নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_”আমার সম্পদে যদি তুই ফুলের টোক্কাও দিস তবে আজকে তোর শেষ দিন হবে। তোর শরীর থেকে হাড্ডি আলাদা করে ফেলবো।”
নুবা আশে পাশে খেয়াল করে দেখলো কয় একজন দাঁড়িয়ে আছে সে আয়রার কান্না আর সহ্য করতে পারলো না মুখ দিয়ে শব্দ বের করার চেষ্টা করে উঠে বসলো।যেনো কোনো চাতক পাখি ছটফট করছে।
নুবাকে উঠে বসতে দেখে সাগর ভুরু কুঁচকে নিলো নুবা ছলছল চোখে সাগরের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করলো। একদিকে তার মনে ভয় কাজ করছে অন্য দিকে বাচ্চাটা কান্না করছে তার জন্য হাঁসফাঁস হচ্ছে।
নুবা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো তবে হাত পা বাঁধা থাকায় পারলো না। সাগর বিরক্ত নিয়ে এগিয়ে এসে বাজখাঁই কন্ঠে বললো,
_”চুপচাপ শুইয়া থাক,না হইলে আছার মাইরা পেটি গাইলা ফালামু। বাইং মাছের মতো মুচরাইতাছে।”
নুবা থামার বদলে মুখ দিয়ে উম উম করতে লাগলো। সাগর বুঝতে পারলো কিছু বলতে চাচ্ছে তাই অনেক মানবতা নিয়ে নুবার মুখটা খুলে দিয়ে কর্কশ কন্ঠে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই ছাড়া পেতেই নুবা পটপট করে উঠলো যা সাগরের ধারনার বাইরে ছিলো।নুবা ঝড়ঝড় করে বলে উঠলো,
_” কুত্তার বাচ্চা,জানো**** বাচ্চা, শুয়োর*** বাচ্চা,কে রে তোরা,আমাকে আর আমার মেয়েকে এখানে নিয়ে আসছিস কেন।তোরা জানিস কাদের তুলে নিয়ে আনছিস? ওর বাপ যদি একবার জানতে পারে আমরা বাড়িতে নেই তোর কি অবস্থা হবে শুয়ো*** আমার হাত পা খুল। আমার বাচ্চার ক্ষুধা লাগছে ওকে আমার কাছে দে না হলে তোর,,,,,,,
বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই সাগর আবারো নুবার মুখ বেঁধে দিলো।কি আশ্চর্য এতো সময় দেখে মনে হচ্ছিলো মেয়েটা ভয় পাচ্ছে তবে মুখ খুলতেই যেনো স্বয়ং জল্লাদের খাতায় নাম দিলো।তেজ তো না মুখের বুলি।
আবার মুখ বেঁধে দিতেই নুবা ছটফট করে উঠলো সাগর ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো নুবার গালে দাঁতে দাঁত পিষে বললো।
_”কপালরে কপাল,মুখ নাকি মেশিন এতো বুলি বলতে মুখেও বাঁধে নারে তোর।”
নুবা এক চড় খেএ স্তব হয়ে গেলো। মুখ খুলতেই সে পেটে জমিয়ে রাখা কথা গুলো মুখ ফুটে কিভাবে যেনো বেড় হয়ে গেছিলো কারণ হচ্ছে আরহাম তার সাহস সে জানে আরহাম আসবে।তবে হয়তোবা বেশি সাহস দেখিয়ে ফেলেছে।
চড় খেএ নুবার চোখ দিয়ে ঝড়ঝড় করে পানি পড়লো।রাগি চোখে সাগরের দিকে তাকিয়ে উঁহু উঁহু শব্দ করলো। সাগর সরে যেএ বললো,
_”বাচ্চাডারে উঠাইয়া একটা আছার মারতো হাবিব।মাথাটা ধরাই ফালাইলো”
হাবিব চমকে উঠে বললো
_” কি কইতাছেন ভাই?বড় ভাই আমাগোরে আছার মাইরা দিবো”
সাগর কান চুলকে বললো
_”ভাই”ই বলেছে,তোর এতো মায়া হইলে তুই কোলো লইয়া বইসা থাক তাও যাতে কানে শব্দ না আসে।গলা না ছুরি ছ্যে।”
