ডেসটেনি পর্ব ৩৪
সুহাসিনি মিমি
বিকেলের শেষ ভাগ। বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ জোড়া আটকে রাখার ফলে মাথাটা কেমন টনটন করছে সেহরুজের। চোখ দুটো ভারি ভারি লাগছে। মাথাটাও কেমন জ্যাম হয়ে গেছে একদম। দুই আঙুলে কপালের দুই পাশটা ডলল কিছুক্ষণ। কড়া এক কাপ কফি না হলে এই ক্লান্তি কাটানো দায়!
ঝুমুর কে দিয়ে এক মগ ধোয়া উঠা কফি আনালো। কফির মগটা হাতে নিয়ে এসে দাঁড়াল বারান্দায়।
এখান থেকে বাগানটা বেশ চমৎকার দেখা যায়। রকমারি ফুলের গাছগুলোর একদম শেষ সীমানা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে মস্ত বড় একটা কাঠগোলাপ গাছ। পড়ন্ত বিকেলে কাঠগোলাপের মিষ্টি সুবাসে মনটা কিঞ্চিৎ হালকা হলো তার।
সেহরোজ কফির মগে আলতো চুমুক বসাচ্ছে। তৃতীয় নাম্বার চুমুকের মাথায় তার চোখ জোড়া সচকিত হলো। ভ্রু যুগল গুটিয়ে এলো তড়িৎ।কাঠগোলাপ গাছের ঠিক তলাটায় একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে। পরনে একটা হলদে রঙা কামিজ। পিঠময় ছড়িয়ে আছে মেঘবরণ লম্বা চুলগুলো। হাওয়ায় অবাধ্যের মতো উড়ছে তা। পরম যত্নে মেয়েটা ঝুঁকে ঝুঁকে ঘাস হতে টুপটাপ খসে পড়া কাঠগোলাপ কুড়াচ্ছে। একটু ভালো করে চাইতেই বুঝল মেয়েটা কে।
মেয়েটার কানের দু-পাশে অলরেডি দুটো ধবধবে সাদা কাঠগোলাপ গোঁজা।অপার্থিব সুন্দর লাগছে। তবে সেই সৌন্দর্য পেরিয়ে সেহরোজের নজর আটকালো অন্যদিকে।মেহরিণের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষ অবয়বটার ওপর!
ছেলেটা একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে। হাত নেড়ে নেড়ে অনর্গল কিছু একটা বলে চলেছে।মেয়েটা ফুল কুড়াতে কুড়াতেই বেশ হেসে হেসে, মাথা দুলিয়ে সেই কথার উত্তর দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, দুজন কত যুগের চেনা!
ভ্রু কুঁচকে গেল সেহরোজের।কফির মগটায় চতুর্থ নাম্বার চুমুকটা আর বসালো না। আরেকটু ঝুঁকে চোখ ছোটো ছোটো করে ভালোভাবে তাকাল ছেলেটার দিকে। কয়েক পল লক্ষ্য করতেই চিনতে পারল এবার।ছেলেটা তার কাজিন,সাফিন। এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ার!হস্টেলে থেকেই লেখাপড়া করে।একই শহরে তার খালার বাড়ি থাকলেও এ বাড়িতে খুব একটা আসেনা। মাঝেসাঝে আসলেও দুই-এক ঘন্টার ব্যবধানেই চলে যায়।
সেহরোজের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো আচমকা।
দূরত্বের কারণে ওদের মধ্যকার কথোপকথনগুলো শুনতে পেলোনা। তবে মেয়েটা যেই ধাচে ছেলেটার সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে তাতেই বুঝা যাচ্ছে দুজনের মধ্যে গাঢ় ভাব জমে গেছে ইতিমধ্যেই।
কেন জানি দৃশ্যটা এক ফোঁটাও পছন্দ হলো না তার। খিটমিটে মেজাজে বিড়বিড় করে উঠল আচমকা,
“অসভ্য, বাচাল মেয়ে একটা!”
বিড়বিড় করে চলে গেল ভিতরে। কফির মগটা পড়ে রইল রেলিংয়েরে ধারে।
লিভিং রুমের চওড়া সোফাটায় এসে বসেছে সেহরোজ। মেজাজটা এখনো খিটমিটে। টিভিতে চলছে জার্মান আর উরুগুয়েরে হাইলাইট ম্যাচ। ছোটবেলায় থেকেই ফুটবল প্রেমী সেহরোজ।কিভাবে কিভাবে যেন ডিফেন্সর সঙ্গে জড়িয়ে গেল জীবনটা। সময়ের অভাবে এখন আর এসব দেখা হয়না। তবে আজ এসে বসল। সামনেই বড় এলেইডি টিভিটা চলছে।
সাফিন আর মেহরিণ ঢুকল তখুনি। মেয়েটার ওড়নায় এক গাদা কাঠগোলাপ।সেহরোজ আড় চোখে একবার তাকাল। পরপর চোখ নামিয়ে ফেলল ত্রস্ত।সাফিন খেয়াল করেনি ভাইকে। কথা বলাতে ব্যস্ত সে। ভিতরে আসতে আসতে মেহরিণ কে বলছে,
“এগুলো দিয়ে কয়টা মালা হবে?আজকের মধ্যেই পারবে তো? রাত হয়ে গেলে কিন্ত ছবি সুন্দর আসবে না।”
মেহরিণ হাঁটতে হাটতেই উত্তর দিল,
“এসব আমার বা হাতের খেল। যাবো, বসব, আর উঠব।”
“কখন এসেছিস তুই?”
আচমকা সেহরোজের কণ্ঠে ভড়কে যায় সাফিন। চোখ ঘুরিয়ে তাকায় ভাইয়ের দিকে। এমনিতে এ বাড়িতে থাকার সময়সীমা দুই ঘন্টা হলেও সেহরোজ আছে শুনলে সেটা দাঁড়ায় মাত্র দু মিনিটে। মেহরিণ সেহরোজ কে দেখেও না দেখার ভান করে উপরে চলে গেল। দাঁড়িয়ে পড়ল সাফিন। উত্তর দিলো নিচু স্বরে,
“এইতো ভাইয়া একটু আগেই!কেমন আছো তুমি?”
শেষের প্রশ্নটার উত্তর দিলোনা সেহরোজ। উল্টো প্রশ্ন ছুড়ল,
“পড়াশোনা কেমন চলছে তোর? শুনলাম বই-খাতার ছুঁয়েও দেখিস না।পড়াশোনায় নাকি ভীষণ অনীহা তোর?”
