নীরব উন্মাদনা পর্ব ১০০
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_”তেমন কিছু না sir, actually একটা মেয়ে এসেছে। আপনার কাছে আসতে চাইছে। বলছে আপনার wife but আমি confused তাই অনুমতি নিতে আসলাম।”
আরহামের ভুরু কুঁচকে আসলো নুবা এখানে আসবে কেন?
_ “সাথে বেবি আছে?”
_”হুম,একটা মেয়ে আছে।”
আরহাম ফট করে উঠে দাড়িয়ে বললো
_ “কোথায় ও”
মরিয়ম মৃদু কন্ঠে বললো
_”sir দারোয়ান ঢুকতে দেয়নি।”
আরহাম রেগে বললো
_”what? ”
বলেই আরহাম মরিয়মকে টপকে কেবিন থেকে বেড় হয়ে গেলো
আরহামকে আসতে দেখেই নুবা দারোয়ানকে পার করে জাপটে ধরলো তাকে। আরহাম নুবাকে কাঁদতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো বিচলিত কন্ঠে বললো
_”what happened honey , কান্না করছো কেন কে কি বলেছে?”
নুবা নাক টেনে বললো
_”ভিতরে ডুকতে দিচ্ছিলো না,আমি বলেছি আপনার কথা তাও ডুকতে দেইনি।”
আরহাম রক্ত বর্ন চোখে দারোয়ানে দিকে তাকিয়ে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই পিছন থেকে একজন বলে উঠলো
_”sir উনি নতুন, এমন কি এখান বেশির ভাগ স্টাফ নতুন ভাবে জয়েন করেছে।কেউ হয়তোবা মেমকে চিনতে পারেনি sorry sir.”
দারোয়ান এগিয়ে এসে বললো
_ “আমি বুঝতে পারিনি সাহেব,আমি বুঝতে পারিনি ”
আরহাম রেগে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই নুবা মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো
_”থাক,আপনি চলুন।”
নুবার কথায় আরহাম শান্ত হলো,মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে নুবার হাত ধরে সবার দিকে তাকিয়ে বললো
_”সবাই ভালো মতো ওর চেহারাটা চিনে রাখো, she is my wife.Next time এরকম ভুল হলে সব কয়টাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দিবো।”
আরহামের হুমকিতে সবাই মাথা নিচু করে sorry বললো, আরহাম বউ বাচ্চা কে নিয়ে হাঁটা দিলো,,,
আয়রাকে কোলে নিয়ে আরহামের এক পায়ের উপর বসে আছে নুবা, আরহাম নীরবতা ভেঙ্গে মৃদু কন্ঠে বললো
_”কার সাথে এসেছেন?”
_”ড্রাইভার আঙ্কেলের সাথে।”
_”কেন?”
নুবা আদুরে কন্ঠে বললো
_”আপনার কথা মনে পড়ছিলো,ফোনটাও ধরছিলেন না তাই।”
আরহাম মুচকি হেসে বললো
_”ভালো করেছেন,তবে বলে আসা উচিত ছিলো।”
নুবা কথা ঘুরিয়ে বললো
_” আপনার pA তো মেয়ে, কিন্তু কেন,ছেলে রাখতে পারেননি?”
আরহাম বউ এর মুখের কথায় হেসে ফেললো আর বললো
_”ওকে পাল্টে ফেলবো। এখন তো দেখছি অফিসেও নজরদারি করেছেন।”
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ “তো করবো না,যদি ওই মেয়েটার সাথে ইন্টুপিন্টু করেন,তখন।”
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_”what is ইন্টু পিন্টু।”
নুবা মুখ বাঁকিয়ে বললো
_”আরে প্রেম পিরিতি,বলদ।”
আরহাম নুবার কথা শুনে ভুরু উঁচিয়ে বললো
_”আমি বলদ।”
নুবা মিটমিট করে হেসে বললো
_”হ্যাঁ”
ইশা মাথা নিচু করে বললো
_ভাবি,
পরি ফিরে তাকালো,ইশা মৃদু কন্ঠে বললো
_আপনার বাবা আসছেন।
কথাটা শুনে চম্কে উঠলো পরি,ফাল দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বললো
_কি , সত্যি?
