পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৮
ঈশিতা রহমান সানজিদা
তানাজের শ্বাশুড়ির সাথে শত্রুতা আছে আজমল শিকদারের। তাদের নিরব কলহ দেখে মনে হবে দুই সতিনের মত বিরোধ হচ্ছে। মনে মনে এদের দৈনিক ঝগড়া হয়। এইতো আজ সকালেই তাহমিনাকে ডেকে বলেন,’এই অভদ্র মহিলা বাড়ি থেকে কবে বিদায় হবে বলতো?’
তাহমিনা ঠোঁটে তর্জনী আঙ্গুল চাপালেন,’চুপ করো, যেকোনো সময়ে চলে আসবে। শুনতে পেলে রক্ষে থাকবে না। ওনার কান পরিষ্কার বেশি।’
বিরক্ত হলেন আজমল শিকদার,’তো আর কি করব? তিনদিন ধরে শিং আর মাগুর মাছ কিনতে কিনতে আমার পকেট ফাঁকা হয়ে গেছে। আমার মেয়ে তো নাম মাত্র, সব যে ওনার পেটে যায় দেখি না ভেবেছ? মানুষ নামাজ পড়ে পাঁচ ওয়াক্ত, আর উনি খায় সাত ওয়াক্ত। তাও গামলা ভরে ভরে।’
তাহমিনা কপাল চাপড়ান। আজমল শিকদার ব্যাঙ্গ করে বলেন,’বেয়াই সাহেব শিং মাছ আনবেন বেশি করে, তানাজের শরীরের রক্ত কমে যাচ্ছে। কত ঢং, যায় তো সব নিজের পেটে। সাথে আমার মেয়ের রক্ত সব চুষে খাচ্ছে।’
‘এত কথা না বলে বাজারে যাও এখন। আজকে জামাই আসবে।’
আজমল শিকদার বাজারের ব্যাগ হাতে তুলে নিতে নিতে বলে,’তাই তো করি। ওদিকে তোমার ছেলে আমার কতগুলো টাকা মেরে দিছে। জমি গুলো সেই কবেই খেয়ে বসে আছে। এখন আমাকে খাওয়া বাকি।’
রাগে গজগজ করতে করতে তিনি বাড়ি ত্যাগ করলেন। তখনই তানাজের শ্বাশুড়ি বের হলেন রুম থেকে। বলেন,’বেয়াইন, বেয়াই সাহেব কে বলেন নতুন আলু আনতে। এই সময় তো বাজারে আসে। খেতে ভালো লাগে।’
‘উনি তো বাজারে চলে গেছেন।’
‘একটা ফোন করুন তাহলে।’
তাহমিনা ভাবলেন, মানুষ টা রাগ করে বেরিয়েছেন। এখন ফোন দিয়ে এসব বললে আরো রাগ করবেন। তানাজের শ্বাশুড়ির কথা তো শুনতেই পারেন না। ঝোঁকের বশে মিথ্যা কথা বলে ফেললেন,’ফোন তো বাড়িতে রেখে গেছেন। আজ নাহয় থাকে অন্য একদিন বলব।’
ভদ্রমহিলা মাথা নাড়াতে নাড়াতে রুমে চলে গেলেন। তাহমিনা মনে মনে বলেন,’আল্লাহ মাফ করো, সংসার ঠান্ডা রাখতে মিথ্যা বললাম।’
সময় দুপুর এগারোটা। সুগন্ধা বিচে কতগুলো সমবয়সী ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলায় মেতে উঠেছে আজমাঈন। ওর পরনে ড্রাই ফিট ট্রাউজার এবং লাইট ব্লু রঙের পাতলা টিশার্ট। রোদের তাপে সবার চোখেই ব্ল্যাক সানগ্লাস। বল নিয়ে সবার রেষারেষি দেখছে নূর। তাকে ছাতার নিচে বসিয়ে রেখে গেছে আজমাঈন। বেবি পিঙ্ক কালারের বোরখা পড়েছে সে। ঢাকা শহরে ঠান্ডা থাকলেও কক্সবাজারে গরম। সমুদ্রের ঠান্ডা হাওয়া ওকে শীতল করতে পারছে না। চোখের নেকাব নামিয়ে রেখে আজমাঈন কে ফলো করছে সে। ওর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, হাসি, দৌড়ানো আবার বল হারানোর পর মুখের রিয়্যাকশন সবকিছু। ও বুঝতে পেরেছে যে এই মানুষটার ভালোবাসায় ডুবে গেছে। খুব গভীরে চলে গেছে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত এই গভীর থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।
ভালোবাসার টান মানুষকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আজমাঈন। একটু একটু করে নিজেকে পরিবর্তন করে নূরের দোর গোড়ায় নিজেকে সপে দিয়েছে। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক কে মজবুত করে নূরের মনে জায়গা করে নিয়েছে। নিজেকে পরিবর্তন করার মন মানসিকতা সবার থাকে না। আজমাঈনের ভেতরে সে অদম্য ইচ্ছা ছিলো বিধায় এমন কঠিন কাজটা করতে পেরেছে। নূর পুরোপুরি আজমাঈনের চিন্তায় মগ্ন। ঠিক তখনই একটি মেয়েলি কন্ঠ কানে ভেসে এলো, ‘এক্সকিউজ মি আপু, আমাদের ছবি তুলে দিতে পারবেন?’
