Mad for you 2 last part
তানিয়া খাতুন
ধীরে ধীরে চোখের পাতাগুলো খুলতেই রুহি নিজেকে একটি হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে থাকতে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল।
চারদিকে সাদা দেয়াল, জীবাণুনাশকের তীব্র গন্ধ, পাশে রাখা বিভিন্ন চিকিৎসা-যন্ত্র—সবকিছুই স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছিল, সে এখন হাসপাতালে রয়েছে।
কিছুক্ষণ সে নির্বাক হয়ে চারপাশে তাকিয়ে রইল। ঠিক কীভাবে এখানে এল, কিছুই যেন মনে করতে পারছিল না।
নিজের কপালে হালকা ভাঁজ ফেলে স্মৃতিগুলো মনে করার চেষ্টা করতেই হঠাৎ একের পর এক দৃশ্য ভেসে উঠতে লাগল তার চোখের সামনে।
গত রাতের সেই একান্ত, গভীর ও ভালোবাসায় ভরা মুহূর্তগুলো… ক্ৰুশের স্পর্শ, তার চোখভরা ভালোবাসা, আর দুজনের নিঃশব্দ অনুভূতির আদান-প্রদান—সবকিছু মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল।
স্মৃতিগুলো মনে হতেই লজ্জায় রুহির দুই গাল টকটকে লাল হয়ে উঠল।
বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুকপুক করে উঠল। নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে লাজুক একটুকরো হাসি ফুটে উঠল।
ঠিক তখনই কেবিনের দরজাটি ধীরে ধীরে খুলে গেল।
হাতে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল ক্ৰুশ।
ক্ৰুশ কে দেখামাত্রই রুহির বুকের ধুকপুকানি যেন আরও বেড়ে গেল।
লজ্জায় তার দিকে তাকানোর সাহসটুকুও হচ্ছিল না। তাই দ্রুত চোখ দুটো বন্ধ করে সে ঘুমিয়ে থাকার ভান করল।
ক্ৰুশ ভেতরে ঢুকেই এক নজরে রুহির দিকে তাকাল।
চোখ বন্ধ থাকলেও রুহির কাঁপতে থাকা চোখের পাতা আর লাল হয়ে থাকা মুখ দেখে বুঝতে তার একটুও দেরি হলো না যে সে জেগে আছে।
মুচকি হেসে ক্ৰুশ ধীর পায়ে বিছানার পাশে এসে দাঁড়াল।
তারপর সামনে রাখা চেয়ারটিতে বসে কিছুক্ষণ নীরবে রুহির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
এত শান্ত, এত নিষ্পাপ লাগছিল তাকে যে ক্ৰুশের ঠোঁটের হাসিটা আরও গাঢ় হয়ে উঠল।
সে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে নরম স্বরে বলল,
— কী ব্যাপার, বউ? হঠাৎ এত লজ্জা পাচ্ছ কেন? গাল দুটো তো একেবারে গোলাপের মতো লাল হয়ে আছে।
ক্ৰুশের কথা শুনে আর অভিনয় ধরে রাখতে পারল না রুহি।
ধীরে ধীরে চোখ খুলে তার দিকে তাকাল। তবে সেই দৃষ্টিতেও স্পষ্ট লজ্জার ছাপ।
নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে আমতা আমতা করে বলল,
— আ… আজব কথা! আমি লজ্জা পাব কেন? আর… আমি হাসপাতালে কেন?
কী হয়েছে আমার? আমি এখানে এলাম কীভাবে?
রুহির উদ্বিগ্ন কণ্ঠ শুনে ক্ৰুশের মুখের হাসি আরও কোমল হয়ে উঠল।
সে ধীরে ধীরে নিজের ডান হাতটি বাড়িয়ে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে রুহির পেটের ওপর আলতো করে রাখল।
তারপর গভীর ভালোবাসাভরা চোখে তার দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
— কারণ… আমাদের জীবনে নতুন একজন অতিথি আসতে চলেছে, বাটারফ্লাই।
খুব শিগগিরই আমাদের ছোট্টো বেবি পৃথিবীর আলো দেখবে।
তুমি মা হতে চলেছ, আর আমি… বাবা।
কথাগুলো যেন রুহির কানে পৌঁছেও পৌঁছাল না। বিস্ময়ে তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
নিঃশ্বাস পর্যন্ত যেন আটকে গেল মুহূর্তের জন্য।
সে অবিশ্বাসে ক্ৰুশের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
আনন্দ, বিস্ময় আর অবাক হওয়ার অসংখ্য অনুভূতি একসঙ্গে ভিড় করল তার হৃদয়ে।
কয়েক মুহূর্ত পর কাঁপা কণ্ঠে সে ফিসফিস করে বলল,
— কিন্তু… কীভাবে?