সাফিন শুকনো হেসে মাথা চুলকাল। সেহরোজ কে সে বাঘের মতো ভয় পায়। দমে গিয়ে বলল,
“না ভাইয়া। কে বলল তোমাকে ? পড়াশোনা তো চলছে আলহামদুলিল্লাহ ভালো।”
“ভালোটা যেন শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রেজাল্টেও যেন সেটা দেখা যায়।”
বড্ড নিস্পৃহ গলায় বলল সেহরোজ।এরপর টুকিটাকি বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে আরো কিছুক্ষনে কথাবার্তা চলল। সেহরোজ শুধু প্রশ্নই করে গেল।তখুনি নেমে এলো মেহরিণ। দুই হাতে সুন্দর করে কাঠগোলাপের মালা পড়েছে সে। মেহরিণ কে দেখে আগেভাগেই উঠে দাঁড়াল সাফিন। ডেকে বলল,
“এদিকে এসো। ঐদিকটায় গিয়ে বসো। আমি তুলে দিচ্ছি।”
মেহরিণের সরল মন স্বতঃস্ফূর্ত রূপ নিল তক্ষুনি। সাফিনের রসালো কথায় গলে গিয়ে সত্যি সত্যিই ওদিকটায় গিয়ে বসল সে। দুপুরের দিকেই সাফিনের সাথে পরিচয় হয়েছে ওর।সেহরোজ এর খালা মাঝেমধ্যেই এটা-সেটা দিয়ে সাফিন কে এই বাড়িতে পাঠান। তবে কখনো বেশিক্ষণ থাকে না। কাজ সেরেই চলে যায়। কিন্তু আজ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল। যাওয়ার নাম নেই!
সাফিনের এতক্ষণ যাবৎ এই বাড়িতে ঘাঁটি গেড়ে থাকাটা কোনোভাবেই হজম করতে পারছিল না সেহরোজ। মেয়েটা এই অল্প সময়ের মাঝেই সাফিনের সাথে এতটা ইজিলি ফ্রি হয়ে গেল কীভাবে? কই তাকে দেখলে যে বিড়াল ছানার মতো গুটিয়ে থাকে।এখন অন্য একটা ছেলের সামনে অমন ঘুরঘুর করছে, হাসছে!এদের দুজনের হাসাহাসি একদমই সহ্য হলোনা তার।
হুট করেই হাতের রিমোটটা সেন্টার টেবিলে আছাড় মেরে রাখল সেহরোজ। সেদিকে চেয়ে কড়া গলায় ধমকে উঠল,
“সাফিন! যা করার বাইরে গিয়ে কর। এখানে দাঁড়িয়ে অনর্গল বাচালতা করিস না তো! ম্যাচ দেখায় ডিসটার্ব হচ্ছে আমার।জাস্ট গেট আউট ফ্রম হেয়ার!”
বজ্রকঠিন গর্জনে সাফিন, মেহরিণ দুজনেই একসাথে চমকে উঠল। মেহরিণ এর কানের কাঠগোলাপটা বুঝি খসে পড়ল ভয়েই। রান্নাঘর থেকে বোনের ছেলের জন্য পায়েশের বাটি নিয়ে এলেন সুমি। ছেলের এমন অহেতুক চণ্ডাল রূপ দেখ সোফার দিকে এগিয়ে এসে ছেলের উদ্দেশ্যে বেশ চড়া গলায় বললেন,
“কী শুরু করেছিস বল তো বাবু? কথায় কথায় এভাবে ধমকাচ্ছিস কেন ওদের? ছেলেটা কতদিন পর এই বাড়িতে এলো। একটু শান্তিতে দুটো কথা বলবে তা না! তোর ওই খটমটে অফিসিয়াল মেজাজটা কি সবসময় বাড়িতেও দেখাতে হবে?”
সাফিন খালার কথায় একটু সাহস পেল।সেহরোজের দিকে আড়চোখে চেয়ে শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“না খালামনি। আসলে ভাইয়া বলছিল ম্যাচ দেখায় ডিস্টার্ব হচ্ছে।আমরা বরণ লনের দিকে যাই তাহলে?”
“ওখানে যাবি কেন? অন্ধকার হয়ে গেছে না বাইরে? এখানেই বোস তোরা।”
বলতে বলতে পায়েশের বাটিটা ধরিয়ে দিলেন সাফিনের হাতে। ভয়ে ভয়ে সেহরোজের দিকে একবার তাকিয়ে সেটা নিয়ে বসল সোফায়। ছেলেকে ডাকলেন তখন সুমি,
“পায়েশ খাবি বাবু?”
“আমি মিষ্টি খাইনা জানোনা?”
মায়ের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে টিভির স্ক্রিনে চোখ আটকালো সেহরোজ।
“অন্য কিছু খাবি? বানিয়ে দিতে বলব?”
সেহরোজ মেহরিন এর দিকে আড় চোখ তাকিয়ে উত্তর করল,
“নাহ!”
এগিয়ে আসলেন সুমি বেগম। সোফার হাতলে হাত রেখে প্রসন্ন হেসে শুধালেন,
“আচ্ছা বাবু তুই কি সন্ধ্যার দিকে একটু ফ্রি আছিস?”
“কেন?”
“বলছিলাম একটু মার্কেটে যেতে হতো। মেয়েটার জন্য ভালো কিছু কেনাকাটাই করা হলো না। ভাবলাম আজ সন্ধ্যায় তোকে সাথে নিয়ে ওকে একটু শপিং করাতে বের হব। তুই সাথে থাকলে ভালো হতো।”
মেহরিণ কে শপিং করাতে নিয়ে যাওয়ার কথাটা কান অব্দি পৌঁছাতেই সেহরোজ রিমোট টা তুলে নিলো হাতে। টিভির স্ক্রিনে চোখ আটকে রেখে সরাসরি মুখের ওপর বলে দিলো,
“এসব আওল ফাওল জিনিসের জন্য সময় নেই আমার হাতে।”
ছেলের এমন চটজলদি রূঢ় প্রত্যাখ্যান শুনে ভদ্রমহিলা ভীষণ কষ্ট পেলেন। ওনার মুখটা মলিন হয়ে গেল। অসহায় কণ্ঠে বললেন,
“তোর কাছে সবসময়ই সময়ের অভাব, বাবু! বাড়ির ড্রাইভারটাও তো আজই গ্রামে গেল ছুটিতে। নাহলে তো ওকে নিয়েই যেতাম।”
“আরে খালামনি! তুমি এত টেনশন করছ কেন? ড্রাইভার নেই তো কী হয়েছে। এই অধম সাফিন তো এখনো বেঁচে আছে! আমি যাব তোমাদের সাথে। কোনো চিন্তা নেই।”
সুমি বেগম একটু অবাক হয়ে তাকালেন সাফিনের দিকে। খুশিতে ওনার চোখ দুটো চকচক করে উঠল। জিজ্ঞেস করলেন,
“তুই যাবি? কিন্তু তুই তো কাজ শেষেই হোস্টেলে ফিরে যাস। আজ রাতে থাকবি নাকি এ বাড়িতে?”
“কেন খালামনি? তোমাদের এই মস্ত বড় বাড়িতে কি আমার থাকার মতো একটা রুম হবে না?”