চমকে তাকায় নূর। আজমাঈনের দিক থেকে চোখ সরিয়ে দেখে একটি মেয়ে দাঁড়ানো। সে লাল রঙের সুন্দর একটি শাড়ি পরে আছে। চেহারা ঝলমল করছে মেকআপ করায়। আর তার হাসিও চমৎকার।মেয়েটা ওদের ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে আছে। নূর মুচকি হাসলো, তার এই সুন্দর হাসি কেউই দেখতে পেলো না। উঠে দাঁড়িয়ে ফোনটা হাতে নিলো। ছেলেটা সাদা শার্ট পড়েছে, দু’জনকে সুন্দর মানিয়েছে। ছবি তোলার সময় নূর খেয়াল করলো ছেলেটা বারবার মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে। চোখমুখে একরাশ মুগ্ধতা। এতে বোঝা গেল ছেলেরা তার প্রিয় মানুষকে শাড়ি পরা দেখতে ভালোবাসে। ওদের দারুন কিছু মুহূর্তের ছবি দিয়ে যথাস্থানে ফিরে এসে দেখলো আজমাঈন বসে আছে। ফুটবল খেলে হাঁপিয়ে গেছে। নূরকে দেখে পাশে জায়গায় করে দিলো। বললো,’ভালো ছবি তুলতে পারো?’
জবাব না দিয়ে পাশে বসে নূর। আজমাঈন বলে, ‘আমার কিছু ছবি তুলে দাও দেখি।’ ফোনটা এগিয়ে দিতেই নূর তাতে বাঁধা দিলো,’আমি ভালো ছবি তুলতে পারিনা। ওরা বললো তাই দিয়েছি। নির্ঘাত ছবি ভালো উঠেনি। মুখের উপর না করতে পারলাম না।’
আজমাঈন গভীর শ্বাস ফেলে বলে,’শুধু আমাকেই সবকিছু থেকে বঞ্চিত করে রাখতে পারো। বাকিদের তো না করা অসম্ভব।’
‘খুব বেশি কথা বলেন আপনি।’
‘সেতো তুমিও পছন্দ করতে না, আর এখন তো আমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছ। দেখলাম তো কেমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলে।’ আজমাঈনের ঠোঁটে দুষ্টুমিষ্টি হাসি খেলে গেল। নূর আগ্রহ নিয়ে বলে, ‘আচ্ছা!! আপনি কীভাবে দেখলেন?’
আজমাঈন নূরের কানের কাছে মুখ এগিয়ে নিয়ে ফিসফিস করে বলে,’চোখ বন্ধ করে তোমার মন পড়ে নেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে। সেখানে মুখের সামনে থাকা পর্দা কিছুই না।’
অসহ্য লাগছে ছেলেটার কথায়। লজ্জায় কুঁকড়ে গেলে তৎক্ষণাৎ। নূর ডান হাত দিয়ে আজমাঈনের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। উঠে দাঁড়িয়ে বলে, ‘সত্যিই আপনি বেশি কথা বলেন। আমি রুমে যাচ্ছি।’
আজমাঈন ফোন আর জুতো জোড়া হাতে নিয়ে নূরের পিছনে ছোটে। কয়েক কদম দৌড়ে নূরের সাথে পা মেলায়। বলে,’রাগ করলে নাকি লজ্জা পেলে?’