হাবিব এগিয়ে যেএ আয়রাকে কোলে তুলে নিলো তারো কান্না কাটি ভালো লাগছে না। অচেনা মানুষের মুখ দেখে আয়রা আরো জোরে জোরে চিৎকার করে উঠলো।হাবিব হতভম্ব হয়ে গেলো ধমকে উঠে বললো
_”আরে চুপ কর বাল।গলা ফাইরা চেঁচিয়েই যাচ্ছে।”
আয়রাকে ধমক দিতে দেখে নুবার শরীরের রক্ত টকবক করে উঠলো। মুখ দিয়ে আরো জোরে জোরে শব্দ করলো সে।হাবিব কিছু সময় পর বিরক্ত হলো আরো, কারণ আয়রা থামার বদলে কাঁদছে।হাবিব ভুরু কুঁচকে বললো,
_”ভাই ওরে,ওর মায়ের কাছে দি।কানের পোকা মাইরা ফালাইলো।”
সাগরো বিরক্ত হয়ে বললো
_”দে,কোন বালরে উঠায় আনছি!গলা দিয়ে খুন করে ফেললো।সাওয়া আর ভালো লাগে না।”
হাবিব এগিয়ে যেএ নুবার হাত খুলতে খুলতে বললো
_”পটপট করলে তোর মাইরারে তুইলা এক আছার মারমু।হাত খুইলা দিতাছি চুপচাপ ওরে থামা।”
বলেই নুবার হাত খুলে দিলো,হাত ছাড়া পেতেই নুবা টেনে মুখের বাঁধন খুলে ফেললো।পরপর জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলো সে, এমন ভাবে বেঁধেছে একটু হলেই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতো তার।
নুবা ছাড়া পেতেই খোপ করে আয়ারকে নিজের কোলে নিয়ে হাবিবের দিকে সরল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
_”দূ,,দূরে যান।”
হাবিব সরে আসলো।নুবা কম্পিত হাতে আয়ারকে কোলে নিয়ে শান্ত করতে লাগলো।নুবার মুখ দেখে আয়রা ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদল।নুবা আদুরে কন্ঠে বললো,
_” আর কয়টা মিনিট অপেক্ষা কর মা,তোর বাপ নিশ্চয় আসবে সবকয়টাকে পাছার উপর লাত্থি মারবে কত বড় সাহস আমার মেয়েকে আছার মারতে চায়।”
নুবার কথায় সাগর হেসে উঠে বললো
_”হো দেখা যাইবো কে কার পাছায় লাত্থি মারে।”
নুবা কটমট করে সবার দিকে তাকালো হিসাব করে রাখলো আরহাম আসলে কি করে সে এদের নালিশ করবে।তবে সে এদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারলো না যে কেন এরা তাদের এখানে নিয়ে আসছে?
নুবা বেশি ভাবলোও না কারণ ভেবে আর কি করবে তার ধীরো বিশ্বাস আছে তার স্বামী নিশ্চয়ই আসবে।আয়রার পাপা দেরিতেও হলে আসবে ।কথায় কথায় সে পায়ের বাঁধন খুলে ফেললো, সাগর খেয়াল করেও কিছু বললো না কারণ এতো গুলো মানুষের ভিতর দিয়ে বাচ্চা নিয়ে পালানো অসম্ভব তাই বসে থেকে যা ইচ্ছা তাই করুক,
পার হলো আরো কিছু ঘন্টা তবে আয়রার পাপা আসলো না এদিকে সময় যতো যাচ্ছে তত নুবার ভয় বাড়ছে কেনো আসছে না মানুষটা?তাহলে কি আসবে না? অনেক টা সময় কাটার পর সাগর কান্ত নুবার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বললো,
_”কিরে তোর সৌয়ামি আইলো না।”
নুবা রাগে দুঃখে ফুঁসতে লাগলো তবে কি লোকটা তার সমান, সম্মান সব অহংকার ধুলোই মিশিয়ে দিবে সে কি আসবে না।নুবা না পেরে কম্পিত কন্ঠে বলে উঠলো,
_”আপনারা কারা?আর আমাদের এখানে নিয়ে আসছেন কেনো?”
