নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ তুই ঠিক আছিস তো কোথায় ছিলি,,
নুবা পটপট করে সব বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম নুবাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ সবটা পরে বলবো । এতটুকু জেনে রাখেন মা -মেয়ে দুইজনেই ঠিক আছে।ওদের একটু রেস্টের দরকার please,,
হারুন মির্জা এগিয়ে এসে বিচলিত কন্ঠে কিছু বলতে নিলেই আরহাম চোখের ইশারায় তার বাবাকে কিছু বুঝিয়ে বললো
_ আমরা খুব ক্লান্ত আর উনাদের চলে যেতে বলাই উত্তম। I think You can consider the situation. Please dad,
বলেই মেয়েকে কোলে নিয়ে নুবার এক হাত ধরে চোখের ইশারায় বললো
_চলেন,,
নুবা থমকে গেলো।সে আরো সব বলতে চেয়েছিলো যে আরহাম কি করে তাদের বাঁচালো যাতে হাজেরার আরহামের প্রতি বিশ্বাস বারে তবে এটা কি হলো?
আরহাম নুবাকে নিয়ে চলে যেতেই হারুন মির্জা বিব্রত বোধ করে পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,
_” আশা রাখছি এখন আর এই সবের প্রয়জন পরবে না। আমার ছেলেই সব সামলে নিয়েছে।”
অফিসার কিছুটা বিব্রত নিয়ে বললো
_তবে কারা এটা করেছে খবোর,,,
হারুন মির্জা অফিসারকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_”প্রয়জন হলে আপনাদের ডেকে নিবো। শুধু শুধু কষ্ট দিলাম আপনারা যেতে পারেন।”
অফিসার মুচকি হেসে বললো
_” বাড়ির মানুষ বাড়িতে ফিরে এসেছে এটাই অনেক তবে দ্বিতীয় বার আমাদের ডাকার আগে ভালো মতো খোঁজখবর নিয়ে নিবেন।না মানে যদি আপনার ছেলেই সব সমাধান করতে পারে তবে আমাদেরি ভালো।অবশ্য আপনার মতো মানুষের সাথে দেখা করে আমার ভালো লেগেছে।বড় sir সবসময় আপনার প্রশংসা করেন তবে আজ আসতে পারেননি বিধায় আমাদের পাঠিয়েছেন। অবশ্য উনি বলেছিলেন সময় মতো আসবে তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”
হারুন মির্জা হাত এগিয়ে দিয়ে বললেন
_ আমারো খুব ভালো লাগলো আমাদের কর্তব্য দেখে।আপনারা অনেক দায়িত্ববান।
অফিসার হাত মিলিয়ে বললো
_”তালহে আসি”
হারুনুর মির্জা মাথা ঝুকালেন, মিনিট খানিকের ভিতরে সবাই চলে গেলো,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ “ধৈর্য ধরো,ওরা আগে বিশ্রাম নিক অতঃপর নিশ্চয় সব খুলে বলবে।”
ইশিতা শান্তির নিশ্বাস ফেলে বললো
_”যাক,আমি তো ভেবেছিলাম কি না কি হলো।”
আয়রাকে Bathtub এর পানি পেয়ে খিলখিল করে হাসছে। কখনো হাত নাড়ছে পা নাড়ছে অতঃপর আবার হেসে উঠছে।পানি পেলে আয়রা প্রচন্ড খুশি হয়।
নুবা আয়রার মাথায় বেবি শ্যাম্পু দিয়ে ফেনা তুলে তার নাকে আলতো করে ভরিয়ে দিয়ে বললো
_”ইস্, গোসল করতে এতো ভালো লাগে।”
আয়রা হাত পা নেড়ে সাঁই দিলো।হালকা গড়ম পানিতে আয়রার ভালোই লাগছে।নুবা আয়রার খুশি দেখে মৃদু হেসে বললো
_” অনেক হয়েছে, আর না আম্মু।না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে।”
আয়রার গোসল সেরে তাওয়ালে দিয়ে তাকে পিচিয়ে নিলো ততখনে নির্লজ্জ আরহাম তাদের সামনেই গোসল সেরে বেড় হয়েছে।
নুবা আয়ারকে নিয়ে আরহামের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,
_”ওকে ভালো মতো মুছিয়ে দেন আর নিজেও মাথা মুছে নেন।”
বলেই প্রয়োজনীয় ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো,আরহাম মেয়ের গালে শব্দ করে চুমু খেএ বললো,
_”গোসল করতে এতো ভালো লাগে little sweet honey?হুম , সারাদিন পানিতে রেখে দিলে খুশি তাই তো!”
আয়রা তার ছোট্ট হাত দুটো আরহামের নাক মুখে রেখে হিহি করে হাসলো আরহাম আবারো শব্দ করে মেয়েকে চুমু খেলো
২০ মিনিট খানিক পাড় হতেই নুবা শাওয়ার নিয়ে বেড় হলো।তাকে সিন্ধ লাগছে, একদম সতেজ। মুখ মন্ডল দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি মধুর ন্যায় লাগছে। আরহামের sweet honey 🍯 , একদম সেরকম!
নুবা চুল মুছে এগিয়ে এসে দেখলো বাপ মেয়ে মাথা না মুছেই বসে আছে।নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো পাশ থেকে তোয়ালে তুলে নিয়ে বললো
_”আপনি এখনো মেয়েটার মাথা মুছে দেননি, আপনি কি জ্ঞান বুদ্ধি নেই নাকি বিসর্জন দিয়েছেন?”