রুহির প্রশ্ন শুনে ক্ৰুশ যেন এক মুহূর্তের জন্য থতমত খেয়ে গেল।
সে গলা খাঁকারি দিয়ে সোজা হয়ে বসে পড়ল।
মুখে গম্ভীর ভাব আনার চেষ্টা করলেও ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা দুষ্টু হাসিটা কিছুতেই চাপা দিতে পারছিল না।
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে সে বলল,
— আসলে… যখন তোমার কিছুই মনে ছিল না, তখন…
রুহি ভ্রু কুঁচকে সন্দেহভরা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।
— তখন কী?
ক্ৰুশ নাটকীয় ভঙ্গিতে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর অত্যন্ত স্বাভাবিক সুরে বলল,
— তখন আমি তোমাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে… বাসর করেছিলাম।
কথাটা শুনে রুহির চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল।
— কী!
সে যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না।
— এ… এটা আবার কোনো কথা হলো? আপনি আমার ঘুমের সুযোগ নিয়েছেন?
ক্ৰুশ আর নিজেকে সামলাতে না পেরে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই বলল,
— আরে, এত অবাক হওয়ার কী আছে? তুমি তো আমারই বউ।
ইচ্ছা হলে যে কোনো দিনই বাসর করতে পারি। সেদিনই করে ফেলেছিলাম বলেই তো আমাদের ছোট্টো বাবু এত তাড়াতাড়ি আসছে।
ক্ৰুশের কথা শেষ হতেই রুহি রাগে ফুঁসে উঠল।
— আপনি…!
বলেই সে দুই হাত দিয়ে ক্ৰুশের বুকে টুপটাপ কিল ঘুশি মারতে শুরু করল।
— আপনি খুব খারাপ! একদম খারাপ! আমার ঘুমের মধ্যেই এসব করলেন?
ক্ৰুশ হেসেই চলেছে। সে আলতো করে রুহির দুই হাত নিজের হাতে আটকে ফেলল, যাতে আর মারতে না পারে।
তারপর মুখটা একটু কাছে এনে দুষ্টু হাসি দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— কেন? ঘুমিয়ে ছিলে বলে বুঝতে পারোনি, তাই আফসোস হচ্ছে নাকি?
চিন্তা করো না, পরেরবার একদম জেগে জেগেই সব অনুভব করিয়ে দেব।
কথাটা শুনে রুহির মুখ মুহূর্তেই লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। আবার রাগও চেপে বসল।
সে লজ্জায়-রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
— আপনি একটা অসভ্য! নির্লজ্জ! আপনার মুখে কোনো কথা আটকায় না?
— বউয়ের সামনে লজ্জা কিসের?
যেখানে বউ আমার দামি সম্পদটাও দেখেছে।
হাতে অসংখ্য শপিং ব্যাগ নিয়ে ঘরে ঢুকতেই আমান চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিজের মেয়েকে খুঁজতে লাগল।
—ঐশী ! কোথায় তুমি? আমার জানটা কোথায়?
তার কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত উচ্ছ্বাস।
আমানের ডাক শুনে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল সিমরান।
ঘামে ভিজে গেছে তার শরীর। এলোমেলো চুলগুলো খোঁপা করে মাথার ওপরে বাঁধা।
শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে রান্নায় ব্যস্ত থাকার স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠেছে তার পুরো অবয়বে।
মুখে ক্লান্তি থাকলেও সেই চিরচেনা মায়াবী হাসিটা এখনও অটুট।
— আপনার জান দাদিজানের কাছে নিচতলায় গেছে। কিন্তু এতগুলো ব্যাগ? কী এনেছেন?
