Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৯ (৩)

শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৯ (৩)

শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৯ (৩)
সুমাইয়া ইসলাম নূর

গভীর মধ্যরাত।
লন্ডনের ব্যস্ত নগরী অনেক আগেই নিস্তব্ধতার চাদরে নিজেকে মুড়ে নিয়েছে। দূরের সুউচ্চ অট্টালিকাগুলোর জানালায় জ্বলতে থাকা ক্ষীণ আলো ছাড়া চারপাশে আর কোনো শব্দ নেই। কাঁচের বিশাল জানালা ভেদ করে রুপালি চাঁদের আলো এসে নরমভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মাস্টার বেডরুমজুড়ে। হালকা শীতল বাতাসে সাদা পর্দাগুলো দুলছে আপন ছন্দে, যেন প্রকৃতিও ধীরে ধীরে মহান রবের দরবারে সিজদার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিছানার একপাশে ইউভির প্রশস্ত বুকে মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে ইনায়া। ঘুমের মধ্যেও তার এক হাত শক্ত করে জড়িয়ে আছে ইউভির কোমর, যেন প্রিয় মানুষটাকে ছেড়ে এক মুহূর্তও দূরে থাকতে চায় না রমনী। কোমর ছাপিয়ে নামা হালকা লালচে আভাযুক্ত দীর্ঘ কেশরাশি এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে আছে ইউভির বুকের ওপর। নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখখানার দিকে তাকালে মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত শান্তি যেন এই একটি মুখেই আশ্রয় নিয়েছে।
কিন্তু ইউভির চোখে ঘুম নেই।
নীরবে অনেকক্ষণ নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল সে। আলতো করে ইনায়ার কপাল থেকে কয়েকটি এলোমেলো চুল সরিয়ে দিয়ে মৃদু হাসল। তারপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে বালিশে শুইয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে গেল।ওজু করে ফিরে এসে আবার বিছানার পাশে বসে ইনায়ার কপালে স্নেহভরে হাত বুলিয়ে নরম স্বরে ডাকল,

— “আদর শুনছো? ইনায়া ঘুমের ঘোরেই সামান্য নড়ে উঠল।”হুম ইউভি আবারও মৃদু হেসে বলল,
— “আদর… ওঠো। আধখোলা চোখে ইনায়া অস্পষ্ট কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলল ঘুম পাচ্ছে, বর ইউভি আদুরে ভঙ্গিতে তার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল চলো… নামাজ পড়তে হবে।।একপ্রকার জোর করেই সে ইনায়াকে ঘুম থেকে তুলে দিল।ইনায়াও আর কোনো আপত্তি করল না। চোখ কচলাতে কচলাতে ওয়াশরুমে গিয়ে ওজু করে ফিরে এলো। পরে নিল সাদা সুতির একটি থ্রি-পিস। মাথায় ওড়না টেনে শান্ত পদক্ষেপে এসে ইউভির পাশে জায়নামাজে দাঁড়াল।দু’জন একসঙ্গে তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে গেল।ঘরজুড়ে তখন শুধু ইবাদতের প্রশান্তি। পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা, সমস্ত ক্লান্তি যেন মিলিয়ে গেছে মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর সেই পবিত্র মুহূর্তে।
বেশ কিছুক্ষণ পর চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে উঠল। আজানের উত্তর দিয়ে দু’জনে একসঙ্গে ফজরের নামাজও আদায় করে নিল।নামাজ শেষে ইনায়া হাই তুলতে তুলতে ক্লান্ত কণ্ঠে বলল,”আমি ঘুমোতে গেলাম, বর…”

