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— “আমরা আপাতত এখানেই থাকব, আব্বু। যেদিন বাড়ির সবাই আমার স্ত্রীকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে শিখবে, সেদিনই আমরা ওই বাড়িতে ফিরব। তার আগে নয়।”
আমানের মা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।
— “কিন্তু বাবা…”
তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই আমানের বাবা শান্ত গলায় বললেন,
— “থাক। ওরা যদি এখানে ভালো থাকে, তাহলে এখানেই থাকুক। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমরা মাঝেমধ্যে এসে ওদের সঙ্গে দেখা করে যাব।”
কিন্তু আমানের চাচি এখনও নিজের কথায় অনড়।
তিনি বিরক্তির সঙ্গে বললেন,
— “আমি কি এমন ভুল কিছু বলেছি?
আচ্ছা আমান, তুই কি কোনো পরীক্ষা করিয়েছিস? বাচ্চাটা সত্যিই তোর কি না, সেটা নিশ্চিত হয়েছিস?”
এই কথাটাই যেন আমানের ধৈর্যের শেষ সীমাটুকুও ভেঙে দিল।
সে ধীরে ধীরে চাচির সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
তার গলা শান্ত, কিন্তু ভীষণ কঠোর।
Mad for you 2 part 40
— “আমি আমার স্ত্রীকে বিশ্বাস করি। তাই আমার কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।”
— “আর একটা কথা খুব ভালো করে শুনে রাখুন। আমার স্ত্রী এবং আমার সন্তানকে নিয়ে আর একবারও যদি অপমানজনক কোনো মন্তব্য করেন, তাহলে আপনাকে এই মুহূর্তেই এই বাসা থেকে বের করে দেব।
প্রয়োজন হলে মানহানির অভিযোগে পুলিশের কাছেও যেতে আমার একটুও দ্বিধা হবে না।”
