শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৯ (২)
সুমাইয়া ইসলাম নূর
— “এই যে! এত কিছুর আয়োজন করেছিস, কিন্তু মন্টু চার চায়ের ব্যবস্থা করিসনি কেন, কুত্তি? কত দিন হয়ে গেল একসঙ্গে আইসক্রিম আর চা খাই না!”
পরিচিত সেই কণ্ঠস্বর কানে যেতেই তুবা আর পিয়াসা দু’জনেই বিস্ময়ে একসঙ্গে পেছন ফিরে তাকাল।পরমুহূর্তেই দু’জনের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।তাদের ঠিক পেছনেই ঠোঁটের কোণে দুষ্টু এক হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইনায়া।গাঢ় সবুজ রঙের কারুকাজ করা লেহেঙ্গায় আজ তাকে অপার্থিব সুন্দর লাগছে। কোমর ছাপিয়ে নামা হালকা লালচে আভাযুক্ত দীর্ঘ কেশরাশি একপাশে ঢিলে বেণী করে রাখা। আর সেই বেণীজুড়ে গুঁজে দেওয়া ছোট ছোট সাদা বেবি’স ব্রেথ ফুল যেন তার সৌন্দর্যে আরও একরাশ কোমলতা ছড়িয়ে দিয়েছে। চোখে কালো সানগ্লাস, পায়ে সাদা কেডস—সব মিলিয়ে ভীষণ সুন্দর লাগছে তাকে।
কয়েক সেকেন্ড কেউই যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না।হঠাৎই তুবা আর পিয়াসা একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল বেবি…!”
পরের মুহূর্তেই দু’জন দৌড়ে গিয়ে ইনায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।তিনজনই একে অপরকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে আছে যেন বহুদিনের সমস্ত অপেক্ষার অবসান হয়েছে। তিন জোড়া চোখেই তখন আনন্দাশ্রু চিকচিক করছে।তুবা কাঁদতে কাঁদতেই বলল,তুই… লন্ডন যাসনি? ইনায়া আলতো করে তার চোখের পানি মুছে দিয়ে মিষ্টি হেসে বলল,তোর বিয়েতে আমি থাকব না… সেটা কী করে হয়?
কথাটা শুনেই তুবা আর পিয়াসা আবারও তাকে জড়িয়ে ধরল।তিন বন্ধবির এই অপ্রত্যাশিত মিলনে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এহসান বাড়ি আনন্দে মুখর হয়ে উঠল।এদিকে ইউভিও ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে পরিবারের সবার পাশে দাঁড়াল। সামনে তিন বন্ধবির উচ্ছ্বাস আর আনন্দভরা মুহূর্তটা দেখে তার ঠোঁটেও তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।রেশমা চৌধুরী নিজের পাশে ছেলেকে দেখে অবাক হয়ে বললেন,ইউভি, বাপ আমার ! তোরা লন্ডন যাসনি? তাহলে দুইটা দিন কোথায় ছিলি?
ইউভি মুচকি হেসে শান্ত গলায় বলল,আমার বাড়িতে ছিলাম, মা। তোমার ছেলের যে একটা বাড়ি আছে জানোই তো। রেশমা চৌধুরী আদর করে ছেলের পেটে হালকা একটা গুঁতো দিয়ে হেসে বললেন,বড্ড শয়তান হয়েছিস তোরা! তবে সারপ্রাইজটা সত্যিই দারুণ ছিল। এইভাবে মাঝেমধ্যে লন্ডন থেকে এসে আমাদেরও এমন সারপ্রাইজ দিবি, বাবা। ইউভি মৃদু হেসে মাথা নেড়ে বলল,ঠিক আছে, মা। এরপর রেদোয়ানসহ চৌধুরী পরিবারের সবাই আড্ডায় মেতে উঠল। হাসি, গল্প, খুনসুটি আর আনন্দে জমে উঠল পুরো অনুষ্ঠান। অন্যদিকে গান আর নাচের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠল পুরো এহসান বাড়ি।
দেখতে দেখতেই রাত বারোটা বেজে গেল।
ইউভি ধীরে ধীরে ইনায়ার কাছে এসে নরম গলায় বলল আদর… রাত বারোটা বেজে গেছে। এবার আমাদের যেতে হবে। ইনায়া মাথা নেড়ে তুবার দিকে এগিয়ে গেল।তুবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
বেবি… তুই খুশি তো? তুবা ইনায়ার বুকেই মুখ লুকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,খুব খুশি।”ইনায়া মৃদু হেসে বলল,তাহলে আমি যাই। কাল সন্ধ্যার আগেই ওর মিটিং আছে। আমাদের পৌঁছাতে হবে।”