সাগর চেয়ারে আয়েশ করে বসে বললো
_”তোরে কইতে হইবো ? চুপচাপ বইসা থাক।”
নুবা ঘুমন্ত আয়রার দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_”আপনারা এখান থেকে বেড় হোন। আমার মেয়ে ক্ষুধায় না খেয়েই ঘুমিয়ে গেছে ওকে ফিড করাবো।”
হাবিব হাম তুলে বললো
_”হো মামার বাড়ির আবদার। চুপচাপ বইতে কইছি না হইলে তোরে সহ মাইয়ারে তুইলা একটা আছার মারমু। যতসব ফালতু ঝামেলা।”
নুবা রাগে ফুঁসতে লাগলো। একবার শুধু আরহাম আসুক সবকয়টাকে দেখে নিবে।অবশ্য নুবা এতো সময়ে অনুমান করে ফেলেছে তাকে বা তার মেয়েকে কিছুতেই আঘাত করা হবে না কারণ যতটুকু বুঝেছে এদের উপরেও একটা বস আছে তার অনুমতি ব্যতিত এরা কিছুই করতে পারবে না তার উপর এদের উদ্দেশ্য আলাদা না হলে এতো সময় বড় কোনো ক্ষতি করে দিতো তারা। পরপর নুবা ভাবলো চড়ের প্রতিশোধ সে নিজে হাতে নিবে শুধু সু্যোগ পাক।
আচ্ছা যদি ব্যপারটা এমন হয় যে কিডন্যাপ করেছে তাকেই তুলে নেওয়া হলো। বরাবরই আমাদের আরহাম একটু নতুন চিন্তা ভাবনার মানুষ ফল স্বরুপ সে কিডন্যাপার কেই কিডন্যাপ করে নিয়েছে । বিষয়টা আনন্দ দায়ক হলেও খুবি জটিল।
নুবা মাথা নিচু করে সময়ের হিসাব করছিলো তবে এখনো কি আরহাম তাদের খোঁজটা পায়নি মিনিট খানিক ভাবনার ভিতরেই গোদামের বড় গেট ধুম শব্দ করে খুলে গেলো । এমন শব্দে নুবার কান বাজতে লাগলো পাশ ঘুরে তাকাতেই চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো তার।মুখ ফুটে কয় একটা শব্দ বেড় হয়ে আসলো _
_”আয়রার পাপা।”
বাস আর কে ধরে রাখে নুবাকে!মুখে হাসি ফুটে উঠলো তার,আয়রাকে নিয়ে কোনো মতে উঠৈ দাঁড়ালো নুবা মুখ দিয়ে শব্দ বের করে ছুটে যেতে লাগলো আরহামের কাছে। সাগর,হাবিব আর বাকি সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো তারা থতমত খেএ এগিয়ে যেতে লাগলো _
ছন্নছাড়া আরহাম বউ বাচ্চাকে কাছে পেয়ে আরো ছটফট করে উঠলো।অনাবরতো নুবা আর আয়রার মুখে চুমু খেলো।এতো সময় পর বাবাকে পেয়ে আয়রা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে ফেললো।এক হাত দিয়ে আয়রাকে ধরে অন্য হাত দিয়ে নুবাকে বুকে জরিয়ে মাথায় চুমু খেলো বিচলিত কন্ঠে বললো
_” কিছু করিনি তো জান।হুম, কিছু করেছে।”
নুবা নিজের প্রান প্রিয় স্বামীকে পেয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো,আরহামকে জরিয়ে ধরে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো,
_ “বাবুকে খাওয়াতে দেয়নি, আমাকে মেরেছে,আয়ারকে আছার মারতে চেয়েছে ধমকেছে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে আয়রার পাপা।”
বলেই থামলো নুবা মাথা ঘুরিয়ে সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিলো।এবার সবকয়টাকে দুলাই দিবে আরহাম।নুবা আর একটু মশলা দেওয়ার জন্য ভাঙ্গা কন্ঠে বললো_
_”আ,, আমার হাত পা বেঁধে রেখেছিলো, অনেক অনেক খারাপ কথা বলেছে।”
বলেই গুনগুন করে কাদলো নুবা, আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_”থাপ্পর কে মেরেছে।”
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে হাত লম্বা করে সাগরের দিকে আঙ্গুল ত্যাগ করলো, আরহাম smirk করলো পরপর বলে উঠলো
_” তুই কি চাস sweet honey?কি শাস্তি দিবো ওদের।”
নুবা ড্যাবড্যাব করে ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকালো।
