Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৬

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৬

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৬
নীতি জাহি

সকাল থেকে মনে হচ্ছে কেউ ফলো করছে। ক্যাম্পাসে ঢুকেও এমন কিছুই অনুভব হলো।চয়নকে জিগ্যেস করাতে ও বললো এমন কিছুইনা তোর মনের ভয়। বিকেলে ক্লাস শেষে নীলক্ষেত থেকে কয়েকটা বই নিতে এলো। ভিড়ের মধ্যে কেউ পিঠে টাচ করলো। পেছন ফিরে দেখে কেউ নেই। আবার বই কেনায় মনোযোগ দিলো এবার মনে হলো কেউ হিজাব ধরে টান দিলো। অন্য কিছু সন্দেহ করছে মোনা। মোনা শিউর কেউ ইচ্ছে করে করেছে কাজটা। ফোনে যে হুমকি দেয়, তার কাজ নয়তো?? অদৃশ্য ভ!য় মোনাকে ঘিরে ধরলো। এক মিনিট ও অপেক্ষা না করে চয়নকে নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা দিবে তাই গাড়িতে উঠে বসলো। আজ প্রেজেন্টেশন ছিলো বলে শাড়ি পরে এসেছে। বাবা সাথে গাড়ি দিয়েছে। নীলক্ষেত পেরিয়ে ধানমন্ডি ঢুকতেই বৃষ্টি শুরু হলো। রাস্তা কেমন সুনশান। এই অপরাহ্নটাকে মনে হচ্ছে ঘোর অন্ধকার। সহসা ধুম করে গাড়ির উপর কিছু একটা পড়লো। গাড়ি সাথে সাথে ব্রেক কষাতে মোনা চয়ন সামনে ঝুঁকে গেলো। ড্রাইভার দুবার ঢোক গিললো,

‘ কি হলো মফিজ ভাই?’
‘ ম্যাডাম সামনে একটা আহত মানুষ পড়ছে,লাশ না জীবিত বুঝতে পারছিনা।’
মোনা চয়ন একে অন্যের মুখ দেখছে। গাড়ির পেছনে গ্লাস দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে পেছন থেকে কয়েকজন তিনটা ছেলেকে ধাওয়া করছে। এক পর্যায়ে ধরেও ফেলেছে। ধরে ছেলে গুলোকে একটা মাইক্রোতে উঠালো। সামনে একজন কালো পোশাকধারী লোক এসে গাড়ির সামনে পরা ছেলে টাকে কাঁধে উঠিয়ে নিলো। মোনা লোকটাকে চিনতে পেরেছে। মুখ খোলা সবার। এই লোক তো ইমরান সাহেবের বডিগার্ড। তখনই সামনের মাইক্রো থেকে কেউ একজন ছাতা ধরা কালো ওভার কোট পরা কারো উপর। হঠাৎ মোনা শীতল বিস্মিত কন্ঠে ঠোঁট নাড়লো,
‘ ইমরান সাহেব’
ড্রাইভার এবং চয়ন ও সেদিকে তাকায়। চয়ন ঢোক গিলে বলে,

‘ এই ইমরান ভাইয়ের আর কি কি রূপ আছে বইন।মাফিয়া ডন লাগতেছে পুরা। আচ্ছা ওয়েট এই ছেলেটা তো আমাদের আজকে ফলো করেছে নীলক্ষেতে।’
‘ তুই না বললি আমার মনের ভুল?’
‘ সেটা ক্যাম্পাসে কিন্তু নীলক্ষেতে আমি দেখেছি একে আমাদের পেছন পেছন ঘুরতে।’
‘ তার মানে আমি যা ভাবছি তা।’
‘ মোনা, ভাইয়া কেয়ার করে তোর।’
‘ রাখ তোর কেয়ার,মফিজ ভাই গাড়ি টানেন।ভয় লাগছে আমার।’
তৎক্ষনাৎ মফিজ গাড়ি টান দিলো। বাড়ি এসে হন্তদন্ত হয়ে রুমে ডুকলো মোনা।

নয়ন ফোনে এত গুলো কল দেখে ব্যাক করলো। চিন্তায় পড়ে গেলো। এত কল তো একসাথে মোনা দেয় না। প্রথম বার কল রিসিভ হয়নি। দ্বিতীয় বার আবার কল করলো।সাথে সাথে রিসিভ হলো,
‘ কিরে আম্মা, টেনশনে ফেলে দিলি।কি হয়েছে?’
মোনা হাঁপাচ্ছে। কথা বলতে পারছেনা।ভয়ে ভয়ে বললো,
‘ তোমার বন্ধুর মাফিয়া রূপ দেখেছি আংকেল।’
মোনা প্রথম থেকে সব খুলে বললো। নয়ন এবার ভীষণ চিন্তিত। ইমরান কি কাজটা ইচ্ছাকৃত করলো যাতে মোনা ভয় পেয়ে দূরে সরে যায়। ইমরানের জানামতে মোনা জানেনা এই কথা। ইমরানকে বুঝা বড় কঠিন।আহত কন্ঠে বললো,

