অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৯
রুপা
গভীর রাত। চারদিকে ঘোর অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর হিমশীতল ঠান্ডা বাতাস বইছে। আকাশে আজ আর রুপালি চাঁদের দেখা নেই, মেঘে ঢাকা আকাশ প্রতিদিনের চেয়ে একটু বেশি থমথমে। নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে প্রকৃতিতে, কারণ বৃষ্টির পর সচরাচর এমনই হয়। গুমোট মেঘে ঢাকা অদ্ভুত সুন্দর এই প্রকৃতি দেখলে শুধু তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করে।
আনুমানিক দেড়টা বাজে, কিন্তু আর্যর চোখে ঘুম নেই। সে এখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। এত করে বলার পরেও, এত আকুতি-মিনতি করার পরেও শেহনাজ সরকার একবারের জন্যও পুষ্পর সাথে দেখা করতে দেননি আর্যকে। এদিকে আর্যর মনে তীব্র অশান্তি; বিনা পানির মাছের মতো সে ছটফট করছে এক পলক পুষ্পকে দেখার জন্য। পুষ্পর সেই অনুভূতিহীন, নিস্তেজ দৃষ্টি যেন আর্যকে থমকে রেখেছে। বুকের ভেতর দানা বেঁধেছে তীব্র অস্থিরতা—তার ফ্লাওয়ারকে সে আবার হার্ট করেছে! কী করবে সে? কীভাবে সবকিছু ঠিক করবে? সে নিজের হাতে সবকিছু শেষ করেছে। এসব ভাবতে ভাবতে আর্য এক প্যাকেট সিগারেট শেষ করেছে।
আর্য আরেকটি সিগারেট নিতে গিয়ে দেখল প্যাকেট খালি। সে প্যাকেটটা ছুড়ে মারল। হঠাৎ ফোনের ভাইব্রেশনে সেটি হাতে নিয়ে দেখল প্যারিস যাওয়ার ফ্লাইটের বুকিং মেসেজ। সেটা দেখে এই মুহূর্তে আর্যর মনে বিরক্তি হানা দিল। একদিকে তার ফ্লাওয়ারকে তার থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে তার মা, আর অন্যদিকে সে যাবে প্যারিস? সে ফ্লাইট ক্যানসেল করতে চাইল, কিন্তু পরমুহূর্তেই কিছু ভেবে আর ক্যানসেল করল না।
নাহ, সে প্যারিস যাবে। তার মা এই মুহূর্তে রেগে আছেন এবং রাগের মাথায় যে কোনো মূল্যে কালকে ডিভোর্স পেপারে সই করানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু সেই যদি না থাকে, তবে ডিভোর্স পেপারে সই করবে কে? আর্য চাইলে ডিভোর্স আটকানোর অনেক পথ আছে, কিন্তু এই মুহূর্তে সে অন্য কিছু ভাবছে। বাড়িতে মেহমান আছে, তাদের সামনে কোনো সিন ক্রিয়েট করতে চাইছে না সে। কারণ এ বিষয়ে জানাজানি হলে নিশি আর মিনারা বেগম তার ফ্লাওয়ারকে আবারও হার্ট করবে, কটু কথা শোনাবে—যা সে চায় না। তার চেয়ে বরং সে প্যারিস গিয়ে অফিস ভিজিট করে আসুক। ফিরে এসে তার মায়ের সাথে ঠান্ডা মাথায় কথা বলবে। তার ফ্লাওয়ারকে সে আর কোনোদিন হার্ট করবে না, কাউকে করতেও দেবে না।
আর্য বারান্দা থেকে রুমে চলে এল। রুমের চারপাশে তাকিয়ে দেখল কোথাও পুষ্প নেই। সোফাটা খালি, যেখানে মেয়েটা গুটিসুটি মেরে ঘুমাত। যেদিকেই তাকাচ্ছে, মেয়েটার ছাপ দেখতে পাচ্ছে। এই তো গতকাল রাতেও মেয়েটা ছিল, আর আজকে নেই! রুমের চার দেয়ালের দিকে তাকাতেই আর্যর মনে হলো, তারাও যেন তাকে উপহাস করছে। যেন বলছে—‘কী হলো? যে মেয়েটাকে এত কষ্ট দিলি, দূরে সরাতে চাইলি, রুম থেকে বের করে দিতে চাইলি, এখন সেই মেয়ের জন্য রাতে ঘুমাতে পারছিস না? ওই মেয়েকেই খুঁজছিস?’