সুমি বেগম আহ্লাদে গদগদ হয়ে বললেন,
“কী বলছিস! রুম হবে না কেন? তুই থাকলে আমার মতো খুশি আর কেউ হবেনা।তুই তো নিজে থেকে কখনো থাকতে চাস না। আজ যখন বলছিস—তখন রাতে তোর পছন্দের সব রান্না করব।”
অমনি ধুম করে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সেহরোজ। গর্জন তুলে সিঁড়ি ধরে যেতে যেতে বিড়বিরালো,
“পোল্ট্রি ফার্মের বাচাল একেকটা একটা! যত সব সস্তা আদিখ্যেতা!”
উচ্চারণটা বড্ড তিতকুটে শোনাল। সুমি বেগম কিছু বলার আগেই শেহেরুজ ধপধপ করে পা ফেলে চলে গেল। সাফিন বলল,
“ভাই এভাবে রেগে আছে কেন খালামনি?”
“বাদ দেতো এর কথা। তুই বরং পায়েশ টা খা। আরেকটু এনে দিবো?”
গতকাল থেকে ভীষণ ব্যস্ততায় সময় পার করছে তাজধীর। ‘অপারেশন ব্লু কারেন্ট’-এর পুরো দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। কিছু কারণবশত সময় পিছিয়ে নেয়া হয়েছিলো। নির্ধারিত সময়ের ঠিক বারো ঘণ্টা আগেই নেভাল বেইজের সিক্রেট ডকইয়ার্ড থেকে নিঃশব্দে ভেসে চলল দুটো বিশেষ সাজে সজ্জিত ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট (FAC)। বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ মাছ ধরা ট্রলারের মতো মনে হলেও, ভেতরের প্রযুক্তি আর অস্ত্রশস্ত্র আন্তর্জাতিকমানের। দিনের বঙ্গোপসাগর উন্মুক্ত, বড্ড বিপজ্জনক। নীল সমুদ্রের জলের বুকে গর্জে উঠছে নোনা হাওয়ার ঝাপটা।
তাজধীরের পরনে অল-ব্ল্যাক ট্যাকটিক্যাল কমব্যাট গিয়ার। বুকে হাই-টেক নেভিগেশন ডিভাইস। হাতে ক্রুশিয়াল স্যাটেলাইট রেডিও। ওর ডান পাশে দাঁড়িয়ে অর্ণব। আর বাঁ পাশে ফাহিম। বোট দুটো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের গভীর চ্যানেলের মাউথের কাছাকাছি এসে যখন পৌঁছাল, তখন সময় আনুমানিক চারটা। সমুদ্রের আন্ডারওয়াটার কারেন্ট বা স্রোতের তীব্রতা এখন শিখরে। থিওরি অনুযায়ী চোরাকারবারিদের সোয়াচ অতিক্রম করার এটাই পারফেক্ট টাইমিং।
ক্রাফটের ইঞ্জিন পুরো সাইলেন্ট মোডে নিয়ে আসা হলো। সবাই নিজের পজিশনে শতভাগ রেডি। অর্ণব দূরে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে নিম্মস্বরে বলল,
“তাজধীর, স্যাটেলাইট ফ্রিজ ম্যাপ বলছে সামনেই কারেন্টের গতিপথ ধরে ওদের দুটি সেমি-সাবমার্সিবল ভেসে ওঠার কথা। অলমোস্ট জিরো আওয়ার! কমান্ড দে, আমরা তিন দিক থেকে লক করি।”
ফাহিমও সাবমেরিন ট্র্যাকার অন করে উত্তেজিত কণ্ঠে বলল,
“হুম, রেডিও ওয়েভে অল্প কিছু অ্যানোমালিও ডিটেক্ট হয়েছে। ওরা ঠিক সীমানার ভেতরে ঢুকছে তাজধীর! লেটস চার্জ!”
পুরো দল অ্যাটাক নেওয়ার জন্য আঙুল সেফটি ক্যাচে রেখে কমান্ডারের আদেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।তবে নীরব তাজধীর। ক্রাফটের সামনের রেলিং ধরে সোজা হয়ে দাঁড়াল সে। চশমাটা খুলে সোজাসুজি নিজের তীক্ষ্ণ নজরটা ছড়িয়ে দিল বিস্তীর্ণ ওই জলরাশির বুকে। ওর চতুর মস্তিস্কটা দ্রুত গতিতে হিসাব-নিকাশ খাটতে লাগল।
তাজধীরের ডান হাতের আঙুল দুটো ট্রলারের কাঠের রেলিংয়ে মৃদু তালে ড্রামিং করছে। যখনি ওর মস্তিস্ক সাধারণ সীমানা ছাড়িয়ে হাজার মাইল গভীরে কিছু অনুধাবন করে তখনই আঙুল দুটো এমন তাল তোলে।আচমকা তাজধীর হাতের রেডিও সেটটা তুলে গলার রগ ফুলিয়ে বরফশীতল কণ্ঠে আদেশ জারি করল,
“অল ইউনিট, স্ট্যান্ড ডাউন! আই রিপিট, ফল ব্যাক ইমিডিয়েটলি! মিশন হোল্ড!”
পুরো টিম বিস্ময়ে হতবাক! অর্ণব ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাজধীরের দিকে ঘাড় ফেরাল।বড্ড অবিশ্বাসে বলল,
“হোয়াট? তাজধীর! তোর মাথা খারাপ নাকি? আর মাত্র দুই মিনিট! ওরা আমাদের রেঞ্জে চলে এসেছে। আর তুই মিশন অ্যাবোর্ট করছিস?”
ফাহিমও তড়িৎ গতিতে এগিয়ে এসে বিচলিত কণ্ঠে বলল,
“তাজধীর! প্রজেক্টরের অল ডেটা, ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট, এমনকি খুরশিদ স্যার পর্যন্ত এই ম্যাপে সাইন করেছেন। আমাদের সামনে এখন গোল্ডেন অপশন! তুই কেন আগাচ্ছিস না? মাঝপথে এভাবে গণ্ডগোল করিস না দোস্ত!”
তাজধীরকে একটুও বিচলিত দেখা গেলোনা। চেহারায় কোনো কঠোরতা নেই। তাড়াহুড়ো নেই। অস্থিরতাও নেই।ভীষণ নির্লিপ্ত। মেপে মেপে শ্বাস ফেলছে সে। ধীরপায়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই হাত বুকের সাথে শক্ত করে ভাঁজ করল। শান্ত,ইস্পাতকঠিন গলায় বলল,
“ওখানে কিচ্ছু নেই। আগালে লাভ তো হবেই না বরং আমাদের গোটা টিম ওদের পাতা ফাঁদে গিয়ে পড়বে। দেয়ার’স আ প্রবলেম… আ ভেরি বিগ প্রবলেম।”
অর্ণব আর ফাহিম একে অপরের দিকে হতভম্ব চোখে তাকাল। অর্ণব খানিকটা খিটমিটে স্বরেই শুধাল,
“কীসের গণ্ডগোল? তুই কী দেখেছিস তাজধীর? কোনো প্রমাণ আছে তোর কাছে? না কি কেবল তোর ওই সিক্সথ সেন্স?”
