প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫৩
বন্যা সিকদার
মৌ হেলেদুলে কলেজ চত্বরে হাঁটছিল‚ হঠাৎই তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টু মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সে চারিদিকে ফিরে তাকাল‚ সবাই যার যার মতো আড্ডা ও গল্পে ভীষণ বিজি। সে এই সুযোগেই দ্রুত করে দৌড়ে উজানে’র কেবিনের দিকে হাঁটা দিল। অবশ্য প্রথম দিকে উজানে’র কাছে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না তার। কিন্তু মেহের যেহেতু মাঠের এককোণে বসে ইফাতে’র সাথে ফোনে প্রেমালাপে ব্যস্ত তাই সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে ফালতু প্যানপ্যানানি শোনার বিন্দুমাত্র ধৈর্য মৌ’য়ের ছিল না। ভেবেছিল একা একা পুরো কলেজ চত্বর ঘুরে বেড়াবে কিন্তু পরক্ষণেই প্রফেসরের মুখটার কথা মনে পড়তেই মৌ’য়ের মনটা আনন্দে যেন নেচে উঠল। সে ধীর গতিতে কেবিনের দিকে এগিয়ে চলল। তারপর হুট করেই কোনো নক না করে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উজানে’র কেবিনের দরজার লক খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ল মৌ।
কিন্তু ভেতরে ঢুকে চোখের সামনে যা দেখাল‚ তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। শিরিন দুই হাতে শক্ত করে উজান’কে জড়িয়ে ধরে একদম বুকের সাথে মিশে আছে. দৃশ্যটা দেখা মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে মৌ’য়ের পায়ের নিচ থেকে যেন সমস্ত শক্ত মাটি সরে গেল। চোখ দুটো বিষাদ আর রাগে ছানাবড়া হয়ে উঠল। উজানও ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার দিকে তাকিয়ে মৌ’কে দেখে ভীষণভাবে চমকে উঠল। সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের সমস্ত জোর দিয়ে হাত ছড়িয়ে শিরিন’কে নিজের থেকে সরাতে চাইল কিন্তু এতোটাই শক্ত করে চেপে ধরায় পারল না। উজান এক চরম অসহায় ও অপরাধীর মতো দৃষ্টি নিয়ে মৌ’য়ের ফ্যাকাশে মুখের দিকে তাকাল। ভেবেছিল হয়তো মৌ মতো তাকে ভুল বুঝে এক বুক অভিমান নিয়ে চলে যাবে। কিন্তু উজান’কে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে মৌ এক সেকেন্ডের জন্যও ভুল বুঝল না। বরং সে ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে এসে এক হেঁচকা টানে শিরিনে’র মাথার চুল মুঠো করে ধরল এবং তীব্র শক্তিতে টান মেরে উজান থেকে দূরে সরিয়ে ঝেঁকে ফেলে দিল।
‘ম্যাম’ বলে যতটুকু শ্রদ্ধা বা সম্মান এতদিন মনোবলে অবশিষ্ট ছিল‚ এই নোংরা দৃশ্য দেখে শিরিনে’র প্রতি তার মনে আর কেবল তীব্র ঘৃণা ছাড়া কিচ্ছু রইল না। মৌ কোনো কথা না ভেবে তড়িৎ গতিতে উজানে’র রিভিশন টেবিল থেকে একটা শক্ত বলপেন নিজের মুঠোয় তুলে নিয়ে তেড়ে গেল শিরিনে’র দিকে। মাঝপথে উজান ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি মৌ’য়ের হাতটা চেপে ধরতেই‚ মৌ নিজের সেই জলন্ত‚ রক্তচক্ষু বিষাক্ত দৃষ্টি দিয়ে স্বামীর চোখের দিকে তাকালো। তার সেই চাহনি দেখে স্বয়ং সিআইডি অফিসার উজান চৌধুরীও ঢোক গিলে থমকে গেল। পরের মুহূর্তে উজান একদম সুবোধ বালকের মতো আলতো করে মৌ’য়ের নরম হাতটা ছেড়ে দিয়ে খুব নিচু স্বরে বিড়বিড় করল—
“আই’ম রিয়েলি সরি জান…কনটিনিউ প্লিজ।
মৌ আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করল না। সে ততক্ষণে নিজের বাঁ হাত দিয়ে শিরিনে’র মুখটা এমন শক্ত করে চেপে ধরল যে কোনো আওয়াজ বের করার সুযোগই থাকল না। আর অন্য হাতে ধরা সেই শক্ত কলমটা দিয়ে কোনো দয়ামায়া ছাড়া সজোরে আঁছড়ে আঘাত বসাল শিরিনে’র উন্মুক্ত পেটে! মুখটা এত শক্ত করে চেপে ধরা থাকায় শিরিন যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠেও একটা চিৎকার পর্যন্ত দিতে পারল না। তার ভয়াল‚ রক্তশূন্য ফ্যাকাশে মুখটা দেখে মৌ নিজের ঠোঁট বাঁকিয়ে এক পৈশাচিক বিষাক্ত হাসি হাসল। খানিক বাদে শিরিন’কে ছেড়ে দিতেই সে হাত দিয়ে পেটের জায়গাটা চেপে ধরে ন্যাকা‚ কাঁপা স্বরে কেঁদে উঠে উজান’কে বলতে লাগল।
“উ উ উজান তোমার এই রাক্ষসী বউ আমাকে তোমার চোখের সামনেই এভাবে আঘাত করল আর তুমি সাইলেন্ট থেকে কিচ্ছু বলছ না? এই রক্তচোষা ডাইনি মেয়ের সাথে তুমি কী করে এক ছাদে থাকছো‚ উজান?