বড়োই বুদ্ধিমান আরহাম,সে কেনো ফিল্মের হিরো না যে ৫/৬ জন অস্ত্র ধারী মানুষের সাথে পাঙ্গা লড়ৈ বউ বাচ্চা বাঁচাবে!এতে করে নুবা আর আয়রার ক্ষতি হতে পারে,নাবিল ভেবেছিলো আরহাম এসে তার পা ধরে কাগজে সাইন করবে তার বউ বাচ্চা বাঁচানোর জন্য তবে উল্টোটা। আরহাম যে এতো চালাকি করবে তার ধারনার বাইরে ছিলো।
নাবিলকে হাত-পা মুখ বেধে রাখা হয়েছে ফেলে রাখা হয়েছে,নাবিলের জ্ঞান আছে ঠিকি তবে আফসোস সব ঝাঁপসা দেখছে সে নাবিল টের পাচ্ছে আরহাম তাকে ড্রাগস দিয়েছে যার ফলে সে নড়ার শক্তি টুকু পাচ্ছে না,এই পর্যন্ত এসেছে সে নাবিলের মুখের কথায় দুই এক ঘা দেওয়ার পর নেশার ঘড়ে পটপট করে সব কিছু বলে দিয়েছে নাবিল আপাতত তাকে বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে গাড়িতে সামান্য ভিডিও ফুটেজ নিয়ে নিয়ে এই পর্যন্ত এসেছে বুদ্ধিমান আরহাম অবশ্য ওই বাড়ি থেকে নাবিলকে তুলে আনা সহজ ছিলো না কারণ ইমন সহ বাড়ির পুরুষ সব বেড় হয়ে আসছিলো তবে এর আগে সুঁই মেরে পুঁই করে দিয়েছে নাবিলকে অতঃপর সবার সামনে থেকেই তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।
নাবিলদের বাড়ির অবস্থা নাজেহাল,কে এই ছেলে যে তাদের চোখের সামনে থেকে তাদেরি বড় সু পুত্র কে উঠিয়ে নিয়ে গেলো।কার এরকম সাহস হয়েছে? যেহেতু তারা এই ব্যপারে কিছুই জানে না আর না জব্বার খান আরহামকে চিনেনা তাই সবাই হতভম্ব হয়ে গেছে।
গোদামে থাকা ৬/৭ টা লোক সবাই নিশ্চুপ।আর নিশ্চুপ থাকবেই বা না কেন সামনে দাড়ানো লোকটা যে তাদেরি boss কে আঁটকে রেখে মুখ দিয়ে টু শব্দ করলে নাবিল শেষ হবে কথা টুকু তাদের কানে বাঁধছে।
আরহাম সাগরের সামনে এসে শান্ত কন্ঠে বললো,
_”মাথা নিচু কর।”
সাগর নাবিলকে নিয়ে ভয়ে থাকলেও মৃদু কন্ঠে বললো
_”একদম ভালো করেন নাই আপনে আমগো boss কিন্তু ,,,”
বাকি কথা বলার আগেই আরহাম শক্ত হাতের থাপ্পর বসিয়ে দিলো সাগরের গালে পরপর ঘাড় চেপে ধরে বললো,
_”জিভ টেনে ছিরে ফেলবো। যা বলছি তাই কর।”
সাগর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মাথা নিচু করলো, আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_” নেও honey, do whatever you want with him”
নুবা ভুরু নাচিয়ে সাগরের দিকে তাকিয়ে ঠাস করে একটা চর বসিয়ে দিলো। ছোট্ট হাতের মারে সাগরের গাল জ্বলে উঠলো লাল লাল চোখে নুবার দিকে তাকালো।তা দেখে নুবা দুই আঙ্গুল উঁচু করে সাগরকে শাসিয়ে বললো
_”চোখ দুটো উঠিয়ে ফেলবো তোর।”
বলেই ঠাস ঠাস করে এলোপাথাড়ি সাগরের ইচ্ছা মতো মারলো যতসময় পর্যন্ত নুবার মন না ভরলো।পরপর নুবা হাবিবের দিকে তাকিয়ে বললো
_”এটা আমার মেয়েকে ফেলে দিতে চেয়েছিলো।”
আরহাম শার্টের হাতা গুটিয়ে এগিয়ে গেলো.যেয়েই হাবিবের চুল গুলো টেনে ধরে ঘুষি লাগিয়ে দিলো তার পেটে , আরহামের হাতের এক ঘুষি খেএ হাবিবের মুখ দিয়ে লালা বেড় হয়ে আসলো, ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো সে, আরহাম নাবিলের চুল ধরে ঘুরিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
_ “আমার মেয়েকে ফেলে দিবি হ্যাঁ।”
হাবিব মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”আরে না ভাই,এতো সুন্দর পোলাপাইন ফালায় দিবো?ওইডাতো মজা করছিলাম।”
_”মজা করছিলি।”
বলেই হাবিবকে ঝুঁকিয়ে তার পিঠে কনি দিয়ে এক ঘা দিলো।হাবিবের মুখের রং বদলে গেলো আজ পর্যন্ত এই ধান্দায় ডোকার পর থেকে কেউ এভাবে তাকে মারেনি,
আরহামের কথায় সব কয়টা চামচা নুবার সামনে মাথা নিচু করে বসলো।নুবা প্রচন্ড খুশি হয়ে গেলো তার মনে হচ্ছে আরহামকে বিয়ে করায় তার সাহস একটু বেড়েছে।বাড়বেই না কেন জামাই যদি গুন্ডা হয় বউ তো গুন্ডি হবেই।