তাজধীর শান্ত চোখে অর্ণবের দিকে চাইল। তারপর সোজা সমুদ্রের পানির দিকে আঙুল নির্দেশ করে হিসেবি কণ্ঠে বর্ণনা দিতে লাগল,
“শোন অর্ণব। এক—সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের এই চ্যানলে আজ রাত তিনটে পাঁচ মিনিটে হাই-টাইডের যে স্রোত থাকার কথা, সমুদ্রের ঢেউয়ের বিট তার চেয়ে অন্তত দশমিক দুই পয়েন্ট কম। তার মানে কোনো ভারী ওজনের ভেসেল সামনে থেকে জল কেটে আসছে না। ওটা কেবল কৃত্রিম ওয়েভ মেকার দিয়ে তৈরি কারেন্ট।
দুই—রাডারে যে অ্যানোমালি দেখা যাচ্ছে, ওটা আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিদের ট্রান্সমিটার সংকেত নয়। ওটা নেভাল ফ্রিকোয়েন্সির রিপিটেড লুপ। ওরা আমাদের রাডার ডেটা হ্যাক করে আমাদেরকেই উল্টো ডিকয় (ভুল পথ) দেখাচ্ছে।
আর তিন—তাকিয়ে দেখ আকাশের ওই উত্তর-পশ্চিম কোণে। এত বড় একটা সোয়াচ এরিয়া, অথচ কোনো গাঙচিল বা সামুদ্রিক পাখির বিচরণ নেই কেন? কারণ আধঘণ্টা আগেই ওই পুরো এরিয়ায় ‘ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস’ (EMP) ডিকয় ছেড়ে রাখা হয়েছে। যাতে আমরা ট্র্যাপে ঢুকলেই আমাদের অল ইলেকট্রনিক সিস্টেম ডেড হয়ে যায়। ওরা আমাদের অ্যাটাক করতে আসেনি। ওরা চেয়েছে কমোডর খুরশিদ আলমের বেস্ট কমব্যাট ফোর্সকে এই ড্রোন ভেসেলের পেছনে কাটিয়ে দিয়ে আসল চালানটা মূল চ্যানেল থেকে বিশ মাইল দূরে সেন্টমার্টিন সাউথ ইস্টে দিয়ে পার করে দিতে!”
তাজধীরের এই একের পর এক নিখুঁত, তুখোড় আর রোমহর্ষক অ্যানালাইসিস শুনে অর্ণব আর ফাহিম হা হয়ে গেল! দুজনের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল মুহূর্তে। এত অল্প সময়ে কেবল হাওয়ার গতি আর রাডারের সামান্য বিট দেখে একজন মানুষ এত নিখুঁত ছক কিভাবে ধরে ফেলতে পারে? এটা আদৌ সম্ভব? হ্যা সম্ভব বোধহয়। এটা একমাত্র তাজধীর সিদ্দিক আযান দ্বারাই সম্ভব!
ফাহিম শুকনো ঢোক গিলে অবাক চোখে তাজধীরের দিকে চেয়ে অবিশ্বাস্য কণ্ঠে শুধাল,
“তুই… তুই এত কিছু সেকেন্ডের মধ্যে কী করে রিড করলি তাজধীর? হাউ ইজ দিস ইভেন পসিবল?”
তাজধীর চশমাটা আবার চোখে আঁটল। ধারালো গলায় ব্যক্ত করল,
“একজন সাধারণ অফিসার দেখে ততটুকু, যতটুকু প্রতিপক্ষ তাকে দেখাতে চায়। আর একজন ট্রু কমান্ডার দেখে সেটা, যা প্রতিপক্ষ লোকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে! ট্র্যাপ সাজানো তাদের কাজ হতে পারে অর্ণব। কিন্তু সেই ট্র্যাপের রশি কেটে শিকারিকে শিকার বানানো আমার পুরনো অভ্যাস।”
ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় তাজধীরের আশঙ্কা একবিন্দু মিথ্যে না করে সত্যে পরিণত হলো! ক্রাফটের সিকিউরড থার্মাল ইমেজিং স্ক্রিনে হঠাৎ জ্বলে উঠল বিশেষ সংকেত।ফাহিম চ্যাঁচাতে গিয়েও নিজের গলা চেপে ধরল। লাফিয়ে উঠে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো গোল গোল করে তাজধীরের দিকে চাইল। থরথর করে কাঁপতে থাকা গলায় বলল,
“অর্ণব দ্যাখ! তাজধীর একটু আগে যা বলল… বর্ণে বর্ণে সত্যি! ওই সোয়াচের ট্র্যাপ এরিয়ায় আমাদের ব্যাকআপ ড্রোন এন্টার করতেই ওটার অল ইলেকট্রনিক্স কোল্যাপ্স করেছে! ওখানে সত্যি ইএমপি মাইন্স বসানো ছিল! আর সেন্টমার্টিনের অদূরে সাউথ-ইস্ট চ্যানেলে স্যাটেলাইটের রিয়েল ইমেজে দুটো আসল মাদার ভেসেলের হিট সাইন পাওয়া যাচ্ছে!”
অর্ণব পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে শুনল। বিস্ময়ে বেচারা নিচে পড়ে যাওয়ার জোগাড়! ও হাঁ করে চাইল তাজধীরের দিকে।অথচ যার বুদ্ধির জোরে আজ পুরো বাংলাদেশ নেভির এক বিশাল বিক্রমে রক্ষা হলো, সেই তাজধীর সিদ্দিক আযানের মধ্যে কোনো উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও নেই! যেন অতি সাধারণ এক ঘটনা ঘটেছে। সে তেমনি স্থির, শান্ত-শিষ্ট ভঙ্গি নিয়ে দাঁড়িয়ে। ধীরহাতে জ্যাকেটের পকেট থেকে কমব্যাট গ্লাভস জোড়া পরে নিতে নিতে অত্যন্ত নিস্পৃহ কণ্ঠে কমান্ড দিল,
“অর্ণব, ফাহিম! ইঞ্জিন ফুল স্পিডে ঘুরা।নামছি আমরা!”