_হ্যা
পরির চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো,পরি ক্লান্ত শরীরে উঠে ছুটৈ যেতে চাইলো তবে শরীর সাই ছিলো না তাই ধীরো পায়ে এগিয়ে যেতে লাগলো,পিছন থেকে ইশা বলে উঠলো
_”এই অবস্থায় যাবেন। অন্ততপক্ষে ড্রেস টা তো চেন্জ করে নেন।”
পরি কোনো কথাই শুনলো না নিচ পর্যন্ত ছুটে গেলো সে দেখা মিললো লিভিং রুমে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছে,
পরি ফুঁপিয়ে উঠলো,পরশ হাওলাদার ফিরে তাকালো মেয়ের দিকে।মেয়েকে দেগে চোট দুটো ছলছল করে উঠলো। এগিয়ে যেতে নিলেই বসে থাকা নাবিল বলে উঠলো
_ “আপনারে হেনে বসার পর্যন্ত অনুমতি দেই নাই আর আপনে মাইয়ার কাছে চইলা যাইতেছেন,কোন সাহসে।কোন চেহারা লোইয়া হেনে আইছেন। সত্যি সত্যি আবার এডারে মাইয়ার শাশুড় বাড়ি ভাইবা চলে আইছেন নাকি।”
পরশ হাওলাদার ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে নাবিলের দিকে তাকালো, লিভিং রুমে সবাই আছে যে যার মতো কাজ করছে কেউ আবার খেতে বসেছে তবে পরশ হাওলাদারকে দেখেও কেউ দেখেনি।
পরি ধীরো পায়ে এগিয়ে যেতে যেতে বললো
_”বাবা”
পরশ হাওলাদার এগিয়ে আসার আগেই নাবিল পরিকে ধমকে বললো
_”খাঁড়া,তোরে যাইতে কইছি, স্বামীর অনুমতি ছাড়া ডৈং ডেং কইরা চইলা যাইতেছোস।”
পরি কিছুই শুনলো না এগিয়ে যেএ পরশ হাওলাদারের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো সে।
কথা না শুনায় নাবিল রেগে গেলো, এগিয়ে এসে পরিকে তার বাবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে বললো
_”কাইনসা ফাটায় দিমু বাইনচো*** কথা কানে যায় না।”
পরি ঝাড়া মেরে হাত ঝাড়িয়ে নিলো,নাবিল ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো পরিকে,পরি সহ পরশ হাওলাদার কেঁপে উঠলেন।মেয়ের অবস্থা দেখে তার বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠলো।
নাবিল পরির হাত শক্ত করে ধরে পরশ হাওলাদারের দিকে তাকিয়ে বললো
_”মাইয়ারে তো ভালা শিক্ষা দেননি।মগির মাইয়া না স্বামীরে খুশি করতে পারে আর না অন্য কিছু। আপনার মাইয়ার কপাল ভালা যে ওরে দিয়া আমি বাইত্তের কাম করাই না তাও পাগলের মতো হারাদিন জেগাইয়া হুইয়া থাকে।ভালা মতো একটু বুঝাইয়া দিয়া জান যাতে আমার কথা হুনে।না হইলে মাইয়ার লাশো খুঁইজা পাবেন না।”
পরশ হাওলাদার রাগে গজগজ করতে করতে বললেন
_” তুমি নিজের পাপের শাস্তি ঠিকি পাবে,আমি শুধু আমার মেয়েকে দেখতে আসছিলাম তবে মনে রেখো তোমার অন্তিম মুহূর্তে সাক্ষাত অতী শিঘ্রই ঘনিয়ে আসছে।”
পরপর পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_” তোকে চাইলেও এখান থেকে নিয়ে যেতে পারবো না। তুই তোর এই অভাবা বাপকে মাফ করে দিস। আমি চাই তুই বেঁচে থাক আর ওর মতো জানোয়ারের ধংস দেখ। ধৈর্য ধর ফল ঠিকি পাবি।”
বলেই পরশ হাওলাদার চলে যেতে লাগলেন তখনি নাবিল চেঁচিয়ে বলে উঠলো
_”ও এখান থেকে জীবন্ত যাতে বেড় না হতে পারে।”
জব্বার খান খাওয়ার টেবিল থেকে বলে উঠলেন
_” যেতে দেও,মেয়ের দুঃখে পাগল হয়ে গেছে।এতো নির্দয় না আমরা।”
নুবা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বিছানা ঠিক করছে এমন সময় আরহাম শাওয়ার নিয়ে বেড় হলো।নুবা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বালিশের কাভার বাজ করছিলো তখনি খট করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে গেলো নুবা এক পলক সামনে তাকালো তবে আবারো নিজের কাজে মনোযোগ দিতে পারলো না নুবা,সামনের অবস্থা দেখে তার হাত থেকে বালিশ ফোসকে পড়ে গেলো।আপনা আপনি নুবার মুখ হা হয়ে গেলো।
