Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৯ (২)

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৯ (২)

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৯ (২)
noorayn

সকাল ৬ টা…
সকলে ঘুম থেকে উঠে লিভিং রুমে আরহাম-আলিশার অপেক্ষা করছে। আজ তারা ৩ দিনের ট্রিপে যাচ্ছে।
সকাল ৮ টার ফ্লাইট কিন্তু আরহাম-আলিশা এখনো আসেনি।
ইজাজ সাহেব বড্ড বিরক্ত আরহামের উপর – উনি এই ট্রিপে যেতে চাননি কিন্তু সবার জোরাজুরিতে আর মানা করতে পারেন নি।
“এই বেয়াদব ছেলের আর কান্ডজ্ঞান হয়নি। নিজে সব আয়োজন করে এখন নিজেই গায়েব।”
“নীলার বাবা আপনি সবসময় আমার ছেলেটাকে এমন করেন।”
“তোমার ছেলের কর্মেই করি শাইনা। দু’ঘন্টা পর ফ্লাইট আর নবাবজাদার এখনো কোনো দেখা নেই, বাহ।”
“রাত করে ফিরেছে তাই হয়তো…”

“রাত করে ফিরবে কেন? বাড়িটাকে হোটেল বানিয়ে ফেলেছে এই ছেলে। ভেবেছিলাম বাপ হলে একটু আক্কেল হবে কিন্তু তাতেও আমাকে ভুল প্রমান করলো – আফসোস।”
নিয়াজ সাহেব ভাইয়ের কথায় তাল মিলিয়ে বললেন,
“আমি আগেই বলেছিলাম ভাইজান – সময় থাকতে এই হতচ্ছাড়া কে শাসন করো। সারাদিন বাইরে টো-টো করে ঘুরে বেড়ায়। তার যে একটা ঘর-সংসার আছে তা তো ভুলেই গেছে। মাঝে দিয়ে আমার মেয়েটার কপাল পুড়লো।”
আরহাম লাগেজ হাতে মাত্রই নিচে নেমে আসছিলো কিন্তু মাঝপথে তাকে নিয়ে শশুরের এমন উক্তি কানে আসতেই সে তেতে উঠে প্রতিবাদি স্বরে বললো –

“আপনার মেয়ের জন্যই দেরি হয়েছে শুশু আব্বায়ায়ায়ায়া…”
“এই ছেলে এই তুমি আবার আমাকে শুশু বললে?”
আরহাম ঠোঁট পাউট করে ফ্লাইং কিস ছুড়ে শুধালো –
“ভালোবাসার ডাক – শুশু আব্বায়ায়ায়া…..”
আরহামের ঘাড়ট্যাড়ামি দেখে নিয়াজ সাহেব রেগে কটমট করে নিজের ভাইজান কে বললেন ছেলেকে শাসন করতে – দিনদিন অধঃপতনে যাচ্ছে।
সব শুনেও আরহাম ডোন্ট কেয়ার ভঙ্গিতে নিচে নেমে সবার সাথে দাড়ালো। একটু পর আলিশা আসতেই সবাই একসাথে রওনা হলো এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্য।

এয়ারপোর্টে সব ফর্মালিটিস শেষ করে আরহাম-আলিশা এবং নীলা-আরশাদ একটা ডিএসএলআর ক্যামেরা অন করেই একসমেত চেঁচিয়ে বললো –
“উই আর কামিং দার্জিলিং…..”
কোনো ট্রিপে গেলে তারা চারজন সবসময় মেমোরিসের জন্য সব রেকর্ড করে রাখে আর এবারও তাই করছে।
ইজাজ এবং নিয়াজ সাহেব বেজায় বিরক্ত হলেন তাদের এয়ারপোর্টে এভাবে চেঁচামেচি করার জন্য – তাই একসাথে বলে উঠলেন –
“একটা বাচ্চাকেও ঠিকঠাক মানুষ করতে পারলাম না।”
পাশ থেকে আয়শা শাইনার কানে ফিসফিস করে শুধালো –
“হুম সবকিছুতে দোষ ধরবে বাচ্চাদের। নিজেরা বুড়ো হয়েছে বলে কি সবাইকে উনাদের মতো থাকতে হবে।”
“চুপ থাক আয়শা। বুড়ো দুটো শুনলে আবার ক্ষেপা ষাড় হয়ে যাবে।”

দার্জিলিং – হিল স্ট্যাশেন…..
খান বাড়ির সবাই দার্জিলিং এসেছে প্রায় ৩ ঘন্টা। তারা অবস্থান করছে গ্লেনবার্ন টি এস্টেটে। সবকিছু আরহাম আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলো বিধায় কারো কোনো অসুবিধা হয়নি।
আরহাম বেশ সতপর্নে চলাফেরা করছে – এক মুহুর্তের জন্যও মাস্ক/ক্যাপ থেকে নিজেকে দুরে সরাচ্ছেনা।
তার এতো আড়াল হয়ে থাকা নিয়ে নিয়াজ সাহেবের বেশ আপত্তি কাজ করছে – এমন কাজ করতে হবে কেন? যার জন্য নিজ পরিবারের সাথে ঘুরতে আসলেও চোরের মতো লুকিয়ে থাকা লাগে। এই নিয়েও এক দফা ঝগড়া লেগেছে শশুর-জামাই এর মধ্যে – কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।
পরে আরশাদ এসে দুজনকে সামলে নিয়েছে।

বর্তমানে, সকলে যে যার বরাদ্দকৃত কামরায় রেস্ট নিচ্ছে – সন্ধ্যার পরে সবাই একসাথে ডিনারের জন্য বের হবে।
আলিশা রুমে এসেছে থেকেই বেডে শুয়ে আছে – এখন পর্যন্ত ফ্রেশও হয়নি। আরহাম মাত্রই ফ্রেশ হয়ে এসেছে ওয়াশরুম থেকে – এসেই দেখে আলিশা বেডে উল্টো হয়ে শুয়ে আছে আর ডোরা মায়ের চুল নিয়ে খেলা করছে।
আরহাম ডোরাকে ঝাপ্টে ধরে কাছে এনে আদর করলো তারপর তাকে ফ্রেশ করিয়ে দিতে দিতে আলিশা কে তাড়া দিলো উঠার জন্য।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৯

“আমি উঠবোনা, সরো।”
“এই উঠতে বলেছি না তোকে? ফ্রেশ হয়ে ঘুমা।”
“উম…না”
“লিশা…”
“উঠবোনা মানে উঠবোনা। কালরাতে তুমি এক মিনিটের জন্যও ঘুমাতে দাওনি।”
“ঘুমাতে মানা করেছি কি? বলেছি ফ্রেশ হয়ে ঘুমা”
“পারবোনা”
আরহাম ডোরাকে বেডে বসিয়ে মোবাইলে বেবি রাইম ছেড়ে চারিপাশে বালিশ দিয়ে দিলো যাতে পড়ে না যায় তারপর এক পলকে আলিশাকে কোলে তুলে ছুটলো ওয়াশরুমের উদ্দেশ্য।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here