বলতে বলতে মেয়েকে আরহামের থেকে টেনে নিজের কাছে নিলো আরহাম হেলামি করে বললো
_”হয়তোবা বিসর্জন দিয়েছি কোনো এক রমণীর পাল্লায় পরে।”
আরহামের এরকম কথায় নুবা ঠোঁট টিপে হাসলো পরপর মেয়ের মাথা মুছে আরহামের চুল গুলো মুছে দিয়ে বললো
_” ঢং হয়ে গেলে,য়েটাকে একটু জামা কাপড় পড়ান তো দেখি।আমি নিচে যেএ খাবার নিয়ে আসছি, অনেক ক্ষুধা লেগছে।”
বলেই নুবা উঠতে নিলে আরহাম টেনে ধরলো তাকে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আমি কল করে আম্মুকে বলছি,, আপনি বসুন।এতো তাড়াহুড়ো করতে হবে না।”
খাওয়া দাওয়া শেষে নুবা নিজের প্রান ফিরে পেলো।এতো সময় যেনো ক্ষুধায় পেট ফেটে যাচ্ছিলো তার।রাত ৮ টা না বাজতেই আয়রাকে নিয়ে শুয়ে পড়লো নুবা।কেউ তাদের বিরক্ত করলো না শুধু বিশ্রাম নিতে দিলো অবশ্য সবার মনে অনেক প্রশ্নই ঘুরছে তাও কেউ তাদের বিরক্ত করলো না।
আরহাম এতো সময় বসে কিছু একটা হিসাব করছিলো তবে এবার হিসাব শেষ করে সে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজের প্রান প্রিয় স্ত্রীর কাছে শুয়ে পড়লো।যে কিনা মেয়েকে ঘুম পাড়াচ্ছে।
আরহাম পিনে এসে জাপটে ধরতেই নুবা লাজুক হাসি দিলো। আরহাম একটু সময় নিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ ১০ দিন পার হয়ে যাচ্ছে তাও আপনার এক সপ্তাহ পার হচ্ছে না।এখন কি আবারো ধৈর্যের বাঁধ বানাতে হবে।
নুবা কিছুটা সময় নিলো কথা গুলো বুঝতে। কেমন অদ্ভুত লজ্জা লাগলো তার,পে যখনি ভাবলো আরহাম তার ওতোটা কাছে থাকবে তখনি তার শরীর সিরসির করে উঠলো জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো।
_” আজ অনেক ধকল গিয়েছে, আপনার আমার দুইজনেরি শরীর, মন সবি ক্লান্ত। আজকের জন্য ধৈর্য ধরলে ভালো হয়।”
নুবার কথায় আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,হতাশ কন্ঠে বললো
_” আপনি কি কোনো ভাবে আমাকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন? আমি কি নিজ অজান্তেই কোনঝ ভুল করেছি?”
আরহামের প্রশ্নে নুবা কিছুটা তথমত খেএ বললো
_”না,মানে এমন কিছু না। শুধু মনটা আনচান করছে আমাকে নিজেকে প্রস্তুত করতে আর কয়টা দিন সময় দিন, please আমি অনুরোধ করছি।”
আরহাম একটু বিরক্ত হয়ে কড়া কন্ঠে বললো
_”এটা আমার অধিকার নুবা। তুমি আমাকে বুঝতে পারছো না,আসলেই তুমি ব্যর্থ আমাকে বুঝতে।তবে জোর করবো না,বাকিটা তোমার ইচ্ছা। যতো ইচ্ছা তত সময় নেও তবে দেখা গেলো সময় নিতে নিতে আমিই রইলাম না।”
বলেই আরহাম অন্য পাশে ঘুরতে ঘুরতে বললো
_ মেয়েকে মাঝখানে দেও
আরহামের কথা শুনে নুবার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,বুঝতে পারলো রেগে যাচ্ছে লোকটা।নুবা শুকনো ঢোক গিলে তাড়াতাড়ি পিছনে ঘুরে আরহামকে জরিয়ে ধরে পিঠে মুখ গুজে বললো
_” আপনি কি আমার কথায় রাগ করলেন,আমি সত্যিই দুঃখিত।এটা আপনার হোক তবু আমার অদ্ভুত লাগছে তবে আপনি যদি আপনার অধিকার টুকু চান তবে আমি আপত্তি করবো না।”
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসলো,যাক কথার ওষুধ কাজে এসেছে। আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো,
_”মেয়ে ঘুমিয়েছে?”
নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_”না”
_ “আগে ওকে ঘুম পাড়াও অতঃপর আমার টা আমি আদায় করে নিবো।”
আরহামের কথা শুনে নুবার বুক ধুকপুক করে উঠলো যার শব্দ আরহাম অনুভব করলো কারণ নুবা আরহামের সাথে চিপকে আছে।নুবার অদ্ভুত কারনে নিঃশ্বাসের গতি বেড়ে গেলো।নুবাকে রেসপন্স করতে না দেখে আরহামের মৃদু কন্ঠে বললো
_”কি হলো?কি বলেছি আমি।”
নুবা মৃদু কেঁপে উঠে বললো
_”পা,,,পাড়াচ্ছি!”
বলেই আস্তে করে আয়রার দিকে ঘুরে গেলো।হাত পা কেমন খিল লেগে আসলো তার।বারবার সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলো
“না এটা স্বাভাবিক, তুই এটাকে ওভাবেই নে এতো নার্ভাস হওয়ার কি আছে লোকটা তোর স্বামী তোর কতো আগের পরিচিত মানুষ । এমন তো নয় সে তোমাকে স্পর্শ করেনি ! অনেক কাছাকাছি এসেছিস তোরা ,নুবা be positive । নিজেকে সামলা।”
নিজের মনে মনে বাক্য গুলো উচ্চারণ করে নিজের অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনলো নুবা তবে কত সময় এভাবে থাকতে পারবে সে জানে না।
নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রায় ঘুমিয়ে গেছে আয়রা।নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_” এমনি দিন তো রাত ১১ টার আগে ঘুমাস না আজ এতো তাড়াতাড়ি কেন মা please ঘুমাস না please ”
তবে নুবার বিরবিরানি শুনলো না কেউ আয়রা মিনিট খানিকের ভিতরে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো।সারাদিনের খাটনির পর সেও বেশ ক্লান্ত।
আয়রা ঘুমালেও টু শব্দ করলো না নুবা ঠিক ৮:৫৫ তে আরহাম ফিরে তাকালো নুবার দিকে একটু উঁচু হয়ে খেয়াল করলো আয়রা ঘুমিয়ে গেছে। আরহাম মুচকি হাসলো পরপর এক হাত দিয়ে নুবার বাহু হালকা করে টান দিলো।
বেচারি নুবা সজাগ ছিলো তবে আরহামের উপস্থিত টের পেয়ে চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে নিলো যেনো সে ঘুমাচ্ছে।
আরহাম এগিয়ে এসে ফিসফিস করে সুধালো
_ sweet honey কি ঘুমিয়ে পড়েছে?