আরহাম খেয়াল করলো তা তবে পাত্তা দিলো না বরং আলমারির দিকে এগিয়ে গেলো।নুবা হা করে চেয়ে রইলো।এ কি অবস্থা সকাল সকাল তার শরীরে আগুন ধরে গেলো ছ্যে এতোটা নির্লজ্জ লোকটা।
নুবা চোখ সরাতে ভুলে গেলো না,আরহামের খালি শরীরে সদ্য গোসলের স্বচ্ছ পানির বিন্দুগুলো মুক্তোর মতো চিকচিক করছিল। ভেজা চুল থেকে ধীরে ধীরে ফোঁটা ফোঁটা পানি গড়িয়ে কাঁধ বেয়ে বুকে নামছে।
স্নিগ্ধ সতেজতায় তার মুখে ফুটে উঠেছিল এক শান্ত, আত্মবিশ্বাসী অভিব্যক্তি।জানালার নরম আলো ভেজা ত্বকে পড়ে তাকে আরও উজ্জ্বল আর আকর্ষণীয় করে দেখাচ্ছে।নুবা শুকনো ঢোক গিললো কারণ আরহামের পড়নে শুধু আন্ডারওয়্যার।এটা দেখেই সে আশ্চর্য হচ্ছে ,এর আগে কখনোই এই লোকটা এমন করেনি।
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে চেয়ে রইলো।চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো। শরীর ঝিরঝির করতে লাগলো যেনো মানুষটাকে চোখ দিয়েই গিলে খাবে খাবে নুবা। ইচ্ছা তো হচ্ছে আরহামের পেশিবহুল শরীরটা একটু ছুঁয়ে দেখতে তবে সে ব্যর্থ সাহস যুগাতে।
আরহাম পড়নের শার্ট প্যান্ট নিয়ে পিছন ফিরে তাকালো অতঃপর খেলায় করলো বউটা তার হা করে তাকিয়ে আছে । আরহাম মনে মনে হাসলো ধীরো পায়ে এগিয়ে আসলো সে।নুবা হা করে তাকিয়ে রইলো।
আরহাম এগিয়ে এসে কাছে দাঁড়াতেই নুবা শুকনো ঢোক গিললো। আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো তবে শব্দ করলো না।নুবা হুতসে কম্পিত হাত এগিয়ে দিলো আরহামের দিকে। তর্জনীয় আঙ্গুল দিয়ে আরহামের বুক ছুঁয়ে দিলো। আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো।নুবার হাতটা নিজের এক হাত দিয়ে চেপে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো,
_”এভাবে হা করে তাকিয়ে আছো কেন? মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গিলে খাবে? ”
আরহামের কথায় নুবার হুস ফিরলো।ফট করে হাত সরিয়ে নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে যেতে নিলো সে তবে বিছানা থাকায় পিছাতে পারলো না।
নুবা চোখ উঁচিয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে থতমত খেয়ে গেলো।আমতা আমতা করতে লাগলো সে অতঃপর নিজের কাজ ডাকার জন্য কিছুটা তেতে উঠে বললো
_”আপনার লজ্জা করে না এ,,,এভাবে একটা মেয়ে মানুষের সামনে আসছে ছি ছি।”
আরহাম নুবার কথায় বঙ্গ করে বললো
_”ছি ছি,আবার নিজেই তাকিয়ে ছিলে। তো কেমন লাগলো।দেখা হয়েছে নাকি ভালো মতো এদিক ওদিক ঘুরে দেখাবো। পছন্দ হয়েছে?”
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো, মূহুর্তের ভিতরে অনুমান করলো আরহাম তাকে Seduce করতে চাইছে।নুবা মাথা ঝাড়া মেরে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলো চাঁপা কন্ঠে বললো
_” সামনে থেকে সরুন, নির্লজ্জ,বেহায়া, অসভ্য লোক,সরুন তো।আগে যেএ জামা কাপড় পড়ুন ছি ছি।”
বলেই নুবা এক হাত দিয়ে বিছানায় ভর দিলো, মুখ ঘুরিয়ে নিলো সে। আরহাম তার থুতনি ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বললো
_” oh চিল honey , তোমার right আছে দেখার।এতো লজ্জা পাচ্ছো কেনো।”
নুবা দুই হাত দিয়ে আরহামকে ধাক্কা দিয়ে বললো
_”আরে সরুন তো।চোখ দুটো সকাল সকাল কিলবিল করে উঠলো ছ্যে।”
আরহাম আর একটু এগিয়ে আসতেই নুবা বিছানায় পড়ে গেলো, আরহাম যেই না ঝুঁকে আসতে যাবে তার আগেই নুবা দুই পা বিছানায় তুলে দিলো। আরহাম নুবার হাঁটুতে বেঁধে গেলো, বিরক্তে মুখ দিয়ে “চ” উচ্চারণ করে বললো,
_”নাটক কম করেন honey ,আপনি যে লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখছিলেন আমি জানি।”
নুবা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”যাবেন আপনি?”