মাথা নিচু করে বসে থাকা সব কয়টাকে নুবা এক এক করে থাবা মারলো পরপর তার যা ইচ্ছা হলো তাই করলো।কখনো থাপ্পর মারলো বা কখনো দুই হাত দিয়ে চুল টেনে ছিরে আনলো।মাঝে মাঝে আয়রার ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়েই সবকয়টাকে এলোপাথাড়ি থাপ্পর মারলো এই সব কান্ড আরহামের প্রচন্ড এনজয় করলো।
মা মেয়ে মিলে যা ইচ্ছা তাই করছে,এতো সময় এখানে আটকে রাখার শাস্তি দিচ্ছে তারা আর আরহাম ফুল দমে সাপোর্ট করছে।কেউ কিছু বলতেই পারছে না কারণ নাবিল আরহামের কব্জায়
আধ ঘন্টা খানিক ওদের সাথে অত্যাচার করে নুবা হাঁপিয়ে উঠলো পাশে খড়ি (চলা) রাখা ছিলো তা দিয়ে দিলো এক একটাকে বারি,নুবার হাতের বারি খেএ সব কয়টা বিচ্ছুর মতো পিটপিট করে উঠলো।নুবা শান্তির হাসি হেসে হাত থেকে চলা ফেলে দিয়ে দুই হাত উঁচু করে বললো,
_”শেষ, ahh শান্তি।এদের ধুলাই করার জন্য আমার হাতটা চুলকাচ্ছিলো।”
নুবার মুখে প্রশান্তির হাসি দেখে আরহামের মনে এক অদ্ভুত স্বস্তি নেমে এলো। মনে হলো, এতদি সময়ের সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটেছে এই এক চিলতে হাসিতেই। সেই শান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে তার ঠোঁটের কোণেও অজান্তেই তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।
নুবা এগিয়ে এসে আরহামকে জরিয়ে ধরলো। আরহাম তার মিনি হাতির দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে বললো।
_”তুমি satisfied তো?”
নুবা এক গাল হেসে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ “হুম অনেক।”
বলেই আরহামের বুকে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,পরপর আরহামের দিকে মাথা তুলে তাকালো আরহাম এগিয়ে এসে গভীর ভাবে নুবার অধর ছুঁয়ে দিতে লাগলো,জমিনে চলার বারি খেএ কেলিয়া থাকা সাগর টিপটিপ করে সেদিকে তাকালো। আরহাম আর নুবার romantic মূহুর্ত দেখে সাগরের চোখ তিরতির করে উঠলো।আজ পর্যন্ত এই ধান্দার কারনে বিয়ে সাদি করলো না সে এমন কি একটা gf ও নেই তার ফল স্বরুপ এখন লোকের চুমু খাওয়া দেখতে হচ্ছে।নিজে কখনো খেতে পারুক আর না পারুক।
আরহাম চেয়ার টেনে কান্ত ভঙ্গিতে বসলো পরপর নুবাকে টেনে এক পায়ের উপর বসিয়ে কমড় পেঁচিয়ে ধরলো নুবা মিটমিট করে রাঙ্গা হাসি দিলো।
আরহাম হাতে থাকা বন্দুক দুলিয়ে হাবিবকে কাছে ডাকলো।হাবিব মুখ কালো করে কান্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসলো। আরহাম আয়রার দিকে তাকিয়ে বললো
_” ওকে কোলে নিয়ে সুন্দর করে ঘুম পাড়িয়ে দিবি।”
হাবিব ছোট্ট আয়রার দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো
_” ভাই আমি ধান্দা করি, পোলাপাইন পালি না।ওগোরে কেমনে ঘুম পাড়ায় আমি জানি না।”
আরহাম তেতে উঠলো পরপর হাবিবিরের পায়ের দিকে সুট করলো,হাবিব লাফিয়ে উঠলো এরা চাইলে আরহামের কথার নড়চড় করতে পারে তবে এরা নিবিলের খুবি বিশ্বস্ত যার ফলে চুপচাপ সব সহ্য করছে।
আরহাম কর্কশ কন্ঠে বললো
_” তুই বাচ্চাদের ফেলে দিতে পারিস কিন্তু কোলে রাখতে পারিস না তা কেমনে হবে। তাড়াতাড়ি ওকে কোলে নে।না হলে next গুলিটা তোর পাছায় লাগবে।”
আরহামের কথায় নুবা মুখ টিপে খিলখিল করে হেসে উঠলো।হাবিব কাঁদো কাঁদো মুখ করে এগিয়ে এসে আয়ারকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।হাবিবের মুখটা দেখেই আয়রা ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো।
আয়রাকে কাঁদতে দেখে আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_’ওকে ঠান্ডা কর না হলে তোর গলা থেকে মাথা আলাদা করে দিবো সাথে তোর Boss এরো।”