নুবা নিজেই নিজের কাছে বলদ বনে গেলো আর ভাবলো
“ডেকে জিজ্ঞেস করছে ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা,কি আজব মানুষ ছ্যে”
আরহাম নুবাকে সোজা করে শোয়ানোর চেষ্টা করলো তবে নুবা শরীর খিচে রইলো যার থেকে আরহাম টের পেলো এই মেয়ে মোটেও ঘুমায়নি drama করছে।
আরহাম নুবার কান্ড দেখে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আমি জানি আপনি ঘুমাননি, আপনাকে দিয়ে মোটেও এটা আশা করিনি।”
নুবা পরপর ২/৩ বার শুকনো ঢোক গিলে আরহামের দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো
_” আজকে অনেক ঘুম পাচ্ছে, আজকে আমাকে একটু ঘুমাতে দিন promise কালকে”না ” উচ্চারণ করবো না।”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে বললো
_”গত ২/৩ দিন ধরে আপনি একি বাহানা মারছেন।”
নুবা নিজেকে বাঁচাতে কথা ঘুরিয়ে বললো
_”আপনি বলেছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠান করবেন কিন্তু এখনো সেই খবর নেই। আপনি তো __
বাকি কথা বলার আগেই আরফ বিরক্ত নিয়ে বললো
_”তুমি কথা ঘুরাচ্ছো।আমরা এখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলছি না ।”
নুবা মৃদু কেঁপে উঠল কেমন ভীতু কন্ঠে বললো
_”আমি অনুরোধ করছি আর মাত্র ৩/৪ দিন সময় দিন। ”
আরহাম একটু তেতে উঠে বললো
_”kindly তুমি তোমার সমস্যা টা একটু বলবে ।আসলে এরকম ন্যাকামো করার কি আছে husband হই তোমার পরপুরুষ না! কতটা ঝড় ঝাপটা পার করে তোমাকে নিজের করেছি সেটা তোমার ধারনাও নেই।”
নুবা এদিক ওদিক তাকিয়ে কেমন করে নিঃশ্বাস ফেললো আরহাম নুবার দিকে ঝুঁকে এসে মৃদু কন্ঠে বললো
_” কোনো বিশেষ কারন বলো কেনো এমন করছো? তবে আমি তোমাকে জোর করবো না।”
নুবা ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো কথাটা বলতে তার লজ্জা লাগলো, নিজেকে বাচ্চা মনে হলো,
আরহাম ধমকে উঠে বললো
_কি হলো , answer me.v
নুবা চোখ মুখ খিচে ভাঙ্গা শব্দে বললো
_”আ,, আমার ভয় লাগে, অনেক ভয় লাগে।”
নুবার কথায় কথায় আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো,ভুরু কুঁচকে বললো
_”আশ্চর্য,আমি বাঘ নাকি ভাল্লুক যে তোমার ভয় লাগছে।”
নুবার বুক তিরতির করে কেঁপে উঠলো,জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_”আপনি বুঝবেন না।আমি দেখছি,শুনেছি , অনেক গবেষণা করেছি বিষয়টা নিয়ে। অনেক কষ্ট হবে আপাতত আমি আগে নিজেকে বিষয়টার জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছি। আমাকে সময় দিন।”
আরহাম নুবার কথায় কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”what! এই সব কিরকম বাচ্চাদের মতো কথা বলছো। এই যুগে what the h***.
বলেই আরহাম নিজেকে শান্ত করে নুবার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো
_”দেখো মেয়ে আমার ধৈর্যের পরিক্ষা নিও না। আশ্চর্য লাগছে, এরকম Fool এর মতো কথা বার্তা কিভাবে বললেন।আর কে তোমাকে এই সব আজাইরা কথা বার্তা বলেছে?”
নুবা টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_” আমার স্কুল friend বলেছিলো ,,ওর class 9 এ থাকতে বিয়ে হয়ে যায় অতঃপর যখন ওর সাথে আমার দেখা হয় তখন ও সবটা আমাকে খুলে বলে,ওর নাকি অনেক সমস্যা হয়েছিলো ২ সপ্তাহ হসপিটালে ভর্তি ছিলো তার উপর আমি অনেক জায়গায় সার্চ করে দেখেছি, অনেকের মুখের কথা শুনেছি তাই আমাকে সময় দিন,আমি এই লজ্জাজনক বিষয় নিয়ে কোথাও ছুটাছুটি করতে চাই না।আর না হসপিটালে যেতে চাই!”
আরহাম উত্তেজিত কন্ঠে বললো
_ “তোমাকে তো ভালো ভেবেছিলাম তবে তুমি এই সব বিষয় নিয়ে যাচাই-বাছাই করো ছি আয়রার মাম্মা ছি।”
নুবা ফট করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_”ছি কি হুম, আমার জানার অধিকার আছে, এগুলো বয়ের পাতায়ও দেওয়া থাকে বুঝলেন।নাটক কম করেন। আমাকে বোঝার চেষ্টা করুণ।”
আরহাম নুবার কথায় কিছু সময় চুপ থেকে নিজেকে শান্ত রেখে তাঁকে বুঝিয়ে বললো
_এটা তোমার মনের ভয় sweet honey । এমন কিছুই না।সবাই মিথ্যা বলেছে,যতটা বলেছে ততটা জটিল না । তুমি যত মানসিক চাপ নিবে ততটা কঠিন হবে আর যদি তুমি শুধু আমাকে অনুভব করো তবে সত্যিই এটা তেমন কিছু না। তুমি আরো relaxe হবে,Try to understand. ”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”না আমি কিচ্ছু বুঝতে চাই না।আমি এখন মানুসিক ভাবে প্রস্তুত না। সময় হোক আগে তার পর।”
আরহাম একটু রেগে বললো
_”তাহলে সেই সময় কবে হবে আমি মরে গেলে,তখন।”
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_”ছি ছি আপনি এরকম কথা বলছেন কেন?”