_” অন্ততপক্ষে একটা চুমু তো খা হারামজাদি।”
_”আয়রার পাপা,দরজা কিন্তু খোলা।কেউ চলে আসবে।”
বলতে না বলতেই আয়রার কান্নার শব্দ শোনা গেলো।এই একটা শত্রু আরহামের বউ টার কাছে আসতে চাইলেই আয়রার কান্না কাটি লেগে যায়।আয়রার কান্না শুনে নুবা বুঝতে পারলো কেউ আসছে কারণ সকালে হাজেরা আয়ারকে নিয়ে গিয়েছিলো কান্না করছিলো বলে।নুবার কান গড়ম হয়ে গেলো উত্তেজিত কন্ঠে বললো
_”কেউ আসছে!”
বলতে বলতে দরজা ঠেলে হাজেরা রুমে প্রবেশ করতে করতে বললো
_”ক্ষুধা লেগেছে রে মা একটু খাওইয়ে দে।”
বলতে বলতে সামনে তাকালো সে,নজরে পড়লো আরহামের সামনে গোল জামা দুই হাত দুই পাশে টেনে ধরে নুবা দাঁড়িয়ে আছে তবে আরহামের গলা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।
হাজেরা দুই জনকে এক সাথে দেখে একটু বিব্রত বোধ করলো তাও একটু ভাব নিয়ে আরহামকে চেঁতানোর জন্য বললো
_”আজকালের পোলাপাইন, আমাদের আমলে শশুর -শাশুড়িদের দেখলে মেয়ে জামাইরা একটু লাজ লজ্জা করতো কিন্তু এখন দেখো ছ্যে!”
নুবার লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেলো,হাজেরা আয়ারকে বিছানায় রেখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো,
_”এভাবে সং সেজে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?নিচে আয় কাজ আছে।”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”তুমি যাও আমি মেয়েকে ফিড করিয়ে আসছি।”
হাজেরা একবার আরহামের দিকে তাকালো বিরবির করে বললো
_”নির্লজ্জ।”
আরহাম শাশুড়ির কথায় চোখ উল্টে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_” বউ ব্যতিত কার সামনে নির্লজ্জ হবো আম্মা।”
হাজেরা আবারো গালি দিলো
_”অসভ্য ছেলে। বড়দের সামনে একটু লাজ লজ্জা রাখো।”
আরহাম নুবাকে দুই হাত দিয়ে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো,হাজেরা সহ নুবা থতমত খেএ গেলো,হাজেরা চোখ সরিয়ে নিলো। আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_” এই সময়টা খুবি গুরুত্বপূর্ণ আম্মা, আপনার নক করে আসা উচিত ছিলো। নিজের দোষ আমার ঘাড়ে চাপাচ্ছেন not fair .”
নুবা কুনুই দিয়ে আরহামকে খোঁচা মেরে বললো
_’চুপ করুন,মা তুমি যাও আমি আসছি।”
হাজেরা বেগম লজ্জায় গটগট করে বেড় হয়ে গেলো,হাজেরা যেতেই নুবা রাগি দৃষ্টিতে আরহামের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো
_”আপনার লজ্জা করে না, অসভ্য লোক,মান ইজ্জত সব খুইয়ে দিচ্ছিলো আবার আমার মাকে দোষ দেয়। আমার মা তো আর এমনি এমনি আসেনি? আপনার মেয়েকে দিতেই এসেছে,এতো বারতি কথা কেন বললেন। আম্মু নিশ্চয় কষ্ট পেয়েছে?”
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”খারাপ কি বল্লাম,তুমি সবসময় আমার দোষ দেখো।”
_”আগে যেএ ড্রেস পড়ে আসুন যান।”
বলেই আরহামকে ঠেলে ধাক্কা দিয়ে পাঠালো।
আরহাম যেতেই নুবা চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে কোলে তুলে বললো
_” ঠিক সময়ে আসছেন, অনেক ক্ষুধা লেগেছে তাই না।একটু খেতে দিতে হবে হুম।একটু দুদু খাবেন? আমার কলিজাটা!”