ইউভি মুচকি হেসে তার কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে বলল,আচ্ছা, আদর। তবে একটা কথা শুনে যাও। ইনায়া প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাতেই সে শান্ত গলায় বলল,কাল তোমাকে অফিসে যেতে হবে না। আমি একাই সব সামলে নেব। দুপুরের দিকে একবার বাসায় ফিরব। তারপর আবার বের হতে হবে। হয়তো রাতে ফিরতে বারোটা বেজে যাবে।”
একটু থেমে আবার বলল,
“আর শোনো, কাল রিটা আর টোনা বাংলাদেশ থেকে এখানে চলে আসবে। আমি তো সবসময় তোমার পাশে থাকতে পারব না। তাই ওদের এখানে নিয়ে এসেছি। তোমার নিরাপত্তা নিয়ে আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। কথাগুলো শুনে ইনায়ার হৃদয়টা অদ্ভুত এক প্রশান্তিতে ভরে উঠল।
মনে মনে সে ভাবল,রিতা চলে এলে সত্যিই অনেক কাজ সহজ হয়ে যাবে। জন্মদিনের সব প্রস্তুতিও নিশ্চিন্তে নিতে পারব। ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটিয়ে সে বলল,ঠিক আছে, বর। তুমি কোনো চিন্তা করবে না। আমি সব সামলে নিতে পারব। ইউভি আশ্বস্ত হয়ে মাথা নাড়ল। এরপর স্টাডি রুমে গিয়ে ল্যাপটপ খুলে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

ভোর গড়িয়ে সকাল হয়ে গেছে বেশ কিছু সময় আগে ।জানালার কাঁচ ভেদ করে সূর্যের সোনালি আলো ধীরে ধীরে পুরো ঘরটাকে আলোকিত করে তুলেছে।ইউভি অনেক আগেই তৈরি হয়ে নিয়েছে। যাওয়ার আগে নিজের হাতে ইনায়ার জন্য সকালের নাশতা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখল। পাশে রেখে দিল ছোট্ট একটি হাতে লেখা চিরকুট সবশেষে ঘুমন্ত ইনায়ার কপালে আলতো একটি চুম্বন এঁকে নিজেও হালকা নাশতা করে ম্যানশন থেকে বেরিয়ে গেল।ইউভির গাড়ি ম্যানশন ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই ইনায়া ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে বসল।
আজকের দিনটা তার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
দ্রুত ফ্রেশ হয়ে প্রথমেই রিটাদেরকে ফোন করল।

কোথায় পৌঁছেছ? রিটা জানাল, তারা আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যানশনে পৌঁছে যাবে।
ফোন রেখে ইনায়া এবার কল দিল রেশমা চৌধুরীকে।খোঁজখবর নেওয়ার পর একটু লজ্জা মিশ্রিত হাসি নিয়ে বলল,বড় মা পায়েসের পাশাপাশি তোমার ছেলের সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলো কী কী? আর সেগুলো কীভাবে রান্না করতে হয়, আমাকে একটু শিখিয়ে দেবে? রেশমা চৌধুরী স্নেহভরা কণ্ঠে একে একে ছেলের পছন্দের সব খাবারের নাম বলতে শুরু করলেন। প্রতিটি রান্নার রেসিপিও ধৈর্য নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন। তবে সে শুধু ভুনা খিচুরি রান্না করতে বললো ইনায়া কে
ইনায়া মনোযোগ দিয়ে একটি নোটবুকে সবকিছু লিখে রাখল।কল শেষ হতেই আর এক মুহূর্তও দেরি করল না সে।পুরো ম্যানশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমে পড়ল। কোন জায়গায় কীভাবে জন্মদিনের সাজসজ্জা হবে,সবকিছুর পরিকল্পনা নিজের হাতে করে ফেলল।এরপর আলাদা করে ইউভির জন্মদিনে পরার পোশাক সুন্দর করে গুছিয়ে রাখল। নিজের জন্যও রেশমা চৌধুরীর দেওয়া পোশাক, গয়না আর প্রয়োজনীয় সবকিছু একে একে প্রস্তুত করে রাখল।