_ “তো কি বলবো, আমার হোক টুকু আমাকে দিতে এতো নাটক আচ্ছা ঠিক আছে যা ইচ্ছা তাই করো,আর কক্ষনো তোমার সান্নিধ্য চাইবো না।”
বলেই আরহাম সরে গেলো নুবা কিছু সময় চুপ থেকে উল্টা আরহামকে খোঁচা মেরে বললো
_”আপনি এরকম ব্যবহার করছেন যেনো আমি আপনার বউ না রক্ষিতা,এই বিষয়ে আমাদের দুজনেরি মতামত প্রয়জন, এমন তো না যে আমি হারিয়ে যাচ্ছি?আর এমনো না যে বিয়ের বছর খানিক পার হয়ে গেছে,এমন ভাবে রেগ দেখাচ্ছেন যেনো চাহিদা পূরনের জন্যই বিয়ে করেছেন,এর থেকে বেশি কিছু না।”
নুবার লাগাম ছাড়া কথায় আরহাম ক্ষিপ্ত হয়ে বললো
_”just shut up, তোমার বাজে চিন্তা ভাবনা বন্ধ করো। রক্ষিতা করে রাখার ইচ্ছা হলে আর বিয়ে করতাম না।ওতোটাও সুন্দরী না তুমি যতটা নিজেকে ভাবো।ভালো লাগে তোমাকে তাই সারাজীবনের জন্য নিজের করেছি নাকি ক্ষনেকের জন্য, উল্টা পাল্টা কথা বলে মাথা গড়ম করো না। তুমি আমাকে কক্ষনোই বুঝবে না।”
নুবা আরহামের প্রথমে ৩ নাম্বার লাইনটা শুনে খারাপ লাগলো,নুবা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ “সুন্দরী না তবে বিয়ে করলেন কেন।আমি তো মরে যাচ্ছিলাম না আপনাকে বিয়ে করার জন্য।করতেন ওই পরিকে বিয়ে সুন্দর তো ছিলো ছেড়ে দিলেন কেন?”
বলতে বলতে নুবা উঠে বসলো, আরহাম পাশ ফিরে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_”একদম তর্ক করবে না নুবা, চুপচাপ ঘুমাও।”
নুবার আরহামের রাগি কন্ঠ শুনে প্রচন্ড রাগ হলো রাগি কন্ঠে বললো
_”আসুন,শরীরের জন্যই তো এতো তেজ,যা ইচ্ছা তাই করুন এই নুবা টু শব্দ করবে না।”
বলেই নুবা ড্রেস খুলতে লাগলো , আরহাম নুবার কান্ড দেখে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেলো পরপর রেগে নুবার হাত চেপে ধরলো নুবা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আরহামের দিকে তাকালো। আরহাম মৃদু কন্ঠে ধমকে বললো,
_” অতিরিক্ত বারবারি করো তুমি ।”
নুবা ঝাড়া মেরে আরহামের হাত সরিয়ে দিয়ে বললো
_ “আপনার কথাও আমার সহ্য হচ্ছে না,সরুন।”
কথার ভিতরে যেনো ঝগড়া লেগে গেলো কি একটা অবস্থা।হাত ঝাড়া মারায় আরহাম একটু তেতে উঠে ধমকে বললো,
_”নাটক না করে ঘুমা,না হলে তুলে এক আছার মারবো বেয়াদব।”
আরহামের ধমকে নুবা নিজ অজান্তেই কান্না করে দিলো সে সাপের মতো ফুঁসতে লাগলো। কিছু সময় আরহামের দিকে তাকিয়ে থেকে পরপর ব্যস্ত পায়ে নিচে নামতে লাগলো। আরহাম এগিয়ে যেএ হাত চেপে ধরে বললো,
_” কোথায় যাচ্ছিস?”
নুবা স্লিপার পড়তে পড়তে বললো
_”আপনার সাথে থাকবো না আমি।হাত ছাড়ুন।”
_”তুই থাকবি তোর ঘাড় ঘাড় থাকবে। চুপচাপ এসে ঘুমা না হলে,,,,”
_”থাকবো না,না মানে না। যে আমাকে বুঝে না তার সাথে আমি থাকবোই না,নয়ে আঁকার “না”।”
আরহাম এক হেঁচকা টান দিয়ে নুবাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে বললো
_” মেয়ে উঠে যাবে কিন্তু নুবা।”
নুবা ফুঁসতে ফুঁসতে বললো
_”উঠুক, দেখুক তার বাপ সামান্য ব্যপারে তার মা”কে শাসাচ্ছে।”
আরহাম বিরক্ত হয়ে নুবা বিছানায় তুলে নিজের সাথে আঁকড়ে ধরলো,নুবা ছটফট করে উঠলো। আরহাম অশান্ত কন্ঠে বললো
_”হাত দিয়ে নাটকবাজ এবার থাম।”
নুবা আরো ফুঁসে উঠে বললো
_”আমি নাটকবাজ অসুন্দর,যান না সুন্দর মেয়েদের কাছে,আমি কি না করেছি। আমার কাছে আসছেন কেন? যেখানে ইচ্ছা যেখানে যান,যা ইচ্ছা তাই করুন।”
আরহাম বুঝতে পারলো ওই একটা লাইন বলেই সে মহাবিপদ নিজের ঘাড়ে টেনে এনেছে।এখন এই মেয়ে ওই কথা নিয়েই বারবার খোঁচা মারবে। আরহাম নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”হুসসস, একদম চুপ।আর একটা কথা না। তোমার justice করতে হবে না যে আমার বউ কতটুকু সুন্দর না অসুন্দর।আমি তো জানি আমার বউ আমার কাছে কি ।এবার অফ যাও, আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দেও,এবার খুশি।”
নুবা মুখ ঘুরিয়ে নিলো বিরবির করে বললো
_”আমি আম্মুর সাথে ঘুমাবো সরুন।'”
_”sorry বল্লাম তো, আচ্ছা ঠিক আছে তোমার যত সময় লাগবে তুমি নেও,১ দিন ২ দিন পারলে ১/২ মাস ৩/৪ বছর নেও তাও এভাবে উল্টা পাল্টা কথা বলে মাথা গড়ম করো না।”
আরহামের কথায় এবার নুবা একটু স্বস্তি পেলো,যাক তার কান্না কাটি করে লাভ হয়েছে।নুবা কাঁদতে কাঁদতে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_”আচ্ছা”
নুবার “আচ্ছা” শুনে আরহাম টের পেলো এই কথা শুনার জন্যই এতো কাহিনি। আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
_” অপেক্ষা করতে করতে আবার মরে না যাই।”
নুবা একটু দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো
_”আরে মারবেন না,বউ এর দিকটাই বোঝার চেষ্টা করেন। বেশি সময় নিবো না ৩/৪ বছর হলেই চলবে।”
নুবার কথায় আরহামের মুখটা চুপসে গেলো, আরহাম কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_” না না থাক ৩০/৪০ বছর সময় নেন।আমি আবার অনেক ধৈর্য্য ধরতে পারি।আপনি ধৈর্য ধরা শিখিয়ে দিয়েছেন।”
কেমন দাঁতে দাঁত চেপে বললো সে পরপর সরে গেলো,নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হেসে বললো
_”আরে আপনিও না,বেশি না মাত্র কয়দিন। মাত্র ওই সব শেষ হলো এখনি এতো কিছু করা ঠিক হবে না তাই না?”