হাবিব আয়ারাকে কিছুটা দুলিয়ে অশান্ত কন্ঠে বললো
_ “কে,, কেমনে থামায়,পারি না তো।”
নুবা আঙ্গুল দিয়ে শাশিয়ে বললো
_”পারবি না কেন,থামাতেই হবে,থামা না হলে চুলের মুঠি ধরে দেওয়ালে ঢুয়া মারবো।”
হাবিব মেয়ে মানুষের মতো বিরবির করতে লাগলো তা দেখে আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_” তাড়াতাড়ি থামা না হলে চলতে থাকা মুখ ভেঙ্গে দিবো।”
হাবিব কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ “আমার মা লক্ষ্মী টিয়া চুপ কর,চুপ চুপ।”
নুবা হাবিবের দিকে তাকিয়ে বললো
_”ধমকাচ্ছে।”
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”ধমকাচ্ছিস তবে রে।”
বলেই নুবাকে সরিয়ে উঠতে লাগলো আরহাম হাবিব পিছিয়ে যেএ বললো
_”না তো ভাই,ধমকাই না।”
অতঃপর আরহাম কিছুটা সময় নিয়ে সব কয়টাকে কান ধরে উঠ বস করানো সহ cupola ডান্স ও করালো।নুবা পুরো বিষয়টা অনেক এনজয় করলো।
এর ভিতরে আরহাম আর একবার নুবাকে চুমু খেলো,সময় নিয়ে আরহাম নুবাকে ছেড়লো সবাই ড্যাবড্যাব করে শুধু তাকিয়ে দেখলো,আরহাম তার এক হাত নুবার গালে রেখে একদম আদুরে কন্ঠে বললো
_” আপনি আয়ারকে নিয়ে গাড়িতে যেএ বসেন আমি আসছি।”
নুবা আয়ারকে কোলে নিয়ে ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটিয়ে বললো
_ “আচ্ছা তাড়াতাড়ি আসেন।”
_”হুম, আমার little sweet honey কে নিয়ে গাড়িতেই থাকবে বেড় হবে না ওকে sweetheart.”
নুবা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইল। আরহামের মুখে নিজের জন্য এত স্নেহভরা, মায়ামাখা সম্বোধন শুনে তার বুকের ভেতরটা উষ্ণতায় ভরে উঠল। মনে হলো, সেই ডাকের প্রতিটি শব্দ যেন আলতো করে তার হৃদয় ছুঁয়ে গেলো ।
অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে এক প্রশান্ত, লাজুক হাসি ফুটে উঠল। আরহাম বিয়ের পর থেকে কত সুন্দর সুন্দর নামে ডাকে শুনলেই নুবার প্রান জুরিয়ে যায়,এই মানুষটার যত্নের গভীরতা অনুভব করে নুবার প্রাণটা এক অদ্ভুত শান্তিতে জুড়িয়ে গেল।
নুবাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরহাম এগিয়ে এসে আবারো আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে বললো
_”go”
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে মেয়েকে নিয়ে বেড় হয়ে গেলো,এতো সময় সবাই তাদের এরকম মূহুর্ত দেখে হা হয়ে তাকিয়ে ছিলো।কি সুন্দর এমন একটা পরিস্থিতিতে জামাই বউ মিলে romance করছে বাআ বাআ!
নুবা যেতে আরহামের মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন হলো এতো সময় শান্তিতে হাসা আরহামের কপালের রগ ফুলে উঠলো।সে বরাবরই চায় তার স্ত্রী সন্তানের কাছে একটু ভালো থাকতে।তবে মনে হয় না এই হারামজাদারা ঠিক থাকতে দিতো তাই তো কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া নাবিলের উপর হাত মারলো সে সাথে বউ কে দিয়ে সবকয়টাকে পিটালো।
আরহাম শার্টের হাতা গুটিয়ে নিলো।একটু এগিয়ে যেএ ঝুকে পড়ে থাকা চলা হাতে তুলে নিলো পরপর বাম হাত দিয়ে মাথার চুল থেকে কেমন গর্জে উঠে বললো,
_” আমার কলিজায় আঘাত করিস, আমার বউ এর গায়ে,,,,,,
বাকি টুকু শেষ করলো না আরহাম ।পরে থাকা সাগরেরকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করলো,আরহামের ধারনা নুবার কাঁচা হাতের মারে কিছুই হয়নি এদের এবার আসল কেলানি খাবে এরা