তুবা স্নিগ্ধ কণ্ঠে উত্তর দিল,আমি তোর কাছ থেকে যা পেয়েছি… সেটাই আমার জন্য অনেক। এরপর সে এক হাতে পিয়াসার আর অন্য হাতে ইনায়ার হাত শক্ত করে ধরে আবেগভরা কণ্ঠে বলল,আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন তোরা দু’জন। আমার দুইটা কুত্তি। আমাদের বন্ধুত্ব যেন সারাজীবন এভাবেই অটুট থাকে।।ইনায়া মুচকি হেসে বলল,
— “থাকবে। আমরা আমাদের ক্যারিয়ারেও সফল হব, আবার পরিবার, বন্ধুত্ব সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দেব।
এরপর ইউভি সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বলল,
— “আমরা আগামী মাসেই আবার আসব। তোমরা কেউ চিন্তা করো না। ইনায়াও একে একে সবার কাছ থেকে বিদায় নিল।হাসিমুখেই সবাই তাদের বিদায় জানাল।কারণ পরিবারের প্রতিটি মানুষই জানে—ইনায়া যদি ইউভির পাশে থাকে, তাহলে ইউভি ভালো থাকবে। আর ইউভি ভালো থাকলেই সে নিজের সমস্ত ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে ইনায়াকেও সবসময় ভালো রাখবে।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আকাশপথের ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে অবশেষে লন্ডনের মাটিতে অবতরণ করল ইউভি ও ইনায়া।বিমানবন্দরের বিশাল কাঁচঘেরা টার্মিনাল পেরিয়ে বাইরে বেরোতেই হালকা শীতল বাতাস এসে আলতো করে ছুঁয়ে গেল দু’জনকে। শরতের শেষ আর শীতের শুরুর এই সময়টায় পুরো লন্ডন যেন এক ভিন্ন সৌন্দর্যে সেজে উঠেছে। আকাশজুড়ে ধূসর-সাদা মেঘের ভেলা, কোথাও কোথাও মৃদু রোদের লুকোচুরি করছে রাস্তার দু’পাশে সারি সারি ম্যাপল আর ওক গাছের পাতাগুলো সোনালি, কমলা আর লালচে রঙে রাঙিয়ে তুলেছে চারপাশ। ব্যস্ত নগরী হয়েও শহরটার প্রতিটি কোণে যেন এক অদ্ভুত শৃঙ্খলা আর অভিজাত্যের ছাপ ফুটে উঠেছে।
বাইরে ইউভির নিজস্ব দেহরক্ষীরা আগে থেকেই একটি কালো মার্সিডিজ-বেঞ্জ নিয়ে অপেক্ষা করছিল। ইউভি ও ইনায়া বাইরে বেরিয়ে আসতেই তারা সম্মানসূচক ভঙ্গিতে মাথা নত করল। ইউভি সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাদের অভিবাদনের জবাব দিয়ে ইনায়ার জন্য গাড়ির দরজাটি খুলে দিল। ইনায়া গাড়িতে উঠে বসতেই ইউভিও তার পাশে গিয়ে বসল। পরমুহূর্তেই মার্সিডিজ-বেঞ্জটি ধীরে ধীরে গতি নিয়ে রাতের আলোকসজ্জায় মোড়া শহরের পথে এগিয়ে চলল।
জানালার বাইরে মুগ্ধ চোখে সবকিছু দেখছিল ইনায়া। বিশাল কাঁচঘেরা অট্টালিকা, ঐতিহ্যবাহী ইটের তৈরি ভবন, সুশৃঙ্খল যানবাহন আর ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন রাস্তা—সবকিছুই তার কাছে নতুন, অচেনা অথচ ভীষণ আকর্ষণীয় লাগছে ।বেশ কিছুক্ষণ পর গাড়িটি এসে থামল ইউভির ব্যক্তিগত ম্যানশনের সামনে।উঁচু লোহার স্বয়ংক্রিয় গেট ধীরে ধীরে খুলে যেতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল রাজকীয় এক প্রাসাদসম ম্যানশন। সাদা আর ধূসর পাথরের নকশায় নির্মিত তিনতলা বাড়িটি যেন আধুনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। সামনের বিস্তীর্ণ সবুজ লন নিখুঁতভাবে ছাঁটা। চারপাশে রঙিন টিউলিপ, গোলাপ, ল্যাভেন্ডার আর সাদা লিলির বাগান।