আরহাম বিরবির করে বললো
_”কয়দিন করতে করতে আবার পিরিয়ড চলে আসবে,তখন আবার একি নাটক।”
আরহামের বিরবির শুনতে না পেরে নুবা তার গায়ে পা তুলে দিয়ে বুকে স্থান করে নিয়ে বললো
_”আপনি এতো ভালো উমম্মা।”
শব্দ করে বুকে চুমু খেলো নুবা,আরহাম জরিয়ে ধরলো নুবাকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
_”কথা শুনলেই ভালো,না শুনলে খারাপ।”
নুবা ঠোঁট চেপে মিনমিন করলো। আরহাম নুবার মাথায় চুমু খেএ ভাবলো,
_ “নির্ঘাত এই মেয়ে অনুষ্ঠান করে বিয়ে করার পরেই কাছে আসবে দিবে তাই এই নাটক, উফ্,কোন বেয়াদব কে বিয়ে করলাম কে জানে।”
পরি চুপচাপ রুমের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে,এই মাত্র রুম থেকে সবাই বেড় হলো,বিছানার এক কোনায় হেলান দিয়ে বসে আছে,পেটে ব্যান্ডেজ করা নাবিলের ,
তখন হাবিব গোদামের পিছনের দরজা খুলে সব কয়টাকে বেড় করেছে,তার উপর গোদামের সামনে আসতেই নজরে পড়েছে জ্ঞান শূন্য নাবিলকে অতঃপর আর কি জব্বার খান কে কল করেছে,
সাগর সহ বাকি কয় একজন হসপিটালে ভর্তি,নাবিলকেও ভর্তি করানো হয়েছিলো তবে জ্ঞান ফিরতেই নাবিল বাড়ি আসার জিদ ধরেছে,ফল স্বরুপ তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়েছে অবশ্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাতি সহ doctor কেও এনে বাড়িতে রাখা হয়েছে এমপি বলে কথা।
নাবিল বেঁচে গেছে ঠিকি তবে তার শরীরে আগুন জ্বলছে।জীবনের প্রথমবার এমন হলো তার সাথে।রাগে গজগজ করছে সে তবে জব্বার খান সব শুনে ধৈর্য ধরতে বলেছে অতী শিঘ্রই আরহামের বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্র করবেন তারা।
পরির কোনো দুঃখ সুখ নেই,না আছে আফসোস বরং সে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।যে এমন করেছে তাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছে আর ভাবছে
“প্রতিবারি কি ক্ষমতার আড়ালে নাবিল জিতবে,একদমি না পাপ করছে সে।আর সেই পাপকে দমন করার জন্য আল্লাহ নিশ্চয়ই কিছু না কিছু করবে,না হলে কাউকে রুখে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।”
পরি ঠোঁট হেলিয়ে হেসতে লাগলো বিরবির করে বললো
_অতী শিঘ্রই কাল(শেষ) ঘনিয়ে আসছে খান সাহেবের।
পরির আফসোস হচ্ছে নাবিল মরলো না কেন, বেঁচে কিভাবে গেলো?যেই গুলি করেছে সে ৩/৪ টা করলো না কেন,১ টা কেন করলো?গুলি একটা কেন করলো এই দুঃখে বাঁচতে পারছে না পরি।
মিনিট খানিক পার হলো নাবিল পাশ ঘুরে পরির দিকে তাকিয়ে দেখলো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সে।মুখে এক চিলতি হাসি।
নাবিল টের পেলো পরির হাসিস কারণ।নাবিলের দাঁতে দাঁত লেগে আসলো, এরকম একটা মেয়েও তার উপর হাসছে শুধু মাত্র আরহামের কারনে,এই আরহামকে ছাড়বে না সে।
নাবিল হাত চেঁচিয়ে উঠে ডাকলো পরিকে
_” খানির মাইয়া এদিকে আয়।”
নিবিল চেঁচিয়ে নিজেই ব্যথায় মর্মাহত হলো,পরি চোখ তুলে নাবিলের দিকে তাকালো পরপর হেলামি ভঙ্গিতে এগিয়ে আসলো।নাবিল পরির মুখের দিকে তাকিয়ে কর্কশ কন্ঠে বললো
_”খুব মজা পাইতাছোস তাই না। মরলাম না কেন সেই দোয়া করতাছোস।”
নুবা শান্ত কন্ঠে তাচ্ছিল্য করে বললো
_”অন্য মানুষের ভিক্ষা দেওয়া জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য দোয়া করার আমি কে?”