সবকিছু স্বাভাবিক চলছে,যেভাবে চলার কথা ছিলো সেভাবেই তবে বউকে শায়েস্তা করার জন্য আরহাম নতুন করে বুদ্ধি এঁটেছে, Google মহাশয় থেকে আরহাম বুদ্ধি নিয়েছে বউকে প্রথমে হালকা পাতলা আদর দিতে হবে তার পর আস্তে আস্তে গভীরে যেতে হবে। আরহামের এতটুকু বিষয়ে কোনো ধারান নেই কারণ ইলোরার সাথে তার সম্পর্ক ছিলো একদম নিবিড়ভাবে।কোনো আপত্তি নেই কোনো বাঁধা নেই শুধু দুজনের আলাদা আকাঙ্ক্ষা আর চাহিদা কিন্তু নুবার ব্যপারটা পুরোই আলাদা তাই সে ধরতে পারছে না কি করবে।
রাতের অন্ধকার চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিদিনের মতোই খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।রাত ১০ টা নাগাত আয়রা গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো। আয়রা ঘুমাতেই নুবা বিছানা ঠিক করতে লাগলো ঘুমানোর জন্য ।
আরহাম বসে বসে কি করছে সেই জানে নুবা বিছানায় বসতে বসতে বললো
_”আমি শুয়ে পড়ছি,আপনি কি আজকেও রাত করে ঘুমাবেন?”
আরহাম উত্তর দিলো না,নুবা পাতলা কম্বল গায়ে টেনে মেয়েকে জরিয়ে শুয়ে পড়লো। আরহাম মিনিট খানিক পর নিজের কাজ শেষ করে বিছানায় এসে গা হেলিয়ে দিলো। আস্তে করে নুবার কম্বলের নিচে ঢুকে তাকে জরিয়ে ধরলো।নুবা যেনো স্বস্তি পেলো।আয়রার পাশে বালিশ দিলো যাতে সে ওপাশ থেকে পড়ে না যায় অতঃপর পিছন ঘুরে আরহামকে জরিয়ে ধরে বললো
_” কাজ শেষ?”
_”হ্যাঁ”
শব্দ টুকু উচ্চারণ করে আরহাম নুবার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎ আরহামকে এভাবে তাকাতে দেখে নুবা ভুরু উঁচিয়ে বললো।
_”কি?”
আরহাম হালকা কালচে ঠোঁট দুটো জিভ দিয়ে ভিজিয়ে এগিয়ে আসলো।নুবা আরহামের ভাবনা টের পেয়ে বুকে মুখ গুঁজে নিলো তবে আরহাম নুবাকে সরিয়ে দিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_” অনেক দিন ধরে চুমু টুমু খাচ্ছো না, ব্যপার কি? এখন কি আর ভালো লাগে না নাকি?”
নুবা মিটমিট করে হেসে বললো
_”না মানে,আপনি তো আর খেতে চান না তাই আরকি?”
আরহাম খোঁচা মেরে বললো
_”আমি চাইলেই কি তুমি দিবে নাকি,সেই তো নিজ ইচ্ছে মতোই কাছে আসবে।তাহলে বলে শুধু শুধু মুখ নষ্ট কেন করবো?”
আরহামের কথায় নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_”এভাবে বলছেন কেন। মনে হচ্ছে আমি কখনোই আপনার কথা শুনি না,হুম!”
আরহাম উত্তর দিলো না তবে এগিয়ে আসলো।নুবা টের পেলো আরহামের নিয়ত তবে সে সরে যেএ আরহামকে নিরাশ করলো না বরং চুপটি করে তার কাজ তাকে করতে দিলো।
আরহাম আলতো করে নুবার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁট জোরা দিয়ে আঁকড়ে ধরলো, অনেকটা দিন পর এমন হওয়ায় নুবা পিলে চমকে উঠলো।ধুপধুপ করে উঠলো বুক খানা ।নুবাকে চমকে উঠতে দেখে আরহাম আলতো করে পিঠে হাত দিয়ে আঙ্গুল গুলো বুলিয়ে দিলো।নুবার শরীরে বিদ্যুতের গতিতে শিহরণ ছড়িয়ে পড়লো। হঠাৎ করেই মৃদু কেঁপে উঠলো সে।
আরহাম ধীরে ধীরে নুবার Lower lip শুষে নিতে শুরু করলো। ঠোঁটের পাতলা চামড়ায় টান পড়লো ফলে নুবার মনে হলো ঠোঁট ফেটে রক্ত বেড় হয়ে আসবে।নুবা আরহামের বুকে এক হাত রেখে আঁকড়ে ধরলো যেনো তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে
“কি করছেন,একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলুন। কেটে যাবে তো?”
আরহাম চুম্মুন চলমান রেখে নুবাকে সোজা করে শুইয়ে নিলো। অতঃপর নুবা নিঃশ্বাস নিতে না পেরে উম উম শব্দ করে উঠলো। আরহাম আর একটু সময় নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়ে আঁটকে রাখা নিঃশ্বাস ছাড়তে লাগলো।নুবা ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে অস্থির কন্ঠে বললো
_”মেরে ফেলবেন নাকি?”