মাঝখানে মার্বেলের ফোয়ারা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ঝরে পড়ছে স্বচ্ছ জল। পুরো বাড়ির চারপাশে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, তবু পরিবেশজুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।গাড়ি থামতেই কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে সম্মানের সঙ্গে ইউভিকে অভিবাদন জানিয়ে সব লাগেজ ভেতরে নিয়ে গেল।ইউভি আলতো করে ইনায়ার হাত ধরে ম্যানশনের ভেতরে প্রবেশ করল।ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল বিশাল ডাবল-হাইট লবি। ঝুলছে ক্রিস্টালের বিশাল ঝাড়বাতি, মেঝেজুড়ে ইতালিয়ান সাদা মার্বেল, দেয়ালে দামি শিল্পকর্ম আর অভিজাত আসবাবপত্রে সাজানো পুরো বাড়ি। বড় বড় কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের সবুজ প্রকৃতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
সব লাগেজ নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে ইউভি ধীরে ধীরে ইনায়ার সামনে এসে দাঁড়াল।মৃদু হেসে তার গালে আলতো হাত রেখে বলল,ক্লান্ত লাগছে, আদর? তুমি একটু রেস্ট নাও।”কথাটা বলেই ঘড়ির দিকে তাকাল।তারপর নরম গলায় বলল,আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। এখনই বের হতে হবে।”
ইনায়া নিজের ক্লান্তি আড়াল করে ঠোঁটে ছোট্ট হাসি ফুটিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,না, আমি ঠিক আছি। আমিও তোমার সঙ্গে যাব। ইউভি কয়েক সেকেন্ড তার মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
— “ওকে, আদর। তাহলে চলো। এরপর দু’জন দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিল।লন্ডনের হালকা শীতের কথা মাথায় রেখে ইউভি গাঢ় কালো স্যুটের সঙ্গে লম্বা উলের ওভারকোট পরে নিল। গলায় হালকা ধূসর স্কার্ফ, হাতে কালো লেদারের গ্লাভস আর কালো জুতো সব মিলিয়ে ব্যক্তিত্বে ফুটে উঠল এক গাম্ভীর্য।
অন্যদিকে ইনায়া পরল অফ-হোয়াইট রঙের লম্বা উলের কোট, ভেতরে হালকা বেইজ রঙের পোশাক। গলায় নরম পশমি স্কার্ফ, হাতে গ্লাভস আর পায়ে হাঁটু পর্যন্ত লম্বা বুট। খোলা চুলগুলো শীতল বাতাসে আলতো দুলছিল, আর তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য যেন শীতের বিকেলটাকেও আরও মায়াময় করে তুলেছে।
কিছুক্ষণ পর দু’জনে গাড়িতে উঠে রওনা দিল।
লন্ডনের ব্যস্ত সড়ক পেরিয়ে গাড়িটি এসে থামল শহরের বাণিজ্যিক এলাকার এক বিশাল কাঁচঘেরা বহুতল ভবনের সামনে।এটাই ছিল ইউভির কোম্পানির প্রধান কার্যালয়।আকাশ ছুঁতে চাওয়া সুউচ্চ ভবনটির সম্পূর্ণ বহির্ভাগ নীলাভ কাঁচে মোড়ানো। প্রবেশদ্বারের সামনে সারিবদ্ধভাবে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। বিশাল ডিজিটাল ডিসপ্লেতে কোম্পানির লোগো জ্বলজ্বল করছে। চারপাশে ব্যস্ত নির্বাহী কর্মকর্তা, কর্মচারী আর বিলাসবহুল গাড়ির আনাগোনায় পুরো পরিবেশটিই যেন আন্তর্জাতিক করপোরেট জগতের ক্ষমতা, আভিজাত্য আর সফলতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠেছে ।
সম্পূর্ণ কাঁচে ঘেরা কনফারেন্স রুমের একপাশ থেকে পুরো লন্ডন শহরটাকে পাখির চোখে দেখা যাচ্ছিল। মাঝখানে দীর্ঘ ওভাল আকৃতির টেবিল, চারপাশে বসে আছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও কোম্পানির পরিচালকরা। দেয়ালের ডিজিটাল স্ক্রিনে একের পর এক প্রজেক্টের তথ্য ভেসে উঠছে।ইউভি নিজের নির্ধারিত আসনে বসে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুরো মিটিং পরিচালনা করছিল। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি বক্তব্যে ফুটে উঠছিল একজন দক্ষ ব্যবসায়ী নেতার বিচক্ষণতা।
সবার বিস্ময়ের কারণ হয়ে উঠেছিল ইনায়াও।