পরির কথা বুঝতে পেরে নাবিল তেতে উঠলো,পেটে হাত চেপে উঠে দাঁড়ালো সে। অবশ্য উঠে দাঁড়ানো তার জন্য কষ্টকর তবু সে উঠে দাঁড়ালো।এখনো তার মাথা ঘুরছে সব ঝাঁপসা লাগছে তবে মনের শক্তিতে বেঁচে আছে সে,
পরি দুই কদম পিছিয়ে গেলো,নাবিল উঠে দাঁড়িয়ে পরির চুলের মুঠি চেপে ধরে খেকিয়ে উঠে বললো
_” মুখ চালাস মাগি,ভাবিস না এই অবস্থায় তোরে কিছু করতে পারমু না এখনো ১০০ জনরে গাইথা রাখার শক্তি রাখি,সেনে তুই কোন বাল মাদারচো***।”
কথা শেষ করে নাবিলের নিঃশ্বাস ছুটে গেলো। হাঁপিয়ে উঠলো সে,পরি ঝাড়া মেরে নাবিলকে সরিয়ে দিলো মৃদু হেসে বললো
_”শুধু মুখের জোর না,শরীরেরো জোর থাকলে হয়। আমার মতো মাগির সাথেই পেরে গেলেন। কারণ একটা আপনি কা পুরুষ ।যে আপনাকে মেরেছে নিশ্চয় সে আসল পুরুষের ভিতরে পরে। মাগি মানুষকে বিছানায় টেনে নিয়ে শুয়ালেই কেউ পুরুষ হয়ে যায় না। টক্করের মানুষের সাথে যে লড়তে পারে না সে আবার কিসের পুরুষ রে,তাই নিজের মুখে লাগাম দিন কাপুরুষ কোথাকার।”
নাবিল সাথে সাথে একটা চড় বসিয়ে দিলো পরির গালে,পরি শব্দ করে হেসে উঠলো সময় নিয়ে বললো
_”গায়ে লাগলো নাকি। এতটুকু আপনার মুরোদ আছে। একজন খুনি আর ধর্ষকের এর থেকে বেশি মুরোদ থাকারো কথা না।”
নাবিল তেরে এসে পরির গলা চেপে ধরলো এতো বিষাক্ত বানি সে নিতে পারছে না,নাবিল চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”জানোয়ারের বাচ্চা,ভয় ডর নাই তোর মনে।জমিনে পুইতা রাখমু।ডেশি গলা বাজাইলে গলার ধর কাইটা রাইখা দিমু।”
পরি সাথে সাথে উত্তর দিয়ে বললো
_”দেন,এটাই তো চাইছি। আপনার মতো অমানুষের স্ত্রী না হয়ে মরে যাওয়াই উত্তম।”
নাবিলের পেট দিয়ে চুইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে।পরি ফ্লোরে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে।এই অবস্থায় পরিকে প্রচন্ড আঘাত করেছে নাবিল।তার সত্য কথা গুলো সহ্য হয়নি নাবিলের।না পেরে ইচ্ছা মতো মেরেছে তাকে।পরি টু শব্দ করেনি শুধু চেয়েছে এই রাগের উসিলায় যাতে তাকে একবারে মেরে ফেলে তবে বরাবরই তার নিষ্ঠুর ভাগ্য তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
নাবিল তুলো দিয়ে পেটের রক্ত মুছে নিলো পরপর বাড়িতে আনা doctor কে কল করতেই তিনি এসে সবটা সমাধান করে দিয়ে গেলেন।অবশ্য তিনি চম্কে উঠেছিলেন পরিকে এভাবে ফ্লোরে পরে থাকতে দেখে তবে ভয়ে প্রশ্ন করেননি বরং নিজের কাজ শেষ করে চলে গেছেন।
নাবিল ঘাড় ঘুরিয়ে এক পলক পরে থাকা পরির দিকে তাকালো। ফর্সা শরীর কালচে হয়ে গেছে। সৌন্দর্য যেনো একদম হারিয়ে গেছে।
এখন প্রায় সকাল ৪ টা নাগাত, অপারেশন থিয়েটার থেকে বেড় হয়ে টানা ৫ ঘন্টা পর তার জ্ঞান ফিরেছিলো তার ঘন্টা খানিক পড়েই নাবিল নিজেই উঠে হেঁটে চলে আসতে চায় বাড়িতে। জব্বার খান তো ছেলের মানুসিক আর শারীরিক অবস্থা দেখে অবাক।এই অবস্থায় এই ছেলে হেঁটে বেড়াচ্ছে ,তার পর আর কি নাবিল বাড়িতে আসার জেদ ধরলো আর তাকে নিয়ে আসা হলো।
সবাই ভেবেছিলো ২/৩ দিন লেগে যাবে নাবিলের উঠে দাঁড়াতে তবে মনের জেদ বেশি থাকায় একদিনো লাগেনি উঠে হাঁটতে অবশ্য এই মনোবল দেখে সবাই অত্যান্ত খুশি,তবে শুধু নাবিলি জানে রাগের চোটে সে মরার মুখ থেকে ফিরে এসেছে।
নাবিল ভাবনা থেকে বেড় হয়ে উঠে দাঁড়ালো।পড়ে থাকা পরিকে কোনো মতে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে ফেললো।বড় বেনি করা চুল গুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে মুখে আঘাতের কালচে দাগ চকচক করছে।
নাবিল ঝুঁকে পরির কালচে মুখটায় হাত বুলিয়ে দিলো। দুর্বল শরীরে মার খেএ জ্ঞান হারিয়ে বহুত আগেই।নাবিল চওড়া নিঃশ্বাস ফেললো।পরপর জ্ঞান শূন্য পরিকে নিজের কামনায় ব্যবহার করার চেষ্টা করলো।নাবিল শুধু একটু শান্ত হতে চাইছে যা হয়তোবা পরি একটু দিতে পারছে।
জ্ঞান শূন্য পরি অনুভব করতে পারলো না তার ক্ষতবিক্ষত দেহের সাথে কি হচ্ছে।এই অবস্থায় ও নাবিল এক বিন্দু ছাড় দিতে চাইছে না পরিকে।
রাতের গভীর অন্ধকার ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে শুরু করল। পূর্ব আকাশে সূর্যের প্রথম সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়তেই চারপাশ যেন নতুন ভাবে নতুন দিনের আহ্ববান জানালো,,সেই আলোতে নুবা আরহামের বক্ষ স্থলে নড়েচড়ে উঠলো।আলোর ঝলকানি সহ্য হলো না তার যেনো বিরক্ত তাদের।নুবার নড়াচড়া অনুভব করে আরহাম আরো বুকে আগলে নিলো তাকে যাতে এই আলো তাদের ভিতর এতো তাড়াতাড়ি দূরত্ব না তৈরি করতে পারে। অন্ধকার পেয়ে নুবা আবারো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলো। আরহাম নড়েচড়ে নুবাকে টপকিয়ে এক হাত তার মেয়ের গায়ের উপর দিয়ে আবারো গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো
সকাল ১১ টা নাগাত,সবটা শুনার পর হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললেন
_”আমার মতে আগের মতো বাড়ির আশে পাশে গার্ড রাখা দরকার, তুমি কি বলো।”
আরহাম হেলামি করে বললো
_” প্রয়জন নেই,যেই ডোস দিয়ে এসেছি মনে হয় না আবার আসবে।”
হারুন মির্জা বিচলিত কন্ঠে বললো
_” মারার চেষ্টা করেছো তাকে তুমি,যদি কোনো মতে বেঁচে যায় নিশ্চয় আবার আসবে।ওরা ভালো না আরহাম।”
আরহাম শান্ত কন্ঠে শুধালো
_”dad তুমি এই নিয়ে,এই বয়সে এসে চিন্তা করো না।আমারটা আমি দেখে নিবো।ওদের ভয়ে একখন দেহ রক্ষি রাখবো নাকি আজব।আমরা কি এতোই দুর্বল।”
হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললো
_”তুমি বিষয়টা স্বাভাবিক নিচ্ছো, তুমি ওদের চিনো না।ওরা আবার আসবে।”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”এই বিষয়টা নিয়ে পরে কথা বলল ,আর ভুলেও বাড়ির কাউকে বলো না।আমি নুবাকেও বুঝিয়ে দিয়েছে।মহিলারা এমনিতেই বেশি বুঝে ।এই সব জানলে চিন্তা করবে।”
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকালো।
জব্বার খান চিন্তিত কন্ঠে বললো
_” তোমার এখন রেস্ট নেওয়া দরকার।”
নাবিল মৃদু কন্ঠে বললো
_” আমি ওদের দেইখা আইয়া পড়মু।”
জব্বার খান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন
_”ওরা ঠিক আছে,ইমন কাল থেকেই ওদের কাছে।কোনো সমস্যা হলে নিশ্চয় কল দিবে,ষ। তুমি রুমে যেএ রেস্ট নেও, কাঁচা ঘা।”
নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_” আর কি ভাবলা তুমি।শরীলের রক্ত টকবক করতাছে।”
জব্বার খান ঠান্ডা মাথার মানুষ তাই ছেলেকে বুঝিয়ে বললেন
_” হুটহাট কিছুই হবে না।কয়টা দিন যেতে দেও, তাদের অনুভব করতে দেও তারা সেভ। আমরা এটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছি না।তার উপর সংসদে একটু ঝামেলা চলছে। তুমি আগে সুস্থ হও।”
নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”শান্ত হইতে পারতাছি না আমি,খানকির পোলা আমারে ড্রাগস দেয়,আমার লোগে খেলে।ওরে জম্মের ভাত আমি খাওয়াইয়াই ছাড়মু।এক একটারে জবাই করমু।”
জব্বার খান ছেলের কাঁধে হাত রেখে কিছু একটা বুঝালেন,নাবিল কিছুটা শান্ত হলো,
_”রুমে যাও।”
নাবিল মাথা ঝুকালো,
পরি এখনো ওই অবস্থায় পড়ে আছে।না তাকে দেখার মতো কেউ আছে আর না তার নিজের শরীরে শক্তি আছে।নাবিল মিনিট খানিক পর রুমে প্রবেশ করলো এখনো পরিকে এভাবে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে আরো রাগ হলো তার এগিয়ে যেএ গালি দিয়ে বললো
_”শুয়ো”*** বাচ্চা কয়ডা বাজে,এখনো চেট কেলাইয়া শুইয়া আছোস, অসুস্থ স্বামীর সেবা করি তা না ভেটকাইয়া শুইয়া রইছোস।”
পরি উত্তর দিলো না শুধু কান্ত চোখে তাকাতে চাইলো,নাবিল এগিয়ে যেএ গাল চেপে ধরলো পরির, দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”কয়ডা বাজে উঠোস না কেন, এমন সংএর মতো শুইয়া আছোস কেন,মরার পাখনা গজাইছে।”
পরি চোখের কার্নিশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,নাবিল ছড়েএ দিলো তাকে কারণ কথা বললেও তার পেটে টান পড়ছে।নাবিল সরে এসে বিছানায় এসে হেলান দিয়ে বললো
_” উইঠ্যা গোসল সাইরা আয়, শরীর দিয়ে বোত পঁচা গন্ধ কইতাছে।তোরে দেখলেই শরীর জ্বলতাছে।যা না হইলে লাত্থি মাইরা বিছানা থেইকা ফালায় দিমু।”
পরির নড়চড় না দেখে নাবিল রেগে যেএ সত্যিই পরিকে ধাক্কা পেরে বিছানা থেকে ফেলে দিলো,ধপাস করে শব্দ হলো, পরি ক্লান্ত শব্দে কুকিয়ে উঠলো,নাবিল চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ “এই হালে তোরা লোগে চেচাইতে আমার মেজাজ বিগড়ে যাইতেছে উঠোস না। খানকি পাগলের ব্যস ধরা শুরু করছে।আইজক্কা থাইকা পরিপাটি না হইয়া থাকলে চুলের মুঠি ধইরা দেওয়ালে ঢুয়ামু।”
তবু প্রতিক্রিয়া আসলো না,নাবিল এগিয়ে যেএ দেখলো, বেঁচে আছে না মরে গেছে,না বেঁচে আছে।নাবিল অধৈর্য হয়ে ইশাকে কল দিলো।
সে চায় পরি তার সামনে পরিপাটি হয়ে থাকুক।দেখলেই যাতে কাছে টানতে ইচ্ছা করে তবে পরি তো গোসলটাও ঠিক মতো করে না,রাতে এতো কিছু হওয়ার পড়েও ফরস গোসল টাও সে এড়িয়ে যায় সারাদিন শুয়ে বসে থাকা।না খাওয়া দাওয়া,না নাওয়া ধোঁয়া।
অবশ্য যেভাবে সে পরিকে এখানে এনেছে তার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাওয়া বা যেভাবে সে চাইছে সেভাবে থাকা বিলাশিতা।ভালো মতো বিয়ে করলে আনলে হয়তো মনের ইচ্ছা পূর্ন হইতো তার তবে আফসোস সে,সেই রাস্তা রাখেনি।
নুবা সকাল সকাল গোসল সেরে এসে নতুন একটা জামা পড়ে আরহামকে দেখাচ্ছে।গোল গাউন সুতির তবে সুন্দর,হালকা নীল বর্নের ভিতরে তাই তো এতো আয়োজন। অনলাইন থেকে এনেছে ২ দিন আগে এনেছিলৈ তবে পড়া হয়নি তাই আজ পড়লো।সাথে আয়রার মেচিং করা নীল সুতির গাউন।
মা মেয়ে নতুন জামা কাপড় পড়ে কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করতে থাকা আরহামের সামনে যেএ দাঁড়িয়ে খুশিতে গদগদ করে বললো
_”কেমন লাগছে?”