নূরের এবার কান্না পেয়ে গেল। মেয়েরা যখন অতিরিক্ত লজ্জা পায় তখনই তাদের কান্না আসে। নূর হাত জোড় করে বলে,’আল্লাহর দোহাই লাগে একটু চুপ করুন।’
‘এই দ্যাখো আবার রাগ করে। কী করলে রাগ কমবে ম্যাডাম? আচ্ছা কোলে নিচ্ছি।’
আশ্চর্য হয় নূর, এক প্রকার লাফিয়ে দূরে সরে যায়। আঙুল তুলে বলে,’খবরদার না!! এখানে কত মানুষ দেখেছেন?’
আজমাঈন দাঁড়িয়ে পড়লো। পেছনে থাকা কাপলদের দেখিয়ে বললো,’দেখো ওদের!! কোলে নিয়ে কেমন লাফালাফি করছে। কাম অন!!’
এমন বিপদে কখনোই পড়েনি নূর। এই ছেলেকে দমানো মুশকিল। আরেকটু পিছিয়ে গিয়ে বলে,’ওরা যা করবে তা আমাদের করতে হবে তার তো কোনো মানে নেই।’
আজমাঈন বলে,’তাহলে অন্য কিছু? আচ্ছা আমি যা চাই দিতে হবে।’
নূরের ভয় ক্রমশ বাড়ছে। কথায় কথায় আজমাঈন তাকে বিপদে ফেলছে। এখন কি চায় কে জানে। আজমাঈন ফের বলে,’দিবে তো? কথা দিতে হবে।’
নূর দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বলে,’আচ্ছা ঠিক আছে, দিব।’
আজমাঈন খুশিতে গদগদ হয়ে গেল। নূরের কাছে এলো, একদম কাছে। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,’আই লং ফর আ কিস ফ্রম ইউর সুইট লিপস।’
মাথাটা ঘুরে উঠলো নূরের। আশেপাশে তাকিয়ে লোকজনের অবস্থান বুঝে নিলো। কেউ আবার শুনে ফেললো না তো! ইশ্ কি লজ্জা কি লজ্জা! সাথে ওর স্বামী মহোদয় লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে। পুরো মুখমণ্ডল গরম হয়ে গেছে। আজমাঈন আদুরে স্বরে বলে,’আমার কত দিনের স্বপ্ন জানো? প্লিজ আজ পূরণ কর। রুমে গিয়ে,,,,’
কথা শেষ হওয়ার আগেই ধাক্কা খেলো আজমাঈন। বেকায়দায় পা রাখা ছিলো বালুতে, তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ঠাস করে পড়ে যায়। মাথা তুলে তাকিয়ে দেখলো নূর ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। সামান্য ধাক্কায় পড়ে যাবে ভাবেনি। পড়ে গেছে যখন কি আর করার। নূর বলে,’আপনি খুব বাজে, আমি রুমে যাচ্ছি।’
নূর খুব দ্রুত এগিয়ে যায়। আজমাঈন বসা থেকে উঠতে উঠতে হাঁক ছাড়ে,’রেহনুমা জান্নাত নূর!! ওহে পদ্মপ্রিয়া! আমাকে ছেড়ে যেও না।’
আজমাঈনের বলার ভঙ্গিমা দেখে নূর হাসে। সে পায়ের গতি বাড়ায়, আজমাঈন কে পেছনে ফেলে সে আগে আগে হোটেলে পৌঁছায়। লিফটে উঠে চার নম্বর ফ্লোরের বোতাম চাপতেই আজমাঈন দৌড়ে এসে উঠে পড়ে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,’কাজটা কি ঠিক হলো?’
নূর দুহাত ভাঁজ করে দাঁড়ায়,’খুব!!’