সে ইউভির পাশেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বসে ছিল। প্রয়োজনের সময় নিখুঁত পেশাদারিত্বে নিজের মতামতও তুলে ধরছিল। বিভিন্ন নথিপত্র, প্রেজেন্টেশন আর আলোচনার প্রতিটি বিষয় সে গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিল। তার মার্জিত আচরণ, পরিমিত কথাবার্তা আর স্মার্ট উপস্থাপনা উপস্থিত সবার মন জয় করে নিল।
মিটিং শেষ হওয়ার পর কয়েকজন বিদেশি ব্যবসায়ী এগিয়ে এসে ইউভির সঙ্গে করমর্দন করলেন।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
মিটিং শেষ করে দু’জনে গাড়ি না নিয়ে হাঁটতে বের হলো। লন্ডনের নিরিবিলি এক রাস্তা ধরে পাশাপাশি হেঁটে চলেছে তারা দুজনে। দু’পাশে সারি সারি ল্যাম্পপোস্টের হলদে আলো, হালকা শীতল বাতাস বইছে দূরে কোথাও মৃদু সুরে বাজছে কোনো রাস্তায় শিল্পীর বেহালা।হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ ইউভি থেমে গেল।ইনায়া আরও কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে বুঝতে পারল পাশে ইউভি নেই।সে পেছন ফিরে অবাক হয়ে বলল,কী হলো? দাঁড়িয়ে পড়লে কেন?”
ইউভি কোনো উত্তর দিল না।শুধু ক্লান্ত মুখে নিজের দুই হাত সামান্য ছড়িয়ে ইশারায় বলল,
— “ভীষণ ক্লান্ত লাগছে, বউ… বুকে আসো।”
ইনায়া ঠোঁট চেপে মৃদু হেসে বলল,
এই মূহুর্তে ? ইউভি শিশুর মতো আবদার করে মাথা নেড়ে বলল হুম ইনায়া রাস্তার একপাশে একটি বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে দুই হাত ওপরে তুলে নরম গলায় বলল,বুকে না… পিঠে নাও।কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ইউভির ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল।
এক মুহূর্তও দেরি করল না।সে সামান্য ঝুঁকে পড়তেই ইনায়া হালকা লাফ দিয়ে তার পিঠে উঠে পড়ল।পরের মুহূর্তেই ইউভি দুই হাত দিয়ে ইনায়ার দুই পা শক্ত করে আগলে নিল।ইনায়া দু’পা দিয়ে ইউভির কোমর জড়িয়ে রেখেছে, আর দুই হাত আলতো করে জড়িয়ে আছে তার গলার চারপাশে। নিজের থুতনি এনে রাখল ইউভির কাঁধের ওপর।
শীতল বাতাসে দু’জনের নিঃশ্বাস একে অপরকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল।ইউভি ধীর পায়ে হাঁটতে লাগল।
পিঠে প্রিয় মানুষটার উষ্ণ উপস্থিতি যেন মুহূর্তেই তার সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি মুছে দিল।
ইনায়া মৃদু হেসে ফিসফিস করে বলল,এখনও ক্লান্ত লাগছে? ইউভি হাঁটতে হাঁটতেই শান্ত গলায় উত্তর দিল,না… আমার ক্লান্তির ওষুধ তো এখন আমার পিঠে বসে আছে।
কথাটা শুনে ইনায়া হেসে আরও একটু শক্ত করে ইউভির গলা জড়িয়ে ধরল। ফিসফিস করে বললো একটু কষ্ট সহ্য করে নাও প্রিয়। ইউভি পালটা উত্তর দিলো কে কষ্ট দিবে তুমি তোমার থেকে তো একটা তুলার বস্থা ও ভারী আছে মিসেস চৌধুরী।
বেশ কিছুক্ষণ পর দু’জনে নিজেদের মেনশনে ফিরে এল।দরজা খুলেই ইউভি আলতো হেসে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,আদর, ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি আসছি।”কথাটা বলেই এক মুহূর্ত দেরি না করে সোজা কিচেনের দিকে চলে গেল সে।কিছুক্ষণ পর কিচেনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল সদ্য বানানো কফির মনমাতানো সুবাস।ইনায়ার জন্য ইউভি বানিয়ে ফেলল ধোঁয়া ওঠা এক কাপ হট ক্যাপুচিনো। সঙ্গে টোস্ট করা গার্লিক ব্রেড, চিজ অমলেট আর তাজা ফল দিয়ে সাজানো ছোট্ট একটি প্লেট।আর নিজের জন্য তৈরি করল তার প্রতিদিনের ডায়েট মেনে গ্রিলড চিকেন ব্রেস্ট, সিদ্ধ ব্রকলি, স্টিমড অ্যাসপারাগাস, অ্যাভোকাডো সালাদ আর এক গ্লাস গ্রিন টি।