আরহাম ভারি নিঃশ্বাস ফেলে নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নুবার সেই প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই হালকা লজ্জায় তার মুখ রাঙা হয়ে উঠল। যেন প্রথম বসন্তের ছোঁয়ায় পলাশের ডালে লাল আভা নেমে এসেছে। চোখের পাতা নিচু করে ফেলল সে, অথচ ঠোঁটের কোণে অজান্তেই ফুটে উঠল এক চিলতে মিষ্টি হাসি। বুকের ভেতর অকারণ ধুকপুকানি শুরু হলো নুবার,যেন বহুদিন আগের সেই অনুভূতিগুলো আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল।আবারো প্রেমে পড়লো নুবা।আবারো সেই একি অনুভূতি,সেই ভালোলাগা,সেই লজ্জা আর আবেগ মিশানো মূহুর্ত ।
নুবা মাথা নিচু করে নিলো কিছুটা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ “এ,,এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?”
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার গলায় মুখ গুঁজে দিলো।তার এরকম স্পর্শ পেয়ে কাতর হয়ে পড়লো নুবা।গলা টানটান করে ভারি নিঃশ্বাস ফেললো। নিঃশ্বাসের গতি বেড়ে গেলো তার,বিছানার নীল রঙ্গা চাদর আলতো করে খামচে ধরে তিরতির করে কেঁপে উঠলো সে, মৃদু কন্ঠে শুধালো,
_”কি করছেন?”
আরহাম নুবার কাঁধের কাছে মুখ গুঁজে , ঠোঁট ছুঁইয়ে নিশ্চুপ হয়ে রইল। গলার উষ্ণতায় নিজের নিঃশ্বাস মিশিয়ে যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি খুঁজে পেল সে। নুবার হাতের আঙুলগুলোর ফাঁকে নিজের আঙুল জড়িয়ে আরও একটু শক্ত করে ধরে রাখল, যেন এই মুহূর্তটুকু কোনোভাবেই ফসকে না যায়। নুবা চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে শুয়ে রইল, তার বুকের ভেতর ধীর ছন্দে দোলা দিয়ে চলল অসংখ্য অনুভূতি।নুবা ভয় পেলো আবার কেমন আনন্দে অস্থিরতা কাজ করলো।আরহামের আঙ্গুল গুলো আঁকড়ে ধরে কম্পিত কন্ঠে আবারো শুধালো,,
_ “হয়েছে টা কি আপনার? ”
আরহাম আপসে দাঁত বসিয়ে দিলো নুবার গলায়।নুবা পিলে চম্কে উঠলো। চোখ মুখ খিচে বললো
_” ব্যথা লাগছে, ছাড়ুন। হচ্ছে টা কি?”
আরহাম সময় নিয়ে ছেড়ে দিলো নুবাকে,ক্ষতো স্থানে নাক ঘঁষে বললো
_” প্রেম প্রেম পাচ্ছে।”
নুবা এক চিলতি হাসি দিয়ে লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া গাল দুটো ফুলিয়ে বললো
_” খুব ভালোবাসেন তাই না।”
আরহাম দ্বিতীয় দফা গলায় দাঁত বসিয়ে দিলো।নুবা সবটা মেনে নিয়ে সহ্য করলো। আরহাম আবারো ক্ষতো স্থানে নাক ঘঁষে বললো
_”সবার বিরুদ্ধে যেএ,এতো কষ্ট করে আপনাকে বিয়ে করেছি এটা কি যথেষ্ট নয়।আবার ভালোবাসা চাচ্ছেন।”
আরামের কথায় নুবা অসন্তুষ্ট হয়ে বললো
_” তালহে বিয়ে কেন করলেন।ভালোই যেহেতু বাসেন না।”
আরহাম নুবার হাত দুটো উপরের দিকে চেপে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো
_”ভালোবাসা সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারণা নেই। শুধু এতটুকুই জানি, অনেকের ভালোবাসা সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। তাই হয়তো আমি এটাকে ভালোবাসা বলি না। আমি আপনার প্রতি আসক্ত,এমন এক আসক্তি, যার শেষ নেই। আমার জীবনে আপনার স্থান একান্তই আপনার,সেই জায়গা অন্য কেউ কোনোদিন দখল করতে পারবে না। আপনাকে পাওয়ার পর আমি নিজেই নিজের ভেতরে অগণিত পরিবর্তন অনুভব করেছি। যদি এই অনুভূতির কোনো নাম থেকেই থাকে, তবে আমার কাছে তার একটাই নাম,’আপনি’।”
আরহামের কথার গভিরতা না বুঝলেও নুবার বেশ ভালো লাগলো।এই সুযোগে আরহাম আর একটু কাছে যেতে চাইলো।নুবার থুতনিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে শুধালো,
_” ড্রেস টা খুলে নি , sweet honey ?”