কথাটা বলেই শিরিন একপ্রকার ভীতি জড়ানো আবেগে আবার উজানে’র দিকে এক পা এগোতে চাইল। কিন্তু ততক্ষণে মৌ এক ধাক্কায় তাকে মেঝেতে আছাড় মেরে ফেলে দিল। সেই সঙ্গে নিচু স্বরে হুংকার তুলল‚
”আমার ভাতার আমার সাথে কীভাবে থাকবে সেটা কি তোকে আলাদা করে ব্যাখা দিতে হবে শাঁকচুন্নি। বারো ঘাটের পানি খেয়েও তোর শখ মেটেনি? আর তোকে যদি এখানে আমি পিটিয়ে ছাতু বানিয়ে চামড়া গুটিয়েও ফেলে দিই‚ তবুও আমার প্রফেসর সাহেব তোকে বাঁচাতে একটা টু শব্দও করবে না। কারণ‚ আই’এম হিজ অনলি অ্যান্ড প্রিয় অফিশিয়াল ওয়াইফি! আচ্ছা‚ তোর কি বিন্দু মাত্র লাজলজ্জা বলতে কিচ্ছু নেই? একজন কলেজের দায়িত্বশীল শিক্ষিকা হয়েছিস অথচ শরীরের অর্ধেকাংশ নগ্ন করে এভাবে পাতলা শাড়ি পরে ভার্সিটিতে আসিস। একটুকু লজ্জা করে না তোর এত বেহায়াপনা করতে?
শিরিন মেঝেতে বসে নিজেকে সামলে নিয়ে চিৎকার করে উঠল। “মৌ জাস্ট শাট আপ। ভুলে যেও না আমি তোমার টিচার হই।
”রাখ তোর তের বা*লের টিচার। এতই যদি টিচার হওয়ার শখ‚ তবে নিজের স্টুডেন্টের হাসবেন্ডকে নিয়ে কেবিনে কেন টানাটানি করিস? যদি প্রফেসর সাহেব তোকে একটুও পাত্তা দিত‚ তবে না হয় মেনে নিতাম। কিন্তু আমার বর তো তোকে কুকুরের মতোও দেখতে পারে না‚ তবুও তুই পেছনে কেন এভাবে নির্লজ্জের মতো আঠার মতো লেগে থাকিস?
“মৌ…
”জাস্ট ফাইভ। আমি ফাইভ পর্যন্ত কাউন্ট করব…এর মাঝে যদি তোকে আমার চোখের সামনে দেখি। তবে আজকে তোর খবর আছে। ওয়ান…টু…থ্রি…
ঠিক সেই মুহূর্তে উজান একটু নিচু হয়ে মেঝেতে বসে থাকা আতঙ্কিত শিরিনে’র কানের কাছে ফিসফিসিয়ে রুদ্ধ স্বরে সতর্কবার্তা আওড়াল‚ “শাঁকচুন্নি নিজের প্রাণটা বাঁচাতে চাইলে এই মুহূর্তে চোখের সামনে থেকে দূর হ। নয়তো এই বাঘিনী আজ তোর মাথার একটা চুলও রাখবে না‚ আমি কিন্তু ঠেকাব না।
ভয়ে আর পেটের যন্ত্রণায় শিরিন আর এক মুহূর্তও সেখানে অপেক্ষা করার সাহস পেল না। কোনো মতে শাড়ি সামলে খুড়িয়ে খুব দ্রুত কেবিন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে পালিয়ে গেল। শিরিন কেবিন থেকে পালিয়ে যেতেই মৌ গটগট করে এগিয়ে গিয়ে ভেতর থেকে দরজাটার লক আঁটকে দিল। তারপর ধুপধাপ চওড়া পা ফেলে এসে উজান’কে তার রিভলভিং চেয়ারে বসিয়ে দিল আর নিজে সোজা গিয়ে উজানে’র কোলে চেপে বসল। উজান এতে বিন্দুমাত্র অবাক হলো না। কিন্তু মৌ হঠাৎই খুব আদুরে ভঙ্গিতে উজানে’র চওড়া গলায় নিজের দুই হাত পেঁচিয়ে ধরল এবং মুখটা উজানে’র শক্ত বুকের খাঁজে গুঁজে দিল।
উজান অতি মমতায় মৌ’য়ের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে মৃদু ও শান্ত স্বরে শুধাল‚ “খুব কষ্ট হচ্ছে জান?
