ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১০
শানজানা আলম
মাস খানেক কেটে গেছে। ঐশির পরীক্ষা শেষ হয়েছে৷
নাসিরের সাথে পার্টি থেকে ফিরতে রাত হয়ে গেল ঐশির। এহসান ফিরে এসেছে। লক খুলে বাসায় ঢুকলো। ঐশি ফেরেনি, ফোন করলে বিজি লিখে টেক্সট করল। বারান্দায় গিয়ে এহসান দেখল, ঐশি বেশ দামী একটা গাড়ি থেকে নামল। নাসির নেমে কিছুক্ষণ কথা বলে ঐশিকে বিদায় দিলল।
এহসান ঐশির মেকআপ আর সাজ দেখে স্পষ্ট বুঝতে পারলো, ঐশি কোনো পার্টিতে ছিল।
লাস্ট পনের দিনে ঐশি অনেক শপিং করেছে, আর এহসানের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয় নি।
ঘরে ঢুকতেই এহসান জানতে চাইল,
ঐশি, কোথায় ছিলে?
মিট আপ ছিল- ঐশি সংক্ষিপ্ত করে বলল।
এই লোকটা কে?
ওহ, দেখেছ তুমি, নাসির ভাই!
নাসির ভাই? তুমি না বললে উনি সুবহানার বন্ধু?
সুবহানা ভেতরে ছিল, উনি নেমে আমাকে সি অফ করেছেন।
ঐশি এভাবে তো সংসার করা সম্ভব না, তুমি তোমার ইচ্ছে মত চলবে, সেটা কেমন করে হয়?
এহসান রেগে গিয়ে বলল।
ঐশিও চিৎকার করে বলল, কোরো না সংসার, ডিভোর্স দিয়ে দাও। –
-মানে?
-সহজ কথা, বুঝতে পারছ না, তালাক দিয়ে দাও। আমিও আর পারছি না।
-আর পারছ না মানে? তোমাকে কি পারতে হচ্ছে? ইচ্ছে মতই তো চলছ নাকি?
-এহসান, তুমি এত চেঁচামেচি করো না। ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও।- ঐশি চেঁচিয়ে বলল।
এহসান শান্ত হয়ে বলল, ঠিক আছে, তোমার বাসায় আমি ফোন করছি, তারাও জানুক ইদানিং প্রায়ই তোমার রাত হয় ফিরতে। পরীক্ষা শেষ। কোথায় যাও তুমি? শপিংয়ের এত টাকা আসে কোথা থেকে?
কাদের সাথে মেশো?
-উফফ, এহসান, বলেছি তো তোমার টাকা তো খরচ করছি না। তাহলে?
-তাহলে নেই কোনো। স্পষ্ট করে বলো, কোথায় যাও?
ঐশি বেডরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। এহসানের অসহায় লাগে। ঐশিকে একটা পার্টিতে একটা অপরিচিত লোকের সাথে এহসানের এক ফ্রেন্ড দেখেছে, এহসান বুঝতে পেরেছে, কেউ তো আছেই, যে কারনে ঐশি এত ঔদ্ধত্য দেখাতে সাহস পাচ্ছে।
এহসান ঐশির মা তাহিরা বেগমকে ফোন করে ঢাকায় আসতে বলল, সপরিবারে। ওনাদের সাথে বসে আলাপ করে একটা ডিসিশনে আসতে হবে।
তাহিরা বেগম সকালে মেয়েকে কল করলেন।
ঐশি কি হয়েছে, জামাই আমাদের ঢাকায় ডাকে কেন?
ঐশি বলল, আমি জানি না মা, ওকে জিজ্ঞেস করো।
কি হইছে সেটা বল?
ঐশি বলল, আমি ওর সাথে থাকব না। ডিভোর্স চাই আমি। এভাবে কেউ বাঁচতে পারে? কোনো খোঁজ খবর না নিয়ে একটা চামারের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিলে!
-এহসান যথেষ্ট ভালো ছেলে। আর এখন অথৈ এর বিয়ের কথা আগাচ্ছে। এখন বড় বোনের ছাড়াছাড়ি হলে সেটা কেমন হবে, তাছাড়া সব সংসারেই ঝামেলা হয়, সেটা ঠিকও হয়ে যায়৷ মুখে এসব ছাড়ার কথা আনবি না, বললেই যেমন বিয়ে হয় না, ডিভোর্সও ছাড়লেই হয় না৷ আমরা আসব সামনের সপ্তাহে। এইটুকু সময় সামলে থাকিস৷
মা, সেটা এখনি বলতে পারছি না। তোমরা এসো, কথা হোক সামনাসামনি।
ঐশির পরিস্থিতি শুনে সুবহানা বলল, চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি৷ তোর তো এখন টাকার সমস্যা নেই, নাসির ভাইকে নিয়ে যাবি।
ঐশি বলল, নাসিরের সাথে আমার একটা সম্পর্ক তবে সেটা এরকম নয় যে ঘুরতে চলে যাবে৷ তাছাড়া এখন
বাসার পরিস্থিতি ভালো না৷ হুট করে কোথাও যাওয়া যাবে না৷ এগুলো নাসিরকে বলার দরকার নেই।
আমার সমস্যা আমি সামলাতে পারব।
আপাতত ডিভোর্স হয়ে গেলে কোথায় থাকব, সেটার একটা জায়গা দরকার।
একটা ফ্ল্যাট নিয়ে নিবি।
ফ্ল্যাটের খরচ আসবে কোথ্থেকে?
ডিভোর্সের পরে তুই খোরপোশ দাবি করবি! এহসানের টাকায়ই তুই চলবি।
এরকম সিস্টেম আছে নাকি?
হুম, আছে তো! তোকে একজন ল”য়ারের সাথে আলাপ করিয়ে দিব! আমার মনে হয় কি, নাসির ভাইকে তুই সব খুলে বল।
ঐশি একটু ভেবে বলল, দেখি, কি করা যায়।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯
-আর শোন, ডিভোর্সের সম্ভবনা থাকলে গয়নাগাটি থাকলে আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে। বলবি, চুরি হয়ে গেছে বা ছিনতাই হয়ে গেছে।
-সেটা কিভাবে সম্ভব?
নাহলে গয়না নিয়ে যাবে, জানিস না তো! আমার আপুর ডিভোর্সের সময় আপু বলেছে, ব্যাগ ভরা গয়না ছিনতাই হয়ে গেছে। পরে ছেলেপক্ষ আর কিছু বলতে পারে নি। টাকা পয়সা দিয়ে সেটল করা হইছে।
ঐশি আবারও চিন্তায় পড়ল, এত জটিল সব কিছু, কিন্তু এহসানের সাথে সে থাকতে পারছে না। তার মন উঠে গেছে।