আরহামের কথাটা কানে যেতেই নুবার নিঃশ্বাস যেন এক মুহূর্তের জন্য আটকে গেল। কান দুটো টকটকে লাল হয়ে উঠল, লজ্জায় সে নিচের ঠোঁটটা আলতো করে কামড়ে ধরল। চোখ তুলে একবার আরহামের দিকে তাকিয়েই আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। ঠোঁটের কোণে লাজুক এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলেও মুখে কোনো উত্তর এল না। তার সেই নীরবতা আর লাজুক চাহনিতে যেনো আরহাম উত্তর খুঁজে নিলো।
আরহাম নুবার বক্ষ স্থলের আবরণে হাত দিতেই নুবা মৃদু কেঁপে উঠে বললো
_ “কেমন জেনো লাগছে,এটা না করলে হয় না?”
ড্যাবড্যাব করে তাকালো আরহামের দিকে, আরহাম আলতো কন্ঠে বললো,
_”trust me বেশি দূর এগিয়ে যাবো না,একটু শুধু চেয়ে থাকবো । চোখের তৃষ্ণা মিটাবো!”
আরহামের নেশালো কন্ঠে নুবা চোখ মুখ খিচে বললো
_” আর আমি লজ্জায় মরেই যাবো।”
_”আমার কাছে কিসের লজ্জা,Let me do it.”
বলেই আস্তে আস্তে নুবার শরীর থেকে আবরণ গুলো সরিয়ে নিতে লাগলো,নুবা ধীরো গতিতে নিঃশ্বাস ফেললো, হালকা কাঁপতে লাগলো সে, কিছু সময়ের মধ্যেই নুবার শরীর থেকে একটি আবরন সরে গেলো নুবা অতিরিক্ত লজ্জায় আরহামের বুকে মুখ লুকালো। আরহাম মৃদু কন্ঠে ফিসফিস করে বললো
_”Don’t be shy. ”
নুবা আরো লজ্জা পেলো, শার্টের বোতাম খুলতে লাগলো সে তবে না তাড়াতাড়ি না খুলায় বিরক্ত হয়ে টেনে ছিরতে লাগলো নুবা অস্থির হয়ে বললো
_” আমি খুলে দিচ্ছি ছিরছেন কেনো?”
আরহাম নুবার গলায় মুখ গুজে দিলো,নুবা কাঁপতে শুরু করলো অতঃপর কম্পিত হাতে আরহামের শার্টের বোতাম গুলো একটা একটা করে খুলে দিলো,পরপর খুলা শেষ হতেই আরহাম শার্ট ছুরে ফেললো নিচে।নুবা কেমন তিরতির করে কেঁপে উঠলো, কম্পিত এক হাত আরহামের বাহুতে দেখে ভাঙ্গা শব্দে বললো,
_” আয়রা! মেয়েকে দোলনায় রেখে আসেন।”
আরহাম ভারি কন্ঠে বললো
_” থাকুক, বিছানায় পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা আছে।”
নুবা বিচলিত হয়ে বললো
_”তার পড়েও, কেমন লাগে। বাচ্চার সামনে,আগে যান!”
আরহাম বুঝতে পারলো নুবার অস্থিরতা তবে পাত্তা দিলো না।এক হাত দিয়ে টেনে কোলবালিশ মাঝখানে দিয়ে দিলো।আরহামের উঠার ধৈর্য টুকু নেই।
সময় যেন ধীর হয়ে এলো। নীরবতার ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা অনুভূতিগুলো শব্দহীন ভাষায় একে অপরকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। আরহামের সান্নিধ্যে নুবার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক আলোড়ন উঠল, হৃদস্পন্দন যেন নিজস্ব ভাবে ধুকপুক করতে লাগলো। তার আঙুলের উষ্ণ, আশ্বাসভরা স্পর্শে নুবা বারবার শিহরিত হয়ে নিঃশ্বাস আটকে ফেললো। লাজে চোখ বুজে সে নিজের সব অস্থিরতা গুটিয়ে নিল, অথচ দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছে একবারও জাগল না তার।
তার কঠিন স্পর্শে নুবা কেঁপে উঠতে লাগলো । আরহাম এর থেকেও গভীরতায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলো নুবা এবার মানা করলো না বরং সাঁই দিলো তার ভালো লাগছে আরহামকে এতো কাছে পেয়ে তবে বাঁধা কেনো দিবে?
আরহাম নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে ভারি কন্ঠে বললো
_” আমি আর একটু এগিয়ে যেতে পারি, অনুমতি দিবে?”
নুবা অস্থির কন্ঠে বললো
_”জানি না আপনার ইচ্ছা, অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে!”