”কেন কষ্ট হতে যাবে? —মৌ উজানে’র শক্ত বুকে নিজের নাকটা ঘষতে ঘষতেই উত্তর দিল।
“এই যে শিরিন’কে এভাবে আমার এত কাছাকাছি জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখলে?
”কষ্ট তো তখন হতো‚ যদি এতে আপনার নিজের সামান্যতম সায় বা সম্মতি থাকত। আপনার তো কোনো দোষ ছিল না‚ তবে অহেতুক কষ্ট পেয়ে নিজের মন খারাপ করব কেন? আচ্ছা…শুনছেন?
“হুম বলো?
”কী বলব?
“তুমিই তো কিছু একটা বলতে চাইলে এখন? —উজান ভ্রু উঁচাল।
”উঁহু এখন আর কিচ্ছু বলতে ইচ্ছে করছে না আমার।
উজান আর কথা বাড়াল না‚ চুপচাপ মৌ‘য়ের ঘন চুলগুলোর মাঝে আঙুল চালিয়ে দিতে লাগল। আর মৌ আনমনে উজানে’র শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খুলছে আবার লাগাচ্ছে…বউয়ের এই পাগলামি দেখে উজান তার কোমরটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটের কোণে এক মারাত্মক দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে ফিসফিস করে প্রশ্ন ছুড়ল—
“জান কাঁদতে চাও?
উজানে’র এই কথাটা কুম্ভকর্ণের প্রলয়ংকরী ডাকের মতো মৌ’য়ের কানে গিয়ে বাজল। প্রথম ১-২ সেকেন্ড কথাটার গভীর অর্থ বুঝতে না পারলেও‚ পরক্ষণেই সংকেতটা মাথায় ঢুকতেই মৌ চরম লজ্জায় ও রাগে উজানে’র উন্মুক্ত ফর্সা বুকে সজোরে একটা কামড় বসাল। উজান যন্ত্রণার ভান করে হালকা কোঁকড়ে উঠে চেঁচিয়ে উঠল‚
“আউচ। বউ লাগলো তো? একটু আদর কর?
মৌ ফ্যালফ্যাল করে উজানে’র দিকে তাকিয়ে রইল। এই মুহূর্তে সে কাঁদবে নাকি হাসবে তা একেবারেই বুঝে উঠতে পারছে না। লোকটা যে এত বেহায়া হতে পারে‚ তা আগে জানা ছিল না। অথচ একটা সময় কতই না খিটখিটে বদরাগী প্রফেসর ছিল সে। মৌ’কে এভাবে নিস্তব্ধ হয়ে চুপ করে থাকতে দেখে উজান আদুরে ভঙ্গিতে ডেকে উঠল।
“কী হলো জান? আদর করবে না?
”প্রফেসর সাহেব আমার কিন্তু এবার সত্যি সত্যি রাগ হচ্ছে। আপনাকে নিয়ে টেনশনে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে আর আপনি এখনো মুচকি মুচকি হাসছেন? কলেজের যেদিকেই তাকাই‚ সেদিকেই সব ডাইনি আপনার দিকে চিল-শকুনের মতো লোভী চোখে তাকিয়ে থাকে। দুনিয়াতে কি আর কোনো পুরুষ মানুষ অবশিষ্ট নেই‚ বলুন তো? সবার শুধু আমার পুরুষের দিকেই কেন নজর দিতে হবে?
উজান ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে এক ভ্রু উঁচাল‚ “পিচ্চি জেলাসি ফিল করছে?
মৌ উজা’নের চোখের একদম গহীনে চোখ রেখে থমথমে কণ্ঠে বলে উঠল‚ “আপনি এমন কেন‚ বলুন তো? কেন বুঝতে পারেন না যে আপনাকে অন্য কারো এত কাছাকাছি দেখলে আমার বুকের ভেতর কেমন কষ্ট হয়?