মিশনটা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে নেভাল বেইজে ফিরে এলো ওরা। তবে সরাসরি রুমে এলোনা। শত্রুর ওই পাতা ফাঁদ আর অপারেশনের মোড় ঘুরে যাওয়ায় বেইজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি ব্রিফিং শেষ করতেই বিকেল গরিয়ে সন্ধ্যা হলো।
তবুও তাজধীরের মেজাজ ঠান্ডা হচ্ছেনা। উপরে উপরে তাকে দেখলে কারো বুঝার সাধ্য ও নেই তার ভিতরে আসলে কি চলছে। সরাসরি সে গিয়ে বেইজের হাই-টেক জিমনেসিয়ামটায় ঢুকল। তখন প্রায় ফাঁকাই ছিল সেটা।তাজধীর এর পরনে একটা কালো ট্র্যাক প্যান্ট। উপরে একটা কালো সেন্টু গেঞ্জি।পুরুষালি সুগঠিত, চওড়া শরীরটা ঘামে চপচপ করছে। পেকের ভাঁজে ভাঁজে গড়িয়ে পড়ছে ঘামের ফোঁটা। একটানা দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। পাঞ্চিং ব্যাগে একের পর এক রূঢ়, কঠিন পাঞ্চ কষে চলেছে সে। প্রতিটি পাঞ্চের সাথে সাথে চামড়ার ব্যাগে সশব্দে ভারী আওয়াজ হচ্ছে—ধপ! ধপ!
চোয়াল শক্ত। কপালে ধমনীগুলো স্পষ্ট জেগে উঠেছে। মনে হচ্ছে পাঞ্চিং ব্যাগটা নয়, প্রতিপক্ষ শত্রুকে সমূলে পিষে মারছে সে। একহাতে তোয়ালে নিয়ে ঘাড়ের ঘামটুকু উগ্র ভঙ্গিতে মুছেই সোজা চলে গেল বারবেল র্যা কের দিকে। ভারী ওয়েট তুলে নিয়ে ব্যাক-স্কোয়াট আর ডেডলিফ্ট মারতে শুরু করল লাগাতার। একজন সাধারণ কমব্যাট অফিসারের যেখানে এক ঘণ্টার এক্সারসাইজে হাঁপিয়ে ওঠার কথা, সেখানে তাজধীর যেন রক্ত-মাংসের মানুষ নয়! এক অবাধ্য যন্ত্রের মতো নিজের পেশিগুলোকে শাস্তি দিয়ে চলেছে সে।
জিমের গ্লাস ডোরের ওপাশ থেকে দৃশ্যটা লক্ষ্য করছিল অর্ণব আর ফাহিম।ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে তিন ঘণ্টার ঘর ছুঁইছুঁই। তাজধীরের থামার কোনো লক্ষণ নেই।ফাহিম হাতের কফির মগটায় চুমুক দিয়ে ঘড়ির দিকে তাকাল। তারপর অর্ণবের দিকে চেয়ে ফিসফিস করে বলল,
“দোস্ত, ব্যাটার ভেতরে আজ কিসের ভূত চাপল বল তো? মিশন পোস্টপন্ড হয়েছে বলে এত রাগ? নাকি অন্য কোনো কেস?”
অর্ণব মুখ টিপে হাসল। বন্ধুর এই ভেতরের খবর ওর অজানা নয়।
“মিশন তো উসিলা রে ফাহিম। আসল আগুন তো অন্য কোথাও জ্বলছে! চল, একটু খাঁচায় গিয়ে বাঘটাকে খোঁচা দিয়ে আসি।”
“যদি সেই রাগ আমাদের উপর ঝাড়ে?”
“ধুর ব্যাটা! মাইয়া মানুষদের মতো এতো ভয় পাস কেন?”
দুজনে ধীর পায়ে জিমের ভেতরে ঢুকল।তাজধীর তখন পুশ-আপ পজিশনে। ফ্লোরে একহাতে ভর দিয়ে শরীরটাকে ওঠানামা করাচ্ছে। ঘামে ভেজা চুলগুলো কপালে লেপ্টে আছে। দেখল অর্ণবরা এসেছে। তবে ভ্রূক্ষেপহীন সেদিকে।অর্ণব একদম তাজধীরের মাথার কাছে এসে দাঁড়াল। দুই হাত পকেটে পুরে বড্ড আয়েশি ভঙ্গিতে হেয়ালির ছলে বলল,
“ব্যাপার কী রে তাজধীর? বিয়েটা করার পর থেকেই দেখছি তুই স্বাস্থ্য-তাস্ত নিয়ে একটু বেশিই সচেতন হয়ে উঠলি!”
তাজধীর থামল না। এক হাতেই পুশ-আপ দিয়ে যেতে যেতে রূঢ় কণ্ঠে জবাব দিল,
“বাজে বকবি না অর্ণব। কাজ না থাকলে এখান থেকে সর।”
ফাহিম পাশে এসে দাঁড়িয়ে বেশ রসিয়ে যোগ করল,
“আরে না দোস্ত! অর্ণব তো ভুল কিছু বলেনি! ছুটির পর বেইজে আসার পর থেকেই লক্ষ্য করছি। তুই নিজের শরীরটার ওপর একটু বেশিই যত্ন নিচ্ছিস আজকাল। বলি, হঠাৎ এত রূপচর্চার ধুম পড়ল কেন? কায়িক শ্রমটা কি একটু বেশিই বেড়ে গেল নাকি?”
শেষের বাক্যটা টেনে টেনে আওড়াল ফাহিম।শরীরটা সোজা করে উঠে দাঁড়াল তাজধীর। তোয়ালেটা নিয়ে উগ্র ভঙ্গিতে ঘাড়ে পেঁচাল। শীতল চাহনি তাক করল দুজনের উপর।এগিয়ে এসে দাঁড়ালো বন্ধুদের সামনে। এই বিশাল ব্যক্তিত্ব আর রূঢ় ভাবমূর্তির সামনে দুই বন্ধু স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এক পা পিছিয়ে গিয়ে দাঁড়াল। তাজধীর চিবিয়ে চিবিয়ে বলল তখন,
“দুর্বলদের বিলাসিতা হলো কথা বলা। আর শক্তিশালীর হাতিয়ার, প্রস্তুত থাকা। তোদের মতো জিংক-ডেফিসিয়েন্সিতে ভোগা অফিসারদের সাথে সার্ভিস দিতে হলে আমাকে এই চর্চাটাই করে যেতে হবে।”
অর্ণব ভ্যাবাচ্যাকা খেল। শুকনো হেসে বলল,
“আচ্ছা এসব বাদ! ফুল কথায় আসি। আমরা তো সবকিছু শতভাগ নিখুঁতভাবে প্রিপারেশন নিয়ে গিয়েছিলাম, তাই না? অল সিকিউরড লাইন, হাই-টেক এনক্রিপশন। তাহলে অপারেশনের এই কনফিডেনশিয়াল ডিটেইলসগুলো শত্রুপক্ষের কাছে লিক করল কে? ওরা কীভাবে আগে থেকে জানল আমরা ঠিক কোন পয়েন্টে হিট করব?”