বেশ কিছুক্ষণ আগেই রিটা আর টোনা এসে পৌঁছেছে। ইনায়া তাদের নিয়ে ম্যানশনের বাগানে বসে গল্পে মেতে আছে। হালকা শীতল বাতাসে ফুলের মিষ্টি সুবাস ভেসে বেড়াচ্ছে চারপাশে। তিনজনের হাসি-আড্ডায় বাগানের পরিবেশ যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।ঠিক সেই সময়ই রিটার ফোনে ভিডিও কল ভেসে উঠল।স্ক্রিনে ফুটে উঠল একটি নাম UVI SIR।
রিটদ সঙ্গে সঙ্গে কল রিসিভ করতেই ওপাশে দেখা গেল ইউভিকে। অফিসের ব্যস্ত পরিবেশের মাঝেও তার চোখ দুটো যেন প্রথমেই খুঁজে নিল ইনায়াকে। রিটা দূর থেকেই ক্যামেরা ঘুরিয়ে ইনায়াকে দেখাতে লাগল।দূরে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে টোনার সঙ্গে গল্প করছে ইনায়া।সেই দৃশ্যটা দেখেই ইউভির ঠোঁটের কোণে নিঃশব্দে ফুটে উঠল এক প্রশান্তির হাসি। সারাদিনের ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
শান্ত গলায় সে বলল,রিটা, ওর খেয়াল রেখো। আমি একটু বাইরে একটা প্রজেক্টের কাজে যাচ্ছি। ফিরতে অনেক রাত হয়ে যাবে। রিতা সম্মানের সঙ্গে মাথা নেড়ে বলল,”জি, স্যার।
এরপর ইউভি আর একবার দূর থেকে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে কল কেটে দিল।কল শেষ হতেই রিটা হঠাৎ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠল,”ম্যাম! ইউভি স্যার আজ বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হবে। আপনার কাজ তো আরও সহজ হয়ে গেল!”

কথাটা শুনেই ইনায়ার চোখে দুষ্টু এক ঝিলিক খেলে গেল।মুহূর্তের মধ্যেই সে যেন মনে মনে পুরো পরিকল্পনাটা সাজিয়ে ফেলল।আজকের রাতটা হবে শুধুই তার ইউভির জন্য।সে সিদ্ধান্ত নিল, তাদের ঘরটাকে আজ একেবারে ক্যান্ডেল-লাইট ডিনারের মতো করে সাজাবে।তারপর এক মুহূর্তও দেরি না করে সবাই মিলে কাজে লেগে গেল।
ইনায়া প্রথমেই পুরো রুমটা নিজের হাতে সুন্দর করে গুছিয়ে নিল। কোথায় কীভাবে সাজাবে, কোন জায়গায় কী থাকবেসবকিছু নিখুঁতভাবে ঠিক করে নিল সে। প্রতিটি কাজেই ফুটে উঠছিল তার ভালোবাসা আর যত্নের ছাপ।

এরপর সে সোজা কিচেনে চলে গেল।
আজ ইউভির পছন্দের প্রতিটি খাবার সে নিজের হাতেই রান্না করবে।ভুনা খিচুড়ি, পায়েস একটার পর একটা রান্না করতে শুরু করল। পাশাপাশি নিজের হাতেই নানা ধরনের ডেজার্ট তৈরি করে যত্ন করে ফ্রিজে রেখে দিল।মাঝে মাঝেই কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে ভিডিও কলে নুসরাত চৌধুরী, সাবিহা চৌধুরী আর রেশমা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে একেকটা রেসিপির খুঁটিনাটি জেনে নিচ্ছিল। রিটা আর টোনাও পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করছে।
দেখতে দেখতে রান্না করতে করতে সন্ধ্যা নেমে এল।সব খাবার সুন্দর করে গুছিয়ে রেখে ইনায়া ধীরে ধীরে নিজের রুমে চলে গেল।

রাত প্রায় বারোটা বাজে।
লন্ডন শহর তখ ন নিস্তব্ধতার চাদরে মোড়ানো। দূরে টেমস নদীর বুকে শহরের অসংখ্য আলোর প্রতিবিম্ব নেচে বেড়াচ্ছে। আকাশজুড়ে জ্বলজ্বল করছে অসংখ্য তারা,জানালার ওপাশে বিগ বেনের ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে রাত বারোটার ঘোষণা দিল।
কিন্তু ইউভির কোনো খোঁজ নেই।পুরো ম্যানশন নিস্তব্ধ হয়ে আছে । কেবল তাদের বেডরুমটাই যেন ভালোবাসার এক স্বপ্নরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
ইনায়া নিজের হাতে পুরো ঘরটি সাজিয়ে তুলেছে অসংখ্য মোমবাতির আলোয়। ছোট-বড় কাঁচের ক্যান্ডেল হোল্ডারে জ্বলতে থাকা শত শত মোমবাতির সোনালি আলোই পুরো ঘরজুড়ে এক অপার্থিব আবহ তৈরি করেছে। বিছানার চারপাশে, মেঝেতে, জানালার ধারে, ড্রেসিং টেবিলের পাশে—যেদিকেই চোখ যায়, শুধু আলো আর আলো।

লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো পথ। ডাইনিং টেবিলে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দু’জনের ক্যান্ডেল-লাইট ডিনার। ইউভির পছন্দের প্রতিটি খাবার নিখুঁতভাবে সাজানো, যেন শুধু তার অপেক্ষাতেই রয়েছে।সবকিছু প্রস্তুত…
শুধু মানুষটা নেই।সাজগোজ শেষ করে ইনায়া নীরবে বসে আছে। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। প্রতিটি মিনিট যেন তার কাছে এক একটি যুগের সমান দীর্ঘ মনে হচ্ছে।ঠিক তখনই নিচতলা থেকে রিটার চিৎকার ভেসে এলো ম্যাম! স্যার এসে গেছেন! তাড়াতাড়ি রেডি হন!
কথাটা শুনেই ইনায়ার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠল।সে দ্রুত পুরো রুমের লাইটগুলো নিভিয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যেই ঘরজুড়ে শুধু মোমবাতির নরম আলো জ্বলতে লাগল। তারপর হাতে ছোট্ট একটি জ্বালানো মোমবাতি নিয়ে দরজার আড়ালে নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।এদিকে সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে ইউভি ম্যানশনের ভেতরে ঢুকতেই রিটা আর টোনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।ভ্রু কুঁচকে সে জিজ্ঞেস করল,আদর কোথায়? রিটা আর টোনা একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।তারপর রিটা একটু ইতস্তত করে নিচু গলায় বলল,স্যার… ম্যামের শরীরটা খুব একটা ভালো না।

অনেক অসুস্থ লাগছিল তাই ঘুমিয়ে পড়েছেন। কথাটা শুনেই ইউভির মুখের সমস্ত রক্ত যেন মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল।
উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে উঠল, কী বললে আমার আদর অসুস্থ আগে বলোনি কেন? ইডিয়ট! আমার আদরের কী হয়েছে? রিটা, কী হয়েছে আমার আদর এর ? কথা বলো না কেন ! আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকল না সে।প্রায় দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের সামনে এসে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল।ঘরটা অন্ধকার।চারপাশে শুধু মোমবাতির ক্ষীণ আলো জ্বলছে।ইউভির বুকের ধুকপুকানি যেন আরও বেড়ে গেল।উদ্বিগ্ন কণ্ঠে ডেকে উঠ আদর…! আই’ম রিয়েলি সরি আমি তোর খেয়াল রাখতে পারিনি। আদর কোথায় তুই? ঠিক সেই মুহূর্তেই…

অন্ধকারের মাঝখান থেকে একটি ছোট্ট জ্বলন্ত মোমবাতির আলো ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো।
মোমবাতির আলোয় ভেসে উঠল ইনায়ার মুখ।
রেশমা চৌধুরীর দেওয়া সেই শাড়িতে আজ তাকে যেন বাস্তবের কোনো মানুষ নয়, বরং আকাশ থেকে নেমে আসা এক অপ্সরী মনে হচ্ছে। পরিপাটি খোঁপায় গুঁজে রাখা হয়েছে লাল গোলাপ ফুল, গলাভর্তি স্বর্ণের গয়না হাত ভরতি স্বর্ণের চুরি।
হাতে এবং পায়ে লাল আলতা পরেছে পায়ে পরেছে ইউভির দেওয়া পায়েল জোরা। মুখে লাজুক মিষ্টি হাসি মোমবাতির নরম আলো তার সৌন্দর্যকে আরও অলৌকিক করে তুলেছে।ইউভি স্থির হয়ে গেল।চোখের পলক ফেলতেও যেন ভুলে গেল।
মনে মনে শুধু একটাই কথা প্রতিধ্বনিত হতে লাগল—
“এই পাগলটার জন্য… আমি একদিন সত্যিই পাগল হয়ে যাব। আল্লাহ, এত সুন্দর কাউকে কীভাবে সৃষ্টি করলে আমার জন্য শুধু মাএ আমার জন্য !”
সে এতটাই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল যে, কখন ইনায়া ধীরে ধীরে তার একেবারে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটাও তার খেয়াল ছিল না।ইনায়া মিষ্টি হেসে নরম কণ্ঠে বলল