এতক্ষণ আমান যেন অপলক তাকিয়েই ছিল সিমরানের দিকে।
বহুদিন পর এভাবে নিজের স্ত্রীকে দেখছিল সে। সংসারের ব্যস্ততায় ডুবে থাকা এই সাধারণ সাজেও সিমরানকে আজ তার কাছে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।
সিমরানের কথায় তার ভাবনায় ছেদ পড়ল।
মৃদু হেসে বলল,
— ঐশীর জন্য চকলেট, পুতুল, আইসক্রিম… আরও অনেক কিছু এনেছি।
কথাটা শুনেই সিমরানের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। সে ভ্রু কুঁচকে শান্ত গলায় বলল,
— তাই নাকি? সবই তো ঐশীর জন্য। বউয়ের জন্য কিছু আনার কথা মনে পড়ল না?
কথা শেষ করেই আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না সে। ঘুরে আবার রান্নাঘরে চলে গেল।
আমান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
স্ত্রীর অভিমানটা বুঝতে তার একটুও সময় লাগল না।
সত্যিই তো… গত কয়েক মাস ধরে সে সারাক্ষণ শুধু মেয়েকে নিয়েই ব্যস্ত।
অজান্তেই সিমরানকে যেন একটু একটু করে অবহেলা করা হয়ে গেছে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ধীরে ধীরে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে সিমরান কড়াইয়ের গরম তেলে পেঁয়াজ নাড়ছিল।
পরোটাগুলো আগেই বানিয়ে রেখেছে। এখন মুরগির কষা বসাবে।
ঠিক তখনই হঠাৎ কোমরের ওপর একজোড়া শীতল হাতের স্পর্শ অনুভব করতেই পুরো শরীর কেঁপে উঠল তার।
পরমুহূর্তেই পেছন থেকে আমানের উষ্ণ নিঃশ্বাস এসে ছুঁয়ে গেল তার ঘাড়।
আমান আলতো করে তার কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল,
— তোমার জন্যও চকলেট এনেছি… চলো, রুমে যাই।
কথাগুলো শুনে সিমরানের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
কত বছর পর আবার এভাবে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে আমান! মুহূর্তটা তার কাছে নতুন প্রেমের মতোই লাগছিল।
লজ্জায় আর অপ্রস্তুত অনুভূতিতে সে কিছুই বলতে পারল না।
সিমরানকে চুপ করে থাকতে দেখে আমান আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না।
আলতো করে তাকে দুই হাতে তুলে নিল কোলে।
সিমরান চমকে উঠে বলল,
— আরে! কী করছেন? পেঁয়াজ পুড়ে যাবে!
আমান এক হাতে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দিয়ে মৃদু হেসে বলল,
— পুড়ুক। এতদিন ধরে যে আমার মনটা পুড়ে যাচ্ছে, তার খবর কে রেখেছে?
তবে ঘরে যাওয়ার ধৈর্যও যেন আজ তার ছিল না।
রান্নাঘরের স্ল্যাবের ওপর অত্যন্ত যত্ন করে সিমরানকে বসিয়ে দিল সে।
এক টানে পাশে রাখা হাঁড়ি-পাতিলগুলো সরিয়ে দিতে গিয়ে কয়েকটি মেঝেতে পড়ে ঝনঝন শব্দে ছড়িয়ে পড়ল।
চারদিকে ধাতব শব্দ প্রতিধ্বনিত হলেও সেদিকে আমানের কোনো খেয়ালই রইল না।
তার সমস্ত মনোযোগ তখন শুধু সিমরানকে ঘিরে।
সে দুই হাত দিয়ে সিমরানের মুখখানি আলতো করে ধরে ধীরে ধীরে নিজের মুখ এগিয়ে আনল।
পরের মুহূর্তেই তাদের ঠোঁট এক হয়ে গেল—দীর্ঘদিনের অভিমান, অপেক্ষা আর নিঃশব্দ ভালোবাসা যেন সেই এক স্পর্শেই গলে যেতে লাগল।
কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পরই আমান যেন সমস্ত সংযম হারিয়ে ফেলল।
বহুদিনের অপেক্ষা আর দমিয়ে রাখা আকুলতা তাকে দিশেহারা করে তুলেছিল।
সে বারবার সিমরানের ঠোঁটের উষ্ণতায় হারিয়ে যেতে লাগল।
এতদিন পর প্রিয় মানুষটিকে এভাবে কাছে পেয়ে যেন চারপাশের সবকিছু ভুলে গেল সে।