সাগর কাচা চলা দিয়ে বারি খেএ ছটফট করে উঠলো গা ফেটে রক্ত বেড় হয়ে আসলো।সাগরের মার দেখে সব কয়টা ভয় পেয়ে গেলো তবে ২/৩ জন সাহসী চামচা এগিয়ে আসলো আরহামকে মারার জন্য তবে আফসোস চলা দিয়ে তাদেরো বারি শুরু করলো। এরকম মার খেএ ১ এক জন গোদামের বাইরে বেড় হতে চাইলো তবে আরহাম তার পা বরাবর চলা ছুরে মেরে বললো
_” এখান থেকে বেড় হলে জান কবজ করে নিবো।”
আজহামের গর্জে উঠা হুমকিতে ছেলেটা এক বারি খেএ ওখানেই লুটিয়ে পড়লো,,
মাত্র মিনিটের ভিতরে সব কয়টাকে আরহাম মাটিতে শুইয়ে ফেললো ২ জন এগিয়ে এসে আরহামের পা ধরে আকুতি করে বললো
_”ভাই আর মারবেন না,আমগো ভুল হইয়া গেছে ,আমরা ভুল জইগায় হাত দিয়া হালাইছি,আমগো মাফ কইরা দেন।”
আরহাম ছাড়লো না তাদের আরো দুটো ঘা দিয়ে বললো
_”আমার বাড়িতে এসে আমার বউ বাচ্চাকে উঠিয়ে আনার আগে তোদের খোঁজ নেওয়া উচিত ছিলো তাদের গার্ডিয়ান কেমন বা কে।”
গাড়িতে বসে ছিলো নুবা কয় এক মূহুর্ত পরেই আরহাম সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে বাইরে আসলো তবে নুবার নাকে পৌঁছে গেলো কিছু পোড়ার গন্ধ নুবা ভালো মতো গাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো গোদাম থেকে ধুঁয়া বেড় হচ্ছে।নুবার ভুরু কুঁচকে গেলো আরহাম এগিয়ে এসে নুবাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আদুরে কন্ঠে বললো
_” গাড়ির জানালা বন্ধ করে আরো ২ মিনিট অপেক্ষা করো,আমি আসছি।”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে গাড়ির জানালা লক করে দিলো, আরহাম হাত থেকে সিগারেট ফেলে পকেট থেকে বন্ধুক বেড় করতে করতে গাড়ির পিছন দিকে এগিয়ে গেলো,,
সাগর নিজের ডান হাত ধরে গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করছে,হাতে গুনে গুনে ২ টা গলি চালিয়ে রেখে গেছে আরহাম আর হুমকি দিয়ে গেছে”
_”আমার পরিবারের দিকে তাকানো তো দূরের কথা তাদের আঘাত করার চিন্তা করলেও next time গুলিটা তোর মাথায় চলবে mind it.”
হাবিবের মুখ আর ঠোঁট ভেঙ্গে রেখে গেছে আরহাম কত বড় সাহস তার মেয়েকে ধমক দেয় ফেলে দেওয়ার কথা বলে।ধরতে গেলে সব কয়টাকে এভাবে পিটিয়েছে যে উঠে দাঁড়াতে পারবে না।এটাও যেনো আরহামের শান্তি হয়নি, সিগারেটের আগুন দিয়ে খড়ের পুরো গোদামে আগুন ধরিয়ে বড় দরজাটা আটকে রেখে গেছে,যদি ওরা ওখান থেকে উঠে পায়ে হেঁটে বেড় হতে পারে তবে জানে বেঁচে যাবে আর না হতে পারলে কালকে সকালের barking News আসবে
_” barking News ,কাল বিকাল দিকে এমপি জব্বার খানের খড়ের গোদামে আগুন লেগে ৬/৭ জন কর্মচারী প্রান হারিয়েছে।”
আরহাম জানে এই গোদামে অবশ্যই ভালো কিছু হয় না তাই জব্বার খান কানোই এই বিষয় নিয়ে তদন্ত করতে দিবে না তাই এটা শুধুই একটা অনাকাঙ্ক্ষিত আগুন লেগে পুরে যাওয়ার ঘটনা হয়ে যাবে
ডিক্কি থেকে নাবিলের বেঁধে রাখা অর্ধ জ্ঞান শূন্য বডিকে মাটিতে ফেললো আরহাম পরপর বন্ধুক নাবিলের দিকে ত্যাগ করে অশান্ত কন্ঠে সুধালো
_” আমি গা”না থেকে Knife চালাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তবু তোর জন্য।”
বলতে বলতে নাবিলের বুকে ডান পা দিয়ে পারা দিলো আরহাম নাবিল ঝাঁপসা চোখে তাকালো তবে মনে মনে হাসতে ভুললো না সে প্রথম বার এরকম কোনো মানুষের পাল্লায় পড়েছে সে তবে মজা লাগছে টক্করের মানুষের সাথে খেলতে ভালোই লাগে।
আরহাম কিছু সময় নাবিলের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে পা দিয়ে এদিক থেকে ওদিক ঘুরছি বললো
_” তোর মতো ভীতুর জন্য একটা গুলিই যথেষ্ট ”