‘ ভয় পেয়েছিস মা?’
মোনা একটু স্বাভাবিক হয়ে বললো,
‘আংকেল আমি আবার প্রেমে পড়েছি আমার ইমরান সাহেবের। এত ড্যাশিং লাগছিলো। উফ চকলেট হলে খেয়েই ফেলতাম।’
নয়ন তাজ্জব বনে গেল।আর এতক্ষন ও কি ভাবছিলো।এই মেয়ে দেখি আরো দু ডিগ্রি বেশি। না ঠিকই আছে ওর এই লুকে যদি কেউ ভয় না পায় বলতে হবে সেই মেয়ে প্রচুর সাহসী।নয়ন ধমকে বললো,
‘ তাহলে হাপাচ্ছিলি কেনো? আমাকে চিন্তায় ফেললি।’
‘ খুশিতে,শেয়ার করার মত কাউকে পেলাম না তাই তোমাকে বললাম।চয়ন ও ভেবেছে আমি ভয় পেয়েছি।অথচ আমি উত্তেজনায় এমন করছি।’
হঠাৎ চুপ হয়ে গেলো মোনা। আবার বলে উঠলো,
‘আজ রাতে উনার ফ্লাইট। চলে যাবে বললো।’
‘সেটা কি আমি আটকাবো?’
‘আমি কি করবো?’
‘আটকা এট এনি কস্ট। মিটিং আছে। একটু পর কল দিচ্ছি।’
মোনা ফোন রেখে ভাবছে কি করা যায়। আসলে কিছুই করা সম্ভব না। ইমরান আবার হারিয়ে যাবে। একা ফেলে যাবে মোনাকে। চোখ ভিজে আসলো মোনার। খাটে শরীর এলিয়ে দেয় মোনা। ঘুমিয়ে পড়ে আস্তে করে।

ঘড়িতে চারটা বিশ বাজে। ঘুম ভাঙার পর দরজা খুলল। ড্রইং রুমে ইমরানের পুরো পরিবার। ইশান এসে জড়িয়ে ধরে মোনাকে। মোনা গায়ের শাড়ি খুলেনি। এলোমেলো শাড়ি,কুচকে গিয়েছে অনেক অংশ। চুল গুলো হাত খোঁপা করে নিলো কোনো রকম। ফুলো ফুলো গাল। ঘুম ঘুম চোখ এখনো। মেক আপ উঠে গেছে,কাজল অনেকটাই লেপ্টে গিয়েছে। এমন টলছে কেনো। নিজেও বুঝতে পারছেনা। ইশানকে সরিয়ে ইমরানের পাশে গিয়ে বসলো সবার সামনে। মাথাটা ঝাঁকি দিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো। ইমরানের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘আজ তো চলে যা..বেন,সবাইকে নিয়ে বি..দায় নিতে আসছেন।’
ইমরানের মুখে শব্দ নেই। সবার দিকে তাকাতেই দেখে ওর দিকে কেমন চোখে তাকিয়ে আছে। মাথা ঘুরছে। পড়তে নিলে ইমরানকে খামছে ধরে।
‘ইমরান সাহেব আ..মাকে.. ধরেন।আমার মাথা.. ঘুরছে।সব ঝা প সা লা গ ছে..।’
ওরা এতক্ষন সবাই মোনার জড়িয়ে যাওয়া কথা শুনছে।ইমরান মোনাকে আঁকড়ে ধরে মিনহাজকে বললো,
‘কি হয়েছে ওর?’
মিনহাজ মেয়ের দিকে এসে গালে হালকা থাপ্পড় দিয়ে বললো,

‘কিরে মা, কি হয়েছে।এমন অদ্ভুত আচরন করছিস কেনো?কিছু খেয়েছিস তুই?’
মোনা বড় বড় শ্বাস টানছে। সালমা চিৎকার দিয়ে বলে,
‘তুই সু/ই/সা/ই/ড ক*মি*ট করতে গিয়েছিলি?’
উপস্থিত সবাই আকাশ থেকে পড়লো।ইমরান ওই মুহুর্তে মোনাকে বুকে টেনে সালমাকে ধমক দিলো,
‘চুপ সালমা,আমার মোনালিসা এই কাজ করতেই পারে না।’

মোনা নাকের কাছে হাত দিতেই দেখে নাক দিয়ে র*ক্ত যাচ্ছে। মিনহাজ চিৎকার করে উঠলো। ইমরান আর এই সেকেন্ড ও দেরী না করে দৌঁড় দিলো মোনাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। দূরে রাখতে চেয়েছিলো মেয়েটাকে ,কিন্তু সারাজীবনের জন্য তো না।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৫

‘ মোনালিসা, জান কথা বলো।আমি আর কোথাও যাব না। তোমার কাছেই তো এসেছি। চোখ খোলা রাখো। আমার কথা শুনো। একদম চোখ বন্ধ করবে না, সোনা। তাকাও এদিকে।’
ড্রাইভার স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে।অপেক্ষার রাস্তা সহজে শেষ হয় না। এত দীর্ঘ সময় কেনো? প্রিয়জন বিয়োগ এবার সইতে পারবে না ইমরান।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৭