সবকিছু সুন্দর করে ডাইনিং টেবিলে সাজিয়ে রাখতেই ওপরে থেকে ভেসে এলো ইনায়ার হাসির শব্দ।ফ্রেশ হয়ে ইউভির হালকা আকাশি রঙের টি-শার্ট আর কালো জিন্স পরে ভিডিও কলে তুবার সঙ্গে গল্প করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো ইনায়া।ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকিয়েই অবাক হয়ে বলল,
বর এত কিছু কখন বানালে? ইউভি মুচকি হেসে চেয়ার টেনে দিল।আগে বসো। নাহলে ঠান্ডা হয়ে যাবে। ইনায়া ফোনটা এখনো সামনে।ধরে রেখেই চেয়ারে বসে পড়ল।ওপাশ থেকে তুবার হাসির শব্দ ভেসে আসছিল তুই আমার জিজু কে রান্না করিয়েছিস হঠাৎ রাজ্য ফোনটা নিজের হাতে নিয়ে হেসে বলল,ইনায়া উফ, সরি! ভাবি ভাইয়া কই?
পাশ থেকেই ইউভির গম্ভীর গলা শোনা গেল,
নেক্সট টাইম ওই নামটা মুখে নিস না, মামাতো ব্রো।”
কথাটা শুনেই চারজন একসঙ্গে হেসে উঠল।
রাজ্য এবার একটু শান্ত হয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল,থ্যাঙ্ক ইউ, ইউভি। ওই দিন তুবার ফ্যামিলিকে যেভাবে সামলেছিলি, ওভাবে আমি কোনো দিনও রাজি করাতে পারতাম না। ইউভি খেতে খেতেই স্বাভাবিক গলায় বলল,ব্রো, আজকের দিনে এসব ভুলে যা। আর আমার শালী টা কিন্তু তোর হাঁটুর বয়সী মনে আছে তো? আর নেক্সট টাইম থেকে পারমিশন ছাড়া কোনো কিছু করতে যাবি না। বিশেষ করে সুন্দরী সুন্দরী রমণীদের স্যার হতে যাস না। রাজ্য ভ্রু কুঁচকে বলল,স্যার? পাশ থেকেই তুবা হেসে বলে উঠল,জি, ভাইয়া। সুন্দরী সুন্দরী রমণীদের দেখার জন্যই তো ভার্সিটিতে জব নিয়েছিল। এই, পিচ্চি রাজ্য প্রতিবাদ করে উঠল। আমি তোমাকে শুধু সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।
তুবাও ছাড়ার পাত্রী নয়।হ্যাঁ হ্যাঁ সারপ্রাইজ! সব জানি আমি। আরে সত্যিই বলছি! আমি কিছুই বিশ্বাস করি না। এক কথায় দুই কথা…
মুহূর্তের মধ্যেই দু’জনের মিষ্টি ঝগড়া শুরু হয়ে গেল।
ইউভি আর ইনায়া দু’জনেই মুচকি হেসে একে অপরের দিকে তাকাল।পরিস্থিতি বুঝে ইউভি আর কথা না বাড়িয়ে কলটা কেটে দিল।
এদিকে ইনায়া যেন অবাক হওয়ার চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।সে কয়েক মুহূর্ত ইউভির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর গলায় বলল,বর… একটা কথা বলবে? হুম, বলো। ওদের ব্যাপারটা আসলে কী? সত্যিটা বলো তো। তুমি তো বলেছিলে আঙ্কেল-আন্টি অনেক আগেই রাজ্য ভাইয়া কে। পছন্দ করেছিলেন। তুবার জন্যও সবাই রাজি হয়েই বিয়েটা ঠিক করেছিলেন। তাহলে আজকে ভাইয়ার কথায় কেন মনে হলো, এর পেছনে অন্য কোনো গল্পও আছে? প্রশ্নটা শুনে ইউভি খাওয়া থামিয়ে কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ হয়ে রইল।তারপর ধীরে ধীরে গ্লাসটা টেবিলে রেখে গভীর দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকাল।
ইউভি খাবার খেতে খেতে বলতে শুরু করলো রাজ্য তুবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েছিল। তবে সেই চাকরিটা ছিল মাত্র এক দিনের।
প্রথম দিন ক্লাস নিতে যেতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রী রাজ্যের ব্যক্তিত্ব, ভদ্রতা আর সুদর্শন চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়ে তার চারপাশে ভিড় জমাতে শুরু করে। কেউ নোটের অজুহাতে, কেউ আবার অকারণে কথা বলতে এগিয়ে আসে।দূর থেকে পুরো দৃশ্যটা দেখেছিল তুবা। তোমার বান্ধবী তো তোমার মতোই তার ছেড়া