শুভ জন্মদিন , বর। আল্লাহ তোমাকে সুস্থ রাখুন, দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন, প্রতিটি হালাল স্বপ্ন পূরণ করুন। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত হয়ে তুমি সবসময় এভাবেই আমার পাশে থেকো।
কথা শেষ করেই ইনায়া আলতো করে এগিয়ে এসে নিজের ঠোঁট দিয়ে ইউভির ঠোঁট স্পর্শ করল এক ক্ষণিকের ভালোবাসার পরশে।সেই স্পর্শেই যেন ইউভির ধ্যান ভাঙল।পরমুহূর্তেই ইনায়া দুই হাত বাড়িয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল ভালোবাসি, বর… খুব, খুব ভালোবাসি।”
ইউভির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
কাঁপা কণ্ঠে সে ধীরে ধীরে বলল এইভাবে এই রূপে কেন এসেছিস তুই, আদর? জানিস আজ তোকে দেখে মনে হচ্ছে, পুরো দুনিয়ার সমস্ত সৌন্দর্য তুই একাই চুরি করে নিয়েছিস আমি চোখ সরাতে পারছি না। আমার নিঃশ্বাস পর্যন্ত আটকে যাচ্ছে।”

সে আলতো করে ইনায়ার দুই গাল নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে গভীর মুগ্ধতায় তাকিয়ে রইল।
বিশ্বাস কর সারাদিন হাজার মানুষের মাঝে থেকেও মনটা শুধু তোকে খুঁজেছে। এখন তোকে সামনে দেখে মনে হচ্ছে, আমি যেন নিজের পুরো পৃথিবীটাকেই ফিরে পেয়েছি। যদি সময়কে আজ থামিয়ে রাখতে পারতাম… তাহলে এই মুহূর্তটাকে কোনোদিন শেষ হতে দিতাম না, আদর।”
ইউভি আলতো করে ইনায়ার কপালে নিজের কপাল ছুঁইয়ে মৃদু হেসে বলল ধন্যবাদ বউ এভাবে আমার জন্মদিনের কথা আগে কেও মনে রাখিনি।

ইনায়া আবারও তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপর তার বুকেই মুখ লুকিয়ে নরম স্বরে বলল,
সারাদিন সবার কতটা খেয়াল রাখো তুমি! কিন্তু নিজের কথাটাই একদম ভুলে যাও। ইউভি মুচকি হেসে আদর করে ইনায়ার নাকটা আলতো টেনে দিল।আমার কথা ভাবার জন্য তো তুমি আছো, তাই না? কথাটা বলেই চারপাশে ধীরে ধীরে চোখ বুলিয়ে নিল সে।মোমবাতির আলো, গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো প্রতিটি কোণ সবকিছু দেখেই তার ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল বাহ, মিসেস চৌধুরী এত সুন্দর করে কখন সাজিয়েছ? সত্যিই… অসাধারণ হয়েছে। ইনায়া খিলখিল করে হেসে উঠলো।আমি একা করিনি, বর। রিটা আর টোনাও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। এরপর সে টেবিল থেকে কেকটা তুলে এনে ইউভির সামনে ধরল।
চোখে-মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল,কেক কাটো, বর।”
ইউভি কেকটার দিকে তাকিয়ে আবারও মুচকি হেসে উঠল।
কেকের ওপর সুন্দর করে লেখা