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো তখনি আরহামের ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো। আরহাম শব্দ শুনেও পাত্তা দিলো না বরং নুবাকে আঁকড়ে ধরে ব্যস্ত হলো।
আরহাম আর একটু সময় নিয়ে এগোতে চাইলো তবে বিরক্তিকর ফোন অনাবরোত বেজেই চললো।আরহামের রাগে শরীর জ্বলে উঠলো। এমন একটা মূহুর্তে এতোটা বিরক্তিকর শব্দ।নুবা ফোনের শব্দ শুনে বিচলিত কন্ঠে বললো
_”ফো,,ফোন,বাজছে, হয়তোবা কেউ কল করেছে?”
আরহাম উত্তর দিলো না, বরং উন্মাদ হয়ে গেলো সে,আবারো বেজে উঠলো ফোন।নুবা এবার অধৈর্য হয়ে আরহামকে দুই হাত দিয়ে ঠেলে বললো
_” এতো বার কল দিচ্ছে নিশ্চয় জরুরি কিছু আগে কল রিসিভ করুন!”
আরহাম মখ দিয়ে” গালি” উচ্চারণ করলো পরপর হাত বারিয়ে ফোনটা সাইলেন্ট করে দিলো।নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো।এতোটা উন্মাদ হয়ে গেছে ফোনটা ধরার সময় পাচ্ছে না।
আরহাম আবারো একি কাজে মনোযোগ দিলো, লিপ্ত হলো তার এই জরুরি কাজে।কতটা সাধনা তার,এতো সুন্দর করে নুবাকে পাইল মতো এনেছে অর্ধেক রাস্তায় এসে ছেঁড়ে দেওয়ার জন্য কখনোই না!
তবে আবারো ফোন উম উম শব্দ করে নড়ে উঠলো।নুবা নিজেই প্রচন্ড বিরক্ত হলো।আবারো আরহাম কে ঠেলে অস্থির কন্ঠে বললো
_”আগে কলটা রিসিভ করে নিন please. ”
_ “উফ্,পরে! ignore করো।”
তবে এবার আরহামি অতিষ্ঠ হয়ে গেলো এই রাত করে কোন অমানুষ কল করছে বুঝতে পারলো না এস।নুবাকে ছেড়ে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_” কোন অমানুষ এই সময় বিরক্ত করছে।মনটা যা চাচ্ছে না!”
বলেই ফোনটা হাতে তুলে এক হাত দিয়ে একটু উঁচু হয়ে মোবাইএর দিকে তাকালো,, নুবা এক হাত আরহামের পিঠে রেখে বাচ্চাদের মতো হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করতে লাগলো।
আননোন নাম্বার দেখে আরহামের রাগে শরীর ফেটে গেলো কল রিসিভ করে যেই না গালি দিতে যাবে তখনি অপাশ থেকে কারো গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসলো!
অতঃপর ২ মিনিটের জন্য আরহামের সব উত্তেজনা পানিতে মিশে গেলো।শরীর বরফ শীতল হয়ে আসলো। চিন্তা আর রাগে কপালের রগ ফুলে উঠলো। আরহামকে এরকম স্তব হয়ে যেতে দেখে নুবার জানার আগ্রহ বাড়লো যে কি হলো?
আরো সেকেন্ড খানিক পর আরহাম কান থেকে ফোন নিচে নামিয়ে এক পলক নুবার দিকে তাকালো।নুবা চোখের ইশারায় জিজ্ঞেস করলো “কি হয়েছে ”
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে”কিছু না ” উচ্চারণ করলো।নুবা দুই হাত দিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরে মিষ্টি কন্ঠে বললো
_”তাহলে continue করা যাক।”
আরহামের বুকটা দুরুদুরু করে উঠলো,এটা কি আদেও বিশ্বাস যোগ্য নাকি শুধুই তাকে বিব্রত করা হচ্ছে,ভয় দেখানো হচ্ছে। তবু আরহাম একবার চেক করতে চাইলো তাই সরে যেতে চাইলো সে নুবার কাছ থেকে।
এমন একটা মূহুর্তে এসে হঠাৎ করেই আরহামকে নিজের উপর থেকে সরে যেতে দেখে নুবা অস্থির হয়ে পড়লো, বিচলিত কন্ঠে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৯
_’কো ,কোথায় যাচ্ছেন?”
আরহাম কেমন শীতল কন্ঠে বললো
_”nothing,আমি আসছি।”
বলেই আরহাম উঠে বসলো,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো। আরহামের হাত চেপে ধরে মিনতি করে বললো
_”না গেলে হয় না,এখনি যেতে হবে?”
আরহাম নুবার মুখ দেখে বুঝতে পারলো বউটা তার ছাড়তে চাইছে না তবু আরহাম হাত ছাড়িয়ে নিয়ে