সিমরানও আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না।
সাহস সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে দুই হাত বাড়িয়ে আমানের শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করল।
কিন্তু আমানের সব ধৈর্য যেন আজ ফুরিয়েই গিয়েছিল।
এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে সে নিজেই শার্টটি খুলে দূরে ছুড়ে ফেলল।
এরপর তার দৃষ্টি স্থির হলো সিমরানের শাড়ির আঁচলের দিকে।
আলতো হাতে সে আঁচল টা সরিয়ে স্ত্রীর মুখের দিকে তাকাল।
দুজনের চোখে তখন একই ভাষা—বহুদিনের অভিমান, অপেক্ষা আর নিঃশব্দ ভালোবাসার ভাষা।
ধীরে ধীরে তাদের মধ্যকার সমস্ত দূরত্ব মিলিয়ে যেতে লাগল।
রান্নাঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রইল তাড়াহুড়োয় সরিয়ে রাখা কিছু জিনিসপত্র, আর ছোট্ট রান্নাঘরটি ভরে উঠল তাদের গভীর, নিঃশব্দ ভালোবাসার উষ্ণ উপস্থিতিতে।
নীল ল্যাপটপের সামনে বসে গভীর মনোযোগ সহকারে কাজ করছিল।
ক্ৰুশ তাকে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাঠিয়েছে।
আজ রাতের মধ্যেই সবগুলো শেষ করে পাঠাতে হবে, তাই কাজের প্রতি তার সম্পূর্ণ মনোযোগ।
ঠিক তখনই কোনো রকম শব্দ না করেই আয়েশা ঘরে ঢুকে পড়ল।
নীল কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে তার হাত থেকে ল্যাপটপটা কেড়ে নিয়ে পাশে রেখে দিল।
তারপর এক মুহূর্তও দেরি না করে নীলের কোলেই গিয়ে বসে পড়ল।
হঠাৎ এমন কাণ্ডে নীল বিস্মিত হয়ে আয়েশার দিকে তাকিয়ে বলল,
— এটা কী হচ্ছে, আয়েশা? আমাকে কাজটা শেষ করতে হবে। আজই সব ফাইল জমা দিতে হবে।
আয়েশা ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানী গলায় বলল,
— আমার একা একা ঘুম আসে না। তুমি চলো।
নীল হালকা হেসে তার গাল আলতো করে ছুঁয়ে বলল,
— আমি গেলেও তোমার ঘুম হবে না। তাই গুড গার্লের মতো গিয়ে আগে ঘুমিয়ে পড়ো। আমি কাজ শেষ করেই আসছি।
নীলের কথা শুনে আয়েশার মুখটা আরও ভারী হয়ে গেল।
সে বুঝতে পারল, নীল এত সহজে কাজ ছেড়ে উঠবে না।
তাই দুষ্টুমি করে তাকে বিরক্ত করার সিদ্ধান্ত নিল।
ইচ্ছে করেই সে নিজের শাড়ির আঁচলটা কাঁধ থেকে নামিয়ে দিল।
সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে নীল একেবারেই প্রস্তুত ছিল না।
কয়েক সেকেন্ড সে নির্বাক হয়ে আয়েশার দিকে তাকিয়েই রইল।
তার এই বিস্মিত চেহারা দেখে আয়েশার মুখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
সুযোগ বুঝে সে দ্রুত উঠে দাঁড়াল। যেন কিছুই হয়নি, এমন ভাব করে ঘরের ভেতরের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
কিন্তু সে মাত্র দু-এক পা এগোতেই নীল তার শাড়ির আঁচলটা আলতো করে টেনে ধরল।
হঠাৎ টানে আয়েশা ভারসাম্য হারিয়ে উল্টো নীলের কোলের ওপর এসে পড়ল।
নীলও তাকে শক্ত করে ধরে ফেলল, যাতে সে পড়ে না যায়। মুহূর্তের মধ্যেই দুজনের মাঝের দূরত্ব প্রায় মিলিয়ে গেল।
আয়েশা কয়েক মুহূর্ত নীলের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ঘন ঘন শ্বাস নিতে নিতে মৃদু স্বরে বলল,
Mad for you 2 part 44
— এখানে?
নীলের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।
সে শান্ত কণ্ঠে বলল,
— যারা নাচতে জানে না, তারাই বলে উঠোন বাঁকা। আর সত্যিকারের নাচ জানলে, তার কাছে যেকোনো জায়গাই পারফেক্ট।
সমাপ্ত