“Happy Birthday, Bor.”লেখাটা পড়েই সে ভ্রু তুলে ইনায়ার দিকে তাকাল।কী ব্যাপার, মিসেস চৌধুরী? আজকাল একটু বেশি বেশি ‘বর… বর…’ করছ না? ইনায়া লাজুক হেসে মাথা নিচু করল।তারপর ধীরে ধীরে চোখ তুলে বলল,তোমাকে ‘বর’ বলে ডাকতে আমার খুব ভালো লাগে। কেন জানি মনে হয়… এই ডাকটার মধ্যেই আমার সমস্ত অধিকার, সমস্ত ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। ইউভির চোখদুটো মুহূর্তেই কোমল হয়ে উঠল।সে আর কিছু না বলে কেক কাটল।

প্রথম টুকরোটা নিজের হাতে তুলে খুব যত্ন করে ইনায়ার মুখের সামনে ধরল।ইনায়া মুচকি হেসে ছোট্ট এক কামড় দিতেই ইউভি হঠাৎ এক টানে তাকে নিজের একেবারে কাছে নিয়ে এল।দু’জনের মাঝে থাকা সামান্য দূরত্বটুকুও মিলিয়ে গেল।ইউভি ধীরে ধীরে ইনায়ার আরও কাছে এগিয়ে এলো। তার গভীর দৃষ্টি স্থির হয়ে রইল ইনায়ার গোলাপি ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা ছোট্ট কেকের টুকরোটার ওপর। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে সে এক মুহূর্তও দেরি করল না। আলতো করে ইনায়ার থুতনি তুলে ধরে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল তার ঠোঁটে। ক্ষণিকের সেই কোমল চুম্বনের মাঝেই ইনায়ার ঠোঁটে লেগে থাকা কেকের ছোট্ট অংশটুকু নিজের করে নিল। তারপর ধীরে ধীরে সরে এসে মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল,কেকটা তো মিষ্টিই ছিল… তবে তোমার ঠোঁটে লেগে থাকায় আরও মিষ্টি হয়ে গিয়েছিল, আদর
ইনায়া লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল।তার গাল দুটো মুহূর্তেই গোলাপের পাপড়ির মতো লাল হয়ে উঠল।
ইউভি আলতো করে তার থুতনিটা আঙুলে তুলে মুখটা নিজের দিকে ফেরাল।গভীর মুগ্ধতায় কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নরম কণ্ঠে বলল,আজ তোমাকে কেমন যেন অনেক বড় বড় লাগছে… একদম গিন্নিদের মতো। এত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যেও না, আদর। আমার কাছে তুমি সবসময় সেই দুষ্টু, হাসিখুশি, ছোট্ট পাগল মেয়েটাই থাকো। যে সারাক্ষণ আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, অভিমান করবে, আবার একটু পরেই নিজেই এসে জড়িয়ে ধরবে। তুমিঅন্তত আমার কাছে ম্যাচিউর হতে যেও না আদর।

একটু থেমে সে ইনায়ার কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে ফিসফিস করে বলল তবে একটা কথা
জানো? এই সাজে, এই হাসিতে, এই লাজুক চোখে তুমি আমার পুরো পৃথিবীটাকেই আরও সুন্দর করে দিয়েছো আদর।”ইউভির হাতটা আলতো করে ধরে ইনায়া তাকে ডাইনিং টেবিলের সামনে নিয়ে এসে দাঁড় করাল।
মোমবাতির নরম আলোয় সাজানো টেবিলজুড়ে সারি সারি খাবার। ভুনা খিচুড়ি, পায়েস, নানা রকম ডেজার্ট প্রতিটি পদ এত যত্ন করে সাজানো যে, দেখলেই বোঝা যাচ্ছে প্রতিটি কণায় কণায় মিশে আছে ভালোবাসা।ইউভি প্রথমে বিস্ময়ে খাবারগুলোর দিকে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে দৃষ্টি তুলে ইনায়ার মুখের দিকে তাকাল।কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,
এসব কে রান্না করেছে? ইনায়া লাজুক হেসে মাথা নিচু করল।খুব আস্তে বলল,