আর্য দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেল। হ্যাঁ, সে ঘুমাতে পারছে না; ওই মেয়েটাকেই খুঁজছে সে, নাহলে সে ঘুমাতে পারবে না।
আর্য এবার সোজা সিমরানের রুমে গেল। তার ধারণা ঠিক হলে, তার ফ্লাওয়ার এই রুমেই থাকবে। গেস্ট রুম দুটো—একটাতে রেশমা আর শিফা, আরেকটাতে নিশি আর মিনারা বেগম। তাই পুষ্প যদি শেহনাজ সরকারের রুমে থাকে আমজাদ সরকার থাকার জন্য গেস্ট রুম খালি নেই, তাহলে তার ফ্লাওয়ার থাকার জন্য সিমরানের রুমই একমাত্র জায়গা। আর্য দরজা হাত দিয়ে দেখল খোলা। আর্য অবাক হলো, সাথে খুশিও হলো—যাক, তাকে বেশি কষ্ট পোহাতে হলো না। শেহনাজ সরকার পুষ্পকে সিমরানের রুমে শুইয়ে দিয়ে অনেকক্ষণ মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সিমরানও ঘুমিয়ে ছিল, তাই দরজা ভেতর থেকে লক করেনি।
আর্য রুমে প্রবেশ করে দেখল, ঘরের কমলা রঙের ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় ঘরটা আলোকিত হয়ে আছে। আস্তে আস্তে খাটের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল, সিমরান পুরো কম্বল পেঁচিয়ে জড়িয়ে শুয়ে আছে আর পুষ্প কুঁজো হয়ে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভীষণ ঠান্ডা লাগছে ওর। আর্য এক মুহূর্ত দেরি না করে আলতো হাতে পুষ্পকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল।
ঘুমের মধ্যে পরিচিত উষ্ণতা পেয়ে বিড়ালছানার মতো কিছুটা আর্যর দিকে গুটিয়ে গেল পুষ্প। সেটা দেখে আর্যর ঠোঁট আবছা বাঁকা হলো—তার ফ্লাওয়ার তার কাছেই আসছে, ঘুমের ঘোরে হলেও! আর সে এটা নিশ্চিত করবে, যেন জেগে থাকা অবস্থায়ও তার ফ্লাওয়ার শুধু তার কাছেই আসে। যেভাবে এসেছিল, সেভাবেই নিঃশব্দে পুষ্পকে নিয়ে বেরিয়ে এল আর্য। নিজের রুমে এসে ভেতর থেকে দরজা লক করে দিল। পুষ্পকে খাটে শুইয়ে দিয়ে নিজে ভালো করে কম্বল জড়িয়ে দিল। এরপর ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে ভালো করে মাউথ স্প্রে করে নিল, যাতে মুখ দিয়ে কোনোভাবেই সিগারেটের গন্ধ না আসে।
আর্য ফ্রেশ হয়ে এসে পুষ্পকে নিজের বুকের ওপর নিয়ে নিজেও একই কম্বলে ঢুকে পড়ল এবং পুষ্পকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিল। আর্যর শত অশান্তি আর অস্থিরতার একমাত্র শান্তি যেন এখানেই—এই মেয়েটার কাছে আসলেই যেন সবকিছু একদম শান্ত হয়ে যায়। আর্য কোনোদিন ভাবেনি, একটা পিচ্চি মেয়ে তার শান্তির কারণ হবে! তার শত রাত জাগা রাতের ঘুম পাখি হয়ে ধরা দেবে। আর্য এবার পুষ্পর গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে গভীর শ্বাস টেনে নিল। সাথে সাথে নাসারন্ধ্রে ভেসে এল বেলি ফুলের সাথে এক অদ্ভুত মিষ্টি মেয়েলি ঘ্রাণের মিশ্রণ।
– “আই এম সরি, ফ্লাওয়ার। আই এম রিয়েলি সরি। আমি আর কোনোদিন তোমাকে হার্ট করব না। সরি, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি তখন। বাট ট্রাস্ট মি, পরের বার থেকে রাগ উঠলে নিজেকে হার্ট করব, তবুও তোমাকে হার্ট করব না—প্রমিস! শুধু একবার আমাকে ক্ষমা করে দিও, একটা লাস্ট চান্স দিও, কেমন?”