ফাহিমও চট করে সোজা হয়ে বসল। কফির মগটা এক পাশে রেখে বলল,
“একদম ঠিক কথা! নেভাল বেইজের সিক্রেট প্ল্যানিং এভাবে বাইরে যাওয়া তো ইম্পসিবল! ইনফরমেশন লিকেজ না হলে সোয়াচের ওখানটায় ইএমপি ট্র্যাপ সাজিয়ে রাখার কথা ওদের মাথায় আসতেই পারে না!”
তাজধীর বেঞ্চের ওপর রাখা পানির বোতলটা তুলে ঢকঢক করে অর্ধেকটা শেষ করে ফেলল। জবাব দিল না সঙ্গে সঙ্গে। বোতলের মুখটা সশব্দে আটকে ধীরে ধীরে বন্ধুদের দিকে ঘুরল সে। বন্ধুর চোখের গভীর বরফশীতল চাহনি দেখে অর্ণব আর ফাহিম দুজনই থমকাল। তাজধীর রূঢ় কণ্ঠে জানাল,
“তথ্য কোনো বাইরের শত্রু চুরি করেনি। তথ্য লিক করেছে আমাদের বেইজের খুব কাছের কেউ। এমন একজন, যে আমাদের ছক সম্পর্কে খুব ভালো করেই ওয়াকিবহাল।”
কথাটা শোনামাত্রই অর্ণব আর ফাহিম দুজনেই বিস্মিত হলো। অর্ণব বিস্ময়ে চ্যাঁচাতে গিয়েও গলা চেপে ধরে বলল,
“হোয়াট! আমাদের চেনা কেউ? ঘরের শত্রু বিভীষণ?”
“ইয়েস। আর ঠিক এই কারণেই এখন থেকে আমাদের প্রতিটা পদক্ষেপে দশগুণ বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অফিসিয়াল চ্যানেল নয়, কোনো ট্র্যাডিশনাল নেটওয়ার্ক নয়। পরবর্তী চালটা কেবল আমরা তিনজন জানব। একটু এদিক-ওদিক হলে এবার শুধু মিশন ফেল হবে না, আমাদের গোটা টিম গায়েব হয়ে যাবে।”
“ভাই এটা কি তোর মাথা? তুই তো দেখি নিউটনের থেকেও ফাস্ট। নিউটনের ভাই জিউটন!”
“অর্ণব! বি সিরিয়াস!”
তাজধীর তোয়ালেটা বেঞ্চের ওপর আছাড় মে রে রাখল।ফাহিম হাত তুলে সারেন্ডার করার মতো ভঙ্গি করে বলল,
“ওকে ওকে! কমান্ডার সাহেব ভীষণ গরম হয়ে আছেন দেখছি । কিন্তু সত্যি করে বল তো, তিন ঘণ্টা ধরে এভাবে নিজের শরীরটাকে ক্যাঁচাক্যাঁচি করার কী দরকার? মিশন তো কাল রাতে। এখন একটু রেস্ট নিলেই তো পারতিস।”
“যখন মাথা কাজ করে না, তখন শরীরকে খাটাতে হয়। যাতে ফালতু চিন্তাগুলো মাথার ভেতরে জায়গা না নিতে পারে!”
অর্ণব চোখ ছোট ছোট করে শুধাল,
“কীসের ফালতু চিন্তা? ভাবির চিন্তা?”
তাজধীর তড়িৎ ঘাড় ফেরাল। ধমকে উঠল সে,
“অর্ণব, লিমিট ক্রস করবি না।”
“আরে বাবা! নিজের বউয়ের চিন্তা করা কি অপরাধ নাকি?”
ফাহিম ফোড়ন কাটল।আবার বলল,
“আমরা তো ভাবলাম, ভাবির মিষ্টি ফেসটা মনে করেই হয়তো তোর এই চণ্ডাল রাগটা কমবে। কিন্তু তুই তো দেখছি আরও দ্বিগুণ গতিতে ডাম্বল উঠাচ্ছিস!”
তাজধীর বেঞ্চের ওপর রাখা নিজের ফোন আর চাবিটা একহাতে তুলে নিল। বন্ধুদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হেনে বলল,
“তোদের যদি এতই কাজের অভাব থাকে, তবে সেন্টমার্টিন সাউথ-ইস্টের ম্যাপটা নিয়ে আরও দশবার বোস। কাল রাতে যেন কোনো অফিসারের ভুলে পুরো অপারেশনের বারোটা না বাজে।”
তাজধীরের ওই এক কথায় ফাহিম আর অর্ণবের হাসি হাসি মুখটা মুহূর্তে মিলিয়ে গেল। পেশাদারিত্বের জায়গায় তাজধীর যে কতটা ভয়ংকর, তা ওরা ভালো করেই জানে।অর্ণব হাত দুটো তুলে বলল,
“ঠিক আছে বাবা, রাগিস না। আমরা যাচ্ছি। কিন্তু তুই আর কতক্ষণ নিজেকে এভাবে টর্চার করবি?”
তাজধীর উত্তর দিল না। জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করল না সে। অমনি ট্রাউজারের পকেটে রাখা ফোনটা কেঁপে উঠল কিঞ্চিৎ। বার্তা আসার বিশেষ সংকেত। তাজধীর অত্যন্ত অনীহা,বিরক্তি নিয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করল। ভাবল হয়তো নেভাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে কোনো অফিশিয়াল টেক্সট এসেছে।ভ্রু কুঁচকে তাকাল স্ক্রিনের দিকে।
কিন্তু স্ক্রিনে ফুটে ওঠা বার্তার প্রেরকের নাম আর মেসেজের প্রথম দুটি লাইন চোখে পড়া এক নিমেষে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেল গত তিন ঘণ্টার তীব্র রাগ, খিটমিটে মেজাজটা ।
শক্ত চোয়ালটাও মুহূর্তের মধ্যে শিথিল হয়ে এলো।ঠোঁটের কোণ ঘেঁষে পরিলক্ষিত হলো মুচকি হাসিরে রেখা। জিমের কোণটায় দাঁড়িয়ে থাকা অর্ণব আর ফাহিম একদম বাকরুদ্ধ! দুজনে চোখ গোল গোল করে একে অপরের মুখের দিকে চাওয়াচাই করল এবার। কি হলো ব্যাপারটা? একটু আগে যে কিনা সিংহের মতো গর্জাচ্ছিল, সে এখন ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অমন দেবশিশুর মতো মুচকি হাসছে?
অর্ণব ফাহিমের কনুইয়ে গুঁতো মেরে বলল,
“দোস্ত! ব্যাপার কিরে?”
অর্ণব গলা খাকারি দিয়ে একটু এগিয়ে এসে চাইল স্ক্রিনের দিকে। উঁকি দিতে দিতে বলল,
“কী রে ভাই ? লটারির টিকিট পেলি নাকি? নাকি কোনো গুপ্তচর মেসেজ পাঠাল?”