— “তোমার বউ।”
ইউভি যেন বিশ্বাসই করতে পারল না।অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,রিয়েলি, আদর?”
ইনায়া মাথা নিচু রেখেই মৃদু হেসে বলল,হুম।”
পরের মুহূর্তেই ইউভি শিশুর মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে, আদর। খেতে দাও। ইনায়ার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।সে ধীরে ধীরে ইউভির জন্য খাবার পরিবেশন করতে লাগল।
প্রথমে এক প্লেট ভুনা খিচুড়ি তুলে দিল।ইউভি প্রথম লোকমাটা মুখে দিতেই হঠাৎ থেমে গেল।তার মুখের অভিব্যক্তি দেখে ইনায়ার বুক ধক করে উঠল।
উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,ভালো হয়নি… তাই না, বর?”
এক মুহূর্তও দেরি না করে ইউভি আলতো টানে ইনায়াকে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে নিল।
তারপর প্লেট থেকে এক লোকমা তুলে ইনায়ার মুখের সামনে ধরে বলল,নিজেই খেয়ে দেখো।”
ইনায়া ছোট্ট এক কামড় দিয়ে লজ্জিত মুখে বলল,

— “অতটাও ভালো হয়নি। বড় মায়ের মতো তো হয়নি।ইউভি আবার এক লোকমা মুখে দিয়ে ধীরে ধীরে চিবোতে লাগল এরপর ইউভি চামচটা নামিয়ে রেখে ইনায়ার হাত দুটো নিজের হাতে তুলে নিল। ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে।আজকের এই খাবারের স্বাদ আমি কোনোদিন ভুলব না, আদর। কারণ এতে আছে তোমার সময়, তোমার যত্ন আর আমার জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এই স্বাদ পৃথিবীর কোনো পাঁচতারা হোটেলও দিতে পারবে না।”ইনায়ার চোখ দুটো আনন্দে চিকচিক করে উঠল।এরপর সে পায়েসের বাটিটা ইউভির হাতে তুলে দিল।ইউভি হাসিমুখেই এক চামচ, দুই চামচ করে খেতে লাগল।একসময় চোখ বন্ধ করে যেন স্বাদটা অনুভব করল।
তারপর ধীরে ধীরে ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,একদম তোমার মতোই মিষ্টি, আদর খেয়ে মন ভরছে না মনে হচ্ছে খেতেই থাকি।”
ইনায়া বড় বড় চোখ করে তার দিকে তাকিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল,অসভ্য! ঠোঁটকাটা লোক একটা। খেতে খেতেও এসব কথাই মাথায় আসে?”

ইউভি হেসে ফেলল।
ইউভি ধীরে ধীরে ইনায়ার হাতদুইটা নিজের মুঠোয় নিল। তারপর একদম মনোযোগ দিয়ে হাতের তালু, আঙুলের ফাঁক আর কবজি পর্যন্ত ভালো করে দেখতে লাগলো ইনায়া অবাক হয়ে হেসে বলল,
কী দেখছো এভাবে?।ইউভি। অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,দেখছি কোথাও হাত পুড়েছে কি না… ছুরিতেন আঙুল কেটেছে কি না। ইনায়া মৃদু হেসে বলল,কিছুই হয়নি। ইউভি এবার আলতো করে তার হাতের ওপর ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
হলেও তো আমাকে বলবে না। তাই নিজেই দেখে নিচ্ছি। সে একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলল,
আমার জন্য রান্না করতে গিয়ে তোমার হাতের সামান্য ক্ষতও আমি মেনে নিতে পারব না, আদর। খাবারের চেয়ে তোমার এই দুটো হাত আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।”
এরপর হঠাৎই যেন কিছু মনে পড়তেই ইউভি খাওয়া থামিয়ে উঠে গেল।কয়েক মুহূর্ত পর হাতে নান্দনিকভাবে মোড়ানো একটি প্রিমিয়াম গিফট বক্স নিয়ে ফিরে এলো।বাক্সটা আলতো করে ইনায়ার হাতে তুলে দিয়ে মৃদু হেসে বলল,