পুষ্পর গলায় মুখ গুঁজে থাকা অবস্থাতেই কথাগুলো বিড়বিড় করছে আর্য। কিছুক্ষণ ওভাবেই থাকার পর আর্য কিছু একটা ভেবে পুষ্পর কলার বোনে কামড় বসাল। পুষ্প ঘুমের মধ্যেই ব্যথায় মুখ কুঁচকে নিল, মৃদু গুঙিয়ে উঠল। আর্য সাথে সাথে কামড় দেওয়া জায়গা থেকে মুখ সরিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে সেখানে গভীর চুম্বন এঁকে দিল, যেন কামড়ের ব্যথাটুকু সে চুষে নিতে চাইল।
আর্যর গভীর ছোঁয়ায় ঘুমের মধ্যেই কেঁপে উঠল পুষ্প। আর্য সেটা টের পেয়েও সরে এল না। সে একইভাবে পুষ্পর গলায় মুখ গুঁজে রেখেই বিড়বিড় করে বলল—
– “মাই লিটল ফ্লাওয়ার! ইউ আর অনলি মাইন, নো ওয়ান এলস। তুমি জানো, এই বাইটটা কেন দিলাম? যাতে যে সাতদিন আমি তোমার কাছে থাকব না, এই বাইটটা তোমাকে আমার কথা মনে করিয়ে দেয়। তুমি আমাকে কোনোদিন ভুলে যেও না, কেমন? তুমি শুধু আমার হয়ে থেকো। আমি ভীষণ যত্নে আগলে রাখব, কাউকে হার্ট করতে দেব না।”
আর্য পুষ্পকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল, যেন একটু ছাড়লেই কোথাও হারিয়ে যাবে। সেভাবেই পুষ্পর গলায় মুখ গুঁজে রইল সারারাত। পাশের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি কানে আসতেই আর্য উঠে বসল। তার আজকের রাতও কেটেছে নির্ঘুম, তবে আর্যর মাঝে কোনো ক্লান্তি নেই—আছে শুধু এক অদ্ভুত শান্তি; তার ফ্লাওয়ার তার কাছেই ছিল। আর্য একদৃষ্টিতে ঘুমন্ত পুষ্পর দিকে তাকিয়ে আলতো করে কপালে দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল। তবে এবার আর্যকে উঠতে হবে; তার মা কিছুক্ষণের মধ্যেই উঠে পড়বে, নামাজ পড়ে নিচে চলে আসবে। তার আগেই তাকে বেরুতে হবে। তাই আর্য উঠে শাওয়ার নিয়ে তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে নিল। পরনে হুগো বস ব্র্যান্ডের অফ-হোয়াইট স্যুট-প্যান্ট, স্যুটের ভেতরে সাদা শার্ট। ধবধবে সাদা স্যুটে আর্যকে এক অদ্ভুত আভিজাত্যময় সুদর্শন লাগছে। লাগেজ আগেই গুছিয়ে রাখা ছিল। আর্য এবার ধীরে ধীরে আবারো এগিয়ে গিয়ে পুষ্পর কপালে চুমু দিয়ে বিড়বিড় করে বলল—
– “স্টুপিড গার্ল! একদম কোনো স্টুপিডিটি করবে না। গুড গার্ল হয়ে থাকবে। তোমার শাশুড়ির কথামতো যদি ডিভোর্স পেপারে সাইন করেছ, তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে। ওয়েটিং ফর মি, ওকে?”
আর্য পুষ্পকে ভালো করে কম্বল জড়িয়ে দিয়ে আবারো কপালে চুমু খেল। বেশ কিছুক্ষণ পর লাগেজ হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেল সে। যাওয়ার আগে নিজের সেকেন্ড ফোনটা পুষ্পর পাশে রেখে দিল, যাতে পুষ্প ঘুম থেকে উঠে ফোনটা দেখতে পায়।
প্রতিদিনের মতো নামাজ আদায় করে নিচে নেমে এলেন শেহনাজ সরকার। জেনিফার সরকারও নিচে এলেন। দুজনে মিলে রান্নাঘরে গেলেন সবার জন্য সকালের নাস্তা বানাতে। রান্নাঘরে ঢুকে দুই জা মিলে রান্নার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। কাজের মেয়েরা দুজনেও সাহায্য করছেন।
জেনিফার সরকার রুটি বানানোর জন্য পানি চুলায় দিয়ে এক পলক বড় জায়ের দিকে তাকালেন। তিনি এখন বেশ গম্ভীর মুখে সবজি কাটছেন, তবে ভীষণ অন্যমনস্ক। বিষয়টি জেনিফার সরকার অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছিলেন। শেহনাজ সরকার এতটাই অন্যমনস্ক যে, ছুরি দিয়ে সবজি না কেটে নিজের আঙুলের ওপর চাপ দিতে যাচ্ছিলেন। অমনি জেনিফার সরকার ছুরিটা হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বললেন—
– “কী করছ ভাবি? হাত কেটে যাবে তো!”
শেহনাজ সরকারের হুঁশ ফিরল। তিনি ছোট করে বললেন, খেয়াল ছিল না। জেনিফার সরকার কথাটা শুনে বেশ সিরিয়াস হয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
– “কী হয়েছে ভাবি? তোমাকে বেশ অন্যমনস্ক লাগছে। কোনো সমস্যা হয়েছে?”