তাজধীর সচকিত হলো। বন্ধুদের ওই হা-করে চেয়ে থাকা বলদের মতো মুখ দুটো দেখেই ওর হাসিমুখটা নিমেষে ভ্যানিশ হয়ে গেল। তবে রাগের বদলে উৎপন্ন হলো বিরক্তি। ফোনটা পুনরায় লক করে পকেটে ঢুকালো। উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে খিটমিট করে বলল,
“বাচাল আর কৌতূহলী লোকগুলোকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া উচিত!”
কথাটা বলতে বলতেই তাজধীর জিমের সাথে লাগোয়া বিশাল বারান্দাটার দিকে হেঁটে চলে গেল। পুনরায় বের করল ফোনটা। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে থাকা মেসেজটা আরও একবার বেশ মন দিয়ে পড়ল সে,
“আপনার বিশ্বস্ত এজেন্ট কে খুঁজে পাওয়া গেছে কিন্ত !”
মানবের থমথমে মুখখানায় একচিলতে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল অমনি। ঠোঁট দুটোকে বাঁকিয়ে পকেটে হাত পুরে দাঁড়াল। হাতের বুড়ো আঙুল চালিয়ে দ্রুত টাইপ করে পাঠাল,
“এই বিষয়ে তথ্য বের করতে এত সময় লাগল আপনার? এই ক্ষেত্রে তো দেখছি আপনি বহুত পিছিয়ে আছেন মিসেস! একজন নেভি কমান্ডারের স্ত্রী হিসেবে এইটুকু কমনসেন্স এবং প্রম্পটনেস থাকা তো বাধ্যতামূলক।”
মেসেজটা সেন্ড করে তাজধীর ফোনটা হাতের তালুতে নিয়ে আলতো করে নাচাতে লাগল। ও ভালো করেই জানে, এই টেক্সটটা ওপাশে পৌঁছানো মাত্রই ওড়না-বিহীন সেই ছটফটে মেয়েটার মাথা কতটা গরম হবে! হলোও তাই। বিছানায় শুয়ে থাকা প্রিয়ন্তীর মাথাটা দপদপ করে উঠল অমনি।ওতো ভেবেছে এত বড় একটা সিক্রেট উন্মোচন করায় তাকে বাহবা দিবে লোকটা। বলবে আপনি তো খুব ব্রিলিয়ান্ট! কিংবা অন্তত একবার প্রশংসা করবে।তবে লোকটা বলল কি? ঘুরেফিরে সব কিছুর মধ্যে নিজের কৃতিত্ব নিয়ে নেয়?
প্রিয়ন্তীর ইচ্ছা করছিল এখনই ফোনটা আছাড় মেরে ভেঙে ফেলতে! এই ব্যাটার সমস্যা কি? কোনোদিন একটা কথা সোজা আর স্বাভাবিকভাবে বলতে পারে না? ফোনটা দুই হাতে চেপে ধরে উগ্র ভঙ্গিতে টাইপ করল সে,
“আপনি সবসময় এতো বাঁকা করে কথা বলেন কেন?”
তাজধীর স্ক্রিনে চোখ বুলাল। ভীষণ অসহায় ভঙ্গিতে জবাব দিল,
“আমি নাকি?”
মেসেজটার শেষে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন। প্রিয়ন্তীর একটা বালিশের উপর ভর দিয়ে আধশোয়া হয়েছিল। মেসেজটা দেখা মাত্রই রাগে বালিশটায় দুটো ঘুষি মারল লোকটার এই ভাবটাই তো ওর সহ্য হয় না! যেন চরম নিষ্পাপ এক সাধু পুরুষ! প্রিয়ন্তী ঝটপট ফিরতি টেক্সট ঠুকল,
“হ্যাঁ! একটা কথাও আপনি সোজা করে বলতে পারেন না।”
“সোজা কথা শুনতে চান?”
প্রিয়ন্তী ওপাশে চোখ বড় বড় করে মুখ কুঁচকাল। রাগে ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে লিখল,
“আপনি আবার সোজা করে কথা বলতেও পারেন নাকি?”
“সোজা কথা বলতে গেলেও আপনাকে নিয়ে বলতে গেলে আমার হিসাবটাই কেমন যেন গুলিয়ে যায়!”
“আপনি আসলে সোজা করে কথা বলতেই পারেন না। যত সব অজুহাত!”
“কী করব ম্যাম বলুন? নেভির অপারেশনগুলো সব সোজা পথে হয়না। বাঁকা পথে হয়। আর আপনার কাছে পৌঁছানোর রাস্তাটাও বোধহয় ওরকম সোজা হবে না!”
“আপনি কি ফ্লার্টিং করছেন আমার সাথে? এরকম ফ্লার্টিং আর কতজনের সাথে করেছেন?”
মেসেজটা টাইপ করে বুক টান টান করে বসে রইল প্রিয়ন্তী।সেটা পড়া মাত্রই ঠোঁটের বাঁকা হাসিটা আরো গাঢ় হলো মানবের। লিখল,
“নেভিতে আমাকে অনেক কিছু শেখানো হয়েছে, কিন্তু কখনো কারো সাথে ফ্লার্টিং করা শেখানো হয়নি। আর আমি যার কাছ থেকে ফ্লার্টিং শিখেছি সে আমার বউ!”
এক লাফে বিছানা থেকে উঠে বসল প্রিয়ন্তী। চোখ দুটো গোল গোল করে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে স্ক্রিনে চাইলো।নিজেকে সামলাতে না পেরে চটপট রিপ্লাই ঠুকল,
“আমি আপনাকে ফ্লার্টিং শিখিয়েছি?”
“তা নয় তো কী? বিয়ের আগেই বাচ্চার বাবা বানিয়ে দিলেন। আজেবাজে কত কী ব্লেইম দিলেন আমাকে! অথচ সেই ব্লেইমগুলোর সত্যতাও এখনো যাচাই করা হলো না। এবার বেইজ থেকে ফিরে আসলে হাতে-কলমে আমাকে আর একটু ফ্লার্টিং শিখিয়ে দিয়েন তো ম্যাডাম। যাতে আমার ওপর চেপে বসা ওই ব্লেইমগুলোর সঠিক জাস্টিস আমি করতে পারি!”
ধুম করে বিছানায় পড়ল প্রিয়ন্তী। এই ব্যাটার সঙ্গে জীবনেও কথা বলে পারবেনা সে। আস্ত একটা নির্লজ্জ, অসভ্য লোক এই তাজধীর সিদ্দিক আযান! দূর সমুদ্রে বসেও কীভাবে মানুষকে কুপোকাত করা যায় তা এই লোকটার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না! প্রিয়ন্তী নিজের লাল হয়ে ওঠা গাল দুটো দু-হাতে আলতো চেপে চটজলদি নিজেকে সামলালো। দাঁতে দাঁত চেপে কিছুটা মেজাজ দেখিয়ে টেক্সট করল,
“আপনি তো বেশ কথা বলতে শিখেছেন দেখছি!”