আরহাম মাথা উঁচু করে মা-মেয়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_”সুন্দর”
বলেই নিজের কাজে মনোযোগ দিলো,নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,সে আরো বেশি কিছু আশা করেছিলো।নুবা মুখটা চুপসে কালো করে বললো
_”শুধু সুন্দর। একটু ভালো মতো দেখেন তো।”
আরহাম হেলামি করে বললো
_”দেখতে দেও কোথায় তুমি।দেখতে চাইলেই তো,এ ও বাহানা করো। এখন সেভাবে দেখতে চাইলে আমার আবার মন চাইবে, তখন কি করবে তাই যাও।”
নুবা সময় নিয়ে আরহামের কথা বুঝে সরে যেতে যেতে বললো
_”সবসময় মাথার ভিতরে গু গবর ভরে রাখলে ভালো চিন্তা ভাবনা কি আসবে।আমারি দোষ ভুল মানুষকে জিগ্গেস করে ফেলেছি।”
আরহাম ফিরে তাকালো বিরবির করা নুবার দিকে, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো,
_”তাহলে সঠিক মানুষটা কে?একটু শুনি।”
নুবা বিছানায় ধপ করে বসে বললো
_”কেউ না।কেউ থাকলে আপনাকে জিজ্ঞেস করতাম।আজ সুন্দর না তো তাই কেউ পাত্তা দেয় না। সুন্দর হলে আবার সবাই যেচে এসে প্রশংসা করতো,হুম।”
আরহাম নুইয়ে না পড়ে, আরো খোঁচা মেরে বললো
_” পাত্তা পেতে হলে স্বামীর মন বুঝতে হয়, সুন্দর হতে হয় না।”
নুবা অন্য দিকে মুখ করে বললো
_” হ্যাঁ হ্যাঁ আমি জানি,আমি সুন্দর না।এটা বারবার বলতে হবে না.যতসব।চল তো মা,আমরা তোর নানু আর দাদুকে দেখিয়ে আসি।”
বলেই নুবা আয়ারকে কোলে তুলে নিলো যেতে যেতে বিরবির করে বললো
_” সুন্দর হতে হয় না,মানে কি আমি সুন্দর না। সব বুঝি,আবেগ দিয়ে পরি মেমকে ছেড়ে এখন বিবেক দিয়ে কাজ করছে হুম।”
আরহাম নুবার কথা শুনে ঠোঁট চেপে হেসে নরম কণ্ঠে বলল,
_”আপনি আমার কাছে এতোটাই সুন্দর যে, আপনাকে ছাড়া আমার চোখে আর কাউকে ধরে না । আপনার উপস্থিতিতেই দিনটা পূর্ণতা পায়। পৃথিবীতে হাজারো সুন্দর মুখ থাকতে পারে, কিন্তু আমার চোখে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা শুধু আপনিই। তাই যতবার আপনার দিকে তাকাই, মনে হয় নতুন করে প্রেমে পড়ছি।”
আরহামের মিষ্টি বানিতে নুবা ফিরে তাকালো। ইস্ লোকটা লজ্জায় ফেলো দিলো।প্রেম প্রেম গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে নুবা থেমে যেতে দেখে আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে এগিয়ে আসলো,আলতো করে নুবার পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,
_”এতটুকু যথেষ্ট নাকি আপনাকে নিয়ে পুরো একটা উপন্যাস লিখতে হবে।”
নুবা মুচকি হেসে বললো
_”যথেষ্ট।”
_”এবার আমাকে সন্তুষ্ট করে দেন। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে মরে না যাই।”
নুবা চম্কে উঠে বললো
_”শুধু আলতু ফালতু কথা।”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”আলতু ফালতু কথা না,আমি মরে যাচ্ছি।ভিতরটা যদি বাইরে এনে দেখাতে পারতাম।”
নুবা পিছন ঘুরে আরহামের বুকে মাথা ঠেকিয়ে বললো
_”আল্লাহর কাছে সবসময় প্রার্থনা করি যাতে আপনার আগে আমিই মৃত্যুবরণ করি কারণ আপনাকে ব্যতিত এই নুবা বরাবরই অপূর্ণ।”
পরপর নুবা মজা করে বললো
_ “আপনার হাতেই হাতে আমার মৃত্যু লেখা থাকে তবে আমার আপত্তি থাকবে না। স্বামীর হাতে মরণের স্বাদ হয়তোবা ভিন্ন।আমি উপভোগ করতে চাই।”
আরহামের বুকটা চিনচিন করে উঠলো।এক আঙ্গুল নুবার ঠোঁটের উপর ঠেকিয়ে বললো
_”হুসসস, একদম এই সব মজা করবে না।এই আমার এখনো সাহস হয়নি তোমাকে ধ্বংস করার,কখন আল্লাহ কার মুখের কথা কবুল করে নেয় বলা যায় না তাই এই সব বাজে কথা বলবে না।আমরা এক সাথে বহুদূর পর্যন্ত যেতে চাই। বাঁচতে চাই।”
নুবা অনেকটা আবেগ প্রফুল্ল হয়ে বললো
_”আপনি যদি চান তবে আজ রাত আমি নিজেকে আপনার কাছে ,,,”
বাক্য শেষ হওয়ার আগেই আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_”কোনো দরকার নেই, আপনার মতামত আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেদিন আপনার মন বলবে সেদিনি না হয় নিজের সব কিছু বুঝে নিবো।”
আরহামের কথায় নুবা অনেকটা খুশি হয়ে গেলো এক হাত দিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরলো। আরহাম বউ বাচ্চার কপালে চুমু খেএ মুচকি হাসলো।
বিপদ যখন আসে তখন আসতেই থাকে, গোধূলির নির্মমতা যেনো শেষ হয় আবার নতুন করে শুরু হয় তেমনি আরহামের জীবন থেকে মাত্র এক ঝড় গেলো এখনো শত শতো কাল বৈশাখীর তান্ডব তার জন্য অপেক্ষা করছে।
অনেকটা দিনি কেটেছে শান্তি পূর্ণ ভাবে তবে আরহাম একটু চিন্তিত, আরহাম চুপচাপ অফিসের চেয়ারে বসে ছিলো। নিজেকে ক্লান্ত লাগছে তার এর ভিতরে তার PA মরিয়ম এসে হাজির হলো।
আরহাম মরিয়মের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৮
_”হুম বলো,কি খবর দিতে এসেছো।”
মরিয়ম মৃদু কন্ঠে বললো
_”তেমন কিছু না sir, actually একটা মেয়ে এসেছে। আপনার কাছে আসতে চাইছে।”