আজমাঈন মাথা নাড়ে,’আচ্ছা।’
রুমে ফিরে দু’জনেই ফ্রেশ হয়। এই রোদে আর বের হবে না। রাতের সমুদ্র দেখতে বের হবে দু’জনে। দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে লম্বা ঘুম। নূরের ঘুম ভাঙল আগে। আজমাঈন তখনও ঘুমে কাদা। আজমাঈনের ফোন টেনে নিয়ে সময় দেখে নিলো সে। এখনও আসরের সময় হয়নি। ওর ফোনটা আইশার কাছে জিম্মি করে রেখে এসেছে আজমাঈন। যাতে কারো সাথে যোগাযোগ রাখতে না পারে। অবশ্য রাশেদ সাহেবের সাথে দুবার কথা হয়েছে আজমাঈনের ফোন থেকে। গতকাল রাতের ফ্লাইটে কক্সবাজার এসেছে ওরা। নূরের মন ভালো করার জন্য সমুদ্রকেই বেছে নিয়েছে আজমাঈন। নাহলে ওর ইচ্ছে ছিল পাহাড়ে যাওয়া। যদি নূরের মন কিছুটা ভালো হয় তাহলে এখান থেকে নীলগিরির পথ ধরবে। অবশ্য এটা নূরকে চমকে দেওয়ার জন্য।
গাঁয়ের উপর থেকে কম্ফোটার সরিয়ে উঠে দাঁড়ায় নূর। বারান্দার পর্দা টানা, আলতো হাতে পর্দা সরিয়ে দরজা খুলে দিতেই বাতাস হুড়োহুড়ি করে ভেতরে ঢুকলো। রুমে তখনও এসি চলছে। কি সুন্দর কোমল হাওয়া। পরাণ জুড়িয়ে যায়। দু’হাতে বাহু জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইল নূর। এই সুন্দর জীবন যাপনের জন্য শুকরিয়া আদায় করে। রেলিং এর ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে উত্তাল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে রয়। এই মনোরম দৃশ্য দেখার জন্যই বীচ সাইডের হোটেলে রুম বুকিং করেছে আজমাঈন। যাতে তার স্ত্রীর মনটা কিছুটা হলেও ভালো হয়।
‘একা একা দাঁড়িয়ে আছ যে!!’
নূর পেছন ফিরে তাকায়। আজমাঈন দাঁড়িয়ে আছে। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে আছে, মুখ থেকে এখনো ঘুমের রেশ কাটেনি। তবে মুখখানা বেশ আদুরে লাগছে। গালে হাত বুলিয়ে দেওয়ার লোভ জাগলেও নূর নিজেকে সামলে নিলো। বললো,’এমনি! ঘুম ভেঙ্গে গেল তাই এখানে এলাম।’
আজমাঈন দুহাত দু’পাশে ছড়িয়ে দিয়ে আড়মোড়া ভেঙে নূরের কাছে এগিয়ে যায়,’তোমার এই একাকিত্ব কে আমি ভীষণ হিংসা করি নূর। আমি ছাড়া আর কেউ যেন তোমাকে সঙ্গ না দেয়। যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে তুমি আমার সাথে থাকবে, আমার কথা ভাববে।’
নূর মাথা নেড়ে বলে,’জি!! খুব বুঝতে পেরেছি। এও বুঝতে পারছি যে আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’
‘মাথা খারাপ হওয়ার কারণ তো আপনি ম্যাডাম। আপনাকে দেখলেই আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। পাগল হয়ে যাই আমি।’
আজমাঈনের কথার মোড় ঘুরছে। নিশ্চয়ই এখন লজ্জা দেওয়ার মতো কথা বলবে। তাই আগে ভাগে এগিয়ে এসে ডান হাত দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরলো। বললো,’খবরদার, আর কথা বলবেন না।’
আজমাঈন সহাস্যে একটা কাজ করে বসলো। নূরের হাতে চুমু খেতেই দ্রুত হাত সরায় নূর। একি করে বসলো!! ফের আশেপাশে তাকালো। আজমাঈন বললো,’এবার তো কেউ নেই।’
ও দেখলো বউয়ের মুখটা কেমন লাল হয়ে যাচ্ছে। মাথা নিচু করে মুখ আড়াল করার চেষ্টা করছে। শেষে না পেরে রুমে চলে এলো। আজমাঈন গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,’আবার কোথায় যাচ্ছ?’