অকারণেই অভিমান করেছিল সে । সে ভেবেছিল, রাজ্য বুঝি এসব সুন্দরী মেয়েদের মাঝেই থাকার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নিয়েছে। সেই ভুল বোঝাবুঝি থেকেই শুরু হয় দু’জনের দূরত্ব। তুবা রাজ্যের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। রাজ্য যতবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে, ততবারই তুবা তাকে এড়িয়ে গেছে। ফলে রাজ্য পাগলামি শুরু করে দিয়েছিল
অবশেষে রাজ্য বিষয়টি আমাকে আর রেদোয়ানকে খুলে বললে, আমরা দুজন সিদ্ধান্ত নেয়—এই সম্পর্ককে আর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। হালাল বন্ধনে আবদ্ধ করাই হবে সবচেয়ে সুন্দর সমাধান।
সেদিনই আমরা তুবাদের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম
ফ্ল্যাশব্যাক……….
বিকেল ঠিক পাঁচটা।বাজে এক এক করে তিনটি কালো গাড়ি এসে থামল আহসান ভিলার সামনে।
গাড়ি থেকে নেমে ইউভি, রেদোয়ান আর রাজ্য বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেল, নাতাশা এহসান ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে টেলিভিশন দেখছেন।তিনজনকে একসঙ্গে দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। মুখজুড়ে ফুটে উঠল আন্তরিক হাসি।”আরে ইউভি, রেদোয়ান, রাজ্য! তোমরা? কেমন আছো সবাই? এসো এসো। বসো। তিনজন বসতেই ইউভি ভদ্রভাবে বলল,
আন্টি, আজ আমরা একটা বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। নাতাশা এহসান কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকালেন।কী প্রস্তাব বাবা? বলো। ইউভি এক মুহূর্তও দ্বিধা না করে শান্ত, আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলল,
— “আন্টি, রাজ্য আর তুবা দু জন দুজনকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসে। কিন্তু ছোট্ট একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তুবা এখন রাজ্যের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই রাখতে চাইছে না।কিন্তু রাজ্য এই সম্পর্কটা এভাবেই শেষ হয়ে যাক, সেটা চায় না। বরং সে চায়, এই ভালোবাসা একটা সুন্দর, সম্মানজনক আর হালাল পরিচয় পাক—স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়।আমরা বিশ্বাস করি দু’জন মানুষ যখন একে অপরকে সম্মান করে, ভালোবাসে এবং সারাজীবন একসঙ্গে পথ চলতে চায়, তখন সেই সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর পরিণতি হলো বৈধ বন্ধন।
তাই আজ আমরা আপনাদের কাছে তুবাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের জন্য চাইতে এসেছি। বাকিটা সম্পূর্ণ আপনাদের সিদ্ধান্ত। ইউভির কথাগুলো শেষ হতেই ড্রয়িংরুমে সবার মাঝে কয়েক মুহূর্তের নীরবতা নেমে এলো।নাতাশা এহসান শান্ত চোখে রাজ্যের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন,
সত্যি বলতে কী, তোমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, রাজ্য আর তুবার মধ্যে শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্ক নেই। একজন মায়ের চোখ এ ধরনের অনুভূতি খুব সহজেই বুঝে ফেলে।আমি তুবার বাবার সঙ্গেও বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের কারও কোনো আপত্তি নেই। বরং রাজ্যের মতো ভদ্র, শিক্ষিত, দায়িত্বশীল ছেলেকে আমরা সবসময়ই পছন্দ করেছি। কথাগুলো শুনে রাজ্যের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠল।
সে সম্মানের সঙ্গে বলল,