শেহনাজ সরকার কিছু জবাব না দিয়ে আবারো সবজি কাটতে লাগলেন। এবারে জেনিফার সরকার ছুরিটা নিজের হাতে নিয়ে বললেন—
– “সমস্যা বলতে চাইছ না? ঠিক আছে, যাও তোমাকে কিছু করতে হবে না। আমি আর মিষ্টির মা মিলে সব করে নেব। এভাবে অন্যমনস্ক হয়ে সবজি কাটলে তুমি হাত কেটে ফেলবে!”
শেহনাজ সরকার আর জোর করলেন না, ছুরিটা দিয়ে দিলেন। তবে রান্নাঘর থেকে গেলেন না, ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। জেনিফার সরকার কিছু না বলে কাজ করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন—
– “সমস্যা কী, আমাকে বলা যাবে না ভাবি? কেসের ব্যাপারে, নাকি অন্য কিছু?”
জেনিফার সরকার আর শেহনাজ সরকার দুই জা যেন দুই বোনের মতো। তাদের মধ্যে কোনো রেষারেষি নেই। অন্যান্য জাদের মতো তো নয়ই। শেহনাজ সরকার বাইরে সারাদিন কেস নিয়ে কোর্টে বা ল’ ফার্মে থাকেন, সেটা কি সম্ভব হতো যদি না জেনিফার সরকার দুই হাতে সংসারটা সামলাতেন? যদিও জেনিফার সরকার এতেই খুশি। শেহনাজ সরকার নিজেও জেনিফারকে ছোট বোনের মতো ভালোবাসেন, নিজের যেকোনো সমস্যার কথা তার সাথে শেয়ার করেন। আজও তিনি চুপ করে রইলেন না, বিষণ্ণ কণ্ঠে বললেন—
– “ছোট, শেষ পর্যন্ত আমি হেরে গেছি!”
শেহনাজ সরকারের মুখে এরকম কথা শুনে জেনিফার সরকার অবাক হলেন। কারণ তিনি জানেন, সাধারণ কেসের বিষয় হলে শেহনাজ সরকার কোনোদিন এরকমভাবে কথা বলেন না; তিনি হার-জিত দেখেন না, শুধু সত্যের জয় চান—সেটা তার নিজের হার হলেও। তাহলে কিসের হারের কথা বলছেন ভাবি? তিনি কিছু একটা ভেবে বললেন—
– “আর্য আর পুষ্পর মধ্যে কিছু হয়েছে ভাবি?”
শেহনাজ সরকার দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুরু থেকে সবকিছু বললেন। আর্য পুষ্পকে মেরেছে এবং তিনি দুজনের ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর্যর ডিভোর্স দিতে অস্বীকার করা—সব শুনে জেনিফার সরকার অবাক হলেন। কালকে এত কিছু হয়ে গেছে, অথচ তারা কিছুই জানেন না। তিনি এবার চিন্তিত সুরে বললেন—
– “সত্যি সত্যিই ডিভোর্স করিয়ে দেবে ভাবি?”
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৮
– “সেটা নিয়ে চিন্তা করছি, ছোট। এই মুহূর্তে দুজনের ডিভোর্স করিয়ে দিলে আর্যর ওপর কোনো এফেক্ট পড়বে না, কিন্তু পুষ্পর ওপর অনেক এফেক্ট পড়বে। আমি যতই ওকে আগলে রাখি না কেন, যতই ওর পাশে থাকি না কেন—পুষ্প কি নিজেকে সামলাতে পারবে? আর্য পুষ্পকে বউ না মানলেও পুষ্প আর্যকে মনে-প্রাণে স্বামী মানে। কী করব, কিছু বুঝতে পারছি না। আমি জানি, পুষ্প আমি যে সিদ্ধান্ত নেব সেটাই মেনে নেবে, কিন্তু আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। একদিকে আর্য ওর খেয়াল রাখছে, আবার মেন্টালি ও ফিজিক্যালি টর্চার করছে। পুষ্প কী চায়, সেটা বুঝতে পারছি না। ওর জন্য কোনটা ভালো হবে? ডিভোর্সের পরে ওকে অনেক শক্ত হতে হবে, মেন্টালি ও ফিজিক্যালি। মানুষের কথার তীর হজম করে ওদের মোক্ষম জবাব দিতে হবে—সেটা কি পুষ্প পারবে? আমি ওকে আগলে রাখব, কিন্তু আমার চেয়ে ওকে নিজেই শক্ত হতে হবে।”