আমিও তোমার জন্য একটা ছোট্ট উপহার এনেছি, আদর। ইনায়া কৌতূহলী চোখে ইউভির দিকে তাকিয়ে রইল।ইউভি ধীর কণ্ঠে বলল,আজ আমাদের ASU ব্র্যান্ডের নতুন সিগনেচার কালেকশন লঞ্চ হয়েছে। পুরো কালেকশনের মধ্যে এই গাউনটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।.সে বাক্সটার দিকে তাকিয়ে আবার বলল,এটা সাধারণ কোনো কাপড় নয়, আদর। ইতালিয়ান প্রিমিয়াম সিল্ক-স্যাটিন আর আল্ট্রা-ফাইন অর্গানজার নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি। এতটাই কোমল যে ছুঁলেই মনে হবে মেঘের এক টুকরো স্পর্শ করে ফেলেছ। এর প্রতিটি সেলাই, প্রতিটি কারুকাজ হাতে তৈরি, আর প্রতিটি ডিটেইল এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন পরিধানকারী নিজেকে রাজকীয় অনুভব করে।”
ইউভি গভীর মুগ্ধতায় ইনায়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,এই কালেকশনের প্রথম পোশাকটা আমি পৃথিবীর আর কাউকে নয়… শুধু আমার বউকেই পরাতে চেয়েছি।
একটু থেমে মুচকি হেসে আবার বলল,

আমি চাই, এই গাউনটা দেখলেই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর কথা মনে পড়ুক। তাই এটাকে সাধারণ একটা পোশাক হিসেবে নয়, আমাদের বিশেষ স্মৃতিগুলোর জন্য তুলে রেখো।”
সে আলতো করে গিফট বক্সটা বুকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল ঠিক আছে… শুধু তোমার জন্যই তুলে রাখব।”
ইউভি প্যাকেটটার ওপর আলতো হাত রেখে বলল,
পরবে তো, আদর?”
ইনায়া ধীরে ধীরে প্যাকেটটা নিজের হাতে নিল।

কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে থেকে মৃদু হেসে বলল পরব, বর যেদিন আমি তোমাকে সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজটা দিতে পারব সেদিন। যদি কোনোদিন আল্লাহ আমাকে তোমার সন্তানের মা হওয়ার সৌভাগ্য দেন তোমার ইচ্ছের মা সেদিন এই গাউনটাই পরব।”কথাগুলো শুনেই ইউভির হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক ব্যথা মোচড় দিয়ে উঠল।সে নিঃশব্দে ইনায়ার দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।তারপর খুব আস্তে বলল,
“আমার আর তোমার মাঝখানে এই ‘ইচ্ছে’ শব্দটা কে আনছ কেন?ইউভি কপালটা আলতো করে ইনায়ার কপালে ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিল।

তুমি কি সত্যিই ভাবো, আমার জীবনের কোনো ইচ্ছে কিছুর সঙ্গে তোমার তুলনা হতে পারে?
“শোনো… আল্লাহ আমাকে যত নিয়ামত দিয়েছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়ামত তুমি। তোমাকে পাওয়ার পর আমার আর কোনো অপূর্ণতা নেই।”
তার কণ্ঠে এবার স্পষ্ট ব্যথার ছোঁয়া ফুটে উঠলো
“হ্যাঁ… যদি কোনোদিন আল্লাহ আমাদের সেই সুখ দান করেন, তাহলে সেজদায় পড়ে হাজারবার শুকরিয়া আদায় করব। কিন্তু যদি না-ও দেন সেটার জন্য আমি অসন্তুষ্ট নই সে ইনায়ার হাতটা শক্ত করে নিজের বুকের ওপর চেপে ধরল।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৯ (২)

— “আমরা দু’জন তো একসঙ্গেই খুব ভালো আছি। আমার কাছে তুমিই আমার সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আর কাউকে পেতেই হবে—এমন কোনো শর্ত আমি আমাদের ভালোবাসার ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না। প্লিজ এমন কথা আর বলো না।”
ইউভির কণ্ঠে লুকিয়ে থাকা কষ্টটা ইনায়ার বুকেও গিয়ে বিঁধল।সে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিল।
অগোচরেই চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রুবিন্দু হাতের আঙুলে মুছে ফেলল।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৮০