— “আন্টি, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আর কোনো বাধা রইল না। এবার আমি আমার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলব। তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতেই খুব শিগগির বিয়ের তারিখ ঠিক করা হবে। তবে আমার একটা ছোট্ট অনুরোধ আছে. একটু থেমে সে মৃদু হেসে বললব তুবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই বিয়েটা হলে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব। ওর পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হোক, আমি সেটা কখনোই চাই না।”
রাজ্যের কথায় নাতাশা আহসানের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। একজন দায়িত্বশীল মানুষের কাছ থেকেই তিনি এমন উত্তর আশা করেছিলেন।রাজ্য মৃদু হেসে নাতাশা আহসানের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “আন্টি, একটা অনুরোধ ছিল। আমরা আজ যে এই বিষয়টা নিয়ে এসেছি, আপাতত প্লিজ তুবাকে কিছু বলবেন না। আগে আমি ওর অভিমানটা ভাঙাতে চাই। । তারপর সঠিক সময়ে সবকিছু জানাবেন। নাতাশা এহসান স্নেহভরা হাসি দিয়ে মাথা নাড়লেন।ঠিক আছে, বাবা। যেমনটা তোমাদের ভালো মনে হয়।”
ঠিক তখনই ওপরতলা থেকে কারও পায়ের শব্দ ভেসে এলো।সবাই একসঙ্গে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখা গেল, তুবা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে। দুপুরের দীর্ঘ ঘুম থেকে সদ্য উঠেছে সে। ঘুমের আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। চোখ দুটো হালকা ফুলে আছে, এলোমেলো চুলগুলো কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে, মুখজুড়ে অলসতার কোমল ছাপ ফুটে উঠেছে সিঁড়ির শেষ ধাপে এসে সে প্রথমে নিজের মায়ের দিকে তাকাল। কিন্তু পরের মুহূর্তেই নাতাশা এহসানের পাশে বসে থাকা ইউভি, রেদোয়ান আর রাজ্যকে একসঙ্গে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেল।
বিস্ময়ে তার চোখ দুটো বড় হয়ে উঠল।
মনে হলো, যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।বিশেষ করে রাজ্যকে সামনে বসে থাকতে দেখে তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। এতদিন পর হঠাৎ তাকে এভাবে নিজের বাড়িতে দেখবে, সেটা কল্পনাও করেনি সে।কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল তুবা। তার বিস্মিত দৃষ্টি শুধু রাজ্যের দিকেই স্থির হয়ে রইল।
নাতাশা এহসান তুবাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন,
এই যে, তোর ইউভি ভাইয়া, রেদোয়ান ভাইয়া আর রাজ্য ভাইয়া এসেছে। আমি ততক্ষণে বিকেলের নাস্তার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু শুনে রাখো, তোমরা কেউ নাস্তা না করে যেতে পারবে না। কথাটা বলেই তিনি হাসিমুখে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন।
নাতাশা এহসান চলে যেতেই তুবা সোফার সামনে এসে দাঁড়াল। প্রথমে ইউভি আর রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,বাহ! আমার দুই দুইটা জিজু আজ একসঙ্গে! এতদিন পরে এই ছোট শালিটার কথা মনে পড়ল নাকি? রেদোয়ান মুচকি হেসে বলল,তোমার কথা কি কোনোদিন ভুলতে পারি? আমাদের দুই বাদরের মুখে তোমাদের এত এত পাগলামির গল্প শুনতে শুনতে তো সারাক্ষণই তোমার কথাই মনে পড়ে।”
তুবা এবার ধীরে ধীরে রাজ্যের দিকে তাকাল। তারপর তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বলল,এই যে রাজ্য ভাইয়া! আপনি এখানে কী করছেন? আপনার সেই সুন্দরী সুন্দরী রমণীরা তো আপনার জন্য অপেক্ষা করছে! কথাটা শুনে ইউভি আর রেদোয়ান একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে একসঙ্গে বলে উঠল,
— “সুন্দরী সুন্দরী রমণী!”