উজান ততক্ষণে পরম ভালোবাসায় মৌ’য়ের কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে বরফশীতল গলায় বলল‚ “তাহলে এক কাজ করি জান। আমি এই প্রফেসর জবটা ছেড়ে দেই। আমার ওয়াইফি এত কষ্ট পাবে‚ আর এটা আমি কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছি না।
মৌ ফ্যালফ্যাল করে উজানে’র দিকে তাকিয়ে রইল। মানুষটা তাকে কতটা অসম্ভব ভালোবাসে‚ তা তার জানা ছিল। তাই বলে এতটুকু একটা বিষয়ের জন্য নিজের স্বপ্নের পেশা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে যাবে? মৌ আবারও উজানে’র চওড়া গলায় দু-হাত শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। তার কণ্ঠ থেকে অদ্ভুত এক ভালোবাসার মিষ্টি সুর ভেসে এলো।
”প্রফেসর সাহেব আপনি এত ভালো কেন বলুন তো? আপনি জানেন‚ আপনার এমন প্রতিটি কথায় বারবার নতুন করে মুগ্ধ হয়ে যাই আমি। আপনাকে আপনার ভালো লাগার প্রফেশন ছেড়ে দিতে হবে না‚ শুধু আমাদের ওই ক্লাসে এসে পড়া নেওয়া বন্ধ করে দিন…তাহলেই চলবে। আর ওই ডাইনিগুলোর থেকে অন্তত দশ হাত দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন। ব্যস‚ আমার আপনার থেকে আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই।
“উঁহু। আমি জবটাই ছেড়ে দেব।
”তাহলে কিন্তু আমিও কাল থেকে কলেজে আসা আর পড়াশোনা করা সব ছেড়ে দেব। যেখানে আমার আপনি থাকবেন না‚ সেখানে এই মৌ’য়েরও কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না। আচ্ছা শুনেন?
উজান স্থির ও শান্ত দৃষ্টিতে বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ঠোঁটের কোণে মৃদু এক ফালি হাসি ফুটিয়ে বলল‚ “হুম‚ বলো জান?
”আমাকে এখন একটু বাসায় ফেরার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন‚ প্লিজ? কেমন যেন মাথা ঘুরছে। শরীরটাও একদম ভালো লাগছে না আমার।
কথা গুলো শোনামাত্রই উজান আঁতকে উঠল! মৌ’য়ের সহ্যশক্তি কতটা বেশি‚ তা উজান খুব ভালো করেই জানে। যতই কষ্ট বা অসুস্থতা হোক না কেন‚ সে সহজে নিজের শরীর খারাপের কথা মুখ ফুটে কারো কাছে প্রকাশ করে না। আজ যখন নিজে থেকে বলছে‚ তার মানে শরীরটা সত্যিই বেশি খারাপ লাগছে। উজান তড়িঘড়ি হয়ে মৌ’য়ের দুটো গাল নিজের হাতের তালুতে আলতো করে স্পর্শ করল। উদ্বেগে ভরা গলায় শুধাল‚
“ভীষণ খারাপ লাগছে জান? চলো আমি হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছি।
”না না। হসপিটালে যাব না। বাসায় গিয়ে একটু রেস্ট নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনি শুধু প্রিন্সিপাল স্যারকে বলুন আমার আর্লি লিভ-এর একটা ব্যবস্থা করে দিন।
“জাস্ট ওয়েট জান।
উজান আর এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের ফোন তুলে প্রিন্সিপাল স্যারকে কল দিয়ে মৌ’য়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটির ব্যবস্থা করে দিল। তারপর ফোনটা রেখে পরম ভালোবাসায় মৌ’য়ের কপালে এক দীর্ঘ ব্যাকুল চুমু এঁকে দিয়ে ফিসফিসিয়ে আওড়াল‚ “চলো‚ আমি নিজেই তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি?
”না না‚ আপনাকে ক্লাস ফেলে যেতে হবে না৷ আমি নিজেই যেতে পারব। তাছাড়া ড্রাইভার আংকেল তো বাইরেই আছে।
“শিওর তো পিচ্চি? —উজান এখনও চিন্তিত।
”হুম‚ একদম শিওর।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫২
অতঃপর মৌ ধীরে ধীরে উজানে’র কোল থেকে নেমে সোজা নিজের ক্লাস গেলো। ক্লাস থেকে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে কক্ষ ত্যাগ করল। উজান দরজার কাছে দাঁড়িয়ে পেছন থেকে তার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। মন বলছিল বউয়ের সাথে এখনই ছুটে চলে যেতে কিন্তু কলেজের কিছু দায়িত্বের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তা সম্ভব হলো না। মৌ খানিকটা দূর গিয়ে একবার পেছনে ফিরে তাকাল‚ তারপর মুচকি হাসি উপহার দিয়ে উজান’কে আশ্বস্ত করল। দেখতে দেখতে সে কলেজের মেইন গেট পেরিয়ে রোদের আলোয় মিলিয়ে গেল।