নূর পেছন ফিরে না তাকিয়ে বললো,’আজানের সময় হয়েছে।’
আজমাঈন চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে হাসলো। এই মেয়েটা এতো লজ্জা পায় কেন? ওর নাম হওয়া উচিত লজ্জাবতী নূর।
আজমাঈন বের হয়েছে, মসজিদে নামাজ আদায় করে বুথ থেকে টাকা তুলবে। পকেট কখন যে ফাঁকা হয়ে গেছে খেয়াল করেনি। ভাগ্যিস বাপের টাকা মেরে দিয়েছে। অন্তত এই নামিদামি হোটেল খরচ বেঁচে গেছে। আগামী চার দিনের হোটেল খরচের টাকা বাঁচিয়ে নীলগিরি যাওয়া যাবে।
অন্যদিকে নূর লাগেজ খুলে সব এলোমেলো করছে। আইশা অপটু হাতে ওর ব্যাগপত্র গুছিয়ে দিয়েছে। নূরের জামাকাপড়ের পাশাপাশি আইশার কতগুলো মেকআপ দেখা যাচ্ছে। তবে তার কিছুই ব্যবহার করতে জানে না। হঠাৎ করেই খেয়াল করলো হাফ সিল্কের শাড়িটার দিকে। হাতে নিতেই অতীত দৃশ্যমান হলো। এই শাড়িটা সাহারার বিয়ের দিন আজমাঈন গিফট করেছিল। বিয়ের পর কে যেন লাজেগে ভরে শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। আইশা দ্বিতীয় বারের মতো দিয়েছে। শ্বশুর বাড়িতে আসার পর উপহার পাওয়া প্রতিটা শাড়ির ব্লাউজ বানাতে দিয়েছিল আইশা। কিন্তু সেগুলো হাতে পাওয়ার আগেই নূর উধাও হয়ে গিয়েছিল।
শাড়িটা উল্টে পাল্টে দেখলো। ডার্ক গ্রিন কালারের হাফ সিল্কের শাড়ি। শাড়ির পাড় চিকন সুতোর কাজ করা থাকলেও জমিন ফাঁকা। তবে আঁচলে সুতোর কাজ করা।
কি মনে করে শাড়িটা পরে ফেললো নূর। তবে খুব বেশি ভালো হলো না, কেমন এলোমেলো ভাবে শাড়ি পরেছে। একা একা কখনও পরেনি তো। সাজগোজের ব্যাপারে তো আরো জানে না। শুধু কাজল টেনে দিলো চোখে। বাকিগুলোর ব্যবহার সে জানে না। আয়নায় নিজেকে দেখে মুখটা গোমড়া করে ফেললো। শাড়ি পরাটা কি বাজে হয়েছে। ভেবেছিল আজমাঈনকে চমকে দিবে, সেখানে শাড়িটাই ঠিকমতো পরতে পারলো না। গালে হাত দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনেই বসে রইল। আজমাঈন ফিরলো তাড়াতাড়িই। চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো। কোনো শব্দ হলো না। ওর হাতে দু’টো তাজা লাল গোলাপ। জুতোর ঠকঠক শব্দে চমকে ফিরে তাকায় নূর।
আজমাঈন কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রয়। ভীষণ সুন্দর লাগছে নূরকে। কাছে গিয়ে ফুল দুটো ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখলো। নূরের চোখে চোখ রেখে বললো,’মাশআল্লাহ!! তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। একদম আমার বউ বউ লাগছে।’
‘কিন্তু আমার শাড়ি পরাটা মোটেও ভালো হয়নি।’
আজমাঈন নূরের গালে হাত রেখে বলে,’উহু, খুব সুন্দর লাগছে।’
অতঃপর দীর্ঘ সময় নিয়ে নূরের ডান চোখের পাতায় চুমু খায়। নূর চোখ বন্ধ করে অনুভব করে। হাত দুটো আজমাঈনের শার্ট আঁকড়ে ধরে রেখেছে। আজমাঈন জড়ানো কন্ঠে সুধায়,’এবার আমার পালা।’
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৭
কথার মানে বোঝে নূর। ওর থেকে অনেকটাই লম্বা আজমাঈন। মাথা ঝুকে নিজেকে এগিয়ে দিলো নূরের দিকে। আর নূর!! সে সমস্ত লজ্জা বিসর্জন দিয়ে আজমাঈনের গালে চুমু খেল। সরে আসার সুযোগ টুকুও পেলো না। আজমাঈন জড়িয়ে ধরে রেখেছে তাকে। আজমাঈন হাতের বাঁধন শক্ত করে ধরে বলে,’ভেবছিলাম রাতে তোমাকে নিয়ে সমুদ্রের ডুব দিব। কিন্তু নাহ, তা আর হবে না। আজ তোমাকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসব আমার পদ্মপ্রিয়া।’