রাজ্য কিছু বলার আগেই পিয়াসা হাসতে হাসতে বলল,হ্যাঁ ভাইয়া! রমণীদের দেখার জন্যই তো আমাদের ভার্সিটিতে চাকরি নিয়েছে! রাজ্য অসহায় মুখ করে বলল,আরে পিচ্চি, ভুল বুঝছো তুমি ওটা আমার পার্মানেন্ট চাকরি নয়। তোমাদের পরীক্ষার আগে মাত্র ষোলটা ক্লাস নেওয়ার জন্যই গিয়েছিলাম। আর বিশ্বাস করো ওই সুন্দরী রমণীদের দিকে আমি একবারও তাকাইনি।”
একটু থেমে গভীর দৃষ্টিতে তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,আর আজ আমি এখানে এসেছি… আমাদের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে। তুবা সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল,
— “নো! আমি আপনাকে বিয়ে করব না। আমি এমন একজন কুৎসিত লোককে বিয়ে করব, যার দিকে কোনো মেয়েই তাকাবে না।”
কথাটা শুনে রাজ্য দীর্ঘশ্বাস ফেলল করুণ মুখ করে বলল,আচ্ছা ঠিক আছে। আমি আর ভার্সিটিতে কোনো ক্লাস নেব না। আমার ভুল হয়েছে। সরি… প্লিজ, আমাকে আনব্লক করে দাও। তুবা ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি লুকিয়ে বলল,ভেবে দেখব।”
কথাটা বলেই সে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
তুবা চোখের আড়াল হতেই ইউভি আর রেদোয়ান একসঙ্গে বলে উঠল,
— “সুন্দরী সুন্দরী রমণী! পরের মুহূর্তেই তিনজন হো হো করে হেসে উঠল।হাসতে হাসতেই ইউভি বলল,
শেষ পর্যন্ত কিনা এই হাঁটুর বয়সী পিচ্চি মেয়েগুলোর কাছে আমাদের সেলেন্ডার হতে হলো! কী অত্যাচার!”
বর্তমান—
পুরোনো ঘটনাটা শুনে ইনায়াও সঙ্গে সঙ্গে হেসে ফেলল।হাসতে হাসতেই বলল,সুন্দরী সুন্দরী রমণী! তারপর হঠাৎ মুখটা গম্ভীর করে ইউভির দিকে তাকিয়ে বলল,
— “যাই হোক, বর… আজ মিটিংয়ের সময় কিন্তু ওই মেয়েটি তোমাকেও চোখ দিয়ে একেবারে গিলে খাচ্ছিল। উফ! এত গায়ে পড়া মেয়ে মানুষও হয় নাকি? আমি তো কখনো অন্য কারও বরের দিকে তাকাই না। তাহলে সবাই আমার বরের দিকেই কেন তাকায়? একদম ভালো লাগে না।”
শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৯
ইউভি ইনায়ার অভিমানী মুখটা দেখে মুচকি হেসে ফেলল।ঠিক তখনই ইনায়ার ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল বড় মা নামটি ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে কল রিসিভ করল।আসসালামু আলাইকুম, বড় মা।”
ওপাশ থেকে রেশমা চৌধুরীর স্নেহমাখা কণ্ঠ ভেসে এলো,ওয়ালাইকুমুস সালাম, নূর। কেমন আছিস, মা? আলহামদুলিল্লাহ, বড় মা। ভালো আছি তোমরা সবাই কেমন আছো? রেশমা চৌধুরী মৃদু হেসে বললেন,আমরাও ভালো আছি। আচ্ছা শোন, পরশু কিন্তু ইউভির জন্মদিন। মনে আছে তো?”
কথাটা শুনেই ইনায়া একটু আড়ষ্ট হয়ে ইউভির কাছ থেকে কয়েক কদম দূরে সরে গেল।তারপর নিচু গলায় বলল,হ্যাঁ, শাশুরি মা। সব মনে আছে।”
একটু থেমে নরম স্বরে বলল,
— “শোনো না, বড় মা…