বলতে বলতে নাবিলের পেট বরাবর সুট করে দিলো আরহাম। সাথে সাথে গলগল করে উষ্ণ রক্ত বেড় হয়ে আসলো পেট থেকে, কেঁপে উঠলো নাবিল মুখ বেয়ে রক্ত পড়লো তার তবু সে চেয়ে রইলো আরহামের দিকে। আরহাম বন্দুকের মাথায় ফুঁ দিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_”বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে ডুড।”
বলেই বন্দুক পকেটে পুরে গাড়িতে যেএ বসলো আরহাম,গাড়ির ভিতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পেলো না নুবা সে তো মেয়েকে ফিড করাতে ব্যস্ত, আরহাম গাড়ি বসেই এগিয়ে এসে মা মেয়ের গালে চুমু খেলো।বুকটা তার শান্ত হয়েছে বউ বাচ্চাকে সহিসালামত দেখে তবে তার কাছে এখনো মনে হচ্ছে এদের শিক্ষা একটু কম হয়ে গেছে।
আরহামের এরকম আদুরে ব্যবহার দেখে নুবা এক গাল হাসলো।যেনো তার কোনো ভয় নেই কারণ তার স্বামী তার পাশে আছে সবসময়।
আরহাম গাড়ি stared দিলো কিছুটা দূর যেতেই নুবা গুনগুন করে গেয়ে উঠলো
_Hai koi parwana yahaan Jo jaan pe apni khelega
Aashiqui mein hoke fana Baahon mein Shama ko le lega
নুবা গানের লাইন শেষ করে উম উম শব্দ তুললো,আজ একটু বেশিই খুশি লাগছে তার, কত সুন্দর করে আরহাম এন্টি নিলো just wow,তার তো সুখ সুখ লাগছে এমন একটা জামাই পেয়ে,
নুবার গানের লাইন শেষ হতেই আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে নিজেও গানের শুরু তুলে গাইতে লাগলো
_ Kitni haseenon pe Kitni dafa yeh dola
Phir bhi faqeeron ka Pehne huye hai chola
Ittar ki sheeshi hai Jahaan bhi khul jaaye, Hawa mein ghul jaaye Dil jogi da Har fan maula,
আরহাম কে তার সাথে তাল মিলাতে দেখে নুবা আরো খুশি হয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো দুই জামাই বউ মিলে গাড়িতে DJ পার্টি শুরু করে দিলো তার ভিতরে আয়রা একটু একটু শব্দ তুলে উঁহু উঁহু করলো,,,
সন্ধ্যার দিকে বউ বাচ্চা নিয়ে ফিরলো আরহাম তবে বাড়িতে ফিরে আশ্চর্য হলো কারণ বাড়িতে পুলিশের আনাগোনা।তারা বাড়িতে প্রমান খুঁজছে,মানে যেখানে আরহাম বউ বাচ্চা নিয়ে চলে এসেছে সেখানে পুলিশ মাত্র বাড়ি চেক করছে কোথা থেকে কিছু চুরি হলো কিনা,চোর এসেছিলো নাকি ডাকাত নাকি কিডন্যাপার।আবার জিগ্গেস করলে কারো সাথে কোনো শত্রুতা আছে কিনা,কি আশ্চর্য তাই না।পুলিশ এতো ঢিলা অবশ্য এভাবেই তারা যাচাই করে কাজের শুরু করে।
যখন হারুন মির্জা পুলিশের কথার উত্তর দিতে ব্যস্ত,বাড়ির মহিলারা মুখে আঁচল চেপে কাঁদতে মনোযোগী তখনি বাড়ির সদর দরজা ঠেলে আরহাম নুবা আর আয়ারকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো। লিভিং রুমে আসতেই সবাই চম্কে তাকালো তাদের দিকে।
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৭
নুবাকে দেখে হাজেরা,আমিনা বেগম সাথে আরশি আর ইশিতা প্রায় ছুটে আসলো।আরাফ ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো যে কি হচ্ছে এই সব, একটু আগে বললো বউ বাচ্চাকে পাচ্ছে না এখন আবার বউ বাচ্চা নিয়ে হাজির হয়েছে।হারুন মির্জা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন সাথে পুলিশ কর্মকর্তা।
হাজেরা এসে নুবাকে আঁকড়ে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠলো, আমিনা বেগম এসে ছোট্ট আয়ারকে কোলে নিয়ে বুকে আগলে নিলো কথায় আছে “যার যারটা তার তার””যারটা তার জন্যই জ্বলবে””
হাজেরা বেগম মেয়েকে ছেরে মেয়ের দুই গালে হাত দিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ তুই ঠিক আছিস তো কোথায় ছিলি,,