“কথা না বললে কি আপনি খুশি?”
“সেটা কি আমি একবারও বলেছি?”
মিনিট পেরিয়ে গেলেও এবার আর কোনো উত্তর এলোনা ওপাশ থেকে। প্রিয়ন্তী ছটফট করল কতক্ষন। লোকটা কি হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে গেল নাকি আবার?নিচের ঠোঁট পিষ্ঠ করে কিছুক্ষন হাঁটাহাঁটিও করল। মেসেজটা এলো দুই মিনিটের মাথায়,
“আজকের চাঁদটা ভীষণ সুন্দর!”
দাঁড়িয়েই ছিল প্রিয়ন্তী। অমনি পা বাড়াল বারান্দায়। বারান্দায় পা রাখতেই এক পশলা শীতল বাতাস হুড়মুড় করে এসে ছুঁয়ে দিলো প্রিয়ন্তীর সর্বাঙ্গ। প্রিয়ন্তী দু-হাতে চুলগুলো সামলানোর চেষ্টা করতেই আবার টিং করে বেজে উঠল হাতের ফোনটা।
তাজধীর পাঠিয়েছে,
“এই মাত্র কি একপশলা অবাধ্য বাতাস এসে আপনাকে ছুঁয়ে দিয়ে গেল?”
প্রিয়ন্তী স্তম্ভিত!প্রচন্ড অবাক হয়ে দ্রুত কিবোর্ডে আঙুল চালিয়ে লিখল,
“আপনি কীভাবে জানলেন?”
”আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে আমার জানা মিসেস ব্লুহাফমুন।”
কৌতূহলের পারদ নিমেষে চূড়ায় গিয়ে ঠেকল প্রিয়ন্তীর। সঙ্গে সঙ্গেই ফিরতি প্রশ্ন ছুড়ল সে,
“তাই? তা আর কী কী জানেন আমার সম্পর্কে?”
“উম! এই যেমন আমার সাথে কথা বলার সময়, কিংবা অতিরিক্ত কৌতূহলী হলে আপনি নিজের নিচের ঠোঁটটা বারবার কামড়ে ধরেন।এখনো সেভাবেই আছেন!”
নিচের ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে শক্ত করে কামড়ে ধরেই রেখেছিলো প্রিয়ন্তী!অমনি মুখ আপনাআপনি হা হয়ে গেল ওর। স্তব্ধ হয়ে গেল ওখানটায়! এটা ওর একটা বাজে অভ্যাস! যখনই কোনোকিছু নিয়ে বেশি কৌতূহলী হয়, টেনশনে পড়ে, তখনই নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখে। কিন্ত এই লোকটা কিভাবে জানল? কিভাবে বুঝল সে? প্রিয়ন্তীর গাল দুটো লজ্জায় আপেলের মতো লাল হয়ে উঠল। কান দুটো গরম হয়ে এলো ওর। বুকের ভেতর থরথর করে এক প্রলয়ঙ্করি হৃদস্পন্দনের শব্দ হতে লাগল—ধক! ধক! ধক! ও দুই হাতে নিজের গরম হয়ে ওঠা গাল দুটো চেপে ধরল।ঠিক সেই মুহূর্তেই ফোনটা আবার কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে এলো,
“আপনার এই তীব্র হার্টবিটের শব্দে আমার বড্ড অস্বস্তি হচ্ছে, মিসেস সিদ্দিক! নিজেকে একটু কন্ট্রোল করুন। না হলে হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজেকে কন্ট্রোল করা আমার পক্ষে দায় হয়ে পড়বে!”
এবার সত্যি সত্যি ভরকালো বেচারি।গোল গোল চোখে তাকালো আশেপাশে। প্রবল বিস্ময়ে পিছিয়ে এলো বারান্দা থেকে। লোকটা কীভাবে জানছে? ও এখন কী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, ওর বুকের স্পন্দন… সব কীভাবে বুঝতে পারছে সে?তবে কি লোকটা কোথাও কোনো সিক্রেট সিসি ক্যামেরা বসিয়ে রেখে গেছে? প্রিয়ন্তী চরম উসখুস আর আতঙ্ক নিয়ে বারান্দার দেয়াল, টব, ঘরের পরদা সবটায় নজর বুলালো।
“আশেপাশে ওরকম পাগলের মতো তাকিয়ে লাভ নেই! কোথাও কোনো সিসি ক্যামেরা লাগাইনি আমি!”
বিস্ময়ের শেষ সীমায় পৌছালো প্রিয়ন্তী এবার। আস্ত একটা জিন-ভূতের আড়ত এই লোকটা! দৌড়ে চলে গেলো রুমে। ব্যাটাকে আর মেসেজই দিবেনা সে।
তাজধীর হাতের ফোনটার দিকে আরও একবার চাইল। সে নিশ্চিত এখন আর কোনোমতেই এই মেসেজের কোনো উত্তর আসবেনা। শব্দ করে হেসে উঠল সে। ফোনটা ধীরহাতে পকেটে পুরে বারান্দা ছেড়ে ঘরের ভেতরে পা বাড়ানোর জন্য পেছনে ঘুরল।বারান্দার কবাটের ঠিক আড়ালে, দরজায় কান ঠেসে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ণব আর ফাহিম একদমই আশা করেনি তাজধীর এত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। দরজার কবাটে অতিরিক্ত ভর দিয়ে ওপাশে আড়ি পাতছিল দুজন। তাজধীর সরতেই ভারসাম্য হারিয়ে ধপাস করে পড়ল একজন আরেকজনের উপর।
তাজধীর ওখানটায় দাঁড়িয়ে কাঠ হয়ে দৃশ্যটা দেখল।
ওর দুই বন্ধু মেঝের ওপর একজন আর একজনের ওপর পড়ে পড়ে হাঁপাচ্ছে। বিরক্তির ভাজ পড়ল তার চেহারায়। সোজা সেখান থেকে যেতে যেতে বলে গেলো,
ডেসটেনি পর্ব ৩৩
“তোদের স্পেশাল কমব্যাট ট্রেনিংটা বোধহয় দরজায় কান পেতে আড়ি পাতার জন্য দেওয়া হয়েছিল, তাই না?”
ফাহিম কনুইয়ে ভর দিয়ে উঠে বসে শুকনো ঢোক গিলল। অপরাধীর মতো কাচুমাচু মুখে চাইল দুজনেই। দরজার কাছে পৌঁছে থামল তাজধীর। পেছন না ফিরেই থমথমে গলায় আদেশ ছুড়ল,
“দশ মিনিটের মধ্যে ফ্লোর ছেড়ে নিজের নিজের ঘরে যা। নয়তো কাল সকালের পেট্রোল ডিউটিটা তোদের দুজনকে দিয়েই করাব